#শ্রাবণী
#২৬তম পর্ব
-আমানের মুখে ভালোবাসার কথা শুনে শ্রাবণীর মনে আনন্দের স্রোত বইতে শুরু করলেও দুর্ঘটনার কথা মনে পড়তেই বিষাদে মনটা ভরে গেল।ভাবল,রাসেলের সঙ্গে আমার সম্পর্কের কথা জানলেও দুর্ঘটনার কথা জানে না মনে হয়।জানার পরও কি আমাকে গ্রহণ করবে?নিশ্চয় ঘৃণা করবে এবং আমাকে ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করবে।দুর্ঘটনার কথাটা তাকে জানাতেই হবে।এখনই জানাবে কিনা চিন্তা করতে লাগল।এক সময় তার চোখ দুটি পানিতে ভরে উঠল।
-বেশ কিছুক্ষণ তাকে চুপ করে থাকতে দেখে আমান মুখ তুলে তার চোখে পানি বলল,নিশ্চয় মাইন্ড করেছেন অথবা রেগে গেছেন।বেশি রেগে গেলে আপনার চোখে পানি এসে যায়,কথাটা আপনিই একদিন বলেছিলেন।
-শ্রাবণী চোখ মুছে একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস চেপে রেখে বলল,কোনটাই নয়।চোখে পানি আসার অন্য কারণ আছে।
-তাহলে কারণটা বলুন।
-মাফ করবেন,কারণটা এখন বলতে পারব না।যদি কোনদিন সেরকম সময় আসে,তখন বলব।এবার আসি।আপনার অনেক সময় নষ্ট করলাম বলে শ্রাবণী দাঁড়িয়ে উঠে চলে যেতে লাগল।
-আমান বলল,প্লিজ এক মিনিট।মতামতটা জানালে খুশি হতাম।
-শ্রাবণী থমকে দাঁড়াল কিন্তু মুখ ফেরাল না।বলল,আপনিও আমার প্রশ্নের উত্তর দেননি।যেদিন সময় সুযোগ হবে সেদিন প্রথমে আমার প্রশ্নের উত্তর আদায় করব।তারপর আমার মতামত জানাব,কথা শেষ করে হন হন করে চলে গেল।
.
-শ্রাবণীর ফিরতে দেরি দেখে তাবাসসুম বিবি স্বামীকে তাগিদ দিয়ে বলল,কত রাত হয়েছে খেয়াল করেছ?আশে পাশের কেউ যদি এতরাতে সদরে ওদের আলাপ করতে দেখে,তাহলে কিহবে চিন্তা করেছ?
-চিন্তা যে করি নি তা নয়।তারপর ছেলের চিঠিটা দিয়ে বলল,এটা পড়,তাহলেই বুঝতে পারবে এত রাতে ওদের কেন আলাপ করার সুযোগ দিয়েছি।
-চিঠি পড়ে ফেরত্ দেয়ার সময় বলল,কই,কিছুই তো বুঝতে পারলাম না?এতে তো শ্রাবণীকে বিয়ে করার জন্য বোঝাতে বলেছে সামসুদ্দিন,আর আমানের পরিচয় জানিয়েছে।
-তোমার মাথায় ঘিলু সত্যই শুকিয়ে গেছে।বলছি শোন,আমান ভার্সিটিতে পড়ার সময় শ্রাবণীকে দেখে মুগ্ধ হয়ে ভালবেসে ফেলে।কিন্তু ভালবাসার কথা বলার আগে রাসেলের সঙ্গে শ্রাবণীর সম্পর্ক জানতে পারে।তারপর কিভাবে রাসেলের সঙ্গে শ্রাবণীর সম্পর্ক নষ্ট হল,কিভাবে আমান এখানে চাকরি করছে!সব বলে বললেন,শ্রাবণী প্রথমে আমানকে রাসেল ভেবে পুলিশে দিতে চেয়েছিল।পরে তার সঙ্গে গ্রাম দেখতে দেখতে আমানের সাথে পরিচিত হয়ে জানতে পারে সে রাসেল নয়।তারপর শ্রাবণী আমানের প্রতি দুর্বল হয়ে যায় এবং তার সম্পর্কে সবকিছু জানার চেষ্টা করে।এই চিঠিটা শ্রাবণীকেও পড়তে দিয়েছিলাম।সে আমানের সবকিছু জেনে তার প্রতি আরো দুর্বল হয়ে পড়েছে।আমান যে আজও শ্রাবণীকে ভালবাসে তা আমি জানি।তাই একে অপরের মনের কথা যাতে জানাতে পারে সেজন্য এত রাতে ওদের দেখা ও আলাপ করার অন্যায় জেনেও শ্রাবণীকে বাধা দেয়নি।
-তাবাসসুম বিবি অভিমানভরা কণ্ঠে বলল,শ্রাবণী শুধু তোমার নাতনী,আমার বুঝি কিছু না?তা নাহলে আমার কাছে সবকিছু গোপন রেখেছিলে কেন?
-জহির উদ্দিন হেসে উঠে বলল,গোপন আর রাখতে পারলাম কোথায়?বলেই তো ফেললাম।
-থাক আর সাফাই গাইতে হবে না বলে বললেন,সামসুদ্দিনের চিঠিতে না হয় আমানের সবকিছু জেনেছ,কিন্তু সে যে শ্রাবণীকে ছাত্রজীবন থেকে ভালবাসে,তা জানলে কি করে?আর তোমার সিদ্ধান্ত যে আমান মেনে নেবে,তাও বা জানলে কি করে?
-সামসুদ্দিনের চিঠিটা তাকেও পড়িয়েছি।পড়ার পর আমার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে মতামত জানতে চাইতে ভালবাসার কথা বলে এবং মতও দিয়েছে।এখন দোয়া কর যাতে শ্রাবণী আমানকে বিয়ে করে।
-তা তো করবেই,কিন্তু সেই দুর্ঘটনার কারণে ও তো বিয়েই করতে চায় না?
