#শ্রাবণী
#১৬তম পর্ব
ঙ্গান ফেরার পর তার মা-বাবা ও দাদা-দাদি অনেক করে অঙ্গান হওয়ার কথা জিঙ্গেস করলেও একটা কথাও তার মুখ দিয়ে বের করতে পারেনি।এরপর শ্রাবণী অনেকদিন ভার্সিটিতে ক্লাস করতে যায় নি।কোনো বন্ধু বান্ধবীদের সাথে বেড়াতে যাওয়া তো দূরের কথা,তারা বাসায় এলে দেখা পর্যন্ত করেনি।তারপর যখন পেপারে জানতে পারল,তার এক বান্ধবীকে খুন করে রাসেল বিদেশে পালিয়ে গেছে তখন থেকে ভার্সিটিতে যেত।এই ঘটনার পর থেকে ছেলেদের ওপর তার প্রচন্ড ঘৃনা।অনার্স কমপ্লিট করার আগে থেকে অনেক ভালো ভালো বিয়ের প্রস্তাব এলেও শ্রাবণী রাজি হয় নি।
একদিন তার মা রুমানা যখন প্রস্তাব মেনে নেওয়ার জন্য বোঝালেন তখন শ্রাবণী বলল,আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি বিয়ে করব না।মাস্টার্স করে কোন মহিলা কলেজে অধ্যাপনা করে জীবন কাটিয়ে দেব।তোমরা আমাকে বিয়ে দেয়ার চিন্তা করো না।
-সে কি হয় মা,মেয়েরা বিয়ের উপযুক্ত হলে তাদের বিয়ে দেয়া মা বাবার দায়িত্ব।যতদিন না সেই দায়িত্ব পালন করতে পারবে,ততদিন চিন্তা করবেই।
রাসেল শ্রাবণীকে ভোগ করতে না পারলেও তাকে জড়িয়ে ধরে আদর করেছে।তাই শ্রাবণী নিজেকে অপবিত্র ভাবে।আর রাসেল তার ভালোবাসাকে অপমান করেছে বলে ছেলেদের ওপর তার প্রচন্ড ঘৃনা।তাই মায়ের কথা শুনে বলল,
-তোমরা যতো কিছুই বলো না কেন আমি বিয়ে করব না।আমি অপবিত্র হয়ে গেছি।কোনো পবিত্র ছেলেকে স্বামী হিসেবে গ্রহন করতে পারব না।
-সেই ঘটনার কথা মেয়ে না বললেও রুমানা এরকম কিছু আন্দাজ করেছিল।এখন ধারনাটা দৃঢ় হল।বললেন,আমার কথা শোন,তুইতো নিজে ইচ্ছা করে অপবিত্র হসনি,কেউ জোর করে কিছু করেছে।এতে তোর দোষ হবে কেন?আর তুইবা নিজেকে অপবিত্র ভাবছিস কেন?খোঁজ নিলে দেখা যাবে,এরকম ঘটনা অনেক মেয়ের জীবনেই ঘটছে।তারা বিয়ে করে ঘর সংসার করছে।
-তুমি যতোই যুক্তি দাও না কেন,আমার মন না মানলে আমি কি করব?আর বিয়ের পর স্বামী যদি আমার অতীতের ঘটনা জেনে যায়,তখন কি হবে চিন্তা কর না কেন?তবে হ্যাঁ,কেউ যদি আমার অতীত জেনেও আমাকে বিয়ে করতে চায় তাহলে ..........বলে শ্রাবণী থেমে গেল।
.
এরপর রুমানা বিয়ের বিষয়ে তাকে আর কিছু বলেনি।স্বামী সামসুদ্দিন কে এ বিষয় জানালে বলেছিল,এ নিয়ে চিন্তা করো না,পরে সব ঠিক হয়ে যাবে।
মাস্টার্স কমপ্লিট করে শ্রাবণী পল্লবকে নিয়ে দাদা দাদির কাছে বেড়াতে এসেছে।
,
দাদুর বাড়িতে ঘুমোতে গিয়ে এইসব চিন্তা করতে করতে কখন যে ভোর হয়ে গেছে তা বুঝতেই পারে নি।যখন মসজিদের মোয়াজ্জিন ফজরের আজান দিল তখন বুঝতে পারল।কিন্তু কেবলই মনে হতে লাগল,খাদেম আমানই রাসেল।আবার মনে হল রাসেল তো বড়লোকের বখাটে ছেলে।সে কি করে ধার্মিক বনে গেল?তাহলে কি আমান রাসেল নয়?হঠাত্ তার মন বলে উঠল তোমার ধারনা ভুল।আমান কিছুতেই রাসেল হতে পারে না।রাসেল বড়লোকের একমাত্র ছেলে,যে নাকি ভোগবিলাসে অভ্যস্ত,সে কখনোই এই অজপাড়াগাঁয়ে খাদেমগিরি করতে পারে না।সে বিদেশেই পালিয়ে গেছে।রাসেলের সঙ্গে আমানের সবকিছুতে মিল দেখে তুমি তাকে রাসেল ভেবে ভুল করছ।এইসব ভাবতে ভাবতে কখন ঘুমিয়ে পড়ল টের পেল না।
.
