āĻŽāĻ™্āĻ—āϞāĻŦাāϰ, ⧍ā§Ģ āĻāĻĒ্āϰিāϞ, ⧍ā§Ļā§§ā§­

449

....তুই আমার স্বামী....
MD MUNSUR HELAL

এই প্রথম ঢাকার শহরে আসলাম।
বাস থেকে নেমেই এদিক ওদিক তাকালাম। অচেনা শহর, অচেনা রাস্তা ভাবতেই একটু ভয় ঢুকে গেল মনে!
শুনেছি শহরে নাকি টোকাই, ছিনতাইকারী অনেক।
এদের পাল্লায় পরলে কাছে যা আছে সব হারিয়ে মহা বিপদে পড়ে যাবো।
ব্যাগটা কাধে ঝুলিয়ে হাটতেছি।
কোথায় যাবো কার কাছে যাবো... এই টেনশনে গলা শুকিয়ে যাচ্ছে।
হাটতে হাটতে প্রায় সন্ধা হয়ে এলো।
এখনো চাকরির কথা বলার মত ফ্রি মানুষ পেলাম না।
২/১ জন পেলেও কথা বলার সাহস হয়নি।
হা.. কোন চাকরির খোঁজেই এসেছি শহরে। চাকরির কথা বললে ভুল হবে হয়তো।
কারন ক্লাস সিক্স পর্যন্ত পড়ে চাকরির আশা করা আর চাঁদটাকে কাছে পাবার আশা করা সমান।
তাই যে কোন একটা কাজের খোঁজে ঘুরতেছি।
সন্ধার আজান শেষ হতেই আকাশে বিদ্যুৎ চমকানো শুরু হলো।
সাথে বৃষ্টিও পড়ছে টুপটুপ।
এই সময় বৃষ্টিতে ভিজে গেলে ঠান্ডা লেগে যেতে পারে।
আর ভেজাটাও এখন ঠিক হবেনা। তাড়াতাড়ি দৌড়ে একটা ছাউনির নিচে দাঁড়ালাম।
পাশেই একটা বাস স্ট্যান্ড।
বুঝলাম এই ছাউনিটা যাত্রীদের জন্যই করা হইছে।
হঠাৎ বৃষ্টির জোর বেড়ে গেল।
সিড়িতে বসে পড়লাম।
একটা সিএনজি এসে ছাউনির সামনেই থামলো।
সিএনজি থেকে লাল শাড়ি পড়া একটা মেয়ে নামলো।
সম্ভবত নতুন বউ।
সিএনজির ড্রাইবারকে ভাড়া দিয়ে মেয়েটা দৌড়ে আসলো এই ছাউনির নিচে।
এসে সিড়ির অপর পাশে বসে পড়লো।
চুপ করে মাথা নিচু করে বসে আছি আর মেয়েটার দিকে আড়চোখে তাকাচ্ছি।
মনে মনে ভয় হচ্ছে।
রাস্তাঘাটে মানুষ নেই বৃষ্টির জন্য।
তার উপর রাতের অন্ধকার নেমে এসেছে।
খেয়াল করলাম মেয়েটাও বারবার আমার দিকে তাকাচ্ছে।
আমার ভিতরে এখন আরেকটা ভয় কাজ করছে।
শুনেছি ঢাকা শহরে মহিলা ছিনতাইকারী ও থাকে।
ইনি তো সেই ধরনের মহিলা না?
আবার ভাবতেছি কোন বাজে মহিলা তো না?
যারা টাকার বিনিময়ে সব করে।
এসব মহিলা থেকে আমি ১০০ হাত দূরে থাকি।
মেয়েটা হঠাৎ আমার দিকে এগিয়ে এসে বসলো।
আমি ব্যাগটা আমার কোলের মধ্যে চেপে ধরে ভয়ভয় চেহারায় তাকালাম মেয়েটার দিকে।
মেয়েটা মুচকি মুচকি হাসছে আমার দিকে চেয়ে।
-বাসা কোথায়? (মেয়েটা)
-সিরাজগঞ্জ, বেলকুচি। (আমি)
-কোথায় যাবে?
-জানিনা। একটা কাজের খোঁজে এসেছি।
-পেয়েছ কাজ?
-না।
-কোথায় যাবে এখন? থাকবে কোথায়?
কোন জবাব না দিয়ে মেয়েটার দিকে তাকালাম।
আমার চেয়ে বয়স কম হবে। সুন্দর গোলগাল চেহারা। সাজগোজ করেছে। যেন বিয়ে হয়েছে আজই। শুধু শরীরে গয়না নেই।
বুকে একটু সাহস নিয়ে মেয়েটিকে বললাম... আমি না হয় রাস্তায় ই কাটিয়ে দেবো রাতটা। কিন্তু আপনি?
আপনি বউ সেজে এভাবে একা রাস্তায় বের হয়েছেন কেন?
-সেটা অনেক কাহিনী। বৃষ্টি থেমে গেছে, বাস ও এসে পড়ছে একটা। এখন আমি যাই।
এই বলে মেয়েটা দৌড়ে গিয়ে বাসে উঠলো।
আমি এক নয়নে বাসটার দিকে চেয়ে আছি।
হঠাৎ মেয়েটা কি মনে করে আবার নেমে আসলো আমার কাছে।
-যাবে আমার সাথে?
-কোথায়?
-যেখানে দু-চোখ যায়। যদি যাও তো আসো। না গেলে বসে থাকো।
এই বলে মেয়েটি আবার বাসে গিয়ে উঠলো।
ওঠার আগে আমার দিকে চেয়ে ইশারায় বললো আসতে চাইলে আসো।
আমি কোনকিছু না ভেবে ব্যাগটা কাধে ফেলে উঠে পরলাম বাসে।
মেয়েটা বাসের পিছনে গিয়ে বসলো।
আমি বললাম সামনেই তো সিট আছে এখানে বসেন।
মেয়েটা চোখ গরম করে ইশারায় পেছনে যেতে বললো।
গিয়ে ওর পাশে বসতেই আমার গালের কাছে হাত নিয়ে বললো থাপ্পর মেরে সব কয়টা দাঁত ফেলে দেব।
কোন সময় কি বলতে হয় জানিস না? যতক্ষন আমার সাথে থাকবি ততক্ষন আমায় তুমি করে বলবি।
আর একবার লোকজনের সামনে আপনি করে বললে মেরে দেবো একেবারে...হুম।
আমি মেয়েটির এই কথা শুনে তাজ্জব হয়ে গেলাম!!
ভয়ে ভয়ে ওর দিকে তাকিয়ে দেখি চোখ মুখ রাগে লাল হয়ে আছে।
আমি মাথা নিচু করে ভাবছি কি মেয়ের পাল্লায় পরলাম রে বাবা!!
