গল্প(৩৪):গল্পটা ভালবাসার
লেখক:শেখ আফরান
--আপনি কি আমায় অনুসরণ করছেন?
ভার্সিটি যাওয়ার পথে, হঠাৎ আনিকা এসে উপরোক্ত কথাটি বলে উঠল।
--না,
--তাহলে আমার পিছন পিছন কি?
--কে বলল আপনাকে?
--কে বলবে,প্রায় দুইমাস ধরেই দেখছি, আমি বাসা থেকে বের হলেই আপনি বাসার সামনে দাঁড়ানো।
--তো
--তো মানে?
--তাতে কি হয়েছে,হতে পারে আমি যে সময় আপনার বাসার সামনে আসি,আপনি তখন বের হন।
--সেটা এক দুইদিন হলে ঠিক ছিল।কিন্তু লাস্ট দুইমাস, ঠিক আমি বাসা থেকে বের হতেই দেখি আপনি এখানে।
--তো,
--এরপর যদি আপনাকে আমার পিছন পিছন দেখি..
--কি করবেন?
--মেরে হাত পা ভেঙ্গে গুড়া গুড়া কইরা ফালাবাম।
--সেটা আপনার ইচ্ছে!
বলেই হাটা ধরলাম। ইসস আজ ধরা খেয়েই ফেলছিলাম। প্রতিদিন তো দেখেও কথা বলে না,আজ কথা বলবে তা আমি নিজেও জানি না।
জানলে কি আর এখানে থাকতাম।
আমি আফরান,এবার অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র।
বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান। আর ইনি হচ্ছেন আনিকা, আমার ভবিষ্যৎ বউ, যদি আর কারো সাথে বিয়ে না হয় তাহলে।
প্রায় দুইমাস ধরে একে অনুসরণ করেই যাচ্ছি,কিন্তু কোনো রেসপন্স নেই। কিন্তু আমিও ছেড়ে দেয়ার পাত্র নই।
পরেরদিন ঠিক আমি আনিকার বাসার নিচে দাঁড়ানো..
আনিকা তাদের বাসা থেকে বের হয়েই পিছনে একবার থাকাল, আর আমাকে দেখেই কেমন যেন একটা রাগী চোখে থাকাল।
যেই হাটা ধরেছে, আমিও পিছন পিছন এক পা দুই পা করে হাটছি। হঠাৎ আনিকা থেমে গিয়ে উল্ট দিকে হাটা ধরল। আমার দিকেই আসছে,
আমি থেমে গিয়ে, ওকে না দেখার ভান করে চারিদিকে চেয়ে দেখছি।
সোজা আমার সামনে এসে দাঁড়াল..
--আপনি আবার,
--কি?
--পিছু নিয়েছেন, কি সমস্যা!
--কোনো সমস্যা নেই!
--তাহলে আমার পিছন কি?
--.........
--কিছু বলবেন,
--হ্যা,
--তো বলেন
--জানি না,
--জেনে আসবেন!
কি করে বলব, ওর সামনে গেলেই সবকিছু ভুলে যাই। হাত পা কাপে, বুকটা ধড়ফড় ধড়ফড় করে,কিছু বলতেই পারি না।
ভার্সিটি শেষ করে বাসায় চলে আসলাম।ফ্রেশ হয়ে খেতে বসেছি, কিন্তু বারবার আনিকার কথা মনে পড়ছিল।
--কি রে কি ভাবিস?(মা)
--কই, কিছু না তো!
--মনে হয় প্রেমে পড়েছে (বাবা)
আর একটা কথা আমার বাবা মা পৃথিবীর সবার বাবা মায়ের থেকে আলাদা। ওনারা আমার কাছে বন্ধুর মত।
--না, না,না, কে বল তোমাকে?
--তর মুখ দেখেই বুঝতে পেরেছি।
--কি যে বল না।
--শুন পটাতে না পারলে বল, আমি কিছু আইডিয়া দেই?(বাবা)
--তুমি দিবে আইডিয়া (মা)
--কেন,আমি কি পারব না
--কিভাবে কি, ঠিকমত তো আমাকে প্রপোজ করতে পারনি,
--প্রেম নিবেদন তো আর আমি করিনি, আপনি নিজে এসে করেছিলেন।
--সেইজন্য বলছি,
--মা, বাবা তোমরা কি শুরু করলে (আমি)
খাওয়া থেকে উঠে নিজেই চলে এলাম। আমি আছি আমার প্রেম নিয়ে এদিকে তারা তাদের প্রেমের কথা শুরু করে দিয়েছে।
দূরবাস যন্ত্রটা হাতে নিয়েই আনিকাকে একটা ফোন দিলাম।
--হ্যালো
--(নিশ্চুপ)
--কে বলছেন।
--(নিশ্চুপ)
-- ফোন দিয়ে কিছু বলছেন না যে?
--..............
--আপনি কি বোবা না কি?
--..............
--কে রে ভাই,
--..........
--যতসব পাগল ছাগল!
