āĻŽāĻ™্āĻ—āϞāĻŦাāϰ, ⧍ā§Ģ āĻāĻĒ্āϰিāϞ, ⧍ā§Ļā§§ā§­

388

....আবার আসিব....
MD MUNSUR HELAL
***
বাইরে ঝড় বয়ে যাচ্ছে। বিকেল থেকে প্রচন্ড বৃষ্টি ছিলো। কিন্তু সন্ধার সময় থেকেই শুরু হয়েছে বৃষ্টির সাথে বাতাস।
এ জন্য তাড়াতাড়ি খাওয়া দাওয়া করে দরজা আটকে শুয়ে পড়েছি বিছানায়। ঝড়ের সময় অনেকের নাকি ভয় লাগে। আমার অবশ্য ভালো লাগে। ঠান্ডা হিমেল বাতাস আর বৃষ্টির শব্দে দারুন এক অনুভুতি হয়। বিশেষ করে ঘুমটাও হয় দারুন।
কারেন্ট চলে গেছে বিকেলেই। শরীরটা একটু শীতশীত লাগছে। খাটের অপর পাশে রাখা চাদরটা টান দিয়ে গায়ে নিতেই লাফিয়ে উঠলাম ভয়ে! এ কি চাদরের নিচ থেকে মানুষ বের হইছে! ঘুটঘুট অন্ধকারে ভালো করে কিছু দেখা যাচ্ছে না। তবে বাইরের বিজলী চমকানোর আলো একটু ঘরে আসাতে বোঝা যাচ্ছে একটা মেয়ে মানুষ।
পরী টরী না তো? ভয়ে আমার শরীর শিউরে উঠেছে! চিৎকার দেয়ার মতো সাহস ও আমার হচ্ছে না। একটা হাত আমার বালিশের নিকট বাড়ালাম মোবাইলটা খোঁজার জন্য। কিন্তু হাত বাড়াতেই সেই মেয়েটা আমার হাতটা খপ করে ধরে ফেলেছে। আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই অন্য হাতটা দিয়ে আমার আরেক হাত চেপে ধরেছে!
ও আমার বুকের উপর শায়িত। নিঃশ্বাস টা চেনা চেনা মনে হচ্ছে।
মনে একটু সাহস এনে বললাম কে? ওমনি আমার দেহের উপর তার দেহটা সম্পুর্ন লেপ্টে দিয়ে ঠোটদুটোর কাছে তার ঠোট নিয়ে এসেছে। ওমনি এক ঝটকায় আমার উপর থেকে ওকে ফেলে দিয়েছি।
-এসব কি হচ্ছে পারভিন? তুই আমার ঘরে কখন ঢুকলি? (আমি)
-কি গুন্ডা সাহেব... ভয় পেয়েছিস? এই বলে পারভিন আবার আমায় জড়িয়ে ধরেছে।
-দেখ এসব পাগলামি এখন করা উচিৎ নয়। তুই আর আমি দুজনি এখন বড় হয়েছি। এখন কেউ আমাদের এভাবে দেখলে বদনাম হবে।
-কিসের বদনাম? ছোটকাল থেকেই তো তুই আর আমি এভাবেই একসাথে থেকেছি, বড় হয়েছি। কই তখন তো কেউ খারাপ বলেনি। মাঝখানে তিনটা বছর দূরে সরে থাকায় আমি এখন পর হয়ে গেছি তোর?
-আরে তা নয়। তুই তো আমার সবচেয়ে আপন বন্ধু। কিন্তু তোর আর আমার এখন যৌবন বয়স। এখন আমাদের এভাবে একসাথে, এক বিছানায় থাকাটা ঠিক না। লোকে খারাপ বলবে। তোর মা-বাবাও এখন ব্যাপারটা ভালো চোখে দেখবে না।
-চুপ কর গুন্ডা। লোকে কি দেখতে আসবে আমাদের এখানে? আমার মা বাবা আর তোর মা বাবা জানে আমরা কোনদিন আলাদা হয়ে থাকতে পারবো না।
এই বলে পারভিন চুপ হয়ে গেছে। হঠাৎ বাইরে প্রচন্ড এক শব্দে বিদ্যুৎ চমকালো। সাথে সাথে পারভিন আমাকে জড়িয়ে ধরেছে গভীর ভাবে। আমার শরীরের ভিতর ও বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। এই পাগলি টা কি কখনোই বুঝবে না যে একটা যুবক ছেলেকে একটা যুবতী মেয়ে জড়িয়ে ধরলে তার ভিতরে কিরকম ঝড় বয়?
