হারানো ভালোবাসা,,,,,
,
সিয়াম আহমেদ
.
- এই তুমি এখন কোথায়? ( জীবন)
- আমি এখন কলেজে যাচ্ছি।( পাখি)
- কোন পর্যন্ত গেছ?
- কেন??
এত ঘন ঘন কল করো কেন বলতো?
- আমি মনে করি তুমি হারিয়ে যাচ্ছ,
তাই বার বার কল করি।
- আচ্ছা তুমি তো বিদেশ গেছ ধনি
হওয়ার জন্য। আমাকে বিয়ে করে রাজ
রানী বানানোর জন্য।
কিন্ত রাত দিন যেভাবে ফোনে
টাকা নষ্ট করো তাতে আর
তোমাকে দেশে ফিরতেও হবে না,
আমাকে বিয়ে ও করতে হবে না।
- এমন কথা বলো না জান পাখি,
তোমাকে না পেলে আমি মরে
যাবো।
- তাহলে তুমি আয়ের চেয়ে বেশি
ব্যায় করো কেন?
- জান আমি তো কাজ করি, টাকাও
পাই, কিন্তু সেই টাকার একটা লজেন্চ
ও কোনদিন খাই না। এমন কি তোমার
সাথে কথা বলার জন্য , মোবাইল
রিচার্জ করবো তাই মাঝে মাঝে শুধু
ঝাল দিয়ে ভাত খাই।
- তোমার মতো পাগল এই দুনিয়াই
আমি দ্বিতীয় টা আর দেখিনি।
আমি রাস্তাই দাড়িয়ে কথা বলছি।
কলেজে যেতে লেট হয়ে যাবে। এখন
রাখো।
- জান পাখি তুমি রাস্তাই কোন
পাশে কোন জাইগাই আছো?
- উহ্ মসজিদের সামনের রাস্তাই, বকুল
গাছের তলে ( রাগনিত কন্ঠে)
- জান কলেজ থেকে ফেরার সময়
এখানে দাড়িয়ে একটা মিস কল
দিবা?
-ওকে দিবো। বাই.. বলেই পাখিই
ফোনের কলটা কেটে দিল।
.
এতোক্ষণ জীবন পাখির সাথে কথা
বল্ল।এই তিন বছর হলো পাখিকে
দেশে রেখে জীবন প্রবাসে গেছে।
পাখি ধনির দোলালি, খুব আদর করে
বাবা মা তাকে পাখি বলে
ডাকে। তোতা পাখির মতো কন্ঠ আর
অপরুপা সুন্দরী।
ওর মনটা প্রচন্ড ভালো। ও জীবনকে
অনেক ভালোবাসে। ও চাই জীবন খুব
তাড়াতাড়ি ওর বাবার উপযুক্ত
জামাতা হয়ে তার সামনে এসে
দাড়াক।
জীবনের বাবা খুব গরিব। অনেক কষ্টে
টাকা জমিয়ে ওকে বিদেশ
পাঠিয়েছে। কিন্তু জীবন সেই
বিদেশ যেয়ে পর্যন্ত যত টাকা ইনকাম
করে তার কিছুটা ওর মা বাবাকে
দেই আর যা থাকে তাতে ভালো
মতো খাই ও না। সবটাই পাখির
কাছে ফোন করে ফুরাই।
সে কারনে প্রায় ই পাখি বিরক্তিত
হয়ে অনেক বকা দেয়। কিন্তু জীবন
সেটাতে কোন দিনও সামান্ন
পরিমান ও রাগ করে না। পাখিরা
হইতো ধনি আর জীবন গরিবের ছেলে
কিন্তু ওদের ভালোবাসার দিকটা
বিবেচনা করলে জীবন অনেক উর্ধে।
ওর ভালোবাসার মন টা সীমাহীন
আকাশের মত। যে আকাশে নিচে শুধুই
দুটি পাখির উড়াউড়ি।
.
কলেজ থেকে ফেরার সময় পাখি
সেই মসজিদের সামনে এসে মিস কল
দিলো।জীবন এর আগে যখন তখন ফোন
করার কারনে অনেক জাইগার কাজ
থেকে বিতাড়িত হয়েছে।ওটাতে ও
কিচ্ছু মনে করে না। শুধু মাত্র পাখি
ছাড়া ওর জীবনটাই অর্থহীন।তাই
কাজে থাকা শত্তেও মিস কল
পাওয়ার সাথে সাথে কল করলো।
- কোথায় আছো জান পাখি?
- তখন যেখানে দাড়িয়ে কথা
বলেছিলাম সেখানে।
- জান, মসজিদের সামনে?
- হ্যাঁ।
- জান পাখি আজ একটা কথা দিবে?
-কি কথা বলো?
