āĻŦৃāĻšāϏ্āĻĒāϤিāĻŦাāϰ, ā§§ā§Ē āĻĄিāϏেāĻŽ্āĻŦāϰ, ⧍ā§Ļā§§ā§­

3752 (3)

#শ্রাবণী
#১১তম পর্ব
-আমান অন্ধকারে মিলিয়ে যাওয়ার পর শ্রাবণী দাদাজিকে বলল,উনি নাকি এখানকার মসজিদের খাদেম-আমান অন্ধকারে মিলিয়ে যাওয়ার পর শ্রাবণী দাদাজিকে বলল,উনি নাকি এখানকার মসজিদের খাদেম?
-জহির উদ্দিন বললেন,হ্যাঁ।তারপর বললেন,তোমরা না জানিয়ে হুট করে চলে এলে,ব্যাপারটা ঠিক বুঝতে পারছ-জহির উদ্দিন বললেন,হ্যাঁ।তারপর বললেন,তোমরা না জানিয়ে হুট করে চলে এলে,ব্যাপারটা ঠিক বুঝতে পারছি না।
-সে কৈফিয়ত পরে দেব,আগে পা ধোয়ার ব্যবস্থা করুন,চুলকাচ্ছে।
-জহির উদ্দিন হাঁক দিলেন,আফজা-জহির উদ্দিন হাঁক দিলেন,আফজাল।
-আফজাল পেছনে ছিল,বলল,হাজির সাহে-আফজাল পেছনে ছিল,বলল,হাজির সাহেব।
-শুধু হাজির হলে চলবে?হারিকেনটা নিয়ে এস।তারপর নাতি নাতনীকে বললেন,এস দাদুভা-শুধু হাজির হলে চলবে?হারিকেনটা নিয়ে এস।তারপর নাতি নাতনীকে বললেন,এস দাদুভাইরা।
উঠানে এসে জহির উদ্দিন স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে উঁচু গলায় বললেন,কই গো তাবাসসুম বিবি,দেখ কারা এসেছে?
আফজালের মুখে ঢাকা থেকে লোক এসেছে শুনে স্বামী বেরিয়ে যাওয়ার পর তাবাসসুম বিবি হারিকেন সাতে নিয়ে বারান্দায় দাঁড়িয়েছিলেন।স্বামীর গলা পেয়ে সেদিকে তাকালেন,কিন্তু চিনতে পারলেন না।বললেন,হারিকেনের আলোতে চিনতে পারছি না তো ,বল না কারা এসেছে।
-দাদাজি কিছু বলার আগে শ্রাবণী সালাম দিয়ে বলল,দাদি আমি আর পল্লব।বিশ্বাস না হলে একটু ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করুন,পা ধুয়ে আস-দাদাজি কিছু বলার আগে শ্রাবণী সালাম দিয়ে বলল,দাদি আমি আর পল্লব।বিশ্বাস না হলে একটু ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করুন,পা ধুয়ে আসছি ।
পা ধুয়ে এসে দাদা দাদিকে ভাই বোন কদমবুসি করতে ওঁনারা মাথায় চুমো খেয়ে দোয়া করলেন।তারপর তাদেরকে ঘরে নিয়ে এসে বসতে বলল।
তাবাসসুস বিবি কাজের মেয়ে কুলসুমকে চা নাস্তা দিতে বলে ওনি ঢাকার খবরাখবর জানতে লাগলেন।
জহির উদ্দিন বেরিয়ে এসে আফজালকে বলল,কাল সকালে গিয়ে জেলেপাড়ার মদনকে জাল নিয়ে আসতে বলবে।পুকুরের বড় মাছ ওদের খাওয়াজহির উদ্দিন বেরিয়ে এসে আফজালকে বলল,কাল সকালে গিয়ে জেলেপাড়ার মদনকে জাল নিয়ে আসতে বলবে।পুকুরের বড় মাছ ওদের খাওয়াব।
-চা নাস্তা খাওয়ার পর জহির উদ্দিন বললেন,এবার বল,খবর না দিয়ে হঠাত্‍ এভাবে এলে কেন?
-আপনাদেরকে সারপ্রাইজ দেব বলে।
-তবু কাজটা ঠিক করনি।মা বাবাকে বলে এসেছ,না তাদেরকেও না বলে এসেছ?
-মা বাবাকে না বলে আসার কথা ভাবলেন কি করে?অবশ্য তারা প্রথমে রাজি হয়নি।শেষে আমার জিদের কাছে হার মেনেছে।
-সাধে কি আর আমি তোমাকে জেদি বেগম বলতাম।এতো জেদ ভালো না।যখন নাতজামাই হবে তখন ঠিকই বুঝবে।
-তখনকার কথা তখন,এখন কয়েকটা কথা জানতে চাই।তারপর দাদিকে বলল,আপনি পল্লবকে নিয়ে ওঘরে গিয়ে গল্প -তখনকার কথা তখন,এখন কয়েকটা কথা জানতে চাই।তারপর দাদিকে বলল,আপনি পল্লবকে নিয়ে ওঘরে গিয়ে গল্প করুন।
তাবাসসুম বিবি পল্লব কে নিয়ে যাওয়ার পর জহির উদ্দিন বললেন,কি কথা জানতে চাও?
-আপনাদের মসজিদের খাদেম আমান কতদিন হল এখানে আছে-আপনাদের মসজিদের খাদেম আমান কতদিন হল এখানে আছেন?
-হঠাত্‍ তার কথা জানতে চাচ্ছ কেন?
