# তোরে_খুব_ভালোবাসি
,
লেখক: জানিনা
১ম পার্ট...
.
সিফা কলেজে যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছে।
মজনু ওর সামনে এসে বলে তোকে একটা কথা
বলবো সিফা।
-কি বলবি বল।
-আমি তোকে খুব ভালোবাসি রে। তোকে ছাড়া
আমি বাঁচবো না।
-এই কথা ছাড়া তোর কোন কথা নাই? প্রতিদিন এই
একি কথা আর ভালো লাগে না।
কতোবার বলবো তোকে তুই ফুফাতো ভাই,
ভাইয়ের মতোই থাক। আমি তোকে
ভালোবাসতে পারবো না।
-আমি তোকে না পেলে মরে যাবো রে সিফা।
-ওই সরবি এখান থেকে? দিনে কতোবার তো
বলিস মরবো, কই মরিস না তো?
-একদিন ঠিকই মরে যাবো আমি। সেদিন তুই ঠিকই
বুঝবি এই পাগলটাকে।
-শোন আরেকবার যদি আমাকে ভালোবাসার কথা
বলিস তো বাবাকে বলে আমাদের বাড়ি থেকে
তোকে তাড়িয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করবো।
এই কথাটা শোনার পর মজনু অবাক হয়ে তাকায় সিফার
দিকে।
একটুপর নিচুস্বরে বলে আমি তোদের এখানে
থাকি বলে তোর যদি কষ্ট হয় তবে মামাকে (সিফার
বাবা) বলতে হবে না।
আজকেই চলে যাবো বাড়িতে।
-আরে যা তো তাড়াতাড়ি।
এই বলে সিফা বাড়ি থেকে বের হয় কলেজের
উদ্দেশ্যে।
সিফা মনে মনে ভাবছে কথাটা ওভাবে বলা উচিউ হয়নি
আমার। মজনু যদি রাগ করে সত্যিই চলে যায়?
ও তো আমাদের এখানে থাকে এখানকার
কলেজে পড়ার জন্য।
ওদের বেলকুচিতে ভালো মানের কলেজ নাই।
ওর বাবার অনেক টাকাও আছে। ইচ্ছে করলে
ওকে দূরে ভালো কলেজে দিতে পারতো।
কিন্তু মজনু চেয়েছিলো আমাদের এখানে
থেকে বগুড়া পলিটেকনিক এ পড়তে। তাই
আমাদের বাসায় ও থাকে।
এসব ভাবতে ভাবতে কলেজে পৌছে যায় সিফা।
অন্যদিন মজনুর সাথে আসে। আজ একটু ঝগড়া হয়ে
একাই আসলো ও।
কলেজ শুরু হয়ে গেছে এখনো মজনু আসেনি।
সত্যিই রাগ করে চলে যাবে না তো পাগলটা?
আরে নাহ, ও তো প্রতিদিন পাগলামি করে অনেক
অভিমানি কথাই বলে। কখনো ও রাগ করে থাকতে
পারে না। আজো হয়তো রাগ করে কলেজে
আসেনি। বাড়িতে গেলে ঠিকই আবার আমার পিছে
লাগবে। বলবে আমি তোকে খুব ভালোবাসি রে।
এসব শুনতে শুনতে অভ্যাস হয়ে গেছে।
.