একটুপরেই বাস থামলো।
মেয়েটি বললো এখানে নামতে হবে।
ওর পিছু পিছু নেমে পড়লাম।
নেমে আমি দাড়িয়ে গেলাম।
ভাবলাম মেয়েটার সাথে যাওয়া ঠিক হচ্ছে না আমার।
মেয়েটি এগিয়ে আসলো আমার কাছে।
-সরি... বাসের মধ্যে ওভাবে বলাটা ঠিক হয়নি আমার।
আসলে আমি বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছি। তার উপর তুমি আমাকে আপনি বলাতে বাসের লোকজন তোমার ও আমার দিকে সন্দেহের চোখে তাকিয়ে ছিলো।
এ জন্য রেগে গিয়েছিলাম তোমার উপর।
এদিকে এক বান্ধবী আমায় ফোন করে জানালো বরপক্ষকে বাবা বুঝিয়ে আমায় খুঁজতে বের হইছে। লোক ও পাঠাইছে খোঁজার জন্য।
আমাকে ফোন করে পায়নি তারা। কারন আমার সিম বন্ধ আসল টা।
গোপন সিম খোলা রাখছি আমার বান্ধবীদের সাথে যোগাযোগ রাখার জন্য।
এখন অন্য বাসে উঠে তাড়াতাড়ি ভাগতে হবে ঢাকা থেকে।
এটুকু বলে মেয়েটি আমার হাত ধরে বললো চলো...।
আমি এতক্ষন ওর সাথে যাওয়ার জন্য রাজি থাকলেও এখন ওর পালানোর কথা শুনে ঘাবড়ে গেলাম!
বললাম সরি আপু... আপনি যান। আমি যেতে পারবো না।
মেয়েটা আমার হাত ছেড়ে দিয়ে বললো... আমার এতটুকু উপকার করো প্লিজ। শুধু কক্সবাজার পর্যন্ত আমায় পৌছে দিয়ে আসো।
কারন আমি বুঝলাম এই পোষাকে রাতের বেলা একা এতোটা রাস্তা যাওয়াটা আমার ঠিক হবেনা। বিপদ হতে পারে।
তোমার কোন ক্ষতি আমি করবো না। এই বলে মেয়েটা আবার আমার হাত ধরলো।
তাকিয়ে দেখি মেয়েটির চোখে জল।
ভিতরে কেমন যেন মায়া হলো আমার।
তবুও তাকে বললাম... আমি ২/৩ দিনের খরচ নিয়ে এসেছি বাড়ি থেকে। ভেবেছি ২/১ দিনের মধ্যে কোন কাজ যোগাড় করবো।
কিন্তু এভাবে ঘুরতে থাকলে তো আমি কাজ জোগার করতে পারবো না। পকেট ও ফাঁকা হয়ে যাবে।
এটুকু বলে আমি লজ্জায় মাথা নিচু করলাম।
মেয়েটি বললো তোমার কাজের ব্যবস্থা আমি করে দেয়ার চেষ্টা করবো। তা না পারলেও তুমি যতক্ষন আমার সাথে থাকবে ততক্ষন তোমার কোন খরচ হবেনা। আর তোমার টাকা পয়সা লাগলে আমি দেখবো।
শুধু আমায় একটু হেল্প করো প্লিজ।
এই বলে আমার হাত ধরে টেনে নিয়ে বাসে উঠলো মেয়েটা।
আমি ও বাধ্য ছেলের মত ওর সাথে গিয়ে বাসের ঠিক পিছনে গিয়ে বসলাম।
এই বাসটায় তেমন যাত্রী ছিলো না।
মেয়েটা জানালার কাছে বসলো আর আমি তার পাশেই।
বাস তার আপন গতিতে চলছে।
দুজনি নিরব হয়ে বসে আছি।
হঠাৎ মুখ খুললো মেয়েটা।
-তোমার নাম কি?
-মুনসুর হেলাল।
আপনার নাম...?
-ঐ কি বললি আবার?
আমার দিকে ঘুরে চোখটা বড় করে রাগ দেখিয়ে বললো মেয়েটা।
-না মানে তোমার নাম কি? (ভয় পেয়ে আমি)
-আমার নাম...আফরিন মুন।
শুধু মুন বলে ডাকবে আমায়। ওকে...?
-ওকে।
-আচ্ছা তুমি কি ধরনের কাজ করতে এসেছো ঢাকায়?
-যে কাজ পাই সেই কাজ ই...
-তুমি নিশ্চয়ই গ্রাম এলাকার ছেলে তাইনা?
-হুম।
-আমার সাথে কিছুদিন থাকবে?
তোমার থাকা খাওয়া ফ্রি।
-২/১ দিন থাকতে পারবো।
এরপর কাজ না পেলে চলবে না।
কারন মাস শেষে বাড়িতে টাকা পাঠানোর কথা বলে এসেছি বাবা- মাকে।
-তোমার বাড়িতে কতো টাকা পাঠাতে হবে মাসে?
-৫/৬ হাজার পাঠাতেই হবে।
পারলে এর বেশি চেষ্টা করতে হবে।
-ওকে ৮ হাজার পাঠাবে বাড়িতে।
আর থাকা খাওয়া ফ্রি।
-কিভাবে? কোথায় এই চাকরি?
-আমি দেবো টাকা।
তুমি তো বলেছো যে কোন কাজ করবে।
-কাজটা কি?
-আমার স্বামী সেজে অভিনয় করবে কিছুদিন।
তারপর এক ব্যবস্থা করে দেবো আমি।
-আচ্ছা আপনি... না মানে তুমি পালালে কেন বাড়ি থেকে?
-তার আগে বলো রাজি কিনা তুমি?
সব বলবো তোমায়...
-হুম রাজি। এবার বলুন।
-আবার...?
-সরি সরি...মনে থাকেনা তাই আপনি বলে ফেলি।
এবার বলো...
-মেয়েটা একটা পা সিটে তুলে আমার মুখের সামনে মুখ নিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বললো... এরপর যদি মনের ভুলেও আপনি বলিস পানি ছাড়া গিলে খাব তোকে।
-ওকে ম্যাডাম ঠিক আছে। আর ভুল হবেনা।
-আর শোন আমায় নাম ধরে ডাকবি সব সময়।
মানুষ যেন মনে করে আমরা সত্যি স্বামী স্ত্রী।
-হুম ওকে তাই ডাকবো।
এই প্রথম ওর কথা শুনে হাসলাম। মুখ বুঝে হাসতে গিয়েও ওর কাছে ধরা পড়লাম।
-এই হাসলা কেন?
-তুমি খুব রাগী। আর রাগলে তোমায়...
-রাগলে আমায় কি?
-না থাক... রাগ করতে পারো।
-ঐ বলবি না মারবো একটা ঘুসি...
কলারটা চেপে ধরে বললো মুন।
-রাগলে তোমায় খুব সুন্দর লাগে।
এ জন্য মনে হয় তোমায় বারবার রাগাই।
আবার ভাবি যে তুমি যে বদরাগী...
রেগে গিয়ে মারতেও পারো আমায়। এটা ভেবে হাসছি।
-ওল্লে বাবা... ইতু লোমান্টিক ছেলে তুমি তা তু জানতুম না।
দেখে তো ভেবেছিলাম হাবারাম মার্কা সব দিকেই।
এখন তো দেখছি তলে তলে এই দিকে ভালোই পারদর্শী তুমি।
তা গ্রামে কয়টা মেয়ের সাথে লাইন মেরেছো?
