★★★শখের গোয়েন্দা★★★
-
পর্ব-১
সিয়াম আহমেদ। ( কোন এক রাজকুমারির অপেক্ষায়)
-
আবির ভাইয়া অনেক ভালো একজন গোয়েন্দা।
অবশ্যয় আমার পরিচয় টা দেওয়া দরকার।আমি রাকিব।
আবির ভাইয়া সব সময় গোয়েন্দার কাজ করে না।যদি
করে তাও মাঝে মাঝে।আজকে কেন যানি আমার
ভালো লাগছে না।অন্যদিকে আবির ভাইয়া একমনে
খবরের কাগজ পড়ে যাচ্ছে।কিছুক্ষণ পর আন্টি
মানে আবির ভাইয়ার আম্মু নাস্তা নিয়ে এল।
>রাকিব এতো দিন কোথায় ছিলি?...(আন্টি)
>পরীক্ষা ছিল তাই একটু বিজি ছিলাম।...(আমি)
আন্টির সাথে অনেক্ষণ কথা বললাম।নাস্তা করা শেষ
করার পর আন্টি নিজের রুমে চলে গেল।
>রাকিব তুই কি কয়েক টা দিন ফ্রি আছিস?...(আবির)
>হুম আছি।কেন?...(আমি)
>আমাদের একটু সিলেট যেতে হবে।...(আবির)
>হঠাৎ সিলেট কেন?...(আমি)
>সেটা সিলেট যাওয়ার পথে বলবো।...(আবির)
>তো আমরা সিলেট যাচ্ছি কবে!...(আমি)
>আগামিকাল সকালে।তৈরি হয়ে ট্রেন স্টেশনে
চলে আসবি।...(আবির)
আবির ভাইয়ার সাথে আরো অনেক্ষণ কথা বলে
আমি সেদিন চলে আসলাম।আগে আমরা এক সাথে
থাকতাম।বর্তমানে আমার পড়ালেখার জন্য আলাদা
থাকতে হয়।বাসায় এসে কাজ সেরে রাতের খাবার
শেষ করলাম।পরের দিন ঠিক সময় মত ট্রেন
স্টেশনে পৌছে গেলাম।তবে আবির ভাইয়া সব
কিছুতে আগে।এই যেমন আগেই এসে বসে
আছে।ট্রেন ছাড়তে আর মাত্র বিশ মিনিট বাকি।এই
ফাকে আমরা নাস্তা সেরে নিলাম।তারপর আমরা
যথারীতি আমাদের কেবিনে গিয়ে বসলাম।
>আমরা সিলেট কেন যাচ্ছি তা তো এখনো
বলোনি।...(আমি)
>এস.পি কামালকে তো ছিনিস!...(আবির)
>কেন চিনবো না।তোমার সেই রহস্য কেসটাতে
তো ওনি তোমার ছিল।...(আমি)
>হুম...(আবির)
>ওনার কি কিছু হয়েছে?...(আমি)
>না ওনার কিছু হয়নি।...(আবির)
>তাহলে হঠাৎ সিলেট যাওয়া হচ্ছে কেন?...(আমি)
>একটা মার্ডার আর একটা কিডন্যাপ এর কারণে।...
(আবির)
>ব্যাপারটা ঠিক বুঝলাম না।...(আমি)
>ব্যাপার টা তাহলে শুন...।...(আবির)
রহস্য কেসটার পর এস.পি. কামাল বদলি হয়ে চলে
যায় সিলেটে।সেখানে যাওয়ার এক বছর ঠিক মত
কাটলেও পরে শুরু হয় ঝামেলা।আর সেই ঝামেলা
দুটো মাডার আর কিডন্যাপ।সিলেট চা বাগান সবাই চিনে।
আমাদের দেশে অনেক গুলো টি(চা পাতা)
কোম্পানি রয়েছে।তাদের মধ্যে একটা
কোম্পানির মালিক হলেন নিলয় সেন।যার চা পাতা
বিদেশেও রপ্তানি হয়।তবে সমস্যাটা হচ্ছে ওনার
স্থ্রী মার্ডার করা হয়।এট দ্যাট টাইম স্কুলের গেইট
থেকে ওনার মেয়েকে কিডন্যাপ করা হয়।এই
কেস টা পুলিশ ইনবেস্টিগেশন করেও কোনো
লাভ হয়নি।তাই আবির ভাইয়াকে এস.পি কামাল এই দায়িত্ব টা
দিতে চাই।এস.পি কামাল বুঝে গেছে এটা গুপনে
করতে হবে।
>বুঝেছি এই কারণে তোমার সিলেট যাওয়া।...(আমি)
>হুম।...(আবির)
>আচ্ছা নিলয় সেন এর স্থ্রী এবং মেয়ের নাম
কি?...(আমি)
>নিলয় সেন এর স্থ্রীর নাম অধরা সেন এবং
মেয়ে নীলা সেন।...(আবির)
-
-
-------------চলবে--------------
