# অবহেলা
৪র্থ পার্ট....
Md Munsur Helal
***
দুজন পাশাপাশি সিটে বসে আছি।
কারো মুখে কোন কথা নাই।
হঠাৎ লক্ষ করলাম আশিকার (মেয়েটির) চোখ
বেয়ে টুপটুপ করে পানি গড়িয়ে পরছে।
আমি নিরবতা ভেঙ্গে ওকে বললাম আপনি কাঁদছেন
কেনো?
-সময় হলে সবই বলব। আগে বলো আমার স্বামী
সেজে বাড়িতে গিয়ে আমায় সাহায্য করবে তো?
-হা করব কথা দিলাম।
তবে আপনাদের গ্রামে গিয়ে আমার চেনা কোন
লোকের সাথে দেখা হলে তো আমার বারোটা
বেজে যাবে।
আমি কি করব তখন? আমার বাড়ির বা গ্রামের লোকজন
তো জানে আমি চাকরির জন্য ঢাকায় আছি।
-ওসব আমি দেখব। তোমার কোন ক্ষতি বা বদনাম
হয় এমন কিছু করব না।
আর তুমি আমায় এখন থেকে আপনি করে না বলে
তুমি সম্বোধন করে বলবে ঠিকাছে?
-আচ্ছা ঠিকাছে। লজেন্স খাবেন?
আমার কথায় আশিকা অবাক হওয়ার মতো করে আমার
দিকে তাকালো।
আমি পকেটে রাখা লজেন্স দুটো বের করে
একটা ওর হাতে দিলাম আরেকটা নিজের মুখে
ঢুকালাম।
আবার খানিক নিরবতা।
জানালা দিয়ে হালকা বাতাস এসে চোখে ঘুম বসিয়ে
দেয়ার চেষ্টা চলছে।
তবুও জোর করে ঘুমকে দুরে সরিয়ে দিয়ে
পাশে বসে থাকা মেয়েটার সৌন্দর্য উপভোগ
করতেছি।
এখন বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে যে এই সুন্দর
মেয়েটিই একটু আগে পতিতালয়ে ছিল।
যদিও ওকে আমি পতিতালয় থেকেই চিনি।
কিন্তু এই দুইদিনে এই মেয়ের থেকে খারাপ
কোন আচরন দেখিনি আমি।
দেখেছি দুচোখে মায়া আর ভালোবাসা।
এতো ভালবাসাময় মেয়েটিকে পাশে রেখেও
তাকে বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে।
গতরাতে এই মেয়ের খুন করাটা এখনো চোখে
ভাসছে।
এই মেয়েই ভুত/পেত্নীর রুপ নিয়ে মানুষ খুন
করেছে।
সেইসব অজানা রহস্য জানার জন্যই আমি মেয়েটির
সঙ্গী হয়ে এসেছি।
নাহ এইদিকে ঘুম মামা জড়িয়ে ধরেছে আমায়।
চোখ বুঝে আসলেও বারবার চোখ মেলে
থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছি।
কারন আসার পথে ট্রেনে ঘুমানোর পরের ঘটনাটা
মনে আছে।
যদিও এখন আমার কাছে এমন কিছু নাই যা নিয়ে এই
মেয়ে পালাবে।
আর এই মেয়েকে দেখলে ওরকম মেয়ে
মনেই হয়না।
.
হাতের ধাক্কায় আমার ঘুম ভেঙ্গে গেছে।
তাকিয়ে দেখি আশিকা মুচকি মুচকি হাসছে।
-কি ব্যাপার হাসছো কেনো? (আমি)
-ললিপপ খাবে না?
এই বলেই মেয়েটি খিলখিল করে হাসছে।
কি অদ্ভুত অপরুপ সেই হাসি।
একটুপর হাসি থামিয়ে বলল চলো বাইরে যাই।
তাকিয়ে দেখি ট্রেন থামানো। সবাই নেমে
গেছে হালকা কিছু খাওয়ার জন্য।
আমরাও নেমে পরলাম।
একটা রেস্টুরেন্ট এ গিয়ে বসলাম।
আমি আশিকার দিকে চেয়ে আছি ও কি অর্ডার দেয়?
কারন আমার পকেটে একটা টাকাও নাই।
দুটো করে সিঙ্গারা খেয়ে উঠলাম ওখান থেকে।
আশিকা খপ করে আমার হাত ধরে ফেলেছে!
