āĻļুāĻ•্āϰāĻŦাāϰ, ā§§ā§Ģ āĻĄিāϏেāĻŽ্āĻŦāϰ, ⧍ā§Ļā§§ā§­

3773

((১))
রণ জানতো, মাকে বোঝাতে বেশ বেগ
পেতে হবে।রণ জানতো, মা কিছুতেই কাকুলিকে
নিজের পুত্রবধূ হিসাবে মেনে নিতে পারবে না।
বাধ্য হয়েই মায়ের কাছ থেকে চলে এলো।রিমি
রান্না ঘরে ছিল,রণ কে চেঁচিয়ে ডাকলো-এই
টুনটুনি দাঁড়া।রণ থমকে দাঁড়ালো।রিমি রণর বৌদি।রিমি
ওকে ঘরের এক প্রান্তে টেনে নিয়ে এলো।
বললো,ওর বাবা রাজি?রণ সম্মতিসূচক মাথা নাড়লো।রিমি
বললো,আজ বিকালে তাহলে একবার
যাবো,কেমন।তুই মনখারাপ করিস না।যা।মাথাটা নিচু করে
রণ বেরিয়ে গেল।রিমি আবার রান্না ঘরের দিকে হাঁটা
দিলো।
((২))
প্রত্যয়কে প্রথমে পড়াতে রাজি হয়নি রণঞ্জয়
মিত্র।ওর এমন কিছুই টাকার অভাব নেই।এমনিতেই
প্রতি মাসে দাদার কাছ থেকে হাত খরচের জন্য
একটা ভালো আ্যমাউন্ট পায়।বৌদির কাছে আবেদন
রাখলে বৌদি নিজেই ওর সব অর্থনৈতিক চাহিদা মিটিয়ে
দেবে।সেই ছেলে টাকার জন্য একটা ক্লাস
ফোরের ছেলেকে পড়াতে যাবে!নেহাত
পলাশ অনুরোধ করেছিল।পলাশ রণর, যাকে বলে
জিগরি দোস্ত।ব্যাংকের চাকরি টা পেয়ে গেছিলো
পলাশ।তাই প্রত্যয়কে বাড়িতে গিয়ে পরিয়ে আসবার
সময় তার আর ছিল না।এদিকে পড়াতে পড়াতে
বছরের মাঝখানে পড়ানো বন্ধ করলে,প্রত্যয়
প্রবলেমে পড়বে।তাই.....রণ কে পড়াতে
আসতে হলো।
প্রথম দিন পলাশ সাথে এসেছিল।প্রত্যয়কে তার
নতুন স্যারের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল।বাড়ি
ফিরবার পথে ও বাড়ি সন্মন্ধ্যে আরো অনেক
কথাই বলেছিলো পলাশ।বাড়িতে লোকসংখ্যা চারজন।
প্রত্যয়,ওর বাবা ভুজঙ্গ অধিকারী,রমলার মা আর
প্রত্যয়ের এক পাগলি দিদি কাকুলি।রমলার মা মূলত
কাকুলির দেখাশোনা করে।তবে ঘর মোছা
থেকে বাসন মাজার কাজটাও সারে।ভুজঙ্গ বাবু দশটার
সময় অফিসে বেরিয়ে যান,ফেরেন সন্ধ্যায়।আর
রণ কে আগেই সাবধান করলো ওই পাগলি দিদি
থেকে দূরে থাকতে।
পড়াতে যাবার প্রথম পাঁচ দিন কাকুলির কোনো
উপস্থিতিই টের পায়নি রণ।ঠিক সন্ধ্যে ছটায় বাড়িতে
ঢুকতেন প্রত্যয়ের বাবা ভুজঙ্গ বাবু।রণকে গুড
ইভিনিং বলে সোজা উপরে উঠে যেতেন।পাঁচটা
থেকে সাতটা পর্যন্ত পড়িয়ে রণ বেরিয়ে
আসতো।ও সবে এম.এস.সি. কমপ্লিট করেছে।
