āĻļāύিāĻŦাāϰ, ā§§ā§Ŧ āĻĄিāϏেāĻŽ্āĻŦāϰ, ⧍ā§Ļā§§ā§­

3833 (1)

# অবহেলা
১ম পার্ট....
Md Munsur Helal
.
ট্রেনের রিনিঝিনি শব্দে ঘুম ঘুম ভাব হচ্ছে।
হঠাৎ সামনেই একটা স্টেশনে থামিয়ে দিলো
ট্রেনটা।
এখানে পাঁচ মিনিট দেরি করবে ট্রেন।
আমি তাড়াতাড়ি নেমে গিয়ে দোকান থেকে একটা
ললিপপ আর দুইটা মিল্ক ক্যান্ডি পাঁচ টাকায় কিনে আবার
সিটে গিয়ে বসলাম।
ট্রেনটা একেবারেই ফাঁকা ছিল এতক্ষন।
এই স্টেশনে অনেক লোক ওঠার কারনে
অনেক ফাঁকা সিটগুলোও পুর্ন হয়ে গেছে।
ট্রেন ছাড়ার হুইসেল বেজে উঠলো।
আমি ললিপপটার কাগজ ছাড়িয়ে মুখে নিয়ে চুষতেছি
আর বাইরে তাকিয়ে আছি জানালা দিয়ে।
হঠাৎ মনে হলো কেউ এসে আমার ঘা ঘেসে
বসে হাফাচ্ছে!
ললিপপটা বের করে পাশের সিটে চোখ রাখলাম।
একটা মেয়ে টানাটানা চোখে আমার দিকে চেয়ে
আছে আমার পাশে বসে।
এখনো মেয়েটা হাফাচ্ছে।
তবে আমার পা থেকে মাথা পর্যন্ত ভাল করে
চেয়ে দেখতেছে মেয়েটা।
বিশেষ করে আমার হাতের ললিপপটার দিকে তাকিয়ে
আছে।
একটুপর মেয়েটি সরাসরি আমার চোখে চোখ
রাখলো।
আমি চোখ নামিয়ে নিলেও আড়চোখে ওর হাবভাব
লক্ষ করতেছি।
.
আমি আপন মনে জানালা দিয়ে তাকিয়ে ললিপপ খাচ্ছি।
হঠাৎ পাশে বসা মেয়েটা আমার গালে একটা চুম্মা
দিল!!
আমি বিদ্যুৎ চমকানোর মতো চমকে গিয়ে
মেয়েটার দিকে তাকালাম।
মেয়েটা হাসছে আর বলতেছে...
-তুমি একটা সুইট বাবু।
ঐ ললিপপটা শেষ হলে আমায় বলবে কিন্তু...
আমি আরেকটা কিনে দেব হুমম।
এই বলে হিহিহি করে হাসছে মেয়েটা।
মেয়েটা আমায় হাবলা টাইপের ছেলে মনে
করেছে।
আমিও মেয়েটিকে হাবলু হয়েই শিক্ষা দেব ঠিক
করলাম।
-আমায় দুইটা ললিপপ কিনে দেবে তুমি? (আমি)
আমার কথায় মেয়েটি আরেকটু ঘেসে বসলো
আমার সাথে।
-তোমার নাম কি গো বাবু? (মেয়েটা)
-আমার নাম বন্ধু।
তোমার নাম কি?
এই বলে বাচ্চা পোলাপানের মতো ললিপপটা
মুখের ভিতর ঘুরাতে লাগলাম।
-আমার নাম বউ।
তুমি আমায় এই নামেই ডাকবে।
আর তুমি কোথায় যাচ্ছো? মা, বাবা কই তোমার?
-আমি ঢাকায় যাব কাজ করতে।
মা আমায় বকেছে।
মা বলে আমি নাকি অনেক বড় হয়েছি।
এখন নাকি আমার কাজ করে খাওয়ার সময় হয়েছে।
আচ্ছা তুমিই বলো তো আমি কি বড় হয়েছি?
