গল্পঃ "অপেক্ষা"
লিখাঃ আমিম এহসান
.
.
বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান রীতিমতো শুরু হয়ে গেছে। অনেক সাধনা আর যুদ্ধের পর একটা সিট পেয়ে বসে পড়লাম বন্ধুদের কথা না ভেবেই। খুব ভাল লাগলো যখন দেখি আমার বাম পাশে একটি মেয়ে। শুধু মেয়ে বললে ভুল হবে, একটি সুন্দরী মেয়ে চশমা চোখে গালে হাত দিয়ে বসে আছে। ফর্সা হাতে হাতঘড়িটাও মানিয়েছে খুব। আমার মনোযোগ অনুষ্ঠান থেকে পুরোপুরি সরে গিয়ে নাম না জানা মেয়েটার দিকে স্থির হলো। মেয়েটার সাথে একটুখানি কথা বললে মন্দ হতোনা, কিন্তু সাহস পাচ্ছিলাম না। আশেপাশে সাহসের খোঁজ করে যখন ব্যর্থ হলাম তখন গালে হাত দিয়ে ঠিক মেয়েটার মত বসে রইলাম।
.
কয়েক সেকেন্ড নাগাদ মেয়েটা গাল থেকে হাত সরিয়ে ঠিকঠাক হয়ে বসলো। আড়চোখে আমাকে একটু দেখে নিয়ে আবার অনুষ্ঠানের দিকে মনোযোগ দিলো। দেশাত্মবোধক একটা গানের নৃত্য হচ্ছিলো বুঝি!
.
আমি নিজেও ঠিক হয়ে, একটুখানি সাহসের সঞ্চার করে মেয়েটাকে বললাম, "কয়টা বাজে?"
.
জায়গাটা কোলাহলপূর্ণ হওয়ায় আমার কথা বুঝি তিনি শুনতেই পাননি, তাই আবার বললাম, "কয়টা বাজে?"
.
এবার উত্তর আসলো, "আপনার হাতেই তো ঘড়ি আছে।"
বড় রকমের বোকা বনে যাওয়ার দরকার ছিল আমার কিন্তু আমি হলাম না, সুন্দর করে জবাব দিলাম, "আপনার সময়ের সাথে মিলিয়ে নিতাম একটু..."
.
মেয়েটা মুখটা কিঞ্চিত বিকৃত করে বললো, "মানে?"
.
আমি বললাম, "আপনার ঘড়ির সময়ের সাথে আমার ঘড়ির সময়টা মিলিয়ে নিতাম।"
.
আরো দু চারটা কথা বলে, সময় মিলিয়ে নেওয়ার কারণ টা বললাম। সেটা শুনে সে তো হেসেই খিল খিল। অনুষ্ঠানের দিক থেকে তারও মনোযোগটা আমার দিকে পুরোপুরি সরে এসেছে। হেসে হেসে আরোও দু চারটা কথা বলতে আশেপাশের লোকজন আমাদের অষ্টমাশ্চার্য এর মত দেখতে লাগলো। তাই আমরা বের হয়ে একটু কোলাহল শূন্য জায়গায় এসে দাড়ালাম।
.
পরিচয় পর্ব সেরে নিলাম। মেয়েটার নাম প্রিয়ন্তী। আমার থেকে প্রায় চার বছরের জুনিয়র। তার হাসির মাঝে আমি আমাকে পুরোপুরি বিসর্জন দিয়ে দিলাম। ফোন নাম্বার নিতে চাইবো এমন সময় কোথা থেকে আমার সুবোধ বন্ধুদের উদয়, "তুই এখানে ডেটিং মারোস, আর তোরে আমরা খুইঁজা মরি।"
.
আমি হাসিমুখে কিভাবে যে তখন রাগকে কন্ট্রোল করছিলাম তা নিজেও জানিনা। আমিই এবার দূরে, বন্ধুরা কয়েকজন প্রিয়ন্তির সাথে তুমুল পরিচয় আলাপ শুরু করে দিলো। প্রিয়ন্তি আমার এ অবস্থা দেখছিলো আর মুচকি মুচকি হাসছিলো সেটা অবশ্য আমার চোখ এড়ায়নি।
.
এমনটা করতে করতে যে যার মত অনুষ্ঠান শেষ করে বাসায় ফিরলাম। কিন্তু আমার বড় আফসোস প্রিয়ন্তির ফোন নাম্বারটা নিতে পারিনি। ফিরার পথে বন্ধুদের উচ্চবিত্ত গালি দিচ্ছিলাম আর ওরাও কম না, আমার গালির রিপ্লাইও ভাল করেই দিচ্ছিলো।
.
