###____ভালবাসা_তুমি_ভাল_থেকো____###
কান ধরে আধা ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকবে নাকি বিশবার উঠ-বস করবা? বাবাটা...আই আ্যম এক্সট্রেমলি সরি। অপশন দিয়ে দিয়েছি যেটা ভাল লাগে সেটাই কর। যুথী...ও যুথী লক্ষী পাখি এমন করেনা, আশপাশে কত মানুষ দেখছো? আর রাস্তায় খুব জ্যাম ছিল। যুথী এবার চোখমুখ লাল করে বলল:- হারামজাদা তুই কান ধরবি কিনা বল নাহলে এক্ষুনি চলে যাব, যুথী আজ খুব ক্ষেপেছে বোঝা যাচ্ছে কেননা যখন সে রাগের মাত্রা অতিক্রম করে তখন ই সে তুই করে সম্বোধন করে। উপায় না দেখে উঠবস করা শুরু করলাম, এক....দুই...তিন...সাত....নয়...।যুথী এবার ফিক করে হেসে দিল, হয়ছে এবার এসে বস তবে এক হাত দূরে বসবা। আমি বসলাম ঠিকই তবে তার পাশে না, তার পায়ের সামনে হাটুগেড়ে বসে পড়লাম, যুথীর হাত দুটো টেনে বুকের উপর রেখে যুথীর চোখের দিকে তাকিয়ে বললাম :- জীবনের প্রতিটা বসন্তে এভাবেই হাটুগেড়ে তোমার সামনে বসতে চাই, আমার হৃদপিন্ডের ধুকফুকানি তোমার হাতের মুঠোয় পুরে দিয়ে তোমার ঐ গাঢ় কাজলের দিকে তাকিয়ে বলতে চাই... ভালবাসি.. ভালবাসি। উহু! হইছে বাবা হইছে, আমার হাত দুটো ধরে টেনে উঠালো, একটা টোকাই ছেলে আমাদের কান্ড কারখানা দেখছে এতক্ষন ধরে সেটা আমার চোখ এড়ায়নি। পিচ্চিটাকে ডেকে হাতে চকচকে পাচ টাকার নোট ধরিয়ে পাশ থেকে বিদায় করলাম এর ফাকেই যুথী আমার বাহুটা শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রেখেছে, অনেক বড় একটা নিশ্বাস নিয়ে বলল তোমার ঘামের গন্ধটা নিয়ে নিলাম নাহলে সন্ধ্যায় মন খারাপ হবে ঘুম থেকে উঠে, জানো আমার যখন খুব মন খারাপ থাকে তখন চাইলেই তোমার ঘামের গন্ধটা নিতে পারি এটা আমি খুব দারুনভাবে অনুভব করতে পারি, যুথীর মুখের দিকে তাকিয়ে আছি এক দৃষ্টিতে, এই মেয়েটা সারাক্ষণ কথা বলে কিন্তু কখনো বিরক্ত হয়নি আমি উলটো মনোযোগ দিয়ে তার কথা শুনতে আমার অদ্ভুত ভাল লাগা কাজ করে, এই বেশী কথা বলা মেয়েদের মনটা অনেক স্বচ্ছ হয় তারা একনাগাড়ে মনের সমস্ত কথা বলে ফেলতে চায়, ভিতরে একটা শব্দও অবিশিষ্ট রাখতে জানেনা বলেই এরা সুন্দর মনের হয়ে থাকে যেখানে কুটিলতা পাপ কিছুই থাকেনা। এই মুহুর্তে ইচ্ছে করছে আমার কথার ঝুড়িটাকে বুকের সাথে একদম মিশিয়ে নি, বুকের ভিতর বসে থেকে সে সারাক্ষন পুটুর পুটুর কথা বলবে ঠিক যেমন ছোট্ট ইঁদুর ছানা কাগজ কাটে কুটকুট করে। কিন্তু সেটা সম্ভব হচ্ছেনা এই মুহুর্তে