āĻŽāĻ™্āĻ—āϞāĻŦাāϰ, ⧍ā§Ģ āĻāĻĒ্āϰিāϞ, ⧍ā§Ļā§§ā§­

338

আধা ঘন্টা হলো থানায় বসে আছি। ওসি সাহেবের আসার কোন খবরই নাই। ওনার সাথে আমার জরুরি কথা আছে। ওনি নাকি জরুরি কাজে থানার বাহিরে গেছেন। একটু পর একজন মোটাসোটা মানুষ থানায় ঢুকলো। দেশের সকল ওসিরই ভুড়ি থাকে। ভুড়ি ছাড়া মনে হয় ওসি হওয়া বেআইনি। তবে ইনার ভুড়ি ততটা প্রশস্ত নয়। একটু মোটা হলেও ইনার তেমন ভুড়ি নাই। এই প্রথম আমি ভুড়িহীন ওসি দেখলাম। আমার বাবাও একজন ওসি। কিন্তু ওনার ভুড়ি ৩ বিঘা জমির সমান!!
- কি চাই এখানে?
- আপনি কই গেছিলেন স্যার?
ওসি সাহেব আমার দিকে এমনভাবে তাকালেন যেন এমন প্রশ্ন তাকে কেউ কখনো করে নি। তবে স্বাভাবিকভাবেই উত্তর দিলেন
- বাসার জন্য খরচ করতে গেছিলাম। কেন বল তো??
- না। এমনিই জিজ্ঞাস করলাম। কি তরকারি কিনলেন?
- ইলিশ মাছ। তুমি কি জন্য এখানে এসেছ সেটা বল।
- আচ্ছা স্যার একটা প্রশ্ন আছে। আপনি কি আইন সম্মতভাবে ওসি হয়েছেন?
ওনি কিছুটা অবাক হইলেন আমার প্রশ্ন শুনে। হাতে একটা ফাইল নিছিলেন। সেটা রেখে আমার দিকে ভালভাবে তাকালেন।
- কি বললে তুমি?
- বললাম আপনি আইন মেনেই কি ওসি হয়েছেন?
- অবশ্যই। এমন প্রশ্ন করতেছ কেন?
- আসলে আমার মনে হচ্ছে আপনি ওসি হওয়ার একটা আইন ভঙ্গ করেছেন।
- কি আইন? (অবাক হয়ে)
- সকল ওসিরই ভুড়ি থাকে। কিন্তু আপনার নেই। এটা একটু বেয়াইনি হয়ে গেল না??
ওসি সাহেব কিছুক্ষন আমার দিকে তাকিয়ে থাকলেন। এরপর তিনি বেশ উচ্চ স্বরে হেসে ফেললেন। ভাবছিলাম আমার কথা শুনে ওনি রেগে যাবেন। বাট তেমন কিছু হয় নি। বুঝা যাচ্ছে আমার কথা শুনে ওনি মজা পেয়েছেন। টানা ৫ মিনিট ধরে তিনি ননস্টপ হাসলেন। হাসি না থামিয়েই বললেন,
- ওসি হতে হলে ভুড়ি থাকা আবশ্যক নাকি? জানতাম না তো!!
- দেশের সকল ওসিরই ভুড়ি আছে। কিন্তু আপনার নাই। এটা একটু বেমানান লাগতেছে তাই বললাম।
- হাহাহাহাহা। আমাকে আল্লাহই ভুড়ি দেন নি। তাছাড়া আমি খাওয়া দাওয়া কম করি। তাই হয়তো এরকম। বাই দা ওয়ে তুমি আমার কাছে আসছ কেন? নিশ্চই আমার ভুড়ির খবর নিতে আস নি? হাহাহাহাহাহা।
- জ্বি স্যার ঠিকই ধরেছেন। আমি এখানে এসেছি বিয়ে করার জন্য।
- মানে!!!!!
- জ্বি আসলে বয়স অনেক হইছে তো তাই বিয়ে করতে দেরি হয়ে যাচ্ছে।
- তোমার কাছে কি এটা কাজি অফিস মনে হচ্ছে? আর আমাকে দেখে কি কাজি মনে হয়? (খানিকটা রেগে)
- আরে না। আপনি কাজি নন। আপনি অন্য চরিত্রে আছেন।
- তুমি কি পাগল নাকি? কি সব আবল তাবল বকছ??