মেয়েটি এবার আমার গাল দুটো ধরে প্রথমে
কপালে এবং পরে থুতনিতে একটা করে চুমু একে
দিলো।
আমি যেন ওর কাছে পুচকে বাচ্চা।
মেয়েটি বলল...
আরে নাহ, কে বলেছে তুমি বড় হয়েছো?
তুমি তো একটা ছোট্ট বাবু।
আর তোমার মতো এমন পিচ্চিকে কেই বা কাজ
দেবে ঢাকায়?
-তাহলে আমার কি হবে বউ?
আমি যে বাড়ি থেকে রাগ করে চলে এসেছি।
বলে এসেছি আর ফিরে যাব না।
-ঠিকাছে এখন তুমি আমার সাথে যাবে।
আমিই কাজ দেব তোমায়।
এই বলে মেয়েটি মুচকি হাসি দিয়ে আবার আমার
কপালে চুমু দিলো।
আমিও ওর কপালে চুমু দিয়ে বাচ্চাদের মতো ওর
কোলে মাথা রেখে শুয়ে পড়লাম সিটেই।
.
কখন ঘুমিয়ে গেছি নিজেও জানিনা।
সকাল প্রায় সাতটা বাজে।
লোকজনের চেচামেচিতে ঘুম ভেঙ্গে
গেছে আমার।
মাথাটা একটু তুলে দেখি মেয়েটা নাই।
গাড়ি কোন এক স্টেশনে থামিয়ে দিয়েছে।
আমি লাফ দিয়ে উঠে সাইডে রাখা ব্যাগটা নিতে
গিয়েই চমকে উঠলাম!
একি! আমার ব্যাগ কই?
সিটের আশেপাশে কোথাও নেই।
আমি তাড়াতাড়ি নেমে গেলাম ট্রেন থেকে।
ট্রেনের যাত্রীরা সকলেই নাস্তা করতে
নেমেছে এই সুযোগে।
আমি তখন ভাবলাম বউ নামের মেয়েটিই হয়তো
আমার ব্যাগটা সাথে নিয়ে নিচে নেমেছে কিছু
কিনতে।
কিন্তু ও আমাকে ডাকলো না কেন?
প্লাটফর্ম থেকে নেমে পুরো স্টেশন,
মার্কেট খুঁজেও ঐ মেয়েকে পেলাম না।
আমার আর বুঝতে বাকি রইলো না যে ধোকা
দিয়েছে মেয়েটি আমাকে।
ব্যাগে প্রায় সাত হাজার টাকা ছিলো।
আর মায়ের দেয়া বিভিন্ন খাবার।
একটা দোকানের সামনে গিয়ে বসলাম।
বড্ড খিদে পেয়েছে আমার।
দুটো ডাল-পুরির অর্ডার দিলাম।
একটা ছেলে পুরি দিয়ে গেল।
একটু মুখে দিতেই আবার হুইসেল বেজে
উঠলো...
পুরি দুটো তাড়াতাড়ি কাগজে পেচিয়ে পকেটে হাত
ডুকাতেই আরেকবার হালকা টাস্কি খাইলাম।
পকেটের মানিব্যাগ কই?
তাহলে কি মানিব্যাগটাও ঐ মেয়ে নিয়ে গেছে!!
আমি কোনদিক না চেয়ে দৌড়ে গিয়ে ট্রেনে
উঠলাম।
পেছন থেকে দোকানদার চিৎকার করে
বলতেছে ঐ টাকা দিয়া যা....
