(ফিরে পাওয়া)
.
writer : কল্পনার কারিগর (গল্প লেখক)
★
- আম্মুওওওওও
- কিইইইই?
- কুওা।
- বিলাই।
- হারামি,
- তুই।
- রুশা তুই আমারে কামড় দিলি ক্যা?
- বেশ করছি।
- শুধু কামড় না, তুই আমার সুরের তাল ধরলি ক্যা?
- হাজার বার ধরুম।
- দ্যাখ এই রকম করলে কিন্তু তোরে বিয়ে করুম না।
- আমার বয়েই গেছে তোর বউ হওয়ার।
- তোর সাথে আর কথা নাই।
- দেখুমনি কতখন থাকতে পারিস।
- আচ্ছা।
.
এক বোতল রাগ নিয়ে রুশার কাছ থেকে চলে এলাম। পেত্নীটা আমার বিস্কুট খাইছে আর আমি ওর ঝালমুড়িতে হাত দিছি বলে আমার হাতে কামড় দিছে, পামুনি ওরে হ্যাঁ।
.
আমি নীল এবার ক্লাস টু তে পড়ি আর ও হলো রুশা আমার সাথেই পড়ে । আমাদের দুজনের বাড়ি একসাথে। কারণ ওর বাবা আর আমার বাবা দুইটা ভাইভাই।
.
আমরা দুজনেই গাজীপুরের কোনো এক ছোট এলাকায় থাকি। রুশার বাবা চাকরি করে আর আমার বাবা কতগুলো গাড়ি আর বাসা আছে ওগুলো দেখাশোনা করে। দুই পরিবারে খুব মিল। আপাতত দু পরিবার একসাথে থাকে।
.
এতখন স্কুলে ছিলাম, দুপুর ১২টায় স্কুল ছুটি দিল। আমি এখন আবার ওই পেত্নীটার জন্য দাড়িয়ে আছি, গেটের সামনে। ও কখন বেরুবে! যতই ওর সাথে ঝগড়া মারামারি করি না কেন, কিন্তু ওকে ছাড়া এক মুহূর্ত চলে না। একটু আগে আমি কথা বলবো না বলে চলে এলাম কিন্তু এখনই আবার ওর জন্য দাড়িয়ে আছি।
.
- রুশা তোর এতখন লাগে আসতে।
- আমি তো তোর মতো দৌড় দেই না।
- আমি দৌড় দেই?
- একেবারে ঘোড়ার মতো।
- কিইইইই,, বাসায় চল, আজ মজা দেখাবো।
- দেখুম্নে, কি দেখাস,
- চল।
.
রাস্তা দিয়ে দুই পিচ্চি হাটতে হাটতে আসতেছি,,
.
- নীল জানিস!
- কি?
- আমরা না চলে যাব।
- হাহাহা, কই যাবি?
- জানি না রে।
- তে বললি কেন?
- বাবা মা কে বলছিল,, আমরা চলে যাব।
- ধুরর, কিনা কি কইছে,, আর তুই কি শুনছস।
- হতে পারে,, চল।
- ওই তোর ব্যাগে তেতুল রাখছি দে তো।
- তোর ব্যাগ রেখে আমার ব্যাগে কেন?
- পোলাপাইনে খাইয়া ফালাই।
- হাহাহা, তাইলে নীল তুই পোলাপাইনের বুইড়া বাপ?
- মারবো একটা থাপ্পড়, চুপ।
- আইচ্ছা আইচ্ছা,,, কিন্তু তোর তেতুল তুই পাবি না।
- ক্যা?
- ইতিমধ্যে ওগুলো আমার পেটে চলে গেছে।
- কিইইইই, রাক্ষসী তোরে আমি,,,
ওই রুশা খাড়া খাড়া দৌড় দিস না।
- আমি কি তোর মতো গাধা নাকি, যে কুওার সামনে পরে দৌড় দিমু না।
- আমি কুওা????
- একদম।
- খাড়াস না ক্যা,,, তোর হাড্ডি ভাঙমু আজকে।
- কচুঁ। ধরতে পারবি না।
- বাসায় চল।
- কি করবি? আন্টি আছে।
- গোষ্ঠী কিলাই তোর আন্টি।
-আন্টিকে বলে দিব একথা।
- বল, আম্মু আমাকে কিচ্ছু করবো না।
- দেখা যাবে!!!!!!