আমি ভয় পেয়ে গেছি আচমকা এমন করে হাত ধরার
কারনে।
-কি হয়েছে? এমনভাবে হাত ধরলে যে।
-এমনি ধরেছি। তোমার হাত ধরে ঘুরতে চাই
সারাজীবন। যেন হারিয়ে না যাও কোথাও।
এই বলে আশিকা একটা দোকানের সামনে
থামলো।
দুটো ললিপপ কিনে আমার দিকে তাকিয়ে একটা মুচকি
হাসি দিল।
দুজন গিয়ে ট্রেনে উঠে সিটে বসে পরলাম।
একটুপরই ট্রেনের হুইসেল বেজে উঠলো।
আশিকা একটা ললিপপ মুখে নিয়ে চুষে খাচ্ছে।
আমি আশায় আছি যে আরেকটা ললিপপ আমার হাতে
দেবে।
কিন্তু কই! সে একাই একটা খেয়ে যাচ্ছে।
একটুপর খাওয়া ললিপপটা আমার সামনে ধরলো।
এই নাও গো এখন তুমি খাও।
আমি অবাক চোখে আবার তাকালাম ওর দিকে।
আবারও হাসছে মেয়েটা।
-কি হাবলা খাও এটা। এখন থেকে তুমি আমার স্বামী।
এমন আচরন করবে কেউ যেন বুঝতে না পারে
আমরা স্বামী স্ত্রীর অভিনয় করছি।
এই নাও বউয়ের খাওয়া ললিপপ ই খেতে হবে
তোমায়।
আমি বাধ্য ছেলের মতো ললিপপটা চুষতে লাগলাম।
মনে মনে একটু ঘৃনা হচ্ছে। একজন পতিতার মুখের
এঠে মুখে দিলাম।
আমার চোখের ভাষা যেন মেয়েটা বুঝতে
পেরেছে।
-কি আমায় ঘৃনা হচ্ছে। ভাবতেছো আমি তো
একজন পতিতা/বেশ্যা তাইনা?
তবে একটা বলি শোনো-- আমি কোন বেশ্যা
নই।
আমি একজন বড়লোক বাবার মেয়ে।
ভাগ্যের কাছে হেরে গিয়ে আমি ছিলাম
পতিতালয়ে।
তবে এই আশিকা তার সতীত্ব নষ্ট হতে দেয়নি।
এখনো আমি একজন পবিত্র নারী।
এই যৌবন এখনো অপবিত্র হতে দেইনি।
আর শোনো-- আমি এক অবহেলিত নারী।
জীবনে অনেক বেশি অবহেলা পেয়েছি আমার
পরিবার হতে।
কেউ আমায় বিশ্বাস করেনি।
যার কারনে আমি ঠাই নিয়েছিলাম ঐ পতিতালয়ে।
অনেক যুদ্ধ করে বেঁচে আছি আমি শুধু আমার
পরিবারের ভুল ভাঙ্গানোর জন্য।
কিন্তু পারিনি তাদের ভুল ভাঙ্গাতে।
পেয়েছি শুধু অবহেলা আর কষ্ট।
আপন আত্মীয়স্বজনেরাও দুরে ঠেলে
দিয়েছে আমায়।
কিন্তু আমি জানি আমি কোন নিষিদ্ধ নারী নই। এ
কারনেই আমি জীবনের সাথে যুদ্ধ করে
বেঁচে আছি।
আমাকে হয়তো তুমিও বিশ্বাস করবে না।
তবে যদি আমার সাথে কয়টা দিন থাকো তবে আমার
জীবনে ঘটে যাওয়া কষ্টের দিনগুলোর কথা
তোমায় বলব।
তোমাকে সেদিন প্লাটফর্মে বসে পুরি খাওয়া
দেখেই বুঝেছিলাম সহজ সরল ছেলে তুমি।
তাই তোমার সাহায্য নেয়ার জন্যই তোমায় সেদিন
সাহায্য করেছিলাম।
এটুকু বলেই মেয়েটি চুপ হয়ে গেছে।
ওর দিকে তাকালাম- চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে
পরছে ওর।
ঠোটে ঠোট চেপে কাঁদছে ও।
এই প্রথম আমি ওর দিকে ঝুকে হাত দিয়ে ওর
চোখের পানি মুছে দিলাম।
মেয়েটা আমার দিকে চেয়েই আমার হাতটা সরিয়ে
একটানে বুকের মাঝে চেপে ধরেছে আমায়।
ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে এখন।
বুঝতে পারছি আমি ওর ভিতরে লুকিয়ে আছে চাপা
কষ্ট।
কিছুক্ষন দুজন ওভাবেই রইলাম।
ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি।
একটুপর ও মাথাটা তুলে আমার বুকে মাথা রেখে
ছোট্ট করে বলল-- কতোদিন পর কারো বুকে
ঠাই পেলাম।
একসময় আমার ভাইয়া, আপু, বাবা, মা আমায় এভাবে বুকে
জড়িয়ে আদর করতো।
কখনো একটু কষ্ট পেতে বা কাঁদতে দিতো না।
আজ সেই আপন মানুষগুলো আমার নাম শুনতে
পারে না।
এই বলে আশিকা আমায় শক্ত করে চেপে
ধরেছে।
কিন্তু বুঝলাম ওর শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। ফুপানি
বেড়ে গেছে।
কথা বলতে বা শব্দ করে কাঁদতে পারছে না।
আমি এমন অবস্থা দেখে তাড়াতাড়ি ওর ব্যাগের
চেইন খুললাম।
পানির বোতলটা বের করে ওর মুখে ধরলাম।
একটু পানি খাইয়ে দিয়ে ওর মুখটা দুহাতে ধরে
কাছে নিয়ে আসলাম।
কপালে আলতো একটা চুমু দিয়ে বললাম-- সবাই
তোমায় অবিশ্বাস আর অবহেলা করে দুরে
ঠেলে দিলেও এই মুনসুর তোমায় বুকে ঠাই
দেবে।
তুমি একটুও কষ্ট নিও না। আমি তোমার পাশে আছি,
থাকবো।
.
