গল্পঃ প্রিয় মানুষটির ভালোবাসা।
.
.
-সকাল সকাল ফোন করেছো কেনো(রাহুল)
> তোমাকে কি ফোন করা নিষেধ আছে। (তিথি)
- না,তুমি আমাকে যে কোন সময় ফোন করতে পারবে।(রাহুল)
> তাহলে বলছো কেনো সকাল সকাল ফোন করেছি কেনো (তিথি)
- কিজন্য ফোন করেছো, সেটা জানতে চেয়েছি শুধু(রাহুল)
> মনে হচ্ছে,এখনো ঘুমিয়েই আছ,শোন ঘুম থেকে উঠে ফ্রেস হয়ে পকেটে পাঁচশ টাকা নিয়ে সোজা কলেজে চলে আসবে(তিথি)
-সকালে না খেয়ে কেমন করে যাবো,অনেক ক্ষিধা লেগেছে।
> সকালের হাপ মিল খেলে কি তোমার ক্ষুধা লাগবে না,অব্যশই লাগবে ক্ষুধা,তোমাকে সকালের মিল খেতে হবে না,হোটেল থেকে খাবার খাওয়াবো আমি।
- সত্যি বলছো তুমি।
> হ্যাঁ সত্যিই,এখন ঘুম থেকে উঠে সোজা কলেজে চলে আসো,আর হ্যাঁ রাস্তা দিয়ে হাটার সময় চোখ জেনো,অন্য মেয়েদের দিকে না যায়,চোখ নিচের দিকে রেখে রাস্তা দেখে হাঁটবে।
- ঠিক আছে,ফোনটা তাহলে রাখলাম।
> আচ্ছা,রাখো বাই।
.
রাহুল ফোনটা কেটে দিয়ে ঘুম থেকে উঠে পড়লো,অনেক দিন পর হোটেলের ভালো খাবার খাবে,এখানে তো আর ভালো খাবার খাওয়া হয় না।
তবুও বেঁচে থাকার জন্য ওসব খাবার খেতে হয়।
ঘুম থেকে উঠে রাহুল ফ্রেস হয়ে নেই,ফ্রেস হয় পকেটে পাঁচশতো টাকার একটি নোট নিয়ে বেড়িয়ে পড়ে কলেজের উদ্দেশ্যে।
.
রাহুল আর তিথি একি ডিপার্টমেন্টে পড়াশোনা করে,রাহুলের বাড়ি গ্রামে,পড়াশোনার জন্য সে শহরে এসেছে,আর তিথির বাড়ি শহরেই,
রাহুল আর তিথির মাঝে সবসময় ঝগড়া লেগে থাকতো,ওদের মাঝে সবসময় শত্রুতা বিরাজমান থাকতো।
কেউ কাউকে দেখতে পারতো না। মনে হতো,ওরা টম এন্ড জেরি।
দুজনেই চেষ্টা করতো,কিভাবে ওকে সবার নিচে নামানো সম্ভব, কিন্তু এমন করতে করতে দুজনের মাঝে এক সময় বন্ধুত্ব হয়ে যায়,অতঃপর শুরু হয় প্রেম।
.
রাহুল কলেজে এসে দেখে,তিথি কলেজের গেটের কাছে দাড়িয়ে আছে।
রাহুলকে দেখা মাত্রই তিথি রাহুলকে ডেকে নিয়ে একটা রিক্সাতে উঠে পড়ে।
.
-কি ব্যাপার রিক্সা নিয়ে কোথাই যাচ্ছি আমরা। (রাহুল)
> কিছুক্ষন পরেই জানতে পারবে কোথাই যাচ্ছি আমরা। (তিথি)
- এখন বলে দাও,তাহলে তো আর চিন্তাই থাকতে হবে না (রাহুল)
> তোমাকে চিন্তা করতে হবে না,চুপচাপ বসে থাকো,আর পাঁচশো টাকা এনেছো।(তিথি)
- হুম এনেছি (রাহুল)
.
রিক্সা একটি বড় মার্কেটের সামনে এসে থামলো।
রিক্সা থেকে নেমে পড়লাম,তিথি রিক্সা ভাড়া দিয়ে আমাকে মার্কেটের ভিতরে নিয়ে গেলো।
.
.
