āϏোāĻŽāĻŦাāϰ, ā§§ā§Ŧ āĻ…āĻ•্āϟোāĻŦāϰ, ⧍ā§Ļā§§ā§­

3458

গল্পঃ জমিদারের মেয়ে
.
হাতে দুই ঘণ্টা সময় আছে তপুর। কাপড়চোপড় গোছানো শেষ প্রায়। জানালা দিয়ে বিকেলের মিষ্টি বাতাস আসছে। এই বাতাস সবারই ভাল লাগার কথা। তপুরও ভাল লাগে কিন্তু আজকে তার ভাল লাগছেনা। এই জানালার পাশে দাঁড়িয়ে রোদ-বৃষ্টি আর দেখা হবেনা তপুর। সারাজীবনের জন্য চলে যাচ্ছে সে। তপুর নিজের বাড়ি এটা না, নানু বাড়ি। কিন্তু এখানেই সে বড় হয়েছে। চাকুরী জীবন এখানেই শুরু হয়েছে, এখানেই শেষ হল!  জানালার পাশে দাঁড়িয়ে পিছনের স্মৃতি শহরে একবার ডুব দেবার চেষ্টা করল তপু। 😰
---
শোবার ঘরে শুয়ে শুয়ে তপু মন ভাল করার মত একটা বই পড়ছে। তখন দরজায় কেউ ঠকঠক করল। বাইরে থেকে কেউ বলছেন ' ভিতরে কী মাষ্টার মশাই আছেন? ' তপু কথা না বলে দরজা খুলে বলল ' আসসালামু আলাইকুম, ভিতরে আসুন না ' একজন বৃদ্ধ লোকের সাথে একজন চাকর মনে হয়। চাকর বাইরে দাঁড়িয়ে রইল, বৃদ্ধকে চেয়ার দিল তপু। বৃদ্ধ বলল ' বস বাবা ' তপু বসে বলল ' কিছু মনে করবেন না। আসলে আমার একটা জরুরী কাজ ছিল, মাত্র মনে পরেছে আরকি। তাই কী বলবেন তাড়াতাড়ি বললে ভাল হত। ' বৃদ্ধ হেসে বললেন ' তোমাকে তুমি করেই বলি বাবা। তুমি তো আমার নাতীনদের মতই। তুমি তো আমাদের সুনামপূরেরই শিক্ষক। আসলে আমার নাতীরা একদম পড়ালেখা করেনা। তাদেরকে তুমি যদি একটু দেখিয়ে দিতে, মানে বলছিলাম যে যদি সময় করে দেখিয়ে দিতে আরকি। তাহলে নাতীরা একটু ভাল রেজাল্ট করতে পারতো ' তপু বলল ' সকালে আমার সময় হয়না তারচেয়ে বড় কথা রুচিও হয়না কাউকে পড়ানোর। তবে আমি বিকাল পাঁচটা থেকে ছ'টা পর্যন্ত সময় দিতে পারব। ' বৃদ্ধ খুশি হয়ে বিদায় নিলেন। 😎
.
কলেজ হতে সরাসরি জমিদার বাড়িতে গেল তপু। চাকর তাকে দুতালায় নিয়ে গিয়ে বসাল। মিনিট দুয়েক পর দুটো মেয়ে হনহন করে এসে তপুর সামনে বসে পরল। না দুটো মেয়ে বসেনি। মনে হয় ছোট মেয়েটা বসল। বসে বলল ' আপনি আমাদের নতুন টিচার? সুনামপূর কলেজের টিচার তো আপনি। আপনাকে চিনি তো আমি। প্রতিদিন রতন চাচার দোকানে বসে চা খান না? ' তপু অবাক হয়নি। কিন্তু এতটাও আসা করেনি। তপু জানত যে জমিদার বাড়িতে দুটো মেয়ে আছে কিন্তু দ্বিতীয় শ্রেণীরও দুটো ছেলে ছিল। তপু ভেবেছিল তাদেরকে বোধহয় পড়াতে হবে। নিজের মুখের খোঁচা খোঁচা দাড়িতে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটাকে বলল ' এবার আপনি বলুন ' মেয়েটা কিছু না বলে চলে গেল। ছোটটা বসেই আছে। বলল ' শুনেন আপু অনেক ভয় পায় সেজন্য চলে গেছে আমি ভয় পাইনা ঠিকাছে? আপু বর্ষা আমি বৃষ্টি। অনেক জেনে গেছেন আমাদের ব্যাপারে এবার ভাগেন। নাহলে আমরা টিচার তাড়াব! ' অপু হেসে বলল ' তোমার লুডু খেলা খুব প্রিয় না? প্রতিদিন আমি আর তুমি লুডু খেলব আর তোমার বোন থাকবে রেফারি চলবে? ' বৃষ্টি অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে পরল। বলল ' আপনি জানেন কিভাবে আমার প্রিয় খেলা লুডু? যাহোক তাহলে কাল থেকে আসতে পারেন! ' 😃
.
