গল্প: #WHAT_IS_LOVE??
লেখা> Abir Hasan Niloy
.
ছোট থাকতেই কেনো জানিনা একা থাকতে আমার বেশি ভালো লাগে। কোনোরকম কোলাহল আমার একেবারেই পছন্দের বাইরে। তাই সেক্ষেত্রে অনুষ্টান আমার পছন্দ না। কিন্তু এইবার আর সেটা হল না।
অফিস থেকে বাসায় আসতেই বন্ধুর কল..
- দোস্ত, তুই কিন্তু আমার বিয়েতে আসবি। (আকাশ)
- বিয়ে?? কবে??
- আসবি কিনা বল..?
- আসলে আজকাল খুব ব্যস্ততার মাঝে আছি তো।
- জানতাম তুই এটাই বলবি, তাই ভেবেছি তুই না আসলে আমি বিয়েই করবো না।
- আচ্ছা আচ্ছা, আসবো
- হুমম ওমুক তারিখ বিয়ে, তোকে যেন সবার আগেই পায়।
- হুমম
.
বন্ধুর বিয়েতে গেলাম অবশ্য কোন গিফট দিব না। কারন আমার পকেটে তেমন রঙ্গিন কাগজের পাতা নেই। তারপর ও লজ্জা বোধ বলে একটা বাক্য আছে। আমি যেতে চাইনি কিন্তু আকাশের বাড়াবাড়িতে না গিয়ে পারলাম না।
কিছু দেই বা না দেয় বন্ধুর পাশে থাকাই তো বড় কথা
.
সবাই আকাশকে নিয়ে ব্যস্ত। রাত ৯টা,কেন জানি না তখন রাতের গগনটা দেখতে ইচ্ছে হলো। তাই ছাদে উঠে আসলাম, রাতের আকাশও মেঘাচ্ছন্ন না থাকলে নীল দেখায়। তবে আকাশটা পরিপূর্ণ ছিল না। চাঁদটা মেঘের কালো বর্ণের মাঝে লুকায়িত আছে। মিটি মিটি করে তারা জ্বলছে। দক্ষিন হতে মৃদু বাতাস গায়ে লাগছে। আমি ছাদের রেলিংটা ধরে প্রকৃতির রুপ উপভোগ করছি।
হঠাত্ একটি মেয়ে পিছন থেকে বলে উঠল
.
""আজকের আকাশটা অনেক সুন্দর তাই না""?
আমি ঘুরে তাকালাম। অবাক হয়ে মেয়েটির দিকে তাকিয়ে আমি ও মাথা নেড়ে সাড়া দিলাম..
- হুম
- দেখেছেন আজকে আকাশে চাঁদ নেই তবু ও আকাশটা উজ্বল হয়ে আছে ওই ছোট ছোট নক্ষএ গুলোর জন্য। (মেয়েটি)
- হুম
- আচ্ছা চাঁদবিহিন আকাশ দেখতে আপনার ভাল লাগে?
- না
- কালো মেঘগুলো খুবি পাজি। এত সুন্দর চাঁদটাকে লুকিয়ে রেখেছে। মন চাইছে কালো মেঘগুলোকে ইচ্ছে মত বকা দেই।
- হুম
- কি হুম? আপনি কি হুম, না ছাড়া আর কিছুই বলতে পারেন না?
- হুম
- আবার হুম। দূর আপনার সাথে কথাই বলব না। আপনি ও কালো মেঘগুলোর মত পচা।
- হুম
- আপনি কি আমার সাথে ফাইজলামি করছেন?
- না।
.
মেয়েটি আমার দিকে রাগিভাবে তাকালো। কোমরে হাত পেচিয়ে খানিকটা চেয়ে থেকে তিনি চলে গেলেন। মেয়েটি নিশ্চয় আমার এই হুম , না এর উপর বিরক্তি বোধ হয়েছে।
বন্ধুর বিয়ে সমাপ্ত হল। সবাই যার যার বাড়ি ফিরছে। আমিও বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে বের হলাম। আমার আগে সেই মেয়েটি হাটছে।
আমি মেয়েটির নাম জানি না, তবে মেয়েটি নীল রং এর শাড়ি পড়েছিল। আমি সাত পাঁচ না ভেবে মেয়েটিকে ডাকলাম..