- আচ্ছা আমি ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলছি। আমি একটা মেয়েকে ভালবাসি। কিন্তু সে আমাকে ভালবাসে না। তাই তাকে প্রোপজ করায় সে তার বাবাকে আমার কথা বলে আর তার বাবা আমাকে ফোন করে খুনের হুমকি দেয়। তাই আমি আপনার কাছে এসেছি যাতে ওই মেয়েটার সাথে আমার বিয়ে হয়।
- ওহহহ। কিন্তু আমি তো এ সমস্যার সামাধান করতে পারব না। মেয়ে যদি রাজি থাকত তাহলে হতো। তুমি এক কাজ কর মেয়ের বাবার কাছে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যাও
- আমি তো বিয়ের প্রস্তাব নিয়েই এসেছি।
- মানে!!!
- মানে আপনার মেয়ের সাথে আমার বিয়ের ব্যবস্থা করুন। তাহলে আমার সব প্রবলেম শেষ হয়ে যাবে। আমি সেই ছেলে যে আপনার মেয়েকে ভালবাসে।
- হোয়াট!!!!! তারমানে তুমিই কালকে ফোনে আমার মেয়েকে তুলে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করার হুমকি দিয়েছিলে?
- জ্বি স্যার। (অত্যন্ত গর্বের সাথে বললাম)
- হাশেম! এই হাশেম!!
- হাসেম কে স্যার?
- এই হাশেমের বাচ্চা।
রুমে একজন ইউনিফর্ম পড়া লোক ঢুকলো
- জ্বী স্যার
- এইটাকে এখনই জেলে ঢুকাও। থানায় এসে বাদরামি শুরু করেছে। তাড়াতাড়ি ঢুকাও।
- জ্বী স্যার।
ওসি সাহেব মানে আমার হবু শশুড় আমার দিকে রাগি দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললেন
- তোমার সাহস হল কিভাবে থানায় ওসির সাথে এরকম ব্যবহার করার? আর আমার মেয়েকে ডিস্টার্ব করা না??? তোমার পিটের চামড়া যদি আমি তুলে না নিছি তো আমি...............
- স্যার আপনি পুরোই আমার আব্বার মতো। আমার আব্বাও রেগে গেলে আমার চামড়া তুলে নিতে চায়। দুই বিয়াইয়ের মধ্যে কত মিল দেখেছেন স্যার?
- চুপ কর বেয়াদব!!
- আমার আব্বুও এই রকমভাবে বলে।
- হাশেম!!!
অনেক জোরে চিৎকার দিয়ে বললেন
-এইটাকে এখনো জেলে ঢুকাও নি কেন? (হাশেমকে)
হাশেম নামে লোকটি তাড়াহুড়া করে আমাকে জেলের মধ্যে ঢুকিয়ে দিল। এখন আমি আমার পরিচয় দেই। আমার নাম আমি কাউকে বলি না। তাই নামটা না জানাই থাক। লেখাপড়া শেষ করে চাকরি খুজছি। তবে বেশি কষ্ট করে চাকরি খুজার দরকার হবে না। কারন আমার আব্বু একটি থানার ওসি। আব্বুকে বললেই পুলিশে চাকরির ব্যবস্থা করে দিবে। তাই এখন নিশ্চিন্তে আছি। আমার সম্পর্কে বলার মতো আর কিছু নাই। আশা হচ্ছে দুনিয়ার একমাত্র মেয়ে যাকে দেখে আমি ক্রাস খাইছি। সরি ভুল বললাম। একমাত্র না। এর আগেও একটা ফালতু মেয়ের উপর ভুলবসত ক্রাস খাইছিলাম। এখন ওটার কথা বাদ। দুই সপ্তাহ আগে আশাকে আমি প্রোপজ করেছিলাম। বাট সে রাজি হয় নি। ওর একটা আলুমার্কা বয়ফ্রেন্ড আছে যাকে দেখতেই বুঝা যায় পুরাই ঠকবাজ। এরপর শুধু করি আশার পিছে ঘোরা। বাট কোন কাজ হয় না। ওর বাবা ওসি এজন্য ও সব সময় ওর বাবার ভয় দেখায়। এজন্য আজ ওর বাবার কাছেই প্রস্তাব নিয়ে এসেছি। বাট এখানেও কোন কাজ হল না। উলটা আমাকে জেলে ঢুকিয়ে দিল। তবে টেনশন নাই। আমার আব্বু যেকোনভাবেই আমাকে বের করে নিয়ে যাবে।
.