সিটের কাছে আসতেই আমার হাত-পা থেমে
গেল।
দুটো সিট ই ফাঁকা রয়েছে।
তারমানে মেয়েটা আমার ব্যাগ আর টাকা নিয়ে ফুরুৎ
হয়েছে।
-ঐ ব্যাটা টোকাই তুই আমার পুরি খাইয়া টাকা না দিয়াই
দোড়াইছোস.... এই বলে একজন পিছন থেকে
আমার কলার ধরে চলতে শুরু হওয়া ট্রেন থেকে
নামালো।
নিচে নামিয়ে আমায় কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই
মুখে দুইটা ঘুসি লাগিয়ে দিলো লোকটা।
একটা ঘুসি নাকের উপর এসে লেগেছে।
নাকে হাত দিয়ে আমি লোকটার দিকে তাকালাম।
অনেক লোক জড়ো হয়েছে ওখানে।
আমার নাক দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়তেছে...
আর দুটো চোখ দিয়েও টুপটুপ করে জল গড়িয়ে
পড়ছে।
এই প্রথম কোন অপরিচিত লোক আমার গায়ে হাত
তুলেছে।
তাও আবার এতো লোকের সামনে।
লজ্জায় আর কষ্টে আমি দম ফেলতে পারছি না।
তবুও লোকটা আমার কলার না ছেড়ে পায়ের জুতা
খুলতে যাবে....
ঠিক তখনি একটা মেয়ে এসে আমার কলার ধরে থাকা
লোকটিকে ঠাসঠাস করে কয়েকটা থাপ্পড় লাগিয়ে
দিলো।
আমি অবাক চোখে তাকিয়ে আছি মেয়েটির
দিকে।
ওর চোখে যেন রক্ত জমে গেছে।
এখন ঐ মেয়েই আমাকে যে মেরেছে তার
কলার ধরে বলতেছে....
ঐ খানকির পোলা তুই ওরে মারলি ক্যান? (আমাকে
উদ্দেশ্য করে)

# অবহেলা
২য় পার্ট....
Md Munsur Helal
***
-আমার দোকানের পুরি খাইয়া টাকা না দিয়া দৌড়াইছে।
তাই ওরে মারছি। (দোকানদার)
এসব বলার সাথে সাথে মেয়েটি আবার কয়েকটা
থাপ্পর দিয়ে ধাক্কা মেরে মাটিতে ফেলে দিছে
ঐ দোকানদারকে।
বলতেছে... তোর এই ১০ টাহার লাইগা ও পালাইবো
তোরে কুন মাতারী কইছে রে হারামী?
আমি অবাক চোখে তাকিয়ে দেখছি সব।
সামান্য একটা মেয়ে এতো লোকের সামনে এই
মানুষটাকে মারতেছে তবুও কেউ কিছুই
বলতেছে না।
-ঐ হাবারাম হাবলা, কুন জাইগা থাইকা আইছোস রে?
(আমাকে উদ্দেশ্য করে মেয়েটি)
আমি একটু থতমত খেয়ে বললাম...
-আমি গ্রাম থেকে এসেছি।
-তো টাকা না দিয়ে ট্রেনে উঠতে কইছে কুন
হালায়?
-ট্রেনে আমার পাশের সিটে একটা মেয়ে ছিল।
এখানে ট্রেন থামার পর আমি ঐ মেয়ে এবং আমার
ব্যাগটা খুঁজে পাইনি।
পরে নেমে এসে ঐ মেয়েকে না পেয়ে এই
দোকানে দুটো পুরি খাইতেছিলাম।
ঠিক তখনি ট্রেন ছাড়ার হুইসেল বেজে ওঠে।
তখন পকেটে হাত দিয়ে টাকা বের করতে গিয়ে
দেখি টাকা নাই।
তাই আমি কিছু না ভেবে ট্রেনের দিকে দৌড়ে যাই
ঐ মেয়েকে পাই কিনা এই ভেবে।
-হু বুঝছি, তবে এই শহরের সবগুলাই পাক্কা হারামী।
এদের থেকে সাবধানে থাকবি।
এই বলে মেয়েটি ঐ দোকানদারকে একটা ১০
টাকার নোট ছুরে মেরে ওনাকে একটা লাথি
মেরে আমার হাত টান দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
-তোর কাছে তো টাকা নাই মনে হয়।
এখন তুই কি করবি, কই যাবি? (মেয়েটি)
-জানিনা, বাড়িতে অসুস্থ মা, বাবাকে ফেলে এসেছি
একটা চাকরির খোঁজে।
কিন্তু পথে ঐ মেয়ের সাথে একটু মজা করতে
গিয়ে সব হারালাম।
-কি মজা করতে চাইছিলি?