-তা আমিও জানি।
-আচ্ছা,আমানকে কি তুমি ওর দুর্ঘটনার -আচ্ছা,আমানকে কি তুমি ওর দুর্ঘটনার কথা বলেছ?
-না,বলিনি।শ্রাবণী একদিন বলেছিল,আমার দুর্ঘটনা জানার পরও যে ছেলে আমাকে বিয়ে করতে চাইবে,তখন চিন্তা করে মতামত জানাব।আজ হয়তো জানাতে পারে।তারপর বলল,ঘুমে তোমার চোখ ছোট হয়ে এসেছে,ঘুমাতে যাও,আমি ওর জন্য অপেক্ষা করছি।
-তুমি ঠিকই বলেছ,কাল সারারাত ঘুমায়নি,আজ দিনেও ঘুমাবার সময় পাই নি।তাই খুব ঘুম পাচ্ছে বলে ঘুমাতে গেলেন।
-বারান্দায় বসে স্বামী স্ত্রী কথা বলছিলেন।স্ত্রী ঘুমাতে গেলে জহির উদ্দিন নাতনীর জন্য অপেক্ষা করতে করতে চেয়ারে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।
-শ্রাবণী সদর থেকে ফিরে দাদুকে ঐভাবে ঘুমিয়ে থাকতে দেখে মাথায় হাত বুলিয়ে জাগিয়ে বলল,মাফ করে দিন দাদু।দেরি করে ফেরার জন্য আমি খুব লজ্জিত।
-জহির উদ্দিন হাই তুলে লা হাওলা ওলা কুয়ওতা ইল্লাবিলাহ বলে বললেন,ঠিক আছে বস,দু একটা কথা জিঙ্গেস করব।
-প্লিজ দাদু,বেয়াদবি নেবেন না।আজ খুব টায়ার্ড ফিল করছি।যা জিঙ্গেস করার কাল করবেন।
-আবার হাই উঠতে যাচ্ছে বুঝতে পেরে জহির উদ্দিন ডান হাতের তালু মুখে চাপা দিয়ে আগের দোয়াটা পড়ে বলল,ঠিক আছে ঘুমাতে যাও।অনেক রাত হয়েছে।আমারও ঘুম পাচ্ছে বলে ঘরে ঢুকলেন।
-শ্রাবণী ঘুমাতে গিয়েও ঘুমাতে পারল না।আমানের কথাগুলো কানে যেন এখনো বাজছে।
ঘুম না এলে কেউ স্থির হয়ে শুয়ে থাকতে পারে না।এপাশ ওপাশ করে।ঘুম না আসায় শ্রাবণীও এপাশ ওপাশ করছিল,হঠাত্ তার মন বলে উঠল,কি রে শ্রাবণী,এত ছটফট করছিস কেন?আমান তোকে যে মনে প্রাণে চায়,তা তো জানতে পারলি।তাকে তোর অতীত জীবনের দুর্ঘটনার কথা জানালি না কেন?
-ঢাকা থেকে ফিরে এসে জানাব?
-আজ যখন সে তার মনের কথা জানাল তখনই তোর জানানো উচিত ছিল।
-শুনে যদি ঘৃণা করে প্রত্যাখ্যান করে?
-করে করবে।তুই নিজেই জানিস,এরকম দুর্ঘটনার কথা জানার পর কেউ তোকে বিয়ে করবে না।তবু যখন জানাতেই চাস তখন জানালি না কেন?
-কি বলবে ঠিক করতে না পেরে শ্রাবণী চুপ করে রইল।
-মন বলল,বলতে পারলি না তো,আমি বলি?
-বল।
-আমেরিকা প্রবাসী ছেলেটার কথা জেনে তুই দোটানায় পড়ে গেছিস।কাকে ধরবি কাকে ছাড়বি ঠিক করতে পারছিস না।
-তুই ঠিকই বলেছিস,বলতো কাকে ধরব কাকে ছাড়ব?
-সেটা তোকেই ঠিক করতে হবে।আর আমার কথা যদি শুনতে চাস,তাহলে বলব আমেরিকা প্রবাসী ছেলেকে বিয়ে করতে।তাকে কিছু বলার দরকার নেয়।তারা সবাই আমেরিকা থাকে।বিয়ের পর তোকেও সেখানে নিয়ে যাবে।কখনই তারা তোর দুর্ঘটনার কথা জানতে পারবে না।তাছাড়া তারা এটাও জানতে পারবে না,তোর সঙ্গে কোনদিন কোন ছেলের সম্পর্ক ছিল।
এবার আমানের কথা বলি,,,,,,,
(চলবে)
#শ্রাবণী
#২৭তম পর্ব
-এবার আমানের কথা বলি।প্রথমত সে হাফেজও আলেম।তোকে স্বাধীনভাবে চলাফেরা দেবে না।আর তুই ও তার সাথে এডজাস্ট করতে পারবিনা।দ্বিতীয়ত তুই খুব সুন্দরী।আর ছেলেরা সুন্দরীদের প্রতি খুব র্দুবল।তাই ছাত্রজীবনে তোকে দেখেই মুগ্ধ হয়েছে এবং আজও তোকে মনে রেখেছে।একই কারনে তোর সবকিছু জেনেও তোকে বিয়ে করবে।কিন্তু বিয়ের পর যখন কোন কারনে মনোমালিন্য হবে তখন তোকে দূরে সরিয়ে দিতে না পারলেও তোর সংসারে অশান্তি নেমে আসবে।তুই শিক্ষিত মেয়ে সবকিছু ভেবে সিদ্ধান্ত নিবি।এসব ভাবতে ভাবতে শ্রাবণী ঘুমিয়ে পড়ল।
-ফজরের সময় শ্রাবণীর ঘুম ভাঙল না।সূর্য উঠার পরও যখন তাবাসসুম বিবি তাকে দেখতে পেল না তখন তার রুমে গিয়ে দেখল,সে ঘুমাচ্ছে।তাকে জাগিয়ে জিঙ্গেস করল,কি বুবু,এখনো ঘুমাচ্ছ যে?ফজর তো কাযা হয়ে গেল।যাও উঠে কাযা পড়ে নাও।
-নাস্তা করার সময় জহির উদ্দিন নাতনীকে বলল,দুদিন আমানের সাথে কি এত আলাপ করলে?
