-----পাগলী মেয়েটির ভালোবাসা।-----
************************************
---আচ্ছা আমাদের মেয়ের নাম কি রাখবো?
সুপ্তির কথা শুনে আমি একটু অবাকই হলাম।
বলে কি
মেয়েটা!বিয়েই হলো না আর এখনি বাচ্চার
নাম ঠিক
করে ফেলছে।আমি সুপ্তিকে বললাম,
-তুমি বলো।
-আমি তো বলবোই।তুমি আগে বলো?
কি বিপদে পড়লাম।নাম দেখছি বলতেই হবে
এখন।
আরে এত তাড়াতাড়ি কি নাম বলা যায়।
সুপ্তিকে বললাম,
-তুমি যেটা রাখবে সেটাই হবে।সো
তোমারটা
বলো।
-আচ্ছা ঠিক আছে।ছেলে হলে রাখবো রোদ।
আর মেয়ে হলে রাখবো রোদেলা।
'
বাহ।মেয়েটা দেখি দুটো নাম মিলিয়েই
রেখেছে।এর জন্যে হয়তো কত রাত নির্ঘুম
কাটিয়েছে আল্লাহই জানে।আমি বললাম,
-বাহ সুন্দর নাম তো।
-তোমার পছন্দ হয়েছে?
-হ্যা।অনেক।
-উম্মাহহহহহহ।
আরে কি করলো মেয়েটা।সবসময় চুমু দেয়
দেখে কি এখানেও দেবে নাকি।আশেপাশে
কত মানুষ।যদি কেও দেখতো!
আসলে সুপ্তি যখনি একটু বেশী খুশি হয় তখনি
আমার গাল বা কপাল ভালবাসার স্পর্শ পায়।
তাই বলে এই
জায়গায়।
""
আচ্ছা চলো।
'
সুপ্তির কথায় আমি ওর দিকে তাকালাম।
মেয়েটা বসা
থেকে উঠে দাঁড়িয়েছে। আরে এই মাত্রই
তো বসলাম এখনি আবার কোথায় যাব!আমি
না
দাড়িয়েই সুপ্তিকে বললাম,
-কোথায় যাবা?
-শপিং এ।
-গত কালই না শপিং করলা।
-আরে বাবুর জন্যে শপিং করবো।
সুপ্তির মুখে বাবু কথাটা শুনে আমি হাসবো
না রাগ
করবো বুঝতেছিনা। বিয়েই হলো না, নাম ঠিক
করে ফেললো।এখন আবার শপিং করবে।বাহ
বেশ ভাল।
আমি উঠে দাড়ালাম।সুপ্তি আমার হাতে হাত
রেখে
হাটতে লাগলো।
"""
এই রোদেলার আব্বু ডায়পার লাগবে?
'
প্রায় সবকিছুই কেনা শেষ।এখন শুধু প্যাক
করে
দেবে।আমি যখন বিল দিতে যাব তখনি সুপ্তি
কথাটি
বললো।
সুপ্তি এমন ভাবে কথাটি বললো তাতে মনে
হচ্ছে ডায়পার আমার লাগবে।শপিংমলের
সবাই প্রায়
আমার দিকে তাকিয়ে।এই মেয়েটার বুদ্ধি
কখনই
হবেনা।
""
বাসায় আসতেই সুপ্তির ফোন।আমি ফোন
ধরতেই ও বললো,
-বাসায় পৌছেছো?
-হুম।এইমাত্র আসলাম।তুমি?
-এইতো ফ্রেশ হলাম।তুমি ফ্রেশ হইছো?
-নাহ।ভাল লাগতেছে না,ঘুমাবো একটু।
-এই একদম না।আগে ফ্রেশ হবা,খাবা,তারপর
আমাকে একটা পাপ্পি দিয়ে ঘুমাবা।
নাহ।মেয়েটা দেখি আমাকে কোন মতেই
ছাড়বে না।আমি ফ্রেশ হয়ে এসে কিছু খেয়ে
নিলাম।সুপ্তিকে ফোন দিয়ে একটা
না,কয়েকটা
পাপ্পি দিলাম।
আহ।এখন শান্তিতে একটু ঘুমাতে পারবো।
"""
সুপ্তি কাঁদছে। কেঁদে কেঁদে আমার শার্টটা
ভিজিয়ে দিচ্ছে।আমি সুপ্তির মাথায় হাত
বুলিয়ে
আবারও বললাম,
-কি হয়েছে বলো আমাকে?