-ও আমায় বোকা ভেবেছিলো ললিপপ খাওয়া
দেখে।
তাই আমি ওর সাথে বোকা সেজে একটু মজা
করতে চেয়েছিলাম।
-হাহাহা... তুই তো হালায় বোকাই...
আবার বোকা সাজবি কি? হো হো হো...
মেয়েটি আমায় নিয়ে হাটছে আর হাসছে...
কি অদ্ভুত সেই হাসি!
শ্যামলা বর্নের মেয়েটির হাসিতে গালে টোল
পরে দারুন লাগছে।
একটুপরই একটা গলি দিয়ে ঢুকে পরলাম মেয়েটির
সাথে।
ঢুকেই আমি বড় ধরনের একটা টাস্কি খাইলাম।
এ কি দেখছি আমি!!
সব মেয়েই বেহায়ার মতো দাঁড়িয়ে বা বসে
আছে।
কেউ আবার পুরুষদের সাথে প্রকাশ্যেই ডলাডলি
করছে।
আমার আর বুঝতে বাকি রইলো না যে এটা নিষিদ্ধ
পল্লী।
তবে কি এই মেয়েটিও.....!!
ভাবতেই আমার পা থেমে গেল।
চারদিকে দেখার পর মেয়েটির পিছন থেকে
তাকিয়ে আছি।
মেয়েটা এগিয়ে এসে আবার হাত ধরে টান দিয়ে
সিড়িতে পা রাখলো।
সিড়ি বেয়ে উঠতে মেয়েটি আবার বলল..
অবাক হইলি এখানে আইসা?
ভাবিস না, তোর কোন বিপদ বা ক্ষতি হইবোনা।
আমার হেফাজতে থাকবি আজকের দিনটা।
তারপর তোর কোন ব্যবস্থা হলে চলে যাবি।
তিনতলা বিল্ডিংয়ের একেবারে উপর তলার একটা রুমে
ঢুকলো আমায় নিয়ে মেয়েটি।
মেয়েটি দরজা আটকে দিল।
আমার সাহসী ভাবটা হারিয়ে গেল এখন।
বুকের ভিতর ধুকধুক করছে ভয়ে।
তবুও একটু সাহসী ভাব নিয়ে তাকিয়ে রইলাম ওর
দিকে।
মেয়েটি একটা মুচকি হাসি দিয়ে আমার পাশে
বসলো।
-কি ভাবছো?
আমি কে, এখানে আমি কি করি তাইতো?
প্রথমেই দুঃখিত আমি এতক্ষন তোমার সাথে তুই
করে কথা বলার জন্য।
এক কথায় উত্তর... আমি একজন বেশ্যা, দেহব্যবসা
করি আমি।
এই বলেই মেয়েটি নিচের দিকে মাথা দিলো।
একটুপর মাথাটা তুলে স্বাভাবিক ভাবে বলল...
তোমার ভয় নেই।
তুমি আমার মেহমান।
তোমার সাথে আমি বা এই পল্লীর কেউ খারাপ
ব্যবহার করবে না।
ক্ষিধে পেয়েছে তোমার?