এখন মাস্টার্স করছে।
ষষ্ট দিন প্রথম দেখেছিল কাকুলিকে।ও তখন
প্রত্যয়কে পড়াচ্ছে।খাবো না,খাবো না-করে এক
অষ্টাদশী মেয়ে ওপর থেকে নিচে নেমে
এলো।চুল গুলো আলুথালু,ঠোঁটের দু-প্রান্তে
খাবার লেগে আছে তখনো।মেয়েটির মুখের
স্নিগ্ধ সৌন্দর্য যেন রণ কে কাঁপিয়ে দিয়েছিল।
মেয়েটা হঠাৎ করেই যেন রণকে দেখে অবাক
হলো।এক ভাবে রণর দিকে তাকিয়ে রইলো।
ততক্ষণে রমলার মা নিচে নেমে এসেছে।
মেয়েটাকে বুঝিয়ে-বাঝিয়ে উপরে নিয়ে গেল।
পাশ দিয়ে মাথা নিচু করে প্রত্যয় বললো,আমার দিদি।
তারপর কেটে গেছে বেশ কিছু দিন।সেদিনের
পর কাকুলিকে আর দেখেনি রণ।রণর বুকের
ভেতর কেমন যেন হয়,কাকুলির কথা ভাবলে।সেটা
করুনা না কাকুলির অসহায়তার প্রতি ওর ভালোবাসা, তা
বোঝে না রণ।
একদিন সন্ধ্যায় রণ প্রত্যয়কে পড়াচ্ছে, তখন
ভুজঙ্গ বাবু ওর কাছে এলেন।বললেন,পড়ান
ো শেষ হলে আমার সাথে একবার দেখা
কোরো।আমি বৈঠকখানায় আছি।পড়ানো শেষ
করে রণ বৈঠকখানায় ঢুকলো।এ ঘরটায় এর আগে
আসেনি সে।এক মস্ত সোফায় বসে ভুজঙ্গবাবু
ধূমপান করছিলেন।ওকে বসতে বললেন।রণও
সোফার এক প্রান্তে বসে পড়লো।ভুজঙ্গ বাবু
একটু সময় নিলেন।তারপর বললেন,কাল রবিবার।কাল
আপনি আসবেন না,তাই না?
রণ মাথা নাড়লো।ভুজঙ্গবাবু বললেন,কাল সন্ধ্যে
আপনার ফাঁকা হবে?
রবিবার সন্ধ্যায় রণর হাতে তেমন কোনো বিশেষ
কাজ থাকে না।তাই সে বললো, ফাঁকা হবে।কিন্তু
কেন বলুন তো?ভুজঙ্গ বাবু হাত কচলাতে
লাগলেন।তারপর বেশ দ্বিধা গ্রস্ত স্বরেই
বললেন,আসলে কাল কাকুলির জন্মদিন।ওর মা যাওয়ার
পর ......ওর জন্মদিন পালন করা হয়নি।হঠাৎ করেই কাল
বায়না ধরলো.....জন্মদিন পালন করতে হবে
আর.....আপনাকে নিমন্ত্রণ করতে হবে।
একটু হাঁসলো রন।বললো,আচ্ছা আসবো।
দীর্ঘশ্বাস ফেললেন ভুজঙ্গবাবু।যেন একটা
ভারী কিছু বুক থেকে নামলো।রণর হাত ধরে
বললেন,তুমি বাঁচালে বাবা।রণ এবার বেশ সিরিয়াস
ভাবেই বললো,একটা শর্ত আছে।ভুজঙ্গ বাবু ওর
দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকালেন।এমনটা তিনি আশা
করেননি।জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে চাইলেন রণর দিকে।রণ
বললো,প্লিজ আমায় বলবেন-কাকুলি এমন কেন?