বলেই কলটা কেটে দিল।
ইচ্ছে করছিল সামনে থাকলে কষে একটা চড় দেই,বলে কি, আমি না কি পাগল ছাগল ।
বিকেলের ধমকা বাতাসে আমি বসে আছি আনিকাদের বাসার সামনে একটা চায়ের দোকানে। বারবার বেলকুনির দিকে চেয়ে আছি
কিন্তু আনিকা এখন আসেনি।
হঠাৎ বেলকুনিতে চোখ পড়তেই দেখি আনিকা এসে হাজির।চোখে চোখ পড়তেই, কেমন যেন একটা রাগী চোখে থাকাল,আর বেলকুনি থেকে চলে গেল।
এক বুক ভরা হতাশা নিয়ে চলে এলাম বাসায়।
বাসায় এসে বসতেই না হাজির..
--চা করে দেই,
--হ্যা,মা
--তুই বস, আমি নিয়ে আসছি।
তখনই বাবা এসে হাজির...
--আমাকেও দিয়,
কি রে কি হয়েছে,
--কিছু না (আমি)
--হতাশার নিঃশ্বাস কেন?
--কই,
--আরে ছেলের কোনো সমস্যা, সেটা সব বাবাই টের পায়, এবার বল!
--বলব,
--হ্যা,বল..
--এ মেয়ে তো আমায় পাত্তা দেয় না।
--কোন মেয়ে?
--আমরা ভার্সিটি একি ডিপার্টমেন্টে পড়ি,
--ভাল,তুই বলেছিস থাকে?
--কি?
--কি আবার ওই যে ওই কথা,
--কোন কথা?
--আমি তোমাকে ভালবাসি,
--আমিও তোমাকে ভালবাসি বাবা,
--দূর, আমি বলেছি একা কথা, ওই মেয়েকে বলেছিস,
--না!
--তাহলে,
--আমি তো শুধু ওর পিছু নিয়েছি, ওকে অনুসরণ করেছি,
--তারপর...
--মাইয়ায় কয়, হাত পা গুড়া গুড়া কইরা ফালাইব।
--প্রেম করার জন্য আর কোনো মেয়ে পেলি না।
--কি করব, এখন
--শুন, মেয়েকে যেহেতু এতদিন অনুসরণ করেছিস, এখন তার উল্ট করবি।
--মানে!
--মানে এড়িয়ে চলবি,দেখেও না দেখের ভান করবি।
--এতে কোনো কাজ হবে,
--হবে না মানে, আলবাত হবে।
তখনই চায়ের ট্রে নিয়ে মা এসে হাজির....
--ছেলেকে কি পরামর্শ দিচ্ছ,শুনি
--কই, কিছু না তো।
পরেরদিন বাবার পরামর্শ অনুযায়ী আনিকাদের বাসার সামনে না দাঁড়িয়ে সোজা ভার্সিটি চলে গেলাম,
ক্লাস শেষ করে ভার্সিটি ক্যাম্পাসে হাটছি,
হঠাৎ দেখি আনিকা সামনে, আমিও না দেখার ভান করে চলে গেলাম।কেমন যেন অবাক হয়েছে,আমার এরকম পরিবর্তন দেখে।
ভার্সিটি থেকে সোজা বাসায় চলে গেলাম।
তখনই পাশে এসে বাবা দাঁড়ালেন।
--পরামর্শটা কি কাজে দিয়েছে?
--একশত ভাগ কাজে দিয়েছে!মেয়ে তো পুরাই অবাক
--ভাল, চালিয়ে যাও!
--হ্যা, বাবা।
পরেরদিন ভার্সিটি যাওয়ার জন্য বেরিয়ে পড়েছি।
যেই আনিকাদের বাসার সামনে এসেছি, চেয়ে দেখি বাসার গেইটে দাঁড়িয়ে আমার দিকে চেয়ে আছে।আমিও না দেখের ভান করে মাথা নিচু করে ওর সামনে থেকে হেটে চলে গেলাম। মনে হয় কিছু বলতে চেয়েছিল,কিন্তু আমি তার আগেই চলে এসেছি।
ঠিক পাঁচদিন পরের কথা....
আমি ভার্সিটি ক্যাম্পাসে ঘাসের উপর বসে আছি, হঠাৎ কোথা থেকে আনিকা এসে হাজির.
--কি রে নতুন কোনো মেয়ে পাইছস?
--মানে!
--এত মানে মানে করছ কি? এখন আমার পিছন ঘুরিস না কেন?
--কি?
--ওই মাইয়া কি আমার থেকেও সুন্দর?
--কোন মাইয়া!
--এত ভাব কাকে দেখাস,(কেঁদে কেঁদে একদম চোখ দুটো মরিচের মত লাল করে ফেলেছে।)
--আপু , কি বলছেন এসব,(রাগানোর জন্য বললাম)
--ওমনি আমি তর আপু হয়ে গেলাম।
--আপনার পিছন পিছন ঘুরলেও সমস্যা, না ঘুরলেও সমস্যা, তো..
--তো কি?
--তো আমি কি করব?
--কি করবি মানে! যতদিন বাঁচবি আমার পিছন পিছন ঘুরবি,না হলে.
--না হলে কি?
--না হলে হাত পা ভেঙ্গে গুড়া গুড়া করে ফেলব,ভালবাসবি তো?
--ভালবাসব!না হলে তো হাত পা হারাতে হবে!
হাত পায়ের জন্য না হয় ভালবাসব।
কি বলেন???
------------ সমাপ্ত ------------
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