#স্যার যখন বর 😜
সাথী--------
তুলি জলদি ওঠ মা কলেজে দেরি হয়ে যাবে।
---মা আরেকটু ঘুমাই না।
মাঃ আটটা বাজে।
তুলিঃ ওহ সিট😱। আরো আগে তুলতে পারো নাই?
মাঃ পাজি মেয়ে আধা ঘন্টা ধরে ডাকছি। একটা কথা বল প্রতিদিনতো তুই আমাদের সবাইকে ঘুম থেকে উঠাতিস কিন্তু ১মাস ধরে রোজ তোকে ডেকে তুলতে হয়। বিশেষ করে যখন থেকে তুই কলেজের পিকনিক থেকে এসেছিস। কি হয়েছে তোর?
তুলিঃ কলেজ পিকনিক এর কথাটা মনে পরতেই মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে গেলো ওর । তবুও স্বাভাবিক ভাবে বললো কিছু না মা আসলে সামনে পরীক্ষাতো তাই রাত জেগে একটু পড়ি তো তাই। আচ্ছা বাদ দেও আমার দেরী হয়ে যাচ্ছে।
ওর নাম তুলিকা আরেফিন। সবাই তুলি বলেই ডাকে ওকে।এবার অনার্স ৩য় বর্ষে ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট এ পড়ে। খুব ভালো ছাত্রী ।
ফ্রেস হয়ে কলেজে চলে গেলো। গিয়ে ওর বান্ধবি তনুর সাথে দেখা করলো।
তনুঃ কিরে তুলি কতক্ষন যাবত অপেক্ষা করছি।
তুলিঃ স্যরি দোস্ত।
তনুঃ ওকে ক্লাসে চল। জানিস পরশু থেকে ব্যবস্থাপনায় নতুন টিচার আসবে।
তুলিঃ ওহ। জানিস আমাদের পাশের বাসার যে আন্টি আছে না উনি না ভিষন ভালো। মাত্র দশ বারো দিন হলো তাড়া নতুন বাড়ি কিনেছে কিন্তু আন্টি অল্পতেই সবার সাথে মিশে গেছে। আমাকে ভিষন ভালোবাসে।
তনুঃ দেখিস আন্টির আবার কোন অবিবাহিত ছেলে আছে কিনা।
তুলিঃ তনু তুইও না।
সেদিন এর মত ক্লাস করে যে যার বাড়ি চলে গেলো।
আজ কলেজে নতুন টিচার আসবে তাই সবাই একটু তাড়াতাড়ি কলেজে এসেছে।
কিছুক্ষন পর প্রিন্সিপাল সার আসলো সাথে একজন লোক দেখেই বোঝা যাচ্ছে ইনিই নতুন টিচার। কিন্তু নতুন টিচারকে দেখে তুলির চোখ চরকগাছ। প্রিন্সিপাল নতুন স্যারের পরিচয় দিয়ে চলে গেলো কিন্তু ততক্ষনে তুলির হিচকি উঠে গেছে। পানিও নাই যে খাবে।
নতুন স্যারঃ হ্যালো স্টুডেন্ট আমি আয়াত রহমান। এটাতো জানেনই আমি আপনাদের ম্যানেজমেন্ট এর নতুন টিচার। প্রথমে পরিচয় পর্ব শেষ করে নেই।
স্যার হাটতে হাটতে তুলির বেঞ্চ এর সামনে গিয়ে পানির একটা বোতল দিয়ে বললেন নিন।
তুলি বোতল থেকে পানি খেলো।
তখন স্যার বললো জানেন হেচকি কেন ওঠে। অনেক সময় অনাকাঙ্খিত কিছু চোখের সামনে এসে পরলে এমটা হয় ।
অ্যাম আই রাইট মিসেস তুলিকা।
তুলিঃ কিছুটা বিরক্ত হয়ে নো স্যার।
স্যারঃ হোয়াই?
