āĻļāύিāĻŦাāϰ, ⧍ āϏেāĻĒ্āϟেāĻŽ্āĻŦāϰ, ⧍ā§Ļā§§ā§­

758

ঘ্রাণ
-আতিকুর রহমান সাগর।

প্রচণ্ড পানি পিপাসায় গলা শুকিয়ে কাঠ। টেবিলের উপর পানি ভর্তি জগ। কিন্তু বিছানা ছেড়ে উঠতে ইচ্ছে করছেনা। আজকাল ইচ্ছের বিরুদ্ধে কিছুই করতে ইচ্ছে করেনা। কথাটা অবশ্য পুরোপুরি সত্য না। অনেক সময় এমন কিছু ইচ্ছে হয় যা পারতপক্ষে করা যায়না। এইতো মেসের সবাই ঈদের ছুটিতে বাড়ি চলে গেল। আমারও খুব যেতে ইচ্ছে করছিল। ছুটিও ছিল পর্যাপ্ত। কিন্তু যাওয়া হয়ে উঠেনি। আসলে যাব কোথায় এটাই বুঝতে পারছিলাম না। সবার বাড়ি বলতে যা থাকে আমার তো আর তা নেই। কল্যাণপুরের একটা ভাড়া বাড়িতে বাবা, মা আর আমি থাকতাম। পাঁচবছর আগে একটা রোড একসিডেন্টে বাবা মারা যান, তার পিছন পিছন বছর খানেকের মধ্যে মা ও ধরণী ত্যাগ করেন। সম্পূর্ণ একা আমি এখন থাকি একটা মেসে। মা মারা যাওয়ার পর বাড়ি ভাড়া বাকি পড়ায় বাড়িওয়ালা যখন বের করে দিচ্ছিল তখনই এই মেসের ম্যানেজার আব্দুল করিম সাহেব আমাকে এখানে নিয়ে এলেন। কষ্মিনকালেও আমার সাথে তার কোন পরিচয় ছিলনা। তবুও কেন তিনি আমাকে এখানে নিয়ে এলেন সেটা একটা রহস্যই রয়ে গেছে। তাকে জিজ্ঞেস করলেও কোন উত্তর পাওয়া যায়না। আমি অনার্স শেষ করতে পারিনি। তবুও কিভাবে কিভাবে যেন একটা ছোট চাকরি যোগাড় হয়ে গেল। এখন নিজেকে নিয়ে একার সংসার। মেসে থেকে ভালোই দিন কেটে যাচ্ছে। আমাদের মেসের সদস্য সংখ্যা বারো জন। সবাই চলে গেছে। আমার রুমমেট রফিক অবশ্য খুব জোড়াজুড়ি করেছিল তার সাথে যাওয়ার জন্য। কিন্তু কেন যেন যেতে ইচ্ছে করেনি। এখন মনে হচ্ছে গেলেই ভালো করতাম। এদিকে বুয়াও জানিয়ে দিয়েছে ঈদের আগে আর রান্না করতে আসবেনা। খাওয়া দাওয়া করতে হবে হোটেলে। কোন মানে হয়! আত্মীয় স্বজন বলতে যে একেবারেই কেউ নেই তা না। আমার দাদার বাড়ি ময়মনসিংহে। দাদা বেচে নেই, কিন্তু এক চাচা আছেন। তাদের সাথে তেমন কোন সম্পর্ক অবশ্য নেই। বিয়ের পর বাবা ঢাকায় চলে এসেছিলেন। তারপর আর কোন দিন ওদিকে পা বাড়ান নি। আমাদেরও আর যাওয়া হয়নি। কোন এক অজনা কারণে চাচাদের পক্ষ থেকেও কেউ কোন যোগাযোগ করেনি। এমন কি বাবা, মা মারা যাওয়ার সময়ও তাদের কাউকে দেখতে পাইনি। স্বাভাবিকভাবেই ওই বাড়িতে যাওয়া আমার জন্য সমীচীন নয়। পানি পিপাসাটা এখন আর নেই। তবুও প্রচুর পানি খেলাম। রাত বারো টায় হোটেলে খেতে যাওয়ার কোন মানে হয়না। তারচেয়ে পানি খেয়ে পেট ভর্তি করে ঘুমিয়ে পড়াটা ভালো। মার্কেটিং রিপ্রেজেন্টেটিব এর চাকরি করায় এই এক সুবিধা। অনেক হাটাহাটি করার ফলে ঘুম ও হয় প্রচুর। একঘুমে রাত শেষ। কিন্তু আজ মনে হচ্ছে ঘুম আসবেনা।
কাজকর্ম হীন জীবনে ঘুম আসতে চায়না। তবুও চোখ বন্ধ করে পরে আছি। ফ্যানের খটখট শব্দটা মাথা ধরিয়ে দিচ্ছে। এটাও ঘুম না আসার লক্ষণ। ঘুম আসলে এই শব্দটাকেই মধুর মনে হতো। উঠে বসে একটা সিগারেট ধরালাম। অন্ধকারে সিগারেট খাওয়ার একটা আলাদা মজা আছে। মানুষ আসলে অন্যান্য কাজ করার পাশাপাশি সিগারেট খায়। শুধু সিগারেট খাওয়ার জন্যই সিগারেট খাওয়া খুব একটা হয়ে উঠেনা। আগুনের উঠানামা দেখতে ভালোই লাগছে। পুরো সিগারেট টা শেষ করতে পারলাম না, তার আগেই ঘুমে চোখ বন্ধ হয়ে আসছে। জানালা দিয়ে আধখাওয়া সিগারেট টা ছুড়ে দিয়েই শুয়ে পড়লাম। কখন ঘুমিয়ে পড়েছিলাম জানিনা। হঠাৎ দেখি আমার মাথার পাশে একটা ছায়া মূর্তি বসে আছে। ঘর অন্ধকার তবুও আমি তার হাতের বাকানো লাঠিটা দেখতে পাচ্ছি। চেহারাটাও স্পষ্ট। ধবধবে সাদা চুল, সাদা দাড়ি। পড়নের আলখাল্লাটাও সাদা। আমার জিজ্ঞেস করা উচিত, কে আপনি? আমার ঘরে ঢুকলেন কি করে? কিন্তু মুখ দিয়ে কোন আওয়াজ বের হলনা। কথাবার্তা তিনিই শুরু করলেন, ---কিরে গাধার বাচ্চা, সবাই বাড়ি চলে গেছে তুই গেলিনা কেন? ---আমি যাব কোথায়? আর আপনি ই বা কে, আমাকে গাধার বাচ্চা বলছেন! ---তা অবশ্য কথা ঠিক বলেছিস। তুই আমাকে চিনবি কি করে! তোর বাপ ছোট থাকতেই আমি মরে ভূত হয়ে গেছি। কিন্তু তোদের যন্ত্রনায় মরেও তো শান্তি নেই। তোর বাপটা ছিল একটা পাগল। আফসোস পাগলামির শায়েস্তা করতে পারিনি। তার পাগলামির লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার আগেই আমি পটল তুলেছি।
