-এই তমা
-হুম বল
-অংকটা করে দে না ।
-ছেলে হয়ে মেয়ের কাছে অংক করে
চাচ্ছিস ,লজ্জা লাগে না ?
-লজ্জা দিচ্ছিস ?
-হুম দিচ্ছি
-আচ্ছা আরেকবার বায়োলজির চিত্র আর্ট
করে নিতে আসিস ।
-যাঃ , যাব না । কতজন আছে আমার চিত্র
এঁকে দেবার ।
-আচ্ছা দেখা যাবে ।
-যা দেখিস ।
আমার একটু মন খারাপ হল । না হয় সবাই বলে
ওই খুব সুন্দরী (আমার কিন্তু কখনোই মনে
হয়নি ও সুন্দরী, যা চেহারা-মহিলা ছাগলের
মত ), না হয় হাসলে গালে টোল পড়ে (আমার
কিন্তু টোল ভালো লাগে ),না নাহয় ক্লাশের
সবাই ওর জন্য পাগল (আমি নই ), নাহয় অংকে
একটু ভালো (বায়োলজী পারে না ) তাই বলে
এত ভাব ? হু আমাদেরও ভাব আছে ।
-এই নুমান শোন ।
-হুম বল ।
-রিক্সা পাচ্ছি না , তাড়াতাড়ি বাসায়
যেতে হবে ।একটু নামিয়ে দিয়ে আয় না ।
-পা থাকতে আমার বাইকে যেতে চাস ,
লজ্জা লাগে না ?
-বাইক আছে বলে ভাব নিচ্ছিস ?
-হুম নিচ্ছি
-আচ্ছা , লাগবে না ।
-আছে পা , হেঁটে যা ।
বলেই আমি চলে আসি ।
কলেজেই আমাদের প্রথম দেখা । প্রায় দেড়
বছরের বন্ধুত্ব আমাদের , ভালোই ছিল বন্ধুত্ব
। কিন্তু ওই দিনই ছিল কলেজে আমাদের শেষ
কথা । এরপর টেস্ট পরীক্ষা , আর টেস্টের পর
কলেজ যাওয়া হয় নি । মাঝে মাঝে সামনা
সামনি পড়ে যেতাম , কিন্তু কেউ কেন যেন
কারও সাথে কথা বলিনি ।
এরপর আমি চট্টগ্রাম মেডিকেলে চান্স
পেয়ে চট্টগ্রাম চলে আসি । তমার সাথে
কোন যোগাযোগ ছিল না । শুনেছি ও নাকি
রুয়েটে চান্স পেয়ে রাজশাহীতে ওদের
বাসাতেই আছে । প্রথম বাইরে থাকতে আসা ,
মেডিকেলের নতুন ধরনের পড়াশোনা ,
পরীক্ষার চাপ , নতুন নতুন বন্ধু বান্ধব , সব
মিলে দারুন ব্যাস্ত হয়ে পড়ি । মা প্রতিদিন
ফোন দিয়ে বাসা যেতে বলে । আমি আসার
পর মা অনেক একা হয়ে গেছে । আগে মা
আমাকে নিয়ে ব্যাস্ত থাকত । এখন আমি নেই
, আব্বু থাকে অফিসে , মাকে সারাদিন একা
কাটাতে হয় । মা প্রায়ই ফোনে তার
একাকীত্বের কথা বলত । তবে ইদানীং
আমাদের নতুন ভাড়াটিয়ার মেয়ের সাথে
মায়ের নাকি অনেক ভাব জন্মেছে । মেয়েটা
নাকি মাকে অনেক পছন্দ করে । মায়ের
কাজে সাহায্য করে । মায়ের একাকীত্ব ও
নাকি অনেকখানিই ঘুচিয়ে দিয়েছে । দিলেই
ভালো ।
-জানিস বাবা মেয়েটা অনেক লক্ষ্নী ।
-তো ?