-সেসব বলা যাবে না।
-সবটা নাহয় নাই বললে,এতটুকু তো বল,তুমি তার পরিচয় জেনে গেছ,সে কথা তাকে জানিয়েছ কিনা।
-হ্যাঁ জানিয়েছি
-জানার পর কি বলল?
-কি আর বলবে?স্যালেন্ডার করল
স্যালেন্ডার করল মানে?
-মানে বাবা তার সর্ম্পর্কে যা জানিয়েছে,তা সব সত্য বলে স্বীকার করল
-জহির উদ্দিন কিছুক্ষন চুপ থেকে বললেন,আগামীকাল আমরা যে উদ্দেশ্যে ঢাকা যাচ্ছি সে ব্যাপারে আমার মতামত তোমার জানা উচিত ভেবে বলছি।আমার বিশ্বাস তুমি যাকে ভালবেসেছিলে সে খুব খারাপ ছেলে।তোমার মতের বিরুদ্ধে জোর করে কিছু করেছে।তাতে তোমার দোষ কোথায়?তবে হ্যাঁ অল্প ঙ্গানের কারণে আবেগের বশে ভালবাসা করে অন্যায় করেছ।তাই বলে ভালবাসা পাপ নয়।পাপ তখনই হয় যখন ভালবাসা পাপের পথে অগ্রসর করে।
এবার আমার কথা বলি,আমানের পরিচয় জানার আগে তার সবকিছু দেখে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম তার সঙ্গে তোমার বিয়ে দেব।এজন্য আমানের সম্পর্কে খোঁজ নিতে বলেছিলাম সামসুদ্দিনকে।আমানের আসল পরিচয় জেনে খুব খুশি হয়েছি।
আমেরিকা প্রবাসী যে ছেলের কথা সামসুদ্দিন জানিয়েছে,সে খারাপ না ভালো তা বলছি না এবং তার সঙ্গে তোমার বিয়ে হলে অসন্তুষ্ট হব তাও বলছি না।শুধু আমার ইচ্ছার কথা জানালাম।আর একটা কথা মানুষের জীবনে যেসব ঘটনা বা অঘটন ঘটে থাকে তা তার সীমিত ঙ্গানের কারনে,আবেগ ও নিজেকে বড় মনে করার জন্য।তাই উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েদের জীবনে প্রায়ই এরকম ঘটনা ঘটে থাকে।বৌমার কাছে যতটুকু শুনেছি তাতে মনে হয়েছে তোমার জীবনেও ঐ রকম কিছু ঘটেছে।সেজন্য বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নেয়া তোমার ঠিক নয়।মানুষ মাত্রই পাপ যেমন করে,তেমনি পুন্যও করে।পাপ করার পর যাদের অনুশোচনা হয়,তারা উত্তম।
রাসূল (সাঃ) বলেছেন,যে নিজের পাপের জন্য অনুতপ্ত,সে ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে পাপ করে নাই।
আর তুমি যে ভয় কর,বিয়ের পর স্বামী দুর্ঘটনার কথা জেনে গেলে কি হবে?তাও ঠিক নয়।আজকাল বেশিরভাগ ছেলেমেয়ের প্রথম জীবনে যে প্রেম ভালবাসার ঘটনা ঘটে তা সবাই জানে।ঐ ব্যাপার নিয়ে ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই।খোঁজ নিয়ে দেখলে জানা যাবে আমেরিকা প্রবাসী ছেলেটা হয়তো সেখানে কত কি করেছে।আশা করি,তুমি বিয়েতে আর অমত করবে না।
-দাদুর কথা শুনে শ্রাবণী খুব লজ্জা পেয়ে কিছুক্ষন চুপ করে রইল।তারপর বলল,আমানেরও তো তাহলে এরকম কিছু থাকতে পারে।
-তা থাকতে পারে যেমন ভার্সিটিতে ১ম দর্শনে তোমাকে ভালবেসে ফেলে এবং আজও তোমাকে ভুলতে পারেনি।
-শ্রাবণী অবাক হয়ে বলল,তার কথা আপনি জানলেন কেমন করে?
-সামসুদ্দিনের চিঠিটা তাকেও পড়তে দিয়েছিলাম,পড়ার পর বলেছে।
-আপনার সিদ্ধান্তের কথা তাকে জানিয়েছেন না কী?
(জহির উদ্দিন ছেলের চিঠি আমানকে পড়ানোর পর জিঙ্গেস করেছিল,আর কতদিন এখানে থাকবে?
-আমান বলেছিল,ভাবছি ওখানকার সবকিছু বিক্রি করে এখানে বাড়ি ঘর করে মাকে নিয়ে চলে আসব।তারপর জমি কিনে নানা রকমের চাষ করব আর পোল্ট্রি ফার্ম ও কুটির শিল্প প্রতিষ্ঠা করে নিজেরও গ্রামের গরিবদের উন্নতির চেষ্টা করব।এই গ্রামে মাদরাসা বা হাই স্কুল না থাকায় ছেলেমেয়ে প্রাইমারির লেখাপড়া শেষ করে আর লেখাপড়া করে না।তাই প্রথমে মাদরাসা ও পরে হাইস্কুল প্রতিষ্টা করব।আশা করি,এসব ব্যাপারে আপনি আমাকে সাহায্য করবেন।
-জহির উদ্দিন আনন্দিত কন্ঠে বলল,করব না মানে,অবশ্যই করব।এখনই এ ব্যাপারে তোমাকে একটা প্রস্তাব দেব,আশা করি,তুমি তা প্রত্যাখ্যান করবে না।
-আপনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করব,ভাবলেন কী করে?বলুন কি প্রস্তাব দেবেন।
-জহির উদ্দিন নিজের সিদ্ধান্ত জানিয়ে তার দিকে তাকিয়ে রইল।
-আমান মাথা নিচু করে চুপ করে রইল।
-তাকে চুপ থাকতে দেখে তিনি ভাবল,আমান প্রস্তাব গ্রহণ করবে কি করবে না,ঠিক করতে পারছে না।তাই চুপ করে আছে।আরো কিছুক্ষন অপেক্ষা করে বলল,কিছু বললে না যে?