---তা আপনি মৃত অবস্থায় আমার কাছে আসলেন কি করে? ---সাধে কি আর আসছি! সবাই বাড়ি চলে গেছে, আর তুই গাধার মত পড়ে আছিস একা একা। কে বলেছে তোর বাড়িঘর নেই! ময়মনসিংহ চলে যা। ওটা তো তোরই বাড়ি। ---ওখানে কি আর আমাকে কেউ চিনবে! তাছাড়া কোনদিন তো যাইও নি। ---গাধাটা বলে কি! শোন, রক্তের আলাদা আলাদা ঘ্রাণ থাকে। সেই ঘ্রাণেই নিজের মানুষ গুলোকে চেনা যায়। ---কোথায়! আপনার ঘ্রাণে তো আপনাকে চিনতে পারলাম না। আপনার তো কোন ঘ্রাণই নেই। ---মরা মানুষের আবার ঘ্রাণ কিসের রে গাধা! পরশু ঈদ। কালই রওয়ানা দিয়ে দে। আর আমাকে তো কদমবুচি করলিনা। দাদাকে এতদিন পর দেখলি, কদমবুচি করবিনা! আমি গেলাম কদমবুচি করতে। কিন্তু কিসের দাদা! বিছানা থেকে উল্টে গিয়ে পড়লাম মেঝেতে। অল্পের জন্য টেবিলের পায়ার সাথে মাথা ঠুকে যায়নি। নইলে মাথা ফেটে একটা কেলেংকারি অবস্থা হত। বুঝলাম স্বপ্ন দেখছিলাম। কিন্তু ঠিক স্বপ্ন বলেও মনে হচ্ছেনা। কথা গুলো কি জীবন্ত, এখনও কানে বাজছে। রাত প্রায় ভোর হয়ে এসেছে। এখন আর শুয়ে থাকার মানে হয়না। তারচেয়ে মেসের আঙিনায় একটু হাটাহাটি করা যায়। আকাশ বিদীর্ণ করে একটা আলোর রেখা ফুটে উঠতে চাইছে।
মন ভালো হয়ে যাওয়ার মত একটা পরিবেশ। দিগন্তের লাল আভা সূর্যকে প্রসব করার যন্ত্রনায় ছটফট করছে। পাখিগুলোর কিচিরমিচির যেন সূর্যোদয়ের অভ্যর্থনা সূচক গান। কিচ কিচ কিচির কিচ। কিন্তু কি যেন একটা মনে খচখচ করছে। আচ্ছা কি হয়! একবার গ্রামের বাড়িতে গেলে! দোষ কিছু করে থাকলে বাবা করেছিল, আমি তো আর করিনি। তার চেয়ে বড় কথা, আমার মত একা একটা মানুষের একটু অবলম্বন খুবই দরকার। রক্তের সম্পর্ক অনেক বড় জিনিস। এই সম্পর্ক অবহেলা করা ঠিকনা। অতএব যাব বলেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম। ঠিকানাটা জানা আছে। গ্রামের নাম ময়নামতি। ময়মনসিংহ শহর থেকে নদীপথে যেতে হয়। ওখানে গিয়ে বড়বাড়ি বললেই লোকে চিনিয়ে দেবে। ভোর থাকতে থাকতেই রওয়ানা হয়ে যাব। আগামী কাল ঈদ, গেলে আজই যেতে হবে। বাসের টিকিটের জন্য লম্বা লাইন হওয়ার কথা। ব্যাগপত্র গুছিয়ে সূর্য উঠার আগেই মহাখালি গিয়ে পৌছলাম। যা দেখলাম তাতে মনে হল 'উল্টা ঘোর' নীতি অবলম্বন করায় ভালো। লোকে গিজ গিজ করছে পুরো বাসস্ট্যান্ড জুড়ে। এরা কি সারারাত না ঘুমিয়ে এখানে দাড়িয়ে আছে! বাড়ি ফেরা কি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ! আমি তেমন কোন কিছু অনুভব করছিনা। একটু রোমাঞ্চ হচ্ছে, এই যা। লাইনে দাড়ানোর তো প্রশ্নই উঠেনা। আমি এমাথা থেকে ও মাথা ঘুরাঘুরি করছি। কত মানুষ! এক লোককে দেখলাম একটা মহিলাকে ক্রমাগত ধমকাচ্ছে। মহিলা সম্ভবত লোকটার স্ত্রী। মহিলা লজ্জায় কিংবা ভয়ে জড়সড় হয়ে আছে, আর কাতর নয়নে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে। চোখের ভাষাটা এরকম যে, সবাই তাকিয়ে আছে তো! কেন শুধু শুধু এমন করছো! ঐ লোকটা কেন ব্যাপারটা বুঝতে পারছেনা, বুঝলামনা। একবার ইচ্ছে করল গিয়ে বলি, ভাই এটা প্লাবলিক প্লেস। এখানে ধমকাধমকি করে লোকের হাস্যরসে পরিণত না হয়ে বাড়ি গিয়ে চুটিয়ে ঝগড়া করুন। কিন্তু আর বলা হয়ে উঠলনা। এক কণ্ডাক্টর ডাকছে, পিছেনর একটা সিট খালি, কে উঠবেন উঠেন।টিকিট লাগবোনা, ভাড়া কিন্তু দুইশ বিশ টেকাই। আমি তার দিকে তাকাতেই সে আমার ব্যাগটা নিয়ে বলল আসেন ভাইজান। আমিও অগত্যা উঠে পড়লাম। যাওয়া যাক এবার সাধের ময়মনসিংহ। বাস থেকে নামলাম বেলা এগারোটার দিকে। আংটা দিয়ে কোন কিছু যেভাবে আটকে রাখা হয়, বাসের পিছনের সিটে আমাকেও সেভাবেই থাকতে হয়েছিল। দুইজন অতিকায় ব্যক্তি প্রাণপনে পিষে আমাকে অন্য রকম একটা বস্তু বানিয়ে দিয়েছিল প্রায়। তাই বাস থেকে নেমেই নিজের মনুষ্য সত্তা ঠিক রাখার জন্য একটা হোটেলে ঢুকে পড়লাম। পরোটা আর ডালবাজি দিয়ে জমপেশ একটা নাস্তা হয়ে গেল। এখন নিজেকে একটু মানুষ মানুষ মনে হচ্ছে। এখনও বুঝতে পারছিনা যাব কি যাবনা। একজনের কাছে জিজ্ঞেস করে অবশ্য ময়নামতি যাওয়ার ঠিকানাটা জেনে নিয়েছি। ব্রহ্মপুত্র নদ পাড় হয়ে সোজা রাস্তা ধরে গেলে যে গ্রামটা, সেটাই ময়নামতি। যাব কি যাবনা করতে করতে আমি এখন নৌকায়। নদীতে কোন স্রোত নেই। শান্ত দীঘি বলে যে একটা কথা আছে তার চেয়েও শান্ত। কিন্তু নৌকাটা দুলছে খুব। নৌকায় আমি ছাড়া আরও অনেকে আছে। এই দোলাদুলির ব্যাপারটায় তারা মনে হয় অভ্যস্ত। কারও মাঝে কোন বিকার নেই। কিন্তু এই সামান্য দুলুনি আমার