āĻŽāĻ™্āĻ—āϞāĻŦাāϰ, ⧍ā§Ģ āĻāĻĒ্āϰিāϞ, ⧍ā§Ļā§§ā§­

342

সারাদিন ভার্সিটির ক্লাস করে অনেক
বেশি ক্লান্ত তাই বাসে উঠেই প্রথম
যে সিটটা খালি পেলাম সেটায় বসে
পরলাম । বি আর টি সির এই বাসগুলো
চালু হওয়াতে বেশ ভাল হয়েছে ,এসি
লাগানো ,যাত্রী সংখ্যা বেশী হলেও
সমস্যা নেই । চোখ বন্ধ করে একটু
প্রশান্তির নিঃশ্বাস ফেলতেই পাশ
থেকে একজন বললঃ
--এইযে মিস্টার এটা মহিলা
সিট,পিছনে গিয়ে বসুন
পেইনের পর পেইন ,চুপ করে থাকতে
পারলাম না ।
--আফা কোথায় লেখা আছে এইটা
মহিলা আসন ,একটু দেখান তো !! আপনি
পিছনে গিয়ে বসলে কি হয় ?
বির বির করতে করতে পিছনে গিয়ে
বসলাম ।
বাসায় ফিরে সন্ধ্যাকে একটা ফোন
দিলাম।
--কি অবস্থা কেমন আছিস ?
--আর বলিস না ,শহুরে জীবন । তুই যেমন
আছিস ,আমিও তেমন আছি ।
--আচ্ছা শোন ফ্রেশ হয়ে খাওয়া করে
নে,আমার একটা টিউশনি আছে ,পড়াতে
যাব।
এই মেয়েটার কথায় কোন রস কস নাই ।
আল্লাহ্ই জানে দেখতে কেমন ,এই যন্ত্র
মানবীকে নাকি বিয়ে করতে হবে !!
বাবার বন্ধুর মেয়ে ,ছোটবেলা থেকে
বাবাভক্ত ছিলাম । বাবা বলেছেন
বিয়ে করতে হবে ,বাধ্যগত সন্তানের মত
মেয়েটাকে না দেখেই বলেছি আচ্ছা
করব । দেখিনি যে তা না ,ছোট বেলায়
আমরা পাশাপাশি ফ্ল্যাটে থাকতাম ।
তখন থেকেই তুই তাকারি সম্পর্ক ।বাসা
পাল্টানোর পর ওদের পরিবারের সাথে
আব্বু আম্মুর যোগাযোগ থাকলেও আমার
সাথে ছিল না ।একটু আন্ধা টাইপের
সিন্ধান্ত তবুও থাকনা ।বাবার-মায়ের
কাছে কোনদিন একটা ছবিও চাওয়া
হয়নি ,হয়তবা লজ্জায় অন্যথার জড়তা
যেকোন একটার কারনে ।
ফেইসবুক ফ্রেন্ডলিস্টে আছে কিন্তু
সেখানে খালি বাচ্চার পিক আপলোড
দেয় । তার স্পষ্ট ভাষ্য নিজের পিক
আপলোড দিবে না ।হবে হয়ত কোন
ভুতনি পেত্নী তাই পিক আপলোড
দেয়ার সাহস নেই ।
রুটিন মাফিক ভার্সিটির ক্লাস ,বন্ধু
আড্ডা গানের মাঝে এসব নিয়ে খুব
একটা ভাবিনা । নিয়তির হাতে ছেড়ে
দিয়েছি যা হওয়ার হবে ।
বসুন্ধরা সিটিতে ফ্রেন্ডের বার্থডে
পার্টি । ভাল দেখে একটা গিফট কিনে
নিচে দাড়িয়ে লিফটের অপেক্ষা করছি
। লিফটে উঠতে গেলাম ,এমন সময় পিছন
থেকে একজন ধাক্কা মেরে পাশ
কাঁটিয়ে উঠে গেল ,এরপর আর তিল
ধারনের জায়গা থাকল না ।নিজেকে
গাধার চেয়ে নিকৃষ্ট কিছু একটা মনে হল
,এই যুগের মেয়েরাও এত ইস্মার্ট হয়ে
গেছে ।
পার্টিতে গিয়ে দেখলাম ,সেই ধাক্কা
মারা মেয়েটা !! কৌশলে এক কোনায়
ডেকে নিয়ে বললামঃ
--মিনিমাম ভদ্রতা টুকু জানেন না ?
