āĻļāύিāĻŦাāϰ, ā§§ā§Ŧ āĻĄিāϏেāĻŽ্āĻŦāϰ, ⧍ā§Ļā§§ā§­

3821

"বিজয়া "

গাল ফুলিয়ে অন্যদিকে ফিরে বসে আছে জাহানারা।আনিসের নীরবতা দেখে এবার নাক ফুলিয়ে জোরে জোরে নিঃশ্বাস ছেড়ে ফোঁপাতে থাকলো সে।আনিস একবার তাকিয়ে দেখলো  শুধু নাক,গাল না সাথে  নিচের ঠোঁটটাও ফুলিয়ে রেখেছে মেয়েটা।আনিস হাসার চেষ্টা করলো।কি আশ্চর্য ও হাসতে পারলোনা।মন থেকে কেন জানি হাসি আসছিলোনা ওর।বরং আনিসের ভ্রু কুঁচকে আছে।তার চোখে মুখে রাজ্যের চিন্তা জড়ো হয়ে আছে।ওদিকে জাহানারার চোখে, মুখে, হাতে,পায়ে অর্থাৎ আপাদমস্তক  অভিমানের বহিঃপ্রকাশ ঘটছে।সে হাত মুঠো করে বসে  এক পায়ের বুড়ো আঙ্গুল দিয়ে আরেক পায়ের বুড়ো আঙ্গুল ঘসে শুকিয়ে যাওয়া কাদা গুলো উঠাচ্ছে।আনিস বুঝতে পারছে সম্পূর্ণ অমনোযোগী হয়েই জাহানারা এই কাজটি করছে।আনিস বুঝতে পারলোনা আজ কেন জাহানারার অভিমান ভাঙানোর ইচ্ছে করছেনা তার?দুহাতে মুখটা ধরে কাছে এনে বোঁচা নাকটা  আদর করে হালকা টেনে দিতেও ইচ্ছে করছেনা তার।আনিস কি করবে বুঝতে পারছিলোনা ।কেমন যেন এক অস্বস্তিতে ভুগছিলো সে।হঠাৎ জাহানারার কথা শুনে চমকে উঠলো সে।আনিসের দিকে না ফিরেই জাহানারা আবার বললো
-শুনলাম আপনি বলে যুদ্ধে যাইতেছেন?

আনিস ঢোক গিলে বললো

-কার কাছে শুনছো?

-যার কাছেই শুনি।কথা সত্যি কিনা কন?

-হুম সত্যি।

-ক্যান সত্য?মিথ্যা না ক্যান?আজ পর্যন্ত আপনার নামে যা শুনছি সবই মিথ্যা আছিলো।ফারুইক্যা যে কইলো তার বোইনেরে আপনি জ্বালাইছেন হেইটাওতো মিথ্যা কথা আছিলো।তাইলে আজ এই কথা সত্যহইলো ক্যান?

-সত্য সবসময়ই সত্য।আর মিথ্যা সবসময়ই মিথ্যা।কেউ চাইলেই তো উল্টাইতে পারবেনা তাইনা?

-আমি পারুম।আপনি যুদ্ধে যাইবেন এই কথাটা সত্যি না।এইটা মিথ্যা ।আপনি যুদ্ধে যাইবেননা।

- ক্যান জাহানারা?তুমি কি চাওনা এই দেশ স্বাধীন হোক?পাকি গুলা যে এতো এতো মানুষ মারতেছে এইটাতে তোমার খারাপ লাগতেছে না?কত মায়ের বুক খালি করছে এরা,কত স্ত্রীরে স্বামী হারা করছে,কত মা বোইনের ইজ্জত নষ্ট.…

- আর আপনি চান আমি আপনারে হারাই তাইতো?

- আমি ক্যান এইটা চাইবো?

