# অবহেলা
৭ম/শেষ পার্ট....
.
***
মাঝরাতে কোন কিছুর আওয়াজে ঘুম ভেঙ্গে
গেল!
তাকিয়ে দেখি টেবিলে বসে কলম খাতা হাতে
নিয়ে কি যেন লিখতেছে আশিকা।
আমি ঘুমের ভান করে আড়চোখে দেখতে
লাগলাম।
হঠাৎ লক্ষ করলাম মেয়েটা ফুপিয়ে ফুপিয়ে
কাঁদতেছে লেখা শেষ করে।
একটুপর আশিকা লেখা পৃষ্টা টা ছিড়ে আমার দিকে
এগিয়ে আসলো।
আমি ঘুমিয়ে আছি এমন ভাব নিয়েই শুয়ে রইলাম।
একটু পরই অনুভব করলাম কাগজটা আমার বালিশের
কাছে রেখে দিল আশিকা।
এরপর আমার কপালে একটা চুমা দিয়ে চলে গেল।
আমি চোখটা খুলে তাকালাম।
দেখি দরজা খুলে বের হয়ে যাচ্ছে আশিকা।
আমি দ্রুত আশিকার রেখে যাওয়া কাগজটার ভাজ খুলে
পড়তে লাগলাম--
প্রিয় অচেনা বন্ধু,
আমি জানি তুমি খুব কষ্ট পাবে আমি হারিয়ে যাওয়ায়।
তবুও কিছু করার নাই।
যেই পৃথিবীতে নিজের আপন মানুষের অবহেলা
পেলাম সেই পৃথিবীতে থেকে কি লাভ?
তবে এত অবহেলার মাঝেও তোমার নিকট হতে যা
পেয়েছি এটা সত্যিই অনেক বড় পাওয়া।
আমি চেয়েছিলাম কোন এক সহজ সরল
ছেলেকে বিয়ে করে আমি বাড়িতে ফিরে যাব।
কিন্তু তা তো সম্ভব হয়নি। তার পরেও তোমায়
নকল স্বামী বানিয়ে অনেক আশা নিয়ে নিজের
বাড়িতে ফিরেছিলাম।
ভেবেছিলাম তারা হয়তো আমায় বুঝবে, ফিরিয়ে
নেবে তাদের বুকে।
ভেবেছিলাম তারপর তোমায় বিয়ে করে আসল
স্বামী বানিয়ে নতুন একটা জীবন শুরু করব। তা
তো আর হলো না।
এমন অভিশপ্ত জীবন নিয়ে কি আর করব বলো?
তবে যাবার আগে একটা সত্য কথা বলে যাই।
প্রথম যেদিন ট্রেনের ভিতর একটা মেয়ের
সাথে দেখা হয় তোমার, সেই মেয়েটি ছিলাম
আমি।
আমিতোমায় দেখেই বুঝেছিলাম তুমিই আমার
উপকারে আসবে।
তোমার পিছে লেগেছিলাম ট্রেনে ওঠার আগে
থেকেই।
আমি মুখে মেকাপ নিয়ে অন্য চেহারায় ছিলাম।
তুমি পরে আসল রুপে চিনতে পারোনি আমায়।
আমার সাথে তোমায় নেয়ার জন্যই তোমার ব্যাগ,
টাকা নিয়ে নেমে আসি।
তখন মেকাপ মুছে আমি তোমার নামার অপেক্ষায়
ছিলাম।
তুমি যখন আমায় খুঁজছিলে আমি তোমার আড়ালে
লুকিয়ে ছিলাম।
এরপর দোকানে ওমন ঘটনা আমায় তোমাকে
সাথে পাওয়া সহজ করে দিয়েছিল।
তারপরের ঘটনা তো জানোই।
এমন অভিনয়ের জন্য আমায় মাফ করে দিও।
এমন কলঙ্কময় জীবন নিয়ে আর কিভাবে থাকবো
বলো।
আমি জানি তুমি আমার জন্য সবই করবে।
মানুষ চিনতে ভুল করিনি আমি।
তাইতো তোমার মতো সহজ সরল ছেলের
জীবনের বোঝা হয়ে না থেকে চলে যাচ্ছি।
কষ্ট নিও না। এই কয়দিনের পরিচয়ে এতো বেশি
আপন করে নিয়েছিলে যার ঋন আমি শোধ
করতে পারব না।
আমি ভুলের পর আরেকটা ভুল করতে যাচ্ছি। জানি
সেটা মহাপাপ।
তবুও এমন খুনি, কলঙ্কময়ী অভিশপ্ত জীবন
থেকে মুক্তি নিয়ে চলে গেলাম মৃত্যুর দুয়ারে।
আমি চিঠিটা লেখার আগেই কিছু খেয়ে ফেলেছি
মৃত্যুর জন্য। (কেউ দায়ী নয় আমার মৃত্যুর জন্য)
বিদায় হে প্রিয়।
.
এটুকু পড়েই আমি লাফ দিয়ে বিছানা থেকে নেমে
রুমের বাইরে চলে এলাম।
পাগলের মতো খুঁজতে লাগলাম ওকে।
নাহ, কোথাও নেই।
সিড়ি বেয়ে নিচে নেমে এলাম।
হঠাৎ একটা কথায় আমি চমকে তাকালাম ছাদের দিকে!