কলেজ শেষে সিফা বাসায় ফিরছে। কেমন
যেনো একাকি লাগছে আজ ওর।
প্রতিদিন তো মজনু সাথে থাকে কিন্তু আজ নাই।
সিফা মনে মনে ভাবে সত্যিই পাগলটা আমায়
ভালোবাসে খুব। কিন্তু আমার কেনো জানি ওকে
সহ্য হয়না। সবসময় আমার পিছে লেগে থাকা, পাগলামি
করা এসব আমার একদম ভাল্লাগে না।
ওকে কতোবার বললাম যে তুই কোন লাইলি কে
খুঁজে নিয়ে প্রেম কর। কিন্তু কে শোনে কার
কথা।
আমাকে ছাড়া নাকি ও কাউকে ভালোবাসবেই না।
আমিও দেখি কিভাবে থাকে ও। কতোদিন এই
বয়সে একা থাকতে পারে।
আমার পিছে হাজার ঘুরলেও আমি ওকে পাত্তা
দেবোনা।
সিফা বাড়ির ভিতর ঢুকেই চোখ রাখে সারা বাড়িতে।
কোথাও সাড়াশব্দ নাই পাগলটার।
মনের ভিতর খটকা লাগে সিফার।
তাড়াতাড়ি ড্রেস চেন্জ করে মায়ের কাছে যায়।
-মজনু কই মা? ও তো কলেজে গেলো না।
-কি জানি। আমি তো জানি তোর সাথে কলেজে
গেছে।
সিফা তাড়াতাড়ি মজনু যে রুমে থাকে সেই রুমে যায়।
নাহ এখানেও নেই। বের হতে যাবে হঠাৎ চোখ
যায় খাটের ওপর।
একটা কাগজ ছড়ানো রয়েছে। এগিয়ে গিয়ে
তুলে দেখে লেখা রয়েছে... তোকে
ভালোলাগে, তোকে ভালোবাসি বলেই
তোদের এখানে থেকে পড়তেছিলাম। আজ
যখন জানলাম তুই আমাকে অপছন্দ করার সাথে
এবাড়িতে থাকায় অসহ্য ও করিস, তখন আমি এই কাগজটা
লিখে কাউকে না বলেই চলে গেলাম।
ভালো থাকিস...।
.
# তোরে_খুব_ভালোবাসি
২য় পার্ট...
লেখক: জানিনা
.
কাগজটা পড়ে সিফা বুঝতে পারে ওর
কথায় কতোটা আঘাত পেয়েছো মজনু।
ওকে এভাবে বলা উচিৎ হয়নি। কতোবার
ই তো ওকে ভালোবাসি নাবলেছি, মরে
যা এসব কথা বলেছি। কিন্তু এসব কথায় ও
কখনো এত আঘাত পায়নি।
আজ যখন বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়ার
কথা বলেছি তখন ও হয়তো মনে খুব কষ্ট
পেয়েছে।
পাগলটা বুঝলোও না এই কথা মন থেকে
কখনোই বলিনি আমি।
সিফা মোবাইলটা বের করে কল দেয়
মজনুর নাম্বারে....
ওপাশ থেকে শোনা যায় এই মুহুর্তে
আপনার ডায়ালকৃত নাম্বারে সংযোগ
দেয়া সম্ভব হচ্ছে না, একটুপর আবার ডায়াল
করুন।
কয়েকবার ডায়াল করেও লাইনে পায়না
সিফা।
মায়ের কাছে যায় সিফা...
দেখছো মা মজনু আমার কথায় রাগ করে
চলে গেছে। ফোনটাও বন্ধ করে রাখছে।
-কি বলেছিস ছেলেটাকে? ও তোর সমসময়
খোঁজ রাখে। তোর বিপদে-আপদে, চলতে-
ফিরতে সবসময় তোর পাশে থাকে আর তুই
সারাক্ষন ওর সাথে ঝগড়া করিস। ওর
মতো ছেলে আমি কম দেখি। কখনো কোন
খারাপ পথে/কাজে যায়না, বাড়তি কথা
কম বলে, মানুষের সাথে ভদ্রতা বজায়
রেখে চলে।
ও কখনো কষ্ট দিয়ে কথা বলেনা কাউকে।
আর তুই সারাক্ষন লেগে থাকিস ওর সাথে
ঝগড়া করার জন্য।
এখন ছেলেটা রাগ করে চলে গেলো। কি
ভাববে এখন ওর মা-বাবা?
বড় আশা করে রেখেছিলো ওকে আমাদের
এখানে। আর তুই ওকে তাড়িয়ে দিলি?
আমাদের মানসম্মান আর রাখলি না।
এখন যেভাবে পারিস ওকে ফিরিয়ে আন।
নইলে তোর বাবা এই কথা জানতে পারলে
তোকে আর আমাকে আস্ত রাখবে না।
.