-মানে?
-আহহা... মনে হচ্ছে ফিডার খাও তাইনা? ভালোয় ভালোয় বলো কয়টা প্রেম করছো গ্রামে?
মিথ্যা বললে খবর আছে কিন্তু।
-গ্রামে কারো সাথে কিছু হয়নি।
তবে ফেসবুকে একটা মেয়ের সাথে প্রেম হইছিলো।
-বাব্বাহ'... তুমি ফেসবুকে প্রেম করেছো!! এইটা আমার বিশ্বাস করতে হবে?
এমন আবুলের সাথে কেউ প্রেম করবে?
তাও আবার ফেসবুকে!!
আরে মদন... পাম মারার আর জায়গা পাওনা?
- আরে নাহ' আমি সত্যি বলছি মাইরি।
একটুও পাম নাহ...।
-তো বিয়ে করছো ওকে?
ওর পিক দেখাও তো...
-আরে নাহ' আমি বিয়ে করিনি এখনো।
তবে ওর বিয়ে হয়ে গেছে।
আর ওর পিকগুলো ওর বিয়ের পর ডিলেট করে দিছি মনের দুঃখে।
-মানে!! তুমি ওকে বিয়ে করনি কেন?
-ও রাজি হয়নি।
-রাজ হয়নি মানে? এটা কেমন কথা!!
-ওরা বড়লোক ছিলো।
ও ওর পরিবারকে বলেতে পারেনি।
বললে নাকি তারা খুব কষ্ট পেতো। মেনে নিতো না।
-কি...? প্রেম করার সময় ওর ওসব মনে ছিলো না?
ওর নাম্বার দাও আমাকে...
আর ওর বাসা কোথায় বলো।
-না থাক...
ও তো সুখেই আছে।এতেই আমার সুখ।
তাছাড়া হয়তো' আমি ওর  যোগ্য ছিলাম না। এ জন্য হয়তো ও অচিনপুরে চলে গেছে সুখের খোঁজে।
ওর বাসা ছিলো আমাদের পাশের জেলায়।
-হুম বুঝেছি....
এই বলে মুন নামের মেয়েটা আমার চোখের দিকে তাকায়...
আমার চোখে সামান্য একটু পানি টলমল করছে।
আমি অন্য দিকে তাকিয়ে হাত দিয়ে চোখ মুছছি।
মুন আবার বললো...
-খুব ভালোবাসতে ওকে তাইনা?
ওকে বুঝি খুব মিস করো তুমি?
-হুম খুউব...।
-আচ্ছা আরেকটা কথা জানতে চাইবো খারাপ কিছু মনে করবে না তো?
-না বলো।
-ওর সাথে তোমার... ইয়ে মানে.. কোন ইয়ে টিয়ে সম্পর্ক বা জড়িয়ে ধরা কিংবা কিস টিস করা হয়েছিলো কি?
-আরে নাহ' ওকে তো আমি বাস্তবে সামনা সামনি দেখিই নি কোনদিন।
-মানে!! তাহলে ভালবাসা হলো কি করে?
-ফেসবুকে প্রথমে কথা হতো।
এরপর ফোনে কথা হতো এবং পরে ইমোতে ভিডিও কলে কথা হতো।
-ওর সাথে দেখা হয়নি কোনদিন?
-নাহ' দেখা করার কথা ছিলো সময় সুযোগ বুঝে।
কিন্তু ও যখন বললো ওর বিয়ে ঠিক হইছে তারপর আর প্রয়োজন মনে করিনি দেখা করার।
-ঐ এইদিক আয়।
এই বলে মুন আমার একটা কান ধরে বলতেছে... তুই কি আদিম যুগের মানুষ নাকি?
তোর কি তাল তক্তা নাই?
তোর মাথায় ঘিলু বলতে কিছু কি নাই?
ঐ বোকা' এই যুগে কেউ না দেখে প্রেম করে।
তোর মতো আবুলের কষ্টই পাওয়া উচিৎ।
শোন' এখনো সময় আছে বদলে যা।
নইলে সারাজীবন কষ্টের দেখাই পাবি।
কি প্রেম আমার য়্যাহ... আবার তার জন্য চোখে জল আসে, কষ্ট পায়।
যত্তোসব ন্যাকামি...
এটুকু বলে মুন জানালা দিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে।
আমি মাথা নিচু করে বসে আছি।
হঠাৎ একটা হাত আমার হাতের উপর স্পর্শ  অনুভব করলাম।
দেখি মুন হাতে হাত রেখেছে।
আরেক হাত দিয়ে ও আমার থুতনিটা ধরে বলছে...
-সরি' জানি কষ্ট পাচ্ছো তুমি।
এসব বলা আমার ঠিক হয়নি।
কিন্তু এমন বোকার মতো আর চলবে না কখনো।
দূর থেকে এতোটা বিশ্বাস কাউকে করতে নেই এই যুগে।
ও ভালবাসার মানুষ ছিলো না তোমার।
ওটা ছিলো তোমার ভুল।
এখনকার মেয়েরা ও ছেলেরা প্রায় ই প্রেমের নামে টাইমপাস করে।
মজা, ফুর্তি কয়েকদিন করেই হারিয়ে যায় অনেক দূরে।
জানো মুনসুর' আমার ও অনেক কষ্ট...
হারানোর কষ্ট।
কাছের মানুষকে পাইনি' তাই অন্য কাউকে জীবনে মেনে নিতে চাইনি।
এ জন্যই আজ আমি আমার বিয়ের দিনে পালিয়ে যাচ্ছি।
এটুকু বলেই আটকে যায় মুনের কথা....
তাকিয়ে দেখি মেয়েটা ফুপিয়ে কাঁদছে!!
যতবার ওর মুখ দেখেছি মনে হয়েছে দুষ্টু একটা পাখি ও...
সবসময় মজা করতে ভালোবাসে।
কিন্তু এখন মনে হচ্ছে ওর ভিতরে অজানা কোন কষ্ট লুকিয়ে আছে।
আমি আমার হাতটা ওর চোখের কাছে নিয়ে গিয়েও থেমে গেলাম।
ও আমার দিকে চেয়ে কান্নাসুরে বললো... কি হলো থামলে কেনো?
আমার চোখের পানি মুছে দিতে চাও?
দাওনা মুছে...
আমি তো সবাইকে হারিয়ে একা হয়ে গেছি। চোখের পানি মুছে দেয়ার মতো এখন কেউ তো নাই আমার।
চোখের পানি মুছে দিলাম মেয়েটার।
মেয়েটা এখন শান্ত হয়ে চুপ করে বসে জানালা দিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে।
আমি সিটের সাথে মাথা এলিয়ে বসে আছি।
সেই সকালে খেয়েছি।
এখন রাত হয়ে গেছে।
চোখটাও ক্ষুধায় ছোট হয়ে গেছে।
প্রায় ১৫ মিনিট নিরবতার পর মুন আমাকে বলছে...
-ঘুমালে নাকি?
-নাহ... ঘুম আসছে না।
-তোমার মুখটা শুকনা লাগছে...খাবে কিছু?