-সে কথা পরে বলব,আগে আমার কথার উত্তর -সে কথা পরে বলব,আগে আমার কথার উত্তর দিন।
-তা প্রায় দুবছর হবে।এরপর নিশ্চয় জানতে ছেলেটা কেমন?বাড়ি কোথায়?কি পাস?তাই না।
-হ্যাঁ তাই।
-ছেলেটা ভালো,পরোপকারী,বাড়ি কোথায়,কি পাস জানি না।
-ওর কাছ থেকে জেনে আমাকে বলবেন।
-তা না হয় বলব,
কিন্তু ওর সম্পর্কে তোমার এতো ইন্টারেস্ট কেন?
-শ্রাবণী গম্ভীর কন্ঠে বলল,ভার্সিটির রাসেল নামে যে ছেলেটা আমাকে রাহুর মতো গ্রাস করে আমার সর্বনাশ করতে চেয়েছিল,খাদেম আমান প্রায় হুবহু তার -শ্রাবণী গম্ভীর কন্ঠে বলল,ভার্সিটির রাসেল নামে যে ছেলেটা আমাকে রাহুর মতো গ্রাস করে আমার সর্বনাশ করতে চেয়েছিল,খাদেম আমান প্রায় হুবহু তার মতো।
-কি বললে,রাসেলের মতো?
-হ্যাঁ দাদু,একই ফিগার ,গলার স্বরও একই।দাঁড়ি গোফ থাকায় মুখের চেহারা অন্যরকম দেখালেও চোখের দৃষ্টি কিন্তু একই রকম।
-কিন্তু কিছুদিন আগে ছেলেটার কথা বলতে তুমিই তো বলেছিলে ,সে নাকি ভার্সিটির একটা মেয়েকে খুন করে বিদেশে পালিয়ে গেছে।দৈনিক পেপারগুলোতেও খবরটা বেরিয়েছি-কিন্তু কিছুদিন আগে ছেলেটার কথা বলতে তুমিই তো বলেছিলে ,সে নাকি ভার্সিটির একটা মেয়েকে খুন করে বিদেশে পালিয়ে গেছে।দৈনিক পেপারগুলোতেও খবরটা বেরিয়েছিল।
-হ্যাঁ,ঠিক বলেছেন,আমার কি মনে হচ্ছে জানেন -হ্যাঁ,ঠিক বলেছেন,আমার কি মনে হচ্ছে জানেন দাদু?
-কি?
-রাসেল বিদেশে পালিয়ে যায় নি।নাম পাল্টে এই গ্রামে খাদেমের চাকরি করছ-রাসেল বিদেশে পালিয়ে যায় নি।নাম পাল্টে এই গ্রামে খাদেমের চাকরি করছে।
-শুধু অনুমানের ভিত্তিতে কাউকে দোষী ভাবা ইসলামে নিষধ।হাদিসে আছে,রাসূল (সাঃ) বলেছ-শুধু অনুমানের ভিত্তিতে কাউকে দোষী ভাবা ইসলামে নিষধ।হাদিসে আছে,রাসূল (সাঃ) বলেছেন,
#অধিক_সত্‍_ধারনা_হইতেও_সতর্ক_থাকিও_কেননা_ধারনা_অনেক_সময়_মিথ্যা_হয়।
-আমিতো আর জোর দিয়ে কিছু বলছি না।আমি বেশ কিছুদিন এখানে থাকব।এর মধ্যে যাচাই করে দেখব।
-তা করতে পার,তবে যদি সত্য প্রমান হয়,তাহলে আমাকে না জানিয়ে কিছু করতে যেও না।মনে রেখ,আমান যেন বুঝতে না পারে তুমি তাকে চিনে ফেলেছ।তাহলে তোমাকেও খুন করে নিরুদ্দেশ হয়ে যাবে।
-আচ্ছা,আপনাকে যেগুলো জানতে বললাম,ওগুলো জানার চেষ্টা করেন।আচ্ছা ওনি কি আপনাকে খুব এড়িয়ে চলেন-আচ্ছা,আপনাকে যেগুলো জানতে বললাম,ওগুলো জানার চেষ্টা করেন।আচ্ছা ওনি কি আপনাকে খুব এড়িয়ে চলেন?
-না,বরং আমার সঙ্গে সম্পর্ক খুব ভালো ।প্রায় প্রতিদিন এসে খোঁজ খবর,বাজারহাট করে দিয়ে যায়।মনে হয় লেখাপড়া বেশ ভালই করেছে।মসজিদের যত হিসেব সব ঐই করে দেয়।কোনো সার্টিফিকেট,কতদূর লেখাপড়া করেছে,এমনকি বাড়ির ঠিকানা পর্যন্ত দেয়নি বলে কমিটির সদস্যরা কেউ রাখতে চায়নি।পরদিন সকালে বাড়িতে এসে পায়ে পড়ে খুব কান্নাকাটি করেছিল।তাবাসসুম বিবি আড়াল থেকে দেখে তার জন্য সুপারিশ করে।কি আর করা,তাবাসসুম বিবির কোনো কিছুই আমি না করি নি।তাই তার সুপারিশ গ্রহণ করে আমানের জামিন হয়ে কমিটির সদস্যদের রাজি করিয়েছি-না,বরং আমার সঙ্গে সম্পর্ক খুব ভালো ।প্রায় প্রতিদিন এসে খোঁজ খবর,বাজারহাট করে দিয়ে যায়।মনে হয় লেখাপড়া বেশ ভালই করেছে।মসজিদের যত হিসেব সব ঐই করে দেয়।কোনো সার্টিফিকেট,কতদূর লেখাপড়া করেছে,এমনকি বাড়ির ঠিকানা পর্যন্ত দেয়নি বলে কমিটির সদস্যরা কেউ রাখতে চায়নি।পরদিন সকালে বাড়িতে এসে পায়ে পড়ে খুব কান্নাকাটি করেছিল।তাবাসসুম বিবি আড়াল থেকে দেখে তার জন্য সুপারিশ করে।কি আর করা,তাবাসসুম বিবির কোনো কিছুই আমি না করি নি।তাই তার সুপারিশ গ্রহণ করে আমানের জামিন হয়ে কমিটির সদস্যদের রাজি করিয়েছি।