-আমান মাথা তুলে বলল,প্রস্তাব সানন্দে গ্রহণ করতাম যদি আপনার নাতনীর মতামত জানতাম।আপনি কি তার মতামত নিয়ে প্রস্তাব দিলেন?
-না,তবে আমার বিশ্বাস সেও তোমার মতো অমত করবে না।এখন তোমার স্পষ্ট মতামত জানতে চাই।
-তাহলে শুনুন বলে আমান ভার্সিটিতে পড়ার সময় থেকে আজও সে তাকে ভালবাসে,সে কথা বলার পর বলল,আর বোধ হয় স্পষ্ট করে কিছু বলতে হবে না।
-না আর কিছু বলতে হবে না।আল্লাহর কাছে দোয়া করি,তিনি যেন আমার মনের আশা পূরণ করেন।)
.
-এখন নাতনীর কথা শুনে তার মনের খবর জানার জানার জন্য মিথ্যে করে বলল,তোমার মতামত না নিয়ে জানানো উচিত নয় ভেবে জানায় নি।তবে তুমি বললে জানাতে পারি এবং তার মতামতও জিঙ্গেস করতে পারি।
-আমার তো মনে হয় তিনি রাজি হবেন না।
-কি করে বুঝলে?
-এতো সোজা কথা বড়লোকের একমাত্র উচ্চশিক্ষিত ছেল,তার ওপর ঢাকায় বাবার ব্যবসা আছে।সব কিছু ছেড়ে এই অজপাড়াগাঁয়ে ঘরজামাই হয়ে থাকবে কোন দুঃখে?
-তুমি অবশ্য ঠিক বলেছ,তবে দুঃখের চেয়ে সুখ বেশি পাওয়ার আশা থাকল অমত করবে না।
-শ্রাবণী কপাল কুঁচকে বলল,আপনার কথা ঠিক বুঝলামনা।একটু খোলাসা করে বলুন তো?
-এখন নয়,ঢাকা থেকে ফিরে এসে বলব।এখন তুমিই খোলাসা করে বল,তাকে আমার কথা জানাব কি না
-শ্রাবণীও মৃদু হেসে দাদুর কথা রিপিট করল।এখন নয়,ঢাকা থেকে ফিরে এসে জানাব।এখন আর কোনো কথা নয়,সব গোছাতে হবে।কালা ঢাকা যাওয়ার কথা মনে নেই বুঝি,,,,
(চলবে)
মানার উদ্দেশ্যে পড়লে উপকার পাবেন,
অন্যথায় কিছুই পাবেন না,,
#শ্রাবণী
#২৮তম পর্ব
শ্রাবণী,জহির উদ্দিনও তাবাসসুম বিবি ঢাকায় এসেছে।
-আসার সময় শ্রাবণী ট্রেন থেকে নেমে একটা শপিংমলে গিয়ে বোরখা কিনে নিয়ে সেটা পড়ে বাসায় এল।
-মেয়েকে বোরখা পরতে দেখে সামসুদ্দিনও রুমানা খুব অবাক হয়েছে।
রুমানা অসন্তুষ্টও হলো,ভাবল,এটা হয়তো শ্বশুর শাশুড়ির কাজ।
.
দুদিন পর আমেরিকা প্রবাসী ছেলেটা স্বপরিবারে শ্রাবণীকে দেখতে এলেন।
আলাপ পরিচয় ও আপ্যায়নের পর জহির উদ্দিন আলাপের মাধ্যমে তাদের সবকিছু জেনে নিলেন।
-তারপর শ্রাবণীকে নিয়ে আসার জন্য বৌমাকে বললেন।
-রুমানা মেয়ের রুমে গিয়ে তাকে বোরখাপরা অবস্থায় দেখে বিরক্ত কন্ঠে বলল,বোরখা পড়েছিস কেন?ওটা খুলে আমার সঙ্গে আয়।
-পরেছি তো কি হয়েছে?আমি বোরখা পড়েই যাব।জানো না ইসলামে মেয়েদের পর্দা ফরয করা হয়েছে।
-ওসব মোল্লা-মৌলবীদের কথা,বোরখা খুলে তাড়াতাড়ি চল।ওনারা অপেক্ষা করছেন।
-পর্দা না করে সবার সামনে মেয়ে দেখানো ইসলামে নিষেধ।বোরখা খুলে বেপর্দা হয়ে আমি যেতে পারব না।আর তোমারও পর্দা করে তাদের সামনে যাওয়া উচিত।
-মেয়ের কথা শুনে রুমানা যত রেগে যাচ্ছেন তত অবাকও হচ্ছেন।এখন রেগে যাওয়া ঠিক হবে না ভেবে সংযত কন্ঠে বলল,গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে এই এক মাসের মধ্যে তোর দাদা দাদি এইসব শিখিয়েছেন বুঝি?