-এরকম একটা মেয়েকেই আমি তোর বউ
বানাবো ।
-ধুর , যাও তো
-আমি ওকে তোর কথা বলেছি ।
-যাও তোমার সাখে আর কথাই বলব না ।
বলেই ফোন কেটে দেই আমি । মা টা যে কী
।
তবে মাঝে মাঝে মায়ের এই লক্ষ্নী
মেয়েটাকে দেখতে ইচ্ছে করে । অনেক
নাকি সুন্দর ।
অনেকদিন পর বাসা যাচ্ছি ।ঈদের ছুটিতে ।
দুপুরের দিকে বাসায় পৌঁছালাম । সবই আগের
মত আছে । সিঁড়ি দিয়ে উঠতে যাব । একটি
মেয়ে নামছে । সাদা জামা পড়া । পরীর মত
লাগছে ।
আরে ধুর , ও পরী হতে যাবে কেন ? ও তো
তমা । তমা এখানে কি করে ? এই অহংকারী
মেয়ে আমাদের বাসায় কেন ? তবে সত্যি
ওকে অনেক সুন্দর লাগছে । ও কি আগেও এত
সুন্দর ছিল ?
ও কি আমার দিকে তাকিয়েছিল ? জানি না
। ধুর , ও তাকালেই বা কি , না তাকালেই বা
কি ।
বাসায় পৌঁছে মায়ের সাথে কথা বলেই
গোসল দিলাম । খেতে বসলাম । অনেক দিন
পর মায়ের হাতের রান্না ।
-বাবা সন্ধ্যার পর বাসায় থাকিস তো ।
-কেন মা ?
-কাজ আছে ।
-কি কাজ ?
-বাসায় থাকতে বলছি থাকবি ।
-আচ্ছা
খেয়ে দেয়ে ঘুম । ঘুম থেকে উঠে দেখলাম
সন্ধ্যা হয়ে গেছে । রুম থেকে বের হতেই
মায়ের গলা
-কীরে ঘুম ভাঙল ?
-হুম
-ফ্রেশ হয়ে রেডী হয়ে নে ।
-কেনো কোথাও যাবা নাকি ?
-হুম
-কোথায় ?
-এত কথা বলিস কেনো ?
আমি আর কথা না বলে ফ্রেশ হয়ে রেডী
হলাম । আল্লাহ মালুম মা কোথায় নিয়ে যায় ।
মা আমাকে নিচতলায় আমাদের নতুন
ভাড়াটিয়ার বাসায় নিয়ে গেলো । এখানে
আসার জন্য এত সাজগোজ ?
মা আমাকে বসিয়ে ভিতরে গেলো ।
একটু পর মা ফিরলো । মায়ের সাথে ঐ
মেয়েটি কে ? শাড়ি পড়া । চেনা চেনা
লাগছে । আরে ও এখানে কেনো ?
-নুমান এ তমা ।
-তো ?
-এর কথাই তো তোকে বলেছিলাম ।
-এর কথা আমাকে বলেছিলে মানে ?
-এই তো আমাদের নতুন ভাড়াটিয়ার মেয়ে ।
-তো ?
-দেখতে অনেক সুন্দর না ?
-আমাকে বলছ কেনো ?
-ওর সাথেই তো আমি তোর বিয়ে ঠিক
করেছি ।
-মানে ? আমি ওর মত মেয়েকে বিয়ে করতে
যাব কেনো ?
-ওর মত মানে , চিনিস নাকি ?
-চিনব না , আমাদের কলেজের মিস
অহংকারী ।
-আর তুই কি ছিলি তাহলে ,মিস্টার
অহংকার ? (তমার গলা এত সুন্দর হল কেমনে ?
ওর গলা না ছিল ভেড়ীর মত ? )
-আমি কখনোই অহংকারী ছিলাম না ।
-অহংকারী ছিলি না , না ?
-না , কখনোই না
-তুই ছিলি অহংকারের হাঁড়ি । কলেজ লাইফে
তোকে ঠিক করতে পারি নি , এবার তোকে
বোঝায় দিব কত ধানে কত চাল ।
-বোঝায় দিবি মানে , তুই কি আমার ঘরের
ইয়ে নাকি ?
-ইয়ে মানে কি ? আমি তোর ঘরের বউ ।
-আমি তোকে বিয়ে করলাম কবে যে তুই
আমার বউ ?
-বিয়ে করিস নি , কিন্তু করবি ।
-বিয়ে করব মানে ?
-হু করবি , তুই না করলে তোর ঘাড়ে করবে ।
আমি মদনা দৃষ্টি নিয়ে মায়ের দিকে
তাকালাম ।
-হ্যাঁ বাবা , আমি ওর বাবার সাথে কথা
বলেছি । ঈদের পর তোদের বিয়ে দিয়ে দেব ।
কতদিন আর একা থাকব ?
আমি মায়ের কথা কোনো দিন অমান্য করতে
পারি নি , এবারো পারব বলে মনে হল না।
Collected
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