#শ্রাবণী
#৩১তম পর্ব
শেষ ৫ পর্ব (৩১-৩৫),
.
___প্রায় পনেরো দিন পর স্ত্রী ও নাতনীকে নিয়ে জহির উদ্দিন রইসপুরে ফিরে এলেন।মসজিদে এশার নামায পড়তে গিয়ে জানতে পারল,ওনারা ঢাকা যাওয়ার দু দিন পর আমান কমিটির সদস্যদের কাউকে কিছু না বলে কোথায় গিয়েছিল,তা কেউ জানে না।দশদিন পর যখন ফিরে আসে তখন ইমাম সাহেব ও মসজিদ কমিটির সদস্যরা জিঙ্গেস করেও উত্তর পায় নি।যেদিন চলে যায় সেদিন রাতে দু তিনজন লোক তার ঘরে একজন বোরখা পরা মেয়েকে দেখেছে।মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জেমও দেখেছেন।তাছাড়া গ্রামের দু একজন মুরব্বি মাঝে মধ্যে গভীর রাতে একটা বোরখা পরা মেয়েকে তার ঘরে ঢুকতে দেখেছে।কথাটা তারা তখন না বললেও এখন বলেছে।সে ব্যাপারে জিঙ্গেস করেও আমানের কাছ থেকে কোনো উত্তর পাওয়া যাই নি।তাই কমিটির সদস্যরা মিটিং করে তাকে বরখাস্ত করে এবং পরের দিন চলে যেতে বলে।শুধু আব্দুল খালেক বলেছিল,
প্রফেসর সাহেব আসা পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করা উচিত।তার কথা কেউ কানে তোলে নি।আমান এতটুকু আপত্তি না করে যেতে রাজি হয়,কিন্তু ঐ দিন রাত থেকে তার খুব জ্বর।আজ তিনদিন পার হয়ে গেলেও তার জ্বর কমে নি।শয্যাশায়ী হয়ে পড়ে আছে।মসজিদ কমিটির কড়া নির্দেশে কেউ তার খোঁজ-খবর নেয় নি।যারা আমানকে খুব পরহেজগার ছেলে বলে জানে,তারা কথাটা বিশ্বাস না করলেও কমিটির ভয়ে আমানের খোঁজ খবর নিতে পারে নি।
___কথাটা জহির উদ্দিনও বিশ্বাস করতে পারলেন না।ভাবলেন,আমানের জন্য ইমাম সাহেব ও মোয়াজ্জেমের ইনকাম অনেক কমে গেছে।গ্রামের লোকজন তাদের চেয়ে আমানকে বেশি ভক্তি শ্রদ্ধা করে।তাই তাকে তাড়াবার জন্য তার নামে দুর্নাম দিয়ে অপপ্রচায় করে মসজিদ কমিটির সদস্যদের মন জয় করেছে।এখন তার কি করা উচিত চিন্তা করতে করতে ঘরে ফিরে এলেন।
___দাদু মসজিদে নামায পড়তে যাওয়ার পর শ্রাবণী দাদির সঙ্গে নামায পড়ল।তারপর "মুসলিম পারিবারিক ও দাম্পত্য জীবন" পড়ে দাদিকে শোনাচ্ছিলো।দাদুকে মন ভার করে ফিরতে দেখে শ্রাবণী বই বন্ধ করে দাদির হাতে দিয়ে জিঙ্গেস করল,মন খারাপ কেন দাদু,আপনার অনুপস্থিতিতে গ্রামে তেমন কিছু ঘটেছে না কি?
___হ্যাঁ ঘটেছে বলে জহির উদ্দিন হাঁক দিলেন আফজাল,
___আফজাল চাচাকে নামায পড়ে ঘরে ঢুকতে দেখে কলকেই তামাক দিয়ে আগুন দিচ্ছিলো।চাচার হাঁক শুনে তাড়াতাড়ি কলকের আগুন নিভিয়ে ঘরে গেল।
___তাকে দেখে জহির উদ্দিন বলল,আমানের ব্যাপারে কিছু শুনেছিস?
___আফজাল বলল,যা শুনেছি বলতে পারব না।কেউ দুশমনি করে তার নামে আজেবাজে কথা বলছে
___তুই তাড়াতাড়ি আব্দুল খালেককে ডেকে নিয়ে আয়।বলবি এক্ষূনি তোর সঙ্গে আসতে
___জি আচ্ছা বলে আফজাল বেরিয়ে গেল
___কেউ আমানের সাথে দুশমনি করছে শুনে শ্রাবণী খুব আতঙ্কিত হল।আফজাল বেরিয়ে যাওয়ার পর দাদুকে জিঙ্গেস করল,আমানকে নিয়ে কি কোনো ঘটনা ঘটেছে?
___ও সব পরে শুনো।তারপর স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে বললেন,কুলসুমকে নিয়ে সদরের দিকে রুমটায় বিছানাপত্র ঠিক কর।আমান খুব অসুস্থ,তাকে এখানে নিয়ে আসতে হবে
দাদুর কথা শুনে শ্রাবণীর আতঙ্ক আরো বেড়ে গেল।দাদি কিছু বলার আগে বলে উঠল,আমানের কি হয়েছে?
___কি হয়েছে এখনো আমি সবটা জানি না।মসজিদে শুনলাম,আজ তিন চারদিন জ্বরে আমান শয্যাশায়ী।মসজিদ কমিটির হুকুমে কেউ তার খোঁজ খবর রাখে নি।
___কেন দাদু?
___সে কথা ওপাড়ার মজিদের কাছে শুনেছি।শোনা কথা যাচাই না করে বিশ্বাস করা বা অন্য কাউকে বলা ইসলামে নিষেধ।মসজিদ কমিটির সঙ্গে আলাপ না করে ও আমান সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত কিছুই বলা যাবে না।তারপর সদরে এসে আফজালের ফেরার অপেক্ষা করতে লাগলেন
___কিছুক্ষনের মধ্যে আফজালের সঙ্গে আব্দুল খালেক এসে সালাম বিনিময় করে বললেন,আপনি ঢাকা থেকে ফিরেই কেন ডেকেছেন বুঝতে পেরেছি
___জহির উদ্দিন বললেন,তাহলে আসল ঘটনাটা বলো
___খাদেমের নামে যে যাই বলুক,আমি এক সর্ষে পরিমাণও বিশ্বাস করি নি
___জহির উদ্দিন বললেন,ঠিক আছে,পরে তোমার সঙ্গে এ ব্যাপারে আলাপ করব।এখন কথা হল,আমি আমানকে ঘরে নিয়ে এসে চিকিত্সা করাব।সুস্থ হওয়ার পর মিটিং করে যা করার করব।আজ তিন চারদিন কেউ তার খোঁজ নেয় নি।ছেলেটা বেঁচে আছে না মরে গেছে,তাও কেউ জানে না।আমি এক্ষুণি ওকে ঘরে নিয়ে আসব।এতে তোমার কিছু বলার আছে?