তুলিঃ স্যার প্রথমত আমি মিসেস না মিস। আর দ্বিতীয়ত হিসকি অনেক সময় এমনি এমনি হয় তার জন্য কোন কারন লাগে না।
স্যারঃ ওহ রিয়েলি।
সবাই ওদের কথায় একটু অবাক হল সব থেকে বেশি অবাক হল তনু। কারন তনু বুঝতে পারলো না স্যার তুলির নাম কিভাবে জানলো। তাহলে কি স্যার আর তুলি একে অপরকে চেনে? কিন্তু তা কিভাবে সম্ভব কারন তুলির বিষয়ে তনুর থেকে ভালো আর কেউ জানে না। ক্লাস শেষ হলে তনু আর তুলি ক্লাস থেকে বের হয়ে ক্যাম্পাসে ফুচকা খাচ্ছিলো তখন স্যার এসে বললো আমি কি জয়েন করতে পারি।
তুলি চুপ করে আছে তখন তনু বলছে অবশ্যই স্যার। ফুচকা খাওয়া শেষে অনেকবার না বলা সত্যেও স্যার বিলটা দিয়ে দিলেন।
আর তুলিকে বললো তুলি তোমার সাথে কি ১০ মিনিট কথা বলতে পারি?
তুলিঃ স্যরি স্যার আমার মনে হয় না ক্লাসের বাইরে আমাদের কোন কথা থাকতে পারে? আর তাছাড়া আমি এখন বাড়ি যাবো দেরি হয়ে যাচ্ছে।
স্যারঃ ওহ(মন খারাপ করে) । ওকে বাই।
তনু আর তুলি ওখান থেকে চলে আসলো কিন্তু তুলিকে কিছু বলতে যাবে তখন তুলি বললো আমি জানি তুই কি বলবি। এ বিষয়ে কালকে আমি তোকে কিছু কথা বলবো। ------------
চলবে----------
#স্যার যখন বর
🦋🦋সাথী------
২য় পর্ব
--------- সেদিন ওরা যে যার মত বাড়ি চলে গেলো। তুলি আজ বিকেলে আরো বড়সড় ধরনের একটা ধাক্কা খেতে চলছে। বিকেলে তুলি আনমনে একা ছাদে বসে ছিলো। কিন্তু ওর ছোট ভাই (তনয়) ওকে খুব জ্বালাছিলো তাই তুলি রাগ করে ছাদে থাকা একবালতি পানি নিয়ে তনয়ের দিকে ছুড়ে মারলো কিন্তু তনয় সরে গেলো আর পানিটা ছাদের নিচে গিয়ে পড়লো সাথে সাথে কে যেন বলে উঠলো ওমা----
আর তাই তুলি আর তনয় নিচে তাকালো এবং নিচে যাকে দেখেলো তাকে দেখে তুলি বড়সড় একটা ধক্কা খেলো। কারন নিচে আর কেউ নয় আয়াত স্যার দ্বাড়িয়ে আছেন। এবং পানিতে পুরো ভিজা।
স্যারঃ তোমাদের এলাকায় কি নতুন মানুষকে এভাবে স্বাগতম জানায়?
তুলি জলদি নিচে নেমে স্যারের কাছে গিয়ে বললো
তুলিঃ সো স্যরি বুঝতে পারি নি যে আপনি এখানে!
স্যারঃ ই'টস ওকে।
তুলিঃ আপনি এখানে আমাদের বাড়ির কাছে কি করেছেন?
স্যারঃ ও হ্যালো এখানে শুধু আপনাদের একাদের বাড়ি না আরো বাড়ি আছে এই বাড়িটা আমাদের ( তুলিদের বাসার একদম পাশের ঘরটা)।
তুলিঃ আপনার বাড়ি মানে কি?
স্যারঃ আজব তো আমার বাড়ি মানে আমার ঘর। মাই হাউস, হোম।
তুলিঃ দেখুন এখন কিন্তু আপনি বেশি বেশি করছেন?
স্যারঃ ওহ রিয়েলি। পানি মারলা তুমি আমার গায়ে আবার বলছো আমি বেশি বেশি করছি। আজব তো?
তুলিঃ আমি সেটা না অন্য কিছু মিন করে বলেছি।
স্যারঃ আচ্ছা কি মিন করে বলেছেন?
