«অণু গল্প...
ঃঅভিমান....»
“
বাইরের কেবিনে অণুর তিব্র কান্না জড়িত কণ্ঠ আমার শরীরে কাঁটার মত বিঁধছিল।আমি কাকে বাঁচাবো ..?কিভাবে বাঁচাবো ..?শ্বাস রোধ হয়ে আসতেছিল আমার।এক্সিডেন্ট টা এমন ভাবে হয়েছে।বাবা -মেয়ের মাথা একেবারে থেতলে গেছে।বাঁচার কোন ভরসা নেই।প্রিয় মানুষ টাকে চোখের সামনে এতদিন পর এইভাবে অসহনীয় অবস্থায় দেখতে পাবো ভাবতে পারি নি।এমন ই হয়ত হওয়ার ছিল।
“
আজ থেকে এক বছর পাঁচ মাস আগে বিয়ে হয়েছিল অণুর।নিজের বেঁচে থাকার সম্বল ছিল অণু।আমাকে না বলেই বাবা -মায়ের কথা রাখতে গিয়ে বিয়ে করে ছিল অণু।মাঝেমধ্যে আমাকে ফোন দিত।অভিমান করে বলেছিলামঃ“ বেঈমান আর কোন দিন আমাকে ফোন দিবি না।আর আমার চোখের সামনে আসবি ও না।চোখের সামনে পড়লে তোকেও খুন করবো আর সাথে তোর পরিবার কেও”..আসলে কথাটা।অভিমান ই ছিল।সেইদিনের পর থেকে অণু আর আমাকে ফোন দেয়নি।আর ওর মুখ ও দেখতে পায়নি।মনে মনে কত ভেবেছি ওকে।দেখার স্বাধ জেগেছে।কিন্তু দেখতে পাবো কোথায়।ও তো আজ অন্নের সংসারী। নিজের উপর ভিষণ অভিমান হত আর অণুর উপর ও।কি মেয়ে তুই কি বুঝিস নি কথাটা শুধু মাত্রই অভিমান ছিল।তোকে খুন করার আগে যে নিজেই খুন হয়ে যাবো রে পাগলি।
“
প্রত্যেকদিনের মত আজও ফজরের নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে দুইহাত তুলে অণুর জন্য দোয়া করেছি।যেন আমার হারিয়ে যাওয়া পাগলিটা ভাল থাকে।অনেক রাতে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছি।তড়িঘড়ি করে হালকা কিছু খেয়েই শীত লাগার জন্য শুয়ে পড়লাম।হঠাৎ ই মাথার ব্যথায় জেগে গেলাম।তখনো ভোর হয়নি।অবশ্য ভোর হওয়ার ও বেশি দেরি নেই।আপনজন বলতে কেউ নেই।শুধু বৃদ্ধ মা।তাকে দেখার জন্য পরিচারিকা আছে।
“
অণু চলে গেছে।আজও বিয়ে করিনি।অনেক বার ই বৃদ্ধ মা বলেছে ঃঅপু বিয়ে কর।আমি তোর বউ দেখতে চাই।বরাবরের মত এবার ও উত্তর দিয়েছিঃ“ মা আমি যদি আমার মনেই জায়গা দিতে না পারলাম তাহলে কেন বিয়ে করবো।আমি বিয়ে করতে পারবো না..“
আমার মনে শুধুই অণু ছিল।
“
আসলে জীবনে অনেকেই আসে।জীবনে চলার পথে অনেক জন কেই চোখের দেখায় ভাল লেগে যায়।কিন্তু সেই চোখের দেখা আর তিনমাস ছয় মাসের ভাল লাগায় জীবন কি চলবে..?
