#স্যার যখন বর
#সাথী----------
৪র্থ পার্টঃ-
------------- সবাই ঘরের ভিতরে যাওয়ার পর আয়াত সবাইকে বললো লোকজন যেভাবে কথা বলছে আর যে রকম আচারন করছে তাতে বিয়ে না হলে খালুর এবং তুলির কারো সম্মান ই বাঁচানো যাবে না।
এবার তুলি মুখ খুললো------
তুলিঃ দেখুন আমি আপনাকে বিয়ে করতে পারবো না। জীবনের এত বড় একটা সিদ্ধান্ত বাবা-মা কাউকে না জানিয়েই নেবো? অসম্ভব।
আয়াতঃ দেখুন আমি জানি আপনার পক্ষে সেটা খুব মুসকিল এখন চাইলেও এখান থেকে পালাতে পারবেন না, কারন বাইরে অনেক লোক আর পালিয়ে গেলেও বাজে ছেলেগুলোর হাত থেকে যে রক্ষা পাবেন তার কি গ্যারান্টি? তার থেকে আমি যা বলি তা বোঝার চেষ্টা করুন।
আমরা এখন সবার সামনে বিয়ে করবো। আর কাল খুব সকালে যখন রেজিট্রি অফিস খুলবে তখন গিয়ে সাথে সাথে ডিভোর্স নিয়ে নিবো। খালু চাইলেই সেটা খুব সহজে করতে পারবে আর রেজিট্রারকে টাকা দিবো যাতে কাউকে এ বিষয়ে কিছু না বলে। একবার এখান একবার এখান থেকে চলে গেলে কেউ কিছু করতে পারবে না। আর তুলি তোমারও এ বিষয়ে তোমার পরিবারকে জানানোর কোন প্রয়োজন নাই।
খালুঃ দেখ মা তুলি আমার মতে আয়াত ঠিক বলছে। এখন এটা করা ছাড়া আর কোন উপায় নাই।
তুলিঃ আপনারা প্লিজ আমাকে ক্ষমা করবেন। আমার জন্য আজ আপনাদের এত কিছু সইতে হলো।
খালাঃ দেখো মা কার কপালে কি লেখা আছে তা কেবল একমাত্র আল্লাহই জানেন। আর আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন। দেখো এর পিছনেও হয়তো আল্লাহর কোন ভালো উদ্দেশ্য আছে।
সবার মতামত নিয়ে শেষ পর্যন্ত আয়াত আর তুলির বিয়ে হয়েই গেলো। বিয়ের সব কাজ শেষ হতে হতে রাত প্রায় ২ টা বেজে গেলো। এলাকার সব লোকজনও চলে গেলো। তারপর সবাই টুকিটাকি কিছু কথা বলে যে যার মত রুমে গিয়ে শুয়ে পড়লো । জানিনা সে রাতে সবাই ঘুমিয়েছিলো কিনা। কিন্তু তুলি আর আয়াত একটুও ঘুমায় নি।
তুলি সারা রাত্র কান্না করেছে।
আর আয়াত ভাবছে যা করছে ঠিক করছে তো? আবার ভাবছে তুলিকে যদি সারা জীবনের জন্য পাই তাহলে কেমন হবে?
পরোক্ষনেই আবার বলছে ছি ছি এ আমি কি ভাবছি ? একটা মেয়ে আমার মত একটা অচেনা মানুষের উপর এত ভরশা করেছে আর আমি তার ভরশা ভাঙার চেষ্টা করছি।( নিজেই নিজেকে কতক্ষন গালি দিলো)
খুব সকালে তুলি, আয়াত, খালা আর খালু বের হলেন। তুুলি আয়াতের খালাতো ভাইবোনদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে নিলো।
পথে যাবার পথে দেখে বাজে ছেলেগুলো মোড়ে দাড়িয়ে আছে। তারা তুলিকে দেখেই বললো কি রাত পরী রাত কেমন কাটলো?
এবার আয়াত চুপ থাকতে পারলো না গাড়ি থেকে নেমে সোজা সবটিকে মারা শুরু করে দিলো। একটা ছেলে বললো ঐ মেয়েটার জন্য তুমি আমাদের মারতেছো?