তুলি কিছু বলতে যাবে এর মধ্যে আয়াতের মা এসে পরলো আর আয়াত কে বললো
--------একি এসেই ভিজলি কিভাবে ? কোথাও তো বৃষ্টি নেই?
স্যারঃ মা এ এলাকায় বিনা মেঘে বৃষ্টি হয় আর গোসল ছাড়া এলাকায় প্রবেশ নিষেধ মনে হয়।
আয়াতের মাঃ কি বলছিস পাগলের মত কথাবার্তা। আচ্ছা ছাড় তুলি এই হল আমার ছেলে। চিনতে পারছো মা?
তুলি কিছু না বলে সোজা ঘরে চলে গেলে।
আয়াতঃ মা কেমন দেখলে ওকে?
আয়াতের মাঃ অনেক লক্ষি মেয়ে।
তুলি সোজা ওর রুমে গিয়ে মন খারাপ করে বসে বসে ভাবছে তারমানে আয়াত সব জেনেশুনেই আমাদের বাড়ির ঠিক পাশের বাড়িটা কিনেছে আর ওর মা বাবাও সব জানে। কিছুদিন আগেই ওর বাবা মা এ বাড়িতে আসে। এ বাড়িতে আগে হামিদ কাকারা থাকতো তাড়া বাড়ি বিক্রি করে অন্য জায়গায় চলে গেছে। ওর মা নিয়মিত তুলিদের বাসায় আসতো তুলিও আন্টি আঙ্কেল এর সাথে দেখা করতে ওদের বাসায় যেত। আন্টির কাছে শুনেছে তাদের একটি মাত্র ছেলে । বিদেশ থাকে মাস খানে পর আসবে। কিন্তু আন্টি কখনোই বলেনি আয়াতই তাদের ছেলে বা তুলিও কখনো তাদের ছেলের বিষয়ে ইন্টারেস্ট দেখায় নি।
আর আজ-------
কি হচ্ছে আমার জীবনে এসব। আমি জাস্ট ভাবতে পারছি না। তুলি নিজেই নিজেকে বলছে।
হঠাৎ তুলি জানালার দিকে তাকিয়ে লজ্জ্বা পেলো কারন আয়াত খালি গায়ে টাওয়েল পড়ে রুমে মধ্যে ঘুরছে। তুলিকে দেখে বললো হাই ----
তুলি সাথে সাথে ওর রুমের জানালাটা বন্ধ করে দিলো।
আয়াত তা দেখে মুখটা ছোট করে ফেললো।
তুলির রুমের জানালা দিয়ে তাকালে আয়াতদের ঘরটা খুব ভালো ভাবে দেখা যায় আর একটা রুম তুলির রুমের একদম সোজাসুজি সেই রুমের জানালাটাও তুলির জানালার একদম সোজাসুজি। জানালা দিয়ে তাকালেই রুমের মধ্যের সব কিছু দেখা যায়।
আন্টি একবার বলেছিলো তার ছেলে আসলে ঐ রুমে থাকবে। তারমানে আয়াত এখন থেকে ঐ রুমে থাকবে?
তার মানে এখন থেকে আমি সারাদিন আমার রুমের জানালা মেলে রাখতে পারবো না! তুলির মনে মনে ভিষন রাগ হচ্ছে।
সেদিন রাতে না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়লো তুলি।
সেদিন রাতটা খুব কষ্টে কাটলো তুলির।
সেদিন খুব সকালে উঠলো তুলি ঘুম থেকে। নামাজ পড়লো। মনটা ভালো লাগতে ছিলো না তাই একটু ছাদে গেলো কিন্তু ছাদে গিয়ে দেখে আয়াত তাদের ছাদে বসে আছে। আয়াত আর তুলিদের ছাদ একদম কাছাকাছি তুলিকে দেখেই একদম ছাদের কাছে এসে বললো----
আয়াতঃ তুলি তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে। প্লিজ ১০ মিনিটের জন্য হলেও আমার সাথে একবার দেখা করো।
তুলিঃ স্যরি আপনার সাথে আমার কোন কথা নাই । ১০ মিনিট কেন ১০ সেকেন্টের জন্যও না।
এই বলে তুলি ছাদ থেকে নিচে নেমে এলো।
নিচে রুমে এসে তুলি অনেকক্ষন কান্না করলো।
তারপড় রেডি হয়ে কলেজের উদ্দেশ্যে রওনা দিলো।
আর নিজে নিজে বললো আজ যেভাবেই হোক তনুকে সব সত্য কথা বলবোই । আরো আগে বললে হয়তো এই সমস্যাটা হতো না।
তারপর কলেজে পৌছে তুলি তনুর সাথে দেখা করে।
তুলিঃ কিরে তনু আসতে এত দেরি করলি কেন?