রাতে তাড়াতাড়ি খেয়ে নিলাম বাবা
বাড়ি ফেরার আগে।
রুমের দরজা আটকে বই নিয়ে বসলাম।
নাহ পড়ায় মন বসছে না। মজনু থাকলে
এতক্ষণ আমার রুমে চলে আসতো। বলতো
একা পড়তে ভালো লাগে না তোর সাথে
পড়ি।
পাগলটা পড়ার ফাকে-ফাকে লুকিয়ে
আমার দিকে চেয়ে থাকতো। আমি টের
পেলে ও চোখ সরিয়ে আবার পড়ায় মন
দিতো।
আমি ওই দৃশ্য দেখে দেখে মুখ চেপে
মুচকি হাসতাম।
তবে কখনো ও খারাপ নজরে চায়নি আমার
দিকে।
শুধু আমার মুখটা চেয়ে দেখতো আর কখনো
কখনো পাগলামি করে বলতো...তোরে খুব
ভালোবাসি। তোকে ছাড়া বাঁচবো না।
আর আমি তখন ওর কান ধরে বা বুকে
আলতো ঘুসি মেরে বলতাম..বাঁচবি না তো
মরতে পারিস না?
ভোরে ঘুম থেকে উঠতেই বাবার একচোট
বকুনি শুনতে হলো।
-আজ কলেজ থেকে ফিরেই তুই আর তোর
মা যাবি মজনুকে আনতে।
আজ যাবি আর কালকের মধ্যেই ওকে
নিয়ে বাড়ি ফিরবি তোরা।
এই বলে বাবা বের হয়ে গেলো।
আহ কি দরদ ভাগ্নের জন্য।
আবার ভাবি দরদ হবেই না কেনো? মজনুর
মতো সহজ সরল ভাগ্নে কোন মামার থাকা
ভাগ্যের ব্যপার। সবাই ওকে খুব
ভালোবাসে ওর সরলতায়। শুধু আমি ওকে
সহ্য করতে পারিনা। অথচ ও আমায়
পাগলের মতো ভালোবাসে।
.
আজ কলেজ যেতে কেমন জানি লাগছে।
শুন্যতা বুকের মাঝে অনুভুত হচ্ছে।
ভেবেছিলাম পাগলটা দুরে গেলে ভালো
লাগবে কিন্তু এখন বুঝছি ওর
প্রয়োজনীয়তা।
কলেজে মন টিকছে না। কলেজ থেকে
তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরলাম।
মা রেডি হয়ে আছে। আমি তাড়াতাড়ি
ফ্রেশ হয়ে দু মুঠো ভাত খেয়ে রেডি
হলাম।
সন্ধার আগেই গিয়ে পৌছলাম।
আমি গিয়েই মজনুকে খুঁজতে লাগলাম
পেলাম না কোথাও।
ফুফুকে বলতেই বললো ও তো গতকালকেই
চলে গেছে ঢাকা।
তোমাদের ওখানকার কলেজে নাকি ওর
ভালো লাগে না তাই ঢাকা ওর বন্ধুদের
সাথে হোস্টেলে থেকে পড়বে।
কতো নিষেধ করলাম কাজ হলো না।
এসব শুনে আমার চান্দি গরম হয়ে গেলো।
শালা আমার সাথে রাগ করে এতোদূর?
-ওর ফোন নাম্বার দাও তো ফুফু...আগের
সিম বন্ধ করছে। আরেক সিমের নাম্বার
আমার কাছে নাই।
নাম্বার নিয়ে ফোন দিলাম।
ওপাশ থেকে...হ্যালো, কি বলবি বল।
-তাড়াতাড়ি বাসায় আয়।
-তুই আমাকে ভালোবাসবি? যদি বাসিস
এখনি আসবো। আর না বাসিস কয়দিন পর
আমার লাশ আসবে।
-তুই পাগলামি বাদ দিয়ে আসবি কিনা
বল?
-তোকে ছাড়া আমি বাঁচবো না রে।
-তুই মর। তবুও ভালোবাসবো না।
এই বলে ফোন কেটে দেয় সিফা। না
ওকে ভালোবাসতে পারবো না।
তাতে যতো কষ্ট হয় হোক আমার। কদিন পর
সব ঠিক হয়ে যাবে।
আমি একাই চলতে শিখবো এখন। ও দূরেই
থাক। মানুষ হয়ে ফিরুক।
পরদিন আবার বাসায় ফিরে যায় ওরা।
বাবা জানতে চাইলে বলে ও ঢাকায়
পড়বে ভালো কলেজে।
বাবা আর কিছু বলেনা। মনটা ভার করে
চলে যায়।
.