অনেকক্ষন হয়ে গেছে। দুজনের মুখে কথা নাই। হঠাৎ মুখ খুললো পারভিন...
-এই মুনসুর... আমায় চিরতরে আপন করে নে না। আমি চিরদিন তোর এই বুকে থাকতে চাই। পারবি না তুই আমায় তোর বউ করে নিতে?
-না রে পাগলি। তুই আমার প্রিয় বন্ধু। তোকে কখনোই আমি বিয়ে করার চিন্তা করতে পারি না।
একথা বলার সাথে সাথে পারভিন আমায় ছেড়ে দিয়েছে। মুখটা একটু তুলে বলছে কি বললি?
-হা ঠিকই বলেছি। তোকে আমি বন্ধুর চোখে দেখি। অন্য চোখে নয়।
-আমি যে তোকে ভালোবাসি রে মুনসুর। তোকে ছাড়া আমার জীবনে কাউকে কল্পনাও করতে পারবো না।
-না পারভিন এটা ভুল। আমি তোকে কখনোই ভালোবাসতে পারবো না। আমি অন্য কাউকে...
-কি? অন্য কাউকে ভালোবাসিস তুই? তুই এতো বড় বেঈমান? আমি তোকে এতো ভালোবাসি আর তুই অন্য কাউকে ভালোবাসিস?
এই বলে বিছানা থেকে দ্রুত নেমে পড়লো পারভিন।
-এই থাম। শোন আমার কথা। বৃষ্টিতে ভিজে যাবি তো।
পারভিন দরজার ছিটকিনি খুলতেই আমি পিছন থেকে ওকে জড়িয়ে ধরলাম।
পাগলামি করছিস কেনো? ঝড়-বৃষ্টি কমুক তারপর যাবি।
-চুপ স্বার্থপর, বেঈমান। আমি ভিজেই যাবো তাতে তোর কি? আমায় ছাড়।
আমি খুব কষে একটা থাপ্পর লাগিয়ে দিলাম পারভিনের গালে। রাগের চোটে এতো জোরে মেরেছি যে আমার হাতটাই পুড়ে যাচ্ছে ব্যথায়।
পারভিন হাত দিয়ে ওর গালটা ধরে অসহায়ের মতো তাকিয়ে আছে আমার দিকে। ওর চোখে পানি টলমল করছে। খুব বেশি আঘাত লেগেছে হয়তো।
আমি ওর হাতটা সরিয়ে চমকে গেলাম! গাল বেয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। ফর্সা গালে থাপ্পরের দাগ উঠে গেছে। দাঁতের সাথে ঠোট লেগে কেটে গেছে।
আমি বাচ্চা ছেলের মতো হাউমাউ করে কাঁদতেছি। অপরাধীর মতো ওর দুটো হাত ধরে বলতেছি মাফ করে দে আমায়।
পারভিন এখনো বোবার মতো দাঁড়িয়ে আছে। যেন ওর নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে গেছে। কথা বলতে পারছে না মেয়েটা। বোবা হয়ে গেছে ও...
আমি কিছু বুঝতে না পেরে ওর পা জড়িয়ে ধরেছি।
হঠাৎ ধপাশ করে মাটিতে পড়ে যায় পারভিন। মাটিতে পড়ার আগেই ওকে কোনরকমে ধরে ফেলি।
চিৎকার করে বলি তোমরা সবাই তাড়াতাড়ি আসো। আমার পারভিনকে বাঁচাও....।
আমার চিৎকারে বাড়ির সবাই বৃষ্টিতে ভিজেই দৌড়ে এসেছে আমার ঘরে।
প্রথমে এসেছে আমার মা আর বাবা। এরপর  কাকা কাকি ও কাজিনরা। একটু পরেই পারভিনের মা বাবা দৌড়ে এসেছে।
সবাই ওকে নিয়ে ব্যস্ত। আমাদের মহল্লার ডাক্তারকে ডাকা হইছে।
এরপর কি হইছে আমি জানিনা। পরে শুনেছিলাম আমি ঐ রাতে কেমন যেন হয়ে যাই। কথা বলি না, কাউকে চিনি না, কিছু খাই ও না। শুধু অথব্যের মতো তাকিয়ে  থাকি একপানে।
এর দুইদিন পর আমি সুস্থ হই হাসপাতাল থেকে বাড়িতে আসার পর।
হাসপাতালের ডাক্তার সেদিন বলে আমি রাতের মধ্যেই স্বাভাবিক সুস্থ হবো। তিনি বলেন রোগীকে এখন বাসায় নিয়ে যান।
মানসিক আঘাত পেয়ে নাকি আমি ওরকম হয়েছিলাম।
আমি যখন সুস্থ হই তখন অনেক রাত। চোখ খুলে দেখি আশেপাশে কেউ নাই।
একটু বিছানা থেকে উঠতে যাবো তখন মনে হলো কেউ আমার পা ধরে আছে।
তাকিয়ে দেখি আমার পারভিন পাগলিটা আমার পা ধরে বসে কাঁদছে।
আমার নড়াচড়ার ইঙ্গিত পেয়েই ও পাগলিনীর মতো আমার একেবারে কাছে আসে। বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকে। বলে কি হয়েছিলো তোমার?