- মসজিদ সামনে রেখে ওয়াদা
করবা, তুমি আমাকে ছাড়া আর
কাউকে বিয়ে করবে না।
- তোমার কি মনে হয়? অন্য পুরুষের হাত
ধরে চলে যাবো?
- না জান, তা নয়। আমি আতংকে
থাকি, মনে হয় এই বুঝি তুমি হারিয়ে
গেলে। কোন প্রকার কাজে মন
বসাতে পারি না।
তাছাড়া কাল আমার এক বন্ধু বল্ল,
ঠোঁটের ডান পাশে তিল ওয়ালা
মেয়ে রা নাকি বেশি পুরুষের
নজরে পড়ে।
- ধ্যাৎ এসব আজগবি কথা বাদ দাওতো।
- তাহলে ওয়াদা করো।
- এই মসজিদের সামনে দাড়িয়ে
মাথায় উড়না তুলে দিয়ে বউ সেজে
বলছি তোমাকে ছাড়া আর কাউকে
বিয়ে করবো না সোনা।
- চু উ ম্মা জান ( খুব খুশি হয়ে)
- তাহলে এবার রাখো। কি
করছিলে?
- কাজ করছিলাম। তুমি মিসকল
দিয়েছো তাই টইলেটে আসার নাম
করে এসে কথা বলছি।
- ওইত আগে যাও কাজ করো। এবার
এখান থেকে যদি বিতাড়িত হও আর
কাজ পাবে না।
-ওকে জান। বাই,,,,
.
এই তিনটি বছর ই এভাবে কেটেছে
জীবন আর পাখির দূরের প্রেম।
পাখির কারনে জীবন মাঝে মাঝে
অনেক কষ্ট পাই। এক ম্যাচেখেত। তা
একদিন ম্যাচের পক্ষ থেকে জীবন কে
পাঠালো মার্কেটে মাছ মাংস
কিনতে। কিন্তু জীবন পাখির সাথে
কথা বলতে বলতে ব্যালেন্চ ফুরিয়ে
সেই টাকা মোবাইলে রিচার্জ
করলো। আর শুন্য ব্যাগ নিয়ে ম্যাচে
ফিরে আসলো। তখন ম্যাচের সবাই
ধিক্কার দিয়ে ওকে তাড়িয়ে দিল।
এই সব শুনে পাখি নিজেকেই
অপরাধি ভাবে।জীবন অবৈধ ভাবে
বিদেশ থাকতো। ওর কোন ভিসা
ছিল না।যে দিন ওয়াদা করে পাখি
বাড়ি ফিরে খাওয়া গোসল সেরে
ফোন হাতে নিল তখন দেখতে পেল
জীবন অনেক গুলো ম্যাসেজ
দিয়েছে।
.
প্রথম ম্যাসেজ,
জান আমাকে পুলিশে ধরে নিয়ে
যাচ্ছে।তুমি আমার বন্ধুর কাছে মিস
কল দিয়ে জানিয়ে দাও। আমি এখন
পুলিশের গাড়ি তে।
.
দ্বিতীয় ম্যাসেজ,
জান কোন উত্তর দিচ্ছ না কেন?
আমাকে তো বহুদূর নিয়ে চলে
এসেছে।মহা বিপদে আছি!
.
.তিন নাম্বার ম্যাসেজ,
I Love You My Heart..........
.
শেষ ম্যাসেজ টা বোঝায় যাচ্ছে
আরও কিছু লিখতে চেয়েছিল। কিন্তু
সময় হইনি।ম্যাসেজ পেয়ে পাখি
উন্মাদের মত হয়ে জীবনের বন্ধুকে
জানালো। তারপর জীবনের ফোনে
কল দেয়ার চেষ্টা করলো। কিন্তু কোন
প্রকার ফোন অন ই পেলনা। ওর বন্ধুও
কোন যোগাযোগ করতে পারলো না।
পাখির জীবনে নেমে এলো আধার।
জীবন সারাক্ষণ শুধু কল করে ডিষ্টার্ব
করতো এখন আর পাখির ফোনে কোন
কল আসে না। তবু ও পাখির মোবাইল
টা সারাক্ষন যত্ন করে কাছে রাখে।
ভাবে কবে তুমি জেল ছাড়া পাবে
জান। আর আমাকে জান পাখি বলে
ডাকবে। কল দিবে।
.