-বাসটা কোথাও থামলে খেয়ে নেব না হয়। তাছাড়া এখন খাবার জিনিষ পাব কই?
-মুন তার ব্যাগটা খুলে একটা প্যাকেট বের করলো।
সাথে একটা পানির বোতল।
এই নাও বিরিয়ানি খাও...
ক্ষুধায় হুশ ছিল না আমার।
দুই মুঠো খাবার পর হুশ এলো...
প্যাকেট এগিয়ে দিয়ে বললাম তুমিও খাও।
মুন আমার দিকে তাকিয়ে একটু হেসে খেয়ে নিলো।
খাওয়া শেষে আবার একটু নিরবতা।
পেটটা শান্ত হওয়ায় চোখটাও শান্ত হয়ে যাচ্ছে।
ঘুম চলে আসছে চোখে।
-এই ঘুমালে?
-ঘুমাইনি তবে ঘুম চোখে ভাসছে।
-ওহ' আচ্ছা ঘুমাও তাহলে।
আমি চোখটা খুলে আবার তাকালাম মুনের দিকে।
ওর চোখে যেন ঘুম নেই।
আমি ওকে বললাম...
-তোমার ভালোবাসার মানুষটাও কি ফাঁকি দিছে তোমায়।
-নাহ' ভাগ্যটা ফাঁকি দিছে।
ও আমায় খুব ভালবাসতো।
কিন্তু ভাগ্য বিধাতা আমাদের এই ভালবাসাকে মেনে নিতে পারেনি।
ও আর আমি কিশোর কাল হতে দুজন দুজনকে পছন্দ করতাম।
৬ বছর আগে ও সিঙ্গাপুরে যায় লেখাপড়া করতে।
৫ বছর থাকে ওখানে।
এরপর গত বছর দেশে ফেরে।
ওর বাবা আর আমার বাবা বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করে।
৬ বছর পর সেদিন ই ওর সাথে দেখা হতে পারতো আমার।
মনের মাঝে কতো স্বপ্ন লুকিয়ে ছিল ওকে ঘিরে।
কিন্তু সেই স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেল।
সেদিন ও আমাদের বাসায় আসার পথে গাড়ি এক্সিডেন্ট করে চিরতরে হারিয়ে গেল।
এটুকু বলে আবার থেমে গেল মুন।
তাকালাম ওর দিকে।
মুখটা বুঝে কাঁদছে।
আমি বুঝলাম এসব বিষয়ে আর কিছু না বলাটাই ভালো হবে।
আমার চেয়ে ওর কাহিনীটা বেদনাদায়ক।
-এই মুনসুর...
-হা বলো...
-তুমি কখন খেয়েছিলে শেষবার?
-সকালে খেয়ে এসেছি।
-আমায় বলতে পারতে দুপুরে বা বিকেলে।
ক্ষিধে পেটে নিয়ে এভাবে থাকলে কেন?
-কখন বলব? সুযোগ ই পায়নি তো।
বিকেলে খাওয়ার জন্য হোটেল খুঁজছিলাম তখন ই তোমার সাথে দেখা।
তারপর আর মনেই ছিল না। বাসে বসার পরে সে মনে হলো।
-আচ্ছা তুমি কক্সবাজার গিয়েছিলে কখনো?
-হা ৬/৭ বছর আগে ভ্রমনে গিয়েছিলাম।
-তোমার ফেসবুক আইডির নামটা বলো তো।
- Md Munsur Helal
-নাম সার্চ দিয়ে খুঁজে পাওয়া মুশকিল। ইমেইল বলো... ইমেইল দিয়ে সার্চ দেই।
- munsurhelal720@gmail.com এটা সার্চ দাও।
-হুম এবার পেলাম।
কিছুক্ষন ঘেটে মুন আমার দিকে তাকিয়ে আছে অবাক চোখে!!
এই মুনসুর... তুমি কি সত্যিই ক্লাস সিক্স পর্যন্ত লেখাপড়া করেছো?
-হা। আমার about পড়ে দেখো সবই লেখা আছে।
মুন কিছুক্ষন পরার পর আবার আমায় বললো...
-তুমি আসলেই একটা মদন ছাড়া কিছু না।
নিজের সব কিছুই কি জানাতে হবে সবাইকে?
কিছু কথা নিজের কাছে গোপন করে রাখতে হয় এটা বোঝ না?
-আমি কিছু লুকাতে পারি না।
সবই শেয়ার করি বন্ধুদের।
-সত্যিই তুমি পাগল একটা...
এই হাবলু' আমার ধারনা ভুল ছিল।
তুমি ফেসবুকে যেরকম গল্প লিখেছো' আর মানুষের যেসব কমেন্ট দেখলাম' তাতে তো তোমার মতো হাবলা কে যে কেউ প্রপোজ করতে পারে।
তা কয়জন প্রপোজ করেছে তোমায়?
-অনেকেই করে।
বাট এড়িয়ে যাই তাদের।
কারন আমি হলাম গরিব ছেলে।
তাছাড়া একবার ধোকা ও খেয়েছি ফেসবুকে প্রেম করে।
তাই আর ইচ্ছে হয় না।
এখন অনেক মেয়েই আমার সম্পর্কে জানে।
তাই আর প্রপোজ করেনা তেমন কেউ।
আর করলেও আমার পেছনের সব ঘটনা বলে কেটে পড়ি তাদের থেকে।
তবে অনেকেই ভালো বন্ধু হতে চায়।
কিন্তু আমি এড়িয়ে যাই অথবা বলি যে আমি সময় দিতে পারিনা কাউকে।
হা' সত্যিই আমি কাজের চাপে কাউকে সময় দিতে পারিনা।
এ জন্য কারো সাথে মিশি ও না গভীর ভাবে।
-তোমার গল্প পড়লাম একটা... "ম্যাডাম" গল্পটা।
তুমি যে এসব লিখেছো বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে গো...!!
এতো ভালো কেমনে লেখো?
গল্প তো অনেক দেখতেছি তোমার টাইমলাইনে।
তো একটা বই লিখলেই তো পারো।
-সেরকম পর্যায়ে যাইনি  এখনো।
আর এই অল্প লেখাপড়া দিয়ে বই লেখার আশা করাটা বেমানান।
তবে আশা আছে একটা উপন্যাস লিখব সেরকম পর্যায়ে গেলে।
এটা হচ্ছে আমার জীবনের ইচ্ছা।
খারাপ ভালো যাই হোক একটা লিখব একদিন যদি সুযোগ আসে।
-আচ্ছা গ্রামের মানুষরা তো ভালো গান গাইতে পারে। তো একটা গান গেয়ে শোনাও না প্লিজ...
-আমি গান গাইতে পারিনা।
-ঐ শালা আবার মিথ্যা বলিস।
মাইর খাওয়ার আগে গান শোনা বলছি।
এই বলে মুন আবার আমার দিকে ঘুরে একাটা পা সিটের উপর তুলে দুই হাতে দুই কান ধরে বলছে.... গান গা' নইলে তোর কান ছিড়ে ফেলবো।
-এই ছাড়ো প্লিজ...কান ছিড়ে গেল তো। আচ্ছা গাইতেছি ছাড়ো এবার...