কপালে আর গালে চুমা দেয় আর বলে তুমি কথা বলো একটু। প্লিজ কথা বলো... আমার তো তখন কিচ্ছু হয়নি। তুমি কেন এমন হয়েছিলে?
ওর এমন আহাজারি দেখে আমার দুচোখ বেয়ে ঝর্নার মতো অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে।
ওকে বুকের সাথে চেপে ধরে মাথায় হাত বুলিয়ে বললাম... আমার কিছু হয়নি রে। তুই আমায় ক্ষমা করে দে পারভিন। ওভাবে তোকে মারাটা আমার ঠিক হয়নি।
-চুপ। তুই আমাকে আরো মারবি। যখন খুশি তখন মারবি। শুধু কথা দে আর এমন হবি না তুই?
আমি এই দুটো দিন কতো টেনশনে ছিলাম জানিস?
এই বলে আবার কাঁদতে থাকে পারভিন।
আমার ভিতরটা কেঁদে ওঠে। এই মেয়েটা আমায় এতো ভালোবাসে কেনো? আমার কিছু হলে তো ও বাঁচবে না।
পারভিন আমাকে টেনে তোলে খাট থেকে।
টেবিলের খাবার নিয়ে আসে আমার কাছে।
নিজ হাতে খাইয়ে দেয় আমায়।
আমি ওর মুখের দিকে তাকাই। ঠোটে একটু দাগ এখনও আছে। মুখটাও শুকনো।
আমি হাতটা ধুয়ে ওর মুখেও খাবার তুলে দেই। ও খাবার মুখে নিয়ে আমার দিকে তাকায়। ওর চোখে পানি টলমল করছে।
খাওয়া শেষে আমি উঠতে যাবো কিন্তু ও উঠতে দেয় না।
বলে এখন অনেক রাত। কাল সকালে সবার সাথে কথা বলবি। এখন আমার বুকে মাথা রেখে ঘুমাবি।
এই বলে ও বিছানায় শুয়ে পড়ে। আমাকে টান দিয়ে ওর বুকের উপর শোয়ায়।
যেন আমি ওর আত্মার আত্মীয়।
এরপর কখন ঘুমিয়ে যাই নিজেও জানিনা।
ভোর বেলা মাথায় হাতের স্পর্শ পেয়ে জেগে যাই। দেখি মা মাথার কাছে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।
আমি বিছানা থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিলাম। এরমধ্যেই পারভিন আমার সামনে খাবার নিয়ে হাজির।
ঘরে তখন অনেক মানুষ। আমি সুস্হ হয়েছি শুনে বাড়ির আশেপাশের লোকেরাও আমায় দেখতে এসেছে।
পারভিন খাবার নিয়ে আসার পর সবাই বের হয়ে গেল ঘর থেকে। শুধু ওর মা আর আমার মা বাবা আছে।
ও আমাকে খাইয়ে দিচ্ছে আর লজ্জা পাচ্ছে। ব্যপারটা লক্ষ করে তারাও ঘর থেকে বের হয়ে গেলো।
আমি পারভিন কে বললাম কি রে... বউয়ের মতো আমাকে সেবা যত্ন করছিস আবার মুরব্বিরাও কিছু বলছে না। ব্যাপার কি রে..?
