#শ্রাবণী
#৬ষ্ঠ পর্ব
কিছু দূর এসে মফিজ আবার বলল,ঐযে মসজিদের পাশে বেড়ার যে ঘরটা দেখছেন ঐ ঘরে উনি থাকে।আপনি যান,আমি যাব না।আমাকে দেখলে ভাববে আমি আপনাকে সব বলেছি।এমনিতেই আপনার শ্বশুরকে কথাটা বলেছি বলে সে আমার ওপর অসন্তুষ্ট।
ইলিয়াস দাঁড়িয়ে পড়ল,আর বলল কথাটা বলে ভালো করেছেন।আমি ভেবেছিলাম ওনাকে কিছু টাকা দেব।কিন্তু যখন আমার শ্বশুরের কাছ থেকে নেননি তখন আমার কাছ থেকে নেবে এ কথা ভাবাই যায় না।আপনি যান,আমি একটু আলাপ পরিচয় করে আসি।
ইলিয়াস দরজার কাছে এসে বলল,খাদেম সাহেব আছেন নাকি?
আমান প্রতিদিন নাস্তা খেয়ে এমন সময় একটু ঘুমায়।আজও ঘুমিয়েছিল।ইলিয়াসের গলার আওয়াজ পেয়ে বলল কে?
-আমি আব্দুল খালেকের জামাই ইলিয়াস।
-আমান দরজা খুলে সালাম দিয়ে ১ ২ সেকেন্ড তার আপাদমস্তক দেখে ভেতরে এসে বসতে বলল।
-সালামের উঃ দিয়ে ইলিয়াস এসে চৌকিতে বসল।
-আমান কুশল বিনিময় করে বলল বড়লোকের ছেলে বড়লোকের জামাই।হঠাত্ আমার কাছে কেন?
-ইলিয়াস মফিজের কথা না বলে বলল,শ্বশুরের মুখে শুনেছি আপনার গুনের কথা।গুনি লোকের সাথে দেখা করা সওয়াবের কাজ।তাই দেখা করতে এলাম।
-কথাটা ঠিক হলেও আমি সেরকম গুনী নই।এসব কথা থাক,আপনার স্ত্রী কি এখন সম্পূর্ন সুস্থ?
-জি কথাটা শুনে দেখতে এলাম।এখন সম্পূর্ন সুস্থ।
-আলহামদুলিল্লাহ,
আপনি জামাই মানুষ এসেছেন,খাতির যত্ন করা উচিত।বিস্কুট আছে,একটু বসুন চা করি।
-ওসব কিছু লাগবে না।তারপর পকেট থেকে কিছু টাকা বের করে আমানের হাতে দিয়ে তাদের জন্য দোয়া করতে বলল।
-আমান টাকা না নিয়ে বলল আমাকে টাকা দিচ্ছেন কেন?আমি গোনাহগার এক বান্দা।আমার দোয়ায় কোন কাজ হবে না।
(ইসলামিক কিছু কথা)-
দোয়া করে টাকা নেয়া জায়েয নেই।একটা কথা মনে রাখবেন দোয়া একটি নফল ইবাদত।আপনিই বলুন ইবাদত করে টাকা নেয়া কি উচিত?যে কোন ইবাদাত অন্যকে দিয়ে করান যায় না।তবে হ্যাঁ,মুসলমান ভাই হিসেবে অপরের কাছে দোয়া চাইতে পারে তাই বলে দোয়া করার জন্য টাকা দেয়া মোটেই উচিত নয়।তাই বলছি আপনার যা কিছু প্রয়োজন তা আল্লাহর কাছে আপনি নিজে চাইবেন।অনেকে কোরআন খতম করে,সোয়া লাখ কলেমা তৈয়েবা পড়ে মসজিদের ইমাম সাহেবকে কিছু টাকা দিয়ে বলে, হুজুর আমি বা আমার বৌ অথবা আমার ছেলেমেয়ে এক খতম বা দুই খতম কুরআন পড়েছি,আপনি আমার মা বাবা এবং মুরব্বিদের নামে বখশিশ দেবেন।
আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষই জানে না,এভাবে টাকার বিনিময়ে কোন খতম পড়ানো,দোয়া ইত্যাদি জায়েয নেই।আর টাকার বিনিময় হুজুর দোয়া.......