এখন জেলের মধ্যে বসে বসে কি করব ভাবছি। আমার সাথে একটা ফোন আছে যেটা হাশেম আমাকে জেলের ভিতরে ঢুকানোর সময় কেড়ে নেয় নি। আমি যে অবস্থায় ছিলাম সেই অবস্থায় জেলে ঢুকিয়ে দিছে। ভাবতেছি জেলের ভিতরে বসে বসে আশার সাথে গল্প করা যায়। তবে গল্প আমি একাই করব। আশা শুধু রাগ দেখাবে। পুলিশে যারা চাকুরি করে তারা গল্প করতে জানে না (আমার আব্বু বাদে) পুলিশের ছেলেমেয়েরাও তাদের মতোই হয়। আশা ওসি সাহেবের মেয়ে। তাই সেও তার বাবার মতোই হবে। আশার ফোনে পাঁচ বারের মতো মিসড কল দিলাম। বার বার মিসড কল দেওয়াতে বিরক্ত হয়ে সে কল ব্যাক করল।
- হ্যালো
- আশা কেমন আছ?
- কে বলছেন আপনি?
- ওসি সাহেবের জামাই বলছি।
- কিইই?
- এখনো চিনতে পারছ না??
- অই আপনি আমার নাম্বার পেলেন কোথায়?
- নাম্বার পাওয়া কোন ব্যাপার হলো। দুইদিন পর তোমাকেই পেয়ে যাচ্ছি……
- এই যে শুনেন আপনার ফালতু কথা শোনার টাইম আমার নাই। আমাকে এভাবে মিসড কল দিতেছেন কেন?
- ফোনে টাকা নাই তো তাই মিসড কল দিচ্ছি কল দিতে পারি নাই।
- মিসড কলই দিবেন কেন? আপনাকে আমি দিতে বলছি? আর আপনার জীবনের পরোয়া নেই? আব্বুকে বলে আপনাকে জেলে পাঠানোর ব্যবস্থা করব কিন্তু
- হিহিহি! আমি জেলের ভিতরই আছি এখন। এখানে একা একা বসে থাকতে ভাল লাগছে না। তাই মিসড কল দিলাম। ভাবলাম একটু তোমার সাথে গল্প করি।
- কিইইই। আব্বু আপনাকে ধরে নিয়ে গেছে।
- না ওনি আনেন নি আমি নিজেই এসেছি বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে। ওনি আমাকে জেলের ভিতরে বন্ধি করে চলে গেলেন।
- খুব ভাল হইছে। এবার আপনার উচিত শিক্ষা হবে। এখন আর ওখান থেকে আর বের হতে পারবেন না। আব্বু এবার আপনাকে প্রেম করার মজা বুঝাবে। আব্বু একদাম মায়া দয়াহীন মানুষ।
- হুম সেটা তোমাকে দেখলেই বুঝা যায়। তবে তোমার বাবাকে ওসি হিসাবে মানায় না। ওনার ভুড়িতে একটু প্রবলেম আছে।
- আপনার ফালতু বক বক শোনার টাইম নেই আমার। বাই।
আর কিছু বলতে পারলাম না ফোনটা কেটে গেল।
.
.
জেলের ভিতর সবকিছুই ঠিকঠাকই আছে। তবে গরম একটু বেশি। কোন এসি নাই তো তাই। সরকার এসির ব্যবস্থা করলে কিন্তু খুব ভাল হতো। যারা হাজতে থাকে খুব আরামে থাকত। শুনছিলাম জেলে নাকি জামাই আদর করা হয়। একটা এসি দিলে তো ভালভাবেই জামাই আদর হইত। আমার কি এখন জেল থেকে বের হওয়া উচিত? বের হলে ভালই হতো। আব্বুকে একবার কল দিয়ে সব বলতে হবে। কিন্তু ফোনে তো টাকা নাই। আব্বুকেও মিসড কল দেওয়া লাগবে।
.
- হ্যালো আব্বু
- হ্যা বাবা কেমন আছ?
- খুব ভাল। আচ্ছা আব্বু তোমাদের জেলে এসি থাকে না কেন? খুব গরম লাগে তো।
- হাহাহা। সেখানে তো কোন ভদ্রলোকের ছেলে থাকে না। অপরাধিরা থাকে। তাই এসি থাকে না।
- তারমানে বুঝা যাচ্ছে তুমি ভদ্রলোক না।
- কি বল?? আমি ভদ্রলোক নই কেন?