-হুম ছাড়লাম। এবার গান গেয়ে শোনা।
-শোনাবো তবে আমার সাথে তোমাকেও গাইতে হবে।
কারন আমার পরে মহিলার কন্ঠের লাইন আসবে।
-আচ্ছা যদি সেই গানটা আমার জানা থাকে তো গাইবো...এবার গাও....।
...আমার নষ্ট মনে, নষ্ট চোখে দেখি তোমাকে...
...মন আমার চায় যে কি বুঝাই কেমনে? (আমি)
....আপনি গুরু আমি শিষ্য, বুঝায় আমায় কন...
...আপনি বুঝাইলে আমি বুঝিতে সক্ষম... (মুন)
গানের লাইনটা বলার পর দুজনি হেসে উঠেছি।
আমি হাসি থামিয়ে মুনের হাসি দেখছি...
কি অদ্ভুত ধরনের হাসি।
হাসিতে যেন মুক্তা ঝরছে। গালে একটু টোল পড়েছে।
যেন কল্পনার পরী।
হঠাৎ আমার চেয়ে থাকা দেখে হাসি থামিয়ে দিলো মেয়েটা।
মনে হলো কিছু পেয়েও হারিয়ে ফেললাম।
আবার নিরবতা।
রাত অনেক হয়েছে। গাড়ি শো শো করে চলতেছে।
বাসের মাঝখানে একটা জিরো বাতির মতো বাতি জ্বলছে।
আমাদের পাশের সিট বা সামনের তিন চার সিট ফাকা।
উকি মেরে আবছা আলোতে দেখে বুঝলাম সামনের সবাই ঘুমে বেহুশ।
শুধু আমরাই দুজন নিচুকন্ঠে কথা বলছি।
হঠাৎ মনে হলো মুন ও ঘুমের দেশে চলে গেল।
কারন ওর মাথাটা এখন আমার ঘাড়ের উপর।
আমার বুকের ভিতর ধুকধুক করছে এক অজানা শিহরনে।
ধীরে ধীরে মুন আমার শরীরের সাথে লেপ্টে যাচ্ছে।
আমার হার্টবিট বেড়ে যাচ্ছে।
কোনদিন এমন যুবতী মেয়ের হাত পর্যন্ত স্পর্শ করিনি।
আর আজ আমার ঘাড়ের উপর একটা সুন্দরী যুবতি মেয়ে ঘুমিয়ে আছে।
ভাবতেই শরীর শিউরে উঠছে বারবার।
মেয়েটাকে না ধরলে পড়ে যাবে নাকি?
মাঝে মধ্যে বাস সামান্য ঝাকুনি দিচ্ছে আর ওর মাথাটা আমার ঘাড় থেকে সরে যাচ্ছে।
এবার ঘুমের মধ্যেই ও একটা হাত আমার ঘাড়ের উপর দিয়ে ভালোভাবে মাথা রাখলো আমার ঘাড়ে।
আমার নিঃশ্বাস এখন ভারি হয়ে আসছে।
ও আমার ঘাড়ে হাত রাখায় আমার ও একটা হাত ওর ঘাড়ের উপর দিয়ে দিতে হইছে।
নইলে আবার আমার হাতটা বেকারে থাকবে।
-ঐ... আমি তোমার উপর শুয়েছি বলেই আবার কোন সুযোগ নিও না আমার উপর।
আর আমার শরীরের দিকেও নজর দিও না।
আমি তোমায় বিশ্বাস করেছি বলেই তোমায় সাথে এনেছি।
আমার খুব ঘুম পেয়েছে তাই একটু ঘুমাই। তুমিও ঘুমাও।
হাতটা আমার ঘাড়ে রাখতে পারো।
উচু করে রাখতে হবে না। হাত ব্যথা হয়ে যাবে।
এটুকু বলে আবার চুপ হয়ে গেল মুন।
আমি অবাক হয়ে বললাম...
-ঘুমাও নি এখনো?
-ঘুমাবো আমি এখন তুমি ও ঘুমাও...।
কখন ঘুমিয়ে গেছি দুজন জানিই না।
হঠাৎ হইচই শুনে ঘুম ভেঙ্গে গেল আমার।
তাকিয়ে দেখি মেয়েটা ওভাবেই ঘুমিয়ে আছে।
বুকের আঁচলটা পড়ে গেছে।
হাত বাড়িয়ে আঁচলটা তুলে দিতেই ও জেগে গেল।
আমার হাতে ওর আঁচল। চোখ বড় করে চেয়ে আছে আমার দিকে।
আমি লজ্জায় মাথা নিচু করে আছি।
আঁচল ধরার জন্য খারাপ ভাবছে না তো আমায়?
হঠাৎ আঁচলটা কেড়ে নিয়ে শরীর ঢাকলো মুন।
-দেখা হইছে তোর?
না আরো দেখবি...? (রাগী কন্ঠে) :-p
-মানে? সত্যি আমি ইচ্ছে করে ধরিনি আঁচলটা।
পড়ে গিয়েছিলো তাই তুলে দিতে চেয়েছি ওমনি জেগে গেছ তুমি।
-হয়েছে সাধু সাজতে হবেনা।
আর কখনো এমন ভাবে আমার দিকে চাইলে না চোখ উপড়ে নেব তোর...হুমমম।
শুধু চোখ তুলবই না চোখ কড়াইয়ে তুলে তেলে ভেজে তোকে খাইয়ে দেব....বুঝলি।
এই বলে আমায় ধাক্কা দিয়ে বললো ওঠ এখন বাইরে যাই।
সবাই নেমে গেছে নাস্তা করার জন্য।
বাস থেকে নেমে একটা হোটেলে ঢুকে খেয়ে নিলাম।
তারপর আবার সিটে গিয়ে বসলাম।
আর ৩/৪ ঘন্টা লাগবে কক্সবাজার পৌছাতে।
-এই তুমি সিগারেট খাওনা? (মুন)
-না' ওসব খাইনা।
-একটা সত্যি কথা বলবে?
-সব তো সত্যিই বলি। মিথ্যা বললাম কখন?
-এখন কি তুমি কাউকে ভালবাসো বা পছন্দ করো?
-আরে নাহ।
-একটা মেয়ে আছে তোমার জন্য।
বিয়ে করবে তাকে?
-বিয়ে তো করতেই হবে। আগে একটা কর্ম ঠিক করে নিজের পায়ে দাড়াই তারপর।
তা মেয়েটা কে এবং কোথাকার?
-মেয়েটা তোমার সাথে তোমার পাশেই বসে আছে। পছন্দ হয়?
-মানে...? তোমার কথা বলছো?
-হুম' তোমায় খুব ভাল লাগে আমার।
মেয়েটার কথা শুনে আমি টাস্কি খেয়ে গেলাম!!
ওর কি মাথা ঠিক আছে? আমার মত একটা  বেকার অপদার্থ কে বিয়ে করবে ওর মত একটা বড়লোক ঘরের সুন্দরী মেয়ে!!