(চলবে)
#শ্রাবণী
#৭ম পর্ব
গুরুত্বপূর্ন ইসলামিক কথাবার্তা-
আমান ইলিয়াসকে বলতে লাগল,আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষ জানে না,এভাবে কাউকে দিয়ে কোনো খতম করান বা বখশিসের জন্ট টাকা দেয়া নেয়া জায়েয নেই।আর টাকা নিয়ে হুজুর করলেও তা আল্লাহর করবারে পৌঁছাবে না।আরো জানে না,যে কেউ মরহুম মরহুমা মা বাবা দাদা দাদি ও মুরব্বিদের মাগফিরাতের নিয়তে যে কোনো খতম পড়বে তা পড়া শেষ হতেই আল্লাহ তার জা জা মরহুম মরহুমার রুহে পৌঁছে দেবেন।তারপর নিজে কেঁদে তাদের জন্য দোয়া করলে আল্লাহ তার জা জা জীবিত মৃত সবাইকে দান করবেন।অনেকে বলে থাকে আমারা খতম বখশাবার দোয়া জানি না।একথাটা একেবারে অবান্তর।আল্লাহ মানুষের অন্তরের খবর জানেন,যা নিয়ত করবেন আল্লাহ তাও জানেন।তিনি পৃথিবীতে যত ভাষা আছে সব ভাষা জানেন ও বোঝেন।যারা কুরআন পড়তে জানে না,তারা কয়েকবার আস্তাগফিরুল্লাহ,একবার সূরা ফাতেহা,তিনবার সূরা ইখলাস ও এগারবার দরুদ শরীফ পাঠ করে মরহুম মরহুমাদের জন্য দোয়া করবেন।আমাদের দেশে টাকা দিয়ে দোয়া চাওয়া বা খতম পড়ানো ও বখশানোর প্রথা চালু আছে তা বেদাত।আল্লাহর নবির নাম ইলিয়াস আঃ।নবির নামে আপনার নাম।আশা করি কোন বেদাতকে অনুসরন করবেন না।যাই হোক মনে কিছু নেবেন না।আপনি হয়তো বিরক্ত হচ্ছেন।ভাবছেন,এ কেমন মানুষ রে বাবা,সামান্য দোয়া করারা কথা বলতে লম্বা চওড়া বক্তৃতা শুনিয়ে দিলেন।
ইলিয়াস বলল না না,কিছু মনে করব কেন?বিরক্তইবা হব কেন?আপনি খুব মূল্যবান কথা বলেছেন।অনেকক্ষন বেরিয়েছি এবার যাই।যাওয়ার আগে যদি বলি আল্লাহ আমাদেরকে যেন সব রকমের বালামুসিবত থেকে রক্ষা করেন সেই দোয়া করবেন,তা হলে কি ভুল হবে?
আমান বলল না ভুল হবে না।এবার আসুন।আমার কাজ আছে।
এখানে আসার আগে মফিজের কথা শুনে ইলিয়াস ভেবেছিল খাদেম সাহেব বয়স্ক হবেন।কিন্তু তাকে ২৯ ৩০ বছরের যুবক দেখে বেশ অবাক হয়েছিলেন।তারপর তার সঙ্গে পরিচিত হয়ে আরো বেশি অবাক হয়েছে।ফিরে আসার সময় চিন্তা করল,মনে হয় উনি মস্ত বড় আলেম,কিন্তু মসজিদের সামান্য খাদেমের কাজ করছেন কেন?
আজকালের আলেম ও হাফেজরা কুরআন খতম করে,দোয়ার মাহফিল করে টাকা নেয় .আর উনি কিনা সেসব জায়েয নেয় বললেন।তা হলে আলেম ও হাফেজরা এসব করে টাকা নিচ্ছে কেন?
চিন্তা করে কিছু মীমাংসা করতে না পেরে ভেবে রাখল,কোনো বড় আলেম বা মুফতির কাছে খাদেম সাহেবের কথা যাচাই করতে হবে।.....
