(২৪)গল্প: জিবন থেকে নেয়া
লেখক: Sheikh Afran
জিবনটা কে এত কাছ থেকে দেখা হত না, যদি না নিজের সাথে এমন কিছু হত না। তবুও সব পরিস্থিতিতে
নিজেকে মানিয়ে নিতে চেস্টা করি, কিন্তু সফল হতে পারিনা। বাস্তবতা বরই কঠিন জিনিস।
আমি শেখ আফরান, অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র, একটা
মধ্যবিত্ত পরিবারের ছোট ছেলে। পরিবারের সবাই গ্রামেই থাকে, আর পড়াশুনার জন্য আমাকে এই বিশাল শহরের কোন এক জায়গায় থাকতে হয়।
যখন ক্লাস টেনে পড়ি, ঠিক তখন থেকেই নিজেকে, নিজের পরিবার সম্পর্কে সব সমস্যা আমার মাথায়
ডোকে গেছিল, যার কারণে সেই থেকেই নিজেও আয়ের
জন্য টিওশনি করা শুরু করে দেই। আর সেই থেকেই
পড়াশুনা আর শিক্ষকতা, দুটো চলছে।
যা দিয়ে কমপক্ষে নিজের হাত খরচটা চালাতে পারি। চলে যাচ্ছে একরকম। তবে সমস্যা যে ছিল না তা কিন্তু নয়, ছিল সমস্যা, তবে সেটা আমার মনের ভিতর। কাউকে কখনও বুঝতে দেইনি।
আমার এখনও সেই দিনের কথা মনে হলে চোখ দিয়ে জল বেয়ে পড়ে, যেদিন আমি প্রথম টিওশনির প্রথম টাকা হাতে পাই, সেদিন মা আমাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদেছিলেন অনেক, কিন্তু আমি সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলেছিলাম।
এই শহরে নতুন জিবনে নিজেকে মানিয়ে নিতে প্রথম কিছুটা কষ্ট হয়েছিল। কিন্তু এখন সামলে নিয়েছি।
সকালে ঘুম থেকে উঠে, ফ্রেশ হয়ে, নাস্তা করে, ভার্সিটি যাওয়া এবং ভার্সিটি শেষ করে টিওশনি করে তারপর মেসে আসা,,,,, সব মিলিয়ে একটা রুটিন মাফিক চলতাম।আর একটা রুটিন আছে,,, সেটা হল প্রতিদিন
মায়ের সাথে কমপক্ষে একবার ফোন দিয়ে কথা বলা।
যেটা আমি অনেক সময় করতে পারতাম না। মা বললে
বলতাম ভুলে গেছি, কিন্তু কখনও মোবাইলে যে টাকা থাকে না সেটা বলিনি,কষ্ট পাবে বলে। নিজে একটা টাকাও অতিরিক্ত খরচ করিনি। তবে আজ বুঝতে পারছি, মানুষ কেন কিপটে হয়ে থাকে।
সব মিলিয়ে আমি যে কাউকে ভালবাসিনি তা কিন্তু নয়।
ভাল লেগেছিল একজন কে, সে কিন্তু ধনি না আবার
আমার মত ও না। সে যাইহোক কিন্তু তাকে বলব কি করে সেটা ভেবেই প্রতিরাতে ১ /২ হয়ে যায়।
আনিকা, মেয়েটা আমাদের ডিপার্টমেন্টের, তবে ওকে শুধু দেখছি,তাতেই একবছর লেগেছিল।কিন্তু কখনও ওর সাথে কথা বলা তো দূরে থাক ওর সামনেও যাইনি।
কেননা নিজের কাছেই কেমন যেন লজ্জা লজ্জা ভাব চলে আসত। কিন্তু এ শহরে এখন এসব লজ্জা কারো আছে বলে মনে হয় না।
শুক্রবার, তাই মেসে শুয়ে আছি, বাহিরে যাওয়ার কোন
ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা কিছুই নেই, কারণ একটাই, মানিব্যাগ তল্লাশি করে দুই টাকার একটা কয়েন, আর পাঁচ টাকার একটা নোট অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে, মাসের শেষ দিক তো তাই মানিব্যাগের এই করুন দশা। কি আর করার আজ মেসে শুয়ে শুয়ে দিন কাটাতে হবে দেখছি।এদিকে টিওশনির টাকাটাও পাব না। আর টাকা যে ছিল না, তা কিন্তু নয়।
ছিল,তবে
একটা টিশার্ট কেনাতে খরচ করে ফেলেছি।আর পোশাক যে দাম! কি আর করার,, কয়েকটা টিশার্ট
দেখার পর একটা কমদামী টিশার্ট পেলাম। আর সেটাই নিয়ে আসলাম, যার কারণে মানিব্যাগটা ফাকা।
ওপর দিকে আনিকাকে ও প্রপোজ করা হয়নি, কিভাবে কি করব, কিছুই মাথায় আসছে না।সে যাইহোক আনিকাকে কাল একটা কিছু বলতে হবে। তবে চিন্তা তো
এটা, চিন্তা তারপর কি হয় এটা ভেবে!!
