আজকে পাগলীর জন্মদিন
(মস্তিষ্কহীন মানব)
সকালে ঘুমিয়ে আছি এমন সময় ফোনটা কানের কাছে চিল্লাতে লাগলো।এত সকালে কেউ ফোন করেনা কিন্তু আজ কেন ফোন করল?
হাজারো বিরক্তি নিয়ে কার ফোন না দেখেই ফোনটা রিছিব করে কানে ধরলাম।
আমি : হ্যালো কে?
ওপাস থেকে:আবির আপনি এখনো ঘুমাচ্ছেন,
=জ্বী স্যার, জ্বী না স্যার?
অফিসে বসের ফোন।
=তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে অফিসে চলে আসুন।
=কিন্তু স্যার আমারত আজকে ছুটি?
=আমরা আন্তরিক ভাবে দুঃক্ষিত আপনার ছুটিটা আজকে বাতিল করা হলো।আজকে জরুরি মিটিং আছে আপনাকে অফিসে আসতেই হবে।
=জ্বী স্যার
=হুম তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে অফিসে চলে আসুন।
এটুকু বলেই ওপাস থেকে ফোনটা ধপাস কটে কেটে দিলো।
বুঝতে পারছিনা কি করব? আজকে আবার অধরার জন্মদিন।আজকে যদি অফিসে যাই তাহলে নিশ্চিত কপালে দুঃখ আছে, আর যদি না যাই তাহলে চকারিটা যাবে।
তবে একটা বিষয় হলো এখনো অধরাকে আমি উইস করিনি।
ভাবলাম আজকে একটু চমকে দেওয়া যাবে অফিস থেকে ফিরে ওকে উইস করব।
উঠে ফ্রেস হয়ে অধরাকে বললাম খাবার দিতে।
খাবার টেবিলে দেখলাম অধরা মুখ গোমড়া করে বসে আছে।
আমি:কি ব্যাপার কিছু বলবে?
অধরা:তোমারত আজকে ছুটি ছিলো তাও অফিস যাচ্ছো।
=হুম বফ ফোন করেছিলো যেতে হবে।কেন আজকে কি কোন স্পেশাল দিন?
এমন ভাব করছি যেন আমি কিছুই জানিনা।
=নাত এমনি ভাবলাম আজকে তোমার সাথে ঘুরতে যাব।
পাগলীটার চোখ লাল হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে এখনি কেঁদে ফেলবে।
=কি ব্যাপার এরকম পেত্নীর মত মুখ করে রেখেছো কেন?
ও কোন কথা বললনা।
আমি আর কোন কথা বললামনা বেরিয়ে গেলাম।
আমি আবির লেখাপড়া শেষ করে ৬মাস হলো একটা কম্পানিতে চাকরি পেয়েছি।বেতন বেশি না তবুও আমাদের বেশ ভালোই চলে যায়।
আর অধরা হচ্ছে আমার বউ। ৪মাস হলো আমাদের বিয়ে হয়েছে।
আসলে হয়েছে বললে ভুল হবে আমরা পালিয়ে বিয়ে করেছিলাম।আমার বাড়ি থেকে সবাই রাজি ছিলো কিন্তু অধরারবাড়ি থেকে কেউ রাজি ছিলোনা।
কলেজের শেষবর্ষ চলছিলো আমার, আর অধরা প্রথম বর্ষে নতুন ভর্তি হয়েছিলো।
প্রথম দিনই ওকে দেখেই আমার বুকের ভীতর এক অজানা শিহরন খেলে গেছিলো।
তারপর প্রতিদিন কলেজে গিয়ে দুর থেকে দাড়িয়ে ওকে দেখতাম কখনো কাছে গিয়ে কথা বলার সুযোগ হয়নি।হয়নি বলা ভুল হবে কখনো সাহস পায়নি।
একদিন ক্যাম্পাসে বসে ছিলাম আনমনে।হঠাত কেউ যেন আমার পাশে এসে দাড়ালো।
আমি মাথা উপর করে অধরার দিকে তাকিয়েই অবাক।আমার বুকের ভিতর যেন ভুমিকম্প শুরু হয়ে গেছিলো।
অধরা চোখ মোটা মোটা করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।আমি ওর দিকে বেশিক্ষন তাকিয়ে থাকতে পারিনি।
অধরা:আপনি সবসময় আমার দিকে তাকিয়ে থাকেন কেন?
আমি:কই নাতো?
=ওই একদম মিথ্যা বলবেন না?
=(চুপ)
=ভালোবাসেন আমাকে?