ভেতর জলোচ্ছ্বাস বইয়ে দিচ্ছে। এই বুঝি ডুবে গেলাম। সাতার টা না শিখে বড্ড ভুল করে ফেলেছি। এক সহৃদয়বান লোক হয়ত আমার অবস্থাটা টের পেয়েছে। পরনে একটা ময়লা পাঞ্জাবী, আর লুঙ্গি। পান খাওয়া লাল দাতের হাসি দিয়ে বললেন, কি গো বাবাজী! ভয় পাইতেছেন নি? আমি বললাম, না চাচা, ঠিক আছে। ভয় পাব কেন! ---যেমনে কাপাকাপি করতাছেন, উল্টাইয়া তো পড়বেন পানিতে। সাতার না জানলে সোজা পাতালে। এই লোক বলে কি এইসব! মুখে বিরক্তির রেখা ফুটিয়ে বললাম, আমি ঠিক আছি। আপনি আপনার দিকে নজর দেন। পানের পিক টা না ফেললে একটু পর আপনার পাঞ্জাবীর দফারফা হয়ে যাবে। লোকটা পানের পিক ফেলতে ফেলতে গলায় গাম্ভীর্য এনে বলল, তা যাইতেছেন কই, কার এইখানে? ---বড়বাড়ি, আব্দুস সোবহান সাহেব আমার চাচা হন। ---বড় ভালো মানুষ গো আপনের চাচা। তয় মেজাজ টা একটু বেশি। জমিদার বংশের লোক তো, আচার ব্যবহার জমিদারগো মতই। তা, আপনের বাপের নাম কি? সোবহান সাহেবের যে ছোট ভাই ছিল হেয় তো নিরুদ্দেশ। আমি কিছু বলার আগেই নৌকা তীড়ে ভিড়ল। আর বলা হলোনা আমি সেই নিরুদ্দেশ বাবারই সন্তান। একটা প্রকান্ড পুরনো দালানের সামনে দাড়িয়ে আমি। বাড়ির রং টা যে কি ছিল তা হয়ত বাড়ি নিজেই ভুলে গেছে। বাড়ির চারপাশে অসংখ্য ঝোপঝাড়ে ভর্তি। বুঝায় যাচ্ছে এটা সাপেদের অভয়ারণ্য। দুতলা প্রাসাদটার পিছনের অংশ ধ্বসে গেছে। বাইরের আবরণটা শেওলা জমে স্যাতস্যাতে হয়ে আছে। তবুও কেমন যেন একটা গাম্ভীর্য নিয়ে দাড়িয়ে আছে বাড়িটা। বাড়িতে ঢোকার মূল ফটকে কোন গেট নেই। আমি কি ভিতরে ঢুকে যাব না এখানেই দাড়িয়ে থাকবো বুঝতে পারছিনা। যে বাড়িতে ঢোকার আগে আমাকে দশবার ভাবতে হচ্ছে, সেটাকে নিজের বাড়ি কি করে বলি, ভাবছি। একজন লোক কে দেখা যাচ্ছে বের হয়ে আসছে। লম্বা চওড়া গড়ন, ফর্সা গাত্রবর্ণ। পরনে একটা পরিষ্কার সাদা পাঞ্জাবী আর লুঙ্গি। কাধে একটা চাদর ভাজ করে ফেলে রাখা। এখন যেহেতু গরম, চাদর পড়ার তো প্রশ্নই আসেনা। এটা তার একটা বিশেষত্বের পরিচায়ক, বোঝায় যাচ্ছে। কাচা পাকা দাড়িগুলোও তার ব্যক্তিত্বের সাথে খুব মানিয়ে গেছে। লোকটা কাছে আসতেই মনে হল কোথায় যেন দেখেছি তাকে। দেখতে অনেকটা আমার বাবার মতই। ইনি ই বড় চাচা ননতো! আমার সামনে দাড়িয়ে জিজ্ঞেস করলেন, কি ব্যাপার, কি চায়? আমি আমতা আমতা করে বললাম, আমি ঢাকা থেকে এসেছি। আমার বাবার নাম মোশারফ হোসেন। লোকটার কঠিন মুখটা কেমন যেন মেঘাচ্ছন্ন হয়ে গেল। কোমল, কিন্তু কালো মেঘ। জিজ্ঞেস ও করলেননা আমার নাম কি? কোন কুশলাদির সুযোগ না দিয়েই বাইরে থেকে ডাকলেন কই গো জ্যোতির মা, এদিকে এসো। প্রায় সাথে সাথেই একজন মধ্য বয়স্কা মহিলা মাথায় ঘোমটা দিতে দিতে বের হয়ে এলেন। মহিলা খুব রূপবতী ছিলেন বুঝা যাচ্ছে। এখনও বয়সের ছাপ স্পষ্ট না। মহিলা তার স্বামীর দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকাতেই তিনি বললেন, এ হচ্ছে মোশারফের ছেলে। ওকে ভিতরে নিয়ে যাও। আর আমি গরু কিনতে হাটে যাচ্ছি, কাদেরকে একটুপর পাঠিয়ে দিও।
চাচীমা একদৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন। তার চোখে অশ্রুর নদী তৈরি হচ্ছে, যে কোন সময় বন্যা হয়ে গড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা। আমি মৃদু হেসে বললাম, কেমন আছেন চাচীমা? তিনি সৎবিৎ ফিরে পেয়ে বললেন, ভালো আছি গো বাবা, খুব ভালো আছি। এসো ভিতরে এসো। আমি ভিতরে যেতে যেতে ভাবছি এ অশ্রুর উৎস আসলে কোথায়! যারা একটাবার আমাদের খোঁজ নেয়ার দরকার মনে করেনি, তাদের চোখে এ কিসের অশ্রু, অনুসূচনার! যাই হোক ভিতরে যেতেই চাচীমা কাকে যেন ডাকলেন আমাকে বাথরুম দেখিয়ে দিতে। একটা তের চৌদ্দ বছরের ছেলে সবগুলো দাত বের করে দিয়ে বলল, আহেন আমার লগে। বাথরুমে গিয়ে ফ্রেশটেশ হয়ে বের হলাম। সেই কেলানো দাতের ছেলেটা আমাকে একটা ঘরে নিয়ে গেল। দোতলায়, পরিপাটি করে সাজানো একটা ঘর। কোথাও এত টুকু অগোছালো নেই। দেখেই বোঝা যাচ্ছে ঘরটা ব্যবহার হয়না। সবকিছু ঝকঝকে তকতকে। দেয়ালে খুব ভালো মানের কিছু পেইন্টিং ঝুলছে। একটা আবার উল্টো করে ঝোলানো। পেইন্টিং গুলো যার হাতের তার হাতটা কেমন যেন চেনা চেনা লাগছে। এক কোণায় অনেক পুরনো কিন্তু পরিপাটি করে গোছানো একটা খাট। আমি ঘরের শোভা দেখতে দেখতেই চাচীমা এসে হাজির হলেন। বললেন, কি রে ঘর পছন্দ হল! এটা তোর