-দুই এক দিনের মধ্যেই জানতে পারবি কি ব্যাপার।
খাওয়া শেষ করে বিছানায় গা এলিয়ে দিয়েছি। পারভিন আমার কাছে এসে বলছে... থাক এখন গুন্ডা। আবার দুপুরে আসবো। কাপড় চোপড় কাচতে হবে।
আমি খপ করে ওর হাতটা ধরে বললাম যাবি ক্যান? সেদিন রাতে তো খুব ভালোবাসার কথা বলেছিলি। আর আমি একটু মজা করতেই তুই ক্ষেপে গিয়েছিলি।
আজ তোকে বলবো আমি কতোটা ভালোবাসি তোকে। সব ভালোবাসা আজ দিয়ে দেবো তোকে। এই বলে টান দিয়ে বিছানায় ফেলেছি ওকে।
-এই ছাড়। কেউ ঢুকে পড়বে ঘরে।
-তাতে কি। এই দুইদিন তো সারারাত আমার ঘরে আমার সাথেই ছিলি। তখন তো কেউ কিছু বলেনি। এখন তোকে আমাকে একসাথে দেখলে তাতে কার কি?
-হুম। এখন সবাই জানে তুই আর আমি কেউ কাউকে ছাড়া বাঁচবো না।
-আমি বাঁচবো তোকে ছাড়া। তোকে তো আমি ভালোই বাসিনা। এই বলে ভয়ে ভয়ে পারভিনের দিকে তাকালাম ওর রাগময় মুখটা দেখার জন্য।
কিন্তু ওমা একি... ও রাগ না করে আমার দুই গালে দুইটা পাপ্পি দিয়ে বলতেছে... আমি যতোটা না ভালোবাসি তার চেয়ে বেশি ভালোবাসিস আমায় তুই।
আমি অবাক হয়ে বললাম কে বললো তোকে?
এই দুইদিন সারারাত তোর সেবা করেছি আর তোর ঘরের সবকিছু ঠিকঠাক করেছি। আর দেখেছি কোথায় কি আছে।
তোর কোমরের সুতোর সাথে চাবি ছিলো ওটা নিয়ে তোর গোপন ড্রয়ার খুলেছিলাম। ওর মধ্যে গত তিন বছরে আমার জন্য কতোটা কষ্টে ছিলি তা তোর ডায়রি করা আছে। তুই নীরবে এতোটা ভালোবাসিস আমায় ঐ ডায়রি না পরলে জানতাম না রে। ঐ ডায়রিটা পড়ে গতকাল আমি বাবাকে বলে দেই তোর কথা। এটাও বলি যে তোকে ছাড়া আমি বাঁচবো না। বাবা এটা শুনে তোর বাবার সাথে কথা বলেছে। এজন্য আমি তোকে বউয়ের মতো সেবাযত্ন করছি। বুঝলি গুন্ডা...?
-হুম বুঝলাম। তবে বউয়ের মতো সব করছিস যখন... এখন বউয়ের মতো আদর কর আমায়। :-p
এই বলে ওকে কাছে টানতেই বাইরে থেকে কারো আসার শব্দ পেয়ে স্বাভাবিক হয়ে গেলাম দুজন।
চেয়ে দেখি পারভিনের বাবা এসেছে।
-কি আব্বাজান...  কি অবস্থা? (খুব হাসি রহস্যের লোক পারভিনের বাবা)
-ভালো আছি। বসেন কাকা।
-বসবো না। অফিসে যাচ্ছি। তবে শোনো...আমার এই মেয়েটাকে আর কোনদিন কষ্ট দিবা না। ছোট থেকে যেভাবে একসাথে বড় হইছো তোমরা সেভাবেই থাকবা দুজন। তোমাদের বিয়ের আয়োজন দু এক দিনের মধ্যেই হবে।
এই বলে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে মুচকি হাসি দিয়ে বের হয়ে গেলো পারভিনের বাবা।
কাকা যাওয়ার পর পারভিন ও যাওয়ার জন্য উঠছে... ওমনি ধাক্কা দিয়ে ওকে বিছানায় ফেলে দিলাম।
এই শয়তান ছাড় আমায়। দুইদিন হলো তোর সেবাযত্ন করে যাচ্ছি। বাড়িতে রান্নাবান্না সহ সব কাজ মাকে একা সামলাতে হচ্ছে। এখন যাই কাপড় চোপড় গুলো কেচে আসি।
-একটু পড়ে যা না গুন্ডার বউ। তোকে একটু আদর করে দেই।