আয়াতঃ ও আমার বিবাহিতা স্ত্রী। আর ওকে কেউ কিছু বললে তাকে খুন করে ফেলবো।
স্ত্রী কথাটা শুনে তুলি চমকে গেলো। বুকের বা পাশটায় চিনচিনে ব্যাথা শুরু হয়ে গেলো। ওর পৃথিবীটা যেনো মূহূর্তেই থমকে গেলো।
(মুসলাম ধর্মে একটা কথা আছে কবুল শুধু একটা শব্দ নয় একটা দোয়া যা সোজা আল্লাহর দরবারে গিয়ে পৌছায় আর কবুল বলার সাথে সাথে স্বামী-স্ত্রী এর মধ্যে আলাদা অদৃশ্য একটা মায়া তৈরী হয়ে যায়)
হয়ত তুলির ক্ষেত্রেও এর বিপরীত হয়নি?
খালু পুলিশকে ফোন করলো পুলিশ এসে ছেলেগুলো পিটাতে পিটাতে নিয়ে গেলো।
ওরা সবাই সোজা রেজিট্রি অফিসে চলে গেলো।সেখানে গিয়ে রেজিট্রার এর সাথে কথা বলে সব কিছু ঠিক করে নিলো।
কিন্তু রেজিট্রার বললো দেখুন আজমল সাহেব(আয়াতের খালু) আপনার কথায় এখন আমি সব কাজ করেতো দিতে পারি কিন্তু ডিভোর্স পেপার তিন মাসের আগে হাতে পাবেন না কারন আইন বলেও তো একটা ব্যাপার আছে। আর আপনাদের সুবিধার্থে আমি এই ব্যবস্থা করে দিতে পারি যে ছেলে মেয়ে কাউকে কোর্টে আসতে হবে না কিন্তু কোর্টের কাজ গুছাতে তিন মাসের কম সময়ে হবে না। পেপার বের হলে আমি আপনার কাছে পাঠিয়ে দিবো তখন আপনি তাতে ছেলে মেয়ের সাইন নিয়ে নিবেন। তাহলেই হয়ে যাবে।
কি আর করা বাধ্য হয়ে রেজিট্রারের কথামত কাজ করতে হলো। রেজিট্রি অফিস থেকে বের হতে হতে প্রায় ১০ টা বেজে গেলো।
তখন আবার তুলি আয়াতের ফোন থেকে ওর বাবাকে ফোন করলো। এখন ফোন ডুকলো। ওর বাবা ফোন ধরতে না ধরতেই তুলি ওর বাবাকে দিলো এক ধমক। বাবা কোথায় ছিলে? তোমার ফোন কেন বন্ধ ছিলো? তোমার মেয়ে যে বাইরে তার জন্য তোমার কি একটুও টেনশন হয় না?
বাবাঃ স্যরি বাবু রাগ করিস আগে আমার কথাটা শোন মা। কাল সন্ধ্যায় তোর সাথে কথা বলার পর ফোনটা পানিতে পরে নষ্ট হয়ে যায়। এই মাত্র তোর কাকার ফোনে সিমটা ডুকালাম। আর তাছাড়া তুইতো বলেছিস কিছুক্ষন পর বাসে উঠবি। তোর ফোনে চার্জ কম ছিলো তাই ফোন বন্ধ পেলে আমি যেনো কোন টেনশন না করি। আর তাছাড়া রাতে আমি কয়েকবার তোর কাকার ফোন দিয়ে তোকে ট্রাই করেছিলাম বন্ধ পেয়ে ভাবলাম হয়তো চার্জ শেষ।
তুলিঃ কিছুটা কান্না স্বরে এতটা ভাবতে কে বলেছে তোমায়?
বাবাঃ স্যরি মা। তা কতদূর এলি?
তুলিঃ আমি এখনো সিলেটে আছি।
বাবাঃ কি? কেন তোরা কালকে রওনা করিস নাই?
তুলিঃ বাস ভুলে আমাকে ছেড়ে চলে গেছে।
বাবাঃ কি? মা তুই ঠিক আছিস তো। আর এটা কার ফোন থেকে কল করছিস?