সকাল সাতটার সময় আমান জহির উদ্দিনের সদরে এসে আফজালকে দেখতে পেয়ে সালাম বিনিময় করে বলল,প্রফেসর দাদু তার নাতি নাতনীকে গ্রাম দেখাতে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাকে আসতে বলেছিলেন,সেজন্য আমি এসেছি।খবরটা দিন।
আফজাল তাকে বসতে বলে ভেতরে গিয়ে খাদেম আসার কথা প্রফেসরকে জানাল।
জহির উদ্দিন আফজালের কাছে আমান এসেছে শুনে স্ত্রীকে জিঙ্গেস করলেন,
-নাতি নাতনীরা ঘুম থেকে উঠেছে?
-তাবাসসুম বিবি বলল,না ওঠেনি।
-জাগিয়ে বল ওদেরকে গ্রাম দেখাবার জন্য আমান এসেছে।আমি সদরে তার কাছে যাচ্ছি বলে জহির উদ্দিন বেরিয়ে এলেন।
.
আমানের সঙ্গে শ্রাবণী ও পল্লব যখন বেরোল তখন বেলা আটটা।যেতে যেতে আমান বলল,
-রোদ চড়া হয়ে গেছে।আপনাদের খুব কষ্ট হবে।৬টা সাড়ে ৬টার মধ্যে অথবা সূর্য ওঠার আগে বেড়ানো ভালো।তাতে দুটো উপকার হয়।একটা হল ,ভোরের বাতাস স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারী।আর দ্বিতীয়টা হল,রোদের তাপে যে কষ্ট অনুভব হয়,তা হয় না।আপনাদের দাদু ফজরের নামায পড়ে হাঁটেন।আপনারাও তাঁর সঙ্গে হাঁটবেন।দেখবেন,শরীর ও মন খুব উত্ফুল্ল থাকবে।আপনারা শহরে থাকেন,সেখানে ভোরের মুক্ত বাতাস নেই,পাখির কলকাকলী নেই,মাঠ নেই,খাল-বিল ,নদী-নালা নেই।ভোরে হাঁটতে বেরোলে এসব দেখে মন জুড়িয়ে যাবে।চলুন আজ নদী দেখিয়ে আনি,অন্যদিন গ্রাম দেখবেন।
-শ্রাবণী বলল,আপনি এইসব উপভোগ করার জন্য নিশ্চয় এই অজপাড়াগাঁয়ে খাদেমের চাকরি নিয়েছেন।
-আমি তো গ্রামেরই ছেলে।তবে শহরে মানুষ হয়েছি।
-আপনি কোন গ্রামের ছেলে?
-দেখুন,আমার সম্পর্কে কিছু জিঙ্গেস করবেন না।
-কেন?
-উত্তর দিতে পারব না?
-কেন?
-তাও বলতে পারব না।
-এ কেমন কথা? নিজের পরিচয় অন্যকে জানানো কি অন্যায়?
-না, অন্যায় নয়।
-তাহলে বলতে চাচ্ছেন না কেন?
-বলতে চাচ্ছি না তা তো বলিনি,বলেছি বলতে পারব না।
-ঐ একই কথা ,যাকে বলে লাউ তাকে কদুও বলে।
-বলতে না পারার কারন আছে।
-তাহলে কারনটাই বলুন,,,,,
(চলবে)
#ক্ষুদ্র_লেখক
#শ্রাবণী
#১৭তম পর্ব
এতক্ষন কথা বলতে বলতে তারা নদীর পাড়ে পৌঁছে গেল।আমান অল্প দূরে একটা খুব মোটা নিম গাছ দেখিয়ে বলল,চলুন ওখানে বসা যাক।আপনাদের তো হাঁটা অভ্যাস নেই।এতটা পথ রোদে হেঁটে এসে নিশ্চয় টায়ার্ড ফিল করছেন।কিছুক্ষন বিশ্রাম নিয়ে ফেরা যাবে।
নিম গাছতলায় এসে আমান কাঁধ থেকে গামছাটা নিয়ে দু ভাঁজ করে বিছিয়ে দিয়ে বলল,নিন ভালো করে বসুন।
-পল্লব বলল,তুমি বসে বিশ্রাম নাও।আমি নদীর পাড়ে একটু বেড়াই।
-শ্রাবণী বলল, তাই যা,বেশি দূরে যাবি না কিন্তু।পল্লব কিছুদূর যাওয়ার পর আমানকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বলল,
-আপনি বসবেন না।
-হ্যাঁ বসছি বলে আমান মাটিতেই বসে পড়ল।
-ওখানে বসলেন কেন?কাপড় ময়লা হয়ে যাবে তো।তারপর শ্রাবণী একটু সরে বসে বলল,গামছার উপরেই বসুন।
-না না ঠিক আছে।এখানে বালিমাটি।কাপড় ময়লা হবে না।ঝেড়ে নিলে পরিষ্কার হয়ে যাবে।জানেন কিনা জানি না,মানুষ মাটি দিয়ে সৃষ্টি ।মৃত্যুর পর মাটির সঙ্গে মিশে যাবে।
(#যেমন_আল্লাহ_কুরআনে_বলিয়াছেন_ঐ_মাটি_হইতে_আমি_তোমাদিগকে_সৃষ্টি_করিয়াছি_এবং_সেই_মাটিতেই_আমি_তোমাদিগকে_ফিরাইয়া_নিব_এবং_উহা_হইতেই_পুনরায়_তোমাদিগকে_বাহির_করিয়া_লইব_____<সূরা ত্ব হা,আয়াত ৫৫,পারা ১৬।>)
শহরের মানুষের এতো অসুখ কেন জানেন?তারা মাটির স্পর্শ পায় না।মাটির মানুষ মাটির স্পর্শ পায় না বলে তাদের এত অসুখ-বিসুখ হয়।
-আপনার কথাটা কতটা সত্য জানি না,গ্রামের লোকদেরও যে নানা রকম অসুখ-বিসুখ হয়,তা কি অস্বীকার করতে পারেন?