ওর কথার কি উত্তর দিব বুঝতে পারছিলাম না।তাই কোন কথা না বলে চুপ করে বসে থাকলাম।
ও আবার বলল,
=যদি ভালোবাসেন তাহলে কালকেই আমাকে প্রপোজ করবেন নাহলে আমাকে আর পাবেননা।
ওর কথা নিজেকে আর ধরে রাখতে পারিনি,
ভালোবাসি সেই প্রথম দেখাতে,
ভালোবাসি প্রতিদিনের চেয়ে থাকাতে,
ভালোবাসে যাব জীবনের শেষ মুহুর্ত
যদি সুযোগ দাও।
অধরা কিছু বললনা মুহুর্তে ওর রাগান্বিত মুখটা লজ্জায় লাল হয়ে গেলো।
এভাবেই চলছিলো আমার খুনশুটি গুলো।
হঠাৎ একদিন খবর এলো অধরার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।আমি বাবা মাকে আগেই বলেরেখেছিলাম আর ওনারা কখনো আমার পছন্দকে অস্বীকার করেননি। তাই সেদিনই পালিয়ে যাই অধরাকে নিয়ে।
এরপর কিছুদন যাওয়ার পর অধরার পরিবার থেকেই মেনে নেয়।
অফিস থেকে বাড়িতে ফিরেই দেখি মা দরজা খুলে দিলো।
প্রতিদিন অধরা দৌড়ে এসে দরজা খুলে দেয়।
আমি:তুমি দরজা খুললে অধরা কোথায়।
মা:ওতো ওর বাবার বাসায় গেছে। বললো ১-২ দিন পর আসবে।তুই ভেতরে আয় হাত মুখ ধুয়ে নে আমি খাবার দিচ্ছি।
আমি:মা তুমি আর বাবা খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ো আমি আসছি।
মা=কোথায় যাবি এখন
আমি =এসে বলব এখন যাই। এই নাও ব্যাগটা ভিতরে রাখো।
বাড়ি থেকে বেরিয়েই অধরাদের বাড়ির দিকে রওনা দিলাম।আমাদের বাড়ি থেকে ওদের বাড়ি বেশি দুরে না ১ ঘন্টার রাস্তা।
অধরাদের বাড়ি ঢুকতেই অধরারর মা জিজ্ঞেস করলো
আন্টি:আরে আবির বাবা তুমি। বসো বসো তোমাকে এরকম চিন্তিত দেখাচ্ছে কেন?
আমি:কিছুনা আন্টি।অধরা এসেছে?
=হ্যা ও এসেই ছাদে দাড়িয়ে আছে কারো সাথে কথা বলছেনা, কিছু খায়ওনি।
আমি দৌড়ে ছাদে গেলাম।দেখি পাগলীটা এককোনে দাড়িয়ে আছে আকাশের দিকে তাকিয়ে।
আমি ধীরে ধীরে ওর পাশে গিয়ে দাড়ালাম।ও বুঝতেই পারিনি আমি এসেছি,
ভালোবাসি ওই কাজল কালো চোখের বেয়ে পড়া জল,
ভালোবাসি অল্পতেই হারিয়ে যাওয়া তোমার লোলাহল।
ভালোবাসি,
তোমার ওই চাদের মত হাসি,
ভালোবাসি ভালোবাসি ভালোবাসি,
আমার পাগলীটাকে আমার থেকেও বেশি ভালোবাসি।
শুভ জন্মদিন পাগলী।
আমার মুখ থেকে শুভ জন্মদিন শুনেই ও আমার দিকে ঘুরে দাড়ালো।অবাক হয়ে চেয়ে আছে আমার দিকে। ও সত্যি ভেবেছিলো আমি হয়ত ওর জন্মদিনের কথা ভুলে গেছি।
=কি ভাবছো আমি ভুলে গেছি,
পাগলীটা চুপ কোন কথা বলছেনা,
=আরে আমিত তোমাকে একটু চমকে দেওয়ার জন্যই তখন ওরকম করেছিলাম।
আর কিছু বলার আগেই পাগলীটা আমাকে জড়িয়ে ধরলো।
আমিও আর কোন কথা বলতে পাটলামনা শুধু পাগলীটার নিঃশ্বাসের ভাষা বুঝতে থাকালাম।
সেটা বার বার বলছে ভালোবাসি ভালোবাসি পাগলটাকে বড্ড বেশি ভালোবাসি।
=এই নাও তোমার জন্মদিনের উপহার।
=এটা আমার জন্মদিনের সেরা উপহার। এই নুপুরটা আমি সবসময় পরে থাকব।
=পছন্দ হয়েছে তোমার?
=হুম সব থেকে বেশি।আর তার থেকে বেশি পছন্দ আমার পাগলটাকে।
বলেই আবার জড়িয়ে ধরলো।
(সমাপ্ত)
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