-কি ব্যাপার এখানে নিয়ে এলে কেনো(রাহুল)
> তোমার জন্য শার্ট আর একটি ঘড়ি কিনতে (তিথি)
- আমার কিছু লাগবে না।
> বললেই হলো,তোমার শার্ট আর ঘড়ি লাগবেই।
-এসব কিনে কি করবো,এগুলো তো আমার পড়তে ভালো লাগেনা।
> রাহুল তোমাকে এতো কথা বলতে হবে না,বেশি কথা বললে কষে একটা চড় মেরে দেবো।
-জোর করে কিন্তু সব কিছু হয়না।
> জোর করেই সব কিছু হয়,শেষে চড়ও খাবে শার্টও কিনবে।
-আমার কাছে টাকা নাই।
> ওই পাঁচশো টাকা আগে দাও।
- এই নাও টাকা,এখন তোমার যা ভালো মনে হয় করো।
.
তিথিকে টাকাটা দিয়ে দিলাম।
সকাল থেকে এখনো কিছু খাই নি,প্রচন্ড ক্ষুধা লেগে গেছে,আর ওনি টাকা নিয়ে শার্ট কিনে দিবে,তবুও আমার টাকার।
কিছুই করার নাই,তিথিকে টাকাটা দিয়ে ওর পেছন পেছন ঘুরতে থাকলাম।
দেখি তিথিই শেষ পর্যন্ত আমার জন্য কি করে।
.
অনেকগুলো দোকান ইতিমধ্যে দেখা হয়ে গেছে,কিন্তু একটি শার্টও এখনো তিথির পছন্দ হয় নি।
মেয়েদের এই একটা বড় সমস্যা,
সব দোকান ঘুরেও ওদের মনের মতন কোন জিনিষ ওরা খুজে পাবে না।
.
আমার মনে হয় মেয়েদের এইটা বড় ধরনের রোগ,একটি কিছু পছন্দ করে বলবে,এটার এখানে এইটা থাকলে ভালো হতো,এই শাড়িটার কালার কালো হলে ভালো হতো,আবার কালো কালারের শাড়ি থাকলে বলবে এইটার কালার কালো না হয়ে হলুদ হলে ভালো হতো।
এইজন্য এদের সাথে কখনো মার্কেটে আসা উচিত নয়।
তবুও বিপদে পড়ে ছেলেদেরকে মেয়েদের সাথে মার্কেটে আসতে হয়।
.
অনেক গুলো দোকান খুজে খুজে শেষ পর্যন্ত তিথি আমার জন্য একটি শার্ট খুজে পেলো।
এইটা শার্টটি আমাকে পড়লে দারুন দেখাবে,অনেক সুন্দর লাগবে।
তিথির কথা শুনে হাসতে চাইলাম,কিন্তু হাসলাম না,যদি চড় মেরে দেয়।
এখন যদি বলি এই শার্টটি আমার পছন্দ হয়নি,তাহলে আমি আর আমি থাকবো না,শুধু নামটাই আমার ঠিক থাকবে,আর আমার চেহারাটা ঠিক থাকবে না ।
.
সেইজন্য
তিথির দিকে তাকিয়ে কোন কথা না বলে শুধু মাথা নাড়ালাম।আর মাথা নাড়াতেই
তিথি বুঝে গেলো যে এটা আমার পছন্দ হয়েছে,
তিথি শার্টটি কিনে, একটি ঘড়ির দোকানে গেলো।
আমি হাতে ঘড়ি পড়িনা বলে, আমাকে দেখতে নাকি ভালো লাগে না,
সেইজন্য তিথি আমাকে ঘড়ি কিনে দিবে,
.
ঘড়ির দোকানে গিয়ে একটি ঘড়ি পছন্দ হয়ে গেলো।
তিথি আমাকে ঘড়িটা কিনে দিয়ে বলল,
ঘড়িটা ডান হাতে পড়বে।
-কেনো ডান হাতে ঘড়িটা পড়বো কেনো(রাহুল)
> তোমাকে এতো কিছু জানতে হবে না, আমি যেটা বলেছি সেটাই করবে।(তিথি)
- তিথির দিকে তাকিয়ে দেখলাম মেয়েটি রেগে গিয়েছে,ও যেটা বলবে ওটাই মেনে নিতে হবে আর না মানলেই রেগে যাবে,সেইজন্য আর কোন প্রশ্ন না করে শুধু মাথা নাড়ালাম।
> এবার ঘড়িটা পরে নাও।
-ডান হাতে ঘড়িটা পরে নিলাম।
ডান হাতে ঘড়ি পরার পরে আমার চেয়ে তিথিই বেশি খুশি হয়েছে।
সেইজন্য ভেবে নিলাম তিথির খুশির জন্য এখন থেকে ঘড়ি ডান হাতেই পরবো।
.
প্রিয় মানুষগুলো যদি অল্পতেই খুশি হয়,তাহলে সেই অল্প পরিমান কাজ করতে আমার কোন সমস্যা হবে না।
আর সত্যিকারে ভালোবাসাতে অল্পতেই প্রিয় মানুষ গুলো বেশি খুশি হয়।
এটাই সবথেকে বড় সত্যি।
.