আজ তিনমাস হয়ে গেছে।
সিফা কিছু খায়না। শুকিয়ে গেছে
শরীরটা।
ভোরে ঘুম থেকে ওঠার আগেই বাবা এসে
সিফার মাথায় হাত রাখে।
সিফা চোখ খুলে তাকায়। কি হইছে
বাবা?
-তোর কি হয়েছে মা? খাস না, কারো
সাথে কথা বলিস না, শুকিয়ে যাচ্ছিস
একেবারে। কি হইছে মা?
-বাবাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে
কেঁদে ওঠে সিফা।
বাবা গো আমি ভুল করে ফেলেছি।
মজনুকে দূরে সরিয়ে আমি বড় বেশি ভুল
করেছি। ও আমাকে পাগলের মতো
ভালোবাসতো। আমি ওর ভালোবাসায়
সাড়া দেইনি। শুনলাম ও নাকি নেশা
করে নিজেকে শেষ করে দিচ্ছে।
আমি এই তিনমাসে ওকে খুব মিস করেছি।
বুঝেছি ওকে ছাড়া আমিও বাঁচবো না।
-ওকে ফোন করে জানিয়ে দে। আমি বুঝি
তুই ও ওকে ভালোবাসিস। এই
ভালোবাসাটা তখন বুঝতে পারিস নি।
এখনি ফোন কর মজনুকে, জানিয়ে দে
ওকে তুই ভালোবাসিস।
.
সিফা ফোন করে...ওপাশ থেকে মজনু বলে
কেমন আছিস?
-ভালো না রে। তুই বাড়িতে আয় প্লিজ।
কথা আছে তোর সাথে।
-এতোদিন পর তোর সময় হলো কথা বলার?
আমি আসবো রে ২/১ দিনের মধ্যেই।
-তুই ঠিক আছিস তো?
-আমার আবার ঠিক? তোর আশা পুর্ন হবে
রে। যা আগে বলতি সেটাই হবে।
এই বলে ফোন কেটে দেয় মজনু।
# তোরে_খুব_ভালোবাসি
৩য়/শেষ পার্ট...
লেখক.. জানিনা।
...
সিফা আবার ট্রাই করে। কল ধরেনা মজনু।
বুকের ভিতর কেমন জানি করে সিফার। ও কি তবে
সত্যিই শেষ করে দেবে নিজেকে?
.
আজ রাতে কেমন জানি লাগছে সিফার। বুকের
ভিতরটা হাহাকার করছে। গলাটা শুকিয়ে কাঠ হয়ে
গেছে।
দরজা খুলে বাবা-মার রুমের কাছে গিয়ে ডাক দেয়...
মা ওঠো তো।
-কি হইছে সিফা? (মা ও বাবা)
-আমার কেমন জানি লাগছে। মজনুর কিছু হয়নি তো?
ওর কথা মনে হচ্ছে শুধু।
প্লিজ বাবা ওর একটু খোঁজ নাও।
গতকাল ওর সাথে কথা বলার পর আমার ভিতরে
তোলপার হয়ে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে ওর কোন
সমস্যা হইছে।
-ঠিক আছে কাল বিকেলে তোদের নিয়ে যাবো
বেলকুচিতে। তারপর মজনু কে বাড়িতে আনার
ব্যবস্থা করবো।
তুই এখন তোর মায়ের সাথে ঘুমা। আমি অন্য রুমে
শুই...যা মা।
সিফা শুয়ে চোখের জল ফেলছে...
মা সিফাকে বুকের মাঝে জড়িয়ে বলছে কাঁদিস না মা।
মজনুর কিছু হবে না। কালকেই ওর সাথে দেখা
করবো আমরা।
শেষরাতের দিকে সিফার বাবার মোবাইল বেজে
ওঠে। ঘুম জড়ানো চোখে নাম্বার না দেখেই
রিসিভ করে।
ওপাশ থেকে বলে তাড়াতাড়ি আপনারা সিরাজগঞ্জ
হাসপাতালে চলে আসুন। মজনুর অবস্থা খুব খারাপ
দেখে রাতেই ঢাকা থেকে নিয়ে আসা হইছে
বাড়িতে। বাড়িতে এনে অবস্থা বেশি খারাপ দেখে
সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখন ওর
অবস্থা খুব খারাপ। ওকে দেখতে চাইলে তাড়াতাড়ি
চলে আসুন।
এই বলে ওপাশ থেকে কেটে দেয়। কে
ফোন করেছিলো তাও বুঝতে পারেনি সিফার বাবা।
তাড়াহুড়া করে বিছানা থেকে নামে। সিফার মা নামাজ
পড়ে উঠতেই সব খুলে বলে।
সিফার মা সিফাকে ডেকে বলে তাড়াতাড়ি চল মজনু
বাড়িতে এসেছে।
ওর যে খারাপ অবস্থা এটা গোপন রাখে সিফার মা-বাবা।
রেডি হয়ে রওনা দিছে ওরা। সিফার মন ছটফট
করছে।
চেয়ে দেখে মায়ের চোখে পানি।
-কি হইছে মা? মজনুর কিছু হয়নি তো?
