"আমার বান্ধবী এবং হবু বউ"
.
.
পকেট থেকে ফোনটা বের করে দেখি দশটা মিসড কল। কল গুলো দিয়েছিলো তিন্নি, আমার সবচেয়ে কাছের বান্ধবী। কলেজে পড়াকালীন সময়ে আমাদের হালকা পাতলা না মোটা আর পুরু প্রেম ছিলো। কিন্তু ওই যে সমবয়সী আর ক্যারিয়ার বিহীন হওয়ায় আমার সাথে তিন্নির বিয়েটা হয়নি। বছর চারেক হবে সম্ভবত তার বিয়ে হয়েছে একজন সরকারি কর্মকর্তার সাথে। আমাকে কিছুদিন কাঁদিয়ে অনেক সুখে আছে এখন সে।
.
তার আর আমার মাঝে প্রেমিক প্রেমিকার ভালবাসাটা হারিয়ে গেলেও বন্ধুত্বের ভালবাসাটা এখনও অটুট রয়েছে। দুজনের নিয়মিত খোজ নেওয়া আর কিছু এক্সট্রা কেয়ারে দিনগুলো খুব একটা খারাপ যাচ্ছিলোনা। তিন্নির আড়াই বছরের ছেলে রিফাত এর কাছে যখন জোর করে বাবা ডাক শোনাটাও কম আনন্দের নয়।
.
ঘটনাটা একটু বলি। একদিন হুট করে বাবা ডাক শোনার ইচ্ছে হলো। তিন্নি দুষ্টামি করে অনেকবার ডাকলো কিন্তু শান্তি পেলামনা। দুষ্টামি বুদ্ধি মাথায় চাপলো, রিফাত এর কাছে বাবা ডাক শুনতে চাইলাম। তিন্নি রাজিই হচ্ছিলোনা, পরে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে রাজি করালাম। খায়েশ মিটিয়ে রিফাতের কাছে বাবা ডাক শুনলাম। এসবে কোনো ঝামেলাই ছিলোনা কেননা তিন্নির হাজব্যান্ড আমার সম্পর্কে কাজিন হয় আর উনার সাথেও ভাল সম্পর্ক ছিলো বলে।
.
তাই বলি, তিন্নি আমার বান্ধবী, বোন, ভাবি, গার্জিয়ান সব। শুধু সে আমার প্রেমিকা পদ থেকে পদত্যাগ করেছে এই মাত্র।
.
.
ফোন দিলাম তিন্নিকে। রিসিভ করতে একটু সময় নিলেও তার তীক্ষ্ণ কথা শুরু হতে খুব একটা সময় লাগলোনা।
.
- "কি করিস সারাদিন? এত ব্যস্ত? কতবার ফোন দিছি দেখছিস কি?"
- "কেমন আছিস?"
- "থাক শুনতে হবেনা।"
- "দুলাভাই আর রিফাত কেমন আছে?"
- "আছে ভালই। আমিই ভাল নেই শুধু তোর জন্য।"
- "ক্যান কি করলাম আবার আমি?"
- "তোর জন্য মেয়ে পছন্দ করেছি, আজ বিকেলে সে আমার বাসায় আসবে, পাশেই বাসা, অনেক ভাল মেয়ে, অনার্স ফার্স্ট ইয়ারে পড়ছে, যেমন রুপ তেমন গুণ। হিজাব পড়ে, নামায পড়ে, গালে টোলও পড়ে মাঝে মাঝে চশমাও পড়ে। তুই যেমনটা চাস ঠিক তেমন একটা মেয়ে।"
- "পানি খা আগে, খেয়ে কিছু বাকি থাকলে বল।"
- "রাগ হচ্ছিস? তোর বউ দেখতেছি, তোর ভাল করতেছি আর তুই কিনা..."
- "নাম কী মেয়েটার?"
- "মীম।"
- "কখন আসতে চাইছে তোর বাসায়?"
- "বিকেলে।"
- "আচ্ছা বিকেলে আসতেছি তোর বাসায়, ভাল করে রান্না করতে থাক। রাখছি এখন।"
.
.
তিন্নির বিয়ে হয়ে যাবার পর আমায় বলেছিলো যে আমার কি চাই? আমি বলেছিলাম তোর মতই একটা মেয়ে যার নামের মিল থাকবে আমার নামের সাথে। ব্যস, দুই তিন বছরে অনেক মেয়ের সন্ধান দিলেও মীম নামের মেয়ে এবার প্রথম।
.
.
খুবই সাধারণ একটা গেট আপ নিয়ে তিন্নির বাসায় রওনা দিলাম। খুব বেশি দূরে নয়। পৌছাতে সময় লাগলোনা।
.
দরজা নক করতেই দরজা খুলে দিলো তিন্নি। কিন্তু ভেতরে ঢুকতে গিয়ে তিন্নির প্রশ্নের সম্মুখে হনুমান বনে গেলাম। "সেভ করিস নাই ক্যান? শার্ট টা স্ত্রী করলে কি এমন ক্ষতিটা হতো? শার্ট টা ইন করেও তো আসতে পারতিস।"
.