___এতে আবার বলার কি আছে?আপনার আসার অপেক্ষায় ছিলাম।আজ না এলে কাল আমিই ওকে ঘরে এনে চিকিত্সা করাব ভেবেছিলাম।
___জহির উদ্দিন বললেন,তাহলে তুমি গিয়ে মফিজকে একটু পাঠিয়ে দাও।আফজাল ও মফিজ আমানকে ঘরে নিয়ে আসবে
___আব্দুল খালেক বললেন,আমি মফিজকে এখানে পাঠিয়ে দিয়ে রহিমকে দাভাঙ্গা পাঠাচ্ছি ডাক্তার আনার জন্য।কথা শেষ করে সে চলে গেল
.
জ্বরের ঘোরে আমান অঙ্গান হয়ে আজ তিন দিন বিছানায় পড়ে আছে।কিন্তু তার ঘরের সবকিছু এতটুকু এলোমেলো নেই,যেন এক্ষুণি কেউ গুছিয়েছে।মফিজ ও আফজালের সঙ্গে জহির উদ্দিনও এসেছেন।ঘরের পরিবেশ অন্য দুজনের চোখে না পড়লেও জহির উদ্দিনের চোখে পড়ল।হারিকেন টিম টিম করে জ্বলছে,একটা ভিজে গামছা বেড়ায় ঝুলছে।টেবিলের উপর এক জগ পানি।পাশে একটা কাচের গ্লাস।তার পাশে একটা বাটিতে বই চাপা।বইটা তুলে কি আছে দেখার ইচ্ছাটা দমন করে ওদেরকে বললেন,তোরা দুজনে ওকে পাঁজাকোলা করে সাবধানে নিয়ে চল
.
প্রফেসর সাহেব খাদেম আমানকে ঘরে নিয়ে গিয়ে চিকিত্সা করাচ্ছেন,পরের দিনে গ্রামের লোকজন জেনে দু দলে ভাগ হয়ে গেল।আব্দুল খালেক ছাড়া কমিটির সদস্যরা মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জিন এবং কিছু লোক একদল আর আব্দুল খালেক ও অন্য সবাই যারা ঘটনাটা বিশ্বাস করে না তারা একদল।কমিটির সেক্রেটারি একদিন মসজিদে জহির উদ্দিনকে জিঙ্গেস করলেন,আপনি কি আমানের ব্যাপারে আমাদের সিদ্ধান্তের কথা জেনেও তাকে ঘরে নিয়ে গিয়ে চিকিত্সা করাচ্ছেন?
__হ্যাঁ একজন অসহায় মুমূর্ষকে সাহায্য করছি।এখন আর কিছু বলবেন না।আমান সুস্থ হওয়ার পর যা বলার বলবেন
___দু দিন পর আমানের জ্বর কমার সাথে সাথে ঙ্গান ফিরল।চোখ খুলে শ্রাবণীকে তার কপালে হাত রেখে বসে থাকতে দেখে একদৃষ্টে তার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল।কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তার চোখ দুটো পানিতে ভলে উঠল
___আমানের ঙ্গান ফিরেছে ও চোখে পানি দেখে শ্রাবণীরও চোখে পানি এসে গেল।তাড়াতাড়ি নিজের চোখ মুছে আমানের চোখ মুছে দেয়ার সময় বলল,এখন কেমন বোধ করছেন?
___আমান কোনো কথা না বলে একইভাবে তাকিয়ে রইল,,,,,,,
(চলবে)
#শ্রাবণী
#৩২তম পর্ব
_শেষ ৫ পর্ব (৩১-৩৫)
---
-শ্রাবণী আর কিছু না বলে দাদুর কাছে গিয়ে বলল,আমানের ঙ্গান ফিরেছে
.
ডাক্তার প্রতিদিন দু বার আসেন।সকালে একবার এসেছে, এখন বেলা তিনটা আর একবার আসবেন পাঁচটায়।তিনি বলেছেন,আমানের ঙ্গান ফিরলেই তাকে খবর দিতে।তাই আমানের ঙ্গান ফিরেছে শুনে জহির উদ্দিন আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে ডাক্তারকে খবর দেয়ার জন্য আফজালকে পাঠালেন।তারপর আমানের কাছে এলেন
.
আমান ঙ্গান ফিরে পেয়ে শ্রাবণীকে দেখে যেমন অবাক হয়েছে,তেমনি তার দুর্নামের কথা শুনে শ্রাবণী কি মনে করেছে ভেবে শঙ্কিত হয়েছে।তাই তার প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে মুখের দিকে তাকিয়ে ঘরের পরিবেশ দেখে বুঝতে পারল,ওনারা ঢাকা থেকে ফিরে এসে আমানকে ঘরে নিয়ে এসেছেন।তারপর চোখ বন্ধা করে ভাবতে লাগল,শ্রাবণী বা প্রফেসর দাদু জিঙ্গেস করলে কি উত্তর দেবে
-জহির উদ্দিন এসে কপালে হাত রেখে নাম ধরে ডাকলেন।আমান চোখ খুলে তাকাতে জিঙ্গেস করল,এখন কেমন লাগছে?
