āĻŦুāϧāĻŦাāϰ, ⧍⧧ āĻĢেāĻŦ্āϰুāϝ়াāϰি, ⧍ā§Ļā§§ā§Ž

4659

গল্পের নামঃ  "শদেলাংবা"
.
লিখাঃ আমিম এহসান
.
.
"স্যার, সব রেডি। আপনি চাইলেই আমরা এখন  'শদেলাংবা' এ ভ্রমণ করতে পারি।"
"তুমি সব কিছু ঠিকমত দেখে নিয়েছো তো রাফি? আমি চাইনা 'শদেলাংবা' তে ঢুকে আমরা কোনো ঝামেলায় পড়ি।"
"জ্বি স্যার আমি সবকিছু চেক করে নিয়েছি, আশা করি কোনো ঝামেলা হবেনা।"
"আমার ক্যামেরা কই?"
"ওহ নো, স্যরি স্যার। জাস্ট এ মিনিট।"
"শুরুতেই এমন ভোলামনের পরিচয় দিচ্ছো রাফি, 'শদেলাংবা' তে ঢুকলে তো তুমি নিজের নামটাও ভুলে যাবে বুঝি।"
"স্যরি স্যার, এই যে ক্যামেরা, সাথে নিয়ে নিলাম।"
.
'শদেলাংবা' নামক টাইম মেশিনটার সামনে এতক্ষণ ড. আমু আর তার এসিসট্যান্ট রাফি এর মধ্যে কথা গুলো হচ্ছিলো। মূলত টাইম মেশিনটাতে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা।
.
দীর্ঘ দেড় বছর পর এমন একটা আধুনিক যন্ত্র আবিষ্কারে সক্ষম হয়েছেন ড. আমু।  আর এর পিছনে এসিসট্যান্ট রাফিরও কম অবদান নেই, যদিও সে একটু ভোলামন টাইপের। 'শদেলাংবা' ছোট খাটো একটা কারের মত যার চতুর্পাশে বেশ কিছু সি পি ইউ, থ্রিডি মনিটর, অপটিক্যাল ফাইবারের ছড়াছড়ি, আর দুটো সিট ইত্যাদি। পুরো যন্ত্রটার প্রবেশদ্বারে সুন্দর করে লিখা 'শদেলাংবা'।
.
টাইম মেশিনটার এমন নামকরণে ড. আমু আর রাফিকে কম চিন্তা ভাবনা করতে হয়নি! যেহেতু এই টাইম মেশিনে কেবল বাংলাদেশের অতীতে যাওয়াই সম্ভব তাই বাংলাদেশ শব্দটা উল্টিয়ে যন্ত্রটির নামকরণ করা হয়েছে 'শদেলাংবা'।
.
আজ স্বাধীনতার প্রায় একশতাধিক বছর হয়ে গেলো। জন্মসূত্রে বাঙালীর সংখ্যাও বেহিসাবি। কিন্তু বাঙালী হয়েও বাংলাদেশের ইতিহাস কেউ সঠিকভাবে জানেইনা। ভারত উপমহাদেশ এর সময়কাল থেকে ভারত বিভাগ,বঙ্গভঙ্গ, ভাষা আন্দোলন, অন্যান্য আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ সহ বাংলার অনেক নবাবের কথা আবার একুশ শতকের উন্নয়ন ইত্যাদি সবাই ভুলেই গেছে। আর অত্যাধুনিক এ যন্ত্রপাতির যুগে বই,ইবুক ঘেটে এই বিরক্তিকর জ্ঞান আহরণ করতে কারোর ভুল করেও ইচ্ছে করেনা।
.
কিন্তু বাংলাদেশের নাগরিক তথা বাঙ্গালী হয়ে বাংলাদেশ সম্পর্কে জানা তো অতি জরুরি। আর এসব বিবেচনা করেই দেড় বছর নানান হিসাব নিকাশ আর গবেষণা আর অত্যাধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সংমিশ্রণ ঘটিয়ে ড. আমু একটা টাইম মেশিন তৈরি শেষ করেছেন যার নাম হলো 'শদেলাংবা'। আর আজই এই টাইম মেশিনে ড. আমুর প্রথম যাত্রা।
.
.
ড. আমু আর রাফি 'শদেলাংবার' সিটে নিয়ম অনুযায়ী বসে পড়লেন। কিবোর্ড দিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে দিতে ড. আমু রাফিকে উদ্দেশ্য করে বলতে লাগলেন,
.
"রাফি বলো, বাংলাদেশের কোন ইতিহাস তুমি জানতে চাও, নিজের চোখে দেখতে চাও?"
"স্যার, ভাষা আন্দোলন না হয় মুক্তিযুদ্ধ।"
"বাহ! আচ্ছা ঠিক আছে আমি ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন এর নির্দেশ দিচ্ছি।"
.
আর মাত্র কিছুক্ষণের মধ্যেই ড. আমু আর রাফি বর্তমান সময় থেকে একশত সাতান্ন বছর আগে ঘটা ভাষা আন্দোলন দেখতে পাবে। এটা ভেবে দুজনই একবার চাঞ্চল্য মনে চোখাচোখি করে আঁচ করতে লাগলো যে সামনে কি ঘটতে যাচ্ছে। কিন্তু মেশিনটা অল্প একটু সাউন্ড করে খট করে অফ হয়ে গেলো। দুজনরেই মুখ মুহূর্তেই ফ্যাকাশে হয়ে এলো। যান্ত্রিক ত্রুটির জন্য তারা তাদের সম্ভাব্য ঘটনাতে যেতে পারলনা। কয়েকবার ট্রাই করে দেখা গেলো বারবার 'সামথিং ওয়েন্ট ইরোর' দেখাচ্ছে মনিটর।
.
মিনিট কয়েক চিন্তাভাবনা করে ড. আমু রাফিকে জিজ্ঞেস করলো,
.
"আচ্ছা রাফি আজ কত তারিখ?"
"স্যার,  ১৬-০২-২১০৯।"
"উহু, বাংলা তারিখ কত?"