পাখির মুখটা শুকিয়ে গেছে। আগের
মত পড়াই ও মন বসে না।.পাখির বড় ভাই
ব্যাংকের কর্মকর্তা। দুদিন হলো
ছুটিতে বাড়ি এসেছে। এসে দেখে
এক মাত্র বোনটির মুখ শুকিয়ে একে
বারেই মলিন। তাই মাকে অনেক
বকেছে, কেন তার একমাত্র বোনের এ
অবস্তা।ছুটিতে আসার সময় উনার এক
বন্ধু আবার কলিক। তার সাথে পাখির
বিয়ে নিয়ে একটা কথা হয়েছিল।
তাই আজ দেখতে আসবে।সবার মুখে
হাসি আর বাড়িটা পরিপাটি করে
সাজানো হচ্ছে। কিন্তু পাখির
ভাষা হারিয়ে যাচ্ছে।পাত্র
পক্ষরা হাজির হয়ে গেছে। তারা
পাখিকে দেখে পছন্দ করেছে। তাই
ওর বড় ভাইয়ের সাথে কথা হলো যে
তাদের ছুটি মাত্র তিন দিন। এ
কারনে আজ ই বিয়ে করবে। তাই সমস্ত
বাড়িটা বিয়ের জন্য প্রস্তুতি চলছে।
যত মানুষের ভীড় জমছে, পাখির
জীবনের সেই ওয়াদার কথা ভাবছে।
আর কোন কূল কিনার খুজে পাচ্ছে
না।এক সময় বর এলো,
কাজী সহ পাখির বড় ভাই ও অন্যান্য
মানুষ বিয়ে পড়ানোর জন্য রুমে
ঢুকলো। সব মেয়ে দের মাঝখানে
পাখি বধুর সাজে দেওয়ালে হেলে
বসে আছে। ঘুমটা পরা। ওরা ওকে কবুল
বলানোর চেষ্টা করছে কিন্তু কোন
সাড়া পাচ্ছে না। তাই ওর পাশে
বসে থাকা এক ভাবী ওর ঘুমটা খুলে
দেখে ওর মাথাটা দেওয়ালে
হেলানো। চোখ দুটো বন্ধ। বুকে কান
পেতে দেখে নিশ্বাস ও বন্ধ।
.
পাখির গালে কোন বিষের গন্ধ ও
নাই। সেই জীবনের অকৃতিম
ভালোবাসার কথা গোপনে
নিজের মনের মাঝে এনে কষ্টকে
সামাল দিতে না পেরেওর হার্ট
ফেল হয়েই বোদহয় মৃত্যুর কোলে ঢুলে
পড়েছে।
কিন্তু এই জীবন কে ভালোবাসার
কথা দ্বিতীয় আর কেউ জানতো না।
কেউ বুঝতে পারলো না মেয়েটি
এভাবে কেন হার্ট এটার্ক করে
মরলো।
.
তিন মাস পর অনেক গুলো গোব দাড়ি
ভর্তি মুখ নিয়ে জেল খেটে বাড়ি
ফিরলো জীবন।আর এসেই ছুটে গেল
পাখিদের বাড়ির পথ। যাওয়ার পথে
পাখিদের পারিবারিক কবর স্থানে
একটা নতুন কবর দেখে ওর বুকটা জ্বলে
উঠলো। তবু বুঝতে পারলো না।
যেতে যেতে একটা ছোট মেয়ে কে
বল্ল,
এই খুকি তোমার পাখি আপুকে একটু
ডেকে দিবে?
শুনেই মেয়েটি কাঁদো কাঁদো কন্ঠে
বল্ল, আপু বিয়ের দিনই মারা গেছে
ভাইয়া।
যখনশুনলো পাখি বেঁচে নেই ওর
মাথাটা যেন বজ্রাঘাত হওয়ার মত
হয়ে,
প্রচন্ড আঘাতে কাঁদতে কাঁদতে সেই
নতুন কবরের কাছে যেয়ে মাটি
খুড়তে আরম্ভ করলো।
কিছুক্ষণ মাটি তোলার পর উচ্চ স্বরে
হাসতে লাগলো আর বলতে লাগলো
তুমি যখন তোমার ওয়াদা রাখলে না,
আমি ও তোমাকে ছাড়বো না।
আর ও অনেক কান্ড ঘটাতে লাগলো।
সবাই বুঝতে পারলো ও পাগল হয়ে
গেছে। তাই সিকলে বেঁধে
রাখলো।
.
পাগলা অবস্থাই জীবন আজ ও বলে
আমার ফোনে টাকা নেই। আমার
কিছু টাকা লাগবে আমি পাখির
সাথে কথা বলবো! কথা না বল্লে ও
একটা ম্যাসেজ দিবো মা,ফোনটা
দাওনা।
মায়ের মন যখন বোঝে না তখন
ফোনটা এনে ছেলের হাতে দেয়।
আর সেই কথা গুলো আজও ফোনে
নিজে একাকি বলে যায়, যে গুলি
পাখি কে বলতো।
.....
কি করছো জান পাখি? তুমি আমাকে
ছেড়ে যাবে না তো? আর ও অনেক
কথা জীবন টিয়া পাখির বুলির মত
বলতে থাকে। যেগুলি যে কোন
কঠিন মানুষ কে ও কাঁদাই।
সমাপ্ত
কেমন হলো জানাবেন সবাই।
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