ওর দিকে তাকালাম চোখ তুলে।
মিষ্টি করে হাসছে ও....
হঠাৎ ওর ফোনটা বেজে উঠলো।
ওপাশ থেকে ওর বান্ধবী জানালো মুনের মায়ের অবস্থা খুব খারাপ।
মেয়ের শোকে পাগল হয়ে গেছে।
ফোনটা রেখে দিয়েছে মুন।
সুন্দর হাসিময় মুখটায় এক মুহুর্তে চিন্তার ছাপ দেখা দিলো।
আমার দিকে তাকিয়ে কান্নাজড়িত কন্ঠে বললো... বাড়িতে ফিরতে হবে আমায়।
আমার মা আমায় না দেখে পাগল হয়ে গেছে... এইটুকু বলে গলা আটকে গেল মেয়েটার।
আমি তাড়াতাড়ি সিট থেকে উঠে ড্রাইবারের কাছে গিয়ে ব্যপারটা খুলে বললাম।
সামনেই একটা রোডে আমাদের নামিয়ে দিল ড্রাইভার।
আরেকটা বাসে তাড়াতাড়ি উঠলাম ঢাকার উদ্দেশ্যে।
সবকিছু কেমন নিরব হয়ে গেল।
কিছুক্ষন আগের সেই দুষ্ট মেয়েটা এখন বোবার মত বসে আছে।
একটুপর আবার ফোন আসলো...
ওপাশ থেকে ওর বান্ধবী বললো তোর বাবার সাথে কথা বল।
ওর বাবা কান্নাজড়িত কন্ঠে বলতে লাগলো... প্লিজ মা তাড়াতাড়ি আয়।
কথা দিচ্ছি আর কোনদিন তোর বিয়ে দিতে চাইব না। তুই যা চাস তাই হবে।
শুধু তোর মার কথা ভেবে ফিরে আয়।
তোর মার অবস্থা ভাল না।
একটা নজর তোকে দেখতে চাইছে।
-আমি আসতেছি বাবা। রওনা দিছি...
এই বলে ফোনটা রেখে দিয়ে মুখ বুঝে কাঁদতে থাকে মুন।
ওর কান্না দেখে ভিতরে কেমন যেন একটা কষ্টের অনুভুতি হচ্ছে।
হঠাৎ দেখি শব্দ করে কাঁদছে মেয়েটা।
কিছু বুঝে না উঠে মুন এর মাথায় হাত রাখলাম।
কিচ্ছু হবে না। সব ঠিক হয়ে যাবে।
মুন আমার ঘাড়ে মাথা রেখে কাঁদতে থাকে।
জানো মুনসুর' আমি না অনেক বড় ভুল করেছি।
ছোট থেকেই জেদি  আর রাগী ছিলাম।
অথচ মা বাবা আমাকে কোনদিন কষ্ট দেয়নি।
যখন যা চেয়েছি তাই পেয়েছি। কোন চাওয়া অপূর্ণ রাখেনি।
আর আমি কিনা তাদের একটা মাত্র কথা না রেখে চলে আসলাম।
আমি চাইনি আমার জীবনে আর কেউ আসুক।
কিন্তু বাবা জোর করে আমায় বিয়ে দিতে চেয়েছিলো।
আমি বারবার বলেছিলাম বিয়ে করব না।
কিন্তু আমার কথাকে উপেক্ষা করে আমার বিয়ের আয়োজন করে।
আর আমার ভিতরে রাগ আর জেদ চাপে।
যার জন্য আমি বিয়ের দিনই একটা চিঠি লিখে রেখে চলে আসি।
আর আমার মা এই একটা দিন আমায় না পেয়ে না দেখে মৃত্যুর দুয়ারে চলে গেছে।
এসব বলে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে মুন।
আমি ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি আর বলছি... কিচ্ছু হবেনা তোমার মায়ের।
তুমি ফিরে গেলে সব ঠিক হয়ে যাবে। প্লিজ কেঁদোনা...
কাঁদতে কাঁদতে নিরব হয়ে গেছে মেয়েটা। আমি ওর মাথায় হাত বুলিয়ে সারাটা রাস্তা শান্তনা দিয়ে আসছি।
সুখের মুহুর্ত সাথে থাকলে অনেক বড় রাস্তা ও ছোট হয়ে যায়।
কিন্তু যদি অপেক্ষার মুহুর্ত সামনে থাকে তবে ছোট রাস্তাই বড় মনে হয়।
অবশেষে গাড়ি এসে ঢাকায় পৌছালো রাতে...
একটা সিএনজি নিয়ে চলে গেলাম মুনের সাথে।
কয়েক ঘন্টা হলো মুনের মুখে কথা নাই। নিরব হয়ে চোখের জল ফেলছিলো।
এবার বাড়ির কাছে এসে সিএনজি আমাদের নামিয়ে দিলো...
মুন পাগলের মত দৌড়ে বাড়ির ভিতর ঢুকে গেল।
গিয়ে দেখি বাসায় কেউ নাই। কাজের মেয়ের কাছে জানলাম মুনের মা হাসপাতালে।
ওমনি মুন ওর বাবাকে ফোন করলো...
ওপাশ থেকে ওর বাবা জানালো ওর মাকে নিয়ে ঢাকার বাইরে এসেছে।
জানতে পারলাম এনায়তপুর খাঁজা ইউনুস আলী মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হইছে।
অবাক ব্যাপার!!
ঢাকার ভিতর এত বড় বড় হাসপাতাল থাকতে ওতোদুর নিতে হবে কেন?
পরে জানলাম মুনের আপন মামা ঐ হাসপাতালে চাকরি করে।
ওখানে নাকি অনেক দক্ষ একজন বিদেশি ডাক্তার আছে।
মুনের মায়ের খারাপ অবস্থা শুনেই তিনি ওখানে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
মুন এখন চিৎকার করে কাঁদছে।
বলছে আমি বুঝি আর আমার মাকে দেখতে পাব না?
আমি ওর হাত ধরে বললাম চলো আমরা রওনা দেই ঐ হাসপাতালে।
ও কাঁদছে আর বলছে ঐ হাসপাতাল কোথায়, কোন জেলায় তা তো জানিনা।
আমি বললাম আমাদের সিরাজগঞ্জ জেলার এনায়েতপুর থানায় এই হাসপাতাল।
চলো আমি নিয়ে যাচ্ছি তোমায়।
আবার বাসে উঠলাম...
রাত প্রায় ১২ টায় যমুনা সেতুর উপর এসে পৌছলাম।
ঠিক তখনি আমার মনে হলো এনায়েতপুর খাঁজা ইউনুস আলী হাসপাতালে আমার এক ফেসবুক বন্ধু নার্সের চাকরি করে।
তার কাছে ফোন করে বললাম একটা রোগী গেছে ঢাকা থেকে।
সে রোগীর নাম জেনে নিয়ে খোঁজ নিয়ে আমাকে আবার ফোন করলো।
বললো রোগী ভালোই আছে।
তবে ওনার মেয়েকে দেখার জন্য পাগল হয়ে গেছে।
যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব ওনাকে নিয়ে তাড়াতাড়ি চলে আসো।
এই খবর শোনার পর একটু শান্ত হলো মুন।
সিটে হেলান দিয়ে শুয়ে আছে ও..