.
তারপর ওই রাক্ষসীটার পেছনে দৌড় পারতে পারতে বাসায় আসলাম। উফফফ একদম হাঁপিয়ে গেছি। রুশা টা এতো দৌড় পারতে পারে!! আমার থেকে অনেক বেশি। স্পোর্টসে বোধ হয় ওই ফাস্ট হইবো।
তারপর হাত মুখ ধুয়ে গোসল করে কিছু খেয়ে, উকি মারলাম রুশার ঘরের দিকে।
.
দেখি পেত্নীটা চকলেট খাচ্ছে। আমার জিভে জল চলে এলো।
- একা একা চকলেট খেতে নেই।
- তাইলে?
- আমারে ভাগ দে।
- দিমু না।
- আমার তেতুল দে।
- খেয়ে ফেলছি, কেমনে দিমু?
- খাইছত কেন?
- আমার ব্যাগের চেইন খুলতেই তেতুল বের হলো তাই জিভের জলটা টপ করে পড়লো,,, আর সাথে তেতুল গুলো আমার পেটে ঢুকলো।
- আমারও চকলেট দেখে জিভে জল আসছে। দে না একটু লক্ষী বউ আমার।
- দিমু না।
- দে বলছি ( জোরাজুরি কাড়াকাড়ি শুরু করলাম)
- আম্মুওওওও, দেখো নীল আমার চকলেট নিয়ে গেল।
(ডাক শুনে আমার আম্মু আর রুশার আম্মু চলে আসলো)
.
- রুশা নীল কে একটু দে (রুশার আম্মু)
- না।
- উফফফ, লাগব না, আমার ঘরে কত চকলেট, নীল আয় ( আমার আম্মু)
- আমি রুশার গুলোই খামু।
(ঠাস)
.
আম্মু আমার গালে একটা চড় দিয়ে টানতে টানতে নিয়ে আসলো। আমি আর কি করবো, ভ্যা করে কেদে দিলাম।
তারপর আর পেত্নীটার কাছে যাইনি। বিকেলে ছাদে গেলাম বসে থাকতে। হাতে একটা টেনিস বল।
.
ছাদে এক কিনারে বসে বসে টেনিস বল নাড়াচাড়া করছি। হটাৎ কে যেন চোখ ধরলো,
- ওই কেডা রে?
- তোর বউ।
- আমার কোনো বউ নাই, সর যা এখান থেকে।
- ওলে বাবালে আমার জামাই রাগ করছে?
- তুই যাবি কিনা?
- যামু না।
- তাইলে থাক, আমিও যাই।
.
- আম্মুওওওওওওও,, উহুঁ উহুঁ উহুঁ।
- ওই রুশা কান্না করস ক্যা?
- তুই আমার সাথে রাগ করছিস ক্যান?
- তাই তোর কান্না করা লাগব?
- হুম।
- আচ্ছা রেগে নেই,,, চল বল খেলি।
- আচ্ছা।
.
উফফফ এই রাক্ষসীটারে নিয়ে আর পারি না। সবসময় আমার পেছনে লেগে থাকে আমিও ওর পেছনে থাকি কিন্তু আমি রাগ করলে সাথে সাথে কান্না জুড়ে দেয় আর ও রাগ করলে আমাকে ১২মাসের খাটুনি এক দিনে খাটায়।
.
আম্মু আর আন্টি আমাদের দুই পিচ্চির এমন পাগলামী দেখে শুধু হাসাহাসি করে। আমি আর রুশাও হাসাহাসি করি এসব বিষয় নিয়ে। রুশার আম্মু আমার আম্মুকে বলে ( বুবু ওরা বড় হলে কিন্তু আমার ঘরের জামাই নীল কেই করবো)
আম্মুও ওনার সাথে তাল মেলায়।
.
এভাবেই চলছে আমাদের দিন গুলো। বাচ্চা বয়স তেমন কিছু বেশি বুঝি না। সবসময় শুধু একজনের পিছে আরেক জন পরে থাকি। আমাকে রুশা যেমন চোখের আড়াল হতে দিতো না, তেমনি আমিও ওকে আমার চোখের আড়াল হতে দিতাম না।
.