-আহা... আমার গুন্ডা বলে কি? এমনেই বিয়ের আগে দুজন একসাথে থেকে পাপের গুডাউন খুলে দিয়েছি। আবার উনি আদুল কলতে বলছেন। যাহ... বিয়ে করে বউকে বলিস তখন আদর করবে ছাড় আমায়।
এই বলে পারভিন আমায় ধাক্কা দিয়ে দ্রুত নেমে ঘর থেকে বের হয়ে গেলো।
বাইরে গিয়ে কি মনে করে আবার দৌড়ে এসে দুহাতে দুগাল চেপে ধরে কপালে একটা আলতো চুমো দিয়ে বের হয়ে গেলো।
আমি বিছানা ছেড়ে বাইরে এলাম।
শরীরটা কেমন জানি দুলছে। মা ডেকে বললো গোসল করে নে খোকা। তাহলে ভালো লাগবে। দুদিন হলো তো খাওয়া দাওয়া গোসল করা কিছুই হয়নি তোর।
আমি বাথরুমে ঢুকে গোসলটা সেরে একটু  গ্রামের মাঠের দিকে রওনা দিলাম।
মাঠের এককোনে বসে স্কুলের গেটের দিকে চেয়ে আছি।
এটা "তামাই বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়"। এখানে আমি আর পারভিন পড়াশোনা করেছি। কতো দুষ্টুমির কথা মনে এই স্কুলের কথা মনে হলে।
আমি আর পারভিন ছোট থেকেই দুষ্টুমিতে পাকা। শিশুকাল থেকে কিশোর অব্দি কোটেছে  দুষ্টুমিতে।
এখন অবশ্য দুজনি পরিবর্তন হয়ে গেছি। মাঝখানে তিনটা বছর পারভিন বগুড়াতে ওর মামার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করায় আরো ও কমে গেছে খেলাধুলা আর দুষ্টুমি।
ছোট থেকে যেমন দুজন ডানপিটে ছিলাম। তেমনি দুজনের মধ্যে ছিলো ব্যাপক ভালোবাসা। আমার কিছু হলে ও পাগল হয়ে যেতো। আবার ওর কিছু হলে আমিও...
তেমনি একটা কথা খুব বেশি মনে পড়ে। এই স্কুলে তখন দুজনি ক্লাস সিক্সে পড়ি। সেদিন স্কুলে বড় অনুষ্ঠান। খেলাধুলার প্রতিযোগিতা ও ছিলো। আমি দৌড় খেলায় অংশগ্রহণ করেছিলাম।
খেলার শেষ মুহুর্তে আমি যখন জিতে যাচ্ছি ঠিক সেই মুহুর্তে আমার পিছে পড়া একটা ছেলে শয়তানি করে আমার পায়ে পা মেরে ফেলে দেয়। দৌড়ের এতো গতি ছিলো যে পড়ে গিয়ে আমার একটা পায়ে খুব আঘাত পাই। সাথে সাথে ব্যথায় আমি মাটিতে গড়াগড়ি করি। ঐ সময় পারভিন মাঠের ভিতর সবার আগে দৌড়ে আসে। আমাকে ধরে সে কি কান্না। আমি তখন ওর ঐ কান্নামুখ দেখে সব ব্যথা ভুলে ওর ব্যথাটা অনুভব করছিলাম।
মনে হচ্ছিলো আমার পা ভাঙ্গার ব্যথাটা ওর কান্নার কাছে হেরে গেছে। সেদিন ই বুঝেছি এই মেয়েটা আমার। ও আমাকে কতোটা ভালোবাসে। আমার কষ্টে ওর কতোটা কষ্ট হয়। সেদিন থেকেই ওকে আমি অন্যরকমভাবে ভালোবাসি। ♥
এসব ভাবতে ভাবতে আমার চোখের কোনে পানি জমে গেছে। হঠাৎ মোবাইল ফোনের রিংটোন বেজে উঠলো।
ফোন ধরতেই ওপাশ থেকে বললো... আগামি পড়শু আপনার বিয়ে। তাড়াতাড়ি বাড়িতে আসেন কথা আছে। এই বলেই ফোন কেটে দিলো পারভিন।
আমি মাঠ থেকে তাড়াতাড়ি বাড়িতে চলে গেলাম।
বাড়িতে যেতেই দেখি মা আর পারভিনের মা বসে হাসাহাসি করছে।
আমাকে দেখেই পারভিনের মা বলছে যাও তো বাবা... পারভিনকে নিয়ে একটু মার্কেটে যাও। ওর কিছু কেনাকাটা করতে হবে।
আমি বললাম পারভিন কই?