-আমাকে খুঁজছো? এটুকু বলেই সেই অদ্ভুত হাসি
ভেসে আসলো ছাদ থেকে।
এরপর সেই অদ্ভুত ভুতুরে আওয়াজ।
যেই আওয়াজ আর হাসি ব্যবহার করে আশিকা খুন
করেছে কয়েকটা।
আমি তাড়াতাড়ি দৌড়ে ছাদে উঠলাম।
ছাদের রেলিং ঘেসে চুপটি করে হেলান দিয়ে
বসে আছে আশিকা।
হাতে মোবাইল। রেকর্ড করা কথা, হাসি আর আওয়াজ
বেজেই চলছে।
কালকের সাজসজ্জা এখনো আছে এই
মেয়েটির।
কি সুন্দর লাগতেছে মেয়েটাকে।
যেন কবিদের কল্পনায় আঁকা এক পরী।
আশিকা হয়তো ঘুমিয়ে গেছে।
আমি আস্তে করে ওর পাশে বসে পরলাম।
দুহাতে ওর দুটো গাল ধরে কপালে একটা চুমু দিলাম।
হঠাৎ নেতিয়ে পড়ে গেল আশিকার দেহটা!
আমি ওর দেহটাকে কোলে তুলে নিয়ে
পাগলের মতো দৌড় দিলাম।
কোথায় ঘুতো খাচ্ছি, হোচট খাচ্ছি খেয়াল নেই।
নিচে নেমেই দারোয়ানকে বললাম গাড়ি নিয়ে আয়
তাড়াতাড়ি।
হাসপাতালে নিয়ে গেলাম আশিকাকে।
ডাক্তার মেয়েটার চোখদুটো মিলিয়ে দিয়ে
বলল-- উনি নেই, চলে গেছে চিরতরে।
এমন একটা বিষ ও পান করে নিয়েছে যা পান করার ৫
মিনিটের ভিতর মানুষের মৃত্যু হয়।
আমি ডাক্তারের এই কথা বিশ্বাস করতে পারিনি।
আশিকার দেহটাকে বুকে জড়িয়ে বললাম-- এই পাগলি
তুমি আর কতো ঘুমাবে?
এখন ওঠো গো---
আজ আমি তোমায় বিয়ে করব। তোমায় নতুন
জীবন উপহার দেব। যেই জীবন পেয়ে ভুলে
যাবে পেছনের কলঙ্কময় দিনগুলো।
আমি ওদের মতো তো তোমায় অবহেলা করিনি।
তুমি চোখ খুলে দেখো--
আমি আজ তোমায় বাড়িতে নিয়ে যাব, মা বাবাকে
বলেই রেখেছি যে তোমায় জীবন সাথী
করে নেব।
কি হলো..? কথা বলবে না?
আর আমি কথা বলতে পারিনি। আশিকার মৃতদেহটা বুকে
জড়িয়ে চিৎকার করে কেঁদেছিলাম কতক্ষন।
*** (সমাপ্ত)
গল্পটা থেকে শিক্ষা নেয়া যায়---
১.প্রত্যেক বাবা মায়ের উচিৎ সন্তানকে নিজেদের
ভালোবাসায় বেধে শিক্ষা দেয়া। তারা কোন ভুল
করে ফেললেও তাদের অবহেলা বা ঘৃনা করে
দুরে সরিয়ে না দিয়ে কাছে রেখে শাসন করা বা
শাস্তি দেয়া।
.
২. কোন সন্তান যেন মা বাবার নিষেধ অমান্য করে
কোথাও না যায় বা কোন সিদ্ধান্ত না নেয়।
.
৩. আপনার যুবতী মেয়েটাকে একা স্কুলে বা
কোথাও যেতে না দেয়া।
.
৪. যুবতী বোন/বন্ধুরা দিনের আলো থাকতেই
বাড়িতে ফিরে আসা।
আর সবসময় রাস্তাঘাটে একা চলাচল না করা।
.
৫.এই আশিকার মতো কোন মেয়ে যেন এমন
ঘটনার সম্মুখীন না হয় সেদিকে খেয়াল করে চলা।
----ধন্যবাদান্তে----মুনসুর।
āĻāϞ্āĻĒ āϏংāĻ্āϰāĻš āĻāϰা āĻāĻŽাāϰ āύেāĻļা। āϰোāĻŽাāύ্āĻিāĻ, āĻৌāϤিāĻ, āϰāĻŽ্āϝ, āĻৌāϤুāĻ āϏāĻš āĻšাāĻাāϰো āĻāϞ্āĻĒ āĻāĻে āĻāĻŽাāϰ āϏংāĻ্āϰāĻšে।
āĻļāύিāĻŦাāϰ, ā§§ā§Ŧ āĻĄিāϏেāĻŽ্āĻŦāϰ, ⧍ā§Ļā§§ā§
3833 (3)
āĻāϰ āĻĻ্āĻŦাāϰা āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰা
Rahathossain1010100@gmail.com
āĻāĻ āϏāĻŽā§ে
⧧⧍:ā§Šā§Ŧ AM
āĻāϤে āϏāĻĻāϏ্āϝāϤা:
āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝāĻুāϞি āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ (Atom)
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