-আপনি চান।না চাইলেতো আপনি যাওয়ার নাম ও নিতেননা।আপনি আমারে না জানাইয়াই সব ব্যবস্থা করে ফেলছেন।

- তোমারে জানাইলে কি হইতো?তুমি আমারে এখনো না করতেছো তখনো না করতা।

-মাইনষের বাপ,মা,ভাই,ছেলে মরলে আমাদের কি?আপনার বাপ,ভাইরেতো মারতেছেনা তারা।তাইলে আপনি ক্যান যাইবেন?আর আমাদের এলাকায় তো যুদ্ধ হইতেছেনা।

-হইতে কতক্ষণ?জানোয়ার গুলা যে কোনসময় কার এলাকায় আসে তার কি ঠিক আছে?তাই আগে থেকেই এদেরকে থামাইতে হবেনা?
আর আমার বাপ,ভাই না হোক কারও না কারও তো বাপ,ভাই তারা।অন্য কারও মা বোন তো তারা তাইনা?

-দুনিয়াতে আর কোন মানুষ নাই?তারা ক্যান যাইতেছেনা?কই আপনার বড় ভাইওতো যাইতেছেনা তার বউ বাচ্চার কথা ভাইবা।তাইলে আপনি ক্যান যাইতেছেন?আপনার বউ বাচ্চা নাই বইলা?আমি কি আপনার কেউ না?

- সবাই যদি এইরকম ভাইবা বসে থাকে তাইলেতো কেউই যুদ্ধে যাইতোনা।আর হানাদাররা এক তরফা আরামসে সবাইরে মাইরা ফেলবে।তোমারে,আমারে সবাইরে।তার চাইতে এদেরকে আটকানো ভালোনা?

- না ভালোনা।মরলে একসাথেই মরে যাইতাম।কোন দুঃখ থাকতোনা।কিন্তু আপনি …

পুরো কথা শেষ করার আগেই ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো জাহানারা।আনিস জাহানারার দুই বাহু ধরে নিজের দিকে ফিরালেও জাহানারা তখনো আনিসের দিকে তাকাচ্ছিলোনা।আনিস বললো
-তোমার ক্যান মনে হইতেছে আমি যুদ্ধে গেলেই যারা যাবো?যুদ্ধে কি সবাই মরে?

-মরেনা তো কি? পশ্চিম বাড়ির রহিম ভাইযে ঘরে পোয়াতি বউ রেখে যুদ্ধে গেছে সে কি আর ফিরে আসছে?আসছে তো তার লাশ।যাওয়ার আগে বলছিলো ফিরে আইসা বাচ্চার নাম রাখবে তিনি।তিন সপ্তাহ হয়ে গেলো,বেচারী ভাবী এখনো বাচ্চার নাম রাখেনাই।বলছে রাখবেওনা কখনো।

- ভাগ্য বলেওতো একটা কথা আছে।দেশের জন্য জীবন দেয়ার ভাগ্য কয়জনের হয় বলো?

-দরকার নাই এতো ভাগ্যের।দেশের জন্য জীবন দেয়ারও দরকার নাই।আপনার জীবন তো আপনার একার না।আমারও।আপনি নিজেই বলছেন এই কথা।ভুলে গেছেন?

- ভুলিনাই।আমি সিদ্ধান্ত নিয়া নিছি।এখন আর কিছু বইলাও আমারে ফিরাইতে পারবানা।
হাতের উল্টা পিঠ দিয়ে নাক চোখ মুছে ভারী গলায় জাহানারা বললো

-আমি স্যারের কাছে যাবো।উনাকে গিয়ে বলবো আপনারে যেন আটকায়।আমি জানি একমাত্র উনিই পারবেন।

-আব্বাকে আমি জানাইছি।উনি আমাকে নিষেধ করেননাই।উনার আকাইম্মা পোলা যে এতোদিনে কামের কাম করবে এইজন্য উনার আরও গর্ব হইতেছে।উনি উনার স্কুলঘরটা ছাইড়া দিছে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য।বিভিন্ন এলাকার যোদ্ধারা এইখানে আশ্রয় নিবে।