-আমাদের বাড়িতে যাও বাবা। ও ওর রুমে অপেক্ষা করছে তোমার জন্য।
আমি ঘর থেকে টাকা নিয়ে পারভিনদের বাড়িতে যাচ্ছি আর ভাবছি... সবকিছুই কেমন যেন স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে।
ওদের বাড়ির ভিতর ঢুকতেই ওর ছোট বোন গলা ফাটিয়ে বলছে... পারভিন আপু এই দেখ দুলাভাই এসেছে। এই বলে নাচতে নাচতে বাড়ি থেকে বের হয়ে গেল পারভিনের পিচ্চি বোনটা। এখন বুঝলাম আমাদের বিয়ের দিনক্ষন পাকা হয়ে গেছে হয়তো।
ঘরে ঢুকে দেখি মহারানী আয়নার সামনে দাড়িয়ে সাজগোজে ব্যস্ত। আমি পিছন থেকে গিয়ে ওর গালে ছোট্ট একটা চুমু দিলাম।
-ঐ শয়তান কি হচ্ছে এসব?
-তোর বোন কি বললো শুনেছিস?
আমাকে দেখেই বললো দুলাভাই এসেছে। ওর দুলাভাই হিসেবে ওর আপুকে আদর করার অধিকার আমার আছে তো নাকি?
-দুলাভাই বলেছে বলেই কি আমি তোর বউ? ওর আরেক বোন আছে তার হিসেবেও তো বলতে পারে। যে আমার জমজ বোন আমার মতোই দেখতে।
-চুপ। বিয়েটা তোর সাথে না তোর জমজ বোনের সাথে?
-আগে বিয়েটা হোক। তারপর আমাকে বউ হিসেবে আদর করিস হুম।
-এই পারভিন তোর জমজ বোনটা আসবে কবে দেশে?
-আজকে রাতে ফ্লাইট। ও আসছে বলেই আমাদের বিয়েটা তাড়াতাড়ি হচ্ছে। ওর আসতে আরো দেরি হলে আমি বিয়ে করতাম না এখনি। জানিস তো সেই ছোটবেলায় আমাদের ছেড়ে কাকাদের সাথে গেছে বিদেশ। পড়াশোনা শেষ করে কতো বছর পর আসছে আমার বোনটা।
-আচ্ছা পারভিন' তোর জমজ বোন "পরী" দেখতে কি তোর ই মতো? আমার মনে পড়েনা ওর চেহারা টা।
-ও দেখতে ঠিক আমার মতোই। শুধু ওর গালে একটা তিল আছে যা আমার নাই। আমি তো টেনশন করছি ও আসলে ভুল করে তুই আবার...
:-p
-চুপ... তোর সাথে বড় হয়েছি। একসাথে এক বিছানায় থেকেছি ছোট থেকে। (কোন কিছু বুঝিনি যতদিন) তোর শরীরের গন্ধটা যে আমার চিরচেনা। তোর জায়গায় অন্য কেউ আমার কাছে আসলে শরীরের গন্ধ শুকেই বুঝতে পারবো।
-আচ্ছা দেখা যাবে। চল বের হই।
-কি কি কিনবি রে গুন্ডার বউ?
-আমার আর তোর বিয়ের কেনাকাটা করবো। আর আমার যে বোনটা আসবে আজ রাতে' ওর জন্য কিছু।
-ওহ আচ্ছা চল...
সিএনজি থেকে নেমে ভাড়াটা দিতেছি আর পারভিনকে বলতেছি.. রাস্তার ঐ পাশে দাড়া আমি আসতেছি।
ভাড়াটা দিয়ে পারভিনের হাত ধরে মার্কেটের দিকে পা বাড়াতেই পারভিন চিৎকার করে আমায় একটা ধাক্কা দিয়ে বললো... গাড়ি......।
ধাক্কা খেয়ে আমি রাস্তার পাশে পড়ে গেছি। মাথাটা তুলে দেখি পারভিন পড়ে আছে রাস্তায়।
আমার দিকে হাত ইশারা করে বলছে কাছে আয়।
আমি তাড়াতাড়ি ওর কাছে আসি। ও কথা বলতে পারছে না। শুধু অনেক কষ্টে বললো... আমায় হাসপাতালে নিয়ে চল তাড়াতাড়ি।
আমার সাথে কয়েকজন ওকে ধরে সিএনজিতে তুলে নিয়ে গেলাম সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে।
হাসপাতালে আনার পর ডাক্তার পারভিনকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাচ্ছে। আমি চেয়ে আছি পারভিনের মুখের দিকে। মাথায় আঘাত পেয়ে মাথা বেয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়তেছে এখনো।
আমার বুকের ভিতরে ব্যথা অনুভুত হচ্ছে। দমটা বন্ধ হয়ে আসতেছে। কাঁদতেও পারছি না আমি। এই পারভিনটা আমায় কতো ভালোবাসে। কতো স্বপ্ন ওর আমাকে নিয়ে। অথচ আমার চোখের সামনে আজ ওর এমন অবস্থা হলো।
আমি মাটিতে বসে পড়েছি। পায়ের বল ফুরিয়ে যাচ্ছে। পৃথিবীটা কেমন যেন শুন্য মনে হচ্ছে। হঠাৎ লক্ষ করলাম কয়েকজন দৌড়ে আসলো আমার দিকে। কেউ একজন এসেই আমায় জড়িয়ে ধরলো চোখের পলকে। বললো আমার বোন "পরী" কই?