-না,পারব না।তবে গ্রামে তুলনামূলক কম।
-তা হবে হয়তো বলে শ্রাবণী কিছুক্ষন চুপ করে থেকে বলল,আপনি নাকি ঝাড়ফুঁক করে এবং পানিপড়া দিয়ে মানুষের অসুখ-বিসুখ ভালো করেন?
-গ্রামের মানুষরা তিলকে তাল করে বলে।কিছু কিছু অসুখ এমন আছে আল্লাহর কালাম পড়ে ফুঁক দিলে কাজ হয়।সেরকম কারো কিছু হলে ঐ সব করে থাকি।আর সেরকম নাহলে ডাক্তারের কাছে চিকিত্সা করাতে বলি।
-আপনি নাকি জিনও ছাড়াতে পারেন?
-ওসব কথা বাদ দিন তো?
-বাদ দেব কেন?আব্দুল খালেক চাচা বললেন তার মেয়েকে জিনে ধরেছিল,আপনি ছাড়িয়েছেন।
-শোনা কথা বিশ্বাস করতে নেই।আমি তাদের বাড়িতে কখনও যাই নি,তার মেয়েকেও দেখি নি।
-তাহলে আব্দুল খালেক চাচা কি মিথ্যে বলেছে?
-তা আমি বলব কি করে?সত্য মিথ্যা নিজের কাছে।এসব আলাপ থাক,অন্য কিছু আলাপ করুন।
-আপনি কি কখনো মিথ্যা বলেন?
-ঙ্গান হওয়ার আগে বলেছি কিনা মনে নেই।তবে ঙ্গান হওয়ার পর বলি নি।
-দাদির মুখে শুনেছি যারা কখনো মিথ্যা বলে না এবং ধর্মের বিধি নিষেধ মেনে চলে,তারা নাকি ঐশীশক্তি অর্জন করে।কথাটি কি ঠিক?
-তা বলতে পারব না।তবে এরকম মানুষ আল্লাহর খুব প্রিয় বান্দা।আরো জানি সত্যবাদী ও ধার্মিক মানুষরা পাহাড়ে জাঙ্গলে কঠোর সাধনা করলে আল্লাহ তাঁদের এমন কিছু শক্তি দেয়,যাকে সাধারন মানুষেরা ঐশীশক্তি বলে থাকে।
-দাদু বললেন,আপনি খুব ধার্মিক,এখন জানলাম আপনি কখনো মিথ্যা বলেন নি,তাহলে আপনিও কি ঐশীশক্তির অধিকারী?
-বললাম না,সত্যবাদী ও ধার্মিক লোকরা পাহাড়ে জঙ্গলে কঠোর সাধনা করে ঐ শক্তি পায়?আমি তো তা করি নি।আমার সম্পর্কে এরকম ধারনা করলে ভুল করবেন।
-ঠিক আছে,আপনার পরিচয়টা বলুন।
-আমি মসজিদের একজন নগন্য খাদেম,এর বেশি আর কি বলব?
-আপনি যে মসজিদের খাদেম তা জানি,আমি আপনার ফুল বায়োডাট,মানে পূর্ন পরিচয় জানতে চাচ্ছি।দাদুকে কাছেও পরিচয় গোপন করেছেন।
-পরিচয় গোপন করার কারন আছে,তাই কাউকেই জানাই নি।
-সেই কারনটায় আমি জানতে চাই।
-আর আমি যদি বলি আমার পরিচয়ে আপনার কি প্রয়োজন?
-প্রয়োজন আছে বলেই তো জানতে চাচ্ছি।
-আগে আপনার প্রয়োজনটা বলুন,তারপর আমারটা বলব।
-আপনি নিজেকে খুব বুদ্ধিমান মনে করেন তাই না?
-তা জানি না,তবে আমার তো মনে হচ্ছে,আপনি আমার থেকে অনেক বেশি বুদ্ধিমতী।
-তাই যদি মনে করেন,তাহলে ভনিতা না করে যা জিঙ্গেস করেছি বলে ফেলুন।
-দুঃখিত বলতে পারব না।কিন্তু আমি খুব আশ্চর্য হচ্ছি,আপনি আমার পরিচয় জানতে চাচ্ছেন কেন?
-যদি বলি আমি আপনাকে চিনি?
-আমান হাসি মুখে বলল,তাহলে তো সমস্যার সমাধান হয়েই গেল।তারপরও জানতে চাচ্ছেন কেন বুঝতে পারছি না!
