গল্পঃ "ভালবাসি"
.
.
আমার ভাগ্নে অভি, ক্লাস থ্রিতে পড়ে এক কিন্ডারগার্টেন স্কুলে। একাই যাওয়া আসা করে বেশিরভাগ তবে রাতের কোচিং শেষে নিতে যেতে হয়। অভিকে নিতে যাওয়ার কাজটা দুলাভাই ই সচরাচর করে। কিন্তু দুলাভাইয়ের ব্যস্ততার কারণে দুইদিন থেকে অভিকে নিতে যাওয়ার দায়িত্বটা আমার উপরে পড়েছে।
.
পাঁচমিনিট আগেই স্কুলে পৌছে গেলাম, ছুটির অপেক্ষায় আছি।
.
ছুটি হলো। অভিদের ক্লাস থেকে অনেক সুন্দরী এক ম্যাডাম বের হলো। সব ভুলে আমি অবাক নয়নে চেয়ে আছি ম্যাডামের দিকে।
.
কালো শাড়ি আর ধূসর রঙের হিজাবে দারুণ লাগছে ম্যাডামকে। প্রথম দেখায় প্রেমে পড়ে যাবার মত সৌন্দর্য্য উনার। ম্যাডামের বয়স আমার থেকে খুব বেশি হবেনা এটা ভেবে মনের মাঝে ছোট্ট একটু আশা ঘর বাঁধলো।
.
অভির ধাক্কায় সম্বিত ফিরে পেলাম। অভির কাছ থেকে জানলাম, তার ম্যাডামের নাম রিয়া। অভিদের ইংরেজি পড়ায়। অভির আরোও কিছু কথায় বুঝতে পারলাম যে রিয়া ম্যাডাম কলেজে পড়ে। পড়াশুনার পাশাপাশি তাদের স্কুলে টিচারি করায়।
.
বাসায় ফিরলাম। অভির সিলেবাসে তাদের স্কুলের সব স্যার ম্যাডামদের নাম আর ফোন নাম্বার দেওয়া আছে। খুজতে শুরু করলাম কিন্তু রিয়া নামের কোনো ম্যাডামের নামই খুঁজে পেলাম না। আমার খুঁজাখুঁজি দেখে অভি বললো যে- "মামা রিয়া ম্যাডাম নতুন আসছে, উনার নাম এই সিলেবাসে নাই।" কপালে না থাকলে যা হয় আরকি।
.
এখন অভিকে তার স্কুলে দিতেও যাই নিতেও যাই। স্কুল কোচিং মিলে দিনে চার বার যাওয়া আসা শুরু করলাম। উদ্দেশ্য কিছুই নয়, রিয়া ম্যাডামকে দেখার জন্য। কোনোদিন আধ ঘন্টা এক ঘন্টা আগে গিয়েই বসে থাকি।
.
প্রতিনিয়ত রিয়াকে দেখা আমার মৌলিক কাজের মধ্যে পড়ে গেলো। অভি তো বিরক্ত, সে বলে - "মামা তোমার যাওয়া লাগবেনা আমি তো একাই যেতে আসতে পারি।" কিন্তু না, অভির কান ধরে জোড় করে তাকে দিয়ে আসি আর নিয়ে আসি।
.
রিয়ার সাথে এখন প্রতিদিন চোখাচোখি হয়। প্রথম কয়েকদিন চোখে চোখ পড়তেই সরিয়ে নিতাম। কিন্তু এখন তাকিয়ে থাকি বেশ কিছুক্ষণ যতক্ষণ না সে চোখ সরিয়ে নিচ্ছে।
.
চোখাচোখির পর্ব চলাকালীন সময়ে আরেকটা পর্ব যোগ হলো সেটা হলো রিয়া আর আমার মাঝে মুচকি হাসির আদান প্রদান। রিয়ার হাসি অনেক সুন্দর। আমার হাসিটা অবশ্য তেমন সুন্দর না। তবুও এখন রিয়ার সাথে চোখাচোখি হলেই প্লে আর রিপ্লাই স্বরুপ দুজনেই একটূ মুচকি হাসি দেই।
.
