গল্পঃ "বিয়ে"
লিখাঃ আমিম এহসান
.
.
শীতের ছুটি পেয়ে বাসায় এসেছি কয়েকদিন হলো।
কিন্তু সবার মুখে একই কথা শুনে শুনে আবার কর্মস্থলে দৌড়ে ছুটে যেতে ইচ্ছে করছে। যার সাথেই দেখা হচ্ছে সেই বলছে, "কিরে বিয়ে কবে?" কেউ বলছে, "পাত্রী কি এখনও পছন্দ হয়নি?" আবার কেউ বলছে, "বউ কি রেখে যাবি নাকি সাথে নিয়ে যাবি?"
ছুটিতে এসেছি একটু নিজ জন্মস্থানের হাওয়া খেতে, মায়ের হাতে বানানো পিঠা খেতে তা না,এসব বাদ দিয়ে সবারই ওই একই কথা "বিয়ে আর বিয়ে"।
.
আমি মেজাজ ঠান্ডা করে রাখি, কারোর কথার উত্তর দেইনা। কেননা উত্তর দিলে প্রশ্ন বাড়বে ঠিক ভাইবা বোর্ডের মতো। এমনি এক সন্ধ্যায় মাফলার দিয়ে খুব ভালভাবে গলা, কান আর মুখ ঢেকে পাশের চায়ের দোকানে গেলাম। আমার প্রতিবেশী এক দাদু দেখি ওখানে আগে থেকেই সাদা ধোয়ার কারখানা চালু করেছে।
.
আমি ভেবেছিলাম আমাকে চিনবেনা, কিন্তু ভাল করে না দেখেই তিনি বলতে লাগলেন, "কিরে আমু, শুনলাম তুই নাকি বিয়ে করার জন্য এসেছিস? শোন এই শীতে বিয়ে করার মজাটাই আলাদা, তোর দাদীর সাথে আমার বিয়েটা হয়েছিলো তো মাঘ মাসেই।"
.
আমি বলতে চাইলাম, "না মানে দাদু...।"
.
দাদু আমাকে থামিয়ে বলতে শুরু করলেন, "শোন, গ্রামের একটা প্রবাদ আছে, 'মাঘের জাড়ে, বাঘের দাঁত নড়ে' আর সেই জারে আমি খাট নড়াতাম।"
.
এই বলে তিনি এমন হাসি শুরু করলেন যে আমার আর কোনো ইয়ার্কি দেখার ইচ্ছে হলোনা।
.
.
পরদিন সুন্দর রোদ ওঠায় বাইরে বের হলাম। কয়েকজন বন্ধুর সাথে দেখা করলাম। বান্দরের দলেরা আবার ফেসবুকে আমার অফিসের এক অনুষ্ঠানের ছবি দেখিয়ে আমার মেয়ে কলিগদের খুব করে প্রশংসা শুরু করলো আর বলতে লাগলো, "ওখানে পাখি রেখে এসেছিস তাই এখানে বিয়ে করতে চাইছিস না, তাই নারে আমু?"
.
আমি "ধুর সোনালি আঁশ" বলে চলে আসলাম। আসলে বাড়িয়ে কথা বলা আমার একদমই পছন্দ না।
.
ধীরে ধীরে হাটতে লাগলাম। আমার দিকে পরিচিত কেউ একজন আসছে বলে মনে হলো। আরো কাছে আসায় বুঝতে পারলাম এ যে রিয়া। কিন্তু এত স্লিম একটা মেয়ে ছোট্ট একটা হাতির বাচ্চা কি করে হলো! কি হতে কি! কিছুই মাথায় ঢুকলোনা। পরে বুঝতে পারলাম যে, গুরুজনেরা সাধেই আর বলেনা , "বিয়ের পানি পেলেই মেয়েরা মোটা হয়ে যায়।" তবে মোটা হলেও কি হবে রিয়ার সৌন্দর্য্য ঠিক আগের মতই আছে।
.
আসলে রিয়া আমার কলেজ ফ্রেন্ড ছিল। আর এই রিয়াকেই আমি আমার প্রথম এবং লাস্ট প্রপোজটা করেছিলাম, যেটা তিনদিন পেন্ডিং থেকে রিজেক্ট হয়েছিলো। যাই হোক ইতিহাসের পাতা উল্টিয়ে লাভ নাই। বর্তমানে ফিরে আসা যাক।
.