একটু পরই স্টুডেন্টের মুসলমানি দেখতে যেতে হবে আমার হাতে সময় নেই। অনেক্ষন পর যুথী কথা বলতে শুরু করল- শোন.. গতবার তুমি বলেছিলে আমাদের সাথে টুরে যাবা, কিন্তু সারাদিন ফোন অফ করে রেখেছিলে, সবাই তার প্রেমিককে নিয়ে কত মজা করেছিল আর আমি এক প্যাকেট টিস্যু শেষ করেছিলাম কাঁদতে কাঁদতে। এবার এমন করোনা প্লিজ অনেকটা আহ্লাদ ভরা কন্ঠ নিয়ে বলল যুথী। বড্ড মায়া হল ওর মুখটা দেখে তাই সাত পাচ না ভেবে বলে দিলাম আমি এবার যাব। যুথী এবার ওর নাকটা আমার বাহুতে অনেকবার ঘষে নিল ঠিক যেমনটা করে থাকে আদর পেলে পোষা বিড়ালটা। বিদায় নিয়ে চলে আসলাম মেসে, এসে দেখি ট্যাপে পানি নেই! এইদিকে মুসলমানিতে যেতে হবে, স্টুডেন্টের বাবা বারবার ফোন দিচ্ছে এইদিকে স্টুডেন্ট নাকি জিদ ধরে বসে আছে আমি না গেলে সে তার ইয়ে কাটতে দিবে না! বোঝ ঠ্যালা! মানুষজনের জন্মদিনে না গেলে কেক না কাটার জিদ ধরা হয়, বিয়েতে না গেলে বিয়ে করবেনা এমন হুমকি শোনা যায় তাই বলে মুসলমানিতে না গেলে ইয়ে কাটতে দিবে না এমন জিদও কেউ করে নাকি! এদিকে শরীর ঘেমে তসনস আবার পানিও নেই, বাধ্য হয়ে যুথীর দেয়া পারফিউমে নিজেকে ভিজিয়ে নিলাম আপাদমস্তক, তারপর কুচকুচে কালো শার্ট পরে বেরিয়ে পড়লাম, স্টুডেন্টের বাসায় যেতে যেতে আধ ঘন্টা লেগে গেল, অত:পর মুসলমানি হল, হালকা খানাপিনা শেষে মেসে ফিরে আসলাম। কখন ঘুমিয়ে পড়েছিলাম একদম টের পাইনি ঘুম ভাঙল যুথীর তেত্রিশতম কলে, ঘুম জড়ানো কন্ঠে হ্যালো বলতে যাব তার আগেই কয়েকটা গালি শুনলাম ভয়ে ভয়ে ফোন কেটে দিলাম। এবার উঠে বসলাম শোয়া থেকে, তারপর ফোন দিয়ে হাজারবার সরি বলে মাফ পেলাম। সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছে, তাই টিউশনিতে বেরিয়ে পড়লাম, টিউশন শেষ করে এসে দেখি বুয়া রান্না করতে আসেনি বাধ্য হয়েই ডিম ভেজে খেয়ে নিলাম। এর মাঝে যুথীর সাথে প্রথম দিনের ঘটনা মনে পড়ে গেল, আহা কি সেই মধুর দিনটা! সেদিন হালকা গোলাপী একটা সেলোয়ারে দেখেছিলাম যুথীকে, ইয়া বড় একটা শুন্য খোঁপাতে সেদিন পিছন থেকে লুকিয়ে একটা রক্ত জবা গুজে দিয়েছিলাম, ও রমনা বটমূলে বসে গানের তালে এতটাই মেতে ছিল যে একটুও টের পাইনি সে। আমি সামনের দিকে এসে যতটা না রবীন্দ্রতে মগ্ন ছিলাম তার চেয়ে বেশি মগ্ন ছিলাম যুথীকে দেখতে ও সামনের সারিতেই বসে অন্যদের সাথে ঠোট মেলাচ্ছিল। আমার সাথে কয়েকবার চোখাচোখি হলেও সেটা অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনার মত ছিল, এক পর্যায়ে হাতের ইশারা দিয়ে তাকে বুঝিয়ে দিলাম তার খোঁপাটা সুন্দর, সে এবার খোঁপায় হাত দিয়ে জবা ফুলটা আমার দিকে দেখিয়ে ইশারায় বলল এটা আমি দিয়েছি কিনা, আমি রহস্যর হাসি দিয়ে উঠে চলে এসেছিলাম দ্রুত, জানতাম যুথী আমাকে মনে মনে খুঁজে বেড়াবে। কিছুদিন পর পাব্লিক লাইব্রেরিতে বসে হুইটম্যান পড়ছিলাম বইয়ের ভিতর এতটাই ডুবে গিয়েছিলাম কেউ যে আমার সামনে এসে বসেছে সেটা পর্যন্ত টের পাইনি, কারো হাল্কা খুক খুক কাশিতে ঘোর কাটলো আমার কিন্তু এর চেয়ে বড় ঘোরে পড়েছিলাম আমার সামনে যুথীকে দেখে। ফিসফিস করে বলল- আপনি কি সব মেয়েদের খোঁপাতেই সেদিন জবা গেঁথে দিয়েছিলেন? আমি কি উত্তর দিব সেটা ভাবার আগেই সে ইশারা দিয়ে বাইরে ডেকেছিল, তারপর কথার ছলে তো প্রায় দেড় কিলোমিটার হেটে ফেলেছিলাম দুজন! আমি সেদিন শুধু শুনেছিলাম আর মাঝে মাঝে হ্যা হু হা করেছিলাম কেননা আমার যুথী পাখিটার কিচিরমিচিরে আমি হারিয়ে গিয়েছিলাম গভীর কোন অরন্যতে, যেখানে তার কণ্ঠস্বর প্রতিধ্বনি হয়ে আমাকে শিহরিত করে দিয়েছিল কয়েক শতাব্দী ধরে। তারপর আস্তে আস্তে বন্ধুত্ব,এক সাথে সারাটা দিন এদিক ওদিক চষে বেড়ানো অত:পর ভালবাসা! আমার ঘাসফুল খুব পছন্দের, গ্রামের বাড়ি থেকে ফেরার সময় ব্যাগের ছোট্ট পকেটে গোটা বিশেক ঘাসফুল নিয়ে এসেছিলাম যুথীও ততদিনে ঘাসফুলের প্রেমে পড়ে গিয়েছিল। চন্দ্রিমা উদ্যানের ঘন আচ্ছাদিত ঘাসের উপর হাটু গেড়ে বসে তার পায়ে সেদিন ঘাসফুলে বানানো পায়েল পরিয়ে দিয়ে আলতো করে চুমু খেয়েছিলাম,লাল টকটকে এক গাদা গোলাপ, তিনটে টাটকা ঘাসফুল আর তিনটে চিঠি গুজে দিয়ে তার চোখের দিকে তাকিয়ে বলেছিলাম ভালবাসি, সারাক্ষণ কিচিরমিচির করা পাখিটা সেদিন খানিকের জন্য স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলা, ঠোটের কোনে এক চিমটি হাসি এনে শুধু মাথা নেড়েছিল... ভালবাসার প্রতিউত্তরে ভালবাসি কথাটা শোনার চেয়ে কোন কিছু দিয়ে সেটা বুঝিয়ে দেয়া যে কতখানি অনুভুতিসাপেক্ষ ব্যাপার সেটা সেদিনই প্রথম বুঝেছিলাম আমি। এরপর শীতলক্ষ্যায় একসাথে নৌবিহার, রাজবাড়ীর পুকুরের সিড়িতে বসে গল্প করা, সোডিয়াম লাইটের রাতের ঢাকায় এক সাথে ঘুরে বেড়ানো, আইসক্রিম খাওয়া, সপ্তাহে নিয়ম করে একদিন এক সাথে বাইরে খাওয়া আরো কত কী! সেটা এখনো চলছে, চলবে। যখন তাকে গালে তুলে খাইয়ে দি তখন তার আলতো কামড়গুলো তাকে ভালবাসতে বাধ্য করায়,তার নিষ্পাপ মুখশ্রী তার নাকের নাকফুল আর পুরোটা জুড়ে আমার একটাই ছোট্ট পাখিটা আমাকে বারবার হাজারবার তাকে ভালবাসতে বাধ্য করায়।