তনুঃ আর বলিস না ট্রাফিক জ্যামে আটকে পরেছিলাম। এখন বল এত সকাল সকাল কেন ডাকলি? আর হ্যা তুই কালকে থেকে কি জেনো বলতে চাস কি বল।
তুলিঃ সেটাই ভাবছি কিভাবে বলবো? আমি জানি তোর কাছে কথাগুলো লুকানো উচিৎ হয়নি। কিন্তু তোকে বলার মত সাহস পাচ্ছিলাম না।
তনুঃ আরে বোকা আমার কাছে বলতে আবার সাহসের কি দরকার? দেখ তুলি আমরা ছোট বেলা থেকে একসাথে বড় হয়েছি আর আমরা ছোট বেলা থেকেই একে অপরের কোন কথা গোপন রাখি নাই। আর আমার যতদূর মনে হয় তুই আয়াত স্যারের বিষয়ে কিছু বলতে চাইতেছিস। আর আমার মনে হয় তুই আর স্যার একে অপরকে খুব ভালোভাবে চিনিস। কিন্তু কিভাবে সেটা বল।
তুলিঃ একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললো হ্যা তুই ঠিক বলছিস।
তনুঃ আচ্ছা কিভাবে চিনিস? আর কি সম্পর্ক তোর আর আয়াত স্যারের মধ্যে?
তুলিঃ ------------ চুপ করে আছে।
তনুঃ তুলি কি হলো চুপ করে আছিস কেন? বল কি সম্পর্ক?
তুলিঃ সম্পর্কের দিক দিয়ে দেখতে গেলে আমরা দুজন স্বামী-স্ত্রী ।
স্বামী-স্ত্রী কথাটা শুনে তনুর পায়ের নিচের মাটি যেনো সরে যাচ্ছে।
তনুঃ কি (অনেক বেশি পরিমান অবাক হয়ে)
তুলিঃ এটাই সত্যি।
তনুঃ অসম্ভব। কখনো হতে পারে না। এই তুলি তুই আমার সাথে মজা করছিস তাই না। বলনা চুপ করে আছিস কেন?
তুলিঃ নাহ। (খুব ভারি গলায় বললো)
তনুঃ দেখ তুলি তোর জীবনের এমন কোন কথা নাই যা আমি জানি না কিন্তু এটা কবে? কিভাবে হলো? আর কবেই বা তোর বিয়ে হলো? আঙ্কেল আন্টি কি এ বিষয়ে কিছু জানে? তনু এক সাথে অনেকগুলো প্রশ্ন করে বসলো?