- কারন তোমার ছেলে এখন জেলে আছে। তাই নিয়ম অনুযায়ী তুমি ভদ্রলোক নও
- কিইইইই। তুমি এখন জেলে?
- জ্বি আব্বু। থানায় এসেছিলাম বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে কিন্তু ওসি সাহেব আমাকে জেলে ঢুকাই দিছে।
- কি আবল তাবল বলতেছ। থানায় মানুষ বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যায়।
- তুমি এরকম বোকার মতো কথা বলতেছ কেন? তোমার যদি মেয়ে থাকত তাহলে তোমার মেয়ের জন্য বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে তো থানায় যেতে হবে।
- কি পাগলের মতো কথাবার্তা বলতেছ। আমি তোমার কথার কিছুই বুঝতে পাচ্ছি না।
- ধ্যাত আমি তোমাকে বুঝাতে পারব না।
- আচ্ছা বাদ দাও। তুমি এখন কোন থানায় আছ বল। আমি এখনই আসতেছি সেখানে।
আব্বুকে থানার ঠিকানা দিয়ে কল কেটে দিলাম। আমার আব্বু খুব ভাল মানুষ তবে খুব কিপটা। আব্বুর কাছে কোন জিনিস চাইলে তার জন্য পুরো এক বছর ধরে ঘ্যানর ঘ্যানর করতে হয়। গত এগারো মাস ধরে আমি আমার বিয়ের জন্য ঘ্যানর ঘ্যানর করতেছি। আর এক মাস বাকি আছে।
.
.
এখন ৬টার মতো বাজে সম্ভবত। আব্বুর সাথে আমার কথা হইছে আধা ঘন্টা আগে। আব্বুর থানা থেকে এ থানার দুরত্ব বেশি নয়। এতোক্ষনে তো আব্বুর আসার কথা। কিন্তু এখনো আসে নি। থানায় ওসি সাহেব ঢুকলেন। আমাকে বাহিরে বের করার আদেশ দিলেন। বাহিরে এসেই ওনি প্রশ্ন করা শুরু করলেন
- তোমার নাম যেন কি?
নিজের নাম বললাম।
- তোমার বাবার নাম
- আবুল খান।
- মায়ের নাম?
আম্মুর নাম বললাম
- তোমার বাবা কি করেন?
- দাদার নাম জানতে চাইলেন না যে??
- যা প্রশ্ন করছি তার উত্তর দাও (রেগে গিয়ে)
- জ্বি ওনি আর আপনি সেম.......মানে ওনিও ওসি
- কিইই? তুমি আবুলের ছেলে?
- জ্বি। ওনার প্রথম ছেলে।
- আমাকে তুমি চেন? তোমার বাবা আমার অনেক ক্লোজ ফ্রেন্ড।
- বাহ তাহলে তো ভালই
- তুমি এরকম মানুষের ছেলে হয়ে এমন হইছ কেন? তোমার আব্বুর নাম্বার দাও। এখনই এখানে আসতে বলব।
- আমি কল দিছি স্যার। ওনি আসতেছেন।
দশ মিনিট পর আব্বু আসলো। আব্বুকে দেখে ওসি সাহেব অনেক খুশি হলেন। আব্বুকে জড়িয়ে ধরলেন। আব্বুও ওনাকে জড়িয়ে ধরলেন। দুই বেস্ট ফ্রেন্ডের অনেকদিন পর দেখা হলে যা হয় আর কি তাই আমার সামনে হয়ে গেল। এবার তো আমি শেষ। আব্বুর বেস্ট ফ্রেন্ডের মেয়ের উপর আমি ক্রাস খাইছি। আশার আব্বু যদি আমার সম্পর্কে খারাপ কিছু বলে তাহলে আব্বু আমাকে ক্রস ফায়ার করে দিবে। আব্বু আর ওসি আংকেল আমার দিকে তাকালো। আব্বুর বেস্ট ফ্রেন্ড তাই এখন থেকে আমার আংকেল (ভবিষ্যতে শশুড়)।
- তুই আমার ছেলেকে ধরে এনেছিস কেন?
