āϰāĻŦিāĻŦাāϰ, ā§Ē āĻĢেāĻŦ্āϰুāϝ়াāϰি, ⧍ā§Ļā§§ā§Ž

4006 (2)

গল্প: #আমাদের_গল্পটা_এমন_ও_হতে_পারত
          (চতুর্থ পর্ব)
লেখক: শেখ আফরান

দৌড়ে মায়ের রুমে গেলাম..
--কি হয়েছে মা!
--তর বাবা, কেমন যেন করতেছে!!
--কি বলছ, দেখি!
--হ্যা, এখুনি হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে!!
--দাড়াও, আমি গাড়ি বের করছি,

বাবাকে  হাসপাতালে নিয়ে গেলাম, ডাক্তার বলেছেন বাবা স্ট্রোক করেছেন।সেই রাতে আমি আর মা হাসপাতালেই থেকে গিয়েছিলাম। আনিকার কথা ভুলেই গেছিলাম বাবার এ অবস্থা দেখে।
পরেরদিন দুপুরের দিকে বাবাকে বাসায় নিয়ে আসলাম। এখন মোটামুটি সুস্থ আছেন।
মোবাইলের কথা মনে পড়তেই পকেটে হাত দিলাম, কিন্তু পকেট ফাকা, মোবাইল নেই।সমস্ত বাসা খোঁজে ও মোবাইলের সন্ধান করতে পারলাম না। মাকে বলা দরকার...
--মা, মা
--বল?
--আমার মোবাইল!
--আমি কি জানি!!
--খোঁজে পাচ্ছিনা?
--রাখলি কোথায়?
--মনে করতে পারছিনা।
--কি যে করিস, বিয়ের পর দেখিস বউকে ভুলে যাবি?
--কি যে বল না!!
হঠাৎই মনে হল আনিকার কথা, কাল রাতে তো ওর বাসার সামনে যাওয়ার কথা ছিল!!
--ওহ, দূর!!
--কি হয়েছে
--কিছু না।

এখন কি করি, ওর নাম্বারব তো মনে নেই।
বাসা থেকে বেরিয়ে পড়লাম,  উদ্দেশ্যে আনিকাদের বাসা।
একঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি আনিকাদের বাসার সামনে, এখনও দেখতে পাইনি....

হঠাৎ বাসা থেকে একটা ছোটো ছেলে বেরিয়ে এসে আমার সামনে দাঁড়াল!!
--এইটা নিন, আর এখান থেকে কেটে পড়ুন,
--কি এটা,
--চিঠি , আপু দিয়েছে!
--ওহ,

→চাইনা আপনার মুখ দেখতে, সম্পর্কটা এখানেই সমাপ্তি। সামনে না আসলে খুশি হব!!
-
--এই ছোটু
--বল,
--একটা কাজ করে দিবে?
--তারজন্য টাকা লাগবে!!
--ঠিক আছে!!
পকেট থেকে পঞ্চাশ টাকার একটা নোট বের করে ওর হাতে দিয় দিলাম,
--বল কি করতে হবে!
--একটা কলম হবে!
--এই নিন, (পকেট থেকে একটা কলম বের করে দিল)

ছোটু যেই চিঠি নিয়ে আসছিল,তার পিছনে আমি লিখে দিলাম → বাবা স্ট্রোক করেছেন রাতে!!!

--ছোটু!!
-- কি?
--এই কাগজটা তোমার আপুকে দিয়ে দিবে!
--ঠিক আছে।

ছোটু কাগজ নিয়ে ভিতরে যাবার পরই আনিকা বারান্দায় এসে হাজির....
চেয়ে দেখি চোখ দুটো লাল মরিচের মত করে ফেলেছে...
--দুঃখিত !!
--ঠিক আছে,

আনিকার কাছ থেকে নাম্বার নিয়ে, একটা মোবাইলের শপে গিয়ে মোবাইল কিনে বাসায় চলে আসলাম..
বাসায় আসতেই মা হাজির..
--শুন,
--বল!
--কাল তোর মামাতো বোন তানজিন আসছে!
--কেন?
--তর বাবা অসুস্থ, ওপর দিকে রান্না ভান্না করা, সবদিক সামলাতে পারব না, তাই কয়েকদিন এখানে থেকে আমাকে সাহায্য করবে!!
--ওহ, ভাল!
--কাল এগারোটায় ওকে নিয়ে আসতে হবে!
--ঠিক আছে, কাল মনে করে দিয়!
--আচ্ছা।

মা চলে যেতেই, আমি নিজের রুমে গিয়ে আনিকাকে ফোন দিলাম...
--কি করছেন?
--এই তো বারান্দায় বসে গান শুনছি।
--ভাল
--কাল দেখা করবেন?
--কয়টায়?
--বিকেল চারটার দিকে!
--ঠিক আছে!!