আমার রাতের ঘুম হারাম হলো। মেয়েটা যে এলাকায় থাকে আর যেখানে পড়ে সেটা ছাড়া আর আমি কিছুই জানিনা। এই দুইটা ক্লু নিয়ে একজনকে খুঁজে পাওয়া যে অনেক কঠিন! কি করি কি করি!!!
.
ফেসবুকে সার্চ দেওয়ার পর এত প্রিয়ন্তি আমার জীবনে স্যরি আমার ফোনে আসবে তা ভাবতেও পারিনি। সেদিন বুঝেছিলাম যে পৃথিবীটা যতটা না কঠিন তার থেকে কঠিন হলো পছন্দের মানুষগুলোকে কাছে পাওয়া।
.
.
শেষ রাতে আশাহত হয়ে ঘুমে যখন ঢুলু ঢুলু তখন একটা আননোন নাম্বার থেকে ফোন আসলো, সবার মত আমিও ভাবলাম এটাই বুঝি প্রিয়ন্তি, ফেসবুক থেকে নাম্বারটা নিয়েছে বুঝি, কিন্তু না। আশার মুখে কল দিয়ে আমায় ফোন করেছেন জ্বীনের বাদশাহ। মেজাজটা খুব করে একদম ঠান্ডার বিপরীত হয়ে গেলো।
.
.
পরেরদিন অবশ্য আমার সবচেয়ে সুখের দিন হলো। কেননা প্রিয়ন্তীকে ফেসবুকে খুঁজে পেয়েছি আর এক ঘন্টার মত ফোনালাপ ও সেরে ফেলেছি।
.
তারপর আর কি! ধীরে ধীরে আমার জিন্দেগিতে তার আনাগোনা।
.
রেষ্টুরেন্টের টেবিলে দুজনে সামনাসামনি গালে হাত দিয়ে বসে আছি, ঠিক প্রথম দিনের মত। চোখে আমাদের অজস্র স্বপ্ন আর সামনে চলার প্রতিশ্রুতি।
.
এমন একটা মধুর সময় জলাঞ্জলি দিয়ে আমাকে জরুরী একটা কাজের জন্য চলে যেতে হলো। প্রিয়ন্তি একটু কেমন কেমন করছিলো, আমি রাতে দেখা করার কথা বলতেই সে আবার আগের মত চঞ্চল হয়ে হেসে দিলো।
.
.
.
সন্ধ্যার দিকে প্রিয়ন্তির ফোন।
"আচ্ছা আমু, তুমি আমার সাথে রাতে দেখা করবে কিভাবে?"
.
আমি আমতা আমতা করে জবাব দিলাম, "আমি তো তোমার বাসাতেই, গেস্টরুমে।"
.
প্রিয়ন্তি "মানে মানে?" করতে করতে গেস্টরুমে দৌড়ে আমার সামনে আসলো। তার চোখমুখে অবাক, ভয় আর খুশি সবই একসাথে কাজ করছিলো। সে আমাকে টেনে ছাদে নিয়ে গেলো।
আসলে প্রিয়ন্তি জানতোনা যে তার বাবা মার সাথে আমি অনেক আগে থেকেই লাইন ক্লিয়ার করে রেখেছিলাম।
.
ছাদে নিয়ে গিয়ে প্রিয়ন্তির কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হলো। তার প্রথম প্রশ্ন, "তুমি এইভাবে আমায় সারপ্রাইজ দিলে কেনো? আমি তো খুশিতে মরে যেতেই ধরেছিলাম।"
.
আমি কিছু বলতে যাবো, তার আগেই সে আমাকে কয়েক সেকেন্ডের একটা সারপ্রাইজ দিয়ে দিলো। এমন সারপ্রাইজে আমি বড় শকড খেয়ে গেলাম। তার বাবা মাকে আমি কিভাবে ম্যানেজ করেছি সেটা জানতেও চাইলোনা। প্রিয়ন্তির এমন ভালবাসা দেখে সেদিন আর নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারিনি দৌড়ে বাড়ি চলে এসেছি। ভেবে চলেছি শুধু আমার প্রিয়ন্তির কথা।
.
এরপর আমাদের প্রেম উড়াধুরা ভাবে চলতে লাগলো। প্রতিটাক্ষণ একে অপরের ভাবনায় বিভোর থাকি আর স্বপ্ন দেখি সুন্দর একটা ভবিষ্যতের।
.
তাই এখন শুধু অপেক্ষার, প্রিয়ন্তির আঠারো বছর হবার।
.
.
.
~সমাপ্ত~
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