-শ্রাবণী এতক্ষন ধৈর্য ধরতে পারলেও এখন আর পারল না।দাঁড়িয়ে উঠে রাগের সঙ্গে বলল,তুমি নিজেকে যতই বুদ্ধিমান মনে করো না কেন,আর যতই সাধুর বেশ ধরে থাক না কেন,আমি তোমাকে ষ্টেশনে দেখেই চিনতে পেরেছি তূমি রাসেল।যে নাকি একটা হিংস্র নরপশু,খুনি, লুচ্চা,বেঈমান,নরকের কীট।বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার কথা প্রচার করে বেশ বদলে সুদূর এই পাড়াগাঁয়ে সাধু সেজে মানুষকে ধোঁকা দিচ্ছ।সবাইকে ধোঁকা দিতে পারলেও আমাকে পার নি।তোমার মতো নরপশু খুনির বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই।দাদুকে সব কথা বলে আমি তোমাকে ফাঁসিতে ঝোলাবই ঝোলাব।রাগের সঙ্গে এত কথা বলে শ্রাবণী হাঁপাতে লাগল.,.,,,,
(চলবে)
#ক্ষুদ্র_লেখক
#শ্রাবণী
#১৮তম পর্ব
এতক্ষন শ্রাবণীর কথা শুনতে শুনতে আমান এত অবাক হল যে,হাঁ করে একদৃষ্টে শ্রাবণীর মুখের দিকে তাকিয়ে ছিল।হাঁপাতে দেখে বলল,
-আপনার কথা একবর্নও বুঝতে পারছি না।প্লিজ শান্ত হয়ে বসুন।হাদিসে আছে,(রাসূল সাঃ বলিয়েছেন,যখন তোমাদের কাহারও ক্রোধ হয়,দাঁড়ানো থাকলে সে যেন বসিয়া পড়ে।যদি ক্রোধের উপশম হয় উত্তম।তাহা না হইলে সে যেন শুয়ে পড়ে।)<তিরমিজী
.
-আমানের মুখে কিছুক্ষন আগে কুরআনের কথা শুনেছে।এখন আবার হাদিসের কথা শুনে শ্রাবণী চিন্তা করল,রাসেল কুরআন হাদিস জানবে কি করে?তাহলে কি ও রাসেল নয়?তবু রাগের সঙ্গেই বলল,তোমার চাতুরী আমার জানা আছে,মনে করেছ ভনিতা করে পার পেয়ে যাবে?
-ঠিক আছে,আমাকে আপনি যা কিছু করতে চান করবেন।এখন রেগে আছেন,আমি যা কিছুই বলি না কেন বিশ্বাস করবেন না।দয়া করে কিছুক্ষন বসুন,ইনশাআল্লাহ রাগ পড়ে যাবে।
-শ্রাবণীর মন বলে উঠল,তুই ভুল করছিস।ও রাসেল হতে পারে না।ভালো করে না জেনে রাসেল মনে করে এত কিছু বলা ঠিক হয়নি তোর।
মাথায় যন্ত্রনা হচ্ছে অনুভব করে শ্রাবণী বসে দু হাতে কপাল টিপে ধরল।
-তাই দেখে আমান বলল,অসুস্থবোধ করলে চলুন ফেরা যাক।তারপর কিছুক্ষন অপেক্ষা করে বলতে লাগল,রাসেল নামে কোনো ছেলে আপনার সঙ্গে বেইমানী করেছে।রাসেলের চেহারার সঙ্গে আমার চেহারার মিল দেখে আমাকে রাসেল ভেবেছেন,তাই না?
-রেগে গেলে অনেকের চোখে পানি এসে যায়।শ্রাবণীরও তাই হয়।এখনও তার চোখে পানি এসে গেছে।আমানের কথা শুনে চোখ মুছে হাঁসূচক মাথা নাড়ল।
-আমান মৃদু হেসে বলল,কমবেশি সব মানুষই ভুল করে।আপনিও করেছেন,এতে কাঁদার কী হল?
-শ্রাবণী বলল,হ্যাঁ কমবেশি ভুল সবাই করে।যেমন আপনিও এখন করলেন।
-কি ভুল করলাম বলুন তো?
-আমার চোখে পানি দেখে আপনি ভেবেছেন,ভুল বুঝে আপনাকে রাসেল ভেবে যা তা বলে আমি অনুতপ্ত হয়ে কাঁদছি।আসলে তা নয়।রেগে গেলে আমার চোখে পানি এসে যায়।তবে আপনাকে যা কিছু বলেছি তার জন্য সত্যিই আমি অনুতপ্ত।বলুন মাফ করে দিয়েছেন?
-আল্লাহ আমাদের সবাইকে মাফ করুক।একটা কথা না বলে পারছি না,ষ্টেশনে আমাকে দেখে আপনার চেহারার পরিবর্তন লক্ষ্য করে মনে হয়েছিল,আপনি আমাকে বিশ্বাস করতে পারেন নি।কারনটা তখন বুঝতে না পারলেও এখন পারছি।
-হ্যাঁ,আপনি ঠিকই ধারনা করেছিলেন।থাক এসব কথা ,এবার ফেরা যাক চলুন।
-পল্লবকে রেখেই চলে যাবেন?উনি কালভার্টের কাছে বসে আছেন দেখছি।আপনি বসুন,আমি ডেকে নিয়ে আসি।
.
ফেরার পথে পল্লব বলল,
-এই জায়গাটা দারুন।আমি প্রতিদিন বেড়াতে আসব।
-শ্রাবণী বলল,হ্যাঁ,ঠিকই বলেছিস।আমারও তাই ইচ্ছা করছে।আমরা দুজনে আসব।উনি তো আর প্রতিদিন আমাদেরকে নিয়ে আসবেন না।
-আমান বলল,আপনাদের দাদু বললে নিশ্চয় নিয়ে আসব।
-কেন?আমরা বললে আসবেন না?