আমি অবাক হয়ে তাকালাম ওর দিকে। হা এ তো পারভিন আমায় জড়িয়ে ধরে আছে।
তাহলে অপারেশন থিয়েটারে কাকে নিয়ে গেলো?
ও কি তাহলে পরী?
আমি কিছু বলতে যাবো ঠিক তখনি ডাক্তার বের হয়ে আসে।
-পারভিন আর মুনসুর কার নাম? রোগী আপনাদের   এই দুজনকে ডাকছেন। রোগীর অবস্থা তেমন ভালো না। সবই এখন উপর ওয়ালার হাতে।
আমরা সবাই ছুটে গেলাম ভিতরে। পারভিন গিয়ে ওকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলো। আর বলতে লাগলো... আমি তোকে মৃত্যুর দুয়ারে ঠেলে দিলাম রে বোন। দুজনের দিকেই ভালো করে তাকালাম। বেডে শুয়ে আছে যে তার গালে ছোট একটা তিল। আর ওকে জড়িয়ে কাঁদছে যে তার গালে কোন তিল নেই।
হঠাৎ আমার হাতটা ধরে কাছে টানলো বেডে যে জন শুয়ে আছে। হাত ধরে ধীর কন্ঠে বলতে লাগলো... ভাইয়া' আমি তোমার পারভিন নই। আমি হলাম ওর বোন পরী। খুব ইচ্ছে ছিলো বিয়ের দিন পর্যন্ত আমি পারভিন সেজে অভিনয় করে যাবো। বিয়ের মুহুর্তে তোমায় সারপ্রাইজ করে দেবো। কিন্তু ভাগ্য বিধাতা হয়তো এটা মেনে নিতে পারলো না। ভাইয়া... তোমার হয়তো মনে নেই। কিন্তু আমার খুব ভালো মনে আছে। ছোটবেলায় যখন পারভিনকে নিয়ে বউ জামাই খেলতে তুমি, তখন আমি আর পারভিন মজা করতাম। তোমার সামনে বউ হয়ে যেতাম আমি। তোমাকে বোকা বানাতাম। অথচ তুমি বুঝতেই পারতে না।
ঠিক দুইদিন আগে তোমাদের বিয়ের আলোচনা হয় এখানে। তখন তুমি অসুস্থ ছিলে।
কিন্তু আমার ফ্লাইট ছিলো গতকাল। যখন শুনলাম তোমার এই অবস্থা তখন থেকে ফ্লাইট এর সময় পর্যন্ত খুব কষ্টে কাটিয়েছি।
আমি গতকাল যখন আসলাম তখন ও তুমি অচেতন ছিলে। তবে ডাক্তার যেহেতু বলেছিলো রাতের মধ্যেই ঠিক হয়ে যাবে। তাই পারভিন সহ সবাইকে আমার আসার ব্যপারটা গোপন রাখতে বললাম। চেয়েছিলাম সেই ছোট্ট বেলার মতো তোমায় নিয়ে একটু মজা করবো।
তোমার আমার পরিবারের সবাই জানে আমি গতকালকের ফ্লাইটেই এসেছি। শুধু তুমি জানতে না।
আজ যখন তুমি মাঠের দিকে ঘুরতে গিয়েছিলে তখন আমি আর পারভিন তোমায় ফোন করি। প্রথম আমি তোমার সাথে কথা বললাম পারভিন সেজেই। তুমি যখন ঘরে এসে পারভিন মনে করে আমার কপালে চুমু দিলে তখন আমি একটু লজ্জা পেলাম। পরে বিয়ে হয়নি এখনো আমাদের' এসব কথা বললাম যাতে আর আমায় না ধরো।
অবশ্য এসব মনে করিনি আমি। তুমি তো আমার সেই ছোটবেলার ভাইয়া। যাকে নিয়ে আমি আর পারভিন সবসময় মজা করতাম।
ওখানেও যখন আমায় চিনতে পারলে না তখন ভাবলাম খেলাটা জমবে ভালো।