- আমি ধরে আনি নি। ও নিজেই এসেছে। তোর ছেলে একটা বড় ধরনের ফাজিল। নিজে এসে এখানে পাগলামি শুরু করেছে। গত এক মাস ধরে আমার মেয়েকে ডিস্টার্ব করতেছে।
- কি বলিস ভাই?? ও তো এরকম নয়। কখনো মেয়েদের দিকেই তাকায় না।
- সেটা তোর ছেলেকেই জিজ্ঞাস কর।
আব্বু আমার দিকে তাকিয়ে আমাকে বলল
- বাবা তুমি এরকম হইলে কবে থেকে। ছি! আমি তোমার কাছে এমনটা আশা করি নি
- ওই আশার জন্যেই তো এমন হইছি আব্বু
- মানে?
- তোমার বন্ধুর মেয়ে আশাকে আমি ভালবাসি। কিন্তু ও আমাকে পাত্তাই দেয় না। তাই আমি আংকেলের কাছে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছিলাম।
- গর্দব। আমাকে বলতে পারিস নি।
- গত এগারো মাস ধরেই তো বলতেছি বিয়ে করুম। বাট আপনার কানে তো কথাই যায় না।
আব্বু আর কিছু বলল না। ওনার বন্ধুর কাছে আমার জন্য সরি বলল। আমার দিকে রাগি লুক নিয়ে বলল
- তোকে ইনকাউন্টার করে দেয় নি এটা তোর ভাগ্য। আমি জানলে তোকে ইনকাউন্টার করে দিতাম।
আমি ওসি আংকেলের দিকে তাকিয়ে একটা কৃতজ্ঞতা মার্কা হাসি দিলাম। ওনি কিছুই বললেন না। রাগও দেখালেন না। বন্ধুর ছেলে তো তাই লুক চেঞ্জ হয়ে গেছে।
-আচ্ছা আপনারা দুজনে সত্যিই ফ্রেন্ড তো??
- হুম। একেবারে ক্লোজ ফ্রেন্ড। (ওসি আংকেল)
- দুজনের মধ্যে অনেক কিছুতেই মিল আছে। তবে একটা জায়গায় মিল নেই। ভুড়ির মাঝে অনেক পার্থক্য। আব্বুর ভুড়ির উচ্চতা অনেক বেশি।
- চুপ কর বেয়াদব। (আব্বু)
- তোর ছেলে এখানে আসার পর থেকেই ভুড়ি নিয়ে গবেষনা করতেছে। (হেসে হেসে ওসি আংকেল)
আগেরকার ওসি সাহেব আর এখনকার ওসি আংকেলের মধ্যে অনেক পার্থক্য। এই কথাটা যদি আব্বু আসার আগে বলতাম তাহলে ওনি আমাকে ধমক দিতেন।
আব্বু আবার আমার কাজের জন্য ওনার বন্ধুর কাছে ক্ষমা চাইলেন। এরপর আমাকে নিয়ে বাসায় আসলেন। আব্বু আমার বাসার খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দিলেন আর একটু ওয়াজ (ঝাড়ি) শুনাইলেন। বাট যতটা আশা করেছিলাম তার চেয়ে কমই শুনাইলেন। তবে সবচেয়ে বড় যেটা আশা করেছিলাম সেই আশাকে মনে হয় আর পাওয়া হল না।
সারাদিন পেটে কিছু পড়ে নি। এখন একটু খাওয়া দরকার। তবে বাসায় তো খেতে দিবে না। তাই বাসা থেকে বেরিয়ে আসলাম।
.
.
.
তিনবার বেল বাজানোর পর আশা দরজা খুলে দিল। আমাকে দেখে অনেক অবাক হয়েছে সেটা তার চেহারা দেখেই বুঝা যাচ্ছে। খানিকটা ভয়ের ছাপও আছে চেহারায়। এটা অবশ্য ভালই লাগল।
- আপনি এখানে কিভাবে??
- খুব খুদা লাগছে। খাইতে আসলাম।
- মানে কি?? এটা কি রেস্টুরেন্ট নাকি??
- তা না। আজ সারাদিন তোমার বাবার জন্য কিছু খাইতে পারি নাই তাই তার প্রতিশোধ নিতে আসলাম
এই কথা বলতে বলতে ওদের বাসার ভিতর ঢুকে পড়লাম।
- একি আপনি বাসার ভিতরে ঢুকতেছেন কেন?