(চলবে)
#শ্রাবণী(মহাপর্ব)
#৮ম পর্ব
দা ভাঙ্গা রেল ষ্টেশন থেকে রইসপুর গ্রাম প্রায় ৪ কিঃমিঃ।ষ্টেশন মাস্টার মহিম চৌধুরী স্ত্রীকে নিয়ে কোয়ার্টারে থাকে।তার কোন সন্তান নেই। অজপাড়াগাঁয়ে এই ষ্টেশন।সারাদিনে মাত্র ২টা প্যাসেনজার ট্রেন আসে।একটা সকালে আরেকটা বিকালে।সেই সময় কিছু লোকজন দেখা যায়।একটা চায়ের দোকান আছে।অন্যসময় গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষ চা খেতে আসে।আজ বিকেলের ট্রেন লেট করায় সন্ধ্যে সাতটায় এসে পৌঁছাল।আস্তে আস্তে ষ্টেশন ফাঁকা হয়ে গেল।মাস্টার যখন অফিস রুমে ফেরার উপক্রম হলেন,তখন একটা ২৪-২৫ বছরের মেয়ে ১৫-১৬ বছরের ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে এসে বলল,এইযে শুনুন?
মহিম চৌধুরী সুরেলা কন্ঠ শুনে তাদের দিকে তাকিয়ে জিঙ্গেস করলেন,আপনারা এই ট্রেনে এসেছেন?
মেয়েটি কিছু না বলে ২টা টিকিট বাড়িয়ে দিল।
-মহিম চৌধুরী টিকিট ২টা নিয়ে আবার বলল,যাবেন কোথায়?
-রইসপুর।
-মহিম চৌধুরী এবার ভালো করে দেখে বললেন,মনে হচ্ছে এই প্রথম এসেছেন?
-জি।
-প্রায় ৪কিঃমিঃপথ,যাবেন কি করে?কাঁচা রাস্তা বৃষ্টিতে কাদা হয়ে গেছে।অন্ধকারে যেতে খুব কষ্ট হবে।তা কার বাড়িতে যাবেন?
-প্রফেসর জহির উদ্দিনের বাড়িতে।
-উনি কি হন?
-দাদাজি।
-তাই না কি?আগে বলবেন তো।আসুন ভেতরে বসুন,তারপর একটা ব্যবস্থা করা যাবে।
.
আমান এক সপ্তাহের ছুটি নিয়ে বাড়ি গিয়েছিল।এই ট্রেনেই ফিরেছে ।ট্রেন থেকে নেমে একটা সুন্দরী যুবতি মেয়ের সঙ্গে ১৪১৫ বছরের ছেলে দেখে ভাবল,এরা কারা?গার্জেন নেই।এই অন্ধকারে যাবে কি করে?কোন গ্রামেই বা যাবে?তারপর ষ্টেশন মাস্টারের সাথে কথা বলতে দেখে অল্প দূর থেকে সবকিছু শুনে কাছে এসে মহিম চৌধুরীকে সালাম দিয়ে বলল,কেমন আছেন?চাচা।
মহিম চৌধুরী আমানকে চেনেন।সালামের উত্তর দিয়ে বললেন,ভালো আছি।তারপর স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে ছেলেমেয়ে দুটির দিকে তাকিয়ে বললেন,আর কোনো চিন্তা নেই।আপনারা ইনার সঙ্গে যেতে পারবেন,ইনি রইসপুর মসজিদের খাদেম।
.
মেয়েটি আমানকে সালাম দিতে গিয়ে তার মুখের দিকে তাকিয়ে হা করে তাকিয়ে রইল।
মহিম চৌধুরী তাকে ঐভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে বললেন,ওনাকে আমি চিনি।আপনারা ওনার সঙ্গে নিশ্চিন্তে যেতে পারেন।
আমান মেয়েটির দিকে একবার তাকিয়ে দৃষ্টি সরিয়ে নিয়েছিল।মহিম চৌধুরীর কথা শুনে মেয়েটিকে উদ্দেশ্য করে বলল,আপনার চিন্তার কোনো কারন নেই ।প্রফেসর আমাকে চাকরিটা দিয়েছেন।ওনার বাড়ির কাছেই আমি থাকি ।
.
আমানের মুখের দিকে তাকিয়ে রাসেলের কথা মনে পড়ল #শ্রাবণীর ।
ছেলেটা দেখতে ঠিক রাসেলের মতো ।তারসঙ্গে দুইবছর প্রেম করে বান্ধবী সুমিকে বিয়ে করতে চেয়েছিল।সুমি রাজি না হওয়ায় তাকে খুন করে নিরুদ্দেশ হয়ে গেছে ।সে আজ থেকে প্রায় তিন চার বছর আগের কথা ।তাহলে ইনিই কি রাসেল?