ভাল করে দেখে শিওওর হওয়ার পর দুজনকে দুজনকে একই সাথে বললাম, "তুই?"
সে কি জানি ভেবে বললো, "তোর একটু সময় হবে? একটু কথা বলতাম।"
আমি তো ভয় পেয়ে গেলাম, সাত বছর আগে যে মেয়ে আমাকে পাত্তাই দিতোনা আর এখন সে আমার কাছে সময় চেয়ে নিচ্ছে, বিপদ আপদের লক্ষণ নয়তো আবার।
.
পাশের ছোট্ট একটা রেস্তোরায় বসে ঘন্টাখানেক গল্প করে রিয়ার এত্তগুলা কথার মূলভাব বুঝতে পারলাম যে, তার ছোট বোন দিয়া এবার এইচ এস সি পাশ করেছে, বিয়ের বয়সও হয়েছে নাকি, আর আমি এখন ভাল চাকরী করছি, ভাল স্যালারী পাচ্ছি, আবার দেখতে শুনতেও ভাল। আমার মত একটা বোন জামাই পেলে তিনি নাকি ধন্য হবেন ইত্যাদি ইত্যাদি।
.
মেজাজটা খারাপ হয়ে গেলো। মনের কথা চিৎকার করেই বলে ফেললাম, "শালি এই কথা তুই সাতবছর পরে বুঝলি?"
.
সে তো অবাক, আশেপাশের মানুষও আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। সে বললো, "কি বলছিস তুই আমু? মাথা ঠিক আছে তো?"
আমি পরিস্থিতি ঠান্ডা করার জন্য বললাম, "আসলে বউয়ের বড় বোনকে যে কি বলে সম্বোধন করতে হয় সেটা ভুলে গেছিলাম তাই শালি বলেছি, তুই মাইন্ড করিস নি তো?"
.
রিয়ার মুখে হাসি ফুটে উঠলো। আমার অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমাকে সে তাদের বাসায় নিয়ে গেলো তার ছোট বোন দিয়াকে দেখাতে। আমি ভাবলাম রিয়ার বোন আর কেমন হবে! রিয়ার মতনই হবে। কিন্তু না! দিয়াকে দেখো তো আমার চোখ ছানাবড়া। রিয়ার থেকে অনেক সুন্দরী। মনে মনে বললাম, "রিয়ার বাবা মা এদের দুই বোনকে কি খেয়ে পয়দা করেছেন?"
.
এ কথা ভাবতেই আমার পয়দা করণেওয়ালা আম্মুর ফোন, "আমু? তুই এটা ঠিক করেছিস? বল দেখি?"
অপ্রত্যাশিত ধমকে আমি আমতা আমতা করে বললাম, "কি করেছি আমি?"
.
আম্মু আরোও দুইটা ঝাড়ি দিয়ে বললো, "তুই নাকি একাই মেয়ে দেখতে গেছিস? বিয়ের কথা বললেই তো রাগে গজগজ করতিস, আর এখন একাই লেজ তুলে মেয়ে দেখতে গেলি? তা আমরা কি আংটি নিয়ে আসবো?"
.
আমি মাথা ঠান্ডা রেখে আম্মুকে জিজ্ঞেস করলাম, "তোমাকে এই খবরটা কে দিলো মা?"
.
আম্মু রাফির কথা বললো, রাফি নাকি আমাদের ফলো করে সব খবরাখবর নিয়েছে। আমি মনে মনে রাফিকে "বিদেশী কুত্তা" বলে গালি দিলাম।
"এমন কিছুইনা, আমি আমার এক বান্ধবীর বাসায় বেড়াতে এসেছি আম্মু।" এই বলে ফোন রাখতে চাইলাম ওমনি সময় আম্মু বলে উঠলো, "হ্যা হ্যা তোর বান্ধবীরই নাকি ছোট বোন?"
.
আমি আস্তে করে বললাম "আম্মু, আরেকটা কথা বললে আমি এদিক দিয়ে সোজা চিটাগাং চলে যাবো।"
.