"আ. আ. স্যার, ওয়েট, বলছি।"
"উহু, হারি আপ।"
"স্যার আজ ৫ ই ফাল্গুন ১৫৭৯। "
"হি হি হা হা,  রাফি তুমি রেডি তো?"
"স্যার হ্যা, আই এম রেডি।"
.
অতঃপর 'শদেলাংবা' তে ড. আমু '৮ ই ফাল্গুন ১৩৫৮' এর নির্দেশ দিলো। ধীরে ধীরে দুজনরেই চোখ বন্ধ হয়ে আসতে শুরু করলো। ধীরে ধীরে দুজনই অচেতন।
.
.
.
জ্ঞান ফেরার পর দুজনে নিজেদের একটা ভিড়ের মধ্যে আবিষ্কার করলো। স্লোগান আর কয়েকজনের হাতের প্লাটুন দেখে ড. আমুর বুঝতে বাকি রইলোনা যে তারা ভাষা আন্দোলনের ছাত্র মিছিলে ঢুকে পড়েছেন। এমন সময় পুলিশের কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপের কারণে কিছু ছাত্র ঢাকা মেডিকেল কলেজের দিকে ছোটাছুটি করে চলে গেলো আর।  আর ড. আমু আর রাফি অনেকগুলো ছাত্র সহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন কলাভবন প্রাঙ্গনে আটকা পড়ে যায়। কিছুক্ষণ পর সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হলে সবাই বের হওয়ার চেষ্টা করে আর সাথে সাথে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করা শুরু করে।
.
ড. আমু রাফিকে কিছু ছবি তুলতে বলে কিন্তু রাফি ক্যামেরা চালু করে দেখে ক্যামেরা কাজ করছেনা।
.
কিছু মানুষ মাঝে মাঝে ড. আমু আর রাফির দিকে তাকাচ্ছে, ড. আমুও মাঝে মাঝে তাকাচ্ছেন। এমন সময় বেশ কয়েকজন সহ দুজনই পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেন।
.
সবার থেকে এই দুজনকে অন্যরকম দেখতে পেয়ে পুলিশ খুব সন্দিহান চোখে নজরদারি করছেন। কিন্তু এরকম সহিংসতায় আর ভয় ভীতির জন্য এসব বিষয় কেই আমলেই নিচ্ছেনা। এই দুটো মানুষ যে টাইম মেশিনের সাহায্যে এ সময়ে এসেছে এ বিষয়টাও কারো খুতিয়ে দেখার সময় নেই, তবে এ বিষয়টা ড. আমুর কাছে ভালই লাগছে।
.
কি থেকে যে কি হলো, পুলিশ তাদেরকে তেজগাঁও এলাকায় ছেড়ে দিলেন। চারিদিকে থমথমে ভাব, ভয় ভীতির ছাপ।
.
সময় প্রায় দুপুরের মত হবে, কিছু লোক এর সাথে ড. আমু আর রাফি এগিয়ে চলছেন। সবার কথা শুনে বুঝতে পারলেন সবাই আইনসভার দিকে যাচ্ছেন। এমন সময় গুলির শব্দে সবাই দিক বিদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়লো।
.
কিছুক্ষণের মধ্যে খবর পাওয়া গেলো, পুলিশের গুলিতে রফিক, সালাম, বরকত,জব্বার, অহিউল্লাহ সহ অনেকে নিহত হোন।
.
.
.
'শদেলাংবা' তে ভ্রমণের আজ দ্বিতীয় দিন ড. আমু আর রাফির।
.
৯ই ফাল্গুন বেলা দশটা হবে প্রায়,  গতকালে নিহত হওয়া লোকদের জানাযায় অংশগ্রহণ করলেন দুজনে। এরপর হাজার হাজার লোকের একটা বিক্ষোভ মিছিল কার্জন হলের দিকে এগিয়ে যায়। কিছু সময় যেতে না যেতে এই মিছিলেও পুলিশ গুলি বর্ষন শুরু করে,  এতেও অনেকজন সাথে সাথে নিহত হয়।
.
১১ই ফাল্গুন ড. আমু আর রাফি অনেকের সাথে দাঁড়িয়ে আছে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ব্যারাক হলের এক প্রান্তে যেখানে তৈরি করা হয়েছে ১০ ফুট উচু আর ৬ ফুট চওড়া একটা শহীদ মিনার। কিছুক্ষণের মধ্যেই ৯ই ফাল্গুন এ শহীদ হওয়া শফিউরের বাবা শহীদ মিনার উদ্বোধন করলেন। যেখানে লিখা ছিলো "শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ"।
.
.
রাফি বলে উঠলো, "স্যার আর মাত্র কয়েক মিনিট আমরা এখানে থাকতে পারবো, আমাদের 'শদেলাংবা' এর প্রথম ভ্রমণ কিছুক্ষণের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে স্যার।"
.
ড. আমু কিছু না বলে চোখের পানি দিয়ে গন্ডদেশ ভিজিয়েই চলেছেন।
.
"স্যার আমাদের সময় শেষ, স্যার।"
.
রাফি তার স্যারকে ছুঁতে যাবে এমন সময় দুজনেরই চোখ বন্ধ হয়ে আসে, আর ধীরে ধীরে  দুজনই অচেতন হয়ে পড়লো।
.
.
~সমাপ্ত~

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