তুলিঃ বাবা আমি একদম ঠিক আছি তুলি তারপর ব্যাগ চুরি থেকে সব ঘটনা বললো যেটা তনুকে বলেছিলো। কিন্তু সত্যি কথা গুলো বলার মত সাহস তুলির ছিলো না।
বাবা আমি ১২ ফ্লাইটে ঢাকা আসতেছি তারপর ওখান থেকে আবার ফ্লাইটেই বরিশাল আসতেছি। তুমি চাইলে এই নাম্বারে ফোন করতে পারো।
বাবাঃ ঠিক আছে মা সাবধানে আসিস আর ঢাকা পৌছেই ফোন দিবি আমি বরিশাল এয়ারপোর্টে তোর জন্য অপেক্ষা করবো।
তুলিঃ ঠিক আছে বাবা।
আয়াত এতক্ষন তুলির কথা শুনছিলো আর আনমনে একধ্যানে ওর দিকে তাকিয়ে ছিলো।
তুলির কথায় ওর হুশ ফিরলো।
আয়াত তুলির দিকে একটা রুমাল এগিয়ে দিয়ে বললো নিন চোখ মুছে নিন। নয়তো আপনার মেকাপ নষ্ট হয়ে যাবে।
তুলি রাগি লুক দিয়ে আয়াতের দিকে তাকালো।
আয়াতঃ স্যরি স্যরি জাস্ট কিডিং আর এভাবে তাকাবেন না আমার দিকে নয়তো আপনি আমার প্রেমে পড়ে যাবেন।
তুলি নিজের অজান্তেই হেসে ফেললো।
আয়াতঃ তুলি একটা কথা বলবো কিছু মনে করবেন না তো।
তুলিঃ হ্যা বলুন
আয়াতঃ আপনার হাসি টা না----
তুলিঃ আমার হাসিটা কি?
আয়াতঃ আপনার হাসিটা একদম সুন্দর না।
কথাটা শুনে তুলি আবার হেসে দিলো।
আয়াতঃ হুমমমমম। এই হাসির প্রেমে যে কেউ পড়ে যাবে। খুব আস্তে বললো।
তুলিঃ কিছু বললেন?
আয়াতঃ কই নাতো। মনে হয় আপনার কান বাজতেছে। এবার চলুন দেরি হয়ে যাচ্ছে।
সবাই এয়াপোর্ট আসলো আয়াত আর তুলিকে ড্রপ করতে।
তুলিঃ আপনারা সবাই যা করলেন তা বেচে থাকতে কোন দিন ভুলতে পারবো না। আমার জন্য আপনাদের অনেক সমস্যা হয়েছে তার জন্য ক্ষমা করে দিবেন।
খালাঃ না মা এমন বলিস না । আমাদের কোন ভুল হলে ক্ষমা করিস।
খালা আয়াতকে সবার কাছ থেকে কিছুটা দূরে নিয়ে বললো আয়াত তুই কি ওকে ভালোবেসে ফেলেছিস।
আয়াতঃ (মাথা নিচু করে আমতা আমতা করে) কই না নাতো
খালাঃ দেখ একদম মিথ্যা বলবি না। আমি সকাল থেকে সবকিছু নোটিশ করেছি।
দেখ তুই বললে আমি ওর আর ওর পরিবারের সাথে কথা বলি। ও খুব ভালো মেয়ে।
আয়াতঃ না খালা। মিথ্যা সম্পর্কের বাঁধনে আমি ওকে বাধতে চাই না। আর তাছাড়া এই বিয়েটা ওর কাছে একটা দূর্ঘটনা মাত্র। আর মানুষ আর যাই করুর দূর্ঘটনাকে সারা জীবন বয়ে বেড়াতে চায় না। তাই আমার ভালোবাসা আমার কাছে থাক। আল্লাহ যা চায় তাই হবে। নিজের অজান্তেই দুফোটা অশ্রু গড়িয়ে পরলো আয়াতের চোখ থেকে।
খালাঃ আয়াত তুই তো তুলিকে অনেক ভালোবেসে ফেলেছিস। আল্লাহর উপর ভরশা রাখ সব ঠিক হয়ে যাবে।
সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ওরা চলে এলো। সারা পথে কেউ কারো সাথে কোন কথা বললো না।
ঢাকা থেকে যখন প্লেনে বসলো তখন আয়াত বললো বাড়ি গিয়ে আমাকে আপনার ফোন নাম্বার থেকে ফোন করে আপনার ফোন নাম্বারটা দিবেন।
তুলিঃ কেন?
আয়াতঃ আরে যখন পেপার বের হবে তখন তো আপনাকে জানাতে হবে।
তুলিঃ দিতে পারি এক শর্তে।
আয়াতঃ কি?
