āĻŦুāϧāĻŦাāϰ, ⧍⧧ āĻĢেāĻŦ্āϰুāϝ়াāϰি, ⧍ā§Ļā§§ā§Ž

4644

গল্পঃ "বিজয়"
লিখাঃ আমিম এহসান
..
..
কলের পাড়ে গোসল করছিলাম এমন সময় মা চিৎকার করে ডাকতে ডাকতে বললো, "আমু, রাজা তোর কাগজ পত্র সব খেয়ে ফেললো।" কথাটা শুনে মাথায় বাজ পড়লো। ভেজা গায়ে ছুটে এসে ধমক দিতে দিতে রাজার মুখ থেকে সদ্য চিবানো কাগজ উদ্ধার করলাম। আমার গল্পের দুটো পাতার বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে ছাগল ব্যাটা। রাগের সাথে সাথে মনটাও খারাপ হলো চরমভাবে।
..
আসলে রাজা আমাদের বাড়ির খাসি ছাগলটার নাম। যে কিনা সারাক্ষণ বাড়ির আনাচে কানাচে আর এঘর ওঘর ঘুরে বেড়ায়। সকালের রোদে একটা চেয়ার আর একটা টেবিল পেতে গল্প লিখতে বসেছিলাম, প্রতিযোগিতার গল্প। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে আয়োজিত গল্প লিখা প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল যৌতুক। অনেক কষ্ট করে চার পৃষ্ঠার একটা প্রবন্ধ টাইপের গল্প লিখেছিলাম কিন্তু ফইন্নি রাজা, খাওয়ার জন্য আমার গল্পের পাতা ছাড়া আর কিছু খুঁজে পেলনা।
..
কত যত্ন করে লিখেছিলাম। কিন্তু কি আর করার, রাজা বাদশাহ-র কাজ, তাই কয়েকটা গালি আর জবাই করার হুমকি দিয়ে ক্ষান্ত হলাম। ফ্রেস হয়ে  দ্বিতীয় বারের হাতের লেখা প্রথমবারের মত করার বৃথা চেষ্টা করলাম, হলোও কিছুটা। পরের দিন গল্প জমা  দিলাম।
..
পনেরো দিন পর রেজাল্ট পেলাম। আমার গল্পের কাগজ কয়টা আমার রাজা খেয়ে ফেললেই বুঝি ভাল হতো। এত আবেগ আর উপযুক্ত ভাষা দিয়ে একটা গল্প লিখলাম সেটা কিনা ডিসকোয়ালিফাই হয়ে গেল। রাজাকে কাছে ডেকে ব্যাপারটা বুঝালাম, হাসার বদলে রাজাও বুঝি আমার সাথে একটু মন খারাপ করলো।
..
স্কুলের এক গল্প লিখা প্রতিযোগিতায় চতুর্থ হয়েছিলাম, এর থেকে আঁগাতে আর কখনও পারিনি। আমার অনেক ট্রাজেডি গল্প পড়ে রাজাও কেঁদে ফেলেছে কিন্তু কোনো বিচারকের মনকে কাঁদাতে পারিনি। ছোট থেকে ইচ্ছে আমার আমি বড় হয়ে লেখক হব, বড় মাপের সাহিত্যিক হবো কিন্তু আমার লেখনী আমার রাজার মুখ পর্যন্তই গিয়েছে পেট পর্যন্ত আর যায়নি।
..
মা ভাত খেতে ডাকলো, গেলাম, কিন্তু খেতে পারছিলাম না। যখন ছোট ছিলাম তখন এই রকম ঘটনার জন্য যে কতটা মন খারাপ করতে হয় সেটা বুঝতাম না। কিন্তু এখন সব বুঝি; তাই মন খারাপের পরিমাণটাও কমিয়ে রাখতে পারিনা, মন খারাপটা অশ্রুজলের সাথে বের করা ছাড়া থামতে পারিনা।
..
অনেক রকম ছোট গল্প আর গুটিকয়েক কবিতার মাঝে কখন যে দুটো উপন্যাসও লিখে ফেলেছিলাম বুঝতেই পারিনি। আমার লিখা প্রথম উপন্যাসটির নাম ছিলো "বিজয়" যার অবস্থান আমার তিনশ পেজের কালো ডায়েরীর সমস্তটা জুড়ে।
..
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বিতরণীর দিন কথা হলো এক লোকের সাথে যিনি নাট্যসমিতির একজন নামীদামী সদস্য। আমার মত কতজনের বই প্রকাশ করে তিনি নাকি অনেক উপরে উঠিয়ে দিয়েছেন, কিন্তু আমাকে যে তিনি কতটা উপরে উঠিয়েছেন সেটা বুঝতে পেরেছিলাম কিছুদিন পরেই। উনার কথায় গলে গিয়ে আশার আলো দেখতে খুব একটা দেরী করলাম না। উনি আমার উপন্যাসের পান্ডুলিপি নিয়ে পরের সপ্তাহে দেখা করতে বললেন। তার সাথে দুই মাস  দেখা করতে করতে জুতার তলা ক্ষয় করে ফেলেছি কিন্তু কিছু লাভ হয়নি, তবে তিনি আমার লাভের আশ্বাস দিলেন তার লাভ কামনা করে।