-না।
-কারনটা জানতে পারি?
-মসজিদের সদস্যরা প্রথমে রাখতে চাননি।আপনাদের দাদুর কথায় রাছি হয়েছে।আপনারাই বলুন,ওঁনার অনুমতি ছাড়া কোনো কিছু করা কি আমার উচিত?
-তা অবশ্য উচিত নয়।তবে আমি যদি দাদুকে বলে অনুমতি নিই,তাহলে?
-হ্যাঁ তাহলে শুধু নদীর ধারে নয়,নদীর ওপারেও নিয়ে যেতে পারি।
-পল্লব শ্রাবণীকে উদ্দেশ্য করে বলল,আজই দাদুকে বলে অনুমতি নেব।নৌকায় করে নদীর ওপারেও বেড়াতে যাব।আমি কখনও নৌকায় চড়ি নি,তুমি চড়েছ?
-শ্রাবণী বলল, না চড়ি নি।তুই ঠিক কথা বলেছিস।এখন ফিরে গিয়ে দাদুকে কথাটা বলব।
-পল্লব আমানকে বলল,আপনি নদীর ওপারে কখনো গেছেন।
-অনেকবার গেছি।
-শ্রাবণী পল্লবকে বলল,তুই যে নৌকায় করে নদীর ওপারে বেড়াতে যাবি বললি,তুই তো নৌকায় চড়তে খুব ভয় পাস।দু বছর আগে সদরঘাট থেকে জিন্ঞ্জিরায় পিকনিক করতে যাওয়ার সময় তুই ভয়ে নৌকায় উঠলি না।বাসায় ফিরে গেলি।এখন ভয় করবে না?
-দু বছর আগে ছোট ছিলাম ,এখন বড় হয়েছি,ভয় করবে কেন?সামনের বছর এস.এস.সি. পরীক্ষা দেব মনে নেই বুঝি?
-তার কথা শুনে শ্রাবণী ও আমান হেসে উঠল।
-পল্লব বলল,এই আপা,আমার কথা শুনে হাসছ কেন?
-হাসব না তো কী করবো?দু বছরের মধ্যে বড় হলেও কথাটা দু বছর আগের মতোই বললি,কথা শেষ করে আবার হেসে উঠল।
-আপা,তুমি কিন্তু ভুলে যাচ্ছ,সেদিন ভয়ে তুমিও নৌকায় উঠতে চাও নি,তোমার বান্ধবীরা ধরে ধরে উঠিয়েছিল।এখন তোমার ভয় করবে না?
-আমান বলল,আপনার আপাও তখন ছোট ছিল,তাই ভয় পেয়েছিল।দু বছরের মধ্যে আপনার মতো উনিও বড় হয়েছেন।ভয় পাবেন না।
-পল্লব বলল,আপনি ঠিক কথা বলেছেন।
-শ্রাবণী বলল, দিন দিন তোর জ্যাঠামী বেড়ে যাচ্ছে।
ততক্ষনে মসজিদের কাছে তারা চলে এসেছে।আমান একটা হাত তুলে দেখিয়ে বলল,
-ঐ যে আপনাদের দাদুর বাড়ি দেখা যাচ্ছে,আপনারা যান।বেলা হয়েছে,মসজিদে কিছু কাজ করতে হবে।এখন আমি যাই।
-শ্রাবণী বলল,বিকেলে আসবেন,গ্রাম দেখতে যাব।
-আমান বলল,ইনশাআল্লাহ আসব,,,,,,,
(চলবে )
যাদের গল্প পড়ার ইচ্ছা আছে তারা কমেন্টে জানাতে পারেন।পরবর্তী পর্বে তাহলে মেনশন দিতে সুবিধা হবে।
#ক্ষুদ্র_লেখক
#শ্রাবণী
#১৯তম পর্ব
পল্লব আর শ্রাবণী বাড়ি আসার পর বেড়ানোর কাহিনী শোনার পর জহির উদ্দিন শ্রাবণীকে বললেন,আমার পাশে এসে বস,কথা আছে।
-শ্রাবণী বসে বলল,কি কথা বলুন।
-পল্লব বলল,আমানের সঙ্গে অনেক গল্প করেছ,ওর ব্যাপারে কিছু জানতে পারলে?
-পেরেছি।তবে আসল পরিচয়টা বলেন নি।খুব ইন্টিলিজেন্ট ছেলে।অনেক চেষ্টা করেও কাজ হয়নি।
-তাহলে আর কি জেনেছ?
-আমি ওকে ভার্সিটির সেই নরপশু,খুনি মনে করেছিলাম।আলাপ করে বুঝতে পারলাম আমার ধারণা ভুল।ও রাসেল নয়।
-ওর পরিচয় জানতে চেয়েছিলে?
-চেয়েছিলাম,কিন্তু কিছুতেই বলল না।আমার কি মনে হয় জানেন,ওনার পেছনে এমন কিছু ব্যাকগ্রাউন্ড আছে,যে কারনে পরিচয় গোপন করে রেখেছে।কথাবার্তা শুনে মনে হল,বেশ শিক্ষিত।আপনার কি মনে হয়?