আপনি আমাকে ঠেলে লিফটে উঠলেন
কেনো ?
মেয়েটা কিছু মনে করল বলে মনে হয়না ।
একটু মুচকি হেসে বললঃ
--গাধারা সব সময় পিছনেই পরে থাকে ।
এমন জবাবে কিছুটা লজ্জিত হলাম বটে
তবে নিজেকে গাধাগুন নিয়ে যে
সন্দেহটুকু ছিল তাও দূর হল ।
মেয়েটার হাসিটা খুব সুন্দর ,অন্তত
ক্রাশ খাওয়ার জন্য যথেষ্ট । তবু হাত পা
যে বাধা ,কি আর করার !! পার্টি শেষ
করে বাসায় ফিরলাম। ফোনটা বাসায়
রেখে গিয়েছিলাম ,সন্ধ্যা কয়েকবার
ফোন দিয়েছে সাথে একটা মেসেজ ও
পাঠিয়েছেঃ
--ঐ বদের হাড্ডি ,শয়তানের কলিজা
আমার ফোন রিসিভ করিস না কেনো ?
টাংকিবাজ বজ্জাত পোলা ।
নাহ কিছু ভাল্লাগছে না ,রাস্তাঘাটে
কত আর গালি হজম করব !! বয়সটাও তো
কম হল না ,দিনে দিনে চব্বিশ হয়ে
গেছে ।অনার্স ফাইনাল ইয়ারে পড়ছি ।
ফোন ব্যাক করলাম ,রিসিভ করার সাথে
সাথেই বলে উঠলামঃ
--ফোনটা বাসায় ছিলরে ,বকা দিসনা ।
--আমি শুধু তোকে পেইন দেই ,তাইনা ??
কি ব্যাপার কন্ঠটা এত মায়াবী লাগছে
কেনো ! ওর দীর্ঘশ্বাসটা আমার বুকের
ভিতর হিম শীতল করে দিচ্ছে কেন ?!
--কিরে মন খারাপ ??
--ধুর ছাই বাদদে !
বলেই ফোনটা রেখে দিল ।
নাহ এই মেয়ের সাথে মায়া জড়ানো
কথা বলাই বৃথা ।
এই অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে গেছি ,হুটহাট
করে ফোন কেঁটে দেয়াটা সন্ধ্যার একটা
অভ্যাস। ওর এই হুট হাট স্বভাবগুলোই
আমার খুব ভাল লাগে। এটা যে
ভালবাসা কি না বিষয়টা নিয়ে বেশ
চিন্তিত। অন্ধ ভালবাসায় আমি খুব
একটা বিশ্বাসী না ।সন্ধ্যার কথা
ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পরলাম
খেয়াল নেই ।
সকালে উঠে জানালার পর্দাটা সরিয়ে
আকাশ দেখলাম ।সময়টা বাংলা
শ্রাবন মাসের প্রথম দিক, যথারীতি
শ্রাবনের মেঘলা আকাশ ।একটু চিন্তার
পরে গেলাম ,কালকে সন্ধ্যাকে
আনুষ্ঠানিক ভাবে দেখতে যাওয়ার কথা
।একটা রিং কিনতে যেতে হবে কিন্তু
বৃষ্টি হলে তো সমস্যা ,রাতে বেশ বৃষ্টি
হয়েছে । রাস্তা ঘাট পিচ্ছিল হয়ে
গেছে ।ঘুম জড়ানো চোখে সন্ধ্যাকে
একটা ফোন দিলামঃ
--সন্ধ্যা অবশেষে তোর সাথে কাল
দেখা হচ্ছে
--হমম ,অবশেষে
--তোর জন্য আংটি কিনতে যাচ্ছি
--রাস্তা ঘাটে দেখে শুনে যাস
একটু নেতিয়ে গেলাম ,এই মেয়ের মাঝে
কোন ফিলিংসই নেই !!
