গল্পের নামঃ- অভিমান
.
পড়ন্ত বিকেল সুরমা ব্রিজে বসে অাছি বিকেলের রোধে সুরমা নদীর পানি কেমন জানি হলদে হয়ে গেলো।
এমন প্রকৃতির পরিবেশে ল্যাপটপে টাইপিং করছি একটা অসমাপ্ত গল্প লেখার বৃথা চেষ্টায় তারপরেও বার বার চেষ্টা করে যাচ্ছি হঠাৎ কে যেনো পিছন থেকে ডাক দিল এই যে ভাইয়া পিছনে ফিরে দেখি অামার সমবয়সী অপরিচিত একজন ছেলে। নম্র ভাবে বললাম জ্বি অামাকে বলছেন।
ছেলেটা এগিয়ে এসে বললো।
>= এখান থেকে পুরান বাসস্টান্ড যেতে কত সময় লাগবে?
>= মিনিট দশেক
>= ধন্যবাদ
এই বলেই ছেলেটা চলে যাচ্ছে অামি অামার গল্প লিখায় মনযোগী হলাম।
একটু যেতেই অাবারো ডাক দিল।
>= অাচ্ছা ভাইয়া সুনামগঞ্জ থেকে ঢাকার বাস কয়টায় ছাড়বে?
>= সাড়ে নয়টায়।
>= তাহলে তো অনেক লেট?
>= হ্যাঁ!
>= অাচ্ছা ভাইয়া অাপনি কি বাস ছাড়া পযর্ন্ত অামায় সময় দিতে পারবেন?
>= কেনো?
ছেলেটার উত্তরে জানতে পারলাম ছেলেটার নাম অনিক বাসা সিলেট। মায়ের সাথে রাগ করে বাসা থেকে অাজ সকালে পালিয়ে এসেছে সিলেটের বাসস্টান্ড থেকে ঢাকায় যেতে পারবে না কারন ঔখানে সম্ভবত তার পরিচিত লোক তথোক্ষনে খোজ করা শুরু করছে তাই তো একটু বুদ্ধি খাটিয়ে সুনামগঞ্জ চলে অাসলো এখান থেকে ঢাকার বাসে উঠে রাত্রের মাঝে ঢাকায় চলে যাবে।
.
অনিক নামের ছেলেটার কথায় অামি রাজি হলাম বাস না অাসা পযর্ন্ত তাকে সময় দিব।
অনিকের সাথে সুরমা ব্রিজে বসে গল্প করছি সেই সাথে দুটা ফুচকার অর্ডার করলাম।
কথার এক ফাকে অামি বলে উঠলাম।
>= অামার মা অনেক ভাল ফুচকা বানাতো।
>= বানাতো মানে! এখন অার বানায় না।
>= না।
>= কেনো?
>= অামার মা তারাদের দেশে চলে গেছে! জানো অামি অামার মা কে শেষ দেখাটা পযর্ন্ত দেখতে পারিনি।
অনিক তখন নড়েচড়ে বসে প্রশ্ন করলো।
>= কেনো এমনটা হলো?
অনিকের প্রশ্নের জবাবে অামি বলতে লাগলাম।
অাজ থেকে কয়েক বছর অাগে তোমার মতো অামিও মায়ের সাথে অভিমান করে বাসা থেকে পালিয়ে যায় এবং অামার সিম কার্ড চেন্জ করে নতুন সিম অন করি।
মা তখন একের পর এক কল করেই যাচ্ছে কিন্তু অামার নাম্বার অফ! মায়ের অনেক টেনশন হচ্ছিল তাই তো অামার রিলেটিভ সবার বাসায় খোজ করে কিন্তু অামায় পায়নি। অামার চলে যাওয়াটা মা কোন রকম মেনে নিতে পারেনি সারা রাত বাসার দরজা খোলে অামার ফিরে অাসার অপেক্ষা করে কিন্তু অামি মায়ের অপেক্ষায় সাড়া দেয়নি। অামার চলে যাওয়ায় মা এতোটাই কষ্ট পেয়েছিল সেই কষ্টে হার্টএট্যাক করে পৃথিবী ত্যাগ করে! অার অামি কেমন অপদার্থ সন্তান মায়ের জানাযায় অংশ নিতে পারেনি। চলে যাওয়ার সময় মা হয়তো অামায় দেখতে চেয়েছিল বারবার অামায় ডেকেছিল কিন্তু অামি মায়ের ডাকে সাড়া দেয়নি।
.
মা মারা যাবার সাতদিন পর অামার অাগের সিম কার্ড অপেন করি অার তখনি বাবার নাম্বার থেকে একটা মেসেজ অাসে তোর মা অার নেই।
সেদিন প্রানপনে ছুটে গিয়েছিলাম মায়ের কাছে কিন্তু মা কে শেষ দেখা দেখতে পারেনি কেননা বড্ড বেশি লেট করে ফেলছি। মায়ের মৃত্যুর জন্য অামিই দায়ি কেনন সেদিন যদি মায়ের সাথে অভিমান না করে বাসা থাকিয়ে পালিয়ে যেতাম তাহলে হয়তো এমনটা হতো না।
.