পারভিন তখন পাশের রুমে লুকিয়ে আমার অভিনয় দেখছিলো। ও আমায় ইশারায় বলেছিলো তুই ধরা পড়ে যাবি আমার গুন্ডার কাছে।
এ জন্য আমি তোমায় বাজিয়ে নিতে, বলেছিলাম যে আমার জমজ বোনটার গালে একটা তিল আছে যা আমার নাই। তুমি আবার ভুল করে আমার বোনকে আমি মনে কর না যেন।
তখনও তুমি আমার মুখের দিকে না চেয়েই আমাকে পারভিন মনে করলে।
তখন ই বুঝলাম তুমি আমায় ধরতে পারবে না যে আমি পরী।
পাশের রুমের দরজার আড়াল থেকে তখন পারভিন মুখ বুঝে হাসছিলো।
যখন তোমার সাথে রাস্তায় বের হলাম তখন পারভিন পিছন থেকে আমায় বললো তোরা ঘুরে আয়। আর আমার গুন্ডাটাকে দেখিস ও একটু অসুস্থ।
যখন দেখলাম গাড়িটা তোমার আমার দিকে সম্ভবত  ব্রেকফেল হয়ে আসছে... তখন মনে হলো দুজন বাঁচার চেষ্টা করলে আমার বোনের এই গুন্ডাটা/আমার এই ভাইয়াটার ক্ষতি হতে পারে। তাই কিছু না বুঝে তোমায় ধাক্কা দিলাম। আর আমায় ধাক্কা দিলো সিএনজি টা...
এটুকু বলেই পরী আমার হাতের উপর ভর করে উঠতে চাইলো। আমি ওকে টেনে তুলে বুকে জড়িয়ে নিলাম। আমার দু চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে। এই মেয়েটাকে আমি ভুলে গেছি। অথচ ছোটবেলার সবকিছুই মনে রেখেছে ও। কিন্তু আজ সবকিছু যখন মনে হলো আমার, তখন পরীটার সময় নেই। ভাবতেই কলিজা ফেটে যাচ্ছে আমার।
-ভাইয়া আমার আপুটাকে দেখে রেখো। ও খুব ভালোবাসে তোমায় ছোটবেলা থেকেই। আমার খুব ইচ্ছে ছিলো তোমাদের বিয়ে পর্যন্ত পারভিন হয়ে আমার এই ভাইয়ার সাথে সেই ছোটবেলার মজাগুলো করবো। তা আর হলোনা। এই বলে আমায় ছেড়ে পরী ওর মা, বাবা ও বোনদের জড়িয়ে ধরে কিছু কথা বললো খুব কষ্টে। ঐ মুহুর্তে পরীর দুই বোন আর ওর মায়ের কান্না দেখে মনে হচ্ছিলো...আল্লাহ এ কেমন খেলা তোমার?
এতবছর পর যেই মেয়েটি এলো তার বাবা, মা, বোনদের কাছে ফিরে...
কেনই বা সে চলে যাচ্ছে সব ছেড়ে অচিনপুরে?
পরীর মৃত্যু কাছাকাছি জেনেই ডাক্তার ওর সাথে আমাদের কথা বলার সুযোগ দিয়েছে।
পরীর নিঃশ্বাসটা বন্ধ হয়ে আসছে এমন সময় পারভিন ওকে বুকের মধ্যে জড়িয়ে বলে... তোর কিছু হতে পারেনা। তুই আমাদের ছেড়ে যেতে পারিস না বোন। তখন পরীর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ হওয়ার আগে আমার হাতটা টেনে নিয়ে পারভিন আর আমাকে বলে.. তোরা বিয়ে করে সুখে থাকিস.. তোদের সুখ দেখতে কখনও হয়তো স্বপ্নযোগে আমি ....আবার আসিব.... ♥
***
সমাপ্ত। (কাল্পনিক)

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