★★★শখের গোয়েন্দা★★★
-
পর্ব-২
-
লেখা: সিয়াম আহমেদ।
-
ট্রেন আপন গতিতেই চলছিল।আমরা যখন সিলেট
পৌছালাম তখন অনেক রাত হয়ে গেছে।কয়টা বাজে
সেটা জানি না,কারণ দুটো।একটা হচ্ছে আমি হাতে
ঘড়ি পরি না,তাই হাতে ঘড়ি নেই।আরেক টা হচ্ছে
আমি ট্রেনে সারা দিন গান শোনার কারণে মোবাইল
অফ হয়ে গেছে।
স্টেশন থেকে আমাদের নিতে এস.পি. কমাল
সাহেব একজন এস আই কে পাটিয়েছেন।এস আই
স্টেশনে দাড়িয়ে ছিলেন।আমাদেরকে চিনতে
পারেননি।আবির ভাইয়া আমাদের পরিচয় দিলে তিনি
চিনতে পারেন।এস আই এর নাম রিফাত হোসেন।
দেখতে গায়ের রং কালো।কিন্তু ব্যবহার যথেষ্ট
ভালো।এস.পি. কামাল সাহেব আমাদের জন্য এখানকার
একটা গেষ্ট হাউসে থাকার ব্যবস্থা করেছেন।তাই
এখন আমরা পুলিশের জিফে করে গেষ্ট হাউসের
দিকে যাচ্ছি।
>স্যার এর কাছে আপনার সম্পর্কে শুনেছিলাম।...(র
িফাত)
>স্যার আমাকে অনেক ভালোবাসে তাই হয়তো
একটু বারিয়ে বলেছেন।...(আবির)
>তবে আপনাকে দেখে মনে হয় না আপনি
গোয়েন্দা।...(রিফাত)
>হুম...(আবির)
আমরা গেষ্ট হাউসে পৌছে গেলাম।গেষ্ট হাউস টা
দুতলা একটি দালান।ভিতরে ঢুকতেই একটা বড় একটা
বসার ঘর।তারপাশের ঘরটা হচ্ছে খাবার ব্যবস্থা।
আর দুতলায় আমাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়ে।
আমাদের থাকার ঘরটার এক পাশে বিশাল বারান্দা।আর
সেখানে দুটো চেয়ারও আছে।এখানে চা
বাগানের সুন্দর অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করা যায়।
অফিসার রিফাত আমাদের কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার
সময় আবির ভাই কিসের ভিডিও ফোটেজ দেখতে
চায়।অফিসার রিফাত কালকে সকালে সেই গুলো
দিয়ে যাবে বলেই চলে গেল। আমরা সেই দিন
অনেক ক্লান্ত ছিলাম তাই খাওয়া-দাওয়া শেষ করে
ঘুমিয়ে পড়লাম।সকাল বেলা ঘুম ঘুম চোখ খুলে
দেখলাম আবির ভাইয়া কোথাও নেয়।তারপর আমি
ওঠে সারা ঘর খুজলাম।কিন্তু কোথাও নেই।গেষ্ট
হাউসের এর বাইরে এসে দেখি আবির ভাইয়া
কোথায় থেকে যেন আসতেছে।
>কিরে এখানে কি করিস?...(আবির)
>কি আর করবো...তোমাকে না দেখে তাই
এখানে দেখতে এলাম।...(আমি)
>ও আচ্ছা।আমি একটু আশে পাশের জায়গা গুলো
ঘুরে দেখতে ছিলাম।...(আবির)
>ওওও...(আমি)
>তারাতারি রেডি হয়ে নে।একটা কাজে যেতে
হবে।...(আবির)
আমি রেডি হতে গেলাম।আবির ভাইয়া আগেই রেডি
হয়ে গেষ্ট হাউসে বসার ঘরে গিয়ে বসল।আমি
রেডি হয়ে বসার ঘরে গিয়ে দেখি এস.পি কামাল
সাহেব এসেছেন।আমিও গিয়ে বসলাম।
>আবির কেমন আছো?...(কামাল)
>ভালো।আপনার?...(আবির)
>ভালো।আবির তুমি তো জানো কেন তোমাকে
এখানে আসতে বলেছি।...(কামাল)
>হুম ব্যাপারটা একটু অন্য রকম।আমি আপনাকে
কয়েকটা প্রশ্ন করতে চাই।...(আবির)
>অবশ্যয় করো আবির।...(কামাল)
>আচ্ছা খুন আর কিডন্যাপ দুটা কি একই জায়গা তে
হয়েছিল?...(আবির)
>না।অধরা সেন আর নীলা সেন দুই জনকে সেন
বাংলোর উঠোন থেকে কিডন্যাপ করা হয়।...