সুপ্তি এবার কান্না থামিয়ে বললো,
-বাবা আমার বিয়ে ঠিক করে ফেলেছে।
সুপ্তির কথায় আমার মুখটা মলিন হয়ে গেল।
রিলেশনে এটাই সমস্যা।মেয়ে যাকে
ভালবাসবে
সে ছেলে যত ভালই হোক তার সাথে মেয়ে
বিয়ে দেবে না।বুড়ো চাচার সাথে বিয়ে
দিলেও
তার সাথে নয়।
'
আমি সুপ্তিকে কি বলে সান্তনা দেবো
বুঝতে
পারতেছিনা।তবুও তো কিছু বলতে হবে।আমি
সুপ্তিকে বুঝিয়ে বাসায় পাঠিয়ে দিলাম।
বাবা মায়ের একমাত্র ছেলে আমি।তাদের
যা
বলবো তারা সেটাই মেনে নেবে।আর সুপ্তির
ব্যাপারটা তারা কিছুটা জানে।
"
বাবা মা বুঝলেও বাধা হয়ে দাড়ালো কাকা।
উনি একটু
এরকমই। সব ব্যাপারেই ভেজাল বাধাবেই।
কিন্তু
আমার কাছে এটা তেমন কিছু না।
'
সুপ্তিকে ফোন করে সবকিছু বলতে হবে
এখন।নাহ থাক।কাল সুপ্তিকে সারপ্রাইজ
দেবো।
'
একঘণ্টা হলো সুপ্তিদের বাসার সামনে
দাঁড়িয়ে
কিন্তু ও এখনও বের হচ্ছে না।ফোনটাও বন্ধ
করে রেখেছে।নাহ আর না।এবার ভেতরে
যেতেই হবে।
'
আমি গেইট দিয়ে ঢুকতেই দেখি দারওয়ান
চাচা
বসে আছে।এর আগেও ওনার সাথে আমার
অনেক বার কথা হয়েছে।মাঝে মাঝে যখন
সুপ্তিকে রেখে যেতাম তখন কথা হতো।
দারওয়ান চাচা আমাকে দেখেই চিনে
ফেললো।
আমার দিকে এগিয়ে আসতেই বললাম,
-চাচা কেমন আছেন?
-এইতো ভাল বাবা।তুমি কেমন আছো?
-জ্বী চাচা ভালো।চাচা সুপ্তি কি ভেতরে
আছে না
বের হইছে?
আমার কথায় ওনার মুখটা কেমন যেন মলিন
হয়ে
গেল।মনে হচ্ছে আমি ভুল কিছু বলে
ফেলেছি।আমি আবারও বললাম,
-চাচা কোন সমস্যা?
-আসলে বাবা,কাল বড় সাহেব সুপ্তি মা কে
নিয়ে
কোথায় যেন গেছে।সুপ্তি মা যেতে চায়নি
মনে হচ্ছিলো জোড় করে নিয়ে যাচ্ছিলো।
-কোথায় গেছে বলে যায়নি?
-না বাবা।
আমি আর কিছু বলতে পাড়লাম না।মনে হচ্ছে
খুব
কাছের জিনিস হারিয়ে ফেললাম।আমার
চোখটা
ভিজে উঠলো।
""
এর পর অনেক দিন সুপ্তিদের বাসার সামনে
গিয়েছি
কিন্তু সুপ্তিকে কোন দিন দেখতে পাইনি।
তারপর আর ওখানে থাকি নি।যেখানে সুপ্তি
নেই
সেখানে আমিও নেই।কিছুদিন পরেই বাসা
পালটে
ফেলি।নতুন পরিবেশে নিজেজে সবকিছু
ভুলিয়ে
রাখার চেষ্টা করি।তবে ভুলে থাকা হয়তো
এখনও
সম্ভব হয়নি।
"""
লোকটা আবারও বললো,
-তুমিই আহাদ?