- এই যে মিস নীলাম্বরী আজকের নীল গগনটা পরিপূর্ণতা ছিল না। কারন আকাশটা চাঁদবিহিন ছিল। কিন্তু হঠাত্ নীল গগনের অপূর্ণতা পূর্ণতায় রুপ নিয়েছে। জানেন আমি উজ্বল নক্ষএ এর সাথে চাঁদটা ও দেখেছি। চাঁদটার দিকে নিষ্পলক ভাবে তাকিয়ে ছিলাম। হ্যাঁ আমি তাকিয়ে ছিলাম অপলক ভাবে চাঁদখানার দুটির আখির দিকে।
সেই আখির ভেতর থেকে ভেতরে একে বার গভীরে নিম্মজিত হয়েছি আমি। সেই চাঁদের উজ্বল আলোয় বিশাল কালো মেঘ ধুয়ে মুছে গিয়েছে।
জানেন সেই চাঁদটা কে? সেই চাঁদটা হলেন আপনি অর্থাত্ আপনার চাদঁবদনখানি।
মেয়েটি চোখ বড় বড় করে অবাক হয়ে আমার দিকে তাকালো। আমি লজ্বায় মাথাটা নিচু করে নিলাম। তখনি তিনি বললেন..
- আমার নাম অদ্রিতা। আপনি তো খুব সুন্দর ভাবে কথা বলতে পারেন।
- না
- এই যে এখন কি সুন্দর করে বললেন।
- হুম
- আচ্ছা আপনার নাম কি?
- হুম
- আবার হুম। আপনি কি কানে কম শুনতে পান? আপনার নাম জিজ্ঞেস করেছি।
- আবির.
এভাবেই অদ্রিতা নামের মেয়েটার সাথে আমার পরিচয় হয়। খুবি মিশুক একটা মেয়ে।
ঠিক দুই দিন পর, রাতের খাবার শেষ করে বেলকনিতে দাড়িয়ে রাতের প্রকৃতি দেখছি হঠাত্ মোবাইলটা বেজে উঠল। ফোনের স্কীনের দিকে তাকিয়ে দেখি অচেনা নাম্বার..একটু লেট করে একেবারে শেষ সময়ে কলটা ধরলাম।
- হ্যালো (ওপাশ থেকে)
- হুম (আমি)
- আজিব তো এটা কি আপনার এক ধরনের রোগ নাকি? কেউ কিছু বললেই হুম,না এসব বলেন????
- হুম . . . কে আপনি?
- আমি অদ্রিতা, ওই যে বিয়েতে দেখা হয়েছিল
- ও। কিন্তু আপনি আমার নাম্বার পেলেন কিভাবে?
- আকাশ ভাইয়ার কাছ থেকে নিয়েছি।
এভাবেই অদ্রিতার সাথে কথা হত। বলতে গেলে,
সব সময় অদ্রিতার সাথে ফোনে কথা হত। অনেকবার দেখা ও করেছি। বন্ধুত্বে পরিনত হলাম। এভাবেই সাত/আট মাস কেটে গেল।
এক সময় আমি ওর উপর দূর্বল হয়ে পড়ি। ভালোবাসা হয়ত একটা ছোয়াচে রোগ কাছাকাছি থাকা মানুষ গুলো যখন একে অন্যর হৃদয়ের খোজ খবর রাখেই বলেই হয়ত মানুষ ভালোবেসে ফেলে। আমি ও এর বিপরীত হলাম না। আমি ও অদ্রিতাকে আমার বুকের পাজরে গেথে নিয়েছি।
.
একদিন সাহস করে প্রপোজ করলাম। তত্ক্ষনাত সেই উজ্বল চাঁদবদন খানি কালো মেঘের ছায়া ধারন করল। সে আমার নিথর হয়ে চেয়ে রইল। আমি ওর চোখের দিকে তাকালাম। তখনি অদ্রিতা ধীর গতিতে পিপড়ের মত পিলপিল করে চলে যাচ্ছে। আর যাবার সময় বলল...
- ভালোবাসা কি? কাকে বলে তুমি বুঝ??
আমি খানিক্ষন ওর দিকে তাকিয়ে রইলাম। ভালোবাসি বলেছি, তাই বলে ভালোবাসা কি সে জানতে চাইবে? আমি হাবার মত চেয়ে আছি। তখনি অদ্রিতা বললো..