ব্রেকফাস্ট করে বের হলাম বিয়ের
আংটি কিনতে।
উত্তরার আল আমিন জুয়েলার্স থেকে
অনেকক্ষন দেখেশুনে একটা আংটি
কিনলাম । বের হয়ে সোজা নিকুঞ্জতে
খালার বাসার দিকে রওনা দিলাম।মা
বলছে খালাকে নিয়ে যেতে ,মেয়ে
দেখতে খালাকে সাথে নিয়ে যাবে।
ফোটা ফোটা বৃষ্টি পরছে ,গাড়ি থেকে
নেমে কিছুটা পথ হেটে যেতে হয় ,পা
পিছলে পরে গেলাম । ব্যাথা তেমন
পাইনি মান সন্মানের বারোটা বাজার
অবস্থা ,উঠে দাড়াতে যাই আবার পরে
যাই। অবশেষে এই নরাধমের দিকে
সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল সেই
ধাক্কা মারা মেয়েটা !! বড়ই
সিনেমাট্রিক মনে হলেও আছাড় খেতে
খেতে নাস্তানাবুদ হয়ে অস্পষ্ট ভাবে
যা দেখেছিলাম তাতে তাই মনে হল ।
মেয়েটাকে ধন্যবাদ না দিয়ে লজ্জায়
পারলে দৌড় দিলাম । পুনরায় আছাড়
খাওয়ার ভয়ও অবশ্য ছিল কিন্তু
কোনমতে রেহাই মিললো ।
খালার বাসায় গিয়ে পয় পরিস্কার হয়ে
খালাকে নিয়ে বাসায় আসলাম ।
অপেক্ষার প্রহর বড়ই কঠিন ,সন্ধ্যাকে
ফোন দিলাম না ।কালই ওকে দেখতে
পাব ,এখন আর বিরক্ত করার কি দরকার !!
নিজেকে নিয়ে একটু ভাবার চেষ্টা
করলাম ।ইদানিং নিজেই নিজের
কাছে হাসির পাত্র হয়ে গেছি ।যেমন
আজকের ঘটনার পর নিজেকে হিজরা
মনে হচ্ছে।
পরেরদিন বিকেলে সন্ধ্যাকে দেখতে
গেলাম পরিবারের সবাই । খালাদের
বাসার কাছাকাছি ওদের বাসা ।
সন্ধ্যাদের বাসায় গিয়ে জামাই আদর
খেতে ভালই লাগছিল ,জামাইর এত কদর
আগে জানলে আরো আগেই বিয়ে
করতাম ।কিন্তু আমি খুঁজছি আমার হবু
বউকে ।লজ্জা বলতে কিছু একটা থাকা
দরকার ,তাই কাউকে কিছু বললামও না ।
হঠাত্ একটা বিচ্ছু টাইপ মেয়ে আমার
হাত ধরে টানতে টানতে সবার সামনে
থেকে নিয়ে গেল ।কিছু দুর নিয়ে একটা
রুম দেখিয়ে বললঃ
--দুলাভাই ঐটা আপুর রুম ,আপনি আপুকে
দেখতে আসছেন না !?আমি আপনাকে
আপুর কাছে নিয়ে আসছি।
শ্যালীকাকে ধন্যবাদ দিয়ে আর ছোট
করলাম না ।আমার ডিজিটাল শালী !!
রুমের দিকে যত আগাচ্ছিলাম জড়তা
একটু একটু করে বাড়তে লাগল ,একটু ভয় ভয়
লাগছিল। দরজাটা খোলাই ছিল নক
করলাম সারাশব্দ নেই । সরাসরি
ভিতরে ঢোকাটা উচিত হবে না বলে
শ্যালীকাকে ডেকে বললামঃ
--তোমার আপু কই ??