চলবে না।সেই সব ক্ষণিকের ভাল লাগা আমার ভালবাসা কাছে হার মেনে যায়।আমি শুধুই অণুকে ভালবাসি।আর আজও। যখন অণুর চোখ,মুখ,ওর কণ্ঠ আমার কানে বাজে চোখের সামনে ভেসে ওঠে সে যেমন ই ছিল তবুও তখন ই সব কিছু তুচ্ছ মনে হয়।কারণ ওর মত তো আর কেউ হবে না।মনে হয় ভালবাসা একবার ই হয়।আর তা অতি সাধনার ফলে হয়।মাথার ব্যথায় ঘুম থেকে জেগে গেছি।বাইরে ঘুটঘুটে অন্ধকার হলেও শহরের রাস্তাঘাট অন্ধকার থাকে না।মনে হচ্ছিল অণুকে।এখনো ওর একটা ছবি দেওয়ালে ফ্রেমে বাঁধানো রয়ে গেছে।আসলে।মনের ফ্রেমেই যে এখনো বন্ধি হয়েই আছে।আর তো সামান্য দেওয়াল।তাকিয়ে ছিলাম ওর ছবির দিকে।ভালবাসা টা আজ দেওয়াল বাধা ছবি হয়ে গেছে।আর কোন অস্তিত্ব নেই।ছুঁয়ে দিলে শিহরিণ ও জাগবে না।শুধু দেহটা নিস্তেজ হয়ে প্রাণ গুলি বের হয়ে উপরে চলে যাবে।“অণু এ কেমন বদ্ধ ঘরে আটকে তুমি চলে গেছো.?”
ছটফট করতে করতে ফযরের আযানের সুমধুর ধন্নি আমার কানে চলে এলো।ওযু দিয়ে নামাজ পড়ে শুয়ে যাওয়ার আগে ডক্টর বরুণ কে ফোন দিয়ে জানিয়ে দিলাম আজ আমার শরীর ভাল নেই।জরুরি কোন রুগি না আসা পর্যন্ত আমাকে ডাকবেন না।
“
প্রায় বারো টা। বরুণ সাহেবের ফোনেই ঘুম ভেঙ্গে গেল।“স্যার আসুন আপনকে ছাড়া এই রোগিদের বাঁচানো যাবে না।..“ফোনের ওপাশে কোন এক মহিলার কান্না আমার কানে আসতেছিল।হৃদ পিণ্ডটা এক ঝলক নড়ে উঠল।কান্না টা কি আমার কোন প্রিয়জনের।উঠে পাঁচ মিনিটে রেডি হয়ে চলে গেলাম।হাসপাতালের বাইরের কেবিনে পা রাখতেই ‘থ’ মেরে দাঁড়িয়ে গেলাম।কি দেখছি এসব।আর কেউ নয়।আমার অণু।বুঝতে পারছিনা কি করবো।ডুকরে ডুকরে পাগলের মত কাঁদছে আর বলছে ঃআমার মেয়েকে চাই।ওর শশুড় শাশুড়ি ,বাবা-মা কেউ বুঝিয়ে কান্না থামাতে পারছে না।আমি।ওর মুখোমুখি হওয়ার শক্তি পাচ্ছিনা।ডক্টর বরুণ আমাকে হাত ধরে নিয়ে গেল স্ট্রেচারের সামনে।স্ট্রেচারের উপর মাথায় প্রচন্ড আঘাত প্রাপ্ত নিরব নিথর বাবার পাশে শুয়ে আছে চুপটি করে ফুটফুটে বাচ্চা মেয়েটা।এ যে আমার অণুর বাচ্চা।সারা শরীর লাল টুকটুকে রক্তে রঞ্জিত।বোঝা যাচ্ছে পিচ্চি পরিটা গোলাপি জামা পড়েছিল।কিন্তু সেটাও ঠিক মত বোঝা যাচ্ছে না।ডক্টর বরুণ পরীর পাশ থেকে তার বাবাকে ট্রিটমেন্টের জন্য নিয়ে গেল।আর আমার কানে বলে গেল।বাচ্চা টা আর নেই।আমার চোখ দিয়ে কখন পানি চলে আসছে,কখন ডুকরে কেঁদে উঠেছি জানিনা।শুধু পিচ্চি পরীর গায়ে হাত বুলাচ্ছি।আর বলতে চাচ্চি “মা ওঠ.”কিন্তু।কান্না ছাড়া কিছুই বের হচ্ছে না।বাইরের কেবিন থেকে শুধুই একটাই আর্তনাদ ভেসে আসছে ‘আমার মেয়েকে চাই’...ডক্টর বরুণ এসে টানছে ‘স্যার চলেন আপনাকে ছাড়া ওনাকে হয়ত বাঁচানো যাবে না।কিন্তু শক্তি পাচ্ছি না।অণুকে কি উত্তর দেব।ডক্টর বরুণের সাথে চলে গেলাম।ততক্ষণে গিয়ে অণুর স্বামী প্রান্ত আর নেই।ডক্টর বরুণের কাছে জানতে পারলাম।প্রান্ত প্রত্যকদিন কাজে যাওয়ার সময় পরী কে বাইরে মোটর বাইকে দুই একবার ঘুরে নিয়ে আসে।আজও সেটাই করতে গেছিলো।মেইন রোডে পিছন থেকে ট্রাক চাপা দিয়ে চলে গেছে বাবা-মেয়েকে।