-  ঠিক আছে, যান আপনি।তবে শুইনা রাখেন ফিরে যদি আসেন ও তাইলে আর আমারে পাইবেননা।

কথাটা শুনেই উঠে দাড়ালো আনিস।আশ্চর্য হয়ে বললো
-কি বলো জাহানারা তুমি?পাগল হয়ে গেছো নাকি?নিজেরে খুন করার কথা মাথায় আসে কেমনে তোমার?জীবনের যদি মায়া নাই থাকে তাহলে চলো আমার সাথে যুদ্ধে।কত মেয়েরাই জানো যুদ্ধ করতেছে।গুলি চালাইতে না পারো অন্তত আমাদের জন্য রান্না বান্না করে সাহায্য তো করতে পারো।এটাও যুদ্ধের চাইতে কম না।
-এহহ আমার এতো সখ নাই মরার।জীবনের অনেক মায়া আমার।আমি বলছি বড় ভাইজান যদি ফারুইক্যার সাথে আমারে বিয়ে দিতে চায় আমি কিন্তু রাজি হয়ে যাবো তাইলে।
- কি?তোমার কি মাথা আসলেই খারাপ হয়ে গেছে?ফারুইক্কারে চিনোনা তুমি?ও কেমন ভুইলা গেছো?মনে নাই একদিন ও তোমার শাড়ি ধইরা টান দিছিলো?আর তারেই তুমি বিয়ে করতে চাও?প্রথম বউরে যে গলা টিপে মেরে ফেলছে সেইটাও কি মনে নাই তোমার

-আপনার এতো জ্বলে ক্যান?সেতো এখন আমারে বিয়ে করতে চায়।আর ভাইজানও রাজি।

-আমার জ্বলবে ক্যান?আমি তোমার ভালোর জন্যই বলতেছি।ও মানুষ ভালোনা।তোমারে জীবনেও সুখ দিবেনা সে।নেশা কইরা তোমার গায়ে হাত তুলবে।এরপর পানিতে চুবাইয়া মারবে।

-তাইলে আপনি যাইয়েননা।আমার প্রতি এতোই টান থাকলে আপনি থাইকা যান।আপনি আমারে ভালোবাসেননা?

- আমি দেশকেও ভালোবাসি।আমি না গেলে তুমি একা খুশি থাকবা।আর আমি গেলে কত মানুষকে রক্ষা করতে পারবো চিন্তা করছো?

জাহানারা উঠে দাড়িয়ে আনিসের হাত ধরে আবার কেঁদে উঠে বললো
-আপনি ফিরে আসবেন বলেন?আমারে ছুঁয়ে কথা দেন যে আপনি ফিরে আসবেন?

হাত ছাড়িয়ে আনিস দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললো
-তুমিতো জানোই আমি মিথ্যা কথা বলিনা।তাই মিথ্যা আশা দেয়াও আমার পক্ষে সম্ভব না।

জাহানারা চোখ মুছে রাগী গলায় বললো
-তার মানে আপনি ফিরে আসবেননা?

- তার নিশ্চয়তা আমি কিভাবে দেই বলো?কত কিছুইতো ঘটতে পারে।

-তাই বলে আপনি আমারে ভরসাও দিবেননা।এইটাও বলবেননা যে আপনার জন্য যেন অপেক্ষা করি?

- মিথ্যা ভরসা কিভাবে দেই?আমি তোমারে অপেক্ষা করতে বলে যদি না ফিরতে পারি তখন তো তোমার কাছে আমি প্রতারক হয়ে থাকবো।
-এতো নিষ্ঠুর ক্যান আপনি?
-যদি অপেক্ষা করতে পারোতো ভালোই।আর যদি তার আগেই কোন খবর পাও তাহলে আর অপেক্ষা করার দরকার নাই।কাউকে বিয়ে করে সংসার শুরু কইরো।বাচ্চার নাম কিন্তু আমি যেটা ঠিক করছি ওইটাই রাখবা।

- আমি অপেক্ষা করবোওনা।আপনি যাওয়ার সাথে সাথেই আমি ফারুইক্ক্যারে বিয়ে করবো।আর সে যা চায় সেই নামই রাখবো বাচ্চার।

-আর যাই করো ফারুইক্কারে বিয়ে কইরোনা। যাওয়ার আগে আমার একটা অনুরোধ তো রাখবা।তুমি নাকি আমারে ভালোবাসো?ভালোবাসার মানুষের অনুরোধ রাখা ফরজ।

-আপনিওতো আমারে ভালোবাসেন।আমার অনুরোধ রাখছেন আপনি?