একটা শোভায় বসতে বসতে বললাম
- ওসব খবর পরে নিয় তো। এখন খুব খুদা লাগছে। যাও তো তাড়াতাড়ি ভাত আর ইলিশ মাছ নিয়ে আস।
- আমাদের বাড়িতে আজ ইলিশ মাছ রান্না হইছে সেটা আপনি জানলেন কিভাবে??
- তোমার আব্বু বলছে। বেশি কথা না বাড়িয়ে খাবার নিয়ে আস তাড়াতাড়ি
- আব্বু..আব্বু
ও আল্লাহ আশা ওর আব্বুকে ডাকে কেন?? ওর আব্বুও বাসায় আছে নাকি। উপর থেকে ওর আব্বু বের হয়ে এলো। খোদা! আমি এতোটা আশা করি নি।
- এ কি তুমি আমার বাড়িতে কেন?
- ইলিশ মাছ দিয়ে ভাত খেতে এলাম স্যার
- কিইইইই। তোমার মাথা ঠিক আছে? এখনই তুমি বাড়ি থেকে বের হও না হলে আমি তোমার আব্বুকে কল দিব।
শুনে একটু ভয় পেলাম। কিন্তু তা একটুও প্রকাশ করলাম না।
- আপনার জন্য আমার এই অবস্থা হইছে। আব্বু আমার বাসার খাওয়া বন্ধ করে দিছে। তাই আপনার বাসায় আসলাম খাওয়ার জন্য।
ওনি কিছুক্ষন চুপ থেকে বললেন
- আচ্ছা তুমি বস।
আমি খেতে বসলাম। সাথে ওসি আংকেলও বসলেন। ব্যাপারটা খুব ভাল লাগল। ভাবছিলাম ওনি সত্যিই আমার আব্বুকে ফোন দিয়ে আমার সমস্যা বাড়াবেন। কিন্তু ওনি তা করেন নি।
- তোমার বাবা আমার ছোটবেলার ফ্রেন্ড। ছোটবেলা থেকেই আমরা একসাথে লেখাপড়া করেছি। তোমার বাবার বিদেশে যাওয়ার কথা ছিল শুধু আমার জন্যই যায় নি।
আমি কিছু না বলে ছোট করে একটা হাসি দিলাম ভদ্র মানুষের মতো।
- বাবা তোমার মাঝে তোমার বাবার কোন বৈশিষ্ট্যই নেই। তুমি এমন বেয়াদব হইছ কেন? এতোবড় হইছ এরকম পাগলামি কর কেন? যেখানে সেখানে ফাজলামি করা যায় না। তুমি যদি আমার বন্ধুর ছেলে না হইতে তাহলে তো আজ আমি তোমাকে রিমান্ডে নিতাম।
আংকেলের কথা শুনে খুব ভাল লাগল। কোন রাগ দেখালেন না। এমনভাবে কথা বলতেছেন যেন আমি তার নিজের ছেলে। বন্ধুর ছেলে বলেই সম্ভবত এমন ব্যবহার।
- আংকেল আমি যা যা করছি এর জন্য মাফ চাওয়ার জন্য আপনার এখানে এসেছি। আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন আংকেল। আসলে আমি এমনটা করতে চাই নি।
- আচ্ছা মাফ করে দিলাম। আর কখনো এরকম করবে না।
কিছুক্ষন নিরাবতা। ওনিও কিছু বলছেন না আমিও কিছু বলতেছি না।
- আংকেল
- হুম। বল
- আমাকে আপনার জামাই বানাবেন?
আংকেল কিছু বললেন না শুধু আমার মুখের দিকে একবার তাকালেন।
- আমি আপনার মেয়েকে সত্যি খুব ভালবাসি আংকেল। আমি খুব ভাল ছেলে কিন্তু। এর আগে কখনও এরকম বেয়াদবি করি নি। আমি আপনার মেয়েকে ছাড়া বাঁচব না আংকেল।
এবারও ওনি চুপ করে থাকলেন। একটু পর বললেন।
- তোমার আব্বুকে আমার সাথে একটু দেখা করতে বলিও। অনেকদিন ওর সাথে কথা হয় না।
- জ্বি আংকেল।
সন্ধ্যার সময় সেখান থেকে বাড়ি ফিরে আসলাম। দুইদিন বাসায় আমাকে কিছুই খেতে দেওয়া হয় নি। বাহিরে খাইছিলাম। আর এর জন্য আব্বুর পকেট কাটতে হইছে দুইবার। তৃতীয় দিনে আব্বুর আমার প্রতি একটু দয়া হল। সেদিন আমাকে খেয়ে দেয়ে রেডি হতে বললেন। ওনার ওসি বন্ধু নাকি আশার সাথে আমার বিয়ে দিতে রাজি হইছে। আজ আমরা সেখানে মেয়ে দেখতে যাচ্ছি। খবরটা শুনে আমি নাচতে নাচতে রেডি হয়ে আশাদের বাড়ি গেলাম। সেদিন বিয়ের কথা পাকাপাকি হয়ে গেল। আমি তো অনেক খুশি।
.