-খুব দুর্বল লাগছে
-তাতো লাগবেই ভাই,আজ তিন চারদিন তোমার পেটে একটা দানাও পড়ে নি।এমনকি পানি পর্যন্ত খাও নি।আল্লাহর অশেষ মেহেরবানী আমরা এসে পড়েছিলাম।নচেত্ কি যে হতো আল্লাহ ভালো জানেন।এসব বলার পর নাতনীকে বললেন একগ্লাস গরম দুধ এনে খাওয়াতে
-শ্রাবণী দুধ নিয়ে ফিরে এলে বললেন,চামচে করে তুমি খাইয়ে দাও,আমি দেখি ডাক্তারকে নিয়ে আফজাল ফিরল কিনা।কথা শেষ করে জহির উদ্দিন বেরিয়ে গেল
-শ্রাবণী চামচে করে দুধ খাইয়ে নিজের ওড়নায় মুখ মুছে দেয়ার সময় তার চোখে পানি দেখে বলল,এত ভেঙে পড়ছেন কেন?দেখবেন আল্লাহর রহমতে আপনি অল্পদিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে যাবেন
-আমান কিছু না বলে চুপ করে রইল।সপ্তাহখানেকের মধ্যে আমান কিছুটা সুস্থ হয়ে ওঠার পর একদিন জহির উদ্দিন জিঙ্গেস করলেন,যে কারণে কমিটির সদস্যরা তোমাকে বরখাস্ত করেছে ,তা বলতো ভাই শুনি
-দাদুকে আমানের রুমে যেতে দেখে শ্রাবণীও এসেছিল,দরজার কাছে এসে দাদুর কথা শুনে পর্দার আড়ালে দাঁড়িয়ে পড়ল আমান কি উত্তর দেয় শোনার জন্য
-উত্তর দিতে না পেরে আমান চুপ করে রইল
-অল্পক্ষন পর জহির উদ্দিন বললেন,চুপ করে আছো কেন?
-মাফ করুন,এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারব না
-কেন পারবে না?সত্য কথা বলতে তোমার বাধা কোথায়?এ ব্যাপারে চুপ করে থাকা মানে দোষ স্বীকার করে নেয়া
-তবুও বলতে পারব না
-কমিটির নিষেধ জেনেও আমি তোমাকে ঘরে এনে চিকিত্সা করাচ্ছি,তাই তারা আমার ওপর খুব অসন্তুষ্ট।সেক্রেটারি তো একদিন আমাকে কৈফিয়ত চেয়েছিলেন।বলেছি,আমান সুস্থ হওয়ার পর যা বলার বলব।তুমি যদি সত্য ঘটনা না বলো তাহলে তাদেরকে কি বলব?
-আপনারা আমাকে একরকম মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়েছেন।সেজন্য আমি চিরঋণী এবং আমার কারণে অপমান হচ্ছেন জেনে খুবই দুঃখিত,কিন্তু তবুও সত্য ঘটনা বলতে পারব না।তারপর মুখ ঢেকে ফুঁপিয়ে উঠে বলল,মনে হয় এটাই আমার তকদ্বীর।তাই ভেবেছি একটু সুস্থ হলে এখান থেকে চলে যাব।প্লিজ দাদু এ ব্যাপারে আমাকে আর কিছু বলবেন না।কথা শেষ করে আমান আবার ফুঁপিয়ে উঠল
-তার কথা শুনে ও তাকে কাঁদতে দেখে জহির উদ্দিন ভাবলেন,তাহলে কি সেই ফকিরটা বোরখা পরে আসত?সেই তাকে সত্য ঘটনা বলতে নিষেধ করেছে।হঠাত্ আমানকে নিয়ে আসার সময় তার ঘরের পরিবেশের কথা মনে পড়তে অনুমানটাই ঠিক বলে মনে হল।তারপর চিন্তিত মনে রুম থেকে বেরিয়ে এল
-শ্রাবণী এতক্ষন পর্দার আড়াল থেকে তাদের কথা শুনছিল।দাদুকে বেরিয়ে আসতে দেখে দ্রুত সেখান থেকে সরে গেল
-ঐদিন একসময় শ্রাবণী দাদুকে বলল,আমান তো কিছুটা সুস্থ,এখন তার ঘটনাটা বলা যাবে না?
-জহির উদ্দিন ঘটনাটা বলে বলল,মেয়েটা কে এবং দশ-বার দিন কোথায় গিয়েছিল বলে নি।তাই কমিটির সদস্যরা তাকে বরখাস্ত করেছে।আমান পরেরদিন চলে যাওয়ার কথা বললেও ঐদিন রাত থেকে জ্বরে অঙ্গান হয়ে গিয়েছিল বলে যেতে পারে নি
-আমান চরিত্রহীন একথা বিশ্বাস করি না
-আমিও করি না।কিন্তু ওতো মুখ খুলছে না।এত করে বললাম,মুখ না খুললে সবাই তোমাকে দোষী ভাববে,তবু বলল না
-আমি চেষ্টা করে দেখব?
-দেখতে পার,তবে মনে হয় কাজ হবে না
-তবু চেষ্টা করতে দোষ কি?
-আজ নয়,দু চারদিন পরে জানার চেষ্টা করো
.
পরেরদিন ছেলের চিঠি পেয়ে জানতে পারলেন,আমানের মামা ভাগনার জন্য বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে।আপনার বৌমা রাজি নয়।বলেছে,সে গ্রামের মসজিদের খাদেম তার সঙ্গে কিছুতেই শ্রাবণীর বিয়ে হতে পারে না।সামসুদ্দিনেরও মত নেই।এখনও আমানের মামাকে কিছু বলে নি।বলেছে মা বাবা ও শ্রাবণীর মতামত নিয়ে জানাবে
-চিঠির কথা স্ত্রীকে জানিয়ে জহির উদ্দিন জিঙ্গেস করলেন,তোমার কি মত?