-হ্যাঁ, তোমার অনুমান ঠিক।শুধু শিক্ষিত নয়,ও যে ধনী ঘরের ছেলে তারও প্রমান পেয়েছি।
-যেমন?
-খাদেম চাকরি করে মাত্র পাঁচশ টাকা পায়।এই টাকায় ওর নিজের খরচ না হয় চলে,কিন্তু গ্রামের দুস্থ লোকদের আর্থিক সাহায্য করে।তাদের অসুখ হলে চিকিত্সার জন্যও টাকা দেয়।
-এত টাকা উনি পান কোথায়?
-তাই তো বললাম,ধনী লোকের ছেলে।
-তা নাহয় বুঝলাম,কিন্তু ধনীলোকের একটা শিক্ষিত ছেলে আরাম আয়েশ ত্যাগ করে পাড়াগাঁয়ের মসজিদে খাদেমের চাকরি করে,এটা কি বিশ্বাস করা যায়?যদি ঘটনা সত্য হয়,তাহলে আমার অনুমানই ঠিক।
-তা হতে পারে।
-হতে পারে না,নিশ্চয় আমার ধারনাই ঠিক।
-সেদিন তোমাকে হাদিসের কথা বললাম না,ধারনার ওপর বিশ্বাস করে কোনো কিছু বিশ্বাস করা ঠিক নয়?দেখলে না আমান সম্পর্কে যা ধারণা করেছিলে,তা সত্য নয়?শোন দাদু,বয়স তো কম হল না?অনেক ছেলে মেয়ে দেখেছি,কিন্তু আমানের মতো এত ভালো ছেলে আর একটাও দেখেনি।তাই পরিচয় গোপন রাখলেও আমার অন্তরে ঠাই করে নিয়েছে।এসব কথা রেখে ওঠা যাক,একটা বেজে গেছে।গোসল করে নামায পড়তে যেতে হবে।আরো দেরি হলে জামাত ধরতে পারব না।
-জামাত ধরতে না পারলে একা একা পড়বেন।একা একা নামায পড়া কি যায় না?
-তা যায়।তবে ইচ্ছা করে অথবা সামান্য অজুহাতে জামাত ত্যাগ করে একা একা পড়তে হাদিসে নিষেধ আছে।
-আপনি তো দেখছি গ্রামে এসে বেশ মৌলভী হয়ে গেছেন।কথায় কথায় কুরআন হাদিসের কথা বলেন।যখন শহরে ছিলেন,তখন তো আপনাকে নামায রোযা করতে দেখি নি।
-না করে ভীষন অন্যায় করেছি।জানি না আল্লাহ ক্ষমা করবেন কিনা।জান দাদু ভাই,প্রত্যেক পিতা মাতার উচিত বাল্যকাল থেকে ছেলে মেয়েদেরকে নামায পড়ার অভ্যাস করান এবং ধর্মীয় শিক্ষা দিয়ে সেই মতো মানুষ করা ।
"#হাদিসে আছে নবী করিম (সাঃ) বলেছেন,তোমাদের সন্তানগন সাত বত্সর বয়সে পদার্পন করিলে তাহাদিগকে নামাযের জন্য আদেশ কর এবং তাহাদের দশ বত্সর বয়স হইলে তজ্জন্য তাহাদিগকে প্রহার কর এবং পরস্পর শয্যা হইতে পৃথক কর।আবু দাউদ"
এ ব্যাপারে পরে আলাপ করা যাবে।এখন গোসল করব বলে জহির উদ্দিন উঠে দাঁড়ালেন।
-শ্রাবণীও উঠে দাঁড়িয়ে বলল,মসজিদে নামায পড়তে গিয়ে খাদেম সাহেবকে বলবেন,তিনি যেন প্রতিদিন আমাদেরকে বেড়াতে নিয়ে যান।
-সে কথা তো তুমি নিজেই বলতে পারতে?
-বলেছিলাম।বললেন,আপনার অনুমতি ছাড়া পারবেন না।
-জহির উদ্দিন মৃদু হেসে বললেন,ঠিক আছে,বলব।
.
.
শ্রাবণী ও পল্লবকে নিয়ে আমান প্রতিদিন বেড়াতে বেরোয়।১০,১২ দিন পর একদিন শ্রাবণী একা বেড়াতে বেরোল।
-আমান বলল,আপনার ভাই যাবেন না?
-না,তার নাকি গ্রাম দেখার সখ মিটে গেছে।দুএকদিনের মধ্যে ঢাকা চলে যাবে।অবশ্য তার ছুটিও শেষ।
-আপনিও তো শুধু এই গ্রাম নয়,আশপাশের গ্রামেও বেড়ালেন,আরো বেড়াতে চান?আপনার সখ মেটে নি?
-না মেটে নি।তারপর অল্পক্ষন চুপ করে থেকে বলল,হঠাত্ একথা বললেন কেন?আমাকে নিয়ে বেড়াতে আপনার অসুবিধে হয় অথবা খুব বিরক্ত লাগে?যদি তেমন কিছু হয় তাহলে বলুন,দাদুকে বলে অন্য লোকের ব্যবস্থা করব।
-আপনি যা ভাবছেন তা নয়।জিঙ্গেস করার অন্য কারন আছে?
-কারণটা বলুন তাহলে?