.
দুইদিন পরের ঘটনা। আশা আমাকে কল দিয়ে দেখা করতে বলল। আমি পুরাই ফুলবাবু সেজে দেখা করতে গেলাম।
- আমি আপনাকে বিয়ে করতে পারব না।
- বিয়ের সব প্রস্তুতি শেষ। দুদিন পর বিয়ে।
- তো?? আমি আপনার মতো পাগলকে বিয়ে করতে পারব না ব্যাস। বিয়ে ভাঙার ব্যবস্থা করুন।
- আচ্ছা ঠিক আছে। হাতুড়ি দাও।
- মানে??
- হাতুড়ি ছাড়া ভাঙব কিভাবে??
- আমি আপনার সাথে ফাজলামি করতে আসি নি। সিরিয়াস কথা বলতে আসছি।
- হুম আমি সিরিয়াসলি বলছি এই বিয়ে হবে।
- না হবে না। বিয়ে হলে বিয়ের দিনই আমি আমার বয়ফ্রেন্ডের সাথে পালিয়ে যাব।
- হাহাহা। তোমার ওই ঠকবাজটা তোমাকে নিয়ে পালাবে?? শোন এ বিয়ে হচ্ছে এটাই ফাইনাল। বাসায় গিয়ে এখন থেকেই আটা ময়দা মাখা শুরু কর।
ওকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে চলে আসলাম। আমি আগে থেকেই জানি আশার একটা আলু মার্কা বয়ফ্রেন্ড আছে। তবে এটা কোন ব্যাপার না। ওই বয়ফ্রেন্ডটা ওকে নিয়ে কখনোই পালাবে না। শালা এক নাম্বারের ধোকাবাজ। তাছাড়া আশা ওর বাবা মায়ের অমত কিছুতেই হবে না। ও এখন বিয়ে করতে বাধ্য। আমি জানি এভাবে ওকে বিয়ে করাটা অন্যায় হবে। তবে আমার কিছু করার নেই। ওকে এতো বেশি ভালবেসে ফেলেছি যে বিয়ে না করলে আমি মরেই যাব। যার কারনে আমি পাগলের মতো হয়ে গেছিলাম। একজন ওসির সামনেও তার সাথে বেয়াদবি করতে ভয় পাই নি। দেশের অষ্টম বীরশ্রেষ্ঠ মনে হচ্ছে নিজেকে।
.
.
@বিয়ের দিনঃ
৪ ঘন্টা আগে আশার সাথে আমার বিয়ে হয়ে গিয়েছে। আজ আমার ইয়ের রাত (কি লজ্জার কথা)। আমার নিজের ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। এখন ঘরের ভিতরে ঢুকব। কিন্তু খুব লজ্জা লাগতেছে। সবাইরেই তো লাগে নাকি? ধুর আমার মতো ছেলেদের লজ্জা শরম থাকতে নেই। অবশেষে বেহায়ার মতো নাচতে নাচতে ঘরের ভিতরে ঢুকলাম। সাথে গান গাইতে থাকলাম। আশা খাটের মাঝখানে বসে ছিল। আমার এমন অবস্থা দেখে অবাক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকালো। এবার আমি একটু লজ্জায় পড়ে গেলাম। ছি ছি!! বাসর রাতে কেউ এরকম করে?? এবার বাঙালি বরের মতো ধীরে ধীরে আমার বিছানার দিকে এগিয়ে গেলাম।
- খবরদার বিছানার দিকে আসবেন না
- ওমা কেন?
- আমি আপনাকে আমার স্বামী হিসেবে মানতে পারব না??
- কতদিন পারবা না??