তুলিঃ বিয়েটা এক মাস আগে হয়েছে। আর আব্বু আম্মু এ বিষয়ে কিছুই জানে।
তনু এই বিয়েটা একটা একসিডেন্ট। কি থেকে কি হয়ে গেলো আমার এখনো সবকিছু ঘোরের মত লাগে। আর আমি নিজেইতো বিয়েটা মানি না। তাহলে-----
তনুঃ কিভাবে হলো সেটা বল
তুলিঃ তাহলে শোন--------------------
চলবে---------
#স্যার যখন বর
#সাথী--------🦋
৩য় পর্ব
------------তুলিঃ তনু তোর মনে আছে গত মাসে আমরা সবাই শিক্ষা সফরে তিন দিন এর জন্য সিলেট গেছিলাম।
তনুঃ হ্যা মনে আছে। কারন ওখানেই তুই হারিয়ে গেছিলি।
তুলিঃ হ্যা ঠিক তাই। আমরা যখন বাড়ি ফেরার দিন সন্ধ্যায় হযরত শাহ-জালাল এর মাজারে সবাই ঘুরতে গেলাম, তখন যে যার মত ঘুরছিলো।
আর ওখানে ভিষন ভির থাকে সবসময় তারপর আবার তখন টুরিস্ট সিজন ছিলো তাই ভিরের মাত্রাটাও একটু বেশি। আমরা সবাই যখন একসাথে ঘুরছিলাম তখন আমি ওখানে ছোট একটা বাচ্চাকে দেখি একা একা কান্না করতেছে। বয়স আনুমানিক সাত বছর হবে। বাচ্চাটাকে দেখে মনে হল ভালো ঘরের। আমি বাচ্চাটার কাছ থেকে জানলাম ওরা ঢাকা থেকে বেড়াতে এসেছে আর এখন ওর বাবা মা কে খুজে পাচ্ছে না। বাচ্চাটা অনেক স্মার্ট তাই কাছ ওর বাবার ফোন নাম্বার নিয়ে ফোন করলাম। এবং এখানে আসতে বললাম।
তখন বাচ্চাটার সাথে কথা বলতে গিয়ে তোদের কথা খেয়ালই ছিলো না। বাচ্চাটার বাবা মা আসতে প্রায় আধা ঘন্টার বেশি সময় লাগলো। বাচ্চাটার সাথে কথা বলতে গিয়ে আমার তোরা কোথায় গেলি সে দিকে খেয়ালই ছিলো না।
তনুঃ হ্যা আমরা সবাই বাস ছেড়ে দেয়ার পড়ই দেখলাম যে তুই আমাদের সাথে নাই। তারপড়?
তুলিঃ বাচ্চাটার বাবা মা এসে বাচ্চাটাকে নিয়ে আমাকে অনেক ধন্যবাদ দিয়ে চলে যায়। তারা চলে যাওয়ার পর আমি দেখলাম রাত প্রায় ৭:৩০ টা বাজে আর কলেজের স্যার বলেছিলো রাত ৮:০০ টার মধ্যে বাস ছাড়বে বরিশালের উদ্দেশ্যে। সবাই যেন ৮:০০ টার অনেক আগেই বাসস্টপে থাকি।
আমি চারিদিকে তাকিয়ে তোদের কাউকে দেখলাম না। খুব ভয় লাগতেছিলো। ভাবলাম তোদের কাউকে ফোন করবো তখন মাজারের গেটের কাছে এসে তোকে ফোন কারার জন্য ফোনটা বের করতে যাবো তখনই কেউ একজন আমার ব্যাগটা টান দিয়ে নিয়ে দৌড় দিলো। লোকটার পিছে দৌড়েও কোন লাভ হয়নি। লোকটা ভিরের মাঝে হারিয়ে গেলো।
কি করবো কিছু মাথায় আসতেছিলো না। এদিকে প্রায় আটটা বাজে । ভাবলাম একটা অটো নিয়ে বাসস্টপ যাবো ওখানে গিয়ে তোদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে অটো ওলায়াকে দিয়ে দিবো। বাসস্টপে পৌছাতে পৌছাতে রাত প্রায় ৯:০০টা বেজে গেলো গিয়ে দেখি তোরা কেউ নেই একটা লোকের কাছে শুনলাম বাস একঘন্টা আগেই ছেড়ে চলে গেছে।