ঘর। নিজের মত করে থাকবি, আর কিছু লাগলে ঐ ছেলেটাকে ডাকবি। ওর নাম কাদের। আমি বললাম, জি আচ্ছা। ----এমন লজ্জা লজ্জা করে কথা বলছিস কেন! আমি তোর চাচী। চাচীর সাথে কেউ এরকম লজ্জা করে কথা বলে! মা নেই তো কি হয়েছে, চাচীও তো মায়ের মতই। ---মা যে মারা গেছে, এটা কি আপনি জানতেন? চাচী এ ব্যাপারে কিছু বললেন না। একটু চুপ থেকে বললেন টেবিলে খাবার দেওয়া হচ্ছে, একটু বিশ্রাম নিয়ে খেতে আয়। আমি বললাম, জ্বী আচ্ছা। একটা ব্যাপার খুব ভালো লাগলো। চাচীমা তুমি থেকে তুই এ নেমে এসেছেন। যত্ন আত্তিরের ঢালাও দেখি খুলতে শুরু করেছে। এখানে আসার সিদ্ধান্তটা মোটেও ভুল হয়নি। অন্তত হোটেলে তো খেতে হবেনা।

নীচ তলায় একটা ডাইনিং টেবিলে খাওয়ার আয়োজন। চাচীমা রুই মাছের একটা বড় মাথা আমার প্লেটে তুলে দিলেন। সত্যি বলতে কি, এত বড় মাথা খাওয়া তো দূরে থাক, চোখেই দেখিনি কোনদিন। আমি চাচীমা কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনারা খাবেন না? হ্যা খাব, তুই আগে খা। আমি আর জ্যোতি পরে খাব। ও ভালো কথা, জ্যোতিকে তো তুই দেখিসই নি। আমার তিন মেয়ে। বড় দুইটার বিয়ে হয়ে গেছে। বছরে দুয়েক বার আসে। এই ঈদে আসবেনা বলে দিয়েছে। আর জ্যোতি এখানেই একটা কলেজে পড়ে। কিরে জ্যোতি, ডালের বাটিটা নিয়ে আয়। একটু পরই একটা মেয়ে ঢুকল। সতের আঠারো হবে বয়স। ছিপছিপে গড়ন। চেহারা ফর্সার দিকেই। তবে চোখগুলো অসম্ভব মায়াবী। হাতে ডালের বাটি নিয়ে হাটা বোধহয় তার অভ্যাসে নেই। কেমন সাবধানে পা ফেলছে। এই বুঝি ফেলে দিয়ে একটা কেলেংকারি বাধাবে। বাটিটা কোন রকম টেবিলের উপর রেখেই ছুট লাগালো মেয়েটা। আমার দিকে ফিরেও তাকালোনা। গ্রামের মেয়েরা কি সত্যিই এমন হয়! নাকি লজ্জা পাওয়াটাও তাদের একটা প্রথা! ঠিক বুঝতে পারলামনা। একটা ব্যাপার বুঝে গেছি, যত্ন টাকে চাচীমা অত্যাচারের পর্যায়ে নিয়ে যাবেন। আমার প্রাত্যহিক খাবারের তিনগুন খেয়েও চাচীমার মন রাখতে পারিনি। মেসে থেকে কি খাই না খাই এই নিয়ে তার বড় আফসোস। ভারী খাওয়া দাওয়ার পর একটা সিগারেট খাওয়া আবশ্যক। আমার ঘরটাও একটু আলাদা জায়গায়। একেবারে এক কোণে। তাই অনায়াসেই একটা সিগারেট ধরালাম। জানালা দিয়ে ব্রহ্মপুত্রের একটা পাশ দেখা যায়। নদী বলতে আজীবন যা শুনেছি এটা ঠিক তেমন না। কোন জোয়ার নেই, লঞ্চ স্টীমার নেই। ছোট শান্ত একটা নদ। কালের বিবর্তনে সবাইকেই যে হার মেনে নিতে হয়, নদটা তার জলজ্যান্ত প্রমাণ। একটা বিষয় ভেবে অবাক হচ্ছি, এ বাড়ির কারও আমার সম্পর্কে তেমন কিছু জানার কথা না। নামটাই তো এখনও কেউ জিজ্ঞেস করেনি। আমি মেসে থাকি এটাও তো কারো জানার কথা না, চাচীমা জানলো কি করে! তাছাড়া আরও কিছু ব্যাপার ও তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু জট খুলতে ইচ্ছে করছেনা। আমি দুদিনের জন্য এসেছি, দুদিন থেকে চলে যাব। আর কোনদিন আসব কিনা তারও নেই ঠিক। কি দরকার রহস্য নিয়ে খেলা করার! তারচেয়ে বরং গ্রামটা ঘুরে ফিরে দেখি। বিকেল দিকে কাউকে কিছু না বলেই বেরিয়ে পড়লাম গ্রাম দেখতে।
বাড়ি থেকে বের হয়ে সোজা হাটা ধরলাম নদীর দিকে। নদীর পাড়ে একটা বটগাছ আছে। দেখেই মনে হয় অনেক পুরনো বটগাছ। গাছের গুড়িতে বসার মত জায়গাও আছে। আমি বসে আছি বটগাছের গুড়িতে। ছোট ছোট পাল তোলা নৌকা চলে যাচ্ছে। কবি সাহিত্যিক দের সাহিত্য চর্চার জন্য এটা একটা আদর্শ জায়গা। কিন্তু আমার মধ্যে সেরকম কিছু নেই। বসে বসে নৌকা পারাপার দেখছি। বেশিরভাগ মানুষই কোরবানির হাট থেকে গরু কিনে ফিরছে। গরু পারাপারও একটা দেখার মত দৃশ্য। একটা মাঝারী সাইজের ট্রলার গরু পারাপারের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। একসাথে পাঁচ থেকে ছয়টা গরু আঁটে তাতে। গরু গুলোকে ট্রলারে উঠানোর জন্য নানা রকম কসরত করতে হচ্ছে ট্রলারের লোকদের। দেখে মনে হচ্ছে গরু উঠানো নামানোর ব্যাপারটায় তাদের কাছে ঈদ। এটায় তাদের আনন্দ। ছোট ছোট কচুরিপানার দল ভেসে চলে যাচ্ছে। বিকেলের শেষ আলো এসে পড়ছে আমার মুখে। কন্যা সুন্দর আলোয় নাকি কনে দেখানোর নিয়ম। পুরুষদের ক্ষেত্রে এরকম কোন ব্যাপার আছে কিনা জানা নেই। ---কি ভাবতেছেন ভাইজান একা একা। পাশ ফিরে দেখি কাদের দাড়িয়ে। মুখে তার সেই চিরচেনা হাসি। আমিও তার মত একটা হাসি দিয়ে বললাম, কিছু ভাবিনা। তা কি খবর তোমার কাদের মিয়া?