ভালই চলছে দিন গুলো,,,,
২ মাস পর।
.
সকালে ঘুমিয়ে আছি,, ঘুম ভাঙলো গাড়ির শব্দে। মনে আমাদের বাসার সামনে একটা মিনি ট্রাক আসছে। বাইরে গিয়ে তো আমি একদম অবাক। রুশাদের ঘরে কিচ্ছু নেই, সব ওই ট্রাকে উঠাইছে।
.
- রুশা এগুলো কি?
- তোরে বলছিলাম না আমরা চলে যাব।
- কই যাবি?
- বাবার বদলি হইছে, তাই আমরা গাজীপুর ছেড়ে ঢাকা চলে যামু
- ওহ্, ( খুব খুব কষ্ট হলো কথা শুনে,, কষ্ট কি তখন জানতাম না, কিন্তু এটা বুঝলাম, খুব দামী কিছু আমার কাছ থেকে চলে যাচ্ছে)
- জানিস নীল, তোকে ছেড়ে একদম যেতে ইচ্ছে করছে না।
- থেকে যা।
- পারবো না রে ( এই বলে কান্না শুরু করে দিল)
- এই কাঁদছিস কেন? কাঁদলে তোরে পচা দেখায়।
- ধ্যাত, ( কান্না থামিয়ে, জল মুছলো)
- ঠিক মতো যাস, ( বলতে খুব কষ্ট হচ্ছিল,, কাছের সাথীটা আজ খুব দূরে চলে যাচ্ছে)
- আচ্ছা।
.
রুশারা গাড়িতে ওঠার পর অনেক সময় রুশা আমার দিকে তাকিয়ে ছিলো, আস্তে আস্তে গাড়িটা দূরে যেতে লাগল আর আমার চোখটা ঝাপসা হতে লাগল। উঠুনে শুয়ে চিৎকার করে কাদতেঁ লাগলাম। ( আমার আজও হাসি পায় ও কথা মনে পড়লে)
.
তারপর মা এসে কোল নিয়ে অনেক সময় হাটাহাটি করলো তারপর আমার কান্না বন্ধ হলো। তবুও রুশার চিন্তা মাথা থেকে সরাতে পারছি না।
.
তারপর আর রুশার সাথে কথা হয়নি। আর কোনদিন ওরা আমাদের বাসায় আসেও নাই। ওদের ফোন নাম্বার টা ছিলো। কিন্তু কতদিন যাওয়ার পর ওটায় কল দিলে সবসময় বন্ধ বলতো। মনে হয় সিম চেন্জ করে ফেলছে। কিন্তু একবারের জন্যও ওরা আমাদের কল দেয়নি।
.
তাই ওরা যাওয়ার ছমাস পর থেকে ওদের সাথে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
.
এখন আমার কাছে রুশার সৃতি হিসেবে আছে একটা পুতুল। যা সাদা রং দিয়ে সুন্দর করে তৈরি একটা নারীপুরুষের রোমান্টিক মুহুর্তের সুন্দর দৃশ্য।
রুশা পুতুল টা আমাকে বৈশাখী মেলায় দিয়েছিল। এখন ওটাই ওর সৃতি হিসেবে খুব যত্ন করে রেখে দিয়েছি।
.
.
অনেক বছর পর,,,,,
.
- মা মা,
- কি হইছে নীল।
- মা আমি ঢাকা যাব।
- ক্যান?
- আমি অনার্স ওখান থেকে পড়বো।
- আচ্ছা, তোর বাবাকে বলে দেখি।
- আচ্ছা মা ঠিক আছে।
.
হুররে,,,, আমি আজ অনেক বড় হইছি। ঢাকা গিয়ে পড়ার আমার দুটি কারণ হলো - পড়াশুনা আর ওই পেত্নীটাকে খুজে বের করা।
.
আজ আমি আমার বাড়ি ছেড়ে ঢাকা চলে এসেছি। আমি জানি প্রথমে একটু এখানে মানিয়ে নিতে আমার কষ্ট হবে। কারণ এটা স্মার্ট সমাজের শহর। আমাদের এলাকা থেকেও ঢাকা বেশি স্মার্ট।
আর এখানে অনার্স ফাস্ট ইয়ারে অনেক নতুন ছাত্র ছাত্রী ভর্তি হবে, তাদের মধ্য আমি একজন।
.