-আমার নিজস্ব কোনো মত নেই।তোমার মতই আমার মত
-আমার মতামত তো আগেই তোমাকে বলেছি।কিন্তু আমান যে সমস্যায় ফেলেছে,তার সমাধানের পথ দেখতে পাচ্ছি না
-আমান মুখ না খুললে কিছুতেই সমস্যার সমাধান হবে না।তাছাড়া ভার্সিটির ঘটনার পর থেকে শ্রাবণী এমনিই ছেলেদের ওপর ক্ষ্যাপা,এখন যদি আমানেল ঘটনা শুনে,তাহলে আরো ক্ষেপে যাবে।এমনকি হয়তো আর বিয়েই করতে চাইবে না
-হ্যাঁ তোমার কথা অবশ্য ঠিক।তবে শ্রাবণীকে আমি আমানের দুর্ঘটনার কথা বলেছি।সে বিশ্বাস করেনি,বলেছে যেমন করে হোক আমানের কাছ থেকে আসল ঘটনা বের করবেই
-তুমি কি মনে কর,শ্রাবণীকে আসল ঘটনা আমান বলবে?তাছাড়া কথায় আছে,যা রটে তার কিছু না কিছু ঘটে।আমার মনে হচ্ছে,ঘটনা কিছু একটা ঘটেছে,তা নাহলে আমান মুখ খুলছে না কেন?
-আমার কিন্তু মনে হচ্ছে ঘটনা একটা ঘটেছে সত্য,তবে তোমার মতো সবাই যা ভাবছে তা নয়
-তাহলে সেই ঘটনাটা বল তো শুনি
-যে ফকিয়ের দোয়ায় আমানের জন্ম এবং যে ওকে সন্ত্রীদের হাত থেকে রক্ষা করেছিল,সেই ফকির ওর কাছে এসেছিল এবং বিশেষ কোনো কারণে দশদিনের জন্য নিয়ে গিয়েছিল।আর সেই-ই কথা জানাতে নিষেধ করেছে
-কিন্তু লোকজন তো বলেছে,বোরখা পরা মেয়েকে তারা আমানের ঘরে ঢুকতে দেখেছে
-মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জিন যে একবার আমানকে এখান থেকে তাড়াবার চক্রান্ত করেছিল,সে কথা তোমাকে একদিন বলেছিলাম।
আমার দৃঢ়বিশ্বাস আমরা ঢাকা যাওয়ার পর ফকিরকে অনেক রাতে আমানের ঘরে ঢুকতে দেখে ওকে তাড়াবার চক্রান্ত আবার করেছে এবং মিথ্যে করে বোরখাপরা মেয়ের কথা বলে দুর্নাম ছড়াচ্ছে,,,,,,
(চলবে)
#শ্রাবণী
#৩৩তম পর্ব
__শেষ ৫ পর্ব (৩১-৩৫)
.
-পরের দিন জহির উদ্দিন শ্রাবণীকে বললেন,একটা কথা তোমার জানা দরকার
-কি কথা দাদু?
-তোমার বাবার চিঠিতে আমানের সবকিছু জানার পল একদিন আমানকে জিঙ্গেস করেছিলাম,সন্ত্রাসীদের ভয়ে কতদিন তুমি এখানে থাকবে?
আমান বলল,আপনার ধারনা ভুল।তারপর আমান প্ল্যান প্রোগ্রাম ও তার ভালবাসার কথা যা বলেছিল সব বললেন
-শ্রাবণী এত আনন্দিত হল যে,কয়েক সেকেন্ড কথা বলতে পারল না।তারপর সামলে নিয়ে বলল,তাই না কি?সত্যি বলছেন?
-হ্যাঁ তাই এবং সত্যি বলছি
-কথাটা জানিয়ে খুব ভালো করেছেন।ওর মুখ থেকে আসল ঘটনা বের করার জন্য এটা খুব মূল্যবান পয়েন্ট
-জহির উদ্দিন মৃদু হেসে বললেন,তাই তো বললাম
.
আজ তিনদিন শ্রাবণীর মনে এতটুকু শান্তি নেই।একটা কথা সবসময় মাথায় ঘুরছে,ঘটনা যদি সত্য হয়,তাহলে আমানও কি আর দশটা ছেলের মতো চরিত্রহীন?কথাটা ভাবলেও বিশ্বাস করতে পারছে না।আবার ভাবছে ঘটনা মিথ্যা হলে আমান মুখ খুলছে না কেন?
-
দাদু দু চারদিন অপেক্ষা করতে বলেছেন তাই আসল ঘটনা জানার জন্য মনে খুব অস্থিরতা বোধ করলেও তাকে জিঙ্গেস করতে পারছে না।দু দিন ধৈর্য ধরতে পারলেও তিনদিনের দিন পারল না।ফজরের নামায পড়ে দাদির কাছে কিছুক্ষন কায়দা (ছোট আরবি) পড়ল।তারপর নিজের রুমে এসে একটা হাদিসের বই নিয়ে বসল।কিন্তু বেশিক্ষন পড়তে পারল না।আমানের কাছে যাওয়ার জন্য মন বারবার তাগিদ দিচ্ছে।শেষে হাদিসটা রেখে চিন্তা করল,সুস্থ হওয়ার পরও আমান মসজিদে নামায পড়তে যায় না,ঘরে পড়ে।ফজরের নামায পড়ে ঘুমাচ্ছে না কুরআন পড়ছে দেখার জন্য তার রুমের দরজার কাছে এসে পর্দা ফাঁক করে দেখল,কি যেন লিখছে।কি লিখছে জানার জন্য পা টিপে টিপে এসে তার পেছনে দাঁড়িয়ে লেখাটা পড়ার চেষ্টা করল
-আমান লিখতে লিখতেই বলল,আজ হঠাত্ এ সময়ে?তাছাড়া কারো রুমে আসতে হলে বাইরে থেকে অনুমতি নিতে হয়।যাক এসেই যখন পড়েছেন,ঐ চেয়ারটাতে এক মিনিট বসুন।লেখাটা শেষ করে কথা বলব।
তারপর লেখা শেষ করে তার মুখের দিকে তাকিয়ে বলল,এবার বলুন
-শ্রাবণী বলল,খুব অবাক হচ্ছি,আপনি তো লিখছিলেন,আমি যে এসেছি জানলেন কি করে?