---কোন খবর নাই। আপনারে খুজতে খুজতে জীবন শেষ। গরু কিইন্যা নিয়া আসছি একটা এত্তবড়! চাচাজানের কলিজা আছে কইতে অইবো, বাজারের সবচেয়ে বড় গরুটা কিনছে। কিন্তু আফসোস, খাওয়ার লোক নাই। ---তাই নাকি, তাহলে তো দেখতে হয় গরুটা। ---এইজন্যই তো আপনারে খুজতাছি। এইটা না দেখলে জীবনে অনেক বড় একটা জিনিস মিস করবেন। ---গরু তো আছেই কাল সকাল পর্যন্ত, তখন দেখা যাবে। এত তাড়হুড়া করছ কেন! ---চাচীআম্মায় আপনারে বুলায়। কুমড়া ফুলের বরা বানাইতাছে আপনের জন্য। এইগুলা কোন খাওয়ার জিনিস হইল! ফুলে কোন স্বাদ আছে! স্বাদ হইল গরুর মাংসে। তাড়াতাড়ি চলেন ভাইজান, নইলে চাচীআম্মায় আবার আমারে বকবো। আমি কিছু না বলে উঠে পড়লাম। কাদের আমার পিছন পিছন হাটছে। ছেলেটা অনেক কথা বলে, তবে শুনতে খারাপ লাগেনা। চাচীমা একটার পর একটা বরা ভেজে ভেজে দিচ্ছেন আর আমি খাচ্ছি। প্রথমদিকে খুব তৃপ্তি নিয়েই খাচ্ছিলাম। কিন্তু এখন ব্যাপারটা অত্যাচারের পর্যায়ে চলে গেছে। মানা ও করতে পারছিনা। সহজে না করে দেয়ার ব্যাপারটা আমার মাঝে নেই। তবে জ্যোতির মাঝে আছে দেখলাম। তার মা বলেছিল, এদিকে এসে আমাকে একটু সাহায্য কর্, কিন্তু জ্যোতি মুখের উপর বলে দিল, পারবনা। আমার হাতে মেহেদী দিতে হবে। মেহেদী দেওয়ার কথাটা শুনেই বাবার কথা মনে পড়ল। মা কখনই মেহেদীর আল্পনা আঁকতে পারতোনা। কিন্তু বাবা খুব সুন্দর আল্পনা আঁকতেন। মায়ের হাতে এঁকে দেয়ার পর আমিও বায়না ধরতাম। বাবা আমার হাতেও এঁকে দিতেন। কি সুন্দর ছিল দিন গুলি! জ্যোতির মেহেদী দেওয়ার ব্যাপারটা দেখতে ভালোই লাগছে। বুঝায় যাচ্ছে তার মন মত হচ্ছেনা। হঠাৎ সে আমাকে ঢেকে বলল, আপনি মেহেদী দিতে পারেন! প্রশ্নটা আমার জন্য একটু উদ্ভট ই বলা চলে। যে জীবনে রংয়ের কোন ছোঁয়া নেই, সেখানে আল্পনা এঁকে দেওয়া কি আমার কাজ! আমি সহাস্যে এপাশ ওপাশ মাথা নেড়ে জানিয়ে দিলাম, পারিনা। জ্যোতি আর কিছু বললনা, তার কাজে মন দিল।
সন্ধ্যায় আমার জন্য বরাদ্দ ঘরে শুয়ে আছি। ঘর অন্ধকার, সিগারেটের আগুন উঠানামা করছে। মনে অনেক প্রশ্নেরা দানা বেধে আছে, কিন্তু তাদের নিয়ে ঘাটাঘাটি করতে মন সায় দিচ্ছেনা। এই ঘরের ঐ ছবিটা উল্টানো কেন? তাছাড়া ঘরটাও কেমন যেন ভুতুড়ে। অনেকদিন কেউ না থাকলে যেমনটা হয় আরকি। চাচীমা যত্ন আত্তিরের শেষটা করছেন। কিন্তু আমার এবং বাবা মার ব্যাপারে তার যেন জানার কোন আগ্রহ নেই। মনে হয় সবই তার জানা। কেমন যেন গোলমেলে একটা অবস্থায় আছি। আবার খারাপও লাগছেনা গোলমাল টা। আমি কেমন যেন উপভোগ করছি। হঠাৎ ঘর আলোকিত হওয়ায় চমকে উঠলাম। জ্যোতি দাড়িয়ে আছে দরজার কাছ ঘেসে। আমার সিগারেট টা নিভে গিয়েছিল। সেটা জানালা দিয়ে ফেলে সবিস্ময়ে তার দিকে তাকাতেই, দুহাত সামনে মেলে দিয়ে বলল ভালো হয়নি! আমি ভালো করে না দেখেই বললাম, ভালোই তো। ---তার মানে ভালো হয়নি। কেউ মিথ্যা বললে আমি বুঝতে পারি। আপনার মনে এখন কি চলছে তাও বলে দিতে পারব। বলব? ---তাই নাকি, বল দেখি কি চলছে। ---আপনি ভাবছেন একটা ছবি উল্টো করে কেন লাগানো! আপনি ইচ্ছা করলেই দেখতে পারেন ছবিটা, কিন্তু দেখছেন না। ভাবছেন দেখলে মনে আরও বেশি প্রশ্ন জাগবে। ঠিক বলিনি? আমি রীতিমত অবাকই হলাম। মেয়েটা আসলেই বুদ্ধিমতি। কথাও বলছে নি:সঙ্কোচে। আমি বললাম, ---তুমি দশে দশ পেয়েছ। আচ্ছা, এবার একটা কথা বলতো, আমি আসার পর থেকে তুমি এখনও একবারও আমাকে ভাইয়া ডাকোনি। এর কারণটা কি? --- কোন কারণ নেই। আপনি আসলে আমাদেরকে ঠিক আপনজন হিসেবে ভাবতে পারছেন না। মনে অনেক গুলো কিন্তু তৈরি করে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। যে আমাকে আপন ভাববেনা, আমি কেন তাকে ভাইয়া ডাকতে যাব! ---কথাটা খারাপ বলোনি। আসলে বাবা মা ছাড়া আর কোন আপন মানুষের কাছাকাছি যাইনি তো কখনও। তাই হয়ত এমনটা হচ্ছে। কিন্তু তোমরা কি কখনও চেষ্টা করেছ আমি যেন তোমাদের আপন ভাবি? --- সেটা আমি আপনাকে বলবনা। সময় হলে আপনি নিজেই জানবেন। আর না জানলেও ক্ষতি নেই। সন্ধ্যায় ঘর অন্ধকার করে রাখবেন না। সন্ধ্যায় ঘরে আলো দিতে হয়।