-তোমার কথা শুনে মনে হচ্ছে,ছেলেটার অতীতের এমন কোনো ঘটনা আছে,যে জন্য নিজের সব কিছু গোপন রেখে-তোমার কথা শুনে মনে হচ্ছে,ছেলেটার অতীতের এমন কোনো ঘটনা আছে,যে জন্য নিজের সব কিছু গোপন রেখেছে।
-হ্যাঁ আমারও তাই বিশ্বাস।
-জানেন দাদু ছেলেটা আমার সাথে প্রায় দুবছর প্রেমের অভিনয় করেছিল।আমি তার অভিনয় ধরতে না পেরে তাকে ভীষন ভালোবেসে ফেলেছিলাম।ও ছিল প্রতারক।শুনেছি ভার্সিটির অনেক মেয়ের সঙ্গে না কি ওর সম্পর্ক ছিল।যদি আমাদের অনুমান সত্য হয় ,তাহলে ফাঁসিতে না ঝুলিয়ে ছাড়ছি -জানেন দাদু ছেলেটা আমার সাথে প্রায় দুবছর প্রেমের অভিনয় করেছিল।আমি তার অভিনয় ধরতে না পেরে তাকে ভীষন ভালোবেসে ফেলেছিলাম।ও ছিল প্রতারক।শুনেছি ভার্সিটির অনেক মেয়ের সঙ্গে না কি ওর সম্পর্ক ছিল।যদি আমাদের অনুমান সত্য হয় ,তাহলে ফাঁসিতে না ঝুলিয়ে ছাড়ছি না।
.
এমন সময় তাবাসসুম বিবি এসে বললেন,দাদা নাতিনে সারারাত গল্প করলে চলবে?ওরা খাওয়া দাওয়া করবে না?তারপর কুলসুমকে একটু উঁচু গলায় বললেন,ওদের খাওয়ার ব্যবস্থা কর।
জহির উদ্দিন বললেন,তুমি মনে করিয়ে না দিলে সত্যিই হয়তো সারারাত গল্প করে কাটিয়ে দিতাম।চল চল,ওদের খুব ক্ষিধে পেয়েছে।তারপর শ্রাবণীকে বলল,এ ব্যাপারে পরে আলাপ করা যাবে,,জহির উদ্দিন বললেন,তুমি মনে করিয়ে না দিলে সত্যিই হয়তো সারারাত গল্প করে কাটিয়ে দিতাম।চল চল,ওদের খুব ক্ষিধে পেয়েছে।তারপর শ্রাবণীকে বলল,এ ব্যাপারে পরে আলাপ করা যাবে,,,,,
(চলবে)
#ক্ষুদ্র_লেখক

#শ্রাবণী
#১২তম পর্ব
পরেরদিন মদন জেলে সকালে যখন জাল নিয়ে হাজির হল তখন জহির উদ্দিন নাতি নাতিনকে নিয়ে বাড়ির বাগানে প্রাতঃভ্রমন করছিলেন।
মদন জেলেকে দেখতে পেয়ে কাছে ডেকে বললেন,এরা কারা বলতে পার?
-মনে হয় আপনার নাতি নাতিন।
-জহির উদ্দিন হেসে উঠে বললেন,তুমি ঠিক বলেছ।এরা গত রাতে ঢাকা থেকে এসেছে।এতদিন শহরের বরফ দেয়া মাছ খেয়েছে,আজ পুকুরের টাটকা মাছ খাওয়াব।তাই তোমাকে আসতে বলেছি।
.
মদন অনেকক্ষন জাল ফেলে ৫,৬ কেজি ওজনের একটা বড় রুই মাছ ধরল।
শ্রাবণী ও পল্লব মাছ ধরা দেখছিল।পাড়ে তোলার পর মাছটা যখন চটাং চটাং শব্দ করে লাফাচ্ছিলো তখন তাদের আনন্দ ধরে না।এরকম দৃশ্য তারা কখনো দেখেনি।শ্রাবণী দাদাজিকে বলল
-গ্রামে না এলে এই দৃশ্য দেখতে পেতাম না।এবার থেকে প্রায় আসব।
তার কথা শুনে পল্লব বলল
-তোমার বিয়ে হয়ে গেলে তুমি শ্বশুরবাড়ি চলে যাবে।এখানে আর আসা হবে না।আমি প্রায়ই আসব।
-শ্রাবণী রেগে উঠে বলল,হয়েছে হয়েছে,তোকে আর জ্যাঠামী করতে হবে না।
.
বিকেলে চা খাওয়ার সময় শ্রাবণী দাদাজিকে বলল,আপনি বললেন,খাদেম সাহেব প্রতিদিন আসেন,কই আজ তো এলেন না?
-মাঝে মধ্যে সকালের দিকে আসে না।হয়তো সন্ধ্যের পর আসবে।
-আমার মনে হয়,আমি যতদিন থাকব আসবেন না।
-আমার কিন্তু তা মনে হচ্ছে না।
-দেখা যাক কার অনুমান ঠিক।
-অতঃপর পল্লবকে বলল,গ্রামটা একটু ঘুরে দেখি চল।
-পল্লব বলল,কাল কাদা ছেনে আমার শরীর ম্যাজম্যাজ করছে,আজ আবার কাদা ছানলে নির্ঘাত জ্বরে পড়ব।তোমারও যাওয়া ঠিক হবে না আপা,জ্বর হবে।
রাস্তার কাদার কথা শ্রাবণীর মনে ছিল না।তার কথা শুনে বলল,তুই ঠিকই বলেছিস।আমার শরীরটাও ম্যাজম্যাজ করছে।
.