- চোখ মুছে স্বাভাবিক হয়ে মা বলে না না কিছু হয়নি।
তবে নাকি মজনুর শরীর বেশি ভালো না।
সিফা অবাক হয়! বাড়িতে না গিয়ে সোজা হাসপাতালে
এসেছে গাড়ি।
হাসপাতালের গেটে ঢুকেই দেখে ভিড়! কে
যেন শুয়ে আছে আর পাশেই সবাই চিৎকার করে
কেউবা আবার মুখ বুঝে কাঁদছে।
ওরা তাড়াতাড়ি ভিড় ঠেলে ঢোকে। একটা লাশ
শোয়ানো। মুখটা ঢাকা আছে।
পাশে তাকাতেই বুকের ভিতরটা শুন্য হয়ে যায় সিফার।
মজনুর মা গড়াগড়ি করে কাঁদছে আর ওর বাবা হাত দিয়ে
মুখ ঢেকে ফুপিয়ে কাঁদছে।
পাশে আত্মীয়স্বজন সবাই আহাজারি করে কাঁদছে।
মজনুর কাকাতো বোন এসে সিফার হাতে একটা
কাগজ দেয়।
সিফার কোন অনুভুতি নাই। নির্বাক হয়ে কাগজটা
খোলে...
প্রিয় সিফা...
তোকে ছেড়ে যেদিন চলে আসি সেদিন খুব
কষ্ট হয়েছিলো রে। কতোটা কষ্ট তা লিখে
বুঝাতে পারবো না।
এরপর এই কয়েকটা মাস তোকে ছাড়া ছিলাম। সব
ভুলে থাকা যায় বাট ভালোবাসার মানুষটাকে ভুলে থাকাটা
সবচে কষ্টের রে।
প্রতিটা দিন বছরের মতো কেটেছে। তবুও
তোকে ভুলে থাকতে পারিনি। ভেবেছিলাম
হয়তো তুই আমায় ফোন করে বলবি আমিও
তোকে ভালোবাসি।
কিন্তু তোর কোন ফোন পাইনি সময়মতো। যখন
শেষমেশ ফোন করলি তখন আমি মৃত্যুর দুয়ারে।
তোকে ভুলে থাকতে আমি অনেক ধরনের
ঔষুধ খেয়েছি রে।
(নেশার ঔষুধ)
এই ঔষুধগুলো খেলে সব ভুলে থাকা যায়। এই
ঔষুধগুলো খেয়ে খেয়ে ভিতরটা একেবারে
নষ্ট হয়ে গেছে।
তোকে যখন বারবার বলতাম তোকে খুব
ভালোবাসি। তোকে ছাড়া বাঁচবো না। তখন তুই না
আমায় বলতি...বাঁচবি না তো মরিস না ক্যান?
আমি তখন বলতাম একদিন ঠিক ই মরে যাবো রে।
সেই সময়টা এসেছে। খুব ইচ্ছে ছিলো
তোকে শেষবার দেখার। কিন্তু এখন তো
অনেক রাত। আমি বুঝতে পারতেছি আর বেশিক্ষন
আমি দুনিয়ার বুকে থাকছি না। তাই খুব কষ্টে এই চিঠিখানা
তোর জন্য লিখলাম।
চিঠিটা তোর হাতে পৌছানোর আগেই হয়তো আমি
দুনিয়া ছেড়ে চলে যাবো।
ভালো থাকিস সিফা...
ইতি... তোর পাগল *মজনু*
শেষবার তোকে বলে গেলাম... ***তোরে
খুব ভালোবাসি***
সমাপ্ত।
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