-তুমি ওনাদের শুধু শুধু দোষ দিচ্ছ।ওনারা কেউ এ ব্যাপারে আমাকে কিছু বলেন নি।এতদিন ডিগ্রি নেয়ার জন্য পড়াশুনা করেছি।মুসলমান ঘরের মেয়ে হয়েও ইসলাম সম্পর্কে কিছুই পড়ি নি,জানি নি,তোমরাও জানাও নি।
গ্রামে গিয়ে এই এক মাসে কুরআন,হাদিস ও ইসলামিক বই পড়ে জানতে পারলাম,প্রতিটি নারী পুরুষের উচিত ইসলামকে জানা ও সেইসব মেনে চলা।
তাই যতটুকু জেনেছি মেনে চলার চেষ্টা করছি।
-সাইন্সে মাস্টার্স করা মেয়ে যে একমাসে এতটা বদলে যাবে,রুমানা কোনদিন কল্পনাও করেনি।খুব রেগে গিয়ে বলল,বোরখা খুলে যাবি না তাহলে?
-দেরি হচ্ছে দেখে জহির উদ্দিন ছেলেকে বললেন,ওরা আসতে দেরি করছে কেন দেখতো?
-সামসুদ্দিন দোতলায় গিয়ে রুমে ঢুকে মেয়ের কথা শুনতে পেলো,মা তুমি শুধু শুধু রাগ করছ?ওনারা যদি মুসলিম হন,তাহলে বোরখা পরে গেলে অসন্তুষ্ট হবেন না,বরং খুশি হবেন।
তাকে বোরখা পরা অবস্থায় দেখে ও তার কথা শুনে সামসুদ্দিন দেরি হওয়ার কারন বুঝতে পারল।চিন্তা করল,বোরখা খুলে যাওয়ার জন্য বেশি জেদাজেদি করলে হয়তো যাবেই না,তাই বললেন,ঠিক আছে বোরখা পরেই চল।
-শ্রাবণীর ছবি দেখে ও তার এডুকেশন জেনে এবং তার মা বাবার সঙ্গে আলাপ করে ও বাসায় পরিবেশ দেখে পাত্র ও তার মা বাবা ভেবেছিলেন এরা আধুনিক।কিন্তু শ্রাবণীকে বোরখা পরে আসতে দেখে খুব অবাক হলেন।কিন্তু জহির উদ্দিন খুব আনন্দিত হলেন।
-শ্রাবণী এসে সালাম দিল।সে বোরখা পড়লেও মুখ খোলা রেখেছে।
-পাত্র ও তার মা বাবা তাকে ঐ অবস্থায় দেখে এত অবাক হয়েছিলেন যে,শ্রাবণীর সালাম তাদের কানে যায়নি।
-জহির উদ্দিন ব্যাপারটা বুঝতে পেরে সালামের উত্তর দিয়ে নাতনীকে বললেন,তুমি ওনার পাশে বস বলে পাত্রের মায়ের দিকে ইঙ্গিত করল।
-শ্রাবণী বসার পর পাত্রের মা তার নাম ও কতদূর লেখাপড়া করেছে জিঙ্গেস করলেন।শ্রাবণী উত্তর দেয়ার পর বললেন,তুমি বোরখা পড়েছ কেন?এসব ব্যাক ডেটেড।শিক্ষিত মেয়ে হয়ে তুমি বোরখা পর ভাবতেই পারছি না।বোরখা খুলে ফেল,আমরা তোমাকে দেখতে এসেছি।না খুললে দেখব কি করে?
-শ্রাবণী বলল,মাফ করবেন,বোরখা খুলতে পারব না।তারপর একটু আগে পর্দা সম্পর্কে মাকে যা বলেছিল সেসব বলল।
-পাত্রের মা বললেন,শুনেছি পরপুরুষদের সামনে পর্দা করতে হয়।এখানে ছেলে ও ছেলের বাবা ছাড়া তো কেউ নেই,পর্দা করার দরকার নেই।আমরা তোমাকে ছেলের বউ করার জন্য দেখতে এসেছি।ভালো করে দেখব না?
-জহির উদ্দিন রুমানাকে বললেন,বৌমা,ওনাকে ও শ্রাবণীকে পাশের রুমে নিয়ে যাও।সেখানে ভাল করে দেখুক।তারপর আবার বললেন,পাত্রীকে ছেলে পক্ষের মেয়েরাই দেখবে,পুরুষরা না।তারা ছেলের যতই আপনজন হোক না কেন?
-ছেলে ও তার মা বাবা আমেরিকায় থেকে সেখানকার সমাজের সঙ্গে মিশে গেছে।ইসলাম সম্পর্কে তেমন কিছু জানে না।শ্রাবণীর কথা শুনে খুব অসন্তুষ্ট হলেও ধৈর্য ধরে ছিলেন।জহির উদ্দিনের কথা শুনে ছেলের বাবা আর ধৈর্য ধরতে পারল না।বললেন,আপনাদের মেয়ের সম্পর্কে আগেই জানানো উচিত ছিল।
আধুনিক যুগে পর্দা অচল।কোনো মোল্লা মৌলবী ছেলের সঙ্গে বিয়ের ব্যবস্থা করুন।মেয়ের সবকিছু গোপন করে আমাদের এনে অপমান করা উচিত হয়নি।তারপর ছেলে ও স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলল,চলে এস বলে উঠে দাঁড়ালেন।
-পাত্র শ্রাবণীকে দেখে মুগ্ধ হলেও সেও অসন্তুষ্ট হয়ে উঠে দাঁড়িয়ে মাকে বলল,এখানে আর এক মুহূর্ত নয় বলে বেরিয়ে গেল।তার পেছন পেছন ছেলের বাবাও বেড়িয়ে গেল।
-সামসুদ্দিন ও রুমানা মেয়ে ও বাবার ওপর খুব অসন্তুষ্ট হলেন।কিছুক্ষন চুপ করে থেকে বাবার দিকে তাকিয়ে সামসুদ্দিন বলল,কাজটা কি ভালো হল বাবা?এত ভালো ছেলে আর কি পাওয়া যাবে?