- মাগরিবের আজান দিবে জাহানারা।তুমি বাড়ি যাও।ফিরে আসলে দেখা হবে আর নয়তো এটাই আমাদের শেষ দেখা।তোমাকে কষ্ট দিয়ে থাকলে আমাকে মাফ করে দিও।
- মাফ করবোনা আমি।
-বাড়ি যাও জাহানারা।
-যাবোনা আমি।এই গাছতলায় বসে থাকবো।
-আমি গেলাম।তুমি ভালো থাইকো জাহানারা।সাবধানে থাইকো।

আনিস উঠে দাড়িয়ে কিছুদূর এগিয়ে যেতেই জাহানারা পেছন থেকে বললো
-আমি কিন্তু সত্যি সত্যি ফারুইক্কারে…

আনিস দাড়িয়ে পড়লো।পেছন দিকে মুখ না ফিরিয়েই বললো
- তোমার যারে খুশি তারে বিয়ে করো।ফারুকরে বিয়ে করে যদি সুখী হও তাহলে তাই করো।আল্লাহ হাফেজ।

বলেই আনিস সোজা সামনের দিকে হাটতে লাগলো।আনিস আরেকবার পেছন ফিরে তাকাবে সেই আশায় জাহানারা সেই পথের দিকেই চেয়ে রইলো।কিন্তু আনিস ফিরে তাকালোনা।একসময় আড়াল হয়ে গেলো সে। মুখে আঁচল চেপে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ির দিকে ছুটোলো জাহানারা।ঝোঁপের আড়ালে এসে আকাশের দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো আনিস।কেন মনে হচ্ছে মেয়েটাকে আর কখনো দেখতে পাবেনা সে?তবে কি জাহানারার ধারণাই সত্যি হতে চলেছে?আনিস সত্যিই আর বেঁচে ফিরে আসবেনা তবে।ঠোঁটের কোণে প্রশান্তির হাসি হেসে আনিস মুক্তিযোদ্ধা শিবিরের দিকে হাঁটা ধরলো।
প্রায় দুমাস হলো আনিস যুদ্ধে এসেছে।চোখের সামনে কত মানুষ মরতে দেখেছে,কত শত্রু তার গুলিতে নিহত হয়েছে হিসেব নেই।রোজ যুদ্ধে যাওয়ার সময় আনিস মৃত্যুর প্রস্তুতি নিয়েই বের হয় আর ভাবে আজ বুঝি তার জীবনের শেষ দিন।অবশ্য তার এখন বেঁচে থেকেও লাভ নেই।কারও জন্য যে বেঁচে ফিরতে হবে সেই ইচ্ছে টাও আর আসেনা।জাহানারা নিশ্চয়ই ফারুককে বিয়ে করেছে।তার চাইতে বরং দেশের জন্য জীবন দিয়ে আত্মতৃপ্তি লাভ করবে সে।লড়াই শেষে  শত্রুদের উচ্ছেদ করে ক্লান্ত হয়ে যখন  ক্যাম্পে ফিরে আসে তখন সে ভাবে "জাহানারা কি ওর জন্য অপেক্ষা করে আছে?নয়তো ও বারবার বেঁচে যাচ্ছে কেন?সেদিনের গুলিটা তো ওর হাতে না লেগে বুকে লাগতেও পারতো?"।

কিছুদিন আগেই বাবার চিঠি পেয়েছিলো আনিস।তাদের এলাকায়ও নাকি হানাদার বাহিনীরা ঘাঁটি গেঁড়েছে?আর ফারুক নাকি রাজাকারের খাতায় সবার ওপরে নাম লিখিয়ে শত্রুদের তদারকি করছে।জাহানারাকে নিয়ে আর কোন ভয় নেই তার।ফারুক নিশ্চয়ই তার স্ত্রীকে শত্রুদের হাতে তুলে দিবেনা।আনিসের ভয় ওর বাবা,ভাই আর পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে।জাহানারার শাড়ির আঁচল ধরে টান দেয়ায় আনিস যে ফারুককে চড় দিয়েছিলো তার প্রতিশোধ হিসেবে আনিসের পরিবারের ক্ষতি করার আগে ফারুক একবারও ভাববেনা।স্কুলে পড়ার সময় সবার সামনে কান ধরে দাড় করিয়ে রেখেছিলো বলে আনিসের বাবার উপর ফারুকের আগে থেকেই ক্ষোভ ছিলো।

