♥
- এক কাপ চা হবে?
( একটু সাহস নিয়েই বললাম যদিও চাওয়াটা ঠিক হয়নি।যে কোন সময় বজ্রপাত হতে পারে শ্রাবন্তির দিক থেকে।একে তো অফিস থেকে লেট করে ফিরছি।তার উপর অফিসের কাজ বাসায় নিয়ে আসছি।যা শ্রাবন্তির কাছে মোটেও সহ্যের বিষয় না।তারচেয়ে বড় ব্যাপার হল নিজের কাজ না,এম.ডি ম্যাডামের কাজ।রাত জেগে কাজ করতে হবে বিধায় চা চাইলাম।)
ফাইল সরানোর জন্য বাম পাশে ঘুরতে যেয়েই কনুইয়ের গুতা লেগে ঠাস করে কাপ পিরিচ পড়ে ভেঙে গেল।শ্রাবন্তির চেহারায় অগ্নিময় আভা ধারন করল।কাঁচুমাচু করে সরি টুকু বলে নিজেই ফ্লোর থেকে ভেঙে যাওয়া কাচের টুকরা গুলা পরিষ্কার করতে শুরু করলাম।ও কোন কথা না বলে আমাকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিয়ে কাজ টা নিজের করে নিল।যে কোন সময় ফেটে পড়বে।সেই থেকে চুপ চাপ। একটা কথা বলেনি আমার সাথে।জাইগাটা ক্লিয়ার হলে আবার নিজের কাজ শুরু করেছি।কতক্ষন পর আবার আর এক কাপ চা বানিয়ে নিয়ে এল।এমনিতে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধের চা বানিয়েছে শ্রাবন তাও এক কাজ আমার জন্য দুবার করতে হল।বুঝতেই পারছি ওর মেজাজ সপ্তাকাশে।তাই বেশি ঘাটাঘাটি না করে কাজে মনোনিবেশ করলাম।নিজের মত শুয়ে পড়েছে শ্রাবন।আড় চোখে চেয়ে দেখি বার বার একাথ-ওকাথ করছে।স্থির হয়ে শুতে পারছে না অবশ্য আমাকে ছাড়া ও কখনই স্থির হয়ে শুতে পারে না।এদিকে চাকরীটা রাখতে হলে ম্যাডামের কাজটা আজই শেষ করতে হবে.....
তিনটা বাজে বিছানায় উঠেছি।পেছন থেকে শ্রাবনের গায়ের উপর ডান হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরতে গেছি মাত্র। যেইনা টাচ করেছি.....
- উউউহহহ......সর দুরে যা....হ
হঠাৎ এমন ভাবে রিএক্ট করাতে ভয় তো পেলামই...সাথে সাথে নির্দিষ্ট দুরত্ব বজায় রেখে সরে গেলাম।মানে এখনো ঘুমাইনি শ্রাবন।
;
অফিসের জন্য রেডি হচ্ছি।
- আজ কি সময় মত আসতে পারবেন?
আপনি করে কথা বলছে।তারমানে এখনো রাগ কমেনি শ্রাবনের।
- আমি কিছু বলেছি কথা কানে যায়নি?
- জি? হ্যাঁ অবশ্যই। আজ বিশেষ কোন কাজ নেই।প্রেসারও কম।
- লাঞ্চ, বক্সে দিয়ে দিয়েছি নিয়ে যাবেন।
- আচ্ছা...
না জানি কত্ত সকালে উঠে রান্না করেছে বেচারি। নিজের কাছেই খারাপ লাগছে যে এত রাত জেগে থেকেও আবার আটটার ভেতর রান্না শেষ করেছে ও।ডেস্কে রাখা ফোনটা বেজে উঠলো...
- ইয়েস....
- প্রহর সাহেব একটু আমার রুমে আসবেন তো...
- ইয়েস ম্যাম আসছি...