ট্রেন থেকে নামলাম জামতৈল স্টেশনে।
নামার সাথে সাথেই আমার মামাতো ভাইকে চোখে
পড়লো।
আমি আশিকাকে চোখটিপ মেরে একটু দুরে
থাকতে ইশারা করলাম।
আমার মামার এলাকা এই জামতৈল গ্রাম।
আমাকে দেখেই পিচ্চি মামাতো ভাই এগিয়ে
আসলো।
***
# অবহেলা
৫ম পার্ট....
Md Munsur Helal
***
-ভাইয়া তুমি নাকি ঢাকাতে গিয়েছো চাকরির খোঁজে,
তা এখানে কেনো?
চলো আমাদের বাড়িতে। (মামাতো ভাই)
আমি কি বলব মামাতো ভাইয়ের এমন প্রশ্নের
জবাবে বুঝতে পারছি না।
-আসলে আমি ঢাকাতে চাকরির খোঁজে গিয়েছিলাম।
সেখানে একটা চাকরি হবে, কিন্তু যেই মালিকের
অফিসে কাজ করব সেই আমাকে তার মেয়ের
সাথে এখানে পাঠিয়েছে একটা দরকারে।
এই বলে মামাতো ভাইকে বললাম-- বাড়িতে কাউকে
বলিস না ভাই।
মামাতো ভাইকে বিদায় দিয়ে ওখান থেকে কাজিপুরা
চৌরাস্তার উদ্দেশ্যে ভ্যানে উঠলাম।
আশিকাকে নিয়ে যেই ভ্যানে উঠেছি ওমনি সেই
মামাতো ভাই আবার দৌড়ে এসেছে!
-ভাইয়া তুমি পাম মারার জায়গা পাওনা?
এটা আমাদের ভাবি বুঝতে পারছি।
এই বলে হাসতে হাসতে মামাতো ভাই বাড়ির দিকে
দিল দৌড়!
আমি কয়েকবার ডাকার পরেও পিচ্চিটাকে ফেরাতে
পারলাম না।
টেনশন হচ্ছে এখন। যদি এই পিচ্চি এখন ওদের
বাড়িতে গিয়ে বলে দেয় তো ঘুমুর ফাক।
তাহলে আমাদের বাড়িতে খবর পৌছাতে ৫ মিনিট ও
সময় লাগবে না।
যাই হোক সব চিন্তা বাদ দিয়ে এই মেয়ের
উপকারেই লেগে পড়লাম।
চৌরাস্তায় নামতেই আরেক বিপদ সামনে এসে পড়ল।
আমার আব্বা এখানে দোকানের মালামাল কেনার
জন্য এসেছে।
আমি তাড়াতাড়ি নেমে এখান থেকে আড়াল হলাম।
আশিকা ভ্যানের ভাড়া দিয়ে আমার কাছে এসে বলল
চলো গাড়িতে উঠি।
আমি বললাম এখন গাড়িতে উঠতে গেলে পুলিশের
হাতে পরব। সে আমাকে নিয়ে জেলখানায় বন্দি
করে রাখবে।
-মানে!! কি বলো এসব? (আশিকা)
-ঐ যে দেখো উনি আমার বাবা। উনি দেখলে
আমার আর উপায় থাকবে না।
-উনি এখানে কি করে?
-এখানে এসেছে দোকানের মালামাল কিনতে।
এই কাজিপুরার পাশের গ্রাম ই আমাদের রয়নাপাড়া গ্রাম।
আর এইদিকে তোমাদের আদাচাকি গ্রাম।
-ওহ, আসলে এইদিক দিয়ে আমার আসা হয়নি
কখনো। আর আমি তোমাদের রয়নাপাড়ায় কখনো
যাইনি।
শুধু তামাই আর এই কাজিপুরাই এসেছি।
একটুপরেই আমার আব্বা গাড়িতে উঠে চলে গেল।
আমরা এতক্ষন একটু আড়ালে দাঁড়িয়ে ছিলাম।
আব্বা চলে যাবার পরই আবার রিক্সায় উঠলাম।
গ্রামের ভাঙ্গাচুড়া রাস্তার দুলুনিতে আশিকা আমার উপর
হুমড়ি খেয়ে পরতেছে বারবার।
আমি আড়চোখে ওর দিকে তাকালাম।
মেয়েটার গলা যেন শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে।
কপালে চিন্তার ভাজ দেখা যাচ্ছে।
একটুপরই আদাচাকি ঈদগাহ মাঠের কাছে এসে
পৌছালো রিক্সা।
আশিকাকে কনুই এর গুতো মেরে বললাম কোন
পাড়ায় তোমাদের বাড়ি?
এখানকার সব জায়গাই তো আমার চেনা।
আগে কতো এসেছি এখানকার পোলাপানদের
সাথে ক্রিকেট খেলতে।
-এখানে আমাদের নামিয়ে দেন রিক্সাওয়ালা ভাই।
(আশিকা)
রিক্সা থেকে নেমেই মোল্লাবাড়ির গেইটের
দিকে রওনা দিল আশিকা।
আমি অবাক হয়ে আশিকার পিছু পিছু হাটছি।
এই মোল্লা বাড়ির মেয়ে আশিকা!!