তুলিঃ আপনি শুধু যেদিন পেপার পাবেন সেদিনই ফোন করবেন এর আগে কখনো আমাকে ফোন দিবেন না।
আয়াতঃ ঠিক আছে। (কথাটি তো খুব সহজে বলে দিলো কিন্তু ওর বুকের ভিতরটা যেন ফেটে যাচ্ছিলো)।
তো মিস তুলি আপনার সাথে কি আমার কখনো দেখা হবে না?
তুলিঃ পৃথিবীটা গোল মিঃ আয়াত।
আয়াতঃ কিছুটা মলিন হাসি দিয়ে হ্যা জানি।
তারপর দুজনই চুপ-----------
বরিশাল ল্যান্ড হওয়া পর দুজন দুজনার দিকে তাকিয়ে ছিলো।
তুলিঃ আপনি যা করলেন তার ঋন জীবন দিয়েও শোধ করা যাবে না। দেখবেন যে মেয়ে আপনার বউ হবে সে খুব ভাগ্যবতি হবে। আর আপনি খুব ভালো আর মিষ্টি একটা বউ পাবেন। ভালো থাকবেন। নিজের খেয়াল রাখবেন।
আয়াতঃ হুম (এর থেকে বেশি কথা যেন ওর মুখ থেকে বের হচ্ছিল না)।
তুলিঃ আচ্ছা চলি তাহলে।
আয়াতঃ শুনুন
তুলিঃ হ্যা বলুন
আয়াতঃ আপনাকে একটা মিথ্যা কথা বলেছিলাম।
তুলিঃ কি?
আয়াতঃ আপনার হাসিটা অনেক সুন্দর ঠিক আপনার মত। সবসময় হাসি খুশি থাকবেন। নিজের খেয়াল রাখবেন।
তারপর দুজন দুদিকে চলে গেলো। কেউ কারো দিকে একবারও তাকালো না কারন দুজনই নিজেদের চোখের জল লুকাচ্ছিল এতক্ষন যার এখন বাঁধ ভেঙে গেছে।
তুলির বাবা সাথে দেখা হলে বাবাকে জড়িয়ে ধরে অনেক্ষন কান্না করে। ওর বাবা বললো ওর হালচাল জানতে চাইলো তারপর বললে তুই যার সাথে আসছিস সে কোথায়?
তুলিঃ বাবা তার খুব জরুরি একটা কাজ পড়ায় ঢাকাতেই থেকে যায়। আমি একাই আসছি। (আরো একবার মিথ্যা বললো তুলি )।
আয়াত দূরে দাড়িয়ে তুলি আর তুলির বাবাকে দেখছিলো।
আর আয়াতের চোখ থেকে অজোড়ে জল পড়ছিলো--------------
চলবে-------------
#স্যার যখন বর
#সাথী--------
৫ম পর্বঃ-
---------- আয়াত আর তুলি যে যার মত বাড়ি চলে গেলো। তারপর কিছুদিন তুলি কলেজে যাইনি। ঐ ঘটনার পর তুলি রাতে ঘুমায় না বললেই চলে। তুলির অনেক বন্ধু বান্ধবী বাড়ি এসে ওর সাথে দেখা করে গেলো। প্রায় ১০ দিন পর থেকে তুলি কলেজ যাওয়া শুরু করলো।
তুলিঃ এখন তোর সব প্রশ্নের উত্তর পেলি?
তনুঃ ও মাই গড। এক রাতে এত ঘটনা ঘটছে। আর তুই আমাকে এই সব কথাগুলো না বলে কিভাবে পারলি বল?
তুলিঃ কোন মুখে বলতাম? কি বলতাম? বলার মত কোন কথা আছে?
(তুলি অঝোড়ে কাঁদতে ছিলো)
তনুঃ তুলির মাথায় হাত দিয়ে। প্লিজ কাঁদিস না বোন। দেখিস সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু আমি একটা বিষয় বুঝতে পারতেছিনা আয়াত স্যার তাহলে আবার কেন তোর জীবনে এলো? আর কেনোই বা এই কলেজেই জয়েন করলো? আর কেনই বা তোর বাসার পাশের বাড়িটা কিনলো থাকার জন্য?
তুলিঃ সে প্রশ্ন তো আমারও? কথা হয়েছিলো ডিভোর্স পেপার পাবার পর আমাকে ফোন করবে কিন্তু আয়াত এসব কেন করতেছে?