আসার সময় আমি ওই পেত্নীটার দেওয়া পুতুলটাও নিয়ে আসতে ভুলিনি। এখন এটা আমার সবসময় আমার সাথে থাকে। ছোট পুতুল তাই সহজে পকেটে রাখা যায়।
.
ঢাকা শহর ভালই লাগছে এখন। ক্লাস করতে শুরু করছি কয়েক দিন হলো,, এখানেই কোনো এক মেসে থাকি।
.
আর হ্যাঁ,, আমি কিন্তু ওই রাক্ষসীটাকে অনেক ভালবাসি। এতো দিনে বুঝতে পারছি ভালবাসা কি? ও যাওয়ার পর প্রতিটি ঘন্টা ওকে মিস করছি। আর বড় হওয়ার সাথে সাথে ওর জন্য আমার মনে ভালবাসা বড় হতে থাকে।
.
যদিও আমি এখন ওকে দেখলে চিনবো না, বা ও আমাকে দেখলে চিনবে না। ও যদি আমাকে ভালবেসে থাকে তাইলে ভালবাসার টানেই ও আমার কাছে আসতে বাধ্য।
.
ঢাকার নামীদামি কলেজে যেহেতু ভর্তি হইছি তাই আমার বিশ্বাস রুশা এখানে আসবেই।
.
নতুন কলেজ তাই বেশী কারও সাথে এখনো পরিচয় হয়নি। তাই আমি আমার মতো একা থাকি আর মাঝে মাঝে ওই পুতুল মুর্তিটার সাথে কথা বলি।
.
একদিন গেট দিয়ে ঢুকছি,, হটাৎ কার পায়ের সাথে যেন পা লেগে হুমড়ি খেয়ে সামনে গিয়ে পড়লাম। ঘুরে উঠে পিছনে তাকাতেই দেখি কতগুলো শয়তান মেয়ে হাসাহাসি করছে। হটাৎ ওদের পেছনে থেকে একটা কিউট মেয়ে এসে বেরুলো।
.
এটাই শয়তানের গুড়া। সবার থেকে কিউট বেশি, মাথায় শয়তানিই বেশী।
.
- ইসসসসসস, খুব ব্যথা পাইছো??
- এভাবে ফেললেন কেন?
- ইচ্ছে হলো তাই।
- মানে!!
- তোমার মাথা। যাও এখান থেকে।
- আচ্ছা যাচ্ছি।
- আর শুনো, সবসময় আমাদের কথা মতো চলবে।
- কেন?
- নাহলে কলেজ থেকে বিদায় করবো।
- ভয় দেখাচ্ছেন?
- না। শুধু বলে দিলাম।
- আমি আপনাদের কথামতো চলবো কেন?
- আমরা পোলাপাইন খাটাতে পছন্দ করি তাই।
- হাহাহা, তাই বলে আমি আপনাদের কথায় চলবো।
- নইলে মুনালিসার বাবাকে বলে তোমাকে কলেজ হতে বিদায় করবো।
- সেটা আবার কে?
- কলেজের প্রিন্সিপাল,,, মোনা ওনার মেয়ে।
- যার্গ করছেন?
- তোর যা ভাবার ভাব,, আমাদের কথা মতো চলবি, নয়তো খবর আছে, যা ভাগ।
.
.
চলে এলাম ওখানে থেকে। কি গুন্ডা মেয়েরে বাবা!! এমন মেয়ে বাপ দাদার জন্মে দেখি নাই। বাইরেটা যতই সুন্দর হোক না কেন, ভেতর টা অহংকারের ডিব্বা।
কনে থিকা যে এইসব মেয়ে আসে!! কপালে জানে।
.
কতদূর গিয়ে পুতুল টা দেখে নিলাম, পরে যাওয়ায় কিছু হইছে নাকি। এটা যদি ভেঙে যেত তাহলে আমার অনেক বড় জিনিস আমার কাছ থেকে চলে যেত। যাক, কিছু হয়নি। ভেঙে গেলে ওই মেয়ে যেই হোক না কেন, হাড্ডি ভেঙে দিতাম।
.
