#স্যার যখন বর
#সাথী----------
৬ষ্ঠ এবং শেষ পর্ব
------------- আয়াত তুলিকে পড়ে থাকতে দেখে জলদি হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্টার ওকে ওটিতে নিয়ে যায়।
আয়াত তুলির পরিবারে সবাইকে ফোনকরে দেয়।
তখন নার্স বলে ফরম পূরনের জন্য রুগির অভিবাকের সাইন লাগবে । আপনি কি হন ওনার?
আয়াতঃ আমি ওনার হ্যাজ------। থেমে গিয়ে। আমি ওর ক্লাস টিচার মানে ওর স্যার।
কিছুক্ষন পর ডাক্টার এসে বললো দেখুন একসিডেন্ট এ ওনার দুটো কিডনিই নষ্ট হয়ে গেছে। ইমিডিয়েটলি একটা কিডনি না পেলে ওনাকে বাচাঁনো সম্ভব না। আয়াত যেনো স্তব্ধ হয়ে গেলো কখনো ভাবেনি যাকে এত ভালোবাসে তার এ অবস্থা হবে। ইতি মধ্যে তুলির বাড়ির লোকও চলে আসলো। ওর পরিবারের সবাই বললো আমাদের একটা কিডনি আমরা দিবো।
ডাক্টারঃ দেখুন কিডনি নিলেই তো হবে না আপনাদের ব্লাড গ্রুপতো ওনার ব্লাড গ্রুপের সাথে ম্যাচ করতে হবে। ওনার ব্লাড গ্রুপ খুব বিরল O- । আপনাদের কারো সাথে কি মিলে ওনার ব্লাড গ্রুপ। আফসুস কারো গ্রুপের সাথে মিলল না।
তখন আয়াত বললো আমি দিবো তুলিকে কিডনি আর আমার ব্লাড গ্রুপও O- । তুলির বাবা মা যতটা অবাক হয়েছে ততটাই খুশিও হয়েছে।
অপারেশন ভালো ভাবে হয়ে গেলো। কিছুদিন পর তুলিকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে আসলো। হাপতালে থাকতে আয়াত প্রতিদিন গিয়ে তুলিকে দেখে আসতো। কিন্তু তুলি সাথে একটা কথাও বলতো না।
তুলি শুনেছে যে আয়াতই ওকে কিডনি দিয়েছে। কিন্তু তুলি ভাবছে যাকে আমি এত কষ্ট দিয়েছি সে কেন আমাকে বাচাঁলো? তুলি অনেকবার চেষ্টা করেছে আয়াতের সাথে কথা বলার কিন্তু আয়াত তো ওকে দূর থেকে দেখেই চলে যেতো। তুলি সারাদিন ওর রুমের জানালা খোলা রাখে যাতে আয়াতকে একটিবার দেখতে পারে কিন্তু আয়াত সবসময় ওর রুমের জানালা বন্ধ রাখে।
আয়াত প্রতিদিন ওর মাকে দিয়ে তুলির খবর জানতো।
তনু প্রায় প্রতিদিনই তুলির সাথে দেখা করতে আসতো। তুলি এখন প্রায় সুস্থ
তুলিঃ তনু বলনা আমি কি করবো? ও তো আমার সাথে কথাই বলে না?
তনুঃ কেন তুই তো এটাই চেয়েছিলি।
তুলিঃ প্লিজ তনু তুই অন্তত এরকম বলিস না আমার খুব কষ্ট হচ্ছে।
তনুঃ তুই কি আয়াত স্যারকে ভালোবেসে ফেলেছিস।
তুলিঃ (কান্না স্বরে) হুম।
তনুঃ তাহলে বলে দে আর তাছাড়া তিন মাস হতে মাত্র ৩ দিন আছে। আর তুইতো বলেছিলি দুএক দিন পর কলেজে যাবি।
তুলি তনুকে কিছু বলতে যাবে এর মধ্যে তুলির ফোনটা বেজে উঠলো। ফোনের দিকে তাকিয়ে দেখে আয়াতের নাম্বার।
তুলি জলদি করে ফোনটা রিসিভ করলো।
তুলিঃ হ্যালো
আয়াতঃ হ্যালো তুলি আমি আয়াত। কেমন আছো?