আবার অসহায় ভাবে রণর দিকে তাকালেন।এ সত্য
কেবল রমলার মাকে ছাড়া তিনি আর কাউকে বলেন
নি।ক্ষণিক ধীর ভাবে বসে তিনি অবশেষে মুখ
খুললেন।
-কাকুলির বয়স তখন নয়।প্রত্যয় সবে জন্মেছে।
সেদিন রাত্রে খুব জল হচ্ছিল।ওর মা-অকারণে আমায়
সন্দেহ করছিলো কিছুদিন থেকেই।ভেবেছিল
রমলার মায়ের সাথে আমার ফিজিক্যাল রিলেসান
আছে।রমলার মা মানে গীতা আমার এক কলিগের
স্ত্রী।সে কলিগ আমার বন্ধুর থেকেও বেশি
ছিল।নাম ছিল পীযূষ চৌধুরী।আমার বহু আপদে
বিপদে আমার পাশে সে দাঁড়িয়েছে।তাই বলছি সে
বন্ধুর থেকে বেশি ছিল।কিন্তু হঠাৎ করে যে কি
সব হয়ে গেল।পীযূষটা কার অ্যাক্সিডেন্ট
করলো।এক্কেবারে শেষ অবস্থায় আমার হাত
ধরে বলেছিলো,একটা অনুরোধ রাখবি।আমি চলে
যাওয়ার পর আমার স্ত্রী কন্যার পাশে থাকিস একটু।
ওর হাত ধরে ওকে আসত্ব করেছিলাম।পীযূষ মারা
গেল।গীতা এক স্বনির্ভর গোষ্ঠীতে কাজে
লেগে গেল।গীতার সাথে সপ্তায় দু তিনদিন দেখা
করতাম।তারপর আমার স্ত্রী আমার উপর ভুল
বুজলো।সন্ধেহ করতে লাগলো।
সেদিন খুব বৃস্টি হচ্ছিল।অফিস থেকে গীতার
সাথে দেখা করে বাড়ি ফিরতে একটু রাত হয়েছিল।
বাড়িতে ঢুকতেই খ্যাচ খ্যাচ শুরু করে দিলো আমার
স্ত্রী।এ বিষয় নিয়ে ওই দিনের আগেও বহুবার
আমাদের ঝগড়া হয়েছে।কিন্তু ওই দিন যে কি
হলো,আমার স্ত্রীর গায়ে হাত তুলে
ফেলেছিলাম।ও এক চোখ জল নিয়ে আমার দিকে
তাকিয়েছিল।আহঃ...চোখ বুজলে আজও সে জল
ভরা চোখ দেখতে পাই।একছুটে ঢুকে গেল
আমাদের বেড রুমে।আমাকে ঢোকার সুযোগ না
দিয়েই দরজা বন্ধ করে দিলো।ঘরে কাকুলি পড়ছিল।
তার চোখের সামনেই সব হলো।কাকুলি নিজের
চোখের সামনে দেখলো, তার নিজের মাকে
আত্মহত্যা করতে।আমি যখন দরজা ভেঙে
ভেতরে ঢুকেছিলাম তখন সব শেষ।আমার স্ত্রী
ঝুলছে আর কাকুলি ভেবলির মতো তার নিস্পন্দ
মায়ের দিকে তাকিয়ে।জানেন....আমি এখনো
ভেবে উঠতে পারি না,হঠাৎ করে আত্মহত্যার কি
দরকার ছিল।
এতক্ষন পর থামলেন।রুমাল দিয়ে চোখের
কোনটা একটু মুছে নিলেন।তারপর আবার শুরু
করলেন,মায়ের অভাবে চলে যাওয়াটা কাকুলি
মেনে নিতে পারেনি।তারপর থেকেই মেয়েটা
যেন চুপচাপ হয়ে গেল।একদম কথা বলতে
চাইতো না।একজন মনবিজ্ঞানীর কাছে দেখলাম।
তিনি বললেন,মায়ের মতো কাউকে পেলে ও
আবার হয়তো আগের মতো হতে পারবে।
গীতা সব শুনে বলেছিলো,হয়তো সবই ওর
জন্য হয়েছে।ও কাকুলির সব দায়িত্ব নেবে।আমি
যেন রমলার পড়াশোনার দিকটা দেখি।রমলা ব্রেনি
মেয়ে।প্রেসিডেন্সিতে তে চান্স পেয়েছে।
হোস্টেলেই থাকে।এই হলো গল্প।সব
শোনবার পর রণ যেন হতবাক হয়ে গেছিলো।
রন আর কথা বাড়ায়নি।বুঝেছিল ভদ্রলোক বেশ
কষ্ট পাচ্ছেন ভেতরে ভেতরে।হাতে হাত
রেখে ও শুধু বলেছিলো,আমি আসবো।
রবিবার সন্ধ্যায় এ বাড়িতে পা দিয়েই রণ বুজতে
পেরেছিল বাড়িটাকে যেন অন্যরকম লাগছে।প্রাণ