এই বলে মেয়েটি উঠে দাঁড়ালো।
-না লাগেনি ক্ষুধা।
একটু আগেই তো পুরি খেলাম।
-পুরি খেয়ে ক্ষুধা মেটেনা জানি।
তুমি চাইলে বাথরুমে ঢুকে ফ্রেশ হয়ে নাও।
আমি খাবার রেডি করি।
বাথরুম দেখিয়ে দিয়ে মেয়েটি কিচেনে
ঢুকলো।
আমি হাতমুখ ধুয়ে এসে খাটে শুয়ে পরলাম।
কেমন জানি অস্বস্তি লাগছে আমার।
রুমটা দারুন পরিষ্কার এবং গোছানো থাকলেও কেমন
জানি অপবিত্র মনে হচ্ছে।
যদিও রুমের ভিতরের সুগন্ধ আর সাজসজ্জায় মনেই
হচ্ছেনা এটা একটা খারাপ মেয়ের ঘর।
একটুপর মেয়েটি ভিতরে ঢুকলো।
আমাকে বলল...
তোমার জন্য খাবার বেড়ে দেই তুমি খাও।
আর আমি গোসল করে আসি।
-আরে নাহ, আপনি গোসল করে আসেন
একসাথেই খাব।
-ঠিকাছে, তাইলে টিভি চালু করে দেই দেখো।
টিভিটা চালু করে মেয়েটি বাথরুমে ঢুকলো।
প্রায় ২০ মিনিট পর মেয়েটি খোলা চুলে ভিতরে
ঢুকলো।
ওরে বাব্বাহ.... কোমরের নিচে নেমে গেছে
চুল!
খোলা চুলে যেন পরীর মতো লাগছে।
আমি হা করে তাকিয়ে দেখতেছি ওকে।
-ঐ গ্রামের হাবলা, কি দেখো হুম?
মেয়েটির কথায় আমি লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করলাম।
বললাম.. আপনি খুব সুন্দর।
-হাহাহা... সাহস এসে গেল বুঝি মনে?
একটু আগে তো ভিতুর ডিম হয়ে ছিলে।
যাই হোক টেবিলে এসে বসো।
ওনার কথায় টেবিলে গিয়ে বসলাম।
মেয়েটা ভাত বাড়ছে আর বলতেছে... খাবার
খেতে কোন লজ্জা বা ঘৃনা করবে না।
আমি খারাপ মেয়ে হতে পারি।
তবে আমিও মানুষ।
আর খাবারগুলোও নিজের জন্যই রান্না করেছি।
.
আমি আর মেয়েটি খেয়ে নিলাম।
খাওয়ার পর বিছানায় শুয়ে পরলাম।
একটুপর মেয়েটি এসে আমার পাশেই বসলো।
-ঘুমাবে নাকি একটু ঘুরতে যাবে? (মেয়েটি)
-ঘুরবো চলেন...
এই বলে বিছানা থেকে উঠে মেয়েটির সাথে
বের হলাম।
মেয়েটি আমায় নিয়ে অনেক জায়গায় ঘুরলো।
ঘুরতে ঘুরতে রাত হয়ে গেল।
রাত আটটায় ঐ পল্লীতে পৌছলাম।
রুমে ঢুকেই আমি শুয়ে পরলাম।
আর মেয়েটি সাথে আনা বাজারের সদাই নিয়ে রান্না
করতে গেল।
রান্না শেষ হলে মেয়েটি একটু বাইরে গেল।
তার কিছুক্ষন পরই নিচ থেকে চেচামেচি আর হইচই
শুনে লাফিয়ে উঠলাম।
দরজা ঠেলে বাইরে এলাম দৌড়ে।
নিচের দিকে তাকিয়ে দেখি সবাই দৌড়াদৌড়ি করতেছে
আর বলতেছে ভুত, ভুত....
আমি একটু তড়িঘড়ি করে সিড়ি বেয়ে নিচে নেমে
এলাম।
এসেই আমি ভয়ে শিউরে উঠলাম!
আমাকে এখানে নিয়ে আসা সেই মেয়েটি চোখ
বড় বড় বানিয়ে একটা চাকু হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে
আছে।
সবাই দৌড়ে পালাচ্ছে।
আর নিচে একটা লাশ পড়ে আছে।
মেয়েটির হাতের চাকুতে লেগে আছে রক্ত!