অামার কথা গুলো বলা শেষ হতেই দেখি অনিকের চোখের নিচে পানি বুঝতে পারলাম তার হয়তো অামার কষ্ট শুনে চোখে পানি চলে অাসছে।
অনিক কে বললাম চলো বাসের সময় হয়ে গেছে টিকেট নিতে হবে।
এই বলেই দুজন বাসস্টান্ডের দিকে হাটা শুরু করলাম।
.
প্রায় দুই ঘন্টা অাগে শ্যামলি বাসের টিকেট নিয়ে শ্যামলি বাস ছাউনিতে বসে রইলাম।
এক পর্যায়ে অনিক প্রশ্ন করলো।
>= তোমার মায়ের জন্য খুব কষ্ট হয় তাই না?
>= হ্যাঁ!
এর পর অনিক চুপ করে বসে রইলো কি জানি একটা বলতে চাচ্ছে কিন্তু বলতে পারছে না। কিছুক্ষণ দু'জন নিশ্চুপ বসে রইলাম মিনিট বিশেক পরে অামি বললাম।
>= চল তোমার বাস ছাড়ার সময় হল।
কিন্তু অভিমানী অনিক তখন বলে উঠলো।
>= না! অামি যাবো না।
>= কেনো?
>= অামি অামার বাসায় সিলেট যাবো! অামার মায়ের কাছে যাবো। প্লিজ তুমি অামায় সিলেটের বাসের টিকেট নিয়ে দাও।
.
অতঃপর মুচকি হাসি দিলাম ভাবছি ছেলেটা যাক বুঝতে পারলো। অনিক কে সিলেটের বাসে তুলে দিলাম যাওয়ার অাগে অামার নাম্বার নিয়ে বললো বন্ধু মায়ের কাছে পৌছে তোমায় ফোন করবো। তোমার জন্যই অাবারো অামি মায়ের কাছে ফিরে যাচ্ছি।
.
অনিক কে বিদায় জানিয়ে অামিও বাসার দিকে হাটছি তখনি পরিচিত একটা নাম্বার থেকে অামার প্রিয় একজনের ফোন সে অার কেউ না অামার মা।
ফোন রিসিভ করতেই মা রাগি সুরে-
>= রাত কয়টা বাজে?
>= অামি কি করবো! একটা কাজে অাটকে গিয়েছিলাম এইতো অাসছি।
>= অাজ কে অাস তোর খবর অাছে! এই বলেই অাম্মু লাইন কেটে দিল। অামিও জানি বাসায় পৌছে অামার সেই মন ভুলানো হাসি অাম্মুর সকল রাগ মুছে ফেলবে।
.
জানি বাসায় পৌছালে রাত করার অপরাধে অাম্মু একটু বকলেও অনিক কে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরেছি এতেই হ্যাপিনেস।
.
মাঝে মাঝে ভাল কিছুর জন্য মিথ্যে বলতে হয়। অামিও না হয় অামার মা কে নিয়ে একটা মিথ্যে গল্প অনিক কে শুনালাম মিথ্যের মাঝেও একটা সত্য রয়েছে সেটা হল মায়ের সাথে অভিমান করে পালিয়ে অাসা অনিক তার অভিমান ভেঙ্গে মায়ের কাছে ফিরে গিয়েছে। এটা ভেবে ভাল লাগছে হারানো ছেলেকে ফিরে অনিকের মা জানি না কতটা খুশি হবে?
মা ফিরে পাবে তার ছেলে কে অার ছেলে ফিরে পাবে তাঁর মায়ের ভালবাসা।
.
লিখেছেঃ- Shakib Hasan Ruyel (উদ্দেশ্যহীন)
āĻāϞ্āĻĒ āϏংāĻ্āϰāĻš āĻāϰা āĻāĻŽাāϰ āύেāĻļা। āϰোāĻŽাāύ্āĻিāĻ, āĻৌāϤিāĻ, āϰāĻŽ্āϝ, āĻৌāϤুāĻ āϏāĻš āĻšাāĻাāϰো āĻāϞ্āĻĒ āĻāĻে āĻāĻŽাāϰ āϏংāĻ্āϰāĻšে।
āĻŽāĻ্āĻāϞāĻŦাāϰ, ā§Š āĻ āĻ্āĻোāĻŦāϰ, ⧍ā§Ļā§§ā§
2907
āĻāϰ āĻĻ্āĻŦাāϰা āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰা
Rahathossain1010100@gmail.com
āĻāĻ āϏāĻŽā§ে
ā§Ž:⧍ā§Ŧ PM
āĻāϤে āϏāĻĻāϏ্āϝāϤা:
āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝāĻুāϞি āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ (Atom)
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