দুদিন পর আবার কলেজে আসা মাত্রই সেই পেত্নী গুলো ঘিরে ধরলো। সেদিন ওই কিউট অহংকারীটাও ছিলো।
.
- ওই পাঁচশো টাকা দে।
- কেন?
- আমাদের লাগবো।
- আপনাদের টাকা নাই?
- আছে, তবুও তোর টা দে।
- আমার টাকায় কি এমন আছে??
- দিতে বলছি দে,,, আজ তোর টাকার ফুচকা খাব।
- ফেরত দিবেন কবে?
- কাল দিব।
- আচ্ছা, নিন।
.
যাক আজকে ওই শয়তান গুলো পাঁচশো টাকায় ছাড়লো। আবার কালকে দিয়ে দিবে বললো। কাল গিয়ে নিব।
.
পরের দিন,,,,
- এইযে আমার টাকা কই?
- কিসের টাকা?
- কাল যে ধার নিলেন।
- তুই কে? তোর কাছ থেকে টাকা নিলাম কখন??
- কালকেই তো নিলেন।
- নেই নাই। ( সবগুলো এক সাথে)
.
আমি আর কি বলবো মাথা নিচু করে চলে এলাম। আমি বুঝতে পারছি এখানে আমার কি অবস্থা হবে। এই সবগুলো টাকাওয়ালা, বড় বড় পাওয়ারফুল লোকের ঘরের মেয়ে। আমি এ কলেজে থাকলে এদের জন্য আমার পড়াশোনা চান্দে যাইবো।
.
তাই ভাবলাম এ কলেজে পড়বো না। ঢাকায়ই থাকবো তবে অন্য কলেজে পড়বো। সেখান থেকেই রুশাকে খোজবো। এতো নামিদামী কলেজে পড়ার দরকার নেই,, আমি আমার রুশাকে পেলেই হবে। আর কিছু দরকার নেই।
.
কয়েক দিন পর টিসি নিয়ে প্রিন্সিপালের রুম থেকে বের হচ্ছি। এ কলেজের পাশের কলেজে ভর্তি হবো।
রুম থেকে বের হতেই কাগজটার দিকে চেয়ে নিচু হয়ে আসছিলাম।
.
হটাৎ কার সাথে যেন ধাক্কা লাগলো। কাগজ টা নিচে পড়লো,, সাথে আমার পুতুলটাও পরে গেল পকেটে থেকে। একটু উপরে ছিলো পকেটের তাই খুব সহজেই পরে গেল।
.
সামনে তাকাতেই দেখি সেই শয়তানের গুড়া কিউট মেয়েটা। আমি ওনাকে কিছু না বলে, টিসি লেটার উঠলাম। দেখি আমার পুতুলটা গড়াতে গড়াতে একটু দূরে চলে গেছে। কিন্তু কিছু হয়নি।
পুতুল টা হাতে নিয়ে ওর মাথায় একটু আলতো করে হাত বুলিয়ে দিলাম।
.
ওই শয়তান মেয়েটার দিকে তাকিয়ে দেখি আমার পুতুলের দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে। মনে হয় এখনই কেড়ে নিবে। তাই আমি ওটা শক্ত করে ধরলাম। কিছু না বলে চলে আসতে লাগলাম।
.
- ওই দাড়াও ওখানে।
- কেন?
- দাড়াতে বলছি তাই।
- দেখুন আমি আর আপনাদের বাধ্য নই, কলেজ থেকে তাড়ানোর ভয় দেখাবেন তাই তো,,, এখন আর কাজ হবে না,, কারণ আমি আজ টিসি নিয়ে চলে যাচ্ছি।
- যেখানে খুশি সেখানে যাও,, কিন্তু একটা কথার উওর দাও।
- কি?
- পুতুলটা কই পাইছো?
- কেন?
- বলো না প্লিজ ( করুণ ভাবে অনুরোধ করলো)
- এটা আমার পুতুল।
- তোমার নাম কি?
- বলবো না।
- কেন?
- এমনি।
.