-আমার ভালবাসার গন্ধ জানিয়েছে।আপনি কাছে এলে সবসময় সেই গন্ধ পাই
-তাই যদি হয় তাহলে সেই ভালবাসার কসম দিয়ে বলছি,এখানকার লোকজন যে ঘটনার জন্য আপনাকে এখান থেকে চলে যেতে বলেছে,সেই ঘটনা জানতে চাই
-আমান মৃদু হেসে বলল,আল্লাহর নামে কসম ছাড়া কোনো জিনিসের কসম খেতে নেই এবং কেউ খেলেও তা কার্যকর না করলেও কোনো গুনাহ নেই।আর আল্লাহর নামে কসম করে ভঙ্গ করলে কাফফারা দিতে হয়।তাই সবসময় সত্য কসম করতে হয়।মিথ্যা কসম করলে কঠিন গুনাহ হয়
-এসব আমি জানতাম না।বলে ভালই করলেন।এবার যা জানতে চাইলাম বলুন
-আমান তার কথার উত্তর না দিয়ে বলল,কিছুদিন আগে বলেছিলাম,আমি আপনাকে প্রথম দেখার পর থেকে আজও ভালবাসি এবং আমৃত্যু সেই ভালবাসা অটুট থাকবে।সেদিন কিছু না বলে চলে গিয়েছিলেন,আজ শুনতে চাই
-কথাটা শুনে শ্রাবণী অনেকক্ষণ মাথা নিচু করে রইল
-আমান বলল,এত কি ভাবছেন,উত্তরটা হ্যাঁ-না যাই হোক না কেন আপনি নিশ্চিন্তে বলুন,যে কোনো একটা শোনার জন্য আমি প্রস্তুত।এই কথা বলার পরও তাকে চুপ করে থাকতে দেখে খুব মোলায়েম সুরে বলল,শ্রাবণী মুখ তুলে আমার দিকে তাকাও তো
-শ্রাবণী আমানকে গভীরভাবে ভালবেসে ফেললেও এবং আমানও যে তাকে গভীরভাবে ভালবাসে তা জানলেও অতীত জীবনের দুর্ঘটনার কথা ভেবে এতক্ষন মাথা নিচু করে চোখের পানি ফেলছিল।আমান খুব মোলায়েম সুরে তার নাম ধরে ডাকতে তার তনুমনুতে মিষ্টি মধুর শিহরণ বইতে শুরু করল।তখন তার মন বলে উঠল.দুর্ঘটনার কথাটা জানাবার এটাই উপযুক্ত সময়।মনের তাগিদে মাথা তুলে তাকাল ঠিক কিন্তু কিছু বলতে পারল না।লজ্জা ও ভয় যেন তার জিহ্বাকে ভেতরের দিকে টেনে রেখেছে
-তার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে দেখে আমান বলল,রাসেল তোমার সাথে বেঈমানি করলেও ওয়াদা করছি,আমি করব না
-শ্রাবণী আর চুপ থাকতে পারল না।চোখ-মুখ মুছে বলল,আমি সেজন্য কাঁদছি না,অন্য কারন আছে
-সেই কারণটা আমি জানি।অনুমতি পেলে বলতে পারি
-শ্রাবণী ভয়ে চমকে উঠল.সেই সাথে লজ্জা পেয়ে আবার মুখ নিচু করে নিল
-আমান তার অবস্থা বুঝতে পেরে বলল,এত ভয় বা লজ্জা পাচ্ছ কেন?যে দুর্ঘটনা ঘটেছে,তার চেয়ে যদি আরো বেশি কিছু ঘটত,তবু তোমার প্রতি আমার ভালবাসা এতটুকু কমতো না।তাছাড়া যাই ঘটুক না কেন,তাতে তো তোমার সম্মতি ছিল না।বরং প্রাণপণে বাধা দিয়েছ এবং আল্লাহ তোমাকে মেহেরবাণী করে নর-পশুটার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার বুদ্ধি দিয়েছিলেন
-তার কথা শুনে শ্রাবণী যেমন খুব লজ্জা পেল,তেমনি অবাক হল এই ভেবে যে,দুর্ঘটনার সময় সেখানে কেউ ছিল না।তবু আমান জানল কি করে?
কি করবে না করবে ভেবে ঠিক করতে না পেরে মুখ নিচু করে রইল
-অল্পক্ষন অপেক্ষা করে আমান আবার বলল,তোমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে যা কিছু ঘটেছে,তাতে নিজেকে পাপী বা অপবিত্র ভাবার কোনো কারণ নেই ।এতকিছু বলার পরও চুপ করে থাকবে?আমার কথার উত্তর দেবে না?
-শ্রাবণী তার মহত্ত্বের পরিচয় পেয়ে নিজেকে সংযত রাখতে পারল না।মুখ তুলে চোখের পানি ফেলতে ফেলতে ভেজা গলায় বলল,ঐ দুর্ঘটনার পর সমস্ত পুরুষ জাতের ওপর আমি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছি।এখন আপনার কথা-
-তাকে থামিয়ে দিয়ে আমান বলল,আমি তোমাকে তুমি করে বলছি.আর তুমি কিনা আমাকে আপনি করে বলছ?এটা কি ঠিক হচ্ছে?
-শ্রাবণী কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থেকে বলল,এখন তোমার কথা শুনে বুঝতে পারলাম আমার ধারণা ভুল।তবে তোমার সঙ্গে পরিচয় না হলে ভুল ধারণাটা চিরকাল থেক যেত
-তাহলে এবার আমার কথার উত্তর দাও
-এত কিছু বলার পরও উত্তর বুঝতে পার নি?
-পেরেছি,তবু তোমার মুখে শুনতে চাই
-এত জান আর এটা জান না,মেয়েদের বুক ফাটে তো মুখ ফুটে না?