হাওয়ায় ধাক্কা দিয়ে ড্রয়িং রুমে ঢুকলাম। টিভির সামনাসামনি সোফায় যে মেয়েটা বসে আছে, সম্ভবত আমি তাকেই দেখতে এসেছি। পিছন দিক দিয়ে শুধু মেয়েটার মিষ্টি কালারের হিজাবটাই দেখতে পেলাম।
.
তিন্নি পরিচয় পর্ব শেষ করে নাস্তার পর্বের আয়োজন করতে গেলো। মীমও যেতে চাচ্ছিলো কিন্তু তিন্নি জোর করে গল্প করতে বসিয়ে দিয়ে গেছে। সোফার এক প্রান্তে আমি আর এক প্রান্তে মীম। পনেরো মিনিট চলে গেলো তিন্নির কোনো খবর নেই। কয়েকবার তাকানো ছাড়া আমিও কিছু বলতে পারলাম না মীমকে। মস্তিষ্কের অভিধানে বলার মত কোনো শব্দই খুঁজে পাচ্ছিনা।
আরোও পাঁচ মিনিট চলে যাবার পর বলতে শুরু করলাম।
.
- "আপনার নামে ই-কার না ঈ-কার লিখেন?"
- "ঈ-কার।"
- "ও"
.
কথা আবার বন্ধ হয়ে গেলো। তিন্নিকে রান্নাঘরের দরজায় দেখতে পেলাম। তিনি কথা বলা চালিয়ে যাওয়ার ইশারা করতে লাগলেন। কিন্তু আমাকে না মীম নামের মেয়েটাকে। মীম হন্তদন্ত হয়ে বললো "আপনার নামটা যেনো কী?"
.
অবাক হয়ে নিজের নাম বললাম। অবাক হওয়ার কারণ হলো মীম আমার নাম জানতো। আমি একটু সাহস নিয়ে বলা শুরু করলাম।
.
- "তিন্নি আপনাকে কী বলেছে?"
- "ভাবি বলেছে আপনি আমাকে দেখতে আসবেন, পছন্দ হলে বিয়ে করবেন।"
.
কিছুক্ষণ পর জবাব দিলাম- "আপনাকে আমার যথেষ্ঠ পছন্দ হয়েছে।"
.
মীম সাথে সাথে পালটা জবাব দিলো- "কিন্ত আপনাকে আমার পছন্দ হয়নি।"
.
আকাশ থেকে পড়ার কথা ছিলো কিন্তু পড়াপড়ি বাদ দিয়ে এক গ্লাস পানি খেয়ে নিজেকে সংযত করলাম। ভাবতে লাগলাম আমিতো অপছন্দ হবার ছেলে নই। এ কথা শুনে অপমান বোধ করলাম। সাহসের হাওয়াতে ফোলা বুকটা মীমের কথা শুনে চুপসে গেলো।
.
.
মীম এক পলক আমার দিকে চেয়ে বললো- "আমিম ভাইয়া আমায় মাফ করবেন, আমার বয়ফ্রেন্ড আছে, আর আমি তাকেই বিয়ে করবো।"
.
.
দূরে দাঁড়িয়ে থাকা তিন্নির দিকে তাঁকালাম। সেও একদিন রিফাতের বাবাকে এভাবে বলেছিলো। কিন্তু পরিবারের চাপে আমার সাথে তিন্নির বিয়ে হয়নি। বুঝতে পারছি তিন্নির গন্ডদেশে অশ্রু চিক চিক করছে। আমি জানি তিন্নি আমাকে একটু অন্যরকম ভালবাসা বাসে। সমাজে যদি স্বামীর পদ দুইটা থাকতো তাহলে নির্ঘাত আমি তিন্নির স্বামীর একটা শুন্য পদে স্থান পেতাম।
.
.
একটু অন্যরকম ভালবাসার টানে তাইতো তিন্নি আমার জন্য তার থেকেও একটা ভাল মেয়ে খুজছে, আর আমিও অপেক্ষায় আছি তিন্নির থেকে ভাল মেয়ে পাবার। জানি পাবোই আমি যেমনটি চাই।
.
.
~সমাপ্ত~
.
.
লিখাঃ আমিম এহসান.
āĻāϞ্āĻĒ āϏংāĻ্āϰāĻš āĻāϰা āĻāĻŽাāϰ āύেāĻļা। āϰোāĻŽাāύ্āĻিāĻ, āĻৌāϤিāĻ, āϰāĻŽ্āϝ, āĻৌāϤুāĻ āϏāĻš āĻšাāĻাāϰো āĻāϞ্āĻĒ āĻāĻে āĻāĻŽাāϰ āϏংāĻ্āϰāĻšে।
āĻŦুāϧāĻŦাāϰ, ⧍⧧ āĻĢেāĻŦ্āϰুāϝ়াāϰি, ⧍ā§Ļā§§ā§Ž
4665
āĻāϰ āĻĻ্āĻŦাāϰা āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰা
Rahathossain1010100@gmail.com
āĻāĻ āϏāĻŽā§ে
ā§:ā§Ļ⧍ AM
āĻāϤে āϏāĻĻāϏ্āϝāϤা:
āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝāĻুāϞি āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ (Atom)
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