নাম বদল করে এই অজপাড়াগাঁয়ের মসজিদে খাদেমের চাকরী করছে?
(চলবে)
#শ্রাবণী
#৯ম পর্ব
মেয়েটিকে চুপ করে থাকতে দেখে আমান আবার বলল,কই চলুন,রাত হয়ে যাচ্ছে তো।
তবু মেয়েটি একদৃষ্টে আমানের দিকে তাকিয়ে রয়েছে দেখে মহিম চৌধুরী বুঝতে পারলেন,আমানকে বিশ্বাস করতে পারছে না।তাই বললেন,আপনার দাদাজির মুখে শুনেছি উনি খুব সত্ ও বিশ্বাসী ছেলে।কোনো দুশ্চিন্তা করবেন না,আপনারাতবু মেয়েটি একদৃষ্টে আমানের দিকে তাকিয়ে রয়েছে দেখে মহিম চৌধুরী বুঝতে পারলেন,আমানকে বিশ্বাস করতে পারছে না।তাই বললেন,আপনার দাদাজির মুখে শুনেছি উনি খুব সত্ ও বিশ্বাসী ছেলে।কোনো দুশ্চিন্তা করবেন না,আপনারা যান।
তার কথা শেষ হতে আমান বলল,থাক চাচা,উনি যখন আমার সঙ্গে যেতে চাচ্ছে না তখন জোড় করা ঠিক না।আমি চললাম বলে সালাম দিয়ে হাঁটতে শুরু করল।
মেয়েটির নাম শ্রাবণী।আর ছেলেটার নাম পল্লব।দুই ভাইবোন দাদাজির কাছে বেড়াতে এসেছে।আমানের দাড়ি গোফ থাকলেও শ্রাবণী তাকে দেখেই রাসেল মনে করে যতটা না অবাক হয়েছে,তার চেয়ে বেশি রেগে গেছে।রেগে গেলে শ্রাবণীর ব্রেন কাজ করে না।তাই রাগকে কন্ট্রোল করার জন্য চুপ করে থাকে।এটা তার ছোটবেলা থেকে অভ্যাস।তাই এতক্ষন চুপ করে থেকে মহিম চৌধুরী ও আমানের কথা শুনেছে আর রাগকে কন্ট্রোল করার চেষ্টা করছে।আমানকে চলে যেতে দেখে মেয়েটির নাম শ্রাবণী।আর ছেলেটার নাম পল্লব।দুই ভাইবোন দাদাজির কাছে বেড়াতে এসেছে।আমানের দাড়ি গোফ থাকলেও শ্রাবণী তাকে দেখেই রাসেল মনে করে যতটা না অবাক হয়েছে,তার চেয়ে বেশি রেগে গেছে।রেগে গেলে শ্রাবণীর ব্রেন কাজ করে না।তাই রাগকে কন্ট্রোল করার জন্য চুপ করে থাকে।এটা তার ছোটবেলা থেকে অভ্যাস।তাই এতক্ষন চুপ করে থেকে মহিম চৌধুরী ও আমানের কথা শুনেছে আর রাগকে কন্ট্রোল করার চেষ্টা করছে।আমানকে চলে যেতে দেখে বলল,
আমাদের ফেলে চলে যাচ্ছেন কেন?
আমরা যাব কার সঙ্গে?
আমি কি বলেছি,আপনার সঙ্গে যাব না?
এতগুলো প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে আমান ফিরে এসে বলল,তাহলে আসুন,দেরি করবেন না।
শ্রাবণী ষ্টেশন মাস্টারের দিকে তাকিয়ে বলল,আমাদের সুটকেসটা নেয়ার জন্য কুলি পাওয়া যাবে না?