বাবার কাছে চিঠি লেখা শেষ করেই আনিস জাহানারাকে চিঠি লিখতে বসলো।কি সম্বোধন করবে বুঝতে পারছিলোনা।প্রিয় জাহানারা,ওগো জাহানারা,স্নেহের জাহানারা,ইত্যাদি কয়েকবার লিখে কেটে দিলো সে। "জাহানারা,তুমি ভালো আছো?সত্যিই কি ফারুককে বিয়ে করেছো?নাকি আমার জন্য অপেক্ষা করে আছো?কেন মনে হচ্ছে তুমি আমার জন্য অপেক্ষা করে আছো?সেদিন বলিনি আজ বলছি।যদি সত্যিই অপেক্ষা করে থাকো তাহলে বলবো আরও কয়েকটা দিন অপেক্ষা করো।আমি ফিরে আসবো।কথা দিচ্ছি আমি ফিরে আসবো।"
.
গ্রামের একজনকে দিয়ে বাবার চিঠিটা পাঠালেও জাহানারাকে লেখা চিঠিটা আনিস পকেট রেখে দিলো।চিঠি কোন মতে ফারুকের হাতে পড়লে নিশ্চয়ই সে জাহানারার উপর শোধ তুলবে।

১৬ই ডিসেম্বর,১৯৭১।আকাশে বাতাসে বিজয়ের প্রতিধ্বনি।যুদ্ধ শেষে জয়ের পতাকা নিয়ে আনিস বাড়ি ফিরলো।আনিসের বাবার গর্বের অন্ত থাকলেননা।তিনি ছেলেকে নিয়ে স্কুল মাঠে লাল সবুজের পতাকা উত্তোলন করলেন।কত মানুষ জড়ো হয়েছিলো সেখানে।সবাই নির্ভয়ে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করছে।যুদ্ধের সময় পাওয়া জিনিস গুলো সবাই জমা দিচ্ছিলো।আনিসের বড় ভাইয়ের মেয়েটার কাছ থেকে তার গামছাটা নিয়ে নেওয়ায় সে কাঁদছিলো।আনিসের বাবা নাতনীকে  বোঝাচ্ছিলেন " আরে এইটা শত্রুদের গামছা।এতে পাপ লেগে আছে।আমি তোরে নতুন গামছা কিনে দিবো।ওইটা গায়ে দিয়ে ঘুরবি তুই।"
চেনা অচেনা লোকের ভিড়ে আনিস শুধু সেই চিরচেনা মুখটাই খুঁজছে।ফারুক বুঝি দেশের জয় মানতে না পেরে জিদ করে জাহানারাকে বাড়িতে আটকে রেখেছে।কে জানে মেয়েটাকে আজ হয়তো একেবারেই মেরে ফেলবে।এদিকে একটু চাপ সামনে আনিস ফারুকের বোনকে দেখতে যাওয়ার জন্য তার বাড়ি যাবে।উদ্দেশ্য কোনমতে আড়াল থেকে যদি একবার জাহানারার মুখটা দেখা যায়।আনিসের অভিমান করতে ইচ্ছে করছে খুব।আর কটা দিন অপেক্ষা করে থাকলে কি এমন ক্ষতি  হতো মেয়েটার?ও ফিরে এসে বলতে পারতো "দেখেছো আমি সত্যিই ফিরে এসেছি।তুমি শুধু শুধু ভয় পাচ্ছিলে।" কাঁধে হঠাৎ হাতের স্পর্শ পেয়ে আনিস পেছন ফিরে একজন অচেনা মানুষকে দেখতে পেলো।লোকটি হেসে বললো "আপনাকে দেখার খুব ইচ্ছে ছিলো।জাহানারার কাছে আপনার এতো এতো কথা শুনেছি যে মনে মনে আপনার একটা চেহারা কল্পনা করে নিয়েছি আর আপনি ঠিক সেটার মতোই। " জাহানারার নাম শুনে আনিস দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললো "আপনাকে চিনলাম না।জাহানারার কি হন আপনি?" লোকটি পাশে বসে বললেন "ভাই।