তুলিঃ হ্যা ভালো আপনি?
আয়াতঃ ভালো তোমার জন্য একটা খুশির খবর আছে?
তুলিঃ কি?
আয়াতঃ বুধবার মানে দুদিন পর সকালে ডিভোর্স পেপার চলে আসবে তুমি বিকালে পারলে পার্কে দেখা করো নয়ত আমি সাইন করে তনুর কাছে পাঠিয়ে দিবো।
তুলিঃ কথাটা শুনে তুলির যেনো মুখ থেকে কথা বের হচ্ছে না। শুধু বললো ঠিক আছে।
ফোনটা রেখে তুলি তনুকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলো। তনুকে বললো ও মনে হয় আমাকে আর ভালোবাসে না তাই আমার কাছ থেকে মুক্তি চাইতেছে।
তনুঃ হয়তো তুই ভুল বুঝতেছিস।
তুলিঃ আমি জানি না কি ভুল আর কি সঠিক আমি শুধু জানি আমি ওকে ভালোবাসি।
তনু তুলিকে কিছুক্ষন সান্তনা দিয়ে চলে গেলো।
পরের দিন বিকালে তুলি বেগুনি রং এর শাড়ি পরে আয়াতদের বাসায় গেলো( তুলি একবার শুনেছে আয়াত বেগুনি রং খুব পছন্দ করে)। আয়াত ওকে দেখে চোখ যেন ফেরাতে পারলো না তবুও ওকে রাগানোর জন্য কোন কথা না বলে ঘর থেকে বের হয়ে গেলো।
তুলি তা দেখে ভিষন কষ্ট পেলো।
আয়াতেন মা তুলিকে দেখেতো ভিষন খুশি তাই বললো বসো মা।
আয়াতের মাঃ দেখো তুলি আজ আমি তোমাকে আয়াতের বিষয়ে কিছু কথা বলবো।
তুলিঃ জ্বি বলেন আন্টি।
মাঃ দেখো তুলি প্রথমে আমি তোমাদের বিষয়ে কিছুই জানতাম না কিন্তু আয়াত সিলেট থেকে আসার পর থেকে কেমন যেনো হয়ে গেলো কারো সাথে মিশে না। কোথাও বের হয় না সারাদিন ঘরে ঘরে বসে থাকতো। পড়ে আমি অনেক জোড় দিয়ে জিগেস করায় সব বললো আর আমি ওর কথায় বুজতে পারলাম যে ও তোমাকে অনেক ভালোবাসে। পরে আমিই ওকে বললাম যে যাকে ভালোবাসে কেউ তাকে এভাবে ছেড়ে দেয় না। তার মনে ভালোবাসা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে।
জানো আয়াত কিন্তু কোন কলেজ টিচার না ও আমেরিকা থেকে লেখা পড়া কমপ্লিট করে বাবার ব্যবসায় যোগ দিয়েছে কিন্তু তোমার জন্য ও কলেজে টিচার হিসেবে জয়েন করেছে কারন ছাত্র তো হতে পারবে না তাই অনেক কষ্টে ওর বাবার বন্ধুর সহায়তায় কিছু মাসের জন্য কলেজে জয়ের করে।
তুলি কথা গুলো শুনে শুধু কান্না করতেছিলো। তারপড় বললো আন্টি আমি কি একটু আয়াতের রুমে যেতে পারি?
মাঃ হ্যা অবশ্যই।
তুলি আয়াতের রুমে গিয়ে দেখলো আয়াত রুমে নাই ওর ঘরটা বেশ গোছালো। টেবিলের উপর একটা পিকচার ডায়েরি। ডায়েরিটা খুলে দেখলো তাতে তুলির অনেক ছবি এবং ওদের দেখা হওয়া থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত সব কিছু তাতে লেখা।
আর প্রত্যেকটা পৃষ্ঠায় অসংখ্য বার লেখা
I love u Tuli.