পরেরদিন ভার্সিটি না গিয়ে মামাতো বোনকে আনতে গেলাম....
তানজিন কে বাসায় পোঁছে দিয়ে আমি যেই বের হব, ওমনি মা এসে হাজির!!
--কই যাস!!
--কেন?
--মেয়েটাকে নিয়ে আসলি,কিন্তু এখানে একা একা কি করবে, তার চেয়ে একে নিয়ে কোথাও ঘুরে আয়?
--তুমি তো তোমার সাহায্যের জন্য নিয়ে আসলে!
--সেটা তো করবে, এখন একটু ঘুরে আয়?
--ঠিক আছে!!
তানজিন কে নিয়ে বের হলাম ঘুরতে........
রিক্সায় বসে আছি!!!
--তানজিন?
--জ্বি ভাই?
--কিসে পড়ছিস?
--এই এককথা কয়বার বলব
--আমি তো ভুলে যাই!
--ইন্টার প্রথম বর্ষ!
--ওহ,পড়াশুনা কেমন চলছে?
--ভাল।

তানজিনকে যখন বাসায় নিয়ে আসলাম, তখন বিকেল পাঁচটা বাজে।সত্যি বলতে আনিকার সাথে যে দেখা করার কথা ছিল তা প্রায় ভুলেই গেছিলাম।
তখনই তানজিন বলে উঠল
--ফুফু, তোমার ছেলে তো কিছুই মনে রাখতে পারে না!
--হ্যা,এটা তো আমিও বলি, কখন জানি নিজের বউকে কোথাও ভুলে ফেলে আসে!!
মায়ের কথাটা মাথায় ডুকতেই আনিকার কথা মনে পড়ল..
--ইসস, দূর!!
--কি হয়েছে!!
--আমি শেষ!!
--কেন কি হয়েছে?
--সেটা পরে বলব,,,

চলবে..............

গল্প: #আমাদের_গল্পটা_এমন_ও_হতে_পারত
       (পঞ্চম ও শেষ পর্ব)
লেখক: শেখ আফরান

বাসা থেকে বের হয়েই একটা ফোন দিলাম আনিকাকে!কিন্তু মোবাইল বন্ধ দেখাচ্ছে!কোনো উপায় না পেয়ে ওদের বাসার সামনে গিয়ে হাজির হলাম।কিন্তু আজ পরিস্থিতি মনে হচ্ছে খুব ভয়াবহ,  যেকোনো সময় অগ্নিকান্ড ঘটে যেতে পারে।
সেইদিনের মত আজও ছোটুর আগমন...
--ছোটু!!
--এটা নিন,আর কেটে পড়ুন?
বলেই দৌড়ে চলে গেল।
কাগজটা খোলে পড়তে শুরু করেছি!
→এতদিন একবারের জন্য মনে হয়নি, যে আমার প্রতি আপনার কোনো গুরুত্ব আছে বলে।
তাতে কিছু যায় আসেনা, কিন্তু আজ যখন আমাকে ভুলে অন্য একটা মেয়েকে নিয়ে রিক্সায় ঘুরলেন, তা দেখে মনে হচ্ছিল  আত্নহত্যা করে মরি। সম্পর্কের ইতিটা এখানেই টানলাম, মুখটা না দেখালে খুশি হবে!!

আসলেই অতিরিক্ত হয়ে গেছে।কিন্তু কি করব সত্যিই কিছু মনে থাকে না, আর এটা তো একটা ভুল। কিন্তু রাগটা ভাঙ্গাব কিভাবে?
বাসার ভিতরে যাব, না যাব না। একবার গিয়েই দেখি...
আনিকাদের বাসার ভিতরে ঢোকতেই দেখি,
সোফায় এক বিশাল আকৃতির মাঠ (মানে ঠাক)
নিয়ে এক ভদ্রলোক বসা আছেন।  দেখেই ভয় পেয়ে গেছিলাম!
--কি চাই?
--জ্বি আমি আনিকার কাছে এসেছিলাম!
--কে আনিকা?
-- তাবাচ্চুম আছে?
--হ্যা, কিন্তু তুমি কে?
--আমি!
--হ্যা তুমি?
তখনই আনিকা এসে বলল....
--এখানে কি চাই?
--কিছু কথা ছিল!
--বাহিরের কারো সাথে কিসের কথা?
--বাহিরের লোক..
--হ্যা, আর এই ভাঙ্গা আয়নার মত মুখ, আমি আর দেখতে চাইনা!