এই বাড়ির আশেপাশে দাড়ানোর যৌগ্যতাও তো
আমার নাই।
আর আজ আমি কিনা এই বাড়ির জামাই সেজে এই
বাড়িতে ঢুকবো।
ভাবতেই আমার গলা শুকিয়ে গেল!
সাথে পা চলার গতিটাও কমে গেল!
মেইন গেটের কাছে যেতেই আশিকা আমার হাত
চেপে ধরলো।
ধীর কন্ঠে বলল আমি যা বলব সেই কথার সায়
দেবে।
তুমি বাড়তি কোন কথা বলবে না।
গেইটে যেতেই দারোয়ান চিৎকার দিয়ে উঠল।
আমি শোনা মাত্রই ভয়ে লাফিয়ে উঠেছি!
যদিও পরে বুঝলাম ওটা দারোয়ানের সালাম ছিল।
ওরে বাপরে! এই হালায় সালাম দেয় এতো
জোরে চিৎকার করে!
বাড়ির ভিতর যেতেই উপর থেকে ৩/৪ টা
ছেলেমেয়ে আপু আপু বলে চিৎকার মেরে
দৌড়ে নিচে নেমে আসলো।
এসেই আশিকাকে জড়িয়ে ধরলো।
একটুপর ওকে ছেড়ে দুলাভাই বলে আমাকে
ধরলো।
তারপরেই দেখলাম একটা মহিলা দৌড়ে এসে
আশিকাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে
লাগলো।
বলল ঘরে চল মা। তোর মার অবস্থা ভাল না।
একেতো অসুখ তার উপর তোর চিন্তায় বিছানায়
পরে গেছে।
আশিকা ঐ মহিলাকে আমার দিকে হাত ঈশারা করে বলল
উনি তোমাদের জামাই।
ওর সাথেই আমি সংসার করছি কাকিমা।
মহিলাটি আমার কাছে এসে আমার হাত ধরে বলল
ভিতরে চলো বাবা।
প্রথমেই আমরা আশিকার মায়ের রুমে গেলাম।
একটা মহিলা শুয়ে আছে। আশিকা গিয়েই ঐ মহিলাকে
জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলো।
সেই কান্না থামার নয়। আসলে একজন সন্তান তার
মাকে আর মা সন্তানকে ছাড়া কতেটা কষ্টে থাকে
তা বুঝলাম আশিকা আর ওর মায়ের বুকফাটা আহাজারি আর
কান্নায়।
রুমে সবাই হাজির।
সবার চোখেই পানি। আমিও ঠিক থাকতে পারিনি এমন
মায়া, ভালবাসার কান্না দেখে।
হঠাৎ লক্ষ করলাম কেউ আমার হাত ধরে বলতেছে
দুলাভাই সোফায় গিয়ে বসেন।
আমি মেয়েটির দিকে তাকালাম।
১৪ বছরের একটা মেয়ে। কিন্তু মনে হলো
আশিকার কপি। অবিকল আশিকার মতোই দেখতে।
বুঝলাম আশিকার ছোট বোন।
এদিকে সবাই আমার দিকে চেয়ে আছে। আশিকা
আর তার মা ও স্বাভাবিক হয়ে আমার দিকে চেয়ে
আছে।
আশিকা আমায় ইশারায় তার কাছে ডাকলো।
আমি গিয়ে সালাম দিলাম। আশিকার মা আমার হাত ধরে
কেঁদে ফেলল।
আমি কি করব বুঝতে পারছি না।
হাত দিয়ে মহিলার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলাম।
একটুপরেই সব এলোমেলো হয়ে গেল।
আশিকার বাবা এসে আশিকাকে দেখেই দাড়ানো
অবস্থায় নিজের মেয়েকে সর্বশক্তি দিয়ে একটা
লাথি মারলো।
ওমনি আশিকা চিৎ হয়ে ঠাস করে গিয়ে পড়লো
রুমের দেয়ালে।
আমি জীবনে বহু পাষান, খারাপ মানুষ দেখেছি। কিন্তু
আজ এই দৃশ্য দেখার পর মনে হলো আমি প্রথম
একজন প্রকৃত পাষান মনের মানুষ দেখলাম।
আশিকা ছিটকে গিয়ে দেয়ালে মাথা লেগে পড়ে
আছে। তার উপরেই আবার ধেয়ে গিয়ে মারতে
আছে।
রমের সবাই তাকে বাধা দিচ্ছে। চিৎকার
চেচামেচিতে সবাই রুমে চলে এসেছে।
একটা লোক এসে আবার উল্টো আশিকার বাবাকে
মারতে গেছে।
-শালা তুই এতোটা হারামি যে নিজের মেয়েকে
এভাবে মারিস।
এই বলে সেই লোকটা এবং আরেকটা আমার
সমবয়সী লোক আশিকাকে টেনে তুললো।
তোলার পর আশিকার মাথার দিকে তাকাতেই আমার
চোখ ঝাপসা হয়ে এলো!
মাথা বেয়ে টগবগ করে রক্ত বেরুচ্ছে।
এই দৃশ্য দেখে লোক দুটো চিৎকার করে বলল
ওকে বাইরে নিয়ে গাড়িতে তোল।
.