এমন সময় আফজাল এসে জহির উদ্দিনের দিকে তাকিয়ে বলল,খাদেম এসেছে,আপনাকে ডাকছেন।
খাদেম এসেছে শুনে শ্রাবণী বলল,দাদু আমিও যাব।তারপর পল্লবকে বলল,তুইও যাবি না কি?
পল্লব বলল,না।
শ্রাবণী দাদুর সঙ্গে বৈঠকখানায় এল।
আমান বসেছিল,দাঁড়িয়ে সালাম দিলো।
জহির উদ্দিন সালামের উত্তর দিয়ে বসতে বলে নিজেও বসলেন।
শ্রাবণী দাদুর পাশে বসে আমানের আপাদমস্তক দেখতে লাগল।দাড়ি গোঁফ ছাড়া রাসেলের সঙ্গে কোনো পার্থক্য নেই।
আমান এক পলক শ্রাবণীর দিকে তাকিয়ে নিয়ে জহির উদ্দিনকে উদ্দেশ্য করে বলল,আপনার নাতি নাতিন এসেছে।বাজার করা লাগবে না।আজ হাটবার ভেবে সকালে আসিনি।
-তা তো লাগবেই,তবে মাছ কিনতে হবে না।মদন জেলে একটা বড় রুই মাছ ধরে দিয়েছে।কিছু আনাজপাতি লাগবে আর মুরগি কিনতে হবে।তারপর উঠে গিয়ে একটা ব্যাগ ও টাকা এনে আমানের হাতে দিয়ে বলল,রাতে রান্না করো না ভাত পাঠিয়ে দেব।আর শোন,কাল একটু সকালে এস।নাতি নাতিনকে গ্রাম ঘুরিয়ে দেখাবে।
জি আচ্ছা বলে আমান চলে গেল।
আমানের চলে যাওয়ার দিকে নাতনীকে তাকিয়ে থাকতে দেখে জহির উদ্দিন জিঙ্গেস করলেন,ওকে কাল রাতে দেখেছিলে,আজ দেখে কি মনে হল?
-আমার অনুমান আরো দৃঢ় হয়েছে।
-কাল তোমার কথা শুনে ওর ওপর সন্দেহ হলেও রাতে ঘুমাবার সময় চিন্তা করে দেখলাম,আমাদের সন্দেহ অমূলক।
-শ্রাবণী কপাল কুঁচকে বলল,প্রমান করুন।
-সত্যিই যদি ছেলেটা বেইমান ও খুনি হত,তাহলে ষ্টেশনে তোমাকে দেখেই কেটে পড়ত,যেচে তোমাদের পৌঁছে দিত না।তাছাড়া আজ আসার পর তুমি যে তার আপাদমস্তক দেখছিলে তখনও এতটুকু বিচলিত হয়নি এবং তার চেহারায় এতটুকু পরিবর্তনও হয়নি।বরং ধার্মিক ছেলের মতো তার চেহারায় লজ্জা ফুটে উঠতে দেখেছি।
-তুমি যতই তার সাফাই গাও না কেন,আমি হান্ড্রেড পার্সেন্ট সিওর,আমানই রাসেল।
.
আব্দুল খালেককে আসতে দেখে জহির উদ্দিন বললেন,দেখ তো ঐ লোকটাকে চিনতে পার কি না?
শ্রাবণী আগন্তুকের দিকে তাকিয়ে থেক বলল,আমি এখানকার কাউকে চিনি না,কি করে বলব?
ততক্ষনে আব্দুল খালেক কাছে এসে সালাম দিল।
-সালামের উত্তর দিয়ে বললেন,কি খবর আব্দুল খালেক?
-খবর এমন কিছু নয়।কাল থেকে ছোট নাতিটার খুব জ্বর।বৌমা বলল,খাদেম সাহেবকে ডেকে নিয়ে আসুন।ঝাড় ফুঁক ও পানি পড়া দিলে ভালো হয়ে যাবে।খাদেমকে আনতে গিয়ে শুনলাম,সে আপনার কাছে এসেছে।এখানে তো দেখছি নেই।তাহলে কি এখানে আসে নি?
-এসেছিল।একটু আগে হাটে পাঠালাম।মাগরিবের সময়তো মসজিদে পাবে।তখন নিয়ে যেও।তারপর নাতনীকে দেখিয়ে বললেন,একে চিনতে পারছ?
আব্দুল খালেক কিছুক্ষন শ্রাবণীর দিকে তাকিয়ে থেকে বললেন,না চিনতে পারছি না।তবে আপনার বংশের কেউ হবে।
-হ্যাঁ,তোমার অনুমান ঠিক।আমার নাতনী।তারপর শ্রাবণীকে বলল,উনি তোমার চাচা হন,সালাম দাও।
শ্রাবণী সালাম দিলে আব্দুল খালেক উত্তর দিয়ে বললেন,এবার মনে পড়েছে,মামণি ৫,৬ বছরের সময় মা বাবার সঙ্গে একবার এসেছিল,তখন দেখেছিলাম।এতো বছর পর কি আর চিনতে পারা যায়?
শ্রাবণী বলল,আচ্ছা চাচা,আপনার নাতির জ্বর হয়েছে,ডাক্তার আনাই তো উচিত ছিল।ঝাড়ফুঁকে কি জ্বর ভালো হয়?পাড়াগাঁয়ের মেয়েরা এসব বিশ্বাস করলেও আপনি করবেন কেন?