মহিম চৌধুরী কিছু বলার আগে আমান সুটকেসটা হাতে নিয়ে , এখানে কুলি নেই।তারপর হাঁটতে শুরু মহিম চৌধুরী কিছু বলার আগে আমান সুটকেসটা হাতে নিয়ে , এখানে কুলি নেই।তারপর হাঁটতে শুরু করল।
শ্রাবণীও পল্লবের একটা হাত ধরে আয় বলে তার পিছু নিল।
প্লাটফর্মের বাইরে এসে আমান টর্চলাইটটা শ্রাবণীর হাতে দিয়ে বলল,আপনি এটা জ্বেলে পেছনে পেছনে আসুন,আমরা সামনে থাকব।
শ্রাবণী টর্চলাইট জ্বেলে তার মুখের ওপর ফেলে বলল,আপনাকে যেন চেনা চেনা লাগছে।গলার স্বরও খুব চেনা চেনা মনে হচ্ছে।আচ্ছা,আপনি কি এই গ্রামেরই ছেলে?
আমান মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে বলল,লাইট সরান।একই চেহারার লোক দেখলেই চেনাচেনা মনে হয়।আমি রইসপুর গ্রামের খাদেম।বাড়ি এই গ্রামে নয়।
কি জানেন,বছর খানেক আগে আরো একটা ছেলেকে দেখেছিলাম,তাকেও এই রকম মনে হয়েছকি জানেন,বছর খানেক আগে আরো একটা ছেলেকে দেখেছিলাম,তাকেও এই রকম মনে হয়েছিল।
আমানের তখন মনে পড়ল,বছর খানেক আগে মায়ের সঙ্গে দেখা করে ফেরার সময় কমলাপুর ষ্টেশনে টিকিট কাটতে গিয়ে কাউন্টার থেকে অল্পদূরে দুটো মেয়েকে কথা বলতে দেখেছিল।সে সময় বোধ হয় শ্রাবণী তাকে দেখে ফেলে।টিকিট কেটে প্লাটফর্মে ঢুকে দেখল,ফার্স্টক্লাস কমপার্টমেন্টের কাছে শ্রাবণী আগের দুটো মেয়ের সঙ্গে কথা বলছে।তাদেরকে পাশ কেটে যাওয়ার সময় শ্রাবণী বলল,শুনুন,আমান না শোনার ভান করে তার কমপার্টমেন্টের দিকে একইভাবে হেঁটে যেতে লাগল।শ্রাবণী দ্রুত হেঁটে এসে পথ আগলে দাঁড়াল।আমান বাধ্য হয়ে দাঁড়িয়ে মুখ তুলে বলল,কিছু বলবেন?শ্রাবণী মুখভর্তি দাড়ি ও চোখে সানগ্লাস দেখে চিনতে পারল না।বলল,সরি,আপনাকে খুব চেনাচেনা মনে হয়েছিল।তারপর মাফ করবেন বলে ফিরে গিয়েআমানের তখন মনে পড়ল,বছর খানেক আগে মায়ের সঙ্গে দেখা করে ফেরার সময় কমলাপুর ষ্টেশনে টিকিট কাটতে গিয়ে কাউন্টার থেকে অল্পদূরে দুটো মেয়েকে কথা বলতে দেখেছিল।সে সময় বোধ হয় শ্রাবণী তাকে দেখে ফেলে।টিকিট কেটে প্লাটফর্মে ঢুকে দেখল,ফার্স্টক্লাস কমপার্টমেন্টের কাছে শ্রাবণী আগের দুটো মেয়ের সঙ্গে কথা বলছে।তাদেরকে পাশ কেটে যাওয়ার সময় শ্রাবণী বলল,শুনুন,আমান না শোনার ভান করে তার কমপার্টমেন্টের দিকে একইভাবে হেঁটে যেতে লাগল।শ্রাবণী দ্রুত হেঁটে এসে পথ আগলে দাঁড়াল।আমান বাধ্য হয়ে দাঁড়িয়ে মুখ তুলে বলল,কিছু বলবেন?শ্রাবণী মুখভর্তি দাড়ি ও চোখে সানগ্লাস দেখে চিনতে পারল না।বলল,সরি,আপনাকে খুব চেনাচেনা মনে হয়েছিল।তারপর মাফ করবেন বলে ফিরে গিয়েছিল।
.