ইদানীং সারা রাত জেগে গল্প করার ভুত চেপেছে যুথীরর মাথায়, আমি ফোন রাখতে চাইলে সে ফোন রাখতে দেয়না এর মাঝে কতবার যে আমি ঘুমিয়ে পড়ি তার কোন হিসেব নেই। যুথীর কান্ড কারখানা মাঝে মাঝে বুঝে উঠতে পারিনা, কোনদিন রাত দুইটাই ফোন দিবে আবার কোনদিন রাত তিনটা আবার কোনদিন রাত এগারোটা তবে যখনই ফোনন দিক ফজরের আজান না দেয়া পর্যন্ত সে ফোন রাখবে না, বাধ্য হয়ে আমারো কথা বলতে হয়। আজ বারোটা সাতাইশ মিনিটে সে ফোন দিল, হ্যালো.. তনয়। হ্যা শুনছি। শুয়ে পড়েছো? হ্যা মাত্র..তুমি? আমিও
আচ্ছা শোন না, কাল চল কিছু কেনাকাটা করি, তোমার একটা পাঞ্জাবি লাগবে। টুরে ওটা পরে যাবা কেমন, আর শোন আমরা টুরে গিয়ে কি কি করব:-
আমরা গাড়ি থেকে নেমেই উধাও হয়ে যাব, ঐ স্পটে নাকি একটা বাশের সেতু আছে তুমি আমাকে আড়কোল করে পুরো সেতুটা পাড়ি দিবা। তারপর দুজন নাগরদোলাতে উঠবো...না না তোমার তো আবার মাথা ঘোরায় খুব, থাক বাবা উঠবোনা। তার চেয়ে বরং আমরা লেকের নৌকা ভাড়া করব তারপর দুজন মিলে একটা নৌকা নিয়ে ঘুরে বেড়াবো, যখন খাবার টাইম হবে তখন দুজনন একসাথে খাবো আর হ্যা এইদিন আমিই তোমায় গালে তুলে খাইয়ে দিব সবদিন তো তুমিই দাও আমায়। তারপর রাতে যখন ফিরবো তখন তুমি আমায় হোস্টেলে দিয়ে যাবা। ভাল না বল প্ল্যানটা?
হ্যা অনেক ভাল, আচ্ছা এমন হলে কেমন হয়:-
দুজন পাশাপাশি সিটে বসব, তুমি জানালার পাশে বসবে আমি জানালাটা হালকা খুলে দিব, দুজন একটা হেডফোনের দুটো অংশ দুজনের কানে দিয়ে একই সাথে টাইটানিকের এভ্রি নাইট ইন মাই ড্রিম এই গানটা শুনব এর মাঝে বাতাসে তোমার চুল হালকা উড়বে, তোমার নাকের ডগায় সবার চোখ ফাকি দিয়ে আমার ঠোট ছুয়ে দিব, স্পটে গিয়ে নিরিবিলি একটা জায়গা খুজে দুজনে সেখানে বসব তারপর তোমাকে গতদিনের লেখা এই কবিতাটা শোনাবো :-
বিরহিণীর দশখানা দশার শেষ অন্তর্লোক তোমার ঐ নির্বাক অভিব্যক্তি.. হলদে পেয়ালা হাতে তুমি অনন্যা, তুমি সম্রাজ্ঞী... ষোলকলার এক মহাকব্যময় কাব্যর আদি অন্তর তুমি...তোমার ঐ সৌন্দর্যের কাঙালীরাই রোম গড়ে..তোমার আরাধনা করে...তুমি ভক্তি নাও যুগ ধরে..তবুও শেষ গোধুলীতে তুমি কত সাধারণ...! দুখানা ঐ বেণী.. আর ঐ নিষ্পাপ অবয়ব হয়তো ঘুমজাগরনে শুরার ঘোরে কোন এক অধমকে জাগিয়ে রাখে...হ্যা তুমিই!!