আশিকাকে নিয়ে বেলকুচি জেনারেল হাসপাতালে
গেলাম আমরা। কিন্তু সেখানকার ডাক্তার ঐ অবস্থা
দেখে বলল সরি আমরা পারব না।
এরপর সরাসরি এনায়েতপুর হাসপাতালে নেয়া হলো
আশিকাকে।
ওকে অপারেশন থিয়েটারে ঢুকানো হলো।
পরে জানলাম আশিকার বাবার দিকে ধেয়ে যাওয়া
লোকটাই আশিকার ছোট কাকা।
আর আমার বয়সী লোকটা আশিকার বড় ভাই।
এই লোকদুটোই নাকি শুধু আশিকাকে বাড়িতে
তুলতে অনুরোধ করেছিল আশিকার বাবাকে।
তাছাড়া সব কাকা আর ভাইয়েরা আশিকাকে মেনে
নেয়নি। অবহলা করে তাড়িয়ে দিয়েছিল এই
মেয়েটাকে বাড়ি থেকে।
.
এক সপ্তাহ হয়ে গেছে। আশিকা এ কয়দিন কথা
বলতে পারেনি।
আজ ধীরে ধীরে একটু কথা বলতেছে।
আমি সবসময় ওর পাশে থাকি।
এইদিকে আশিকার সেই কাকা আর ভাইকে বাড়ি
থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে আশিকার বাবা।
আশিকার সেই কাকা ছিল একটু গরীব।
ওর ভাই সব খরচ বহন করেছে চিকিৎসার।
কিন্তু তার হাতেও আর টাকা নাই।
দুজনের কাউকেই আর বাড়িতে পা রাখতে দেবে
না আশিকার বাবা, চাচারা।
কি অদ্ভুত মানুষ আশিকার বাবারা!!
নিজের আপন মেয়েকে এভাবে মেরে
হাসপাতালে পাঠিয়েও একটিবার খোঁজ নেয়নি।
আর যারা আশিকাকে বাঁচাতে চেয়েছে তাদেরও
বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে।
বাড়ির কাউকেই আশিকাকে দেখতে আসতে
দেয়নি।
এটা কেমন বিচার!
কোন দুনিয়ার মানুষ এরা!!
মেয়ে কত বড় অপরাধ করেছে? কথায় কথায় সে
না হয় বেশ্যা হয়েছিল ভুল করে। একজন
বেশ্যাকেও তো সমাজে তোলা যায় সে যদি ভুল
বুঝতে পেরে ফিরে আসে।
কিন্তু এই মেয়ের প্রতি কেনো এরা এমন
করছে?
কি এমন কাহিনী আছে? যার জন্য এতো অবহেলা
আর ঘৃনা করে এই মেয়েকে।
.
১৫ দিন পার হয়ে গেছে। আশিকার কাকা আর
ভাইয়ের যা টাকা ছিল সব শেষ।
আশিকার অবস্থাও খুব করুন। ডাক্তার বলেছে
আরো কয়েক মাস চিকিৎসা অবস্থায় রাখতে হবে
হাসপাতালে।
এইদিকে ২/৩ দিন হলো ওর কাকা, ভাইও আর আসেনা
হাসপাতালে।
আমি এই রোগীকে নিয়ে মহা বিপদে পরে
গেছি। এই মেয়েকে ছেড়ে যেতেও পারব না
এখন।
ওর আপন বলতে তো আর কেউ নাই।
এভাবে আরো দুইদিন চলে গেল।
ডাক্তার আমায় অনুরোধ করলো হয় টাকার জোগাড়
করতে নয়তো রোগীকে নিয়ে যেতে।
এর মাঝে আমি আমার পরিবারকে সব জানিয়েছি। তারা
আমার মুখে সব শুনে আমায় এই মেয়েকে
ফেলে যেতে বলেনি।
বলেছে মেয়েটার পাশেই যেন থাকি।
এই সাহস নিয়েই আমি আমার বাড়িতে গেলাম।
আমি জানতাম আমার বাবা মার কাছে টাকা পয়সা নাই।
তার উপর আমি প্রায় একমাস হলো কাজ করিনা।
মাথাটা ভনভন করে ঘুরছে। কি করব আমি?
শেষমেশ আমি বাবাকে অনুরোধ করে বাড়ির
দলিলটা নিয়ে ব্যাংকে গেলাম।
১ লক্ষ টাকা লোন করে নিয়ে গেলাম হাসপাতালে।
গিয়েই আমি ডাক্তারের চেম্বারে গেলাম।
ডাক্তার আমায় দেখেই বলল আপনার স্ত্রীকে
তো তার খালা, খালু এসে ঢাকায় নিয়ে গেল একটু
আগে।
শুনেই আমার মাথা হ্যাং হয়ে গেল!
-কোন খালা, খালু? আর আপনি কিভাবে আমাদের ছাড়া
রোগীকে নিয়ে যেতে দিলেন!!