-দাদু কিছু বলার আগে শ্রাবণী বলল,দাদুকে দায়ী করছ কেন?দোষ করলে আমি করেছি।যা বলার আমাকে বল।তবে আমাকে বলেও লাভ হবে না।আমি ইসলাম সম্পর্কে জানি,তোমরাও জান,তাহলে আর অসন্তুষ্ট হবে না।বরং ইসলামের বিধি বিধান মেনে চলার প্রেরনা পাবে।
-স্বামীর আগেই রুমানা রাগের সঙ্গে বলল,এসব কথা এখানে এসেই বললি না কেন?তাহলে ওনাদের আসতে বলতাম না,আর ওনারাও অপমান হতেন না।
-হ্যাঁ মা এ কথাটা তুমি ঠিকই বলেছ।আমার ভুল হয়ে গেছে।মাফ করে দাও।
-সামসুদ্দিন বলল,কিন্তু মা,আজকাল ক টা মুসলিম ইসলামের বিধি বিধান মেনে চলছে তুই ই বল।
-হ্যাঁ তা অবশ্য ঠিক,কিন্তু বাবা তুমি হয়তো জান না,কিছুসংখ্যক মুসলিম আছে যারা মেনে চলে।যদি সবাই ইসলাম সম্পর্কে জানত আর সেসব মেনে চলত এবং অন্যকেও চালাবার চেষ্টা করত,তাহলে মনে হয় বেশিরভাগ মানুষ ইসলামের বিধি বিধান মেনে চলত।
-জহির উদ্দিন বললেন,শ্রাবণী খুব দামি কথা বলেছে।আমিও বলছি তোমরাও ইসলাম সম্পর্কে জানার চেষ্টা কর,নচেত্ মৃত্যু,কবর,হাশর ও জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা পাবে না।
সারাজীবন ইসলামকে অবহেলা করে অনেক বড় ভুল করেছি।আল্লাহ মেহেরবানী করে সেই ভুল ভাঙিয়েছেন।দোয়া করি তিনি তোমাদের ভুল ভাঙিয়ে তোমাদের ইসলামকে জানার ও মানার তৌফিক দান করুন,,,,,
(চলবে)
#শ্রাবণী
#২৯তম পর্ব
জহির উদ্দিন কয়েকদিন পর ছেলে সামসুদ্দিনের কাছ থেকে ঠিকানা নিয়ে আমানদের ঢাকার বাড়িতে আসে তার পরিবারের সাথে কথা বলার জন্য।
প্রথমে আমানের মামা জামাল ও আমানের মা শারমিন জহির উদ্দিনকে চিনতে পারেনি।পরে পরিচয় দিতেই তারা দুজনে এসে কদমবুসি করল।
--কিছুক্ষন তারা আমানের সাথে সেই ফকিরের কি সম্পর্ক সেসব নিয়ে আলোচনা করল।
--তারপর জহির উদ্দিন হাত ঘড়িতে টাইম দেখে বললেন,শ্রাবণী হয়তো আর ১০-১৫মিনিটের মধ্যে চলে আসবে।তাই আসল কথাটা শেষ করতে চাই।এবার যা কিছু বলব তা শ্রাবণী ও তার বাবাকে জানাবে না।তবে আমার আসার কথা ও আমানের সম্পর্কে যা জিঙ্গেস করেছি তা বলতে পার।কথাটা মনে রাখবে।
শোন,আমি শ্রাবণীর সঙ্গে আমানের বিয়ে দিতে চাই,তোমাদের কোনো অমত নেই তো?
--গতবার আমান এসে মাকে বলেছিল,মামার বন্ধুর মেয়ে শ্রাবণীকে আমার খুব পছন্দ।তুমি মামার সঙ্গে আলাপ করে তাকে দিয়ে প্রস্তাব পাঠাবে।
আমেরিকা ছেলেটার জন্য তারা প্রস্তাব পাঠায়নি।ভেবেছিল,ওখানে যদি না হয়,তাহলে তারা প্রস্তাব দেবে।
তার আগেই আজ শ্রাবণীর দাদাজি প্রস্তাব নিয়ে এসেছেন ও শ্রাবণী আসবে শুনে শারমিন ও জামাল খুব খুশি হল।এ যেন মেঘ চাইতে না চাইতে বৃষ্টি।কিছুক্ষন চুপ করে থেকে ভাইবোনকে এক অপরের দিকে তাকাতে লাগল।
--তাই দেখে জহির উদ্দিন বললেন,কি ব্যাপার?তোমরা চুপ করে আছো কেন?হ্যাঁ না কিছু তো একটা বলবে?
--শারমিন এসে কদমবুসি করে বলল,আল্লাহ আপনার ইচ্ছা পূরণ করুন।আমি এত খুশি হয়েছি.তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না।আমাদের বাবা নেই,আজ থেকে আপনি আমাদের বাবা।
--আলহামদুলিল্লাহ বলে জহির উদ্দিন বললেন,তোমাদের সঙ্গে আলাপ করে আমিও খুব খুশি হয়েছি।তবে আবার বলছি,আমানের সঙ্গে শ্রাবণীর বিয়ের ব্যাপারে যা কিছু বললাম,সেসব কথা শ্রাবণী বা তার বাবা যেন জানতে না পারে।কয়েকদিন পর শ্রাবণীকে নিয়ে রইসপুর ফিরে যাব।তারপর তোমরা বাসায় গিয়ে প্রস্তাব দেবে।
এমন সময় কলিংবেল বেজে উঠতে আবার বললেন,ঐ বোধ হয় শ্রাবণী এসে গেছে।
--শারমিন জামালকে বলল,তুই শ্রাবণীকে এখানে নিয়ে আয়,আমি ততক্ষনে নাস্তা নিয়ে আসি।
.
--জহির উদ্দিন রাত্রে একসময় ছেলেকে সবার অগোচরে সকালে গাড়ি নিয়ে তার বন্ধু জামালের বাসায় যাওয়ার কথা বলেছিল।শ্রাবণী জানলে সঙ্গে যেতে চাইবে ভেবে সকালে নাস্তা খাওয়ার পর চুপে চুপে ড্রেস চেন্জ করছিল।
--এমন সময় শ্রাবণী দাদুর খোঁজে এসে তাকে দেখে বলল,কোথাও যাবেন মনে হচ্ছে?