ম্যাডামের ফোন! আসলে মেয়েটা একটা বিরক্তি।বাবার থেকে পাওয়া বলে এমডি হতে পেরেছে।না হলে এই টাইপের গাধি এম.ডির চেয়ারে বসতে পারে! গায়ে পড়া স্বভাব। এই জন্যই শ্রাবন আমাদের এম.ডি কে সহ্য করতে পারে না।এক অফিসেই চাকরী করতাম শ্রাবন আর আমি।বিয়ের পর ও চাকরি ছেড়ে দিয়েছে।ও যতদিন ছিল অফিসে ততদিন আমার সাথে একটা দুরত্ব ছিল ম্যাডামের। ও যাওয়ার পর থেকে একটা কাজ ম্যাডাম করে না।সব টা আমাকে সামাল দিতে হয়।প্রমোশন হবে হবে করে এখনো এখানে আছি।শ্রাবন সকাল বিকাল দুবার বলে এই কোম্পানির জব ছেড়ে দাও।অন্য কোথাও ট্রাই কর।জব ছাড়া খুব সহজ পাওয়া কি মুখের কথা?
কষ্ট করে পড়ে আছি এখানে।
যা ভেবেছিলাম তাই।একটা নতুন ফাইল ধরিয়ে দিয়েছে।হিসেবটা মিলিয়ে দিতে হবে।ওদিকে অফিস টাইম শেষের দিকে।কাজের অর্ধেক হয়নি এখনো। মাথায় নানা প্ল্যান ছিল আজ।সব ভেস্তে দিল কুত্তি মেয়েটা।
;
কলিংবেল টিপতেও ভয় লাগছে।না জানি দরজার ওপাশে আজ কি নিয়ে দাড়িয়ে আছে!
চিন্তা ভাবনা ঝেড়ে ফেলে বেল দিলাম।আমার ভাবনা আজ মিথ্যা প্রমানিত হল।চোখ দুটো ফুলে আছে শ্রাবন্তির।কান্না করেছে মনে হয়।
- এই কি হয়েছে? তোমার চোখ ফোলা কেন?
ও কিছু না বলে ভেতরে চলে গেল।
- শ্রাবন কথা বল প্লিজ।
- কিছু হয়নি আমার।খেতে আসো...
- বল না কি হয়েছে?
- আহ কিছু হয়নি বললাম তো।ফ্রেস হয়ে আস খেতে দিচ্ছি।
ও চলে যাচ্ছিলো! পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে সরি বললাম...
- সরি বলার কি আছে? তুমি সারাদিন বিজি থাকো অফিসে।তোমার কি দোষ।আমি বাসায় একা থাকব।রাতে ফিরে খেয়ে ঘুমিয়ে পড়বা না হয় কোন কাজ নিয়ে আসবে বাসায়।আমি কে! বা আমার কোন ইম্পরট্যান্টস আছে কি নেই সেটাই বা কে বলে!
- সত্যিই খুব সরি বাবুনি...
- প্রহর আমার ভাল লাগছে না ছাড়।
- আচ্ছা কি রান্না করছো?
- তোমার যা খেতে ভাল লাগে সব আছে!
- পরে খাব এখন না।
- ঠিক আছে তুমি খেয়ে নিও আমি ঘুমুতে যাই।
- এত তাড়াতাড়ি কেন? একটু গল্প করি?
- আমি বললাম তো আমার ভাল লাগছে না।
ঠিক তখনি কলিংবেল বেজে উঠলো।এটার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম।শ্রাবন দরজা খুলে দিয়েছে।অনলাইনে অর্ডার ছিল আমার।প্যাকেটটা নিয়ে টাকা দিয়ে বিদায় করে দিলাম ছেলেটাকে।জিজ্ঞাসু চোখে তাকিয়ে আছে মেয়েটা।ভ্রু নেড়ে ওর কাছে জানতে চাইলাম কি হয়েছে? এভাবে তাকিয়ে আছো কেন?
- কি আছে ওতে?
- সেটা তোমার না জানলেও চলবে।ঘুমাতে যাবে না? যাও......
কোন উত্তর না দিয়েই চলে যাচ্ছে মেয়েটা বেডরুমের দিকে।
টেবিলের উপর বিভিন্ন আইটেমের তরকারি সাজিয়ে রাখা।সব আমার পছন্দের খাবার।এগুলো কেন রান্না হয়েছে আমি জানি।সারা দিন একা একাকা এসব করেই কাটিয়েছে ও।ক্লান্তিতে আজ চোখ বুজতেই ঘুমিয়ে পড়েছে।আমার কাজও শেষ.....