প্রতিদিন এভাবে তপু পড়াতে যায় কিন্তু গিয়ে আর পড়ায় না। লুডু খেলতে খেলতে সময় পার! বিষয়টা তাদের বাবা জেনে যায়। জমিদার বাড়িতে একজনই মীরজাফরের মত আচরণ করে আর উনি হলেন মেয়ে দুটোর বাবা। তপুকে ব্যাপারটা জানালে তপু বলে ' বৃষ্টি এস.এস.সিতে এ প্লাস পাবে কারণ সে লুডু খেলছে আর বর্ষা পরিক্ষায় খারাপ রেজাল্ট করবে কারণ সে লুডু খেলছেনা। ' বর্ষা, বৃষ্টির বাবা রিয়াজ সাহেব বলল ' এ আবার হয় নাকি? ' তপু বলল ' ঔষধ দেখে বুঝা যায়না এটা কোন রোগের ঔষধ। কিন্তু কাজ করার পরে বুঝা যায় যে এটা কোন রোগের ঔষধ। ' রিয়াজ সাহেব কিছু বুঝলনা। কিন্তু তাকে আসতেও মানা করেনি বরং তার খাতির-যত্ন আরো বাড়িয়ে দিলেন। কিছুদিন এভাবে যাবার পর বৃষ্টি হঠাৎ আর লুডু খেলতে চাইলনা, পড়াতে বলল! তপু হেসে বর্ষাকে বলল ' কী তোমার লুডু খেলতে ইচ্ছে হয়না? ' বর্ষা মাথা নাড়াল। 😃
.
ছয় মাস পার হবার পর ঠিকই বৃষ্টি এ প্লাস পেল! জমিদার বাড়িতে সবাই তাকে ডেকে অনেক সম্মান করা হয়। কিছুদিন পর বর্ষার পরিক্ষা। এখন আর বৃষ্টির পড়া নেই তবুও এসে বর্ষার পাশে বসে থাকে! আজকে তপু বলল ' তোমার জন্য খুশির সংবাদ। তোমাকে আর কোনদিন আমি পড়াব না। এখান থেকে গেলে খুশি হতাম। ' বৃষ্টির মনে যেন বৃষ্টি এল। এই মানুষটাকে সে কম জ্বালায় নি। কম কথা শোনায় নি। অত্যাচার তো আছেই। তবুও কোনদিন মুখ ফুটে মানুষটা বলেনি ' বৃষ্টি মেয়েটা ভাল না ' 😷
.
সন্ধ্যা বেলায় বৃষ্টি নেমেছে। তপু জানালা খুলে সিগারেট ধরাল। হঠাৎ জানালা দিয়ে কে যেন ডাক দিল ' স্যার? ' তপু আরেকটু জানালার কাছে গিয়ে দেখল বৃষ্টি! বলল ' স্যার এই বৃষ্টিতে ঘরে বসে সিগারেট না টেনে আসেন বৃষ্টিতে ভিজি। ' তপুর কেন জানি হাসি পেল। মেয়েটা কত পাগলী! বৃষ্টির মধ্যে আধ-মাইল দৌড়ে এই জায়গায় এসে পরল। তপু বলল ' ভেজার বয়স পার হয়ে গিয়েছে আমার। ' বলে জানালাটা বন্ধ করে দিল। জানালা বন্ধ করতেই দরজায় ঠকঠক! তপু দরজা খুলতেই বৃষ্টি ভিতরে এসে পরল। বলল ' স্যার এই ছোট্ট রুমটায় আপনি থাকেন কিভাবে? একটা গামছা দিন তো মাথাটা মুছব। ' তপুর ভয় হচ্ছে। কেউ যদি দেখে তাহলে বদনাম হবে। গামছা নিয়ে বৃষ্টির সামনে আসতেই তপু অন্য এক বৃষ্টিকে দেখল! এই এক অন্য বৃষ্টি, অন্য চোখ! বৃষ্টি গামছাটা মাথায় দিয়ে তপুর পায়ের কাছে পরল! তপুর মাথায় যেন আকাশ পরল! পা সরাতে চাইল কিন্তু বৃষ্টি পা ছাড়লনা। বলল ' স্যার আমাকে ক্ষমা করে দিন প্লীজ। আপনার সাথে অনেক বেয়াদবি করেছি। স্যার আমি আপনার মত টিচার হতে চাই, আরেকটা বার আমাকে পড়াবেন? ' তপু পা ছাড়িয়ে কতক্ষণ বৃষ্টির দিকে হা করে তাকিয়ে থাকল। এই মেয়ের চোখে লজ্জা যেন দিনের আলোতে চাঁদ! তপু কিছু না বলে টেবিলের পাশ থেকে ছাতাটা নিয়ে বৃষ্টিকে দিয়ে বলল ' বাড়িতে যাও এখন, কালকে সব কথা হবে। ' 😲
.