আনিকাদের বাসা থেকে বের হয়ে রাস্তা দিয়ে আনমনা হেটে চলেছি।  চোখ দুটো ঝাপসা হয়ে আসছে অশ্রুজলে।আমি না কি বাহিরের লোক!

--কফি!!
--হ্যা,
কল্পনাটা মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেল আনিকার ডাকে!
--কফি!
--আমার জন্য?
--হ্যা,
কাপটা এগিয়ে নিয়ে খেতে শুরু করলাম..
--আপনার চোখে জল..
--চোখে জল,
--হ্যা,
--তারজন্যই মনে হয় চোখদুটো ঝাপসা লাগছিল।
--মনে হচ্ছে কাঁদছেন!
--কান্না, সেটা তো অনেক আগেই হারিয়ে ফেলেছি,এখন চোখ দিয়ে অশ্রু বের হয়না, কেননা অশ্রু ঝড়াতে ঝড়াতে চোখ এখন অশ্রুহীন।
--কঠিন করে কথা বলা যায়নি এখনও?
--সবকিছু যে আমাকে নিঃসঙ্গ করে দেব তাত না,
--ওহ,
--আপনি এখানে কেন?
--ভাইকে নিয়ে আসছি,
--ছোটুর কি হয়েছে?
--ছোটুর কথা কি মনে আছে?
--ভুলে যাওয়াটা আমার অভ্যাস ছিল, ছোটুর কথা হয়ত মনে ছিল।
--আপনার বাবার কি অবস্তা?
--আগের থেকে এখন ভালই আছে, কালই বাসায় নিয়ে যেতে পারব।
--কাল...
--হ্যা
--আপনার সঙ্গে যে কিছু কথা ছিল?
--ভাঙ্গা আয়নার মত চেহারাটা এতক্ষণ দেখে নিশ্চিত আপনার অনেক ক্ষতি হয়েছে, আর এমনিতেই পাপের বোঝাটা অনেক বেশি, আর বাড়াতে চাইনা।
--ভুলটা আমারই ছিল!
--কষ্ঠটা তো আমাকেই ভোগ করতে হল।
--এখনও কি ভালবাস আমায়?
--ভালবাসা, সেটা তো অনেক আগেই হারিয়ে ফেলেছি,এক কল্পনার পরীর জন্য।
--স্বপ্নটা কি আবার দেখা যায় না!
--ভাঙ্গার ভয়ে দেখতে সাহস হয় না।
--কেন?
--পরাজিত হতে হতে ক্লান্ত হয়ে গেছি তাই!
--যদি ফিরে আসতে চাই?
--পাথরে কখনও ফুল ফোটতে দেখেছ!
--না!
--ঠিক সেইভাবে এটাও সম্ভব না।
--কেন সম্ভব না?
--কেননা সম্পর্ক গড়ে বিশ্বাসের উপর!
--এখন রাগ করে আছেন?
--রাগ, সেটা আবার কি?
--ক্ষমা করা যায় না?
--কেউ অপরাধ করেনি যে থাকে ক্ষমা করতে হবে।
-আর দেখা হবে না?
--কপালে যদি এই ভাঙ্গা আয়নার মত মুখটা দেখা যদি আপনার কপালে থাকে,তো হবে!
--কেন বারবার একি কথা বলেন?
--নিজেকে অভিশপ্ত মনে করতে ভাললাগে তাই।
--ওহ,
--আসি!
--আমাকে ভুলে থাকতে পারবে?
--এতদিন কাটিয়ে দিয়েছি,বাকিটা জীবন না হয় স্বপ্নের সন্ধানেই কাটিয়ে দিব, ভাল থাকবেন!

ইচ্ছে করছিল, আনিকাকে জড়িয়ে ধরে বলি
আর হারাতে চাইনা, তোমাকে!!সারাটা জীবন আগলে রাখব।কিন্তু বিশ্বাস বলতে ও একটা জিনিস আছে, যা সবার প্রতি থাকা প্রয়োজন।

পরেরদিন বাবাকে হাসপাতাল থেকে বাসায় নিয়ে আসলাম।  আসার সময় আনিকা মেয়েটা অসহায়ের মত আমার মুখের দিকে চেয়েছিল।
কিন্তু আমি অসহায়!!!
পৃথিবীর সব মানুষ যে একরকম তাতো না।  হতেই পারে যে, আমি সবকিছু মনে রাখতে পারিনা,ভুলে যাই। কিন্তু সেটা কি আমার দোষ, না কি আমার কপালের।
ভাগ্যের পরিহাসে আজ আমি এরকম একটা পরিস্থিতিতে অবস্থান করছি। কিন্তু আমি তো এরকম চাইনি?