“
পা নিথর বাইরে গিয়ে সবাই কে কি বলবো।আর অণু ওকে কিছু বলা মাত্রই হয়ত স্বামী সন্তানের শোকে মারা যাবে।ডক্টর বরুণ আমাকে ধরে বাইরে নিয়ে গেল।বরুণ সবাকে জানিয়ে দিলো বাবা-মেয়ে দুজন ই মারা গেছে।শোনা মাত্র অণু এসে আমার শার্ট এর কলার ধরে ডুকরে কাঁদছে আর বলছে তুই ই মেরেছিস আমার স্বামী সন্তান কে।তুই বলেছিলি তোর সামনে যেন কোন দিন না আসি। বলেই সেন্সলেস হয়ে পড়ে গেল।ওকে ধরে বাড়িতে নিয়ে যেতে বললাম সবাই কে।ওকে নিয়ে চলে গেল।
“
অণুর সামনে যাওয়ার মত মুখ আর আমার ছিল না।অভিমানে বলেছিলাম আর আমার সামনে আসবি না।এলে তোকে আর তোর পরিবার কেই খুন করে ফেলবো।আর আজ ওর পরিবার ই শেষ।যদিও আমি কোন ক্ষতি করিনি।প্রায় পাঁচ দিন পর।অণুর বাবা-মা,শশুড় -শাশুড়ি ডেকে পাঠিয়েছে।যেতে কষ্ট হচ্ছে।কি করে দাঁড়াবো অণুর সামনে।গিয়ে দেখি পাগলের মত দেওয়ালের দিকে মুখ করে শুয়ে আছে অণু। কিছু না বলে ওর বাবা-মা,শশুড় -শাশুড়ির সাথে দেখা করলাম।সবার সিদ্ধান্ত অণুকে বিয়ে করতে বলে।এইভাবে ওর জীবন নষ্ট হয়ে যাবে।হা না কিছু না বলে অণুর রুমে গিয়ে ডাকলাম।
আমার দিকে মুখ করতেই দু চোখের পানি আস্তে করে ছেড়ে দিল...ওর পাশে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে কানে কানে বললাম...‘তুমি আবার পপিচ্চি পরীকে ফিরে পাবা..’
হয়ত অণু কথাটা বুঝেছে।কি বলতে চাইছি।হয়ত আমাকে মেনে নিতে অনেক কষ্ট হবে।যদিও এক সময় ভালবেসেছিল।ওকে আমার বুকে টেনে নিলাম আর মনে মনে বলতে লাগলাম “অণু রে তোকে এই ভাবে ফিরে পাবো ভাবিনি..“সব শেষ হয়েও আবার শুরু হবে তাও ভাবিনি।
āĻāϞ্āĻĒ āϏংāĻ্āϰāĻš āĻāϰা āĻāĻŽাāϰ āύেāĻļা। āϰোāĻŽাāύ্āĻিāĻ, āĻৌāϤিāĻ, āϰāĻŽ্āϝ, āĻৌāϤুāĻ āϏāĻš āĻšাāĻাāϰো āĻāϞ্āĻĒ āĻāĻে āĻāĻŽাāϰ āϏংāĻ্āϰāĻšে।
āĻļāύিāĻŦাāϰ, ā§§ā§Ŧ āĻĄিāϏেāĻŽ্āĻŦāϰ, ⧍ā§Ļā§§ā§
3848
āĻāϰ āĻĻ্āĻŦাāϰা āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰা
Rahathossain1010100@gmail.com
āĻāĻ āϏāĻŽā§ে
⧧⧍:ā§Ē⧝ AM
āĻāϤে āϏāĻĻāϏ্āϝāϤা:
āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝāĻুāϞি āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ (Atom)
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