..
বাড়িতে এসে রাজার গলা ধরে কাঁদলাম খুব, পরিবারের যে অবস্থা, রাজা ছাড়া এই মুহূর্তে অন্য কেউ আর আমার উপকার করতে পারবেনা। কিন্তু রাজা আমার উপকার করলেও সেই লোক আমার উপকার করতে পারেনি বাংলা বাজারের এক প্রকাশনীর ঠিকানা দেওয়া ছাড়া। হাসির কথা হলেও এটা সত্য যে স্বপ্নে রাজাকে দেখে বেশ কয়েকদিন আমি চিৎকার করে উঠেছিলাম।
..
মনে মনে ভাবতাম আমার প্রথম উপন্যাস "বিজয়" কোনোভাবে প্রকাশিত হলেই তো আমার কপাল খুলে গেলো। কিন্তু কপাল আর খুলেনি বরঞ্চ কপালে ভাঁজের সংখ্যা বেড়েছে। বাবা মা অনেক করে বলছিলো বই বের করা নিয়ে দৌড়াদৌড়ি না করে একটা চাকরী খুঁজতে। কিন্তু মনের তৃপ্তি যে আমার গল্প লিখায়, স্বপ্ন যে আমার লেখক হওয়ার সেটা বুঝাই কি করে!
..
পরিচিত এক লেখক স্যারকে ধরেছিলাম, পান্ডুলিপিটাও পড়তে দিয়েছিলাম, কিন্তু তিনি তার নিজেরি সংকটাপন্ন অবস্থার কথা বলে আমাকে বিষাদবদনে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন সেদিন। কিন্তু লেখক সাহেবের পরের এক গল্পে আমার "বিজয়" উপন্যাসের প্রতিফলন ঘটিয়ে হাজারো পাঠকের মন জয় করে নিয়েছিলেন নিমিষেই। তাই আমার "বিজয়" এর বিজয়ের পালা পড়া হয়নি কখনও আর। রাজা থাকলে পান্ডুলিপিটি তার সামনে তুলে ধরে চিবাতে বলতাম, বুঝিয়ে বললে সে আচ্ছা করে চিবিয়েও দিতো আমি নিশ্চিত।
..
বই প্রকাশের ব্যাপারগুলা বিভিন্ন জনের কাছে জানতে লাগলাম, শুনতে লাগলাম অনেক কিছু। কিন্তু ওই যে সব কিছুর মূলভাব টাকা। টাকা ছাড়া কিছুই হয়না। খরচাপাতি না করে কি আর লেখক সাহেব ডাকটা শোনা যায়!
..
ভাবছিলাম গোঁপালভাড়ের মত আমার রাজাকে কাতুকুতু দিলে যদি সোনার মহর পড়তো, সোনার মহর নয় অন্তত পাঁচ টাকার কয়েন পড়লেও এতদিনে শেলফ ভর্তি আমার নিজের লিখা বই থাকতো।
..
অনেক ভাবলাম, ভেবে চিন্তে ছোট একটা চাকরী নিলাম। খুব অল্প বেতনের। দিন চলছে কোনো মতন, আমার ডায়েরী, গল্প আর নানান রকমের কল্পনা ছাড়া।
..
অনেকদিন পর আলমারি খুঁজে আমার দ্বিতীয় উপন্যাস "মুকুট" এর ডায়েরীটা বের করলাম। ঝেড়ে মুছে তৃপ্তি নিয়ে পুরোটা পড়লাম। হটাৎ মাথায় উচ্চ প্রবৃত্তির একটা ভাবনা এলো। সাদা কাগজ আর পেন্সিল নিয়ে "মুকুট" এর প্রচ্ছদ আঁকতে শুরু করলাম। প্রায় এক ঘন্টা ধরে আঁকিবুঁকির পর মাকে দেখাতে দেখাতে বললাম, "মা দেখো আমার উপন্যাসের মলাট টা এমন হবে, কেমন হয়েছে মা?"
..
মা চশমার মধ্য দিয়ে দেখতে পেলো, একটা ছাগলের মাথায় সুন্দর একটা মুকুট।
..
মা বললো, "এটা তোর রাজা নাকিরে?"
..
রাজাকে মা চিনতে পারায় নাকি অন্য কোনো কারণে অশ্রু সংবরণ করতে না পেরে মাকে জড়িয়ে চিৎকার করে কেঁদে ফেললাম। বুকের মধ্যে পুষে রাখা সব কষ্ট, অতৃপ্তি আর ব্যথাগুলো সব মায়ের আঁচলে ঢেলে দিলাম। বলতে লাগলাম, "মা আমি রাজার মত চলে গিয়ে বিজয়ী হব, তৃপ্ত হব, শান্তি পাব।"
..
..
~সমাপ্ত~
..
..

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