চোখাচোখি আর মিষ্টি হাসিতে যেনো মন ভরছেইনা। অনেক্ষণ ধরে দেখতে ইচ্ছে করে রিয়াকে। তবে আমি বুঝেছি আমার প্রেমের প্রচন্ড উত্তাপ রিয়ার মনেও লেগেছে। তা না হলে এমন গ্রীন সিগন্যাল আশা করা যেতনা।
.
প্রতিদিন যাওয়া আশা করতে করতে অন্যান্য টিচার পিয়ন সবার সাথেই খাতির হয়ে গিয়েছিলো। কম বেশি সবার সাথেই টুকটাক কথা হলেও রিয়ার সাথেই আমার কোনো কথা হয়নি।
.
এখন অভিকে টিফিন দিতেও তাদের স্কুলের ভেতর ঢুকি। অভির বিরক্তির শেষ নেই। টিফিন দিতে গিয়ে সব ক্লাস, না হয় অফিস, টিচার্স রুমে রিয়াকে খুজে ফিরি। খুজে পেলেই একটু চোখাচোখি আর মিষ্টি হাসির বিনিময়। এতটুকুতেই মনটা নেচে উঠতো। বন্ধের দিনগুলোতে খুব খারাপ লাগতো রিয়াকে না দেখতে পেলে।
.
আপুর কাছে বুদ্ধি নিলাম। আপু দুইদিন অভির স্কুলে যেতে বারণ করলো। অনেক কষ্টে এই প্লান পালন করতে শুরু করলাম। প্রথম দিন অভি স্কুল কোচিং শেষ করে আসলো কিন্তু কিছুই বললনা। পরের দিন অভি বাসায় আসার সাথে সাথে বললো- "মামা রিয়া ম্যাডাম তোমার কথা জিজ্ঞেস করেছিলো।"
.
"আর কি কি জিজ্ঞেস করেছে তুই কি বলেছিস?" এসবের উত্তর অভির কাছ থেকে শোনার জন্য মানিব্যাগের স্বাস্থ একটু ভগ্ন করতে হলো। অভি বললো- "ম্যাডাম বলছে শুধু, অভি তোমার মামা আজ আসেনি কেনো? আর আমি দুষ্টামি করে বলছি মামার ডায়রিয়া।" বলার সাথে সাথে অভি হাসতে হাসতে দিলো দৌড়।
.
এই ভেবে ভাল লাগছে যে রিয়া আমার কথা জিজ্ঞেস করেছে। পরের দিন সুন্দর একটা গেট আপ নিয়ে অভির স্কুলে গেলাম। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস! আজ স্কুলে রিয়া ম্যাডাম আসেইনি।
.
মন খারাপ করে বসে থাকলাম কিছুক্ষণ। পিয়নের সাথে গল্প শুরু করলাম। বুঝতে পারলাম পিয়নকে কাজে লাগানো যাবে। খাতির জমিয়ে রিয়ার সিভির পুরো একটা কপি পেয়ে গেলাম। সাথে ভাল করে রিয়ার বাসার ঠিকানাটাও জেনে নিলাম। পৃথিবীতে দেখি আজকাল সবি সম্ভব।
.
বাসায় ফিরে রিয়ার পুরো সিভি মুখস্ত করে ফেললাম। ইংরেজিতে অনার্স করছে রিয়া, আমার এক বছর জুনিয়র। আমার সুপ্রসন্ন ভাগ্যের উপর খুব খুশি হলাম। ভাবলাম ফোন দিবো কিন্তু সাহস হচ্ছিলোনা। সেদিন আর সাহসও হয়নি।
.
পরের দিন অভিকে নিয়ে স্কুলে গেলাম। আমাকে দেখার সাথে সাথে রিয়া আমার সামনে আসলো। ভেবেছিলাম চোখে চোখ রেখে একটু হাসবে কিন্তু না তার চোখমুখে অন্যকিছুর হাবভাব পাচ্ছিলাম।
.
"এখুনি একটা রিকশা ঠিক করো।"
.
আমাকে বলা রিয়ার প্রথম কথা- "এখুনি একটা রিকশা ঠিক করো।"
.