আমি মৃদু হেসে জ্যোতির দিকে তাকাতেই দেখি সে চলে যাচ্ছে। আমি একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে উঠে বসলাম। আরেকটা সিগারেট ধরাচ্ছি, তখনই দেখি কাদের এসে হাজির। বলল, --- চাচাজান আমারে এই পাঞ্জাবীটা দিছে। সুন্দর হইছেনা ভাইজান? একটা টুপিও দিছে, এই দেহেন। বলে কাদের আমার দিকে পাঞ্জাবীর প্যাকেটটা বাড়িয়ে দিল। টুপিটা তার হাতেই আছে। আমি প্যাকেটটা খুলতে যাব, তখনই কাদের চেচিয়ে উঠল, করেন কি করেন কি ভাইজান। এইটা খুইলা ফালাইলে তো ঈদ ই শেষ। কালকে এইটা পইড়া মাঠে যামু নামায পড়তে। তয় নামাযটা পড়া হইবোনা। নতুন জুতা গুলা খেয়াল রাখতে হইবো। কে না কে নিয়া যায়! আমি খাড়াইয়া খাড়াইয়া চাচাজান আর আমার জুতা পাহাড়া দিমু। আপনে গেলে আপনার গুলাও দেইখা রাখমু। বুদ্ধিমানের কাজ না ভাইজান? ---হুমম, বুদ্ধিমানের কাজ। তা, না দেখে বলব কি করে যে পাঞ্জাবী কেমন হয়েছে! ---থাক বলতে অইবোনা, কালকে পড়লেই দেখবেন। নায়ক রিয়াজের একটা এমন পাঞ্জাবী ছিল। কি কপাল দেখছেন, ঐ পাঞ্জাবী এখন আমি পড়মু। রিয়াজের মত লাগবো কিনা কন ভাইজান। ---অবশ্যই লাগবে। রিয়াজের চেয়েও বেশি সুন্দর লাগার কথা। একটু লাজুক হাসি হেসে কাদের বলল, কি যে কন না ভাইজান। বলেই ছুট লাগালো। আমি ঈদের নামায শেষ কবে পড়েছিলাম মনে নেই। বাবা মারা যাওয়ার আগে একবার বাবার সাথে গিয়েছিলাম। তারপর আর পড়েছি কিনা মনে পড়েনা। আচ্ছা বড়চাচা কি আমাকে নিয়ে নামায পড়তে যাবেন! নাকি একাই যাবেন। প্রায় একদিন হতে চলল আমি এ বাড়িতে। কিন্তু সেই প্রথম দেখার পর চাচার সাথে আর দেখা হয়নি। একটু আগেই তিনি বাড়িতে ফিরেছেন। একটু হাক ডাক ও শোনা গেল তার। চাচীমা কে কি নিয়ে যেন ধমকাচ্ছিলেন। চাচীমাও আর এদিকে আসেন নি, তিনি রান্নাবান্নায় ব্যস্ত। আমি কি করব বুঝতে পারছিনা। আচ্ছা এদের জন্য কিছু কেনা কাটা করলে কেমন হয়! বড় চাচার জন্য একটা পাঞ্জাবী, চাচীর জন্য শাড়ি আর কাদেরের জন্য নায়ক রিয়াজের মত একটা শার্ট। জ্যোতির জন্য কিছুনা, ওর হাতের মেহেদী টা খুব বাজে হয়েছে। ওকে খুব সুন্দর করে আল্পনা এঁকে দিব। কিন্তু ভাবনারা কি আর সবসময় ডানা মেলতে পারে! একটু অনভ্যেসই ভাবনাদের পাখা বেধে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। আমার গুলোও বেধে রাখতে হলো। রাত দশটার দিকে কাদের এসে খাওয়ার জন্য ডাকলো।
খাবার টেবিলে আমি আর বড়চাচা পাশাপাশি বসে। জ্যোতি বসেছে আমাদের উল্টোদিকে। চাচীমা, আর কাদের খাওয়ার তদারকি করছে। আয়োজন ভালোনা বলে, বলতে হয় বিশাল। গরুর মাংস, মুরগির কোরমা, সর্ষে ইলিশ আরও প্রায় দুতিন পদ। চাচীমা একের পর এক আমার পাতে খাবার তুলে দিচ্ছেন। কিন্তু আমি খেতে পারছিনা। গলায় কি যেন আটকে আছে। কিছুতেই সেটা খাবার ভিতরে যেতে দিবেনা। বড়চাচা নি:শব্দে খাচ্ছেন। কারোর মুখেই কোন কথা নেই। আমি রীতিমত অস্বস্তি বোধ করছি। হঠাৎ চাচা আমার দিকে না তাকিয়েই বললেন, তোমার, এখানে কোন অসুবিধা হচ্ছেনা তো? আমি মাথা নেড়ে জবাব দিলাম, না। ---রিপ্রেজেনটেটিবের চাকরি টা করছ তো ঠিকমত? এবার আমি অবাক হলাম। কিন্তু স্বাভাবিক ভাবেই জবাব দিলাম, হ্যা। ---তা হঠাৎ এখানে আসলে যে! তোমার তো এখানে আসার কোন কারণ নেই। কোন সমস্যা? আমি এবার তাকালাম চাচার দিকে। উনি নির্বিকার ভঙ্গিতে খেয়ে যাচ্ছেন। তার দৃষ্টি প্লেটের দিকে। আমি কিছু বললাম না। হাত ধুতে উঠে গেলাম। চাচীমা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে চাচার দিকে। কিন্তু বড়চাচা একবারও আমার বা কারোর দিকে তাকালেন না। তিনি খাওয়ায় ব্যস্ত। আমি ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়লাম। রাতে চলে যাবার কোন ব্যবস্থা নেই। সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। অপেক্ষাটা খুব দীর্ঘ মনে হচ্ছে। একটা নিরব বড় বাগানের মাঝে ছোট্ট একটা আগাছার মত ঢুকে পড়েছি। গাছগুলো আমাকে তাদের খাদ্যের ভাগও দিচ্ছে। তবুও তো আমি আগাছা। বাগানে ঠিক মানানসই নই। শুয়ে শুয়ে ভাবছি এসব। হঠাৎ একটা উষ্ঞ হাত আমার মাথা ছুয়ে গেল। চেয়ে দেখি চাচীমা মাথায় হাত বুলাচ্ছেন। আমি উঠে বসতে বসতে বললাম, কাল সকালে চলে যেতে হবে চাচীমা। গ্রামে থেকে অভ্যেস নেই তো, ঠিক মানিয়ে উঠতে পারছিনা। তাছাড়া আপনার এত আদর, পরে অভ্যেসে পরিণত হবে। তখন কি রকম একটা সমস্যায় পড়ব, একবার ভাবুন। তার চেয়ে আমার মেস ই ভালো। আরও কিছু বলতে যাচ্ছিলাম, কিন্তু চাচীমার দিকে তাকিয়ে থামতে হল। তার দুচোখ বেয়ে অশ্রুর ঢল নেমেছে। এ ঢলের প্রতিটি ফোঁটা সাক্ষী দিচ্ছে এক পবিত্র আত্মীক বন্ধনের। আমি নির্বাক হয়ে গেলাম। চাচীমা আঁচলে চোখ মুছতে মুছতে কাগজে মোড়ানো বস্তুটা খুলছেন।