(কামাল)
>তো অধরা সেন এর লাশটা কোথায়?....(আবির)
>অধরা সেন এর লাশটা পাওয়া যায় কাকতি মোরের
ব্রিজের উপরে।...(কামাল)
>ব্রিজের ওপরে কেন!!খুনি তো খুন করে লাশ
ব্রিজের নিচে ফেলে দেয়।...(আবির)
>হুম এটায় তো রহস্য।তবে আরেকটা রহস্য কি
জানো আবির লাশটার চেহারা এসিডে পুড়ে ফেলা
হয়েছে।...(কামাল)
>তাহলে পুলিশ চিনলো কি করে এটা অধরা সেন এর
লাশ?...(আবির)
>এটা পুলিশ চিনতে পারেনি।এটা চিনতে পেরেছেন
নীলয় সেন।...(কামাল)
>লাশটা এখন কোথায়?...(আবির)
>লাশটা এখন মর্গে রাখা হয়েছে।...(কামাল)
>আচ্ছা নীলা সেন এর ব্যাপারে কি কিছু জানা
গেছে?....(আবির)
>তা জানা যায়নি।কিন্তু কিডন্যাপার বিনিময়ে পাঁচ কোটি টাকা
চেয়েছে।...(কামাল)
>নীলয় সেন কি বললেন?...(আবির)
>তিনি টাকা দিতে রাজি।কিন্তু কিডন্যাপার বললেন সময়
হলে ওরা বলবে কোন জায়গায় টাকা নিয়ে যেতে
হবে।...(কামাল)
>হুম..আমাকে লাশের ছবি আর সাংবাদিকের ভিডিও টা
লাগবে।...(আবির)
>যেটা দিন-সময়ের টেলিভিশনে প্রকাশ হয়েছে
ঐটা?...(কামাল)
>হুম ঐটা।...(আবির)
>ঠিক আছে সেগুলো আমি তোমার কাছে
পাঠিয়ে দিবো।...(কামাল)
>আচ্ছা ঠিকে।আমি আপ্রাণ টেষ্টা করবো আপনার
এই কেস টা সমাধান করতে।...(আবির)
এস.পি কামাল সাহেব চলে গেলেন।আবির ভাইয়া
বললেন আমাদের ক্যামেরাটা নিতে কাজে লাগবে।
আমরা হাটতে হাটতে আশেপাশের জায়গা গুলো
দেখছি। আমাদের গেষ্ট হাউস থেকে কাকতি
মোর ব্রিজটা বেশি দুর না।হেটে গেলেই ১০
মিনিট।তাই আমরা হাটছি।
---------------------------চলবে-----------------------
★★শখের গোয়েন্দা★★
-
পর্ব-৩
সিয়াম আহমেদ।
-
আশে পাশে কোনো মানুষ নেই।একটা
মেয়েকে দেখলাম
ব্রিজের এদিক থেকে আসতেছিল।মেয়েটা
আমাদের পাশ
কটিয়ে চলে গেল।দেখে তেমন সন্দেহ জনক
না।আমরা কাকতি
মোর ব্রিজে পৌছে গেলাম।এখানে ব্রিজটা
তেমন বড় নয়।আবির
ভাইয়া আমার কাছ থেকে ক্যামেরাটা নিয়ে আশে
পাশের বেশ
কয়েকটা ছবিও তুলল।আবির ভাইয়া ব্রিজের নিচে ছবি
তুলার জন্য জুম
করতে গিয়ে কি যেন লক্ষ্য করল।
তাই আমার হাতে ক্যামেরা ধরিয়ে দিয়ে বলল....
>আমাকে একবার ব্রিজের নিচে যেতে হবে।...