কথাটা আকাশে বাতাসে প্রতিধ্বনি হতে লাগলো। আবার যখন রিয়া বললো- "স্কুল থেকে ছুটি নিয়েছি, তোমার সাথে ঘুরবো।"
.
এ কথা শুনে এমন জোড়ে "এই রিকশা" বলে ডাক দিলাম যে আমার ডাক শুনে তিনটা রিকশা আর একটা অটোরিকশা আমাদের সামনে হাজির। ব্যাপারটায় রিয়া খুব আনন্দ পেয়েছে।
.
রিয়ার পছন্দেই সুন্দর একটা রিকশায় উঠলাম। আমার গা ঘেষে এতদিনের স্বপ্নে দেখা মানুষটা বসে আছে ভাবতেই শরীরে শিহরণ বয়ে গেলো।
.
রিয়া অন্যদিকে তাকিয়ে আছে আর আমি তার দিকে তাকিয়ে আছি। তার হিজাব দেখছি, তার কপাল দেখছি, তার ভ্রু দেখছি, তার চোখের পাতা দেখছি, তার চোখের অক্ষিগোলক দেখছি। তার চোখের অক্ষিগোলক এ আমার যে অস্পষ্ট চেহেরাটা দেখা যাচ্ছে সেটাও দেখছি। ইস দেখতে এত প্রশান্তি আগে জানতাম না।
.
দর্শন কাজে আমার ব্যাঘাত ঘটলো তখন, যখুনি রিয়া আমার দিকে তাকিয়েছে। অনেক চেষ্টা করেছি রিয়ার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকবো কিন্তু পারিনি চোখ নামিয়ে নিয়েছি। চোখ পড়েছে এখন তার নধর দুটি হাতে। সাপের দুটি ফণার মত হাত দুটি জোরাজোরি করে আছে। বুঝতে পারলাম রিয়া এখন আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
.
আচমকা চোখ উঠিয়ে রিয়ার চোখের দিক তাকালাম। ওমনি রিয়া চোখ নামিয়ে নিতে চাইলো। কিন্তু আমি বাঁধা দিলাম থুতনি ধরে। এক মিনিটও হয়নি দুজন দুজনের চোখের দিকে তাকিয়ে আছি এমন সময় রিকশাওয়ালার "কই যাবেন?" শুনে ঠিক হয়ে নিলাম। মাথা নিচু করে শুধু হাসছি দুজনই, প্রাপ্তির হাসি।
.
রিয়াকে জিজ্ঞেস করলাম- "হাসছো কেনো?"
.
আমার ডান হাতটা তার দুই হাতের মধ্যে নিয়ে রিয়া বললো - "ভালবাসি তাই।"
.
"ভালবাসি" বলতে আমিও দেরি করিনি। রিয়ার চোখের দিকে তাকিয়ে অকপটে বলে দিয়েছি কথাটা। কথাটা শুনেই রিয়ার চোখের কোনে দুফোটা পানি আসতে খুব একটা সময় লাগেনি। তার অশ্রুসিক্ত চোখে খুব ভাল করেই ভালবাসার মানে খুজে পেলাম।
.
.
~সমাপ্ত~
.
.
লিখাঃ আমিম এহসান.
āĻāϞ্āĻĒ āϏংāĻ্āϰāĻš āĻāϰা āĻāĻŽাāϰ āύেāĻļা। āϰোāĻŽাāύ্āĻিāĻ, āĻৌāϤিāĻ, āϰāĻŽ্āϝ, āĻৌāϤুāĻ āϏāĻš āĻšাāĻাāϰো āĻāϞ্āĻĒ āĻāĻে āĻāĻŽাāϰ āϏংāĻ্āϰāĻšে।
āĻŦুāϧāĻŦাāϰ, ⧍⧧ āĻĢেāĻŦ্āϰুāϝ়াāϰি, ⧍ā§Ļā§§ā§Ž
4666
āĻāϰ āĻĻ্āĻŦাāϰা āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰা
Rahathossain1010100@gmail.com
āĻāĻ āϏāĻŽā§ে
ā§:ā§Ļ⧍ AM
āĻāϤে āϏāĻĻāϏ্āϝāϤা:
āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝāĻুāϞি āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ (Atom)
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