-শান্ত হন। রোগীকে ঢাকায় নিয়ে গেছে
আমাদের সাথে যোগাযোগ রেখেই।
এই নেন ঠিকানা। আপনাকে ওখানে যেতে
বলেছে।
আমি কার্ডটা নিয়ে সোজা গিয়ে কড্ডায় গেলাম
বাসে।
কড্ডা থেকে ঢাকার গাড়িতে উঠলাম।
সবকিছু কেমন জানি এলোমেলো লাগছে!
ওর খালা, খালু হঠাৎ কোথা থেকে এসে ওকে
নিয়ে গেল?!
***
# অবহেলা
৬ষ্ঠ পার্ট....
Md Munsur Helal
***
ঢাকা পৌছে ডাক্তারের দেয়া ঠিকানায় পৌছে গেলাম।
ঐ ফ্লাটে ঢুকতেই দারোয়ান সামনে দাড়ালো।
-কাকে চান? সাহেব আর ম্যাডাম হাসপাতালে গেছে।
আপনি কি মুনসুর?
-হা, কোন হাসপাতালে?
-এই কাগজটা নেন। সব লেখা আছে।
দারোয়ানের কাছ থেকে কাগজটা নিয়ে সরাসরি
হাসপাতালে চলে গেলাম।
ওখানে পৌছাতেই একজন ভদ্রলোক এগিয়ে
এলো।
-তুমি মুনসুর?
-হা, আপনি?
-আমি আশিকার খালু। আর উনি (এক মহিলার দিকে
উদ্দেশ্য করে) হলেন আশিকার খালা।
তোমারে ব্যাপারে আশিকার মায়ের নিকট হতে সবই
শুনেছি ফোনে।
তুমি অচেনা পর মানুষ হয়েও যেটুকু আশিকার জন্য
করেছো, সত্যিই আমরা অনেক খুশি হয়েছি।
আমরা গতকালকেই সিঙ্গাপুর হতে ২ দিনের ছুটিতে
এসেছি।
আসার পরই আশিকার মা ফোন করে আমাদের সব
জানিয়েছেন।
আসলে কি বলব, বলার কিছুই নাই!
আশিকার বাবা আর কাকারা অর্থ আর মান সম্মানের
কাছে জিম্মি হয়ে আছে।
ওদের মানুষ ভাবতেও আমার আমার ঘৃনা হচ্ছে।
নিজের মেয়েকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েও
তার কাছে আসেনি।
এইটুকু বলেই লোকটার কথা বলা থেমে যায়।
চশমাটা খুলে চোখ মুছতে থাকে।
পাশে বসে থাকা ভদ্র মহিলা তখন উঠে আসে।
এসেই আমার হাত ধরে কান্নাজড়িত কন্ঠে বলে--
বাবা, তুমি আমাদের এই মেয়েটাকে দেখে রেখ।
আমাদেরকে আজকে রাতের ফ্লাইটেই ফিরতে
হবে সিঙ্গাপুর।
আমরা ২/৩ মাস পর আবার আসব।
টাকা পয়সার কোন চিন্তা নাই তোমার।
হাসপাতালের সব খরচ এবং তোমাদের সমস্ত
খরচের ব্যবস্থা আমরা করে দিয়ে যাচ্ছি।
তুমি শুধু মেয়েটাকে একটু নিজের সেবা, যত্ন
দিয়ে দেখে রেখ।
আর যেই ফ্লাট থেকে আসলে ওখানেই তোমরা
থাকবে।
আশিকা আমাকে বলেছে তুমি ওর স্বামী নয়।
তবুও তুমি এই অসহায় মেয়েটিকে যতদিন সম্ভব
তোমার আপন করে রাখবে কথা দাও বাবা?
মহিলা আমার হাত ধরে কাঁদছে আর এসব বলছে।
আমি কথা বলতে পারছি না। তবুও মাথা নেড়ে বললাম
ঠিকাছে দেখব।
এরপর ঐ মহিলা বললেন আশিকার মা ও এখানে চলে
আসবে সুযোগ পেলেই।
ঐ বাড়ির পুরুষগুলো পশুর মতো।
শুধু সম্মান আর টাকাই ওদের সব। মেয়ের বদনামের
কথা শুনেই তাকে বাড়ি হতে তাড়িয়ে দিয়েছে।
সত্য মিথ্যা যাচাই করার প্রয়োজন মনে করেনি।
আশিকার মা ও হয়তো একেবারে চলে আসবে
মেয়ের কাছে।
এই কয়টা দিন তুমি এই মেয়েটাকে দেখে
রেখো।
আরো অনেক কথাই বলল উনারা সন্ধ্যার আগ
পর্যন্ত।
রাতেই ওনারা হাসপাতাল থেকে বিদায় নিয়ে চলে
গেলেন।
যাওয়ার সময় আশিকার খালু তার ফোন নাম্বার আর একটা
চেক আমার হাতে তুলে দিয়ে গেলেন।
এর কয়েকদিন পরই আশিকাকে নিয়ে সেই ফ্লাটে
উঠলাম।
একটা বিষয় খুব ভালো লাগছে-- প্রতিদিন আশিকার
সেই খালু, খালা ফোন করে খোঁজ খবর নেয়।
কখন কি লাগবে বা করতে হবে সবই তারা ওখান
থেকেই করে দেয় বা বলে দেয়।
বড়ই আজব এই পৃথিবীর মানুষগুলো!