চিনতে অসুবিধা হলোনা এটা দেয়ালে টানানো সেই উল্টো ছবিটা। চাচীমা ছবিটা খুলে আমার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললেন, দেখ। আমি দেখলাম সাদাকালো, প্রায় ঝাপসা একটা ছবি। একজন তরুনের কাধে একটা আট নয় বছরের ছেলে বসে আছে। ছেলেটা কাধ থেকে পড়ে যাওয়ার ভয়ে লোকটার সবগুলো চুল দু হাতে আকড়ে ধরে আছে, তার চোখে তীব্র আতংক। তরুনের মুখ হাসি হাসি। চাচীমা বললেন, তোর বাবা যখন ছোট তখন তোর দাদা মারা যায়। তোর চাচার তখনও পড়ালেখা শেষ হয়নি। তবুও সব ছেড়ে ছুড়ে এসে সংসারের হাল ধরলেন। কেন যেন তোর চাচা তোর বাবাকে বাড়াবাড়ি রকমের বেশি ভালোবাসতেন। আমার যেদিন বিয়ে হয় ওইদিনও তোর বাবা সারাক্ষণ তোর চাচার কাধে। বাবা, মা হীন সংসারে আমি তোর বাবার কাছে তার মায়ের মতনই ছিলাম। কিন্তু আমার কেবল তাকে আদর করার অধিকার ছিল, শাসন করার না। পশুর মত ভালোবাসতো মানুষটা তোর বাবাকে। এতটুকু আচড় লাগতে দিতোনা গায়ে। তোর বাবা যখন আর্ট কলেজে পড়ার জন্য ঢাকা চলে গেল, তোর চাচা হাউমাউ করে কেদেছে সেদিন। ভাবতে পারছিস! এই কঠিন মানুষটাই কিন্তু। সে ঢাকা চলে যাওয়ার পর তোর চাচা কেমন যেন হয়ে যান। আমার সাথে পর্যন্ত দরকার ছাড়া কথা বলতেন না। প্রায়ই ঢাকা চলে যেতেন তোর বাবাকে দেখতে। তোর বাবার পড়ালেখা যখন শেষ তখন তোর চাচা ওর বিয়ের সম্বন্ধ দেখছিলেন। আমি যখন তাকে বিয়ের কথা জিজ্ঞেস করলাম, সে খুশি মনেই বলল, আমাদের ইচ্ছায় তার ইচ্ছা। তোর চাচা খুব সুন্দর একটা মেয়ের সাথে তার বিয়ে ঠিক করলেন। বিয়ের আয়োজনও হলো বিশাল। খুব ধুমধাম করে বিয়েটা হলো। আমি নিজে ফুল দিয়ে বাসর ঘর সাজালাম। একটা প্রতিমার মতো মেয়েকে বসিয়ে রেখে এসেছিলাম সে ঘরে। কিন্তু তোর বাবার কোন খবর নেই। সারা বাড়ি, এমনকি সারা গ্রামে খুজেও তাকে পাওয়া গেলনা। শেষমেষ আমার ঘরের টেবিলের উপর একটা কাগজ চোখে পড়ে আমার। এই দেখ এটা, বলে চাচীমা আমার হাতে একটা ছোট কাগজ ধরিয়ে দিলেন। লেখাগুলো অনেক পুরনো বুঝায় যাচ্ছে। তবে এটা বাবার হাতের লেখা, এতে কোন সন্দেহ নেই। " ভাইজান আসসালাম। খুবই গর্হিত একটা কাজের দরুন আপনার সামনে দাড়াইবার স্পর্ধা আমার নাই। আমি সজ্ঞানে মোছা: নুরুন্নাহার আক্তার কে তালাক দিতেছি। অন্য আরেকজনকে ইত:পূর্বেই বিয়ের ব্যাপারে কথা দিয়া রাখিয়াছিলাম। তাহাকে ছাড়া আর কারও সহিত সংসার করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আমি ঢাকা চলিয়া যাইতেছি। খোজাখুজি করিয়া লাভ কিছু হইবেনা। ঐখানেই নিজের সংসার নিজে গড়িয়া লইব। কোন ধরনের যোগাযোগের চেষ্টা না করিলে খুব খুশি হইব। পৈত্রিক সম্পত্তির আমার অংশের মূল্য স্বরূপ সিন্দুক হইতে কিছু টাকা সাথে লইয়াছি। আমার আর কোন দাবি দাওয়া নাই। ভাবিকে আমার সালাম জানাইবেন। এ জীবনে আপনাদের সহিত আর মনে হয় দেখা হইবেনা। এই মুখ নিয়া আপনার সামনে আসা সম্ভব নয়। পরম করুণাময়ের দয়ায় ভালো থাকবেন আশা করি।" পড়া শেষ করে চাচীমার দিকে তাকাতেই তিনি আবার বলা শুরু করলেন, এই ঘটনার পরদিনই মেয়েটা ক্ষোভে দু:খে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে। বাসরঘর, যা একটা মানুষের সবচেয়ে সুখের স্থান সেখান থেকে মেয়েটাকে লাশ হয়ে বের হতে হয়। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত তোর চাচাকে আমি কোনদিন হাসতে দেখিনি। ভালো করে কথা বলতে দেখিনি। নিজের মেয়েগুলোর সাথেও পর্যন্ত ঠিকমত কথা বলেনা। এই ঘরটাই তোর বাবার ঘর ছিল। এখানে আমাদের কারোর ঢোকা নিষেধ। প্রতি সপ্তাহে তোর চাচা ঘরটা পরিষ্কার করে, গোছগাছ করে রাখে। এতকিছুর পরও তোর চাচার ধারনা ছিল তোদেরকে নিয়ে তোর বাবা একদিন আসবে। যেদিন তোরা আসবি সেদিনই এই ঘর উন্মুক্ত করা হবে। শেষমেষ তুই আসলি। তাও এরকম সময়ে আসলি যখন মানুষটার ভিতর অনুভূতি বলতে আর কিছু নেই। সব ভোঁতা হয়ে গেছে। তোর বাবা যেদিন মারা যান, সেদিন থেকে এই ছবিটা উল্টো করে রাখা হয়। তোর বাবার মৃত্যসংবাদ শুনে লোকটা একফোঁটা চোখের জলও ঝড়ায়নি। কেন জানিস! তোর বাবার আত্মা কষ্ট পাবে বলে। এই লোকটা তার একমাত্র ভাইয়ের জন্য প্রতিটা মূহূর্তে কাঁদে। কিন্তু সে কান্না বোঝার মত ক্ষমতা আমাদের কারও নেই। তোদের সব খোঁজ খবরই উনি রাখতেন। তোদের মেসের যে ম্যানেজার, সে হচ্ছে তোর চাচার বন্ধুস্হানীয়। বুঝতেই পারছিস, তোর সব সমস্যা আপনাআপনি কিভাবে সমাধান হয়ে যেত। তোর চাচা একটু আগে আমাকে কেন ধমকাচ্ছিল জানিস! আমি যেন তোকে রাজি করাই এখানে থেকে যেতে। উনার যা কিছু আছে সব তোর নামে উইল করে দিতে চান। আমি মৃদু আপত্তি জানিয়েছিলাম বলেই রেগে উঠেছিলেন।