এই মেয়েটিই খুন করেছে।
হঠাৎ আমায় একটা মেয়ে টান দিয়ে ওখান থেকে
নিয়ে গেল।
তারপর জানলাম এই মেয়েটি নাকি ভুত/পেত্নী।
এখানে আসার পর এই মেয়েই নাকি এখানকার
সর্দারকে মেরে ফেলেছে।
এরপর একে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়।
কিন্তু সেখানেও একটা পুলিশকে মেরে ফেলে।
শেষমেশ ডাক্তার, কবিরাজ দেখিয়ে জানা যায় যে
এই মেয়ের ভিতর সময় সময় ভুত হাজির হয়।
তারপর মেয়েটিকে কেউ কিছু বলার সাহস পায়নি।
মেয়েটি আবার এখানে ফিরে আসে।
এখন এখানকার সবাই ওকে ভয় পায়।
ওর কথায় চলে।
যে ওর কথার অবাধ্য হয় তাকে খুন করে ফেলে।
এসব কথা শুনলাম ওখানকার কয়েকটা মেয়ের মুখে।
ব্যপারটা আমার কাছে খুবই রহস্যজনক মনে হলো।
আমি ওদের বললাম মেয়েটা এখন কোথায়?
তারা বলল যে... ওর রুমেই আছে।
তবে কেউ যাওয়ার সাহস পাবে না।
যে যাবে তাকেই ঐ ডাইনি মেরে ফেলবে।
আমি বললাম... আমি যাব ওর কাছে।
সবাই আমাকে বাধা দিলেও আমি শুনলাম না।
ধীরে ধীরে উপরতলায় উঠলাম।
সবাই নিচের তলায় বা একেবারে নিচে থাকে।
শুধু এই মেয়েটিই নাকি উপরে একা থাকে।
তৃতীয় তলায় উঠে পড়েছি...
ভিতরে হাজার সাহস আনলেও বুকের ভিতর ধুকধুক
করছে...
এই রাত ১০ টায় একা তৃতীয় তলায় আছি আমি...
একেবারেই নিরব চারদিক।
জিরো বাল্ব জ্বলতেছে ঐ মেয়েটার রুমের
সামনে।
আমি ভয়ে ভয়ে দরজায় টোকা দিলাম।
ওমনি ধুপ করে দরজাটা খুলে গেল!
আমি ভয়ে চুপসে গেছি।
গলাটা শুকিয়ে আসছে।
পিছন দিকে দৌড় দেব এমন সময় একটা হাত এসে
আমার ঘাড়ে পরলো!!
আমি চমকে গিয়ে ফিরে তাকাতেই দেখি একটা সাদা
পোষাক পড়া মহিলা, চোখদুটো বড় বড় আর দুটো
বড় দাত বের করে হাসছে।
***

# অবহেলা
৩য় পার্ট....
Md Munsur Helal
***
এই দৃশ্য দেখার পরই আমি চিৎকার দিয়ে নাকি ওখানে
পড়ে গিয়েছিলাম।
সেদিন রাত তিনটার সময় আমি চোখ মেলে তাকাই।
দেখি রুমের দরজা বন্ধ।
রুমের চারদিকে চোখ বুলিয়ে দেখলাম কেউ নাই।
বুকের ভিতর আবার ধুকধুকানি বেড়ে গেছে।
আমি ধীরে ধীরে বিছানা থেকে উঠতে গিয়ে
আবার চমকে গেলাম!
খাটের নীচে বসে খাটের সাথে মাথা ঠেকিয়ে
ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদতেছে একটা মেয়ে!