ভিতরে গিয়ে কতক্ষন খুঁজে এসে
আমাকে হাত ধরে টেনে নিয়ে ভেতরে
বসিয়ে বললঃ
--আপনি বসেন আমি আপুকে ডেকে
নিয়ে আসি ।
রুমটা বেশ সাজানো গোছানো ।দেখে
মনে হয়না এটা সন্ধ্যার মত ঠান্ডা
মনের একটা মেয়ের রুম।
টেবিলের উপর বেশ মোটাসোটা একটা
ডায়রি ।উপরে লেখা "শ্রাবন ডায়রি" !!
কৌতুহলের চরম সীমানায় পৌঁছে
গেলাম ,এই মেয়ে না জানি কত দুঃনাম
বদনাম লিখেছে আমার নামে ।
ডায়রির পাতা উল্টাতে লাগলাম ,যতই
সামনের দিকে যাচ্ছিলাম ততই চোখ
চড়ক গাছে উঠে যাচ্ছিল।
ওর লেখাগুলো পড়ে কেমন জানি
নিজেকে ভাগ্যবান মনে হত লাগল।
সন্ধ্যা এত ভালবাসতে পারে !! এই
এতদিনে আমি তাকে নিয়ে কোনদিন
দুই পাতা লিখেছি কিনা মনে পরে না ।
আর সে হাজার পাতার ডায়রির প্রায়
শেষে চলে এসেছে । কে যেন বলেছিলঃ
"Don't judje a book by it's cover." কথাটা
হাড়ে হাড়ে টের পেলাম ।
ডায়রির মাঝপথে একটা চিঠি পেলাম।
চিঠির কথাগুলো ছিল এরকমঃ
"শ্রাবন ,
তুই আমার ডায়রি খুলেছিস কেনো ?? ওহ
তুইতো বলবি তোর অধিকার আছে ।
কিন্তু যা পড়ার আশায় ডায়রিটা খুললি
তা তো পেলিই না বরং যে পেলি তা
হয়ত তোর কল্পনার বাইরে ছিল। দাড়া
তোকে আরেকটু চমকে দেই. . . .আচ্ছা
BRTC বাসের সেই ঝাড়িবাজ মেয়েটির
কথা মনে পরে ?? অথবা সেই বসুন্ধরা
সিটিতে সেই অভদ্র মেয়েটাকে অথবা
তোকে টেনে তোলা সেই আবছায়া
মুখটা মনে আছে কি !! আরে ছাগল হা
করে আছিস কেনো ?হ্যা ঠিক ধরেছিস !
আমিই ছিলাম সেই মেয়েটি ।"
মুখ থেকে একটা কথা বেরিয়ে এল আপন
মনে "পাগলীটা আমার"
এর মাঝেই হবু শ্যালীকা এসে বললঃ
--দুলাভাই ,আপা আপনাকে ছাদে
ডাকছে ।
ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হচ্ছে ,চারদিকে
আলো ছিটানো অন্ধকার ,ওর পাশে
গিয়ে দাড়ালাম।বললামঃ
--কি দেখছিস?
--ওপারে আকাশ
--মানে ?
--এই শ্রাবন সন্ধ্যায় জীবনের আরেকটা
আকাশ দেখতে খুব ইচ্ছে করছে । যে
আকাশে দুটি তারা চিরদিন
পাশাপাশি থাকবে।
সন্ধ্যার ভেজা হাতের উপর হাতটা
রাখলাম ।বললামঃ
--আমায় সাথে নিবি??
ওর চোখ দুটো জাপসা হয়ে আসছিল ।ওর
মায়াবী চাহুনি আমার অনেক প্রশ্নের
উত্তর দিয়ে দিল ।সন্ধ্যাকে বাহুবন্ধনে
জড়িয়ে নিলাম। বৃষ্টির বেগ তীব্র
থেকে তীব্রতর হচ্ছে। এই শ্রাবন সন্ধ্যা
পেরিয়ে কোনদিন যেন রাত্রি না
নামে ।
.
আদনান পারভেজ

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