ঐ শ্বেত পাথরের দন্তে মুক্ত ঝরাও..মিথ গল্পের ঐ লাল পরীটার মত এক পৃথিবী ঘোরে ভাসিয়েও ক্ষান্ত হওনা তুমি...তোমার কত রুপ!! দোয়াত হাতে তুমি যেন এক মায়াবিনী বল্গা হরিনী যার ছূটে চলা দিগন্তপ্রসারী...হ্যা তুমিই সেই
দুপুরে এক সাথে বসে কলা পাতায় খাব, আর খাবার শেষে কোন প্লাস্টিক বোতলে পানি না খাইয়ে আমার হাতের আজলা ভরে তোমায় পানি খাইয়ে দিব। ক্লান্ত বিকেলে দুজনে দুজনার পিঠে পিঠ ঠেকিয়ে অন্যদিকে মুখ করে কথা বলব যাতে আমার ভিতরের কম্পিত শব্দসমূহ তুমি খুব কাছ থেকে অনুভব করতে পারো। ফেরার পথে যখন রাত হয়ে আকাশে চাঁদ উঠবে তখন তোমায় বলব আমার কাধে মাথা রাখতে আমাদের সাথে সাথে চাদটাও দৌড়াবে, আর চাঁদের আলো যখন তোমার নাকফুলে এসে আলোর বিচ্ছুরণ হয়ে খেলা করবে তখন আবার সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে ঐ নাকফুলের নাকে আলতো করে কামড়ে দিব।
সবই ঠিক আছে কিন্তু কামড় দেয়া যাবেনা, কোন অসভ্যতা করা যাবেনা আর হ্যা আড়কোল করে সেতু পাড়ি দিতেই হবে
পরেরদিন মার্কেট থেকে যুথীকে এক গোছা কাচের চুড়ি, এক পাতা টিপ, আর একটা খয়েরি রঙের শাড়ি কিনে দিয়েছিলাম। আর ও আমাকে একটা হালকা নীল রঙের একটা পাঞ্জাবি। মেসে ফিরে সেদিন বিকাল থেকেই ফোন অফ করে রেখেছিলাম যুথীলে সকালে গিয়ে সারপ্রাইজ দেবার জন্য কিন্ত বড় সারপ্রাইজটা আমিই হয়েছিলাম। সবাই সেখানে উপস্থিত থাকলেও আমার যুথী উপস্থিত ছিলনা , অনেক খুঁজেছিলাম, ফোনেও পাইনি, হোস্টেলেও না। আমার অবস্থা পাগলের মত হয়ে গিয়েছিল। ভেবেছিলাম ও হয়ত গতবার আমি যায়নি তাই এবার ও যাবেনা বলেই মজা করছে কিন্তু না সেই ধারনা ভুল প্রমানিত হয়েছিল তখন, যখন যুথীর কোন খোজ পাইনি একটা সাতদিন। কখনো এমন হয়নি আর ও কখনো আমার সাথে এতদিন কথা না বলেও থাকতে পারবেনা। দেখতে দেখতে প্রায় সাত মাস চলে গেলেও যুথীর কোন খোজ পাইনি আমি, ওর বাড়িতেও গিয়েছিলাম দুইবার একবার কাউকে পাইনি আর একবার ঐ বাড়ির লোক বলেছিল এই নামে কেউ থাকেনা এখানে। এর মাঝে আমার থার্ড ফাইনাল পরীক্ষাও দেয়া হল না, সময় নাকি মানুষকে সব কিছু সইয়ে দেয় আমাকেও আস্তে আস্তে দিয়েছিল কিন্তু প্রায় রাতেই যুথীকে স্বপ্নে দেখতাম আমি স্বপ্নেই গুঙিয়ে কাঁদতাম । চন্দ্রিমা উদ্যানের সেই ঘাসগুলোর উপর কত রাত শুয়ে ছিলাম তার হিসেব নেই, লাইব্রেরি, রমনা বটমূল সব জায়গায় যেতাম কিন্তু আমার যুথী পাখিকে পেতাম না কোথাও। দেখতে দেখতে ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টালো, বাবা