তনুঃ তাহলে তুই সরাসরি আয়াত স্যারের সাথে কথা বল।
তুলিঃ ও তো আমার সাথে কথা বলতে চায় কিন্তু আমিই বলি না। এখন ভাবতেছি সরাসরি ওর সাথে কথা বলবো যে ও কি চায়?
তারপর কিছু কথা বলে ওরা ক্লাসে যায়। কিন্তু তুলি আয়াতের ক্লাসটা করলো না। আয়াত ক্লাসে ডুকে আয়াতের চোখ বারবার তুলিকে খুজছিলো। ক্লাস শেষ করার পর আয়াত ক্লাস থেকে বের হবার পর তনু আয়াত কে ডাক দিলো।
তনুঃ স্যার স্যার। আপনার সাথে আমার কিছু কথা আছে।
আয়াতঃ হ্যা বলো তনু?
তনুঃ স্যার আজকে বিকাল ৩:৩০ এ তুলি আপনাকে পার্কে দেখা করতে বলেছে।
আয়াতঃ সত্যি! (খুব খুশি হয়ে)
তারপর আয়াত বাড়ি চলে আসে। বাড়ি এসে বার বার শুধু তুলির রুমের জানালার দিকে তাকায় কিন্তু আফসোস তুলির রুমের জানালাটা বন্ধ।
বিকাল তিনটায় তুলি পার্কের উদ্দেশ্যে বের হলো আর তনুকে ফোন করে আসতে বললো। আয়াত তনুকে বের হতে দেখে ও নিজেও বেরিয়ে পরলো।
পার্কে পৌছে তুলি আর তনু একটা বেঞ্চে বসে ছিলো তখন আয়াত এসে একটু কাশি দিলো।
আয়াতঃ হ্যা তুলি বলো কেন ডেকেছিলে?
তনুঃ তোরা কথা বল আমার একটু কাজ আছে সেটা সেরে আসতেছি।
কিছুক্ষন ওদের মাঝে নিরবতা বিরাজ করলো। তারপর-------
আয়াতঃ তুমি কি কিছু বলতে চাও?
তুলিঃ আপনি এমন কেন করলেন?
আয়াতঃ কি করেছি আমি?
তুলিঃ একদম ন্যাকামো করবেন না। (একটু রেগে)। আমি যা বলতে চাচ্ছি আপনি তা ঠিক বুঝতে পারছেন।
আয়াতঃ হ্যা বুঝতে পারছি।
তুলিঃ তাহলে বলেন এমন কেন করলেন?
আয়াতঃ বলবো তার আগে তুমি আমার কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর দাও?
তুলিঃ কি প্রশ্ন?
আয়াতঃ আমারক দেখে কি তোমার খুব খারাপ মানুষ মনে হয়?
তুলিঃ কখনোই না। আপনি শুধু ভালো না অনেক ভালো মানুষ কারন কোন মানুষ ভালো না হলে একটা অচেনা মেয়ের এত উপকার করে না।
আয়াতঃ আমি আমার লাইফে কেমন মেয়ে ডিজার্ভ করি?
তুলিঃ আমি তো আগেই বলেছি আপনি অনেক ভালো কাউকে পাবেন।
আয়াতঃ হ্যা আমি সেই ভালো কাউকে পেয়ে গেছি। আর তুমিই তো বলেছিলে আমি খুব ভালো আর মিষ্টি একটা বউ পাবো?
তুলিঃ হ্যা বলেছিলাম কিন্তু তখনকার কথার সাথে এখন কি সম্পর্ক? আর এ কথা উঠছে কেন?
আয়াতঃ আমি আমার সেই মিষ্টি বউটাকে পেয়ে গেছি আর আমি তাকে ফেরত চাই।
তুলিঃ মানে?
আয়াতঃ মানে আমি এই বিয়েটাকে ভাঙতে চাইনা। আমি তোমাকে সারা জীবন আমার করে রাখতে চাই। প্লিজ তুলি বলো না তুমি আমার হবে? দেখো এই বিয়ের কথা কেউ জানবে না। আমি আমার বাবা মাকে তোমাদের বাসায় পাঠাবো যে ভাবেই হোক তোমার বাবা মাকে রাজি করাবো আমাদের বিয়ের জন্য। প্লিজ প্লিজ তুলি বলোনা তুমি এই বিয়েটা ভাঙবে না?
