āĻŦুāϧāĻŦাāϰ, ⧍⧧ āĻĢেāĻŦ্āϰুāϝ়াāϰি, ⧍ā§Ļā§§ā§Ž

4660

"যখন আমি প্রাইমারিতে"
.
.
পুকুরে অল্প একটু পানি, যেখানে কয়েকজন মিলে মাছ ধরছিলাম। মাছ ধরার সরঞ্জাম হিসেবে আমাদের কিছুই ছিলোনা, শুধু ছিলো পাঁচ আঙুল বিশিষ্ট দুটি হাত আর ছোট খাট মাছ রাখার জন্য একটা পলিথিন। যে পলিথিনটা আমাদের সবার কোমড়ে গুঁজা ছিলো।
.
হই চই আর কাদা ছিটাছিটি করে মাছ ধরছিলাম আপন মনে। এমন সময় আমার ছোট আপু আমার নাম ধরে চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে ডাকতে লাগলো যেটা কানের মধ্যে রমযান মাসের সেহরির সাইরেনের শব্দের মত বাজতে লাগলো।
.
মাছ পাই আর না পাই, মাছ আমি মারবই। আপুর ডাকে হয় আমার কান ফেটে যাক আর আস্ত থাক। কিন্তু না, আপুর লাউডস্পিকার ডাকের সাথে পারলেও আপুর হাতের সাথে পারলাম না। আপু আমার কানটা ধরে বাসায় নিয়ে আসলো।
.
কেনো এই জোরজবরদস্তি! জানতে চাইলে আম্মু জানালো যে আমাকে আজকে স্কুলে ভর্তি করাতে নিয়ে যাবে আপু। স্কুলে ভর্তি হবার কথা শুনে মনটা খুশিতে নেচে উঠলো। জীবনের প্রথম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হবো, আহা! কি আনন্দ। গামছা পড়ে নাচতে নাচতে গোসল করছি। তখন যদি লুঙ্গি ড্যান্স গানটা থাকতো তাহলে আমি নির্ঘাত সেদিন গামছা ড্যান্স দিতে দিতে গামছা খুলে মাথার উপর ঘুরাতাম।
.
চপ চপ করে মাথায় সরিষার তেল দিয়ে সুন্দর করে একপাশে সিথি করে আমি রেডি হলাম। যাওয়ার আগে আম্মু আপুকে বললো, "দেখতো মুনিরা, আমিম মাথার উপর দিয়ে কান ধরতে পারে কিনা?" আপু কয়েকবার আমাকে প্রাক্টিস করালো। ডান হাত দিয়ে মাথার উপর দিয়ে বাম কান ধরা। কাজটা অবশ্য একটু কঠিনই ছিলো।
.
রাস্তায় আপু আমাকে অ আ ক খ A B C ইত্যাদি পড়াতে পড়াতে স্কুলে নিয়ে গেলেন। একি কান্ড! স্কুলে আমার মত অনেকগুলা পিচ্চি। কেউ কাঁদছে, কেউ হাসছে, কেউ বিস্কুট খাচ্ছে, কেউ হোচট খেয়ে পড়ছে আর আমি সবার কৃতকর্ম গুলোই দেখছি। অবশ্য কিছুদিন আগে আমিও যখন তখন হোচট খেয়ে পড়ে যেতাম,  যার জন্য আমার নাম ছিলো "কদু"। কিন্তু এখন আর হোচট খেয়ে পড়ে যাইনা তাই কদু নামের উপাধিটা আমার কালের গর্ভে হারিয়ে গিয়েছিলো।
.
এসব ভাবতে ভাবতে,  আপু আমাকে টেনে এক চশমা পড়া ম্যাডামের কাছে নিয়ে এলেন। ম্যাডাম চশমার ফাঁক দিয়ে আমায় আপাদমস্তক দেখে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলেন।
.
"নাম কি তোমার?"
"জ্বি মো. আমিমুল এহসান।"
"কি?"
"মো. আমিমুল এহসান।"
.
ম্যাডাম আমার নাম কিছুতেই উচ্চারণ করতে পারছেন না। আজব তো,  নামই উচ্চারণ করতে পারেনা অথচ ইনি ম্যাডাম হয়ে বসে আছেন। অনেক বলার পরেও ম্যাডাম আমার নাম ভুল করে আমিনুল লিখলেন, আপু ঠিক করে দিলো। আর সেদিন থেকেই আমার নাম যে ভুল উচ্চারণ করতো তার উপর প্রচন্ড মেজাজ খারাপ হতো।
.
"তুমি অ আ পারো।"
"অ আ, ক খ, A B C,  এক দুই, আলিফ বা তা, অঙ্গ প্রতঙ্গের নাম, দিন, মাস সব পারি।"
.
ম্যাডামের চোখ তো চড়ক গাছ, এইটুকুন পিচ্চি ছেলে কি বলেরে বাবা। আমার শ্রদ্ধেয়া মুনিরা আপুর তো ভাব বেড়ে গেলো আমার পারদর্শিতার জন্য। ম্যাডাম এসব বাদ দিয়ে আমায় জিজ্ঞেস করলেন,
.
"তুমি মাথার উপর দিয়ে কান ধরতে পারো?"
"পারিনা মানে? খুব পারি।"
.
তখন এত চেষ্টা করলাম কিন্তু মাথা সোজা রেখে কানটা ধরতেই পারলাম না। মন খারাপ হয়ে গেলো। আল্লাহ যদি আরেকটু বড় করে আমার কানটা তৈরি করতেন তাহলে সেদিন আমাকে আর অপদস্থ হতে হতোনা, যদিও আমি এই অপদস্থ কথাটার মানে তখন বুঝতাম না।