আমার হাত-পা কাঁপতেছে।
কথা বলার বা একটু নড়াচড়ার সাহস বা শক্তি কোনটাই
এখন নাই আমার।
মেয়েটা একটুপর আমার উঠেপরা লক্ষ করে মাথা
তুলে আমার দিকে তাকিয়েছে।
আমি ভয়ে ভয়ে মেয়েটার চোখের দিকে
তাকালাম।
নাহ... মেয়েটার চোখ মুখ দেখে আমার ভয় এক
নিমিষেই হারিয়ে গেল।
এই চোখে কষ্টের ছাপ দেখছি আমি।
ওর চোখ দেখে তো মনে হয়না ও একটা ভুত/
পেত্নী।
দুচোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পরছে মেয়েটির।
আমি একটু বুকে সাহস জমিয়ে কিছু বলতে যাব ঠিক
তখনি মেয়েটি খাটে উঠে পরলো।
আমার পা ধরে বলল...
-আমায় ক্ষমা করে দাও। আমি তোমাকে ভয় পাইয়ে
দিতে চাইনি।
আমি পরিস্থিতির স্বীকার।
এই বলে মেয়েটি আমার পা ধরে আবার কাঁদতে
লাগলো।
আমি মেয়েটার মাথায় হাত বুলিয়ে বললাম... কি
হয়েছে আপনার?
আর রাতেই বা ওসব কান্ড কিভাবে হলো?
-আমি সবকিছু তোমায় খুলে বলব।
তার আগে তুমি আমায় একটা উপকার করবে?
আমি তোমার কাছে চিরঋনী থাকব, বলো করবে
কিনা?
-হুমকরব। বলেন কি করতে হবে আমাকে?
আগামিকাল ভোরে আমার সাথে আমার বাড়িতে
যেতে হবে তোমাকে।
-এটা কোন ব্যাপার হলো? হা আমি যাব তোমার
সাথে।
-তোমাকে আমার স্বামী সেজে যেতে হবে
যে।
মেয়েটির কথায় আমি অবাক চোখে তাকালাম তার
দিকে।
কি বলে এই মেয়ে! আমি কেন ওর স্বামী
সেজে ওর বাড়িতে যাব?!
আমি মেয়েটিকে বললাম...
এটা কেমন কথা! আমি কেন আপনার স্বামী সাজতে
যাব?
ওমনি মেয়েটা রাতে খুন করা সেই চাকুটা বের
করে আমার সামনে ধরলো!
আমি চমকে গেলাম আবার।
মেয়েটা আমার হাত টেনে নিয়ে বলল এই নাও
চাকু....
এটা দিয়ে এই দুঃখিনী কলঙ্কিনীকে মেরে দাও।
তবেই আমি এই যন্ত্রনা আর নিষিদ্ধ জীবন
থেকে মুক্তি পেয়ে যাব।
দয়া করে আমায় মেরে ফেলো তুমি...
এই বলে মেয়েটি আমার হাত ধরে হাউমাউ করে
কাঁদতে লাগলো আবার।
আমি কিছু বুঝে উঠতে পারছি না। কি করব আমি?
একদিকে আবেগ আর মায়ায় বন্ধি হয়ে যাচ্ছি...
অন্যদিকে ভেজালের জালটাও আমায় জড়িয়ে
ধরছে।
কোনদিকে যাব আমি এখন?
হঠাৎ আমার মনে হলো দেখি মেয়েটার মাঝে কি
রহস্য লুকিয়ে আছে?
নিজের চিন্তা কয়েকদিনের জন্য না হয় বাদ দিলাম।
আমি আস্তে করে মেয়েটার মাথাটা দুহাতে ধরে
চোখের ইশারায় বললাম... ঠিকাছে আমি রাজি।
এই বলার পর মেয়েটি আমায় পাগলের মতো এসে
জরিয়ে ধরলো।
আমি কি করব বুঝতে পারছি না।
মেয়েটি এখনো কাঁদছে।
আমি কিছু না ভেবে মেয়েটির পিঠে হাত বুলিয়ে
শান্তনা দিতে লাগলাম।
ভুলে গেলাম একটা পতিতা আমার বুকে আছে।
এভাবেই মেয়েটাকে বুকের উপর রেখে
ঘুমিয়ে গেছি কখন জানিনা।
ভোরে জানালার ফাক দিয়ে হালকা আলো এসে
আমার মুখের উপর পরেছে।
চোখ মেলে তাকাতেই আমার চোখ কপালে
উঠে গেল!