অটোর ভাড়া কি করে দেবো তাই অটোওয়ালাকে আমার পায়ের একটা নুপুর দিয়ে দেই । আর তাকে বলি আমাকে একটা ফোন করতে দিবে কিনা? আঙ্কেলটা খুব ভালো ছিলো তাই ফোনটা দিলো তোদের কারো নাম্বার মুখস্থ ছিলো না। বাবার নাম্বার মনে ছিলো ভাবলাম তাকে ফোন করতে পারলেই সব সমস্যা সমাধান হবে কিন্তু অনেকক্ষন চেষ্টা করেও আব্বুর ফোনে কল ডুকে নাই। বুঝতে পারলাম না আল্লাহ আজ আমার সাথে এমন কেন করছেন? অটোওয়ালাও চলে গেলেন আজকের মত আর কোন বাস বরিশাল যাবে না।
কি করবো? কোথায় যাবো? আমিতো এখানে কাউকে চিনিনা । খুব ভয় করছিলো আর ভিষন কান্না করতেছিলাম। ওখানে একটা বন্ধ দোকানের সামনে বসে ছিলাম। কিছুক্ষন পর ওখানে কিছু বাজে ছেলে আসলো আমাকে দেখে বাজে বাজে ঈঙ্গিত করতে ছিলো। ভাবলাম ওখানে থাকাটা ঠিক না। তাই উঠে হাটতে শুরু করলাম । কিন্তু ছেলেগুলো আমার পিছু পিছু আসতে ছিলো। আর অনেক বাজে বাজে কথা বলতেছিলো। জানিস তনু জীবনে কোন দিন এত খারাপ কথা শুনিনি। (বলে কাঁদতে শুরু করলো তুলি)
তনুঃ বলিস কি? এসব কথা আগে কেন বলিস নাই আমাকে? তোর কোন ক্ষতি হয়নি তো? কিরে চুপ করে কাঁদিস না প্লিজ বল?
তুলিঃ এক পর্যায়ে ছেলে গুলো আমার একদম কাছে চলে আসে। আমি তখন কিছু না ভাবে ছুটতে শুরু করলাম। ছুটতে গিয়ে কার সাথে যেন ধাক্কা খেলাম। সে আর কেউ নয় আয়াত স্যার--------
আয়াত স্যারকে মনে হয় ছেলেগুলো চেনে তাই বললো বড় ভাই আজ রাতে রাতপরীর সাথে থাকতে দেন কাল সকালে ছেড়ে দেবো।
আমি যেন বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম। কিছুই ভাবতে পারছিলাম। মনে হল কিছু জানোয়ারের হাত থেকে বাঁচতে না বাঁচতে আরেক জনের হাতে পড়লাম। মনে হল সব শেষ-----
চোখ দিয়ে শুধু জল
পরতেছিলো।
কিন্তু ছেলেটা আমার ধারনা ভুল প্রমান করে দিলো।
ওদের বললো আমি ওকে চিনি ও আমার পরিচিতো। তোরা এখান থেকে যাবি না আমি খালুকে ফোন করবো। ওর খালুর কথা শুনে ছেলেগুলো ভয় পেয়ে চলে গেলো।
তখন ওনি আমাকে বললো দেখুন ভয় পাবেন না। আমি জানি আপনার পক্ষে আমাকে বিস্বাস করা সম্ভব না। কিন্তু ভরশা রাখতে পারেন।
আয়াতঃ এত রাতে আপনি একা এখানে কেন? আপনার বাড়ি কোথায়? কোন সমস্যা হলে আমাকে বলুন?
তুলিঃ আমি যেনো তখনো কোন কথা বলতে পারছিলাম না। শুধু কান্না করতেছিলাম।
আয়াতঃ দেখুন আপনি যদি কিছু না বলেন তাহলে বুঝবো কিভাবে? আর প্লিজ এভাবে কাঁদবেন না। বাই দ্যা ওয়ে আমি আয়াত আর আপনি?
তুলিঃ আমি তুলি। বরিশাল থাকি। শিক্ষা সফরে সিলেট ঘুরতে এসেছিলাম।
আয়াতঃ রিয়েলি আপনি বরিশালে থাকেন? আমার বাড়িও বরিশালে। এখানে খালার বাসায় বেড়াতে এসেছি। আমার বিষয়ে পড়ে বলবো আগে বলেন আপনার এই অবস্থা কি করে?