তুলি ওখানে আর দ্বাড়াতে পারলো না। নিজের রুমে চলে এসে অনেক কান্না করলো । আর বললো এই লোকটাকে আমি এত কষ্ট দিয়েছি। তুলির নিজের উপর খুব রাগ হলো।
বুধবার দিন বিকালে তুলি ও তনু পার্কে গেলো। দেখলো আয়াত একটা বেঞ্চ এ বসে আছে। তুলি এসে ওর সামনে দাড়ালো। আয়াত তুলির দিকে তাকালো আজ তুলিকে অনেক সুন্দর লাগছে। এমনিতেই যা সুন্দর তার ভিতর আজকে আবার একটু সেজেছে। একেবারে অপ্সরীর মত লাগছে।
তুলিঃ (হাতে তুড়ি দিয়ে) হ্যালো কোথায় হারিয়ে গেলেন?
আয়াতঃ একটা কাগজ আর কলম তুলির দিকে এগিয়ে দিয়ে নাও এখানে সাইন করো তাহলেই আজ থেকে তুমি মুক্ত।
তুলিঃ কিছুটা রাগ করে এত তাড়া কিসের?
আয়াতঃ শুভ কাজ যত তাড়াতাড়ি করা যায় ততই ভালো।
তুলিঃ ওহ রিয়েলি। দিন কাগজটা দিন। কাগজটা হাতে নিয়ে চুপচাপ দাড়িয়ে আছে।
আয়াতঃ কি হলো সাইন করো।
তুলিঃ আমার কাছ থেকে মুক্ত হবার এত তাড়া। দ্বারা তোকে মুক্ত করছি বলে ডিভোর্স পেপারটা ছিড়ে টুকরো টুকরো করে ফেললো।
আয়াতঃ একি কাগজটা ছিড়ে ফেললা কেন?
তুলিঃ কাগজ ছিড়ছি বলে তোর এত লাগছে এখন আমি তোকে ছিড়বো।
আয়াতঃ দেখো তুলি তুমি কিন্তু বেয়াদবি করতেছো। আপনি থেকে মানুষ সোজা তুইতে চলে গেলে। ভুলে যাচ্ছো আমি তোমার স্যার।
তুলিঃ রাখ তোর স্যার। আয়াতের জামার কলার চেপে ধরে স্যার হওয়ার আগে না তুই আমার বর। আর কি বললি আমি বেয়াদব তুই তো আমার থেকেও বেয়াদপ নিজের বউকে তালাক দিতে আসছে আবার আমাকে আদব শেখাস। শয়তান, ইতোর , বাদর, হনুমান আর আর , আর মনে নাই আপাতত। আমি তোমাকে এ জন্মে কেন আগামী সাত জন্মেও মুক্ত করবো না। বলে আয়াতকে জড়িয়ে ধরে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদতে লাগলো।
আয়াতঃ তা ম্যাডাম বুঝি এই বেয়াদব স্যারকে নিজের বর হিসেবে মেনে নিয়েছে।
তুলিঃ কান্না স্বরে হুম। খুব ভালোবাসি আমি আপনাকে।
আয়াতঃ এই তুলি প্লিজ কেদো না। আমি তোমাকে ছেড়ে কোনদিনও যাবো না। আমি যে তোমার স্যার বর।
তনু এতক্ষন নীরক দর্শকের মত সব দেখছিলো আর মুচকি মুচকি হাসতেছিলো।
তনুঃ তা স্যার না মানে দুলাভাই আপনারা থাকেন আমি বাড়ি যাই।
আয়াতঃ কেন তুমিই থাকো।
তনুঃ না থাক কাবাবে হাড্ডি হওয়ার ইচ্ছা নাই আমার । বাই
তনু চলে গেলো তার অনেকক্ষন পর আয়াত আর তুলি একসাথে বাড়ি গেলো আর ভাবছে কিভাবে তুলির বাবাকে সব বলবে। কিন্তু বাড়ি গিয়ে দেখে তুলিদের বাড়ি খুব সুন্দর করে সাজানো হচ্ছে আর অনেক মেহমানও এসেছে ।
তুলিঃ মা মা বাড়িতে এত লোক কেন আর আজকে কি কোন অনুষ্ঠান আছে যে বাড়ি এত সাজানো হচ্ছে।
মাঃ আজকে না পরশু অনুষ্ঠান পরশু শুক্রবার তোর বিয়ে।
তুলিঃ কি বিয়ে? কার সাথে? কিভাবে? কখন? (অনেক অবাক হয়ে)
তনুঃ আয়াত ভাইয়ার সাথে।
তুলি দেখলো তনু, তুলির বাবা মা, ভাই, আয়াতের বাবা মা , আয়াতের খালা খালু ও আয়াত সবাই একে অপরের দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচিকি হাসতেছে।
তুলিঃ এসব কি আয়াত?