- আসলে সবাই একই রকম। কথা বললাম, বন্ধুত্ব করলাম, শেষে প্রোপোজ করলাম আর হয়ে গেল প্রেম তাই না?? কোথায় পাও এসব ভালোবাসা??
আমি বাকরুদ্ধ হয়ে অদ্রিতার মুখের দিকে তাকালাম। সুন্দর ফর্সা মুখখানি রাগের আভাতে ছেয়ে গেছে পুরোটা। আমি টুক করে মাথা নিচু করে নিলাম। তখনি শুনতে পেলাম কারো চলে যাওয়ার পায়ের শব্দ। আমি মাথা উচু করে অদ্রিতার দিকে তাকিয়ে বললাম...
- আমি ভালবাসার সংঙ্গা জানি না। তবে ভালোবাসা এই নয় যে, তোমার ঠোটে আমার ঠোটে আকর্ষন করা। তোমার শরীর দুমড়ে মুচড়ে রক্ত পিশাচের মত চুষে ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলে দেওয়া। ভালোবাসা এই নয় যে তোমাকে ঘন ঘন বিছানায় নিয়ে যাওয়া। তোমার শরীরে আমার দন্ত বসিয়ে দেওয়া।
ভালোবাসা এই নয় যে, তোমাকে একলা ফেলে জোছনা দেখা। দিনে একটি বার ও তোমাকে ফোন না করা।
.
ভালোবাসা হলো তোমার চোখে আমার চোখ রেখে কথা বলা। বৃষ্টির মাঝে তোমার হাত ধরে ভিজা। ভালোবাসা হলো মাঝ রাতে ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে তোমার কপালে আলত করে চুমু দিয়ে তোমার শ্রবনে ফিস ফিস করে আই লাভ ইয়ু বলা।
ভালোবাসা হলো নানা অজুহাতে কিছুক্ষন পরপর তোমাকে ফোন করে বিরক্ত করা। তোমার গম্ভীর মুখটি হাস্যজ্জল করার জন্য প্রতিনিয়ত এই ধরনীর সাথে সংগ্রাম করা। তোমার পথের সংঙ্গী হয়ে তোমার দায়িত্ব বহন করা। ভালোবাসা হলো এই যে এখন আমাকে একা ফেলে চলে যাচ্ছ তারপর ও তোমায় ভালোবাসা। ভালোবাসা হলো তুমি ভূল করলে ও সেই ভূলের দায় নিজ গায়ে নিয়ে তোমায় স্যরি বলা।
একটানে একটু জোরে কথাগুলো বললাম। কথাগুলো শেষ করে আমি তখনও হাপাচ্ছি। অদ্রিতা থমকে দাড়ালো। সে অপলক আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি অদ্রিতার চোখের দিকে তাকালাম। তখনি
অদ্রিতা দৌড়ে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরল শক্ত করে। আমি তখনও সামনে তাকিয়ে আছি। অদ্রিতার শ্যাপ্পু করা চুলের মাতাল করা ঘ্রাণ আমার অনুভুতিকে যেন অচল, অসর করে তুললো। অদ্রিতা তখনি কিল ঘুষি মারতে লাগল। আর বলতে লাগল >
- আমি এত কিছু শুনতে চাই নি। এত সাহিত্যিক কেন তুমি?
- হুম
- আমাকে ভালোবাস এই কথাটা অনেক আগেই তোমার কাছ থেকে শুনতে চেয়েছিলাম।
- হুম
- তুমি জানো না মেয়েদের বুক ফাটে মুখ ফোটে না।
- ওহ
- ওই ফাযিল কিসের হুম, আর ওহ?
- হুম
- আমি ও যে তোমায় ভালোবাসি
- হুম
- এই আবির, তুমি ব্যাথা পেয়েছো?
- হুম
- এই যে কানে ধরলাম আর কক্ষনো তোমায় কিল ঘুষি মারব না।
- হুম
- ওরে আমার ফাযিল এত হুম হুম করো কেন?
- কি জানি..
কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো অদ্রিতা ওর কান না ধরে আমার কান ধরছে। আর আমি তখনও ব্যাথা পাচ্ছি।
আল্লাহই জানে ভবিষ্যতে আর কতবার কানটানা খেতে হবে। হি হি হি....
মেয়েরা এমন ক্যারে????
(৭২)
--------(সমাপ্ত)---------
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