একথা বলেই আমি জোরে হাটা দিলাম। অনেক দূর এসে পড়ছি। আবার মেয়েটা দৌড়ে আমার সামনে আসছে।
- পালিয়ে যাচ্ছো।
- পালাবো কেন?? এখানে থাকলে আপনাদের জন্য আমার পড়াশোনা হবে না। তাই অন্য কলেজে যাচ্ছি। আর ঢাকায় কলেজের অভাব নাই।
- যেখানে খুশি সেখানে যাও আগে সত্যি করে বলো পুতুলটা কার কই পাইছো?
- বলতে বাধ্য নই।
- এই দেখো আমি তোমার পায়ে ধরছি প্লিজ বলো না পুতুল কই পাইছো?? ( পায়ে ধরে কাদতেঁ লাগলো)
- আরে কি করছেন, উঠেন উঠেন।
- আগে বলো।
- উঠুন, তারপর বলছি।
- বলো এবার।
- কিন্তু আপনি এই পুতুলটার পরিচয় জানার জন্য আমার পায়ে ধরলেন কেন? আর এভাবে কাঁদছেন কেন?
- এটা আমি আমার নীলকে দিয়েছিলাম।
- মানে!!!
- অনেক বছর আগে ছোট থাকতে বৈশাখী মেলায় গিয়ে এটা আমি ওকে কিনে দিয়েছিলাম।
- মানে, আপনার নাম কি?
- রুশা।
- কিইইইই????? আর আপনি চিনলেন কেমনে যে এটা আপনার নীলকে দেওয়া সেই একই পুতুল?
- ওটার নিচে ওই ফুলের ছবিটি আমি আঁকিয়ে ছিলাম।
- ( আমিও তো জানি না এটার নিচে ছবি আঁকানো আছে,,,, বের করলাম, দেখি সত্যিই ছবি আছে) ওহ্,,, তাহলে আসি এখন।
- না, তোমাকে যেতে দেব না। আমি জানি নীলের সাথে তোমার সম্পর্ক আছে।
- উফফফ,, আগে তেতুল নিয়ায় তারপর নীলকে পাবি।
- মানে!!!
- আমি তোর ব্যাগে তেতুল রাখছিলাম ওই তেতুল খাইয়া ফেলছিলি,,, সেই তেতুল আন তারপর নীল কে পাবি।
- কুওা বিলাই,,,, এতদিন পরিচয় দ্যাস নাই ক্যান?
- তোর স্বভাব এতো খারাপ ছিঃছিঃ।
- সরি,, আর এমন করবো না কোনো দিন।
- হুররর, তোরে আমার বউ করুম না।
- কি বললি?? উহুঁ উহুঁ উহুঁ,
- কাদতেঁ থাক এখানে আন্টি আসবো না। আর আমি টিসি নিয়ে নিয়েছি।
- কই দে দেখি।
- এই নে,
.
- এই কি করলি, ছিঁড়লি কেন এটা।
- বেশ করছি। এতদিন নিজের ভালবাসা দূরে ছিলো, তাই পায়নি কিন্তু এখন কাছে পাইছি হারাতে পারবো না কোনো দিন
( জোরে জড়িয়ে ধরলো, তারপর কাদতেঁ লাগলো)
- ভালোবাসিস কবে থেকে?
- যেদিন বিস্কুট নিয়ে কাড়াকাড়ি লাগছিল সেদিন থেকে।
- মাইরালা, কেউ আমারে মাইরালা।
- ক্যা?
- কখন বুঝতে পারছিলি ভালবাসা কি?
- হুম।
- কেমনে?
- তুই যখন প্রস্রাব করতে করতে রাস্তা দিয়ে দৌড় দিতি সেগুলো খুব মিস করতাম।
- ছিঃছিঃ এইগুলা কি কস লজ্জা করে না।
- হিহিহি, এটাই সত্য।
- চুপ, ফাজিল।
- এরপর কিন্তু খুব ভালবাসবি, নয়তো কান্না করবো।
- ওকে।
- ওকে কি?
- ভালবাসবো।
- হুম, এত্তো গুলো ভালবাসি।
- আমিও অন্নেক ভালবাসি।
.
.
বউটাকে পাইয়া গেলাম। এখন বিয়ে করার পালা।
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