মায়ের আমার প্রতি চাহিদা বেড়ে গেল, বাবা মা, নিজের জীবন সব কিছু ভেবে প্রতিনিয়ত বদলে যাওয়া ক্যালেন্ডারের পাতার সাথে তাল মেলাতে লাগলাম কেননা ক্যালেন্ডারের পাতা আবেগ বোঝেনা, ভালবাসা বোঝেনা সে শুধুই বোঝে সূর্য উঠলে ডুবলে তাকেও বদলে যেতে হবে। ফাইনাল ইয়ারের শেষ পরীক্ষার জন্য কিছু নোট ফটোকপি করতে এসেছি সালাম চাচার দোকানে, হঠাৎ করেই চোখে পড়ল সেই খয়েরি শাড়িটা! সেই হেটে যাওয়া! আমিও পিছু নিলাম। হ্যা যা ভেবেছিলাম তাই ই! আমার যুথী!! সিথীতে লম্বা করে সিঁদুর টানা! এ যেন সিঁদুর নয় এ আমার হৃদপিন্ডের টাটকা রক্তের এক প্রলম্বিত রেখা! আমার বুকের রক্তখরনে কত উজ্জ্বল এই সিথী আজ! যুথী আমাকে দেখে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল আমার দিকে, আমিও তাকিয়ে আছি! এ যে কত জনমের তৃষ্ণা! আমার চোখ বেয়ে টপটপ করে কিছু পড়ছে সেটা বুঝতে পারছি, যুথী নির্লিপ্ত ভাবে চেয়ে আছে আমার চোখের দিকে। ইচ্ছে করছে যুথীকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে খানিক্ষন কাদি, কিন্তু তার আগেই যুথী আস্তে করে বলল - আমি যায়, বলেই যুথী এক অপরিচিত যুবকের সাথে রিক্সায় উঠে বসল, বুঝতে বাকি রইল না এটা যুথীর ই স্বামী। সারা রাত ছটফট করেছি বিছানায় ঘুম আসেনি, ভোর রাতে একটা মেসেজ আসলো ফোনে:-
সেদিন বিকালে অনেকবার তোমায় ফোন দিয়েছিলাম তোমার ফোন বন্ধ ছিল, বাবা অসুস্থ ছিলেন খুব এই খবরে আমাকে বাড়ি নিয়ে গিয়েছিল বড়দা । বাড়িতে গিয়েই দেখি আমার বিয়ে! তখন আমি তোমার কথা বলাতে মা বিষ খাবার হুমকি দিয়েছিলা বাবা হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে যাবারা নাটক করে আমাকে বিয়ে করতে বাধ্য করেছিল। আমার ফোন কেড়ে নেয়া হয়েছিল, তুমি আমাকে ক্ষমা করতে পারবেনা কখনো জানি। আমি ক্ষমা চাইবোনা আমার সেই সাহস নেই, এখন যার সাথে আছি তাকে ভালবাসি কিনা জানিনা কিন্তু তার সাথে বাকি জীবন থাকতে হবে এটা জানি তোমার সাথে এক অন্যায় করেছি তাই আরেকবার এই লোকের সাথে অন্যায় করার সাহস নেই ভালবাসতাম তোমায় অনেক বেশিই...মেয়েদের নিজের পছন্দ নেই, ভালবাসার অধিকার নেই, নিজের মত বেচে থাকার অধিকার নেই, আমারো ছিল না, থাকলে তোমার একটু ভালবাসা পাবার জন্য নিজেকে হাজারবার শেষ করে দিতাম। ভালো থেকো তুমি....
#অনেকদিন_পর_আমার_চোখ_সমুদ্র_দেখল, এ যেন এক জনম আক্ষেপের সমুদ্র ঢেউ, অজান্তেই বলে উঠলাম... ভালবাসা তুমি ভাল থেকো।
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