-কারণটা বললে আপনি আমার সঙ্গে আর বেড়াতে আসবেন না।
-তাই নাকি?তাহলে তো শুনতেই হয়।শোনার পর আপনার সঙ্গে বেড়াতে আসব না আসব,সেটা পরে দেখা যাবে।
-তাহলে আজ না বেড়িয়ে নদীর পাড়ে চলুন,সেখানেই বলব।হাঁটতে হাঁটতে কোনো ব্যাপারে আলাপ তেমন ভালো হয় না,,,,,,
(চলবে)
#শ্রাবণী
#২০তম পর্ব
পর্বটায় ইসলামিক অনুশাসনের কথা আলোচনা করা হয়েছে।আশা করি মনযোগ দিয়ে পড়লে কিছু অর্জন করতে পারবেন।
.
-আমান আর শ্রাবণী নদীর পাশে একটা গাছের নিচে গিয়ে বসল।কয়েকটা কথা বলার পর
আমান বলল,আপনার মা বাবা ছোটবেলায় ইসলামিক শিক্ষার ব্যবস্থা করেন নি?
-মা বাবা ৪,৫ বছর বয়সে আমাকে কে.জি. স্কুলে ভর্তি করেন।তাই ছোটবেলায় ধর্মীয় শিক্ষা পায় নি।জন্মের পর থেকে দাদিকে ধর্মকর্ম করতে দেখলেও মা বাবা বা দাদু কাউকেই ধর্মের কোনো কিছু পালন করতে দেখি নি।তবে হজ্জ করার পর দাদু খুব নিষ্ঠার সঙ্গে ধর্মীয় অনুশীলন করছেন।
-এখন তো আপনার সময়ের অভাব নেই,আপনি কিছুদিনের মধ্যে পারিবারিক জীবনে প্রবেশ করবেন।তাই সেই সম্পর্কে পড়াশোনা করা উচিত।সেই সঙ্গে ধর্মীয় ও ইসলামিক পারিবারিক এবং দাম্পত্য বিষয়ের ওপর পড়াশোনা করাও অপরিহার্য।প্রদীপ বা হারিকেন থেকে আমরা আলো পাই,কিন্তু ওগুলো নিজে নিজে আলো দিতে পারে না।সেজন্য চাই পলতে,কেরোসিন তেল ও দিয়াশলাই।এই তিনটির কোনো একটি বাদ দিলে প্রদীপ বা হারিকেন আলো দিতে পারে না।তেমনি পারিবারিক জীবন সুষ্ঠু ও সুন্দর করতে হলে ধর্মীয় ঙ্গান অর্জন করতে হবে।অন্যথায় যেমন পারিবারিক জীবনে সুখ শান্তি পাওয়া যায় না,অপরদিকে সন্তানেরা লেখাপড়া করলেও মানুষের মতো মানুষ হয় না।অবশ্য এই বিষয়ে উভয়কেই ঙ্গান অর্জন করতে হবে।নারী দিবস পালিত হয় কেন জানেন?নারীরা পুরুষের দ্বারা নির্যাতীত হচ্ছে।তাই তারা প্রতিবাদ প্রকাশ করল।আমার কথা হচ্ছে, নারীরা একদিকে মায়ের জাত অন্যদিকে তারা জীবন সঙ্গিনী।তাদের তো নির্যাতীত হওয়ার কথা নয়।তবু হচ্ছে কেন?ইসলামিক দৃষ্টিতে যারা নারীদের নির্যাতীত করছে,তারা পশুর থেকে অধম।আল্লাহ পুরুষ জাতীদের যেমন শান্তির জন্য স্পষ্টভাবে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন,তেমনি নারীদের জন্যও শান্তিতে বসবাস করার জন্য স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় মুসলমানরা কুরআন হাদিস না পড়ে,না জেনে বিধর্মীদের পথ অনুসরণ করছে।ক'টা নারী পুরুষ আল্লাহ ও রাসূল (সাঃ) এর হুকুম পারিবারিক ও দাম্পত্য জীবনে মেনে চলছে?যারা এসব জানেই না তারা মেনে চলবে কি করে?নারী পুরুষ মিলিয়ে পারিবারিক ও দাম্পত্য জীবন।তাই সুখ শান্তি পেতে হলে দুজনকেই এ সম্পর্কে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাঃ) এর বিধি বিধান জানতে হবে।একটা কথা সকলের মনে রাখা উচিত,মানব রচিত আইন প্রয়োগে শুধু পারিবারিক ও দাম্পত্য জীবন নয়,রাজনৈতিক সুফলতাও পাওয়া সম্ভব নয়।কারন মানব রচিত আইন প্রনয়ন ও প্রয়োগকারীর মধ্যে বেশিরভাগই অসত্ এবং তা সব দেশের জন্য প্রযোজ্যও নয়।তা ছাড়া মানুষের সসীম ঙ্গানের করনে মানব রচিত আইনে ত্রুটি থাকবেই।তাই আল্লাহর আইন যদি সবাই মেনে চলত,তাহলে সারা পৃথিবীর মানুষের পারিবারিক ও দাম্পত্য জীবন এবং রাজনৈতিক সফলতা আসত এবং সুখ শান্তিতে বসবাস করতে পারত।পশ্চিমা দেশগুলো সন্ত্রাস দূর করার জন্য বিভিন্ন মুসলিম রাষ্ট্রে বোমা ফেলে নিরীহ মুসলিমদের হত্যা করছে।এটা কোন ধরনের আইন?কোন ধরনের মানবতা?ইসলাম এরকম আইন ও মানবতার ঘোর বিরোধী।