তুলিঃ আমি সব ঘটনা আয়াতকে খুলে বললাম।
তখন আয়াত ওর ফোন বের করে বললো নিন আপনার বাবাকে আবার ফোন করে দেখুন? আমি বাবাকে আবার ফোন দিলাম কিন্তু ফোন তখন অফ।
আয়াতঃ এখন কি করবেন? এখানে কি কোন আত্নীয় আছে? তাহলে আমি পৌছে দেবো।
তুলিঃ নাহ। এখানে আমার পরিচিতো কেউ নাই।
আয়াতঃ কিছু মনে না করলে আপনি আমার খালার বাসায় যেতে পারেন আমার সাথে। সেখানে খালা খালু আমার খালাতো বোনেরা আছে আপনার কোন সমস্যা হবে না।
তুলিঃ যদি আমার জন্য আপনার কোন সমস্যা হয়?
আয়াতঃ দেখুন প্রথমত আমার কোন সমস্যা হবে না দ্বিতীয়ত এখন আপনি নিজের কথা ভাবুন আমার কথা নয়। আর তাছাড়া আজকাল রাস্তায় কিছু দু'পা ওয়ালা জানোয়ার ঘুরে বেড়ায় যা যুবতি মেয়ে দূরে থাক মায়ের বয়সি মহিলার সাথেও নোংরামি করতে পিছপা হয় না।
আর তার মধ্যে আপনাকে দেখলে যে কেউ রাত পরী ভেবে ভয় পাবে। আমি এসব আপনার জন্য করছি না করছি রাতে যাতে আপনাকে দেখে পরী ভেবে ভয়ে হার্ট ফেল না করে তাদের জন্য।
আমি আপনি সহ কিছু মানুষের প্রান বাঁচাতে চাই
O God How i am sooo great.
তুলিঃ নিজের অজান্তেই হেসে ফেললো।
আয়াত তুলির হাসি দেখে যেনো মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলো।
তুলি একটু কাশ দিলো।
আয়াতের ধ্যান ভাঙলে আয়াত বললো চলুন-------
একটা অটো নিয়ে আয়াত ওর খালা বাড়ির পথে রওনা হলো।
তুলিঃ কিছু মনে না করলে একটা কথা বলবেন?
আয়াতঃ হ্যা বলুন।
তুলিঃ ঐ বাজে লোক গুলো আপনার খালুর নাম শুনে ভয় পেলো কেন?
আয়াতঃ আসলে আমার খালু এখানের খুব প্রতাবশালী লোক সবাই তাকে খুব মানে।
তুলিঃ ওহ।
কিছুক্ষন পর ওরা পৌছে গেলো।
আয়াত ওর খালাকে সব কিছু খুলে বললো। খালা বললো খুব ভালো করছোস মেয়েটাকে এখানে নিয়ে এসে। তুই ফ্রেস হয়ে আয় আর দীনাকে (আয়াতের খালাতো বোন) বলছি মেয়েটাকে ওর রুমে নিয়ে যেতে। ফ্রেস হয়ে সবাই খেতে বসলো।
খালাঃ দেখো তুলি মা কোন লজ্জ্বা করবে না কেমন। নিজের ঘরের মত ভাববে আর কাল সকালে আমি নিজে তোমাকে বরিশাল পৌছে দিয়ে আসবো।
তনুঃ জানিস তুলি বাসে ছেড়ে দেয়ার আধা ঘন্টা পর আমরা টের পাই তুই বাসে নাই। তখন তোকে ফোন দেই কিন্তু তোর ফোন বন্ধ ছিলো।
তখন আমি নেহা আর দু তিন জন স্যার মিলে আবার সিলেট ব্যাক করি আর সবাইকে বরিশাল পাঠিয়ে দি কিন্তু সিলেট বাসস্টপে এসে তোর কোন খোজ পেলাম না তোর ফোনও অফ ছিলো। অনেক খুজেও তোর কোন খবর না পেয়ে আমরা পুলিশ স্টেশনে যাই । তাড়া রিপোর্ট নেয়। তোর বাবা কে ফোন করেও পাইনি ।সেদিন আমরা ওখানেই থাকলাম । পড়ের দিন সকাল ১১ টায় এফবিতে একটা মেসেস আসে সেখানে লেখা ছিলো তনু আমি তুলি এই নাম্বারে ফোন কর।
আমি ঐ নাম্বারে ফোন করলাম তুই বললি কি। ব্যাগ হারিয়ে গেছে একটা ভালো আন্টি তোকে থাকতে দিয়েছে আর তুই বারোটার ফ্লাইটে বরিশাল যাচ্ছিস। তারপর আমরাও রিলাক্স হয়ে বরিশালের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। মিথ্যা কেন বললি? আর বিয়েটাই বা কি করে হলো?