কিন্তু যদি না করে দেয়,, তাহলে!!!!
না!না!না! আর ভাবতে পারছিনা। যা হবার হবে আনিকাকে কাল প্রপোজ করব???
-------
সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে রুটিন মাফিক সবকিছু করে ভার্সিটির উদ্দেশ্য রওনা দিয়েছি।
ভার্সিটি এসে আমার চোখ জোড়া উৎসুকভাবে অন্য একজোড়া চোখের খোঁজে ব্যস্ত। অবশেষে দেখা মিলল
সেই চোখজোড়ার। সরাসরি তার সামনে গিয়া দাঁড়ালাম
--কিছু বলবেন?
--হ্যা,
--তাহলে দাঁড়িয়ে আছেন কেন,বলুন কি বলবেন
--আপনি কি আমায় ভালবাসেন
-- আমি আপনাকে ভালবাসতে যাব কেন
--না, আমি আপনাকে ভালবাসি তো তাই!!
--প্রপোজ করলেন
--মনে করেন তাই!
--ভাল,(উঠে চলে যাচ্ছে)
--চলে যাচ্ছেন যে, আমার উত্তর?
--ভালবাসি,,,,,,,,, ,,,,, না!
--------নিশ্চুপ
কেন জানতে পারি
--ব্রামণ হয়ে চাঁদ ধরার সখ করবেন না কখনও।তাহলে চাঁদের মিটিমিটি আলয় হাতটা পুরে যাবে।
আর কথা বাড়াইনি। চলে এসেছি, চোখ দিয়ে অনবরত জল বেয়ে পড়ছে।
রাস্তা দিয়ে আনমনা হেটে চলেছি,চোখজোড়া ঝাপসা হয়ে আসছে,। আমার সাথে তাল মিলিয়ে আকাশটা ও কেঁদে উঠল।নিজেকে অভিশপ্ত বলে মনে হচ্ছে,
এই মধ্যবিত্ত হয়ে জন্ম নেয়াটা যে অপরাধ হতে পারে তা কখনও ভাবিনী।
নিজেকে শেষ করে দিতে ইচ্ছে হচ্ছে।
কিন্তু আমি তা করতে পারছিনা না, কারণ আমি মধ্যবিত্ত। আমাকে লড়াই করে বাঁচতে হবে, মাঝপথে এসে হাল ছেড়ে দিলে তো হবে না। কেননা জিবন তো
একটাই।আর এটা আমার জিবন,,,,
কয়েকদিনের পরিচয় হওয়া মেয়ের জন্য নিজের জিবন শেষ করে দেব, সেরকম বোকা আমি নই। হয়ত কষ্ট
হবে, কিন্তু মানিয়ে নিতে পারব।
আমার কাছে,
আমি মধ্যবিত্ত, এটাই আমার বড় পরিচয়!!!!!
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