ফিরে পেয়েছে যেন বাড়িটা।শীতের কুয়াশায়
যেমন হাজারো ফুল ফোটে,তেমনই বাড়িটাকে
আনন্দিত করার জন্য একটা উপলক্ষ দরকার ছিল মাত্র।
সমস্ত বাড়িটা আনন্দে ছেয়ে আছে।কাকুলি একটা
চেয়ারে বসে হাসিমুখে সব দেখছে।প্রত্যয়,ভ
ুজঙ্গ বাবু আর রমলার মা বেলুন ঝোলাতে ব্যাস্ত।
কাকুলি ওকে দেখতে পেয়ে হাতছানি দিয়ে
ডাকলো।রণ হাসিমুখে কাকুলির দিকে এগিয়ে
এলো।কাকুলির কাছে আসতেই কাকুলি
বললো,গিফট আননি?মৃদু হেঁসে রণ জিজ্ঞাস
করলো,কেন?মুখ গোমড়া করে মেয়েটি
বললো,গিফট পেতে আমার খুব ভালো লাগে।তাই
তো তোমায় নিমন্ত্রণ করতে বললাম।রণ এবার না
হেঁসে পারলো না।বললো,আচ্ছা-এবার থেকে
যখনই আসবো, তোমার জন্য রোজ একটা করে
গিফট নিয়ে আসবো।মেয়েটি খুশি হলো কিনা রণ
বুজতে পারলো না।ভাবলেস হীন মুখে মেয়েটি
রণর দিকে তাকিয়ে রইলো।
সে সন্ধ্যায় বেশ লেগেছিলো মেয়েটাকে
রণর।মনে হয়েছিল কাকুলি মেন্টাল নয়,ও
আলাদা......সবার থেকে আলাদা।
শুরু হয়ে গেল যেন রূপকথার গল্প।এর পর
থেকেই যখনই প্রত্যয়কে পড়াতে এসেছে রণ
ততবারই কাকুলির জন্য কোনো না কোনো কিছু
কিনে এনেছে রণ।সপ্তা খানেকের মধ্যেই রণ
বুজলো ও কাকুলিকে ভালোবেসে
ফেলেছে।কাকুলিও যেন ওর সঙ্গে বেশি বেশি
সময় কাটাতে চায়।রণ যখন প্রত্যয়কে পড়ায়, কাকুলি
তখন চুপটি করে ওদের পাশে বসে সব দেখে।
রণ বুঝেছিল পর্যাপ্ত পরিমাণ ভালবাসা কাকুলির ভিতরের
অন্ধকারটাকে গলিয়ে দিতে পারে।তাই সে সিদ্ধান্ত
নিয়েই নিয়েছিল।ও কাকুলিকেই বিয়ে করবে।
((৩))
সুজয়ের মুখে এমন প্রস্তাব পেয়ে ভুজঙ্গ বাবু কি
রিয়াক্ট করবেন ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলেন না।
একটু সময় নিয়ে বললেন,ভেবে চিন্তে ডিসিশন
নিয়েছেন!
-হুম,মৃদু হেসে সম্মতি জানালো সুজয়।একটু ইতস্তত
করে আবার সন্দেহ প্রকাশ করলো ভুজঙ্গ
বাবু,কিন্তু আপনারা কাকুলির সন্মন্ধ্যে তো ......।হাত
দেখিয়ে থামলো সুজয়।বললো,রণ আমাদের সব
বলেছে।তা ছাড়া আমার নিজের স্ত্রী যখন সম্মতি
জানিয়েছে।তখন চিন্তা নেই।তাছাড়া যাব মিয়া বিবি
রাজি,তো ক্যায়া করেগা কাজী?
বলেই হো হো করে হেসে উঠলো সুজয়।
এটা তার অন্যান্য বদ অভ্যাসের মধ্যে একটা।ভুজঙ্গ
বাবু কিন্তু আগের মতোই দ্বিধাগ্রস্ত সিরিয়াস কণ্ঠে
বললেন,কিন্তু আপনার মা।হঠাৎই যেন হাঁসি থামিয়ে
দিলো সুজয়।তারপর বললো,আরে আঙ্কেল চিন্তা
করবেন না।বাড়ির সব্বাই রাজি।
((৩))
রণর মা অর্পিতা দেবী চোখ বুজলেই দেখতে
পান এখনও।অন্ধকার ঘরে ওড়না বেঁধে সে
ঘুলছে-ক্যাচ ক্যাচ করে শব্দ হচ্ছে।এ স্বপ্ন
তাকে দীর্ঘদিন ধরে তারা করে বেড়াচ্ছে
তৃণলতা.....লতা বলেই ডাকতো সব্বাই।বড্ড
প্রণোচ্ছল ছিল মেয়েটা।মাধ্যমিক তখন আর এক
মাস বাকি।টিউশানি পরে বাড়ি ফিরছিল সে।হঠাৎ যে কী
হলো।তিনটে ছেলে ওকে জোর করে তুলে