তাই মানব জাতির কাছে ,বিশেষ করে শিক্ষিত মুসলমানদের কাছে অনুরোধ ,তারা কুরআন,হাদিস ও ইসলামী ঙ্গান অর্জন করে সেই মতো জীবন পরিচালনা করে দেখুক,আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাঃ এর বানী সত্য কি না।অত্যন্ত দুঃখের কথা ,যেসব দেশ কুরআন ও হাদিস অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চাচ্ছে,পশ্চিমা দেশগুলোর ইয়াহুদি ও খ্রিষ্টান প্রশাসকরা তাদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে ধ্বংস করে দিচ্ছে।আর অন্যান্য মুসলিম শাসকরা তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য ইয়াহুদি ও খ্রিষ্টান শাসকদের সাহায্য করছে।তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করছে।অথচ আল্লাহ কুরআনে বলেছেন,হে ইমানদারগন,তোমরা ইহুদি ও নাসারাদেরকে বন্ধুরুপে গ্রহণ করো না।যারা এরূপ করবে আল্লাহর সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক থাকবে না।আমাদের রাসূল সাঃ হাদিসে ,ইয়াহুদিদের অভিশপ্ত জাতি বলে বর্ননা করছেন।আসল কথা হল,নারী পুরুষ সবাই যদি ইসলামের বিধি নিষেধ মেনে চলত,তাহলে নারীরা নির্যাতীত হতো না। আর সারা পৃথিবী ব্যাপি নারীদিবস পালনের কোনো প্রয়োজনও হতো না।
দিগ্বিজয়ী নেপোলিয়ান বোনপার্ট কুরআনের ব্যাখ্যা পড়ে বলেছিল,কুরআনের অনুশাসনই সত্য এবং কুরআনই মানুষকে শান্তির পথে নিয়ে যেতে পারে।
শ্রাবণী আমানের কথা শুনে অবাক হয়ে বলল,একজন খাদেম হয়ে আপনি কিভাবে ঙ্গানীদের মতো কথা বলছেন?আপনি নিশ্চয় উচ্চ শিক্ষিত,কথাটা অস্বীকার করতে পারবেন?
স্বীকার অস্বীকার কোনটাই করতে পারব না।আমার কথা বাদ দিন,আরো কয়েকটা কথা বলব,সেগুলোর মধ্যা আপনার উত্তরটা জানতে পাড়বেন।প্রফেসর দাদুর কাছে অনেক ধর্মীয় বই আছে,সেগুলো পড়ে আপনি অনেক কিছুই জানতে পারবেন।সুখ শান্তি পেতে হলে একমাত্র ইসলাম ধর্ম অনুসরন করতে হবে।
আপনি কি বলতে চান,যারা ইসলামিক ঙ্গান অর্জন করেনি,তারা সবাই দাম্পত্য জীবনে অসুখী?
হ্যাঁ খুব নগন্যসংখ্যক ছাড়া প্রায়ই অসুখী।আপনি কুরআন হাদিস ও অন্যান্য ইসলামী বই পড়লে ইসলাম যে মানুষকে সুখ শান্তির পথ বাতলে দিয়েছে তাও জানতে পারবেন।
অনকে বলে থাকে,যারা যত বেশি পাপ করে,পাপ মোচনের জন্য তারা এত বেশি ধর্মের কাজ করে।
যারা একথা বলে তারাই বেশি পাপ করে এবং ইসলাম সম্পর্কে একেবারেই অঙ্গ।আপনি ইসলাম সম্পর্কে জানুন।দেখবেন,আমার কথা কতটা সত্য।
আল্লাহ কুরআনে বলেন,নিশ্চয় যাহারা ইমান আনিয়াছে এবং সত্কাজ করিয়াছে,আর নামাযের পাবন্দি করিয়াছে আর যাকাত আদায় করিয়াছে,তাহারা তাদের সওয়াব পাইবে আল্লাহর নিকট।এবং না তাহাদের কোন আশঙ্কা থাকিবে এবং না তারারা চিন্তিত হইবে।
অনেক লম্বা আলাপ হল,আর একটা কথা বলব।কুরআনে ও হাদিসে পর্দা সম্পর্কে অনেক আয়াত বা হাদিস আছে।আপনি সেগুলো পড়ার চেষ্টা করবেন।আর নয়,ওঠা যাক,অনেকবেলা হয়েছে বলে আমান উঠে দাঁড়াল।
হ্যাঁ চলুন,আজ অনেক অজানা জিনিস জানলেও,আমার প্রশ্নের উত্তর জানতে পারলাম না?
তাহলে বলছি শুনুন,আমি যতটুকু পারি ধর্মের আইন মেনে চলার চেষ্টা করি।তাই হয়তো সবাই আমাকে ধার্মিক বলে।ধার্মিক হয়ে যদি একজন পর্দাহীন যুবতি মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে দিনের পর দিন বেড়াতে থাকি তাহলে মানুষেরা কি ভাববেন?আর আল্লাহর আইন লঙ্ঘন করে আমিও পাপী হচ্ছি।এবার উত্তর পেয়েছেন।
শ্রাবণী কোনো কথা না বলে চুপচাপ হাঁটতে লাগল,
চলবে
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