তুলিঃ আগে আমাকে বলতে দে (আর পাঠকরা আমার কাহিনী শুনতে চায় তোর কাহিনী না)(স্যরি ফ্রেন্ড'স একটু ফান করলাম)
আমরা সবাই খেতে বসলাম তখন রাত প্রায় ১১:১৫ হবে কিন্তু বাইরে খুব শোরগোল শোনা যাচ্ছিলো।
আমরা খাওয়া ছেড়ে সবাই বাইরে এসে দেখলাম অনেক লোক জড় হয়েছে । দেখে মনে হল ওখানকার বাসিন্দা।
আর সাথে ঐ বাজে ছেলেগুলো।
সবাই কিছু একটা নিয়ে আয়াতের খালুকে খুব বাজে ভাবে কথা বলছিলো।
কথাগুলো ছিলো-----
আপনার মত মানুষের কাছ থেকে এরকম কিছু আশা করি নি?
খালুঃ কেন কি করেছি আমি?
একটা অবিবাহিত ছেলের সাথে একটা যুবতি মেয়েকে এক ঘরে কি করে রাখলেন?
খালুঃ আপনারা কি বলছেন এসব?
বাজে ছেলেগুলো মুখ টিপে টিপে হাসতেছিলো।
একটা ছেলে আয়াতের কাছে এসে বললো বড় ভাই আমাদের জিনিসে ভাগ বসানো ফল এখন বুঝবেন?
বুঝতে বাকি রইলো না যে এটা ওদের কাজ। সবাইকে মিথ্যা বলে খেপিয়ে দিয়েছে।
------আয়াত একটা যুবতি মেয়েকে ঘরে এনেছে আর আপনারা তাকে কিছু না বলে উল্টো মেয়েটাকে আপনাদের ঘরে থাকতে দিয়েছেন? সমাজের কি কোন নিয়ম কানুন নাই নাকি?
খালুঃ একটা অসহায় মেয়ে বিপদে পড়েছে আর আমি তাকে আশ্রয় দিয়েছি তাতে আপনারা এমন করছেন?
------কতদূরের অসোহায় তা আমরা জানি? হয়তো মেয়েটাকে বাড়ি থেকে বের করে দিবেন? এখানে কোন নষ্টামি চলবে না। এটা ভদ্র লোকের এলাকা।
খালুঃ অসম্ভব আমি এই মেয়েকে এত রাতে কোথাও যেতে দেবো না।
-------- তাহলে এখনি আয়াতের সাথে এই মেয়েটির বিয়ে দিবেন।
বিয়ে কথাটা শুনে বাজে ছেলেগুলোর মুখ বেজার হয়ে গেলো। ওরা মনে হয় এমন কিছুর আশা করেনি।
এবার আয়াত মুখ খুললো বললো ঠিক আছে আমি আজ এক্ষুনি ওকে বিয়ে করবো।
আয়াতের কথা শুনে তুলি যেনো থ হয়ে গেলো সাথে খালা খালুও। --------------
খালাঃ আয়াত কি বলছিস পাগলের মত? তোর মাথা ঠিক আছে তো?
আয়াতঃ আমার মাথা ঠিক আছে । আপনারা বিয়ের ব্যবস্থা করুন।
তুলি তখনও চুপ করে কাঁদছে। ( এখন কেউ বইলেন না তুলি মেয়েটা মনে হয় কান্না ছাড়া কিছুই করতে পারে না)
আয়াতঃ খালা, খালু আর তুলিকে বললো তোমাদের সাথে আমার কিছু কথা আছে। ভিতরে চলো-------
চলবে--------------
Collected
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