শামিমের কোলে হাফসা। শামিম মুগ্ধ দৃষ্টিতে মেয়ের দিকে তাকিয়ে আছে। তার ধারণা মেয়ে তার বাবাকে চিনতে পেরেছে। সে তনুকে ডেকে বললো, ‘ তোমার কাছে ভাংতি টাকা আছে?’
তনু বললো, ‘কত?’
‘এই ধরো পাঁচশ টাকা?’
‘পাঁচশ টাকা ভাংতি হলে আস্ত টাকা কত?’
‘আস্ত টাকা হলো এক হাজার টাকা। আছে পাঁচশ টাকা?’
‘পাঁচশ টাকা দিয়ে কী করবে?’
‘মেয়েটার দিকে ভালো করে তাকিয়ে দেখেছো? গাভর্তি ঘামাচি উঠেছে। এই সময়ে পাউডার মাখতে হয় গায়ে’।
‘ঘরে পাউডার আছে’।
‘কই দেখি, কী পাউডার কিনেছো? আমার মেয়ের জন্য আজেবাজে জিনিস কিনবে না’।
তনু পাউডারের কৌটা এনে দেখালো। শামিম দীর্ঘসময় নিয়ে সেই কৌটা দেখলো। তারপর ভ্রু কুঁচকে বললো, ‘এইসব দেশী আজেবাজে জিনিস কে এনেছে আমার মেয়ের জন্য? এই জিনিস আমার মেয়ের গায়ে মাখলে গায়ে ঘা হয়ে যাবে। তুমি এক্ষুণি টাকাটা দাও। আমি পাউডার নিয়ে আসি’।
তনু বললো, ‘বড়পু এনেছে। বড়পু হাফসার জন্য আজেবাজে জিনিস আনবে না। তুমি ভালো করেই জানো’।
‘আমি ভালো করে জানি বলেইতো বলছি। এই জিনিস আমার মেয়ে গায়ে মাখবে না’।
‘না মাখলে নিজের মেয়ের জন্য নিজে কিনে আনো যাও। মেয়ে হয়েছে, একটা টাকা দিয়েছো এখন পর্যন্ত?’
‘সব টাকার হিসেব করে রেখো, একসাথে দিয়ে দিবো। এখন পাঁচশ টাকা দাও’।
‘আমার কাছে অত টাকা নাই’।
‘তোমার কাছে থাকবেনা, তাতো জানিই। যাও তোমার বড়পুর কাছ থেকে আনো’।
‘আমি এখন বড়পুর কাছে টাকা চাইতে পারবোনা’।
শামিম হাফসাকে তার কোল থেকে নামিয়ে পাশে বিছানায় রাখলো। তারপর তার চারপাশে বালিশ দিয়ে ঘেরাও করে দিলো। কিছুক্ষণ হাফসার মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে সামান্য ঝুঁকে আলতো করে হাফসার কপালে চুমু খেলো। তারপর নরম গলায় তনুকে ডাকলো, ‘এই, এদিকে আসো’।
তনু ভীত চোখে শামিমের দিকে তাকালো। শামিম তার জায়গা থেকে উঠলো। তারপর দুই পা হেঁটে তনুর সামনে এসে দাঁড়ালো। তারপর বললো, ‘শব্দ করো না। শব্দ করলে বিষয়টা খারাপ দেখাবে। সবাই জানবে তোমার হাজবেন্ড তোমাকে মারে। এটা তোমার জন্য গর্বের কোন বিষয় না’।
শামিম কথা শেষ করার সাথে সাথে তনুর গালে কষে চড় বসালো। তনু বিছানায় ছিটকে পড়তে পড়তে নিজেকে সামলে নিলো। সে শামিমের দিকে তাকালোনা। এক হাতে নিজের মুখ চেপে ধরে বিছানায় বসে পড়ল। শামিম আলনা থেকে শার্ট নিয়ে গায়ে দিতে দিতে বললো, ‘আমার চাকরি নাই। ব্যবসাপাতিও ভালো যাচ্ছে না। এই সব মুহূর্তে মাথার ঠিক থাকেনা। তুমি কিছু মনে করোনা তনু। পুরুষ মানুষের পকেট ঠিক থাকলে সব ঠিক থাকে। কুৎসিত ডাইনী চেহারার বউকেও মনে হয় পরী। সেই দিক থেকে তোমার চেহারা ভালো। কিন্তু পকেটে পয়সা নাই বলে তোমাকেও আমার সহ্য হচ্ছেনা। মনে হচ্ছে চোখের সামনে একটা পেত্নী ঘুরে বেড়াচ্ছে’।
শামিম লুঙ্গি ছেড়ে প্যান্ট পরলো। তারপর শার্টের হাতায় চশমার কাঁচ মুছতে মুছতে বললো, ‘তাহলে এখন তোমার দায়িত্ব হচ্ছে তোমার নিজেকে আমার কাছে পরীর মতো মনে করানো। এই জন্য দরকার আমার পকেটে পয়সা। কিছু টাকা পয়সা হলে ব্যবসাটা দাঁড় করাতে পারতাম। তখন দেখতে, তোমাকে দেখলেই আমার মন ফুরফুরে হয়ে যেতো। তুমি তোমার বড় বোনকে বলো, আমার লাখ দুই টাকা লাগবে’।
তনুকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই ঘর থেকে বের হয়ে গেলো শামিম। ড্রইংরুমে সালমা বেগমের সাথে মুখোমুখি দেখা হয়ে গেলো তার। শামিম সামনের দিকে যতটা সম্ভব ঝুঁকে গিয়ে বিগলিত গলায় বললো, ‘আম্মা, আমি একটু বাইরে যাচ্ছি। আপনার কিছু লাগবে?’
সালমা বেগম বললেন, ‘না বাবা, কিছু লাগবে না। এই সময়ে বাইরে যাচ্ছো যে?’
শামিম আরো বিগলিত গলায় বললো, ‘তনুর হঠাৎ দাঁতে ব্যাথা শুরু হয়েছে, ওর জন্য ওষুধ আনতে যাচ্ছি আম্মা। আপনার প্রেসার বা এসিডিটির ওষুধ আছে? না থাকলে বলেন, আমি নিয়ে আসি? কোন ওষুধ খান আপনি?’
‘না বাবা। আমার ওষুধ লাগবে না। তুমি এই সন্ধ্যাবেলা আবার বের হবে কেন? অণুকে ফোন করে বলে দিলেইতো অণু আসার সময় নিয়ে আসতো!’
‘কী যে বলেন না আম্মা! বড় আপু এমনিতেই অনেক ব্যস্ত থাকেন। তাকে এখন আবার এটা বলা অন্যায়। সারাদিন কী অমানুষিক খাটেন মানুষটা’।
শামিমের চোখে মুখে স্পষ্ট কষ্টের ছাপ। যেন অণুর জন্য কষ্টে তার বুক ফেটে যাচ্ছে।
~ নিঃসঙ্গ নক্ষত্র - A Novel By Sadat Hossain
আসছে ২০১৮ এর বইমেলায়
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