সোফায় বসে আছি,তখনই মা এসে বললেন..
--একটা কথা ছিল?
--বল...
--বয়স তো কম হল না, বিয়ে সাধি করবি না?
--মা , কতবার বলব, আমি এখন বিয়ে করব না!
--তো কবে করবি, আমি মারা গেলে?
--মুখে যা আসে তাই বল না!
--তো কি বলব!
--মা
--কেন যে অতীথটা নিয়ে বসে আছিস!!
--এসব কথা বাদ দাও তো। আমি গেলাম.....
--কোথায় যাচ্ছিস
--অফিসে যেতে হবে?
--আচ্ছা।

অফিসে বসে আছি। কাজ করতে একদম ইচ্ছে হচ্ছে না। বারবার আনিকার অসহায় মুখটা সামনে চলে আসছিল।তখনই মোবাইলটা বেজে উঠল..
একটা অপরিচিত নাম্বার....
--হ্যালো
--ভাইয়া আমি ছোটু বলছি!!
--হ্যা ছোটু বল?
--আপুকে খোঁজে পাচ্ছিনা।
--মানে?
--আজ কাউকে না বলে বাসা থেকে বের হয়েছে, এখনও বাসায় আসেনি. মোবাইলও বন্ধ।
--কি বলিস?দাড়া আমাকে নাম্বারটা দে, আর বাসার ঠিকানাটা দে?
--আমি মেসেজে দিয়ে দিচ্ছি!

অফিস থেকে বেরিয়ে আসলাম।  মাথায় কিছুই ঢোকছেনা। কোথায় খোঁজব আনিকাকে?
কোনো এক্সিডেন্ট, না কিছুই ভাবতে পারছিনা।

ছোটুর দেয়া ঠিকানা মত ওদের বাসায় গেলাম..
বাসায় গিয়ে দেখি ওরা সবাই চিন্তায় অস্থির হয়ে আছে।
--ছোটু?
--ভাইয়া!!
--আনিকা এখনও আসেনি?
--না!!
--ওর সব বান্ধবীর বাসায় কল করেছ
--হ্যা ভাইয়া!
--তাহলে গেল কোথায়?
--ও বলেছিল আপনি ওকে ক্ষমা না করলে ও মরে যাবে?
--কি বলছিস?
--হ্যা,
তখনই মোবাইলটা বেজে উঠল...
পকেট থেকে বের করে দেখি মা কল করেছেন..
--হ্যা মা!!
--কোথায় তুই?
--কেন?
--তাড়াতাড়ি বাসায় আয়?
--কেন কি হয়েছে?
--যা হবার তো হয়ে গেছে, এখন বাসায় আয়!
--মানে? (কলটা কেটে গেল)

একটা চিন্তার উপর এখন আরো একটা চিন্তা!!!

আনিকাদের বাসা থেকে বের হয়ে রাস্তায় হাটছি। কি করব কিছুই মাথায় আসছে না। এইদিকে বাসায় যেতে হবে!!!

বাসার সামনে আসতেই মাথাটা এমনভাবে ঘুরল, যে নিজেকে ঠিক ধরে রাখতে পারিনি,পড়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলাম।

যখন জ্ঞান ফিরল, তখন নিজেকে নিজের রুমে আবিষ্কার করলাম।
হঠাৎ কপালে এক বিন্দু জল পড়তেই আমি চোখ তোলে থাকালাম,উপরের দিকে।  দেখি একটা মেয়ে অজস্র দাঁড়ায় শব্দহীন ভাবে কান্না করে যাচ্ছে।
--কে?
--আমি!(কান্না জড়িত কন্ঠে)
--আনিকা আপনি!
তখনই মা এসে হাজির.....
--হ্যা, ও এসেছিল তকে অবাক করবে বলে, কিন্তু তর অবস্তা দেখে নিজেই অবাক হয়ে গেছে!!

কান্না জড়িত কন্ঠে আনিকা বলে উঠল...
--সরি?
--সরি না বল দুঃখিত!!!

........... সমাপ্তি...........

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