আমান চলতে শুরু করে বলল,বললাম না,একই রকম কাউকে দেখলে চেনা চেনা মনে হয়।
পল্লব এতক্ষন একটা কথাও বলেনি।আমানের কথা শেষ হতেই বলল,আপনি ঠিক কথা বলেছেন।আমার স্কুলে একই চেহারার দুটো ছেলে আছে।শুধু তাই নয়,তাদের নামও একই,আসিফ।তারা দুজনেই ক্লাস টেনে পড়ে ।তবে দুজন দু-সেকসনে।একজন এ সেকসনে,আর একজন বি সেকসনে।যে এ সেকসনে পড়ে সে আমার বন্ধু।ক্লাসের বাইরে অনেক সময় বি সেকসনের আসিফকে বন্ধু বলে ডেকে ফেলিপল্লব এতক্ষন একটা কথাও বলেনি।আমানের কথা শেষ হতেই বলল,আপনি ঠিক কথা বলেছেন।আমার স্কুলে একই চেহারার দুটো ছেলে আছে।শুধু তাই নয়,তাদের নামও একই,আসিফ।তারা দুজনেই ক্লাস টেনে পড়ে ।তবে দুজন দু-সেকসনে।একজন এ সেকসনে,আর একজন বি সেকসনে।যে এ সেকসনে পড়ে সে আমার বন্ধু।ক্লাসের বাইরে অনেক সময় বি সেকসনের আসিফকে বন্ধু বলে ডেকে ফেলি।
শ্রাবণী একটু রাগের সঙ্গে বলল,তোকে আর বকবক করতে হবে না,চুপ কর।
আমান বলল,ওর ওপর রাগ করছেন কেন?বছরখানেক আগের কথা যে বললেন,সেদিন কমলাপুর ষ্টেশনে আমাকেই আপনি এই একই কথা বলেছিলেন।
শ্রাবণী অবাক হয়ে গেল,,,,,,,
(চলবে)
#ক্ষুদ্র লেখক
#শ্রাবণী
#১০ম পর্ব
-শ্রাবণী অবাক হয়ে বলল,ওমা তাই না কি?তাহলে তো এটা ধিয়ে দুবার ভুল বুঝলাম।
-হ্যাঁ,তাই।আশা করি ৩য় বার ভুল করবেন না।
শ্রাবণী কিছু বলার আগে পল্লাব বলল,
-আমার তো মনে হচ্ছে আপা যখন দুবার ভুল করছে তখন আরো অনেকবার ভুল করবে-আমার তো মনে হচ্ছে আপা যখন দুবার ভুল করছে তখন আরো অনেকবার ভুল করবে।
শ্রাবণী রেগে উঠে বলল,
-তুই কিন্তু খুব জ্যাঠামী ফলাচ্ছিস।বড়দের মধ্যে কথা বলতে হয় না, সে কথা তোকে কতবার বার বলতে-তুই কিন্তু খুব জ্যাঠামী ফলাচ্ছিস।বড়দের মধ্যে কথা বলতে হয় না, সে কথা তোকে কতবার বার বলতে হবে?
-ঠিক আছে,আর বলতে হবে না।তারপর সামনের কাদা দেখে পল্লব দাঁড়িয়ে পড়ল।
-শ্রাবণী বলল,কি রে দাঁড়ালি কেন?
-পল্লব বলল,লাইট মেরে দেখ কত কাদা।আমি বরং ষ্টেশনে ফিরে রাত কাটিয়ে সকালে বাড়ি চলে যাব।তুমি যেতে চাইল-পল্লব বলল,লাইট মেরে দেখ কত কাদা।আমি বরং ষ্টেশনে ফিরে রাত কাটিয়ে সকালে বাড়ি চলে যাব।তুমি যেতে চাইলে যাও।
-দেখ ফাজলামি করবি না।আমি তোকে সেধে আনিনি।তুই নিজেই এসেছিস।এখন আমাকে এরকম কথা বলছিস কেন?
-আমি কি জানতাম রাস্তার অবস্থা এরকম?
-আমিও কি জানতাম নাকি?জানলে কে আসত?