এই মেয়ে তো আমায় বুকের সাথে আকরে
ধরে শুয়ে আছে।
আমার কেমন জানি পাপবোধ হচ্ছে।
জেনেশুনে একটা পতিতাকে জড়িয়ে ধরে
শুয়েছিলাম সারারাত।
কি করব এখন? মেয়েটা তো অঘরে ঘুমাচ্ছে।
ধীরে একটা ডাক দিলাম.....
-এই ওঠেন....
দুইতিনবার ডাকার পরেও সাড়া পেলাম না।
আমিও ঘুমিয়ে থাকার ভান করে শুয়ে রইলাম। কি আর
করার?
একটুপরই টের পেলাম যে মেয়েটা জেগে
গেছে।
আমাকে কোনরকম ছাড়িয়ে পড়নের কাপড় ঠিকঠাক
করে উঠে পড়ল মেয়েটা।
বাথরুমে ঢুকে কিছুক্ষণ পর আবার বের হয়ে
এলো হাতমুখ ধুয়ে।
এসেই আমায় ডাক দিল।
আমি না শোনার ভান করেই শুয়ে রইলাম।
তখন মেয়েটি এগিয়ে এসে আমার কান টেনে
ধরে বলল...
কিরে শেয়ানা হাবলা, আমি কিছুই বুঝিনা নাকি?
তুমি তো আমার আগেই জেগে গেছো..
এখন আবার ঘুমের ভান করে থাকো কেন সোনার
চান্দ।
আমি চোখমেলে লজ্জালজ্জা ভাব নিয়ে তাকিয়ে
রইলাম মেয়েটার দিকে।
কি অদ্ভুত মেয়েরে বাবা!
আমি উঠে হাতমুখ ধুয়ে আসার আগেই খাবার রেডি।
খাওয়ার পর মেয়েটা সব কাপড় চোপড় গোছগাছ
করে নিজে একটু সাজগোছ করলো।
এরপর আমার সামনে এসে মাথায় একটু তেল লাগিয়ে
চিরুনি মেরে চুল ঠিক করে দিল আমার।
আমি অবাক চোখে শুধু মেয়েটার কাণ্ডকারখানা
দেখতেছি।
মেয়েটাও আমার চেয়ে থাকা দেখে মুচকি মুচকি
হাসছে।
রেডি হয়ে ওখান থেকে নেমে আসার সময় ঐ
পল্লীর সবাই আমার দিকে চেয়েছিল অবাক
চোখে।
ওকে নিয়ে ট্রেনে উঠলাম।
উঠেই ওকে জিজ্ঞেস করলাম কোথায় আপনার
বাড়ি?
মেয়েটা বলল... সিরাজগঞ্জ, বেলকুচি।
এই কথা শুনে আমি বড় ধরনের একটা টাস্কি খাইলাম!
আমি বললাম কি বলছেন এসব?
-কেন, তুমি সিরাজগঞ্জ চেনো? (মেয়েটি)
-চিনি মানে!! আমার বাড়িও তো সিরাজগঞ্জ, বেলকুচি।
-সত্যি? কোন গ্রামে বাড়ি তোমার?
-রয়নাপাড়া আমার গ্রামের নাম।
আপনার গ্রাম?
-আদাচাকি আমার গ্রামের নাম।
আর আমার নাম আশিকা সুলতানা।
মেয়েটার পরিচয় শুনে আমার মাথা আউলাইয়া গেল!
এ তো আমাদের পাশের গ্রামের মেয়ে।
***

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