আমি ওসব বিশ্বাস করতাম না।তারপর মেয়ে রশিদাকে জিনে ধরার ও ভালো হওয়ার ঘটনা বলে বললেন,শুধু আমাদের গ্রামের নয়,আশেপাশের কয়েকটা গ্রামের কারোর অসুখ বা কাউকে জিনে ধরলে আমানকে দিয়ে ঝাড়ফুঁক করায়,পানিপড়া নেয়,আর তাতে কাজও হয়।
শ্রাবণী খুব অবাক হয়ে বলল,তাই না কি?
-এবার জহির উদ্দিন বললেন,এই এলাকার সবাই আমানকে আল্লাহর খাছ বান্দা ও কামেল ছেলে বলে জানে।
-তিনি যাই হন না কেন,চিকিত্‍সা বিঙ্গান জিন পরী,ঝাড়ফুঁক বিশ্বাস করে না।ওসব হল টাকা রোজগার করার ফন্দি।
-জিনের মেয়েজাতিকে পরী বলে,কুরআন হাদিসে উল্লেখ আছে।তাই প্রত্যেক মুসলমানের মতো তোমারও জিন পরীর কথা বিশ্বাস করা উচিত।
-জিন পরীর কথা কুরআন হাদিসে আছে,একথা কখনো শুনি নি।
-শোনার দরকার নেই।কুরআন হাদিসের বাংলা,ইংরেজিতে অনুবাদ ও ব্যাখ্যা আছে।পড়ে জেনে নাও।
-আপনার কাছে আছে?
-আছে।
-ঠিক আছে পড়ব।কিন্তু ঝাড়ফুঁকে অসুখ সারবে,একথা কোন বিঙ্গানই বিশ্বাস করে না।ওসব হলো টাকা রোজগার করার পদ্ধতি।
-আমান কিন্তু এসব করে কারো কাছ থেকে এক পয়সাও নেয় না।
কথাটা শুনে শ্রাবণী থতমত খেয়ে গেল।
তারপর সামলে নিয়ে বলল,ওঁর হয়তো অন্য মতলব আছে।
জহির উদ্দিন কিছু বলার আগে আব্দুল খালেক বলল,তোমার কি আমানের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে?মনে হয় হয়নি।হলে ধারনা পাল্টাতো।
-তেমন না হলেও হয়েছে।যেরকম উঁচু ধারনা করছেন,তার মধ্যে সেরকম কিছু দেখি নি।
আব্দুল খালেক বলল২,১বার দেখায় মানুষ চেনা যায় না,
(চলবে)

#শ্রাবণী
#১৩তম পর্ব
রাতে ঘুমাবার সময় আমানের কথা ভাবতে গিয়ে শ্রাবণীর রাসেলের কথা মনে পড়ল।তাকে কি প্রচন্ড ভালোবেসে ফেলেছিল।তার সঙ্গে প্রথম পরিচয় হয় ভার্সিটিতে অনের্সে ভর্তি হওয়ার দিন।সেদিন সেও ভর্তি হতে এসেছিল।তারপর রাসেলের সুন্দর হ্যান্ডসাম চেহারা ও তার বাকপটুতা তাকে চুম্বকের মতো আকর্ষন করত।শ্রাবণী প্রেম ভালোবাসার কথা বান্ধবীদের কাছে শুনে ঘৃনায় নাক সিটকাতো।সেই শ্রাবণী কিনা রাসেলকে অন্ধের মতো ভালোবেসে ছিল।তাকে অন্য মেয়েদের সঙ্গে মেলামেশা,হাসি ঠাট্রা ও রসের কথা বলে ঢলাঢলি করতে দেখলে জেলাসের আগুনে পুড়ত।এমনকি অনেক সময় তার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ত।তবু রাসেলের প্রতি একবিন্দু ভালোবাসা কমেনি।এভাবে দুবছর কেটে যাওয়ার পর একদিন তাকে বলল,তুমি শুধু আমার।পড়াশোনা শেষ হওয়ার আগে পর্যন্ত আমরা দুজন দুজনকে শুধু ভালবেসে যাব।তারপর বিয়ের মাধ্যমে ভালবাসার সাগরে হাবুডুবু খাব।
-তার কথা শুনে রাসেল কিছুক্ষন হাসিতে ফেটে পড়ল।তারপর হাসি থামিয়ে বলল,ভালোবাসার সাগর কাকে বলে জান?
-জানব না কেন?
-প্রমান দিতে পারবে?
-অফকোর্স।প্রয়োজনে প্রাণ উত্‍সর্গ করে প্রমাণ দিতে পারব।তবে আমার একটা অনুরোধ তোমাকে রাখতেই হবে।
-বল,কি তোমার অনুরোধ।
অন্য মেয়েদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে মেলামেশা করবে না।
-রাসেল আবার হাসিতে ফেটে পড়ল।তারপর হাসি থামিয়ে বলল,তোমার খুব জেলাস হয় বুঝি?
-জেলাস হওয়ার কথা নয় কি?আমি যদি অন্য ছেলেদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে মেলামেশা করি,তাহলে তোমার জেলাস হবে না?
-চুপ
-চুপ করে আছ কেন?জেলাস হবে কি না বললে না যে?
-তোমার কথাটাই বলি,জেলাস হওয়ার কথা নয় কি?
এক কথায় দুজনেই হেসে উঠল।
-হাসি থামিয়ে শ্রাবণী বলল,তোমার কথা দাদুকে বলেছি।বললেন,একদিন বাসায় নিয়ে আসিস,দেখব ছেলেটাকে।
-ঠিক আছে ,একদিন যাব।তার আগে তোমাকে আমার বাসায় নিয়ে গিয়ে মায়ের সঙ্গে পরিচয় করিয় দেব।তারপর কিছুক্ষন চিন্তা করে বলল,সামনের শুক্রবায় তুমি কি যেতে পারবে?