- কখনোই মেনে নিতে পারব না। আমি অন্যজনকে ভালবাসি।
- তাহলে পালিয়ে যাও নি কেন? বিয়ের রাতে তো তোমার বয়ফ্রেন্ডের সাথে পালিয়ে যাওয়ার কথা ছিল।
- ওর সাথে কয়েকদিন ধরে যোগাযোগ হয় নি। ফোন বন্ধ। তাছাড়া পালিয়ে গেলে আব্বু আম্মু কষ্ট পাইতো তাই পালাই নি।
- হাহাহা। আমি জানতাম এমনই হবে।
-...............................
- তো এখন কি করবা?
- জানি না
- এই নাও (একটা নতুন ব্লেড ওর হাতে দিলাম)
- কি এটা?
- ব্লেড। এটা দিয়ে সুইসাইড কর।
এই বলে একটা বালিশ নিয়ে শোফার ওপর শুয়ে পড়লাম। এক ঘুমে রাত খতম। সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠেই আব্বু আমাকে একটা খাম হাতে দিয়ে বললেন তোর পুলিশে চাকরি হইছে। আজই তোকে ঢাকা যাওয়া লাগবে। এখনই রওনা দে। শুনে খুব খুশি হইলাম। তবে আশাকে রেখে আজই ঢাকায় যেতে হবে বলে মন কিছুটা খারাপ হয়ে গেল। পুরো দুই সপ্তাহ ঢাকায় থাকতাম। এর মধ্যে একদিনও আশার সাথে যোগাযোগ হয় নি। দুই সপ্তাহ পর বাসায় ফিরলাম। বাসায় এসে আশাকে দেখে আমি নিজের চোখকে বিশ্বাস করাতে পারলাম না। একবারে বাড়ির বউ বউ লাগতেছে। নিজের সংসার যেন একেবারে গুছিয়ে নিছে। যে মেয়ে আমাকে মেনে নিতে চাইল না সেই মেয়ের এমন অবস্থা হইল কিভাবে?? বিকেলে ঘরে বসে ল্যাপটপ টিপতেছি। এমন সময় আশা এসে বলল
- তোমার সাথে কিছু কথা আছে (বাহ তুমি করে বলতেছে আমাকে। কেউ আমারে গুলি কর!!)
- হুম বল
ওর দিকে না তাকিয়েই বললাম।
- আই লাভ ইউ
অবাক হয়ে ওর দিকে তাকালাম। ও কি সত্যি এটা বলল??
- ইদানিং আমার কানে খুব সমস্যা হচ্ছে। প্রতিদিন গুলির শব্দ শুনতে হয় তো। কি বললে শুনি নি। আর একবার বল
- আমি তোমাকে ভালবাসি।
- কিইই? সত্যি। তোমার এতো পরিবর্তন হইল কিভাবে?
- তোমার ডায়রি পড়ে তোমার প্রেমে পড়ে গেছি।
আমার কথাবার্তা পাগল টাইপের হলেও আমি ডায়রি খুব ভাল লেখতে পারি যা পড়লে মাঝে মাঝে আমি নিজেই নিজের প্রমে পড়ে যাই। আর পুরো ডায়রি জুড়ে শুধু আশার কথা লেখা আছে। ওসব পড়লে যেকেউ বুঝে যাবে আমি ওকে কতটা ভালবাসি। আরে পাগলি আগে যদি জানতাম তুই আমার ডায়রি পড়ে পটবি তাহলে তো কবেই তোকে ডায়রিটা দিয়ে আসতাম পড়ার জন্য। ওকে বললাম
- কিন্তু তোমার বয়ফ্রেন্ডের কি হবে?
- ও হারামজাদা আমার সাথে আর যোগাযোগ করে নি। ওইটার কথা বাদ দাও। আমি শুধু তোমাকে ভালবাসি।
- কি বললে শুনলাম না??
- আমি তোমাকে ভালবাসি। আই লাভ ইউ
চিৎকার করে বলেই দৌড়ে ঘরের বাহিরে পালিয়ে গেল। আজ কি যে আনন্দ লাগতেছে। সাথে একটা বন্দক থাকলে এখনই মাথায় গুলি করতাম। আব্বুর বন্দক আছে তো। একবার কি ট্রাই করব? না থাক বউটাকে খামোকা বিধবা বানামু না।
.
.
.
লেখকঃ হিমালয় হিমু (আল আমিন)

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