-ওসব আগের যুগের কথা।এ যুগের মেয়েরা প্রেম ভালবাসার ব্যাপারে ছেলেদের থেকে বেশি এডভান্স।আগের যুগের মেয়েদের মতো বুক ফাটে না,মুখই ফুটে।আমি তোমার মুখ ফোটার শব্দ শুনতে চাই,,,,,,,,,,,
____(চলবে)
#শ্রাবণী
#৩৪তম পর্ব
___শেষ ৫ পর্ব(৩১-৩৫)
-
--------রোমান্টিক----------------------------------------------------------
-শ্রাবণী বলল, ভালবাসা মনের ব্যাপার,মুখে বললে ভালবাসাকে অপমান করা হয়
-মনের কথা প্রকাশ করার জন্য আল্লাহ মুখ দিয়েছেন
-আপনার সঙ্গে স্যরি,তোমার সঙ্গে কথায় পারব না।হার মানছি।
তোমাকে অফুরন্ত ভালবাসি,ভালবাসি,ভালবাসি বলে শ্রাবণী হেসে ফেলে বলল,উত্তর পেয়েছ তো?
-তার বলার ভঙ্গিতে আমানও হেসে ফেলে বলল,নিশ্চয় পেয়েছি,পেয়েছি,পেয়েছি
-এবার আমি একটা প্রশ্ন করব,উত্তর দেবে তো?
-আমি জানি তুমি কি প্রশ্ন করবে এবং ঐ প্রশ্নের উত্তর দেয়ার পর আরো দুটো করবে
-কই বল তো দেখি?
-বোরখা পরা মেয়েটি কে?কেন সে গভীর রাতে আমার কাছে আসত?তার সঙ্গে দশদিন কোথায় ছিলাম?
-তার কথা শুনে শ্রাবণী এত অবাক হল যে,কিছুক্ষণ বাকশক্তি হারিয়ে একদৃষ্টে তার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল
-কী,ঠিক বলি নি?
-খুব আশ্চর্য হচ্ছি তুমি বললে কি করে ভেবে পাচ্ছি না
-আমার ভালবাসা আমাকে জানিয়েছে
-ভালবাসা হল বাংলা ভাষার একটা শব্দ,তার মুখও নেই,ভাষাও নেই।সে বলবে কি করে?
-একটু আগে তুমিই তো বললে,ভালবাসা মনের ব্যাপার?মনের মুখ না থাকলেও মনের কথা প্রকাশ করে মনের মালিকের মুখ থাকে
-সত্যিই,বাংলা ভাষার ওপর তোমার খুব দখল।অথচ তুমি আরবি ও ইংলিশে পড়াশোনা করেছ
-সায়েন্সে মাস্টার্স করলেও বাংলা ভাষার ওপর দখল তোমারও কম নয়
-থাক ওসব কথা।প্রশ্ন তিনটের উত্তর দাও
-তার আগে আমার দু একটা প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে
-বল,তুমি কি জানতে চাও
-তুমি আমাকে কতটা ভালবাস?
-কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থেকে শ্রাবণী অশ্রুভরা চোখে বলল,ভালবাসার পরিমাণ বা পরিমাপ আছে কি না জানি না।যদি থাকে,তাহলে সেসব পূর্ণ হয়ে উপচ পঢছে
-ভালবাসার মধ্যে বিশ্বাস এমনভাবে জড়িত,যেমন দেহের সঙ্গে আত্মার সম্পর্ক।
একটাকে ছাড়া অন্যটা ভাবাই যায় না।
আমার প্রতি সেই বিশ্বাস তোমার কতটা আছে?
-যে বিশ্বাসের কোনো সীমাপরিসীমা নেই
-তাহলে বোরখাপরা মেয়ের কথা জিঙ্গেস করছ কেন?
-তোমার প্রতি ভালবাসা ও বিশ্বাস আরো বাড়াবার জন্য ও মনের শান্তির জন্য
-তুমি কিন্তু একটা প্রশ্নের উত্তর চেয়েছ।তাই তিনটের যেকোন একটার উত্তর দেবো।বল কোনটার উত্তর পেতে চাও
-যদি বলি তিনটেরই চাই?
-এ কথা যে তুমি বলবে,তা আগেই জানতাম
-তবু জিঙ্গেস করলে কেন?
-তোমার বুদ্ধির পরীক্ষা করলাম
-ফলাফল?
-মোটামুটি
-শ্রাবণী হেসে ফেলে বলল,
কথা না বাড়িয়ে প্রশ্ন তিনটের উত্তর দাও
-তিনটিরই দেব.তবে ওয়াদা করতে হবে কাউকেই বলবে না।
এমনকি দাদুকেও না।কারণ তিনিও জিঙ্গেস করেছিলেন,বলি নি
-ঠিক আছে করলাম
-যার দোয়ার বরকতে আল্লাহ আমাকে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন এবং যার সাহায্যে আল্লাহ আমাকে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে বাঁচিয়েছেন তিনি এখানে আমার কাছে যখন আসেন তখন বোরখা পরে আসেন।
মনে হয়,বাকি দুটো প্রশ্নের উত্তরও পেয়ে গেছ?
-পেরেছি,তবে ওনার সঙ্গে দশদিন কোথায় ছিলে জানতে খুব ইচ্ছা করছে
-জায়গাটির নাম বলতে পারব না।তবে একটা গভীর জঙ্গলে ছিলাম।আর কোন প্রশ্ন নয়
-প্লিজ আর একটা।সেখানে কেন নিয়ে গিয়েছিলেন?