আমি জাহানারার ভাই।এই ক্যাম্পের সব যোদ্ধারাই জাহানারার ভাই।রান্না করতে এসে,আহত যোদ্ধাদের সেবা করতে করতে কত কথাইনা জিজ্ঞেস করত মেয়েটা।বলতো আচ্ছা ভাই,আনিসদের ক্যাম্পেও কি কোন মেয়ে রান্না করে খাওয়াইতেছে? আনিস আমাকে একটা চিঠি লিখেনা কেন বলেন তো?এইরকম বন্দুক দিয়েই কি ও শত্রুদের মারতেছে?ও কি আর ফিরে আসবেনা?তবে কি ও আর…" পুরো কথা শেষ না করতে পেরে মেয়েটা আঁচলে মুখ ঢেকে কেঁদে উঠতো।আবার চোখ মুছে বলতো আমি জানি সে ফিরে আসবে।আমি তার জন্য অপেক্ষা করতেছিনা,সে ফিরে আসবেই। "
.
জাহানারা অপেক্ষা করেনি।ফারুককে বিয়ে করবে বলে কথা দিয়ে  নিজের পরিবার আর আনিসদের পরিবারের সবাইকে  অন্য নিরাপদ  এলাকায় পাঠিয়ে দিয়েছিলো সে।বিয়ের আনন্দে ফারুক অনেক মিলিটারীকে নিমন্ত্রণ করেছিলো আর সেই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে ছিলো এলাকার মুক্তি যোদ্ধারা।চোখের সামনে গোলাগুলি দেখে ভয়ে স্তব্ধ হয়ে পালিয়ে যাওয়ার কথা ভুলেই গিয়েছিলো জাহানারা।যোদ্ধাদের ইশারাও ওর চোখে লাগেনি।লড়াই শেষে যোদ্ধারা  দেখলো উঠোনের এক কোণে ফারুকের গলা কাটা দেহটা পড়ে আছে আর জাহানারা তার পাশে দা নিয়ে হিংস্র চোখে তাকিয়ে আছে। "আমি মারা যাবো তাও তোর মতো জানোয়ারের হাতে নিজেকে তুলে দিবোনা।তুই দেশের শত্রু।তোর বেঁচে থাকার কোন অধিকার নাই।" বলে  থুঃ করে থুতু ছিটিয়ে দিলো ফারুকের মুখে।তৎক্ষণাৎ দা টা হাত থেকে পড়ে গেলো।পড়ে গেলো জাহানারা নিজেও।লাল শাড়ির সাথে ওর বুকের লাল রক্ত মিশে একাকার হয়ে গেলো।শত্রু বধের নেশায় গুলিটা কখন লেগেছে সে টেরও পায়নি বোধহয়।
.
বাবার ডাক শুনে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে আনিস উঠে দাড়ালো।তিনি এসে ছেলের চোখ মুছে বললেন "চলো বাড়ি যাবা।এখানে আর কতক্ষণ থাকবা?বাড়ি গিয়ে নামাজ পড়ে শুকরিয়া আদায় করো আর জাহানারা সহ বাকি সব নিহতদের আত্মার জন্য দোয়া করো।"
বাড়ি যাওয়ার পথে আনিস আরেকবার পেছন ফিরে তাকালো।কবরের উপর লাল সবুজ পতাকাটা দেখে মনে হচ্ছে এ যেন জাহানারা যে লাল সবুজ শাড়ি পরে আছে।কবরের পাশে টাঙানো পতাকাটা বাতাসে পতপত শব্দ করে গর্বের সাথে উড়ছে এ যেন চঞ্চল জাহানারা যে স্বাধীন ভাবে দৌড়ে বেড়াচ্ছে আর কথা বলছে।আনিস আরেকবার নিঃশ্বাস ছেড়ে বাড়ির দিকে রওনা দিলো।

আফসানা কাশেম মিমি

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