-শ্রাবণী আনন্দে আত্নহারা হয়ে বলল,হ্যাঁ পারব,কখন?
-দুপুরে টি.এস.সিতে এস,একসঙ্গে যাব।
-ঠিক আছে আসব।
-গুড গার্ল বলে জড়িয়ে ধরে শ্রাবণীর গালে কয়েকটা চুমো খেয়ে বলল,কথাটা ভুলে যেও না যেন!তারপর তাকে ছেড়ে দিয়ে যাওয়ার সময় বলল,কিছু মনে করোনা ভালোবাসার অল্পেকটু প্রতিদান দিলাম।
এরকম ঘটনা ভার্সিটির ক্যাম্পাসে ও তার আশেপাশে শ্রাবণী অনেক দেখেছে,কিন্তু তার জীবনে এই প্রথম ঘটল বলে তনু মন যেমন শিহরীত হল,তেমনি লজ্জাবোধ করল।চারদিকে তাকিয়ে দেখল কেউ দেখেনি বলে স্বস্তি পেল।
.
শুক্রবার শ্রাবণী মাকে এক বান্ধবীর বাসার নিমন্ত্রনের কথা বলে বারটার সময় টি.এস.সিতে এল।আজ এখানে ভিড় কম।তাই রাসেলকে খুঁজেপেতে অসুবিধা হল না।
-রাসেল বলল,তোমার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম,চল যাই।
.
রাসেল বড়লোকের একমাত্র ছেলে।তার বাবা মারা যাওয়ার পর কলেজের পলিটিক্সে জড়িয়ে বেলাইনে চলে যায়।বাবার ব্যবসা এখন রাসেলের মা দেখেন।
রাসেল ছাত্র হিসেবে খুব ভালো ।এইচ.এস.সিতে মেধা তালিকায় স্থান পেয়ে ফিজিক্সে ভার্সিটিতে অনার্স করছে।তার মা গাড়িতে অফিসে যাতায়াত করলেও এই দুটো সময় ছাড়া রাসেলই বেশি ব্যবহার করে।
আজ শ্রাবণীকে নিয়ে গাড়িতে আসার সময় রাসেল বলল,তোমাকে উপলক্ষ্য করে অন্যান্য বন্ধু বান্ধবীদের নিমন্ত্রন করেছি।তারা হয়তো এতক্ষনে এসে পড়েছে।কিন্তু দুঃখের বিষয় মা বাসায় নেই,,,,,,
(চলবে)
#ক্ষুদ্র_লেখক

#শ্রাবণী
#১৪তম পর্ব
রাসেলের মা নেই শুনে শ্রাবণীর মন খারাপ হয়ে গেল।কিছু না বলে চুপ করে রইল।
আসলে শ্রাবণীকে ভোগ করার জন্য মিথ্যে করে মা তাকে দেখতে চেয়েছে বলে এক বন্ধুর বাসায় নিয়ে যাচ্ছে এবং এখন যা কিছু বলল সব মিথ্যে।ঐ বন্ধুর নাম সুমন।সুমনও বেলাইনে চলে।তার বড় বোন ও দুলাভাই আমেরিকায় থাকে।পনের বিশ দিন হল সুমনের মা,বাবা ও দুই ভাই বোন সেখানে গেছে।রাসেল যখন শ্রাবণীর কথা সুমনকে জানিয়ে সব কিছু ম্যানেজ করতে বলে তখন বাসায় কেউ না থাকায় সুমন রাজি হয়ে যায় এবং বেলাইনের বন্ধু বান্ধবদের নিমন্ত্রন করে।
.
করিডোরে গাড়ি পার্ক করে রাসেল নেমে শ্রাবণীর দিকে দরজা খুলে বলল,এস।
শ্রাবণী গাড়ি থেকে নেমে তার সঙ্গে একটা বড় হল রুমে ঢুকল।চারপাশে তাকিয়ে বুঝতে পারল,এরা তাদের চেয়ে বড়লোক।ঘরের আসবাবপত্র ও অন্যান্য সব কিছুর মধ্যে উন্নত রুচির নিদর্শন রয়েছে।রুমটার একপাশ থেকে দোতলার সিঁড়ি।পুরো রুমটা ও সিঁড়িতে দামি কার্পেটে ঢাকা।
এমন সময় একজন আধা বয়সী আয়া এসে বলল,আপনার বন্ধুরা পাশের রুমে আছে।
রাসেল শ্রাবণীকে নিয়ে পাশের রুমে ঢুকে বলল,
-কিরে,তোরা আমাদের আগেই এসে গেছিস দেখছি?