[আবির]
>কেন?...[আমি]
>হয়তো সেখানে কিছু একটা পাবো।...[আবির]
>আমিও তোমার সাথে যাবো।...[আমি]
>তার দরকার নেই,তুই এখানে দাড়িয়ে থাক।আমি
তারাতারি ফিরে
আসবো।...[আবির]
>আচ্ছা।...[আমি]
আবির ভাইয়া বারণ করায় আমি আর যায়নি।আবির ভাইয়া
নিচে চলে গেল।
দেখলাম আবির ভাইয়া হ্যান্ড ব্যাগ এর মত কিছু একটা
পেয়েছে।
আর সেখান থেকে কাগজের মত কিছু পড়ছে।
হঠাৎ করে আমি
জিপ এর আওয়াজ শুনতে পেলাম।তাকিয়ে দেখি
অফিসার রিফাত
পুলিশের জিপ চালিয়ে আসছে।আমাকে দেখে
জিপ থামিয়ে আমার
কাছে এসে বললেন....
>এখানে কি করছেন রাকিব সাহেব।আর আবির সাহেব
কোথায়
ওনি?...[রিফাত]
>জায়গা টা একটু দেখতে এলাম।আর আবির ভাইয়া
ব্রিজের নিচে।...
[আমি]
>ব্রিজের নিচে মানে ওনি ব্রিজের নিচে কি
করছেন।...[রিফাত]
>তা আমি জানি না।আপনি নিজেই দেখুন।...[আমি]
অফিসার নিচে আবির ভাইয়া এর দিকে তাকিয়ে জোর
গলায়
বললেন....
>আবির সাহেব আপনি নিচে কি করছেন?...[রিফাত]
>কিছু না আপনি একটু নিচে আসুন।...[আবির]
>আচ্ছা আসতেছি।...[রিফাত]
অফিসার রিফাতও চলে গেল আবির ভাইয়া এর কাছে
আর আমি
ব্রিজের ওপর দাড়িয়ে আছি।
>আচ্ছা অধরা সেন এর লাশটা যখন ব্রিজের ওপর
পাওয়া যায় তখন কি
পুলিশ ব্রিজের নিচে আসেনি?...[আবির]
>না মশাই।ওপরে যখন লাশ পাওয়া যায় তখন নিচে আসা
হয়নি।...[রিফাত]
>এই নদীটা কি সব সময় শুকনো থাকে?...[আবির]
>তা তো মশাই বার মাসই থাকে।...[রিফাত]
>হুম।..ঐদিকে কিছু দেখতে পাচ্ছেন কি!...[আবির]
>চলেন তো কাছে গিয়ে দেখি।...[রিফাত]
>হুম চলুন।...[আবির]
>একি এটা তো একটা কয়েক গজওয়ালা কালো বড়
পলিথিন যা বাজ
করে এখানে ফেলা হয়েছে।...[রিফাত]
>আপনি ঠিক ধরেছেন।এই যে দেখুন এখানে
রক্ত লেগে
আছে।...[আবির]
>তার মানে লাশ টাকে আগে এটাতে বেধে
এখানে আনা হয়ে।
তারপর লাশটাকে ব্রিজের ওপর রাখা হয়।...[রিফাত]
>শুধু তা নয়।পলিথিন থেকে ব্রিজের ওপর রেখে
পলিথিনটা বাজ
করে এখানে ফেলা হয় যাতে ঘাসের ভেতর
পলিথিন টা দেখা না
যায়।...[আবির]
>এবার বুঝলাম নিচে না এসে পুলিশের কত বড় ভুল
হয়েছে।...
[রিফাত]
>হুম।...[আবির]
>আবির সাহেব চলুন আরো খুজে দেখি।...[রিফাত]
আবির ভাইয়া এবং অফিসার রিফাত ব্রিজের ওপর উঠে
এসেছেন।
আমিও তাদের কাছে গেলাম।আমি দেখলাম অফিসার
রিফাত এর হাতে পলিথিন এর বাজ। আমরা এক সাথে
জিপে উঠে বসলাম।আর জিপ চালাচ্ছিল অফিসার
রিফাত।আর আবির ভাইয়া চুপ করে বসে আছে আর
কি যেন
ভাবছে।
>সরি আবির সাহেব আসতে একটু দেরি হয়ে
গেল।...[রিফাত]
>অসুবিধা নেই।...[আবির]
>এ নিন আপনার ছবি আর ভিড়িও সিডি।...[রিফাত]
>ধন্যবাদ।...[আবির]
>আমাদের এখানে একটা মেলা বসেছে দেখতে
যাবেন।...
[রিফাত]
>যদি আপনি নিয়ে যান তাহলে যাবো।...[আবির]
আমরা এখন মেলা দেখতে যাচ্ছি।মেলা এখান
থেকে বেশ দুরে জিপে করে ১৮ মিনিট লাগে।
আবির ভাইয়া ছবি গুলো ভালো দেখছে।আমিও ছবি
গুলো দেখেছি।তেমন কিছু বুঝলাম না।
---------------------চলবে--------------------------
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