হঠাৎ আবার ফোন বেজে উঠলো মুনের।
ওর বাবা ও জানালো ওর মা বেশ ভালো আছে এখন।
তবে মুনকে দেখার জন্য পাগল হয়ে আছে ওর মা।
এটা বলে তাড়াতাড়ি ওখানে যাওয়ার কথা বলে ফোন কেটে দিলেন তিনি।
কড্ডায় এসে পৌছেছি। ওখানে নামতে হলো আমাদের।
কারন ঐ বাস এখন বগুড়ার দিকে যাবে।
কড্ডায় নেমে ওখান থেকে আবার এনায়েতপুরের বাসে উঠলাম।
মুন ধীর কন্ঠে বললো... আর কতদূর?
আমি বললাম এইতো...সিরাজগঞ্জের মধ্যে আছি এখন।
এরপর আমাদের এলাকা বেলকুচি থানা। এবং তার পরেই এনায়েতপুর।
ঘন্টা খানেক ও লাগবে না।
মুন যেন এবার একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো।
চেয়ে আছি মুনের দিকে... মুখটা শুকিয়ে গেছে।
হাসিখুশি দুষ্ট মেয়েটার মুখে সেই ছাপ আর নেই।
আমি বসে বসে ভাবছি মানুষের মধ্যে আল্লাহ কি অদ্ভুত মায়া, ভালবাসা দিয়ে দিয়েছে।
যেই মেয়েটা বাবা মায়ের উপর অভিমান করে অনেক দূরে চলে গিয়েছিলো।
সেই মেয়েটাই তাদের ভালবাসার টানে পাগল হয়ে ছুটে যাচ্ছে তাদের কাছেই।
আবার নিজের কথাই ভাবছি...
গেলাম নিজের একটা কর্ম ঠিক করার জন্য। অথচ অচেনা এক মেয়ের মায়ায় পড়ে এক শহর থেকে আরেক শহরে যাচ্ছি।
মেয়েটা সবসময় আমার সাথে আপন মানুষের মত ব্যবহার করেছে।
আমার সাথে কক্সবাজার যাওয়ার পথে ও যে সব দুষ্টামি, পাগলামি করেছে তার মধ্যে লুকিয়ে ছিল আবেগময় ভালবাসা।
ওর রাগ আর শাসনের মধ্যে দেখেছি অজানা এক মায়া ও ভালবাসার প্রতিচ্ছবি।
ওর চোখে তাকিয়ে কখনো মনে হয়নি ওর মনে খারাপ কিছু আছে।
এসব ভাবতে ভাবতে কখন পৌছে গেছি এনায়েতপুর নিজেও জানিনা।
মুনের ডাকে বাস্তবে ফিরলাম।
বাস থেকে নেমেই মুন বললো কোথায় হাসপাতাল?
আমি বললাম আরেকটু রাস্তা বাকি আছে। ৩/৪ মিনিট লাগবে সিএনজিতে যেতে।
সিএনজি নিয়ে হাসপাতালের গেটে নামলাম।
নামার সাথে সাথে আমার ফোন বেজে উঠলো...
আমার সেই নার্স বন্ধুর কল...
ধরতেই ওপাশ থেকে বললো... তুমি ঐ মেয়েটাকে নিয়ে সরাসরি ঢুকবে না হাসপাতালে।
খারাপ খবর আছে।
তুমি হাসপাতালের সামনে এসে আমায় ফোন করবে।
আমি বললাম.. আমরা তো এইমাত্র হাসপাতালের নিকট নামলাম।
ও বললো আচ্ছা ওয়েট করো আমি আসছি।
একটু পরই ঐ নার্স আর একজন লোক বের হয়ে আসলো।
লোকটাকে দেখেই মুন জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলো।
আমাকে ঐ নার্স বন্ধু টেনে নিয়ে গেল একটু সাইডে।
নার্স বন্ধুটা আমায় একটু দুরে ডেকে নিয়েে একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে আমায় বলতে থাকে...
-প্রায় আধঘন্টা আগে রোগী ছটফট করতে করতে মারা যয়।
সেটা দেখার পর রোগীর স্বামী ও স্ট্রোক হয়ে সাথে সাথে মারা যায়।
এখন ওনাদের মেয়েটাকে এই বেপারটা জানালে কি হবে সেটাই ভাবছি।
আবার এটা লুকিয়ে রাখাও সম্ভব না।
এখন মেয়েটার মামা বলছে আমার বোন আর বোনের স্বামী তো চলে গেল না ফেরার দেশে।
মেয়েটা এই খবর শুনলে ওর যদি কিছু হয়ে যায়?
নার্সের মুখে এমন সংবাদ শুনে আমার ভিতরটা শুকিয়ে গেছে।
আমার কথা বলার শক্তি নেই।
তাকিয়ে দেখি মুন ওর মামাকে বলছে আমায় নিয়ে যাও আমার মায়ের কাছে।
মুনের মামা মুনকে বুকে জড়িয়ে পাথরের মুর্তির মত দাঁড়িয়ে আছে।
এগিয়ে গেলাম ওদের দিকে।
মুন আমাকে দেখে এগিয়ে এলো পাগলের মতো ছুটে।
প্লিজ মুনসুর আমায় আমার মায়ের কাছে নিয়ে যাও।
আমার মামা কথা বলছে না দেখো। তুমি আমায় নিয়ে যাও।
আমিও পাথরের মুর্তি হয়ে গেছি। কি বলব?
কি শান্তনাই বা দেবো এই মেয়েটাকে।
আমায় ছেড়ে দিয়ে মুন ঐ নার্সকে জড়িয়ে ধরলো...
বোন...প্লিজ আমায় আমার মায়ের কাছে নিয়ে যান।
নার্স ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। তার মুখটাও যেন বোবা হয়ে গেছে।
হঠাৎ মুন দৌড়ে আসে। এসে আমার কলার ধরে....
-তুই আমার মা কে দেখা প্লিজ... নাকি আমার মা চলে গেছে না ফেরার দেশে? তোমরা কথা বলছো না কেনো সবাই?
আচ্ছা আমার মার কিছু হয়ে থাকলে তবুও তো দেখাও... নইলে আমি মরে যাব।
আমার বাবা কই? এই বলে মুন আবার ওর মামার কাছে যায়...
বাবা কোথায় মামা?
ওর মামার দম বন্ধ হয়ে আসছে। উনিও এখন মাটিতে পড়ে যাবে হয়তো।
আমি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে... মুনের হাত ধরে নিয়ে যাই একটু দূরে।
ওকে বুকে জড়িয়ে ধরে বলি...
তোমার মা ও বাবাকে দেখাবো। একটু শান্ত হও।
এই বলে নার্স ও ওর মামাকে বলে নিয়ে যাই ওর মা আর বাবার কাছে।
আমি জানি কি হবে এখন। কিন্তু এ ছাড়া কোন উপায় নেই।
ওর কাছে ব্যাপারটা লুকিয়ে হয়তো রাখা যাবে। তবে জানতে যেদিন পারবে সেদিন?