শ্রাবণী ঢুকেই লক্ষ্য করল,এ রুমটাতেও শুধু দামি কার্পেট বিছানো নয়,এয়ারকন্ডিশন করাও ।দুটো টেবিলে চারটে ছেলে ও চারটে মেয়ে জোড়ায় জোড়ায় তাস খেলছে।প্রত্যেক টেবিলের পাশে টি টেবিলে দুটো বোতল ও চারটে গ্লাস রয়েছে।তার মনে হল বোতলগুলো মদের।
-রাসেলার কথা শুনে সবাই  তাদের দিকে তাকাল।প্রথমে সুমন বলল,তোদের আসতে দেরি হল কেন?আমরা একটা থেকে অপেক্ষা করছি।
-রাসেল বলল,শ্রাবণী একটার সময় এসেছে।তারপর আসতে যা দেরি।তারপর শ্রাবণীকে দেখিয়ে বলল,আশা করি পরিচয় করিয়ে দিতে হবে না।
-রাজিব নামে অন্য এক বন্ধু বলল,তুই খুব ভাগ্যবান।আমাদের চেয়ে তোর মালটা দারুণ।
-মুখ সামলে কথা বল শালা।মনে হয় মাল বেশি টেনেছিস।
-মাল খাব,ফুর্তি করব,সে জন্যই তো এখানে আসা।তারপর পাশের মেয়েটির দিকে তাকিয়ে বলল,তাই না ডার্লিং।
-পরিবেশে অন্য দিকে বাঁক নিচ্ছে দেখে সুমন বলল,কি সব আজেবাজে কথা বলছিস তোরা।তারপর রাসেলকে উদ্দেশ্য করে বলল,খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা কর।
-রাসেল শ্রাবণীকে বলল,তুমি একটা টেবিলে বস.আমি আয়াকে খাবার দিতে বলি।
সুমন ছাড়া রাসেলের অন্যান্য বন্ধু বান্ধবীদের দেখে শ্রাবণী খুশি হতে পারেনি।সেও মর্ডান কিন্তু চারটে বান্ধবীর শালীনতাহীন পোশাক দেখে তার মনে হল,এরা কেউ ভালো মেয়ে নয়।অন্য তিন বন্ধুকেও তাই মনে হল।মনের মধ্যে কেমন যেন ভয় করতে লাগল।রাসেল এদের সঙ্গে বসতে বলায় সেই ভয়টা আরো বেড়ে গেল।তার একটা হাত ধরে বলল,তুমি আমার পাশে বসে অন্য কাউকে খাবার দেয়ার কথা বলতে পাঠাও।
রাসেল ওর নার্ভাসনেস বুঝতে পেরে সুমনকে চোখ টিপ দিয়ে বলল,
-তুইতো এ বাড়ির ছেলের মতো,তুই গিয়ে ব্যবস্থা করে আয়।
খাওয়ার পর সুমন প্রত্যেক টেবিলে একটা করে মদের গ্লাস পরিবেশন করল।
রাসেল মদ খায় ,শ্রাবণী কল্পনাও করেনি।তাকে গ্লাসে মদ ঢালতে দেখে ভয়ার্তকন্ঠে বলল,
-তুমি মদ খাও?
-রাসেল পুরো গ্লাস গলায় ঢেলে ঢেকুর তুলে অট্রহাসি হেসে বলল,শুধু আমি খাই না,দেখছ না ওরা সবাই খাচ্ছে?তুমিও খাও বলে গ্লাসে মদ ঢেলে তার দিকে এগিয়ে ধরল।
-শ্রাবণী এখানে আসার পর বুঝতে পেরেছে,এরা বড়লোক শিক্ষিত ছেলে হলেও এদের চরিত্র বলে কিছু নেই ।তারপর থেকে চিন্তা করছে যেভাবেই হোক এখান থেকে চলে যেতে হবে।রাসেলের ধরা মদের গ্লাসটা টেবিলের উপর রেখে বলল,আমি মদ খাই না।তুমি মদ খাও ভাবতেই পারছি না।
-রাসেল গ্লাসটা খালি করে বলল,বড়লোকের শিক্ষিত মেয়ে হয়ে তুমি মদ খাও না আমিও ভাবতে পারছি না।জান না ,ধনী ও উচ্চ ফ্যামিলির সবাই মদ খায়?যাক আজ থেকে শুরু কর বলে আধা গ্লাস মদ ঢেলে বলল,নাও এটুকু খেয়ে ফেল দেখি।
-না খাব না।আমি চলে যাচ্ছি বলে শ্রাবণী দাঁড়িয়ে উঠে যাওয়ার উপক্রম করল যেই অমনি,,,,,,
(চলবে)
#ক্ষুদ্র_লেখক

#শ্রাবণী
#১৫তম পর্ব
{রাসূল (সাঃ) বলেছেন নিশ্চয়ই অশ্লীল কথা,অশ্লীল কাজ এবং অশ্লীলতার অভিনয় ইসলামে ইহার কোন স্থান নেই।}
.
-রাসেল খপ করে তার একটা হাত ধরে বসিয়ে দিয়ে বলল,প্লিজ সিন ক্রিয়েট করে বন্ধুদের সামনে আমাকে ছোট করো না।দেখছ না,ওদের সঙ্গিনীরা কেমন গ্লাসের পর গ্লাস চালিয়ে যাচ্ছে?
ততক্ষনে সুমন ছাড়া সবাই হো হো করে হেসে উঠল।একজন হাসি থামিয়ে বলল,কিরে দোস্ত তোরটা একেবারে আনকোরা মনে হচ্ছে?একে নিয়ে সোসাইটিতে মিশবি কি করে?