তাহলে আমরা ষ্টেশনে রাত কাটিয়ে সকালে ফিরে যায় চল আপা।
-না,এসেই যখন পড়েছি তখন আর ফিরে যাব না।তারপর জুতো খুলে হাতে নিয়ে বলল,তুই ও জুতো খুলে হাতে নে।
পল্লব কিছু বলতে যাবে,তার আগেই আমান বলল,
-রাতে ষ্টেশনে থাকা নিরাপদ নয়,চোর ডাকাতের ভয় আছে।ঐ চিন্তা বাদ দিয়ে কাপড়ের ঝুল কিছুটা গুটিয়ে নেন।
চোর ডাকাতের কথা শুনে পল্লব ভয় পেল।তাড়াতাড়ি ফুলপ্যান্টের ঝুল পায়ের গোছ পর্যন্ত গুটিয়ে জুতো খুলে এক হাতে নিল ।অন্য হাত দিয়ে আমানের একটা হাত ধরে বলল,
-চলুন।
শ্রাবণীও কাপড় গুটিয়ে লাইট জ্বেলে হাঁটতে লাগলশ্রাবণীও কাপড় গুটিয়ে লাইট জ্বেলে হাঁটতে লাগল।
.
এক ঘন্টার পথ দুঘন্টা লাগল।জহির উদ্দিন সবেমাত্র স্ত্রীর সঙ্গে খেয়ে উঠেছেন।এমন সময় চাকর আফজাল এসে এক ঘন্টার পথ দুঘন্টা লাগল।জহির উদ্দিন সবেমাত্র স্ত্রীর সঙ্গে খেয়ে উঠেছেন।এমন সময় চাকর আফজাল এসে বলল,
-কারা যেন ঢাকা থেকে এসেছে।মসজিদেম খাদেম সাহেবও তাদের সঙ্গে আছেন।আপনাকে খাদেম সাহেব ডাক-কারা যেন ঢাকা থেকে এসেছে।মসজিদেম খাদেম সাহেবও তাদের সঙ্গে আছেন।আপনাকে খাদেম সাহেব ডাকছেন।
.
মসজিদের চাকরি করতে এসে আমান যখন তার পরিচয় ও শিক্ষাগত যোগ্যতা জানাতে চাইল না এবং পায়ে ধরে কাকুতি মিনতি করছিল তখন জহির উদ্দিনের সবকিছু মনে হয়েছিল,সবকিছু গোপনের পেছনে নিশ্চয় কোনো কারন আছে,আস্তে আস্তে তার কাছ থেকে জেনে নেবেন।প্রায় একবছর হয়ে যাওয়ার পরও শুধু ঢাকার ছেলে ছাড়া আর কিছু জানতে না পারলেও তার স্বভাব চরিত্র ও কার্যকলাপ দেখে খুব ভালো ছেলে মনে হয়েছে।অনেক চিন্তা ভাবনা করে তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন,আমানের সব কিছু যেমন করে হোক জানতে হবে।জানার পর ভালো মনে হলে শ্রাবণীকে তার হাতে তুলে দেবেন।তাই ছেলে সামসুদ্দিনকে চিঠি দিয়ে আমানের খোঁজ নিয়ে জানাতে বলেছিলেন।আরো বলেছিলেন,বৌমা ও ছেলেমেয়েকে নিয়ে কয়েকদিন বেড়িয়ে যেতে।সামসুদ্দিন উত্তরে জানিয়েছিলেন,ব্যবসায়িক কাজের খুব চাপ ,সবাইকে নিয়ে এখন যাওয়া সম্ভব না।তবে পল্লব ও শ্রাবণীর যাওয়ার খুব ইচ্ছা ।শ্রাবণীর পরীক্ষা শেষ হলে পল্লবকে সঙ্গে নিয়ে যাবে।আমরাও তাদের সাথে যাওয়ার চেষ্টা করব।আর আমানের মা বাবার খোঁজ এখনো পাইনি,পেলে জানামসজিদের চাকরি করতে এসে আমান যখন তার পরিচয় ও শিক্ষাগত যোগ্যতা জানাতে চাইল না এবং পায়ে ধরে কাকুতি মিনতি করছিল তখন জহির উদ্দিনের সবকিছু মনে হয়েছিল,সবকিছু গোপনের পেছনে নিশ্চয় কোনো কারন আছে,আস্তে আস্তে তার কাছ থেকে জেনে নেবেন।প্রায় একবছর হয়ে যাওয়ার পরও শুধু ঢাকার ছেলে ছাড়া আর কিছু জানতে না পারলেও তার স্বভাব চরিত্র ও কার্যকলাপ দেখে খুব ভালো ছেলে মনে হয়েছে।