.
কান না ধরতে পারায় আমাকে ছোট ওয়ানে ভর্তি করানো হলো। স্কুল থেকে বই দেয়নি তাই লাল রঙের বর্নমালার বই নিয়ে গিয়ে পড়তাম। কিন্তু আমাকে বেশিদিন এই ছোট ওয়ানে থাকতে হলোনা। একটু বেশি বেশি পড়া পারা আর বক বক করার জন্য হেডস্যার আমাকে ছুড়ে মেরে বড় ওয়ানে তুলে দিলেন। এখন আমার তিনটা বই, এখন আমি ছাত্র, এখন আমি স্কুলে পড়ি। খুশিতে মনটা যে তাই পেখম তুইলা নাচেরে। ভাগ্যিস তখন এই গানটা ছিলোনা।
.
.
ক্লাস ওয়ানের প্রথম সাময়িক পরীক্ষা শুরু হলো, আমার জীবনের প্রথম পরীক্ষা। তাইতো আবেগের বশে নাকি খুশির দাপটে পরীক্ষার খাতা জমা না দিয়ে বাসায় নিয়ে আসলাম। পরীক্ষা খুব ভাল হয়েছে এই সুসংবাদ যখন বাসার সবাইকে দিচ্ছিলাম, এমন সময় স্কুলের বড় ভাইরা আমার বাসায় এসে হাজির। পরীক্ষার খাতা আর আমাকে একপ্রকার তুলে নিয়ে গিয়ে স্কুলে হাজির করানো হলো। দুই চারটে বকাঝকা খেয়ে বাসায় ফিরলাম।
.
পড়াশুনা ভাল পারলেও ক্লাস থ্রি এর প্রথম পর্যন্ত আমার তিন রোল ছিলো। কিন্তু থ্রিতে ওঠার পর ফার্স্ট বয় লিটন চলে গেলো অন্য স্কুলে আর সেকেন্ড বয় মাসুদ চলে গেলো নিজের দেশে।  আর তখন আমি হয়ে গেলাম রাজা। "যে বনে সিংহ নাই সে দেশে বাঘ রাজা" প্রবাদ টা অবশ্য কিঞ্চিত পরিবর্তন করে শিখেছিলাম অনেকদিন পরে।
.
পুরো স্কুল জুড়ে আমার অনেক সুখ্যাতি। ক্লাস থ্রিতে পড়েও পরীক্ষার সময় ক্লাস ফোর ফাইভদের স্টুডেন্টদের হেল্প করতাম। ক্লাস ফাইভের প্রথম দিকে আমি প্রপজাল পেলাম তবে হ্যা বন্ধুত্বের প্রপজাল  তাও আবার কয়েকজন মেয়ের কাছ থেকে।
.
আমি বন্ধুত্বের অনুরোধ নাকচ করে বিপদে পড়ে গেলাম। ছুটি শেষে তারা আমার পথ আটকালো, সেফটিপিন আর ক্লিপ দিয়ে ভয়ও দেখাতে লাগলো। দু একটা চিমটি খেয়ে গগনবিদারী কান্না শুরু করে দিলাম। এ খবর কে জানি আমার বাসায় পৌছে দিলো অতি দ্রুত। বাসা কাছে হওয়ায় ছোট আপু দৌড়ে এসে আমাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করলো।
.
ক্লাসের দামড়া ছেলেটার সাথে একদিন মারামারি লাগলো। ঠিক কোন কারনে মাসুদের সাথে আমার সেদিন কোন্দল বেধেছিলো তা মনে করতে পারিনা। দু একটা কিল ঘুষি খেতেই পুরো ক্লাস চলে আসলো ঘটনাস্থলে, সবাই অবশ্য আমার পক্ষেই ছিলো। শেষে মাসুদকে কয়েকজন আটকে ধরলো আর আমি তার পেটে বেহিসেবি কিল ঘুষি দিয়ে আত্মতৃপ্তি লাভ করলাম।
.
বৃত্তি পরীক্ষার আগে মডেল টেস্ট দিতে গেলাম পাশের এক স্কুলে। সিট পড়লো অন্য স্কুলের একটা মেয়ের সাথে। মেয়েটা সুন্দরী হয়ায় গর্ববোধ করছিলাম। মেয়েটা আমার দেখে দেখে লিখতে গিয়ে ব্যর্থ হলো কেননা আমি অন্যের দেখতে ভালবাসি দেখাতে না।  মেয়েটা একসময় আমায় ফোর্স করে বসলো, বলল,
.
"দেখা নাহিলে মাইর খিলাই নিম।"
"হে হে, কারঠে মাইর খিলাই নিবু?"
"ওই যে দ্যাখ,দুইটা বেঞ্চ সামনত মোর বড় ভাইও পরীক্ষা দেছে।"
.
সুন্দরী মেয়েটার হাট্টা কাট্টা ভাইটাকে দেখে ভয় পেয়ে মেয়েটাকে খাতা দেখানো শুরু করলাম। মেয়েটাও সুন্দর করে আমার খাতা দেখে লিখে কমবেশি সবগুলা পরীক্ষাই দিলো। আর পরীক্ষায় এমন হেল্প করার সিলসিলা আমার সেদিন থেকে জারি হয়ে গেলো।
.
তখন থেকে পরীক্ষার হলে নিজেকে  সামলিয়ে নেই যখন স্যার বলে উঠে যে, "যে দেখাবে তার খাতা আগে নিয়ে নিবো।"
.
.
~সমাপ্ত~
.
.
লিখাঃ আমিম এহসান

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