ঘড়িতে বারটা বাজার ঘন্টা পড়ে গেছে।শ্রাবনের মাথার কাছে গিয়ে বসছি....
- শ্রাবন...?
- উউউ...
- এই শ্রাবন?
- উউউহ....
- আরে ওঠো.....
- কি হইছে?
- হ্যাপি বার্থডে টু ইউউ.....
ওর চোখের সামনে একটা মাত্র মোমবাতি জ্বলছে।আর সারা ঘরে লাল,নীল রংয়ের বাতি জ্বলছে।ঘুমের রেশ কেটে যেতে মুখে আস্তে আস্তে হাসি ফুটে উঠলো।সারা ঘরে একবার চোখ বুলিয়ে নিয়েই লাফ দিয়ে আমার কোলে উঠে বসছে। গলা ধরে চুমু খেলো....
- তুমি সত্যিই ভুলে যাওনি! আমি ভাবছিলাম......
- আমার জান টার জন্মদিন কিভাবে ভুলি!?
- ইশশ ঢং......
- আমার সব কিছুই তোমার ঢং মনে হয়।এখন চল কেক কাটব।
ঘরের মাঝখান টায় ছোট্ট টেবিল টা রেখে কেক সাজিয়েছি।
এত টুকু কাজেই যেন সমস্ত অমাবস্যা কেটে পুর্নিমার চাঁদ উঠেছে শ্রাবনের আকাশে।এত টুকুতেই খুশি হয়ে গেছে মেয়েটা।
- আমার গিফট কোথায়?
- তার আগে এত কিছু করলাম আমার গিফট কে দিবে?
সাথে সাথে আমার মাথা টেনে নিয়ে দু গালে দুইটা চুমু খেয়ে আবার বলল...
- এবার আমার গিফট?
হাসতে হাসতে গোলাপের তোড়াটা ওর হাতে দিয়ে বললাম...
- তোমার গিফট।
হাসি মুখেই গ্রহন করলো ফুল গুলো।ও জানে এর থেকে বেশি দেয়ার ক্ষমতা এখনো হয়নি আমার।আর ওর চাওয়া ও এর থেকে বেশি কিছু নয়।
- শালা কিপটা।শুধু ফুল? এর পরের বার আরও অনেক কিছু দিবা।
এর আগের জন্মদিনেও এই কথাই বলেছিল ও।
- কি হল দিবা তো?
- হ্যাঁ বাব দিব তো!
- এই খেয়েছো তুমি?
- কিভাবে খাব তুমি তো ঘুমিয়ে পড়েছিলে!
- আহারে বাবুনি খিদে পেয়েছে খুব তাই না ?
- হ্যাঁ প্রচন্ড...
- আচ্ছা চলো খেতে দিই তোমাকে.....
- চলো...
এভাবেই প্রহর শ্রাবনের একটু খানি ভালবাসার সংসার একটু একটু করে এগিয়ে চলেছে.....
;
;
;
;
লেখা : Parvej Imran Prohor
āĻāϞ্āĻĒ āϏংāĻ্āϰāĻš āĻāϰা āĻāĻŽাāϰ āύেāĻļা। āϰোāĻŽাāύ্āĻিāĻ, āĻৌāϤিāĻ, āϰāĻŽ্āϝ, āĻৌāϤুāĻ āϏāĻš āĻšাāĻাāϰো āĻāϞ্āĻĒ āĻāĻে āĻāĻŽাāϰ āϏংāĻ্āϰāĻšে।
āĻļāύিāĻŦাāϰ, ā§§ā§Ŧ āĻĄিāϏেāĻŽ্āĻŦāϰ, ⧍ā§Ļā§§ā§
3847
āĻāϰ āĻĻ্āĻŦাāϰা āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰা
Rahathossain1010100@gmail.com
āĻāĻ āϏāĻŽā§ে
⧧⧍:ā§Ē⧝ AM
āĻāϤে āϏāĻĻāϏ্āϝāϤা:
āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝāĻুāϞি āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ (Atom)
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