-আমান মৃদু হেসে বলল,এটাই কিন্তু শেষ।তারপর বলল.সন্ত্রাসীদের হাত থেক রক্ষা করে আমাকে প্রায় দু বছর ঐ একই জঙ্গলে রাখেন এবং দুষ্টু জিনদের হাত থেকে মানুষকে রক্ষা করার কঠোর সাধনা করান।তারপর এখানে নিয়ে এসে মসজিদের খাদেমগিরি করতে বলে বললেন,
ভেব না সন্ত্রাসীদের কারনে তোমাকে এখানে থাকতে বললাম।তারা সন্ত্রাস করতে গিয়ে অনেক আগেই মারা গেছে।জিঙ্গেস করলাম,
তাহলে এখানে খাদেমগিরি করে থাকতে বলছেন কেন?এই দু বছর আমার জন্য মা কত কাঁদছেন।বললেন,
তোমার মধ্যে ধনের ও শিক্ষার অহংকার এবং ভোগবিলাসের স্পৃহা রয়েছে।তা দূর না করলে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সঃ) কে চিনবে না।তাই এই কাজ করে এখানে থাকতে হবে।কতদিন থাকতে হবে পরে জানাব।
আর মাকে চিঠি দিয়ে তার দুশ্চিন্তা দূর করবে।তারপর এখানে মাঝে মধ্যে বোরখা পরে আসতেন গভীর রাতে।এবারে এসে আমাকে নিয়ে গিয়ে বললেন,
আমি আর তোমার কাছে যাব না।তাই এমন কিছু জিনিস তোমাকে শেখাব,যার দ্বারা তুমি ইহকালে ও পরকালে শান্তি পাবে।
দশদিন সেইসব শিক্ষা দিয়ে এখানে নিয়ে এসে চলে যাওয়ার সময় বললেন,আগে আমার কথা যাকে যা বলেছ,এরপর উম্মে আফিফাকে ছাড়া আর কাউকে কিছু বলবে না
-শ্রাবণী জিঙ্গেস করল,উম্মে আফিফা আবার কে?
-আমান একটু গম্ভীর স্বরে বলল,
আর কোন প্রশ্ন করবে না বলেছ,কথাটা মনে নেই?
-মনে থাকলে প্রশ্ন করতাম না
-মনে থাকে না কেন?
-সেটা মনের ব্যাপার,আমি বলব কি করে?
তোমার ভালবাসা আমার মনকে উন্মাদ করে দিয়েছে।তাই সে শান্তি পাওয়ার জন্য একের পর এক প্রশ্ন করে চলেছে।এতে আমার দোষ কোথায়?
এত কথা না বলে আগে বল,উম্মে আফিফাটা আবার কে?
-তাহলে তো বলতেই হয়।উম্মে আফিফা আমার স্ত্রীর নাম
-শ্রাবণী চমকে উঠে অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে বলল,কি বললে____________?
(চলবে)
#শ্রাবণী
#৩৫_তম পর্ব এবং শেষ পর্ব------------------------------------------------
____
-আমান মৃদু হেসে বলল,এতটুকুতেই বিশ্বাস হারিয়ে ফেলল?
আমি যাকে বিয়ে করব তার নাম উম্মে আফিফা হবে।তাই ভাবছি দাদুকে বলে একটা খাসি জবেহ করে আকিকা দিয়ে আমার হবু স্ত্রীর শ্রাবণী নাম বাতিল করে উম্মে আফিফা রাখব।কারণ শ্রাবণী কোনো মুসলিম মেয়ের নাম রাখা উচিত নয়
-ছলছল চোখে শ্রাবণী বলল,তোমাকে সন্দেহ করে খুব অন্যায় করেছি,মাফ করে দাও,
.
উম্মে আফিফা নামের অর্থ কি?
-যে আল্লাহকে পাওয়ার জন্য সাধনা করে,সাধ্বী।আর উম্মের অর্থ মা
-একটা কথা তোমাকে বলা হয় নি,
-কি কথা?
-কাল এশার পর মসজিদে মিটিং হবে,কেন মিটিং হবে নিশ্চয় বুঝতে পারছ?
-হুম,দাদু আমাকে ঘরে নিয়ে এসে চিকিত্সা করিয়েছেন সে ব্যাপারে কৈফিয়ত চাইবে
-দাদু সহজ সরল বৃদ্ধ মানুষ।কি বলতে কি বলবে,আমার ভয় করছে তিনি যেন অপমানিত না হন
-উনি যতই সহজ সরল বৃদ্ধ হোক না কেন,দেখে নিও কমিটির সদস্যরা বরং দাদুর কথা শুনে লজ্জা পাবেন
তারপর আমান কিছুক্ষন চুপ করে থেকে বলল,আমি কাল ফজরের পর ঢাকা চলে যাব।আল্লাহর যখন মর্জি হবে তখন আসব
-মানে,তুমি মিটিং এর আগে চলে যেতে চাচ্ছ?
-হ্যাঁ,এতে দাদুর কৈফিয়ত দিতে সুবিধে হবে
-দাদুকে বলে যাবে না?
-নিশ্চয়ই।অতটা অকৃতঙ্গ ভেব না
-আহত স্বরে শ্রাবণী বলল,আমি ওভাবে কথাটা বলি নি
-তা আমি জানি
-তবু ওরকমভাবে বললে কেন?
-তোমার মন শক্ত না নরম তা জানার জন্য
-কি জানলে?
-নরম তবে তরল নয়,কাদা কাদা
-শ্রাবণী হেসে উঠে বলল,আসলেই তুমি না
-কি?
-আমার হবু ,না থাক এখন বলব না
-তাহলে কখন বলবে?
-বিয়ের পর
-অপেক্ষায় রাখছ?
-হুম,এখন বল,ফিরবে কবে?
-বিয়ে করে বৌ সঙ্গে নিয়ে ফিরব
-বিয়ের কথা শুনে শ্রাবণী লজ্জা পেলেও বলল,বিয়েটা কতদিনে করছ?
-যতদূর মনে হয়,এতদিনে মেয়ের বাসায় প্রস্তাব চলে গেছে,
কিন্তু মেয়ের মা-বাবা রাজি হবেন বলে মনে হয় না।তাদের রাজি করাতে কিছুদিন সময় লাগবে।তবে মেয়ে রাজি থাকলে অল্পকয়েকদিনে বিয়ে করে ফেলব।ঐ যে কথায় আছে না,
মিয়া বিবি রাজি তো কেয়া কারেগা কাজি
-শ্রাবণী হেসে উঠে বলল,মাদরাসা পড়ুয়া ছেলেরাও যে,সব বিষয়ে এত জিনিয়াস হয়,তা জানতাম না
-কেন?
তাদেরকে কি আল্লাহ স্কুল,ভার্সিটি পড়ুয়া ছেলেদের মতো হাড়গোড়,মন-মানসিকতা দিয়ে সৃষ্টি করেন নি?
না আলাদা কিছু দিয়ে সৃষ্টি করেছেন?