আমি আমার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। একটা কিছু খটকা আছে এটা বুঝতে পারছিলাম আগে থেকেই। কিন্তু অবস্থা যে এতটা ঘোরতর, ধারনাও করতে পারিনি। আবেগ অনুভূতির ব্যাপারগুলো আমারও অনেকটাই ভোঁতা হয়ে গেছে। কিন্তু তবুও কোথায় যেন সূক্ষ্ম ব্যাথা টের পাচ্ছি। কি যেন একটা দলা পাকাচ্ছে গলার ভেতর। চাচীমা ছবিটা বুকে করে এখনও আমার সামনেই বসে আছেন। চিক চিক করছে চোখ থেকে গড়িয়ে পড়া এক একটা অশ্রু ফোঁটা। আমি বললাম, চাচীমা, আমার চাচা একজন মহাপুরুষ।
খুব ইচ্ছে করছে তার পা জড়িয়ে ধরে বাবার হয়ে ক্ষমা চাইতে। কিন্তু আমার সে যোগ্যতা নেই। আমি এখানে থাকতে পারবোনা কখনই। যতবার এই ছবিটার দিকে তাকাবো, আমার বাবার ক্ষুদ্রতা ভেসে উঠবে চোখে। আপনি, বড়চাচা, আপনাদের প্রত্যেকটা দীর্ঘশ্বাসের সাথে সাথে আমি মনে মনে বাবাকে ছোট করতে থাকবো। আমি সেটা চাইনা। কিন্তু আমি আসব চাচীমা। আমি আবার আসবো। মহাপুরুষ টাকে একনজর দেখার জন্য হলেও আসবো। চাচীমা আর কিছু না বলে উঠে চলে গেলেন। ছবিটা বিছানার উপরই পড়ে আছে। সেটাকে আগের জায়গাতেই উল্টো করে লাগিয়ে দিলাম। মাথাটা খুব ফাকাফাকা লাগছে। ভাবতে পারছিনা কিছুই। জানলা ধরে দাড়িয়ে আছি অনেকক্ষণ। অন্ধকারে নদীটা আর দেখা যাচ্ছেনা। তবুও সেদিকেই তাকিয়ে আছি, শূণ্যতার মাঝে কিছু খুজে পাওয়ার আশায়। কোরবানির গরুটার হাম্বা হাম্বা শোনা যাচ্ছে। সে হয়ত তার নিয়তি টের পেয়ে গেছে। খুব সকালে দরজায় কড়া নাড়ার শব্দে ঘুম ভেঙে গেল। দরজা খুলতেই দেখি জ্যোতি দাড়িয়ে। পরনে একটা নীল রং এর শাড়ি পরে দাড়িয়ে আছে। খুব সুন্দর লাগছে ও কে। আমাকে বলল, ঈদ মোবারক, ভাইয়া। এই প্রথম মেয়েটা আমাকে ভাইয়া ডাকলো। মনে কেমন যেন একটা শীতল বাতাস বয়ে গেল। তার হাতে একটা পাঞ্জাবী। বুঝতে পারলাম বড় চাচা রাতেই এটা নিয়ে এসেছিলেন আমার জন্য। জ্যোতি আমার বিছানায় বসতে বসতে বলল, তুমি গোসল করে, এই পাঞ্জাবীটা পড়ে আসো। তারপর আমি তোমাকে সালাম করবো। আমি ওকে কিছুই বলতে পারলাম না। গোসল করে পাঞ্জাবী, পাজামা পড়ে ওর সামনে আসতেই, জ্যোতি আমাকে সালাম করল। আমি ধাক্কাটা ঠিক সামলাতে পারছিনা। আমার একটা পরিবার আছে, একটা বোন আছে ভাবতেই সব কিছু কেমন যেন তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে। কি করা উচিত ঠিক বুঝতে পারছিনা। জ্যোতি বলল, ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছো কেন? সালাম করলে সেলামী দিতে হয় জানোনা! ওহ তাইতো, আমি পকেটে হাত দিচ্ছি, তখন সে আবার আমাকে থামিয়ে দিয়ে বলল, কিচ্ছু লাগবেনা ভাইয়া। তুমি শুধু আমার মাথায় একবার হাতটা রাখো। এতেই চলবে।
আমি হাত রেখে বললাম, তোর মেহেদী দেয়াটা মোটেই সুন্দর হয়নি। তার মুখটাতে একটু যেন অভিমান ফুটে উঠল, পরক্ষণেই আবার হেসে উঠে বলল, তুমি সুন্দর করে এঁকে দিও। জীবনে এই প্রথম মনে হলো বেচে থাকাটা মন্দ নয়। আমি আর কাদের মিয়া ঈদের নামায পড়তে যাচ্ছি। বড়চাচা আগেই চলে গেছেন। নতুন পাঞ্জাবীতে কাদের মিয়াকে সত্যিই খুব ভালো দেখাচ্ছে। সে অবশ্য একটু চিন্তিত। আমি বলেছি আমার সাথে গেলে নামায পড়তেই হবে। জুতা হারালে আবার কিনে দেব। কিন্তু নামায পড়তেই হবে। সে প্রথমে রাজি না হলেও পরে যখন বললাম, নায়ক রিয়াজ কি পাঞ্জাবী পড়ে তোমার মত জুতা পাহাড়া দেয়? সে একটুক্ষণ চিন্তা করে বলল, কথা তো সত্যই বলছেন, ভাইজান। হেয় তো পাঞ্জাবী পইড়া জুতা পাহাড়া দেয় নাই। ঠিক আছে ভাইজান নামায পড়মু। তয় একটু পিছনের দিকে দাড়ামু। যদি টের পাই কেউ জুতা নিয়া যাইতেছে, তাইলে যেন তাড়াতাড়ি যাইয়া ধরতে পারি। আমি আর কিছু বললাম না। ঈদগাহে চাচাজানের ঠিক পাশেই আমার জায়গা হলো। ইমাম সাহেব বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বয়ান করলেন। আত্মীয়তার সম্পর্ক নিয়েও দুয়েকটা কথা বললেন। তখন আমি তাকিয়ে আমি তাকিয়ে আছি চাচাজানের দিকে। তার মুখ ভাবলেশহীন। এখনও কেও কারো সাথে কোন কথা বলিনি। একটুপর সবাই নামাযে দাড়ালাম। চাচজানের পাশে দাড়িয়ে নামায পড়ছি ভাবতেই মনে একটা তৃপ্তি ছুয়ে যাচ্ছে। নামায শেষ হতেই কোলাকুলি পর্ব শুরু হলো। আমি এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি চাচাজানের দিকে। হঠাৎ চাচাজান দু হাত বাড়িয়ে দিলেন আমার দিকে। আমিও এগিয়ে গেলাম। সবাই অবাক হয়ে দেখছে, সোবহান সাহেব তার ভাতিজাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাদছে। আমি ঘ্রাণ পাচ্ছি। বিশেষ সেই ঘ্রাণ, যা থেকে হাজার মানুষের ভিড়েও আপন মানুষ গুলোকে আলাদা করা যায়। আমার চোখগুলোও ঝাপসা হয়ে আসছে।

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