--হ্যাঁ ভাই,একজনের সঙ্গে একটু দেখা করতে যাব।
--একা যাবেন?আমাকে নেবেন না?
--না, কারণ যেখানে যাব সেখানে তোমাকে নিয়ে যাওয়া যাবে না।
--শ্রাবণী গালভার করে বলল,ঠিক আছে,আমিও আর কখনো আপনার সঙ্গে কোথাও যাব না।
--জহির উদ্দিন হেসে উঠে বললেন,তাই না কি?
--হ্যাঁ তাই।
--রইসপুরেও যাবে না?
--না
--ঠিক আছে,লোকটার সঙ্গে দেখা করে গাড়ি পাঠিয়ে দেব।তুমি রেডি থেক।আমানদের বাসায় তোমাকে নিয়ে যাব।
--দাদুর কথা শুনে শ্রাবণীর চোখ মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল।
--তাই দেখে জহির উদ্দিন মৃদু হেসে বললেন,এবার যাই তা হলে?
--দাদুর মুখে হাসি দেখে শ্রাবণী লজ্জা পেয়ে হাঁসূচক মাথা নেড়ে ছুটে পালিয়ে গিয়েছিল।
.
--জামাল গেট খুলে শ্রাবণীকে দেখে বলল,এসো মা এসো।আমরা সবাই তোমর জন্য অপেক্ষা করছি।
--শ্রাবণী বাবার বন্ধুর কথা শুনে ভাবল,তাহলে দাদু এখানে এসে গাড়ি পাঠিয়েছেন?সালাম দিয়ে বলল,চাচা কেমন আছেন?
--জামাল বলল,ভালো আছি মা।
--শ্রাবণী ভেতরে আসার সময় জিঙ্গেস করল,দাদু এখানে এসেছেন?
--হ্যাঁ,তিনি এসেই তোমাকে নিয়ে আসার জন্য গাড়ি পাঠিয়েছেন।
জামাল তাকে ড্রইংরুমে নিয়ে এলেন।
--তাকে দেখে জহির উদ্দিন বললেন,
এসো ভাই বসো
--বসার পর শ্রাবণী বলল,কথা ছিল,আমাকে সঙ্গে নিয়ে এখানে আসবেন,একা এলেন যে?
--জহির উদ্দিন বললেন,সব সময় কথা রক্ষা করা যায় না।
--কথা রক্ষা করা না গেলে শুনাহ হয় শ্রাবণী বলতে যাচ্ছিল,একজন মহিলাকে ট্রেতে করে নাস্তা নিয়ে ঢুকতে দেখে থেমে গিয়ে তার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে রইল।
--শ্রাবণী এখন মুখ খোলা রেখে ওড়না গায়ে মাথায় দিয়ে এসেছে।
--তিনিও শ্রাবণীর দিকে তাকিয়ে এগিয়ে এসে নাস্তার ট্রেটা টেবিলের উপর রাখলেন।
--জামাল শ্রাবণীকে উদ্দেশ্য করে বলল,ইনি আমার বড় বোন।
--শ্রাবণী সালাম দিল।
--শারমিন সালামের উত্তর দিয়ে তার পাশে বসে বলল,তুমি আমাকে না দেখলেও আমি তোমাকে চিনি।তোমাকে স্বপ্নে দেখেছি।
--শ্রাবণী অবাক হয়ে বলল,আপনার কথা ঠিক বুঝতে পারলাম না।
--শারমিন কিছু বলতে যাচ্ছিল,তার আগেই জহির উদ্দিন বললেন,পরে আমি তোমাকে বুঝিয়ে বলব।
ও আমানের মা,কদমবুসি করো।
--তাকে দেখেই শ্রাবণী তাই অনুমান করেছিল এবং কদমবুসি করতে ইচ্ছাও করছিল।দাদু কিছু মনে করবে পারেন ভেবে কদমবুসি করে নি।এখন দাদু কদমবুসির কথা বলতে কদমবুসি করতে গেল।
--শারমিন বলল, থাক মা থাক,কদমবুসি করতে হবে না বলে জড়িয়ে ধরে মাথায় চুমো খেয়ে দোয়া করার পর বললেন,বসো,নাস্তা খাও,,,,,,,
(চলবে)
#শ্রাবণী
#৩০তম পর্ব
--বাসায় ফিরে শ্রাবণী দাদুকে বলল,আমানের মায়ের কথাটা এবার বুঝিয়ে বলুন তো?
--জহির উদ্দিন বললেন,এত সামান্য কথা বুঝতে পারা তোমার উচিত ছিল।জামাল তোমার বাবার বন্ধু।সে তোমাকে অনেকবার দেখেছে।কয়েকবার তোমাকে তাদের বাসায় যেতও বলেছে।জামাল তোমার কথা বাসায় বোনের কাছে বলেছে।তাই হয়তো আমানের মা তোমাকে স্বপ্নে দেখেছে।এবার বল,আমানের মাকে কেমন লাগল?
--খারাপ কিছু দেখিনি,ভালোই লাগল
--ভালো অনেক পদের আছে,শুধু ভালো লাগল?
--শ্রাবণী হেসে উঠে বলল,ভালোর আবার পদ আছে বুঝি?
--নিশ্চয় আছে,যেমন-মন্দের ভালো,মোটামুটি ভালো,একটু ভালো ও অত্যন্ত ভালো?
--শ্রাবণী আবার হেসে উঠে বলল,আপনি তো পলিটিক্যাল সায়েন্সে অনার্স নিয়ে মাস্টার্স করেছেন।বাংলা সাহিত্যের কিছু জানেন না,তবু এসব বলছেন কি করে?