কেউ শুধু নিজেদের স্বার্থ দেখে আবার কেউ
অন্যের জন্য নিজেদের সবকিছুই উৎসর্গ করে
দেয়।
যাইহোক হাসপাতাল থেকে ফ্লাটে ওঠার পরই আমার
ঝামেলার জীবন শুরু হয়ে গেল।
কয়েকদিনের মধ্যে আশিকার মা আসার কথা
থাকলেও আসেনি এখনো।
হয়তো তিনি চেষ্টা করেও আসতে পারেননি বা
পারছেন না।
এইদিকে আশিকার সমস্ত দেখাশোনা আমাকেই
করতে হয়।
যদিও একটা কাজের মেয়ে রাখা আছে।
উনি শুধু রান্না, কাপড় কাচা আর রুম পরিষ্কারের কাজই
করেন।
এইদিকে আশিকার খাওয়ানো থেকে শুরু করে
গোসল করানো পর্যন্ত আমাকেই করতে হয়।
আমি আশিকাকে নিয়ে স্বামী স্ত্রীর মতোই
আছি।
রাতে ওর পাশেই আমাকে শুয়ে থাকতে হয়।
বেশ কয়দিন এভাবে যাওয়ার পর আশিকা মোটামুটি
সুস্থ হয়ে যায়।
সেদিন ছিল শুক্রবার রাত। ওকে ভাত ও ওষুধ খাইয়ে
একটু বাইরে ঘুরতে গেছি।
তখনি আমার মোবাইল বেজে উঠলো---
-হ্যালো কি হইছে আশিকা?
-একটু তাড়াতাড়ি বাড়িতে আসো। এই বলেই ফোন
কেটে দিল মেয়েটা।
আমি দেরী না করে দ্রুত পৌছে গেলাম।
রুমে ঢুকতেই রুমের বাতি অফ হয়ে গেল!!
অন্ধকারে হঠাৎ মনে হলো কেউ দরজা বন্ধ
করে দিলো।
আমি একটু ভয় পেয়ে গেলাম।
আশিকার নাম ধরে ডাক দিলাম।
কোন সাড়া শব্দ নাই।
হঠাৎ ভয়ংকর এক অদ্ভুত ধরনের ভৌতিক আওয়াজ হতে
লাগলো!
আমি চিৎকার করে বললাম কে? আশিকা তুমি কোথায়?
হঠাৎ শব্দগুলো আরো ভয়ংকর হতে লাগলো!
একটুপরেই একটা মেয়ের খিলখিল করে হাসার শব্দ
পেলাম।
আমি ভয়ে আর কথা বলতে পারছি না। হাত পা কাঁপছে
আমার।
হঠাৎ ঘাড়ের উপর কোন স্পর্শ অনুভব করলাম!!
আমি চিৎকার দিয়ে মাটিতে পড়ে গেলাম।
.
রাত ২ টার মতো বাজে। আমি চোখ মেলে
চেয়ে আছি।
হঠাৎ লক্ষ করলাম নুপুরের রিনিঝিনি আওয়াজ।
দরজায় তাকাতেই আমার চোখ কপালে উঠে গেল!
একটা ডানাকাটা পরী হেটে আসছে।
লাল রঙের শাড়ী পরে আছে পরীটা।
এ তো আশিকা! ওকে আজ এতো সুন্দর লাগছে
কেনো?
বিছানায় বসেই একটা হাসি ছড়িয়ে দিল আশিকা।
-কি রাতে খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলে?
ঐটা কোন ভুত/পেত্নী ছিল না।
ঐটা ছিল জীবনের সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকা
অবহেলিত মেয়ে এই আশিকা।
এই বলে আশিকা আমায় টান দিয়ে শোয়া থেকে
বসিয়ে নিজের বুকের মাঝে জড়িয়ে ধরলো।
-জানো মুনসুর, আমি কোন ভুত না হলেও একজন
খুনী।
এখন পর্যন্ত তিনটা খুন করেছি আমি।
ঠিক আজ রাতে যেভাবে তোমায় ভয় পাইয়ে দিলাম,
ঐভাবেই আমি ভুত হয়ে মেরেছি ওদের।
তবে বিশ্বাস করো এই সতীত্ব কাউকে হরন
করতে দেইনি।
প্রতিটা খুনের পেছনের কারন নিজের এই
সতীত্ব রক্ষা করা।
আজ তোমায় সব খুলে বলব।
তার আগে আমায় একটু বুকে চেপে ধরো।
জানো মুনসুর আমার না অনেক কষ্ট। আমি আর
বেশিদিন হয়তো বাঁচব না।
কিন্তু আমার না ইচ্ছে করে তোমার এই বুকে মাথা
রেখে ঘুমাতে।
তোমার মতো একজন ভাল মানুষের বউ হতে।
কিন্তু কিছু মানুষের জীবনের সব আশা, স্বপ্ন--
স্বপ্নই রয়ে যায়।
এই বলেই আশিকা হু হু করে কেঁদে উঠলো...
আমি ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি আর বলতেছি
তোমার কিছুই হবেনা।
আমিই তোমায় বিয়ে করব কথা দিলাম।
তুমি আমার কাছে পবিত্র নারী। তোমার ঠাই এই
বুকেই হবে।
-হা হা হা... এতেই আমি খুশি গো। তুমি শুধু কথা দাও
আমার একটা ইচ্ছা পুরন করবে?