তুলির বাবাঃ তোদের বিয়েটাতো তেমন ধুমধাম করে হয়নি তাই শুক্রবার ধুমধাম করে তোদের বিয়ে হবে। পাগলি মেয়ে আমার কাছে বললে কি আমি তোকে না করতাম।
তুলিঃ স্যরি বাবা। কিন্তু তুমি এসব কিভাবে জানলে?
তনুঃ স্যরি দোস্ত সব কিছু আমার আর আয়াত ভাইয়ার প্লান ছিলো। তোকে ফোন করে ডিভোর্সের কথা বলা থেকে এ পর্যন্ত সব কিছু প্লান।
তুলিঃ কি?
তনুঃ আমি আগেই বুজে গেছিলাম যে তুই আয়াত ভাইকে খুব ভালোবাসিস তাই সব কথা আয়াত ভাইকে বললাম কিন্তু আয়াত ভাইয়া বললো তুই নিজের মুখে না বললে সে মানবে না। আর তারপর তোর মুখ থেকে কথা বের করার জন্য এত প্ল্যান করতে হয়েছে।
তুলিঃ আয়াতকে তো পড়ে দেখে নেবো কিন্তু তোকে আমি ছাড়বো না।
তনুঃ তিন মাসের আগে ডাক্তার তোকে দৌড়াদৌড়ি করতে নিষেধ করেছে। তাই তিনমাস আমাকে কিছু করতে পারবি না যা করার ভাইয়াকে কর।
আয়াতঃ স্যরি। প্লিজ মাফ করে দাও
তুলিঃ এক শর্তে মাফ করতে পারি?
আয়াতঃ কি শর্ত ম্যাডাম।
তুলিঃ বিয়ের পর আমি তোমাকে স্যার বলেই ডাকবো
আয়াতঃ অসম্ভব। আমি তোমারক পাবার জন্য স্যার সাজছি তোমার মুখ থেকে স্যার ডাক শোনার জন্য না।
তুলিঃ ok. না হলে বিয়ে করবো না।
আয়াতঃ রাগ করে ওকে। কিন্তু আমারও একটা শর্ত আছে?
তুলিঃ কি?
আয়াতঃ বিয়ের দিন আমি তোমাকে কোলে করে আমাদের ঘরে নিয়ে যাবো।
আয়াতের খালাঃ আমরা বড়রা বরং এখান থেকে যাই। তিনি তুলির কাছে গিয়ে বললেন বলেছিলাম না আল্লাহ যা করে ভালোর জন্য করে।
বড়রা সবাই বিয়ের কাজ করতে চলে গেলো।
আর আয়াত এসে তুলিকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো।
অবশেষে ধুমধাম করে ওদের বিয়ে হয়ে গেলো। আয়াত তার শর্তমত তুলিকে কোলে নিয়ে ঘরে ডোকে।
কিন্তু তুলি যখনই আয়াতকে স্যার ডাকে তখন খুব রাগ হয় কিন্তু শর্ত মোতাবেক কিছু বলতেও পারে না। কারন নিজের বউয়ের মুখে কেউই স্যার ডাকটা শুনতে চায় না।
আর এভাবেই সুখে শান্তিতে চলতে থাকে ওদের সুখের সংসার। স্যার আর ছাত্রীর সংসার।
Collected
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