--আমি অমন কয়েকজনকে জানি,যারা বাংলা সাহিত্যের ওপর পড়াশোনা না করেও বাংলা সাহিত্যের পন্ডিতদের মতো কথা বলে।
--প্রসঙ্গটা এড়াবার জন্য শ্রাবণী জিঙ্গেস করল,আমরা কবে রইসপুর যাচ্ছ?
--নাতনীর মনের ভাব বুঝতে জহির উদ্দিন অবাক হওয়ায় ভান করে বললেন,আমরা বলছ কেন?তুমিও যাবে নাকি?আমি তো মনে করেছিলাম,তুমি আর যাবে না।এখন বুঝতে পারছি,আমেরিকা প্রবাসী ছেলে ও তার মা-বাবাকে ইসলামের কথা বলে কেন ভাগিয়ে দিয়েছ
--আমি ইসলামের কথা বলেছি।তাতে ভাগিয়ে দেওয়ার কথা আসছে কেন?আর বোঝা-বুঝিরইবা কি আছে?
--আছে দাদু আছে
--কি আছে বলুন তো?
--যদি বলি আমান তোমার মনে দাগ কেটেছে,তাই ওদেরকে ভাগিয়ে দিয়েছ
--আমানের নাম শুনলেই শ্রাবণীর হার্টবিট বেড়ে যায়।এখনও তাই হল।তবু মেকি রাগের সঙ্গে বড় বড় চোখে দাদুর দিকে তাকিয়ে বলল,ওরকম বাজে কথা বলবেন না।দাড়িওয়ালা মোল্লা ছেলে আমার মনে দাগ কাটবে ভাবলেন কী করে?
--যে ছেলে শহরের মর্ডান ফ্যামিলির একটা ফিজিক্সে মাস্টার্স করা আপডেট মেয়েকে কয়েকদিনের মধ্যে ধার্মিকা করে দিতে পারে,সে ছেলে ঐ মেয়েটির মনে দাগ কাটবে না,একথা তুমিই বা বললে কি করে?
--ধরা পড়ে শ্রাবণী খুব লজ্জা পেয়ে কিছুক্ষন চুপ করে রইল।তারপর উঠে দাদুর চেয়ারের পেছনে এসে দু হাতে গলা জড়িয়ে থুতনি মাথায় রেখে ভিজে গলায় বলল,আমার দুর্ঘটনার কথা শুনে যদি আমান পিছিয়ে যায়?হাফেজ ও আলেম ছেলেরা তো আমাদের মতো মডার্ন ও আপডেট মেয়েদেরকে ঘৃণা করে
--জহির উদ্দিন ও কথাটা জানেন।তবু নাতনীকে আশ্বস্ত করার জন্য বললেন,সব মানুষ যেমন সমান হয় না,তেমনি সব হাফেজ মাওলানারাও সমান নয়।
আমান যদি সেরকম হত,তাহলে দিনের পর দিন তোমাকে নিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়াত না।তুমি ও নিয়ে দুশ্চিন্ত করো না।এবারে রইসপুর গিয়ে তাকে সবকিছু জানাও,দেখ না কি হয়।আমানকে যতটুকু জেনেছি,তাতে আমার বিশ্বাস তোমাকে ফেরাবে না।
এবার ছাড়,জুমার নামাযের সময় হয়ে আসছে।
.
--কয়েকদিন পর জহির উদ্দিন স্ত্রীকে নিয়ে ফিরে যেতে চাইলে শ্রাবণীও তাদের সঙ্গে যাওয়ার কথা মা-বাবাকে জানাল
--আমেরিকা প্রবাসী ছেলেটা হাতছাড়া হওয়ার পর থেকে রুমানা মেয়ের ওপর খুব রেগে আছে।তার ওপর আসার পর থেকে মোটা মোটা অনেক ইসলামিক বই কিনে এনে দিন-রাত পড়ছে আর দাদুর সাথে আলোচনা করছে দেখে আরো রেগে আছেন।কিছু বললে শ্বশুর মনে কষ্ট পাবেন ভেবে মেয়েকে কিছু বলতে পারছেন না।এখন মেয়ের মুখে রইসপুর যাবে শুনে বেশ রাগের সঙ্গে বললেন,এইতো একমাস সেখানে থেকে এলি,এখন আবার যাবি কেন?
--গ্রামে থাকতে আমার খুব ভালো লাগে।তাই ভাবছি ওখানকার স্কুলে অথবা কলেজে চাকলি নিয়ে থেকে যাব।
--সেখানে সামসুদ্দিনও ছিলেন।রুমানা স্বামীকে বললেন,শুনলে তোমার মেয়ের কথা?যত তাড়াতাড়ি পার একটা মৌলভী ছেলে দেখে ওর বিয়ে দাও
--সামসুদ্দিনও একই কারণে মেয়ের ওপর রেগে আছেন এবং একই কারণে তাকে কিছু বলতে পারছে না।স্ত্রীর কথা শুনে মেয়েকে বলল,তোর মা তো ঠিক কথা বলেছে।রইসপুর যাওয়ার আর দরকার নেই
--তোমরা যাই বল না কেন,আমি যাবই।আমার বিয়ে নিয়ে তোমরা দুশ্চিন্তা করো না।আমি তো অনেক আগেই বলেছি বিয়ে করব না,তবু যে কেন তোমরা আমার জন্য পাত্র দেখ বুঝতে পারছি না
--রুমানা আরো রেগে গিয়ে বললেন,এখন না বুঝলেও আমরা যখন মরে যাব তখন বুঝবি
--শ্রাবণী বলল,ঠিক আছে,তোমরা যা ভালো বুঝ কর।আমি আপত্তি করব না।এবারের মতো যেতে দাও।কথা দিচ্ছি কয়েকদিন থেকে ফিয়ে আসব।কথা শেষ করে শ্রাবণী তাদের কাছ থেকে চলে গেল দাদা-দাদির সঙ্গে রইসপুরের উদ্দেশ্যে,,,,,,,
(চলবে)
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