-হা করব। কি করতে হবে বলো?
-হুম বলব। তার আগে আমি কিভাবে ঐ পতিতালয়ে
গেলাম সেই গল্প শোনো---
সেদিন আমি বাবার অনুমতি না নিয়েই কলেজের
অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম।
অনুষ্ঠান শেষে বৃষ্টি নামে মুষলধারে।
আটকা পড়ে যাই রাস্তায়।
বাবাকে ফোন করে বলি যে আমি রাস্তায় আটকা
পড়েছি বৃষ্টতে, আমায় এসে নিয়ে যান।
কিন্তু বাবা আসেনি আমার উপর রাগ করে।
বাধ্য হয়ে আমি ভিজে ভিজে হেটে রওনা দেই।
হঠাৎ একটা সিএনজি এসে আমার সামনে ঠেকায়।
দুজন মহিলা এসে আমায় টেনে তোলে
সিএনজিতে।
আমাকে ঐ সিএনজিতে উঠিয়ে নাকে কিছু ধরে।
তারপর আমার কিছু মনে নেই।
যখন আমার ঘুম ভাঙ্গে তখন আমি একটা ট্যাক্সির ভিতর।
ঐ মহিলাদুটোই আমাকে ধরে আছে।
আমি তখন চিৎকার করে উঠি...
কিন্তু ততক্ষনে আমি ঐ নিষিদ্ধ পতিতালয়ে চলে
গেছি।
দুইদিন আমায় আটকে রাখে ওখানে।
সেদিন রাতে আমার রুমে একজন পুরুষকে নিয়ে
আসে ওখানকার সর্দার।
আমি তখন হিংস্র পশুর মতো হয়ে যাই নিজের
ইজ্জত বাঁচানোর জন্য।
হাতের কাছেই একটা ছুরি পাই। ওটা দিয়েই ঐ পুরুষ
নামের পশুটাকে মেরে দেই।
তখন ঐ সর্দারনী আসে চিৎকার শুনে।
দরজা আটকে দিয়ে ওটাকেও ছুরি দিয়ে কুটিকুটি
করে কাটি।
আমি সত্যি তখন একটা ভুতের মতো রুপ ধারন করি।
সারা শরীরে আমার রক্ত ছড়ানো। চোখ লাল
টকটকে। চুলগুলো এলোমেলো।
মুখ দিয়ে কথা না বলে শুধু পাগলের মতো উমউম
করছিলাম।
তখন ঐ পল্লীর সবাই ঐ রুমে আসে।
এবং আমাকে ভুত বলে সবাই দৌড়ে পালায়।
আমাকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। তখন বাড়িতে খবর
পেয়ে যায় আমার।
আমি সবার কাছে হয়ে যাই পতিতা।
খুনের দায়ে পুলিশ আমায় ধরে নিয়ে যায়।
১ বছর জেল খেটে বের হই আমি।
আমি অনেক আশা নিয়ে বাড়িতে ফিরে যাই। কিন্তু
আমি ঠাই পাইনি।
তাড়িয়ে দিয়েছিল আমায়। কোন আত্নীয় স্বজনও
আমায় ঠাই দেয়নি।
যেখানেই গিয়েছি শুধু ঘৃনা আর অবহেলা পেয়েছি।
মেয়ে মানুষ কোথায় থাকব? চারদিকে শুধু পুরুষ
নামের কিছু জানোয়ারের ধাওয়া খেয়েছি।
এরপর আশ্রয়ের জন্য ঐ পতিতালয়ে চলে যাই।
কারন ওখানকার সবার নিকট আমি ভুত/পেত্নী।
ওখানকার সবাই আমায় ভয় পায়।
ওখানে কয়েকদিন থাকলাম।
আমার কাছে তখন এই ভয়ংকর শব্দের রিংটোনটা
থাকতো।
যে আমার সাথে রাত কাটাতে আসতো সাহস করে,
তাকেই ভাতি নিভিয়ে ঐ শব্দ চালু করে ভয় পাইয়ে
দিতাম।
তখন ঐ পুরুষরা ভয়ে পালিয়ে যেত।
আমাকে দেখে ওখানকার সবাই ভয় পাওয়া শুরু করে।
শেষ যাকে মেরেছিলাম, তুমি দেখেছিলে। ঐটাও
আমাকে জোর করে ধরতে এসেছিলো।
তাকেও একটু আড়ালে নিয়ে গিয়ে মেরেছিলাম।
এই হলো আমার জীবন কাহিনী।
এসব একটানা বলে আমার বুকের উপর শুয়ে পরে
আশিকা।
আমি ওর মাথায় হাত বুলিয়ে বলি-- সব ঠিক হয়ে যাবে।
আমি তোমায় নতুন জীবন দেব।
আশিকা তখন বলল-- আমার জন্য কিছুই লাগবে না।
তুমি শুধু আমার একটা কথা রাখবে। ঐ কথাটা কালকে
ভোরে বলব।
আজ রাতটা তোমার এই বুকে মাথা রেখে ঘুমাবো।
***
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