পরেরদিন থেকে আবারো বৃষ্টিকে পড়াতে শুরু করল তপু। এরই মধ্যে বর্ষা পরিক্ষায় খারাপ রেজাল্ট করায় তার বিয়ে নিয়ে কথাবার্তা চলছে। দিনদিন আরো ঘনিষ্ঠ হয়ে যায় তপু আর বৃষ্টির সম্পর্ক। বয়সের দূরত্ব কী খুব বেশি? বৃষ্টি যে কলেজের ছাত্রী তপু সে কলেজের শিক্ষক। যে কারণে প্রায় দিনের মধ্যে সারাদিনই তারা একসাথে চলে-ফিরে। তপু খুব গভীর ভাবে বৃষ্টির চোখের নেশায় পরে যায়। তার এটা উচিৎ না সে জানে। এভাবে চলতে থাকলে কদিন পর তপু নিশ্চিত বৃষ্টির জন্য পাগল হয়ে যাবে। বৃষ্টির চোখেও আজকাল ভাল লাগা খেলা করে। বৃষ্টির বাঁকা চোখে তাকানোর রহস্য তপু বুঝে। তপুর বাবার বাড়িতে একটা ছোট্ট ঘর আছে পুরনো। ঠিকঠাক করে নিলে সেখানেই থাকা যাবে। মা, বাবা না থাকার কারণে মামা মামীর কাছে বড় হওয়া। চাকুরীও একটা পেয়ে যাবে সমস্যা নেই। সিদ্ধান্ত নিল তপু সে বৃষ্টির থেকে দূরে চলে যাবে সারাজীবনের জন্য! 😰
.
দুপুরবেলা। ক্যান্টিনে বসে আছে তপু আর বৃষ্টি। বৃষ্টি তার ব্যাগ থেকে একটা বাটি বের করে বলল ' স্যার আজকে আপনাকে খেতেই হবে আমার সাথে। আজকে না খেলে আমি অনেক কষ্ট পাব, রাগও করব। আজকে কিন্তু আপু রান্না করে দেয়নি আমি নিজেই রান্না করে এনেছি। ' তপু চুপ করে বসে আছে। দুদিন পরে আর মেয়েটা তাকে খাওয়ার জন্য বারবার বলবে না। মনে মেঘ জমেছে তবুও সাধারণ ভাবে তপু বলল ' তুমি রান্না করেছ? আজকে খেতেই হবে? ঠিকাছে খাব। ' বৃষ্টি খুশি হয়ে অর্ধেক খাবার তপুকে দিল ' বৃষ্টি না খেয়ে তপুর খাওয়া দেখছিল। তপু অর্ধেক খেয়ে বলল ' তোমারটুকুও আমাকে দাও আজকে খাই। আর তো কোনদিন সুযোগ হবেনা! ' বৃষ্টি খাবার দিয়ে বলল ' কী বললেন স্যার? ' তপু বলল ' কিছুনা দাও খাই। ' বৃষ্টি মনে মনে কথাটা বুঝার চেষ্টা করল কিন্তু বুঝলনা। কলেজ থেকে দুজন একসাথে ফিরল। বৃষ্টি যখন জমিদার বাড়িতে নামল তখন তপু তাকে একটা চীরকুট দিল। বৃষ্টি প্রেমপত্র ভেবে তার মনে খুশির সীমা নেই। তাড়াতাড়ি দুতালায় উঠে চিঠিটা খুলে পড়তে আরম্ভ করল বৃষ্টি। 😲
.