মার্কেট থেকে বেরিয়ে তিথি আমাকে তার পছন্দের যায়গাই নিয়ে গেলো,হটাৎ করে এখানে আসার কোন কারন জানতে পারলাম না আমি।
প্রিয় মানুষের সাথে নিজের পছন্দ করা যায়গাই গেলে মন খারাপ থাকলে সাথে সাথে মন ভালো হয়ে যায়।
.
-এখানে কেনো নিয়ে এলে (রাহুল)
> আগে এই সুন্দর ঘাসের উপর বসো,তারপরে বলছি(তিথি)
.
তিথির কথাই ঘাসের উপর বসে পড়লাম।
তিথিও আমার সাথে ঘাসের উপর বসে পড়লো।
.
দুজনে কিছুক্ষন ঘাসের উপর বসে নিরবতা পালন করলাম।
এক কথাই দুজনে কোন কথা বললাম না।
.
নিরবতা পালন করার পর,
তিথি ওর ব্যাগ থেকে একটি টিফিন বক্স বের করলো,ও এক বোতল পানি ।
-টিফিন বক্সে কি এনেছো (রাহুল)
> তোমার জন্য খাবার এনেছি,সকাল থেকে তো না খেয়ে আছো। (তিথি)
- কি খাবার এনেছো (রাহুল)
> খুললেই দেখতে পাবে,আর আমি নিজে রান্না করে এনেছি (তিথি)
.
তিথির হাত থেকে টিফিন বক্স নিয়ে টিফিন বক্স খুলে দেখলাম, আমার পছন্দের খাবার রান্না করে এনেছে তিথি।
সব মেয়েরাই তার প্রিয় মানুষের জন্য প্রিয় মানুষের পছন্দের খাবার রান্না করে,কারন
প্রিয় মানুষকে ইমপ্রেস করার জন্য।
আর তারা প্রিয় মানুষের পছন্দের খাবার রান্না করে, প্রিয় মানুষকে ইমপ্রেস করেও ফেলে। সব
মেয়েদের মাঝেই এই অলৌকিক শক্তিটা রয়েছে।
.
তিথির রান্না করা খাবার অনেক সুন্দর হয়েছে,এক কথাই অসাধারন রান্না করেছে।
তিথি এতো সুন্দর রান্না করতে পারে, তিথির হাতের রান্না না খেলে কখনই সেটা বুঝতে পারতাম না।
.
তিথির রান্নার প্রসংসা করতেই,তিথি লজ্জাই লাল হয়ে গেলো।
আসলেই প্রতিটা মেয়ের ভালো কাজের প্রসংসা করলেই ওরা লজ্জা পাবেই,আর লজ্জাতে ওদের মুখ লাল হয়ে যাবেই।
.
দুজনে
ওখানে কিছুক্ষন থেকে চলে আসলাম।
তিথি আমাকে রিক্সাই করে অামাদের চিরচেনা সেই ম্যাচ এর সামনে নামিয়ে দিয়ে গেলো।
নামিয়ে দেবার সময় বলে গেলো বিকালে এই টিশার্ট পরে জেনো তার সাথে দেখা করি,কারন
ওর এক বান্ধবীর জন্মদিন আজকে,আর ওখানে যেতে হবে সন্ধাই, সেইজন্য ওখানে অনেকে আসবে,আর এই কারনেই নতুন শার্ট কিনে দেওয়া।
আর শেষে বলে গেলো,রাস্তার বের হয়ে জেনো কোন মেয়ের দিকে না তাকাই,একদম মাটির দিকে তাকিয়ে জেনো হাঁটি।
আর যদিও কোন মেয়েরর দিকে তাকাই,তাহলে সেই মেয়েটা হলো তিথি।
একমাত্র তিথির দিকেই শুধু আমি তাকাতে পারবো।
.
তিথির কথাই শুধু মাথা নাড়লাম।
তিথি রিক্সা নিয়ে চলে গেলো,আর আমি পেছন থেকে ওর চলে যাওয়া দেখছি,
আস্তে আস্তে রিক্সাটি নজরের বাইরে চলে গেলো,
আর আমি মনে মনে সৃষ্টির্কতাকে বললাম,
আমি জেনো তিথিকে কোন কষ্ট না দিই,তুমি আমাকে সেই ক্ষমতাটুকু শুধু দিও,
ওকে ঘিরেই তো আমার সব স্বপ্ন আর সাধনা।
.
.
লিখা :- রাফি( পড়া চোর)
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