.
.
ক্ষণিক আনুষ্ঠানিকতায় রিয়া তার বোনের সমুদয় বৈশিষ্ট্য সুন্দর করে আমার উদ্দেশ্যে তুলে ধরলো। আমি মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে দিয়ার রূপ দেখতে লাগলাম এবং তার গুণ শুনতে লাগলাম। এই মেয়েকে শীতকাল কেনো যে কোনো ঋতুতেই এক পায়ে বিয়ে করা যায়।
.
রিয়াদের বাসার অন্যান্য সদস্যরা এসে হবু জামাইর নুরানি চেহেরা দেখতে লাগলো, এমন সময় আমি দাঁড়ালাম। সবার উদ্দেশ্যে হাসিমুখে একটু জোরেই বলে উঠলাম, "মেয়ে আমার পছন্দ হয়নি।"
.
সবাই অবাক এবং নির্বাক। রিয়া নিরবতা ভেঙে বললো, "তুই কি ফাযলামি করছিস আমু?"
.
আমি সুন্দর করে উত্তর দিলাম, "আমি তোর বোনকে বিয়ে করতে পারবনা রিয়া,আই এম স্যরি।"
.
আমি বের হয়ে আসলাম, রিয়া পিছন পিছন এসে বললো, "আমু একটু ভেবে দেখতে পারতিস, দিয়া অনেক ভাল মেয়ে।"
আমি বললাম, "রিয়া, সাত বছর আগেকার কথা আমি কিন্তু এখনও ভুলিনি।"
এদিক ওদিক তাকিয়ে রিয়া বলল, "দেখ আমু, অতীতের কথা এখানে টানছিস কেনো? আর তোকে তো একদিন না একদিন বিয়ে করতে হবে নাকি?"
"হ্যা বিয়ে আমি করবো, কিন্তু তোর বোনকে না?" এই বলে চলে আসতে লাগলাম।
রিয়া আবার পথ আটকালো। বলতে লাগলো, "তোর কথা আমি কত শখ করে বাসায় বললাম আর তুই এমন করলি? সাত বছর আগের আর এখনকার অবস্থাটা দেখেছিস তুই? আমার সাথে প্রেম করলে তুই কি এই অবস্থানে আসতে পারতিস? জীবনে মোড় ঘুরে কোথায় যে চলে যাইতিস তার কি কোনো ঠিক ঠিকানা ছিল?"
.
আমি কিছু না বলে তার চোখে চোখ রেখে বলে আসলাম, "আই এম স্যরি"।
.
.
.
বাসায় ঢুকতেই আম্মু জেঁকে বসলো, "কিরে মেয়ে পছন্দ হলো?"
.
বরাবরের মত আমি কিছু না বলেই নিজের ঘরে চলে এলাম।
হা হা জীবনের মোড় আমার এখনও বিয়ের মোড়ের কাছে আসেনি, যেদিন আসবে সেদিন ঠিকই আমি হেসে হেসে গান বলবো "আজ মালা বদল হবে এ রাতে..."
.
.
~সমাপ্ত~
āĻāϞ্āĻĒ āϏংāĻ্āϰāĻš āĻāϰা āĻāĻŽাāϰ āύেāĻļা। āϰোāĻŽাāύ্āĻিāĻ, āĻৌāϤিāĻ, āϰāĻŽ্āϝ, āĻৌāϤুāĻ āϏāĻš āĻšাāĻাāϰো āĻāϞ্āĻĒ āĻāĻে āĻāĻŽাāϰ āϏংāĻ্āϰāĻšে।
āĻŦুāϧāĻŦাāϰ, ⧍⧧ āĻĢেāĻŦ্āϰুāϝ়াāϰি, ⧍ā§Ļā§§ā§Ž
4646
āĻāϰ āĻĻ্āĻŦাāϰা āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰা
Rahathossain1010100@gmail.com
āĻāĻ āϏāĻŽā§ে
⧍:ā§Šā§ AM
āĻāϤে āϏāĻĻāϏ্āϝāϤা:
āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝāĻুāϞি āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ (Atom)
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