অনেক চিন্তা ভাবনা করে তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন,আমানের সব কিছু যেমন করে হোক জানতে হবে।জানার পর ভালো মনে হলে শ্রাবণীকে তার হাতে তুলে দেবেন।তাই ছেলে সামসুদ্দিনকে চিঠি দিয়ে আমানের খোঁজ নিয়ে জানাতে বলেছিলেন।আরো বলেছিলেন,বৌমা ও ছেলেমেয়েকে নিয়ে কয়েকদিন বেড়িয়ে যেতে।সামসুদ্দিন উত্তরে জানিয়েছিলেন,ব্যবসায়িক কাজের খুব চাপ ,সবাইকে নিয়ে এখন যাওয়া সম্ভব না।তবে পল্লব ও শ্রাবণীর যাওয়ার খুব ইচ্ছা ।শ্রাবণীর পরীক্ষা শেষ হলে পল্লবকে সঙ্গে নিয়ে যাবে।আমরাও তাদের সাথে যাওয়ার চেষ্টা করব।আর আমানের মা বাবার খোঁজ এখনো পাইনি,পেলে জানাব।
এসব প্রায় এক বছর আগের কথা ।আজ আফজালের মুখে ঢাকা থেকে কারা এসেছে শুনে জহির উদ্দিন ভাবলেন,ঢাকা থেকে কে আসতে পারে?শ্রাবণী ও পল্লব এলে তো সামসুদ্দিন চিঠি দিয়ে জানাত।
তাড়াতাড়ি করে বৈঠকখানায় এসে নাতি নাতনীকে দেখে নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারলেন না।অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে তাদের দিকে তাকিয়ে রইল।
-আমান সালাম -আমান সালাম দিল।
-জহির উদ্দিন সালামের উত্তর দিয়ে বলল,তুমিতো ঢাকায় গিয়েছিলে,এদেরকে পেলে কোথা-জহির উদ্দিন সালামের উত্তর দিয়ে বলল,তুমিতো ঢাকায় গিয়েছিলে,এদেরকে পেলে কোথায়?
-আমান বলল,আজই ফিরছিলাম।ট্রেন লেট হওয়ায় সন্ধ্যের পর পৌঁছায়।ওনারা একই ট্রেনে এসেছে।আমাকে দেখে ষ্টেশন মাস্টার পৌঁছে দিতে বললে-আমান বলল,আজই ফিরছিলাম।ট্রেন লেট হওয়ায় সন্ধ্যের পর পৌঁছায়।ওনারা একই ট্রেনে এসেছে।আমাকে দেখে ষ্টেশন মাস্টার পৌঁছে দিতে বললেন।
আমান থেমে যেতে জহির উদ্দিন আবার নাতি নাতনীর দিকে তাকাতে
-শ্রাবণী বলল,কি দাদু,আমাদেরকে চিনতে পারছেন না মনে হচ্ছে?
-জহির উদ্দিন বললেন,চিনতে পারব না কেন?তোমাদের সাহস দেখে খুব অবাক হচ্ছি-জহির উদ্দিন বললেন,চিনতে পারব না কেন?তোমাদের সাহস দেখে খুব অবাক হচ্ছি।
-এতে সাহসের কি আছে?আমরা কি এখনো ছোট নাকি যে,দাদা দাদির কাছে আসতে ভয় করবে-এতে সাহসের কি আছে?আমরা কি এখনো ছোট নাকি যে,দাদা দাদির কাছে আসতে ভয় করবে?
জহির উদ্দিন কিছু বলার আগে আমান বলল,
-ওনাদের আসতে খুব কষ্ট হয়েছে,ভিতরে নিয়ে যান।এবার আমি আসি বলে সালাম বিনিময় করে চলে যেতে উদ্যত হলে শ্রাবণী টর্চলাইটটা এগিয়ে ধরে বলল,
-এটা নিয়ে যান।
-আমান সেটা নিয়ে চলে -আমান সেটা নিয়ে চলে গেল।
আমান যতক্ষন জহির উদ্দিনের সাথে কথা বলছিল ততক্ষন শ্রাবণী একদৃষ্টে তার দিকে তাকিয়েছিল,,,,,
(চলবে)
#ক্ষুদ্র_লেখক
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