-সুমন বলল,এত হাসাহাসির কি আছে?আমাদের গুলোওতো প্রথমে আনকোর ছিল।আমরা যেমনি ওদের উপযুক্ত করে নিয়েছি,রাসেলও তেমনি করবে।
-রাসেল এবার বলল,শুনলে তো ওদের কথা?এবার অল্প একটু খেয়ে সবার মুখ বন্ধ করে দাও।তারপর গ্লাসে সিকিভাগ ঢেলে বলল,নাও লক্ষী মেয়ের মতো খেয়ে ফেল।
-ঘৃনায়,লজ্জায় ও ভয়ে শ্রাবণীর কান্না পেতে লাগল।কোন রকমে সামলে নিয়ে বলল,প্লিজ রাসেল,জিদাজিদি করো না।অন্যদিন শুরু করব।আজ কিছুতেই খেতে পারব -ঘৃনায়,লজ্জায় ও ভয়ে শ্রাবণীর কান্না পেতে লাগল।কোন রকমে সামলে নিয়ে বলল,প্লিজ রাসেল,জিদাজিদি করো না।অন্যদিন শুরু করব।আজ কিছুতেই খেতে পারব না।
-রাসেল কয়েক সেকেন্ড চিন্তা করে বলল,ঠিক আছে চল।তোমাকে গাড়িতে তুলে দিই।তারপর শ্রাবণীর একটা হাত ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় বলল,তোরা চালিয়ে যা,আমি আসছি।
সিঁড়ির কাছে এসে দাঁড়িয়ে পড়ে রাসেল বলল,দাদির সঙ্গে দেখা করে তারপর যাবে।উনি খুব বৃদ্ধা।চলাফেরা করতে পারে না।সব সময় শুয়ে থাকে।তখনও রাসেল শ্রাবণীর হাত ধরে ছিল।কথা শেষ করে সাতে টান দিয়ে বলল,কই এস।
শ্রাবণীর মন খুব ভেঙে গেছে।এখানকার পরিবেশ দেখে রাসেলের প্রতি যে ভালোবাসার প্রচন্ড ভালোবাসার টান ছিল,তা আর নেই।তার কোনো কথাই যেন বিশ্বাস করতে পারছে না।ইচ্ছা হল হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে ছুটে পালিয়ে যেতে।সেটা সম্ভব নয় ভেবে অনিচ্ছা সত্ত্বেও দোতলায় উঠে বলল,দাদি কোন রুমে থাকেন?
-ঐ যে ঐ রুমে বলে দুটো রুম পার হয়ে তৃতীয় রুমটায় ঢুকে দ্রুত দরজা বন্ধ করে ছিটকিনি লাগিয়ে দিল।
-রুমে কেউ নেই দেখে মতলব বুঝতে পেরে শ্রাবণী আঁত্‍কে উঠে বলল,এ রুমে তো কেউ নেই?তারপর দরজার ছিটকিনি লাগাবার শব্দ শুনে ঘুরে আরো ভয় পেল।তবু সাহস করে বলল,একি দরজা বন্ধ করলে কেন?
-ন্যাকা মেয়ে কিছুই বোঝো না যেন।আমাকে না তুমি প্রচন্ড ভালোবাস।তার প্রমান আজ দেবে।তারপর তাকে পাঁজাকোলা করে খাটে শুইয়ে জড়িয়ে ধরে আদর করতে লাগল।
-শ্রাবণী খুব ভয় পেলেও বিবেক হারাল না।চিন্তা করল,এই পশুটার হাত থেকে উদ্ধার পেতে হলে বুদ্ধি খাটাতে হবে।বলল,তোমাকে যখন ভালবেসেছি তখন আমার সব কিছু তো তোমারই।আমাকে পাওয়ার জন্য মিথ্যের আশ্রয় নেয়ার প্রয়োজন ছিল না।সরাসরি সত্যি কথাটাই বলতে পারতে।তারপর দুহাতে মুখ ঢেকে কাঁদকাঁদ স্বরে বলল,তোমার মুখে মদের গন্ধ।সরে যাও,নচেত্‍ বমি করে বিছানা নষ্ট করে ফেলব।তাড়াতাড়ি ছাড়,বাথরুমে যাব।
রাসেল এর আগে রোহিনী নামে একটা মেয়েকে ভালোবাসার ফাঁদে ফেলে এখানে নিয়ে এসে ভোগ করতে চেয়েছিল।সেও এরকম কথা বলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিল।তারপর রোহিনী আর ভার্সিটিতে আসেনি।রাসেল খোঁজ নিয়ে জেনেছিল তার বিয়ে হয়ে গেছে।আজ শ্রাবণীর কথা শুনে তার রোহিনীর কথা মনে পড়ল।ভাবল,শ্রাবণীও তার মতো ফন্দি খাটিয়ে পালাবে না তো?তাই তাকে ছেড়ে দিয়ে বলল,যদি পালাবার মতলব কর,তাহলে কপালে খারাবি আছে।তারপর ফ্রিজ থেকে মদের বোতল বের করে গ্লাসে ঢালতে লাগল।
-শ্রাবণী তার কথায় দমল না।বলল,এ তুমি কি বলছ?তোমাকে বলেছিলাম না প্রাণ দিয়ে হলেও ভালোবাসার পরীক্ষা দেব?ঠিক আছে,বিশ্বাস না হলে মদের গ্লাসটা দাও খেয়ে প্রমান করব।কথা শেষ করে তার হাত থেকে মদভর্তি গ্লাসটা নিয়ে রাসেলের চোখে ঝাপটা মারল।তারপর বিদ্যুত্‍ গতিতে দরজার ছিটকিনি খুলে বেরিয়েই বাইরের ছিটকিনি লাগিয়ে দিয়ে তরতর করে সিঁড়ি ভেঙে নেমে ছুট দিল।গেটের বাইরে এসেও ছুটতে লাগল।পেছনে স্কুটার আসার শব্দ পেয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে থামাবার জন্য হাত বাড়াল।স্কুটার থামার পর তাড়াতাড়ি উঠে হাঁপাতে হাঁপাতে ঠিকানা বলে বলল,গুন্ডারা আমার পেছনে লেগেছে,খুব স্পিডে চালান।
ড্রাইভার স্কুটার ছেড়ে স্পিড বাড়িয়ে বলল,ওরা আর আমাদের নাগাল পাবে না।
বাসায় পৌঁছে শ্রাবণী অঙ্গান হয়ে গিয়েছিল।ডাক্তার নিয়ে এলে তিনি পরীক্ষা করে বললেন,কোনো কারনে খুব ভয় পেয়ে ঙ্গান হারিয়েছে।কিছুক্ষনের মধ্যে ঙ্গান ফিরে আসবে,,,,,,
(চলবে)

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