সেদিন কি ওকে সামলাতে পারবো?
সেদিন যদি বলে আমার মা, বাবা মারা গেছে তবে শেষবারের মত কেন তাদের দেখতে দাওনি আমায়?
জবাব দিতে পারবো কেউ?
পারব না কখনোই। আজ ও অনেক আঘাত পাবে ওর বাবা, মাকে দেখার পর জানি। তবুও দেখিয়ে ওকে সামলাতে হবে যতটুক সম্ভব।
ওর মা, বাবার লাশের পাশে গিয়ে ও বোবা হয়ে যায় কিছুক্ষনের জন্য। তারপর মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
ওকে হাসপাতালে রাখা হয়।
ওর মা, বাবাকে সেদিন রেখে আসা হয় অন্ধকার কবরে।
অথচ তাদের রেখে আসার সময়টায় তাদের একমাত্র মেয়েটাই দেখতে পারে নি, কাঁদতে পারে নি।
সেই মাটিতে লুটিয়ে পড়লো... তার তিনদিন পর হাসপাতালে চোখ খুললো ও।
তবে কোন কথা বলেনি।
শুধু আমার নিকট একবার জানতে চেয়েছিলো তার মা, বাবার কবর কোথায়?
নিয়ে গিয়েছিলাম সেই কবরের পাশে। আর দেখেছিলাম বাবা, মার জন্য কতোটা কাঁদতে পারে তার সন্তান।
মাটিতে গড়াগড়ি করে কেঁদেছিলো কতক্ষন। এরপর ও আবার বেহুশ হয়ে যায়।
হাসপাতালে নিয়ে যাই ওকে।
ও আর কথা বলেনি সেদিন থেকে।
মানষিক যন্ত্রনায় মুন নামের মেয়েটি পাগল হয়ে যায়।
ওর মামা আর আমি ওকে পাবনার পাগলা গারদে নিয়ে যাই।
ওর মামা কিছুদিন পাবনায় মুনের পাশে থাকার পর সেও রোগী হয়ে যায়।
মুনের পাশে থাকার মত কেউ ছিলো না।
আমাকে সব ছেড়ে ওর পাশে থাকতে হয়।
ওর মামা আমায় অনুরোধ করে থাকতে।
কারন আমি ওর পাশে থাকলেই কেবল ও পাগলামি কম করতো।
এভাবে কয়েক মাস যাওয়ার পর ওর মামা ও মৃত্যুপথের পথিক হয়।
তার আগে তিনি আমায় ডেকে নিয়ে মুনের বাবার টাকা, পয়সা ও সব কিছু আমার হাতে তুলে দিয়ে বলে ওর পাশে থেকো।
ওকে যতদিন পারো পাশে থেকে চিকিৎসা করে যেও।
ডাক্তার বলেছে একসময় ও ভালো হতে পারে।
এই টাকা দিয়ে আর ওর বাবার সব সম্পদ দিয়ে তুমি ওকে দেখে রেখো।
তোমার সংসার চালাতে এই টাকা দিয়ে কোন ব্যবসা করো আর ওর পাশে থেকো।
ব্যাংকেও অনেক টাকা আছে। ওকে বাঁচানোর জন্য যতো টাকা লাগে খরচ করো।
ওকে তোমার কাছে রেখে গেলাম বাবা... তুমি ওকে দেখো।
মুনের ভারপুর্ন আমার হাতে দিয়ে কিছুদিনের মধ্যেই মুনের মামা ও
ও বিছানায় পড়ে যায়। পরে মারা যায়।
চোখের সামনে এতকিছু ঘটে গেছে আমার।
পাথরের মতো সব কষ্ট বুকে নিয়ে মুনের সেবা করে গেছি।
কারন ঐ যে সেদিন বাসে বলেছিলো তোমাকে আমার ভালো লাগে। ঐ মায়ার টানে, ভালবাসার টানে ওকে ছেড়ে যেতে পারিনি।
আজ দশ বছর পার হয়ে গেছে। মুন সুস্থ হয়ে গেছে।
আমি ওর পাশে থেকে ওকে বাঁচার স্বপ্ন দেখিয়েছি।
যার জন্য আজ ও আমার বাড়িতে। আমার ঘরের বউ।
হা দশ বছর ওর সেবা করে ওকে ভালো করে তুলেছি।
তারপর আজ আমাদের বিয়ে হলো।
বাসর ঘরে ও আমায় বুকে জড়িয়ে কাঁদছে।
দশ বছর পর আজই প্রথম মন খুলে আগের মতোই কথা বলছে মুন।
আমার বুকে মুখ লুকিয়ে সেই বাসের দুষ্টু, মিষ্টি মেয়ের মতো আমায় বলছে...
বল তুই আমায় ছেড়ে যাবিনা কখনো। আমার মা, বাবার মতো হারিয়ে যাবিনা আমায় ছেড়ে।
তোর বুকে এই দুঃখিনীকে লুকিয়ে রাখবি সারাজীবন।
বলনা রাখবি তো...? (মুন)
-হা রে পাগলি...এই বুকেই থাকবে তুমি। দুজন এক সাথে থাকবো, এক সাথে বাঁচবো।
এই বলে দুই হাতে ওর দুই চোখের পানি মুছে দিলাম।
ও ১০ বছর পর এই প্রথম একটা তৃপ্তির হাসি দিয়ে আমার কপালে একটা ভালবাসার চুমো দিলো।
আমি ও আমার নতুন বউকে বুকের মধ্যে জড়িয়ে পোষা পাখির মতো চুমোতে চুমোতে ভরিয়ে দিলাম। হারিয়ে গেলাম দুজন অজানা সুখময় ঠিকানায়।
এরপর থেকে শুরু হলো আমাদের সুখের জীবন।
এখন এই সুখের সংসারে ব্যস্ত সময় পার করে যখন আমি মুনের কাছে আসি, পাশে বসি।
তখন ও আমায় বুকে জড়িয়ে সেই আগের মতোই দুষ্টুমির সুরে বলে "তুই আমার স্বামী"। :-) ♥
সমাপ্ত।
***
এটা কাল্পনিক গল্প। তবে আমরা যুবক, যুবতী যারা আছি তারা এই গল্প থেকে একটু হলেও শিক্ষা নেবো।
কেউ মা, বাবাকে কষ্ট দিয়ে তাদের ফেলে চলে যাবোনা কোথাও।
এতে আমাদের জন্ম দিয়ে তিলে তিলে কষ্ট করে গড়িয়ে তোলা মা, বাবারা অনেক কষ্ট পায়। কখনো বা এর শোকে মারা ও যায়।
তাই আমরা এই ভুলটা না করি। আর মা, বাবার মতো যারা আছেন তারাও সন্তানের একেবারে মতের বিরুদ্ধে কিছু করবেন না। পারলে বুঝিয়ে নিবেন আপনাদের কলিজার টুকরা ছেলে, মেয়েদের। ♥

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