আমি মাথা তুলে লোকটার দিকে তাকালাম।
কেমন
যেন চেনা চেনা লাগছে।আরে ইনি তো
সুপ্তির
বাবা।আমি উঠে দাঁড়িয়ে বললাম,
-জ্বী আমিই আহাদ।
লোকটার মুখে এবার বেশ প্রশান্তি দেখতে
পেলাম।মনে হচ্ছে হারানো জিনিস ফিরে
পেয়েছে।
সুপ্তির বাবা এবার আমার হাত ধরে ডুকরে
কেদে
উঠলেন।আমি কিছু বলতে যাব তার আগেই
উনি
বললেন,
-তোমাকে কত জায়গায় খুজেছি,তোমার
বাসায়
গিয়েছি কিন্তু সেখানেও তুমি নেই।অনেক
কষ্টে তোমার ঠিকানা খুজে তোমাকে
পেয়েছি।
আমি এবার ভদ্রলোককে বসতে বললাম।একদম
ঘেমে ভিজে গেছে একেবারে।এখন
আমাকে খুজে লাভ কি।মেয়ের বিয়ে দিয়ে
এখন
আমাকে সান্তনা দিতে এসেছে।
'
সুপ্তির বাবা আমারও বলতে শুরু করলেন,
-সেদিন যখন মেয়েটাকে বিয়ে দেওয়ার
জন্যে
ওর মামার বাড়ি নিয়ে যাই সেদিন রাতেই ও
অনেকগুলি
ঘুমের ওষধ খেয়ে ফেলে।বিয়েটাও ভেঙে
যায়।
তারপর থেকে মেয়েটা আমার সাথে আর কথা
বলে না। কিছু খায়ও না।সারাদিন দরজা বন্ধ
করে
রাখে।তবে রাত হলেই ওর কান্নার শব্দ শুনলে
আমারও ভেতরটা কেদে উঠে।
তারপর তোমাকে অনেক খুজেছি কিন্তু
পাইনি।
ভদ্রলোক চোখের পানি মুছতে মুছতে কথাটি
বললো।
'
'তার মানে সুপ্তির বিয়ে হয়নি।ও এখনও
আমার
অপেক্ষায় আছে। কেমন যেন ভাল লাগা কাজ
করছে।
আমি আর দাড়ালাম না।মেয়েটাকে আর
হারানো
যাবে না।আর না।
"""
আমাকে দেখেই দারওয়ান চাচার মুখে হাসি
ফুটে
উঠলো।
সুপ্তি মা দরজা খোল দেখ কে এসেছে।
আমাকে পাশে রেখে সুপ্তির বাবা দরজায়
কড়া
নাড়লো।কিন্তু ভেতর থেকে কোন শব্দ
পেলাম না।
এভাবে কিছুক্ষন ডাকার পর যখন কোন কিছু
হলো
না তখন আমিই সুপ্তিকে ডেকে উঠলাম।
-রোদেলার আম্মু।
দরজা খোলো।দেখো আমি এসেছি।
কথাটি বলতেই দরজা খুলে গেল।সুপ্তি এবার
আমার
বুকে ঝাপিয়ে পড়ে ডুকরে কেঁদে উঠলো।
অনেক দিন পর মেয়েটাকে ফিরে পেয়ে
আমার চোখটাও ঝাপসা হয়ে এলো।মেয়েটা
এই
কয়েকদিনে অনেকটাই শুকিয়ে গেছে।আমি
সুপ্তির কানের কাছে মুখ নিয়ে
বললাম,ভালবাসি
অনেক ভালবাসি।
""
সুপ্তি খাবার টেবিলে বসে আছে।আর আমি
খায়িয়ে দিচ্ছি।সুপ্তি এবার আমার হাত ধরে
বললো,
-এভাবেই খায়িয়ে দেবে তো সবসময়?
-হ্যা রে পাগলী এভাবেই খায়িয়ে দেব
সবসময়।
"
----আমি সুপ্তির কপালে চুমু একে দিতেই
মেয়েটা
আমার বুকে মুখ লুকালো।আমিও মেয়েটাকে
শক্ত করেই জড়িয়ে ধরলাম।আর হারাতে
দেবো না,,আর না কোন ভাবেই না।----
Collected
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