" চাকুরীটা আজকে ছেড়ে দিয়েছি। গ্রামের বাড়ি ফিরে যাব। কথাটা তোমার চোখের দিকে তাকিয়ে বলার সাহস আমার নেই! তোমার প্রতি ইদানীং খুব বেশি দুর্বল হয়ে পরছি। তোমার চোখের নেশা আমাকে ছাড়ছেনা। এটা উচিৎ নয়, এটা উচিৎ নয়। কাল সকাল নয়টায় ট্রেন। ভাল থেকো। " 😰
---
তপুর চোখ থেকে এক ফোটা পানি গাল বেয়ে পরল। জানালা বন্ধ করল। হাতে ব্যাগ নিল। মামী বাবার বাড়ি গিয়েছে মামা দেশের বাইরে। হাতে মাত্র আর দেড় ঘণ্টা আছে। দরজা খুলতেই তপু অবাক! বৃষ্টি দাঁড়িয়ে আছে, পিছনে ব্যাগ। তপু বলল ' তুমি! ' বৃষ্টির চোখে পানি। বলল ' আমার হাতটা ধরে এক দৌড় দিতে পারবেন না? শুধু হ্যাঁ অথবা না বলে উত্তর চাই। হ্যাঁ হলে আপনার সাথে দূরে কোথাও চলে যাব আর না হলে আমার যেদিকে দুচোখ যায় সেদিকে চলে যাব। কী বলবেন তাড়াতাড়ি বলেন? ' তবু হতবম্ভ হয়ে বলল ' পাগল নাকি? ' বৃষ্টি বলল ' আচ্ছা ট্রেনের সামনে যদি আমি শুয়ে থাকি আর ট্রেন যদি আমার উপর দিয়ে যায় তাহলে আমি মনে হয় হাল্কা ব্যাথা পাব তাইনা? তাহলে যাচ্ছি। ' তপু বৃষ্টির হাত ধরে হাঁটতে থাকল । দৌড়লে আবার মানুষ বুঝে যেতে পারে যে তারা পালিয়ে যাচ্ছে! অতঃপর অনেক দূরে তারা চলে যায় যেখানে কেউ তাদেরকে চিনবেনা জানবেনা। 😃
.
বছর দশেক পরের কথা...
বৃষ্টি ঘুমাচ্ছে। সারারাত সে স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের খাতা দেখেছে। কঠোর শারীরিক, মানসিক পরিশ্রম করে সে তার স্বপ্ন পূরণ করেছে। তপু কখন থেকে বৃষ্টিকে ডাকছে কিন্তু বৃষ্টি উঠছেনা। অবশেষে পায়ে কাতুকুতু দিল। পায়ে কাতুকুতু দিলে বৃষ্টি যত ঘুমেই থাকুক না কেন জেগে যাবে। বলল ' ঘুমাচ্ছিলাম দেখেন না? পায়ে কাতুকুতু দিলেন কেন? ' তপু চোখের চশমা ঠিক করে বলল ' টিচাররা এতক্ষণ ঘুমায়না ' বৃষ্টি ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল সাতটা বাজে। তারপর শুয়ে বলল ' আমি ঘুমাবই। ' তপু হাতে ঘড়ি দিতে দিতে বলল ' ঘুমাবেনই তো, জমিদারের মেয়ে বলে কথা ' বৃষ্টি কাঁথা রেখে উঠে এসে তপুর চশমাটা খুলে বলল ' জমিদারের মেয়ে বলে সবসময় খোঁটা দিতে হবে? আজকে আর চশমা পাবেন না যান ' তপু চশমা ছাড়া চোখে ঝাপসা দেখে। বলল ' চশমাটাই কেন তোমার বারবার নিতে হয়? ঠিকাছে সরি, এখন চশমাটা দাও ' বৃষ্টি বলল ' দরজা জানালা বন্ধ করে দিলাম। এবার কান ধরে আধঘণ্টা দাঁড়ায় থাকেন। তারপর চশমা। ' তপু বৃষ্টিকে জড়িয় ধরে বলল ' শাস্তিটা এরকমও তো দিতে পার যে যদি এক ঘণ্টা তোমাকে জড়ায় রাখি তাহলে চশমা দিবে নাহলে না। ' বৃষ্টি বাধা না দিয়ে বলল ' দেওয়া তো যায়ই। বর তো আর অন্য কারো না ' ☺

Siam Ahmed joy

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