তুলিঃ কিছুক্ষন চুপ থেকে। নাহ ---------
আমি এ বিয়ে মানি না।
আয়াত যেনো কিছু সময়ের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেলো।
আয়াতঃ কেন তুলি? কি সমস্যা? তুমি কি কাউকে ভালোবাসো?
তুলিঃ নাহ আমি কাউকে ভালোবাসি না কিন্তু আমি আপনাকেও ভালোবাসি না। আর প্লিজ ডিভোর্স পেপার আসলে বলে দিবেন?
এই কথা বলে তুলি ওখান থেকে চলে গেলো।
আয়াতের মুখ থেকে যেনো কথা বের হচ্ছেনা।
কিন্তু তুলিরও মনে হচ্ছে ও ভুল করছে কিন্তু কি করবে? কিছুই বুজতে পারতেছে না।
ওরা যে যার মত বাড়ি চলে আসে। রাতে তুলির ঘুম আসতে ছিলো না। তাই তুলি ভাবলো জানালাটা খুলে একটু চাঁদ দেখবে। জানালা খোলার সাথে সাথে দেখলো। আয়াত তার জানালার পাশে বসে কি যেনো লিখছে।
তুলি চুপচাপ আয়াতের দিকে তাকিয়ে আছে। হঠাৎ আয়াত ওর দিকে তাকাতেই একটু থমকে যায় এবং তুলিকে দেখেই সাথে সাথে আয়াত তার রুমের জানালাটা আটকে দেয়।
তুলি যেনো 'থ' হয়ে গেলো সাথে একটু অভিমানও হলো আয়াতের ওপর। পরোক্ষনেই ভাবলো আমি কেন ওর ওপর অভিমান করবো ও আমার কে?
পরের দিন থেকে আয়াত ক্লাসে আসলেও তুলির দিকে তাকাতো না। সবসময় ওকে এড়িয়ে চলতো। আয়াতের এমন আচারন দেখে তুলির খুব কষ্ট লাগতো আবার নিজেই নিজেকে বলতো আমার কেন কষ্ট হচ্ছে আমিতো এটাই চেয়েছি।
এদিকে আয়াতের অবস্থাও খুব খারাপ। তুলি পার্কে বসে বলা কথাগুলো প্রতি মুহেূর্তে যেনো ওকে কষ্ট দেয়। আর সেদিন এর পর থেকে আয়াত নিজের রুমের জানলা সবসময় বন্ধ রাখে।
সেদিন বিকালে আয়াতের মন খুব খারাপ লাগতে ছিলো তাই একটু ছাদে উঠলো। ছাদে উঠে আয়াত তুলির রুমের দিকে তাকিয়ে দেখে তুলি ঘুমাচ্ছে। ওকে যেনো স্বর্গের কোন পরীর মত লাগছিলো আয়াতের চোখে যেনো ঘোর লেগে গেলো। ও তাকিয়েই ছিলো।
এমন সময় তুলির ভাই এসে তুলিকে ডেকে তুললো। তুলি উঠে বাইরে তাকাতেই দেখে ছাদ থেকে আয়াত ওর দিকে তাকিয়ে আছে। দুজনার চোখে চোখ পড়তেই দুজনেই লজ্জা পেয়ে চোখ নামিয়ে নিলো আর আয়াত সাথে সাথে ছাদ থেকে নেমে গেলো।
বিয়ের প্রায় দুই মাস হয়ে গেলো আর ডিভোর্স হওয়ার মাত্র একমাস বাকি আছে।
ডিভোর্সের দিন যত কাছে আসতেছে তুলির কষ্ট যেনো তত বাড়ছে।
ডিভোর্সের কথা ভাবতেই ওর মনটা যেনো হু হু করে উঠল। এসব ভাবতে ভাবতে আনমনে রাস্তা পর হচ্ছিল ।
(কি আর হওয়া যেটা আপনারা ভাবছিলেন সেটাই হয়েছে)
একটা কার এসে তুলিকে ধাক্কা মেরে চলে যায়। লোকজন জড় হয় ওখানে। আয়াত ও তখন ওখান থেকে যাচ্ছিল।
(Come on yeaarr নায়িকার একসিডেন্ট আর নায়ক আসবে না তা কি হয়)
তুলিকে পড়ে থাকতে দেখে তাড়াতাড়ি কোলে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যায়-------
চলবে-----------
Collected
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