নিলো গাড়িতে।অমানবিক অত্যাচারের পর সকাল বেলা
ছাড়া পেয়েছিল লতা।অবসন্ন দেহে খুঁড়িয়ে
খুঁড়িয়ে কোনো মতে বাড়ি ফিরেছিল।বাড়িতে
ঢুকে বুঝেছিল সারা রাত তাকে খোঁজ করা
হয়েছে।কাউকে কোনো প্রশ্নের জবাব
দেয়নি লতা।নিজের ঘরে ঢুকে-দরজা বন্ধ করে
চেঁচিয়ে কেঁদে উঠেছিল।তারপর যেন পাগল
হয়ে গেছিলো।সারাক্ষণ শুধু উদাশ হয়ে থাকতো।
মায়ের কোনো প্রশ্নের জবাব দেয়নি।নির্বাক
হয়ে গেছিলোএকেবারে।অবশেষে এক
সন্ধ্যায় এক টুকরো কাগজেসে রাত্রির সেই
বিভীষিকাময় ঘটনার বিবরণ দিয়ে,নিজের ওড়নাটাকেই
নিজের মৃত্যুর ফাঁস করেছিল।
মেয়ের এ মৃত্যু যেন আজও মানতে পারেননি
অর্পিতা দেবী।জীবন যুদ্ধে হতাশ হয়ে যাওয়া
মেয়েটার সে করুন মুখ তার মনে হানা দেয় বারবার।
এর পরেও একটা পাগলি মেয়েকে নিজের বৌমা
করলে তিনি আর থাকতে পারবেন না।কাকুলিকে
দেখলেই তার নিজের মেয়ের কথা মনে পড়বে
বারবার।আরো কষ্ট হবে তখন।সে কষ্ট সহ্য
করতে পারবেন কি অর্পিতা দেবী!ওরা যে কেন
বোঝেনা.....।
ওনার অমতেই কাল রণ বিয়ে করলো কাকুলিকে।
অর্পিতা দেবীর নিষেধ কেও মানেনি।বড় হয়ে
গেছে সব!কেন নিষেধ করেছিল ,তা কেউ
জানবার প্রয়োজন বোধ পর্যন্ত করলো না!
অসহায় ভাবে নিজের স্বামীর ছবির দিকে তাকালেন
অর্পিতা দেবী।সাদা রজনীগন্ধার মালা পরে হাঁসি হাঁসি
মুখে তাকিয়ে আছেন।আজ উনি হয়তো থাকলে
অর্পিতা দেবীর কষ্টটা বুঝতেন।
বাইরে শাঁখ বাজানোর আওয়াজ পেলেন অর্পিতা
দেবী।রণ তাহলে বউ নিয়ে এলো।একটা
দীর্ঘশ্বাস ফেললেন তিনি।বড়বৌ রিমি ঢুকলো
বরণডালা হাতে।ধীরে ধীরে নিচু স্বরে
বললো,মা-আপনার বৌমা যে দরজায় দাঁড়িয়ে।বরণ
করে নেবেন না।
চোখ দিয়ে অচিরেই দু ফোঁটা জল বেরিয়ে
এসেছিল অর্পিতা দেবীর।হঠাৎই বুকে এক অচেনা
অনুভূতি তৈরি হলো।বুকের ভেতরে লতা যেন
বলে উঠলো,আমিই এসেছি মা।অর্পিতা দেবীর
যেন মনে হলো,নিজের হতভাগী মেয়েকেই
আবার ফিরে পেতে চলেছেন।
রিমির হাত থেকে বরণডালাটা নিয়ে ঘর থেকে
বেরোলেন তিনি।তারপর বরণ করলেন কাকুলিকে।
হঠাৎই কাকুলি রণর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস
করলো,আমায় মা দেবে বলেছিলে,মা কৈ?অর্পিতা
দেবী যেন সব ভুলে গেলেন।কাকুলিকেই
যেন নিজের সেই হারিয়ে যাওয়া মেয়ে বলেই
মনে হলো।কাকুলির গালে হাত দিয়ে
বললেন,এইতো.....আজ থেকে আমি তোমার মা।
পাগলিটা এত দিন ধরে যেন শুধু একটা মা খুঁজছিল।
অর্পিতা দেবীকে জড়িয়ে ধরে ডুকরে
কেঁদে উঠলো।অর্পিতা দেবীও শক্ত করে
জড়িয়ে ধরলেন।চারিদিকে তাকিয়ে
দেখলেন,সব্বাই মৃদু হাঁসছে।ওরা কি তবে জানতো
কি হতে চলেছে।অর্পিতা দেবীর কেন জানি
বারবার মনে হচ্ছে,চোখ বুজলে তিনি আর লতার
ঝুলন্ত দেহ দেখতে পাবেন না।কনফার্ম হওয়ার
জন্য একবার চোখ বুজলেন।
# কলমে_অর্পণ_ভিকে

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