ভাবতেই অবাক লাগে,স্কুল,কলেজ ও ভার্সিটি পড়ুয়া ছেলেরা সন্ত্রাসী,খুন,রাহাজানি ও ধর্ষণ করলে সমাজে যতটা সমালোচনা হয়,
মাদরাসা পড়ুয়া ছেলেদের কেউ ঐরকম কিছু করলে সমাজের এক শ্রেণির মানুষ তাদের থেকে অনেক বেশি সমালোচনা করে।শুধু তাই নয়,ধর্মের বিরূপ সমালোচনাও করে।সব মানুষই যে একই উপাদানে সৃষ্টি সে কথা তারা ভেবে দেখে না।থার হিসেব করেও দেখে না,
স্কুল,কলেজ ও ভার্সিটির ছেলেদের চেয়ে মাদরাসা পড়ুয়া ছেলেরা কত কমসংখ্যক ঐসব গর্হিত কাজ করে
-শ্রাবণী বলল,সত্যিই তোমার তুলনা শুধু তুমি।
আমি তো কোন ছার,শত শত মেয়েরাও তোমার সঙ্গে কথায় পারবে না।
ওসব কথা বাদ দিয়ে বল,
মা-বাবা রাজি হবে না তুমি জানলে কি করে?
-আমারও তো মনে হচ্ছে তুমি আমায় থেকে অনেক বেশি জিনিয়াস।আমি তো কোন ছার,শত শত ছেলে হিমসিম খেয়ে যাবে তোমার প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে
-আমি জিনিয়াস না হাতি।জিনিয়াস হলে এত প্রশ্ন করতাম নাকি?
ধুর,তুমি সব সময় এক কথা থেকে অন্য কথায় চলে যাও।যা জানতে চাইলাম বল
-তুমি শহরের ধনী লোকের শিক্ষিত মেয়ে।তোমার মা-বাবার মান-সম্মান আছে।তারা কি মেয়েকে একজন খাদেমের সঙ্গে বিয়ে দেবেন?না দেয়াও উচিত
-প্রথমে রাজি না হলেও পরে যখন তোমার সব জানতে পারবে তখন রাজি হতে বাধ্য হবে
-তাই তো বললাম,বিয়ে করতে দেরি হবে।
তবে মেয়ে রাজি থাকলে তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে
-শ্রাবণী হেসে বলল,শুধু মেয়ে রাজি নয়,মেয়ের দাদা-দাদি তোমাকে নাতজামাই করার জন্য দুই পায়ে খাড়া।তোমার যখনই ইচ্ছা তখনই বিয়ে করতে পার
-আমান কিছু বলতে যাচ্ছিল,আফজালকে নাস্তা নিয়ে ঢুকতে দেখে থেমে গেল।তারপর ঘড়ি দেখে বলল,তুমি ছয়টার সময় এসেছিলে,এখন দশটা বাজে।মনে হচ্ছে চার ঘন্টা সময় স্বপ্নের মতো কেটে গেল
-হুম,ঠিক বলেছ।আমারও তাই মনে হচ্ছে
-আফজাল নাস্তার প্লেট রেখে চলে যাওয়ার সময় বলল,আপাকে দাদি নাস্তা করতে ডাকছে
-শ্রাবণী আফজালকে বলল,তুমি যাও আমি আসছি।আফজাল যাওয়ার পর আমানকে বলল,মেয়ের মত পাওয়ার পর কি সিদ্ধান্ত নিলে?
-জানতে খুব ইচ্ছা করছে বুঝি?
-করছে বলেই তো জিঙ্গাস করলাম
-কাল মায়ের চিঠি পেয়ে জানতে পারলাম,মেয়ের দাদু বাসায় গিয়ে আমার সঙ্গে তার নাতনীর বিয়ে দেয়ার কথা বলেছেন এবং নাতনীকে এনে মাকে দেখিয়েছেনও।আরো বলেছেন,মেয়ের বাবা-মা রাজি না থাকলেও তিনি এই কাজ করবেন।তাই মা আমাকে তাড়াতাড়ি যেতে বলেছে এবং বিয়ের মার্কেটিং করে মামাসহ আমাকে নিয়ে এখানে আসবেন ছেলের বিয়ে দেয়ার জন্য
-আমানের রুমের সামনের বারান্দায় বেতের চেয়ার টেবিলে বসে জহির উদ্দিন প্রতিদিন মর্নিংওয়াক করে এসে রেস্ট নেন এবং সেই সঙ্গে খবরের কাগজ পড়েন।আজ ফিরে আসার আগে আমানের রুমে শ্রাবণী গেছে।তাই খবরের কাগজ পড়ার সময় আমানের রুমে নাতনীর গলা পেয়ে কাগজের দিকে চোখ রেখে কান পেতে এতক্ষন তাদের কথাবার্তা শুনছিল।আমান যখন বলল,মা মামাসহ তাকে নিয়ে ছেলের বিয়ে দেয়ার জন্য আসবে তখন রুমে ঢুকে আমানকে উদ্দেশ্য করে বলল,আরে ভাই,এই সুখবরটা তো তুমি আগে আমাকে জানাবে।মা আসার আগে নাতনীর বিয়ের প্রস্তুতি আমাকে নিতে হবে না?
-দাদুকে দেখেই শ্রাবণী লজ্জা পেয়েছিল,তারপর তার কথা শুনে আরো বেশি লজ্জা পেয়ে ছুটে পালিয়ে গেল।
-
-
তারপর কয়েকদিন পর শ্রাবণীর মা-বাবার সম্মতিতে শ্রাবণী আর আমান দুজনে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়।
-বাসর রাতে শ্রাবণীর প্রথম কথা ছিল,কথা দাও যতদিন এই পৃথিবীতে বাঁচবে শুধু আমাকেই ভালবাসবে,
-আমান বলেছিল,আল্লাহ তোমার মনের ইচ্ছা পূরণ করুক,কথা দিলাম।
-আমিন
.
তারপর আর কিছু লেখকের জানা নেয়। আর জানা থাকলেও বলা অনুচিত।
তাদের পারিবারিক ব্যাপার তারাই সামলাক,।।
-----সমাপ্ত
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