"পরিণতি"
.
.
অাজ শুক্রবার, অামার কাছে এই শুক্রবার কোনো বিশেষ দিন নয়। অাবার বলতে গেলে এই দিনে অনেক বিশেষ কিছু করার থাকে, তার জন্য এই দিনটিকে অনেক কারণে বিশেষ দিন বলাও চলে।
যারা সপ্তাহে ছয়দিন কর্মজীবন নিয়ে ব্যস্ত থাকে তাদের জন্য সপ্তাহের এই একটি দিন অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
অসমাপ্ত কিছু কাজকে সমাপ্তের দিকে নিয়ে যেতে এই ছুটির দিনটি খুবই প্রয়োজন।
তবে শুক্রবার এই ছুটির দিনটি অামার জন্য কোনো রকমের ব্যস্ততা নিয়ে অাসেনা, অামার অফিসের সব ঝামেলাই ক্ষুদ্র এবং তুচ্ছ-সামান্য, অার এই ক্ষুদ্র ঝামেলা গুলো ঠিক করার জন্য দ্বীর্ঘসময় কিংবা কোনো ছুটির দিনের প্রয়োজন হয়না।
অফিস শেষ করে বাসায় ফিরে সেই ক্ষুদ্র সমস্যা গুলোর সমাধান করে ফেলি। যার কারণে অামার কোনো কাজই অার অসমাপ্ত থাকে না। তাই বলা চলে অাজকের এই ছুটির দিনটা অামার জন্য বোনাস স্বরুপ।
.
অফিস থেকে অামাকে যে প্রজেক্টে কাজ করতে দেয়া হয়েছে সে প্রজেক্টটা অামার খুবই ভালো লেগেছে।
তাছাড়া অামি যে প্রজেক্টটা হ্যাণ্ডেল করছি সে প্রজেক্টে অামরা পাঁচজন কাজ করছি।
মজার ব্যাপার হলো অামরা এই পাঁচ জন্যই কলেজ বন্ধু।
ইন্টার ফাষ্ট ইয়ার থেকে অামরা এই পাঁচজন এক সাথে।
এই বন্ধুত্বটা হয়তো অামার অস্তিত্বে একাকার হয়ে গেছে, যার কারণে স্টুডেন্ট জীবন শেষে এবার কর্মজীবনেও কেউ অামার পিছু ছাড়েনি। সবাই এক সাথে।
অামার এই প্রজেক্টে বাকি চারজনের বস অামি।
তবে বন্ধুদের সামনে নিজেকে বস হিসেবে পরিচয় দিতে খুব লজ্জা হয়।
তবুও তারা কথায় কথায় অামাকে বস বলে ডাকে, অামি অনেক বারণ করেছি তবুও তারা শুনেনি। তারা বলে অন্যসব দায়িত্বের মাঝে অামাকে বস বলে ডাকাও তাদের একটি দায়িত্ব।
.
হঠাৎ ফোনটা বেজে উঠলো, ফোন পিক করতেই অনবের কন্ঠ শোনা গেলো। অনব বললো অাধ-ঘন্টার মাঝে বট তলায় হাজির হতে হবে।
প্রতি শুক্রবারই অামরা পাঁচ বন্ধু সেই বট তলার একটি বট গাছের নিচে বসে অাড্ডা দেই। সপ্তাহের এই ছুটির দিনে বিকেলের সময়টা অামাদের খুব ভালোই কাটে।
তাছাড়া বট তলার রফিক চাচার জলপাই ফ্লেভারের সেই ঐতিহাসিক রঙ চা না খেলে বিকেলটা একদম পানসে লাগে। তাই এই রঙ চা টা অামাদের সাপ্তাহিক অাড্ডায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি ভূমিকা রাখে।
এখন বিকেল চারটা বাজে, অনব অামাকে অাধ-ঘন্টা সময় দিয়েছে।
তার মানে চারটা ত্রিশে অামাকে বট তলায় পৌঁছাতে হবে।
অামার বাসা থেকে বট তলা বেশি দূরে নয়, রিক্সা পথে মাত্র দশ মিনিটের রাস্তা। রিক্সা ভাড়া বিশ টাকা।
তবে রেডি হতে সময় লাগবে, পাঠকরা ভাববে হয়তো মেয়েদের মত মেকঅাপ করতে গিয়ে অামি দ্বীর্ঘ সময় ব্যয় করবো। অাসলে তেমন কিছু নয়, সবে মাত্র ঘুম থেকে উঠলাম। ফ্রেস হব কিছু একটা খেয়ে তারপর বের হব।
.
বাসা থেকে বের হয়ে একটি রিক্সা ধরে বট তলায় গিয়ে নামলাম।
এখন বিকেল চারটা পঁচিশ, প্রায় বিকেল ঘনিয়ে অাসছে। তবুও সূর্যের উত্তাপ কমছেনা। ক্রমাগত বাড়ছেই।
অামি যে রিক্সায় চড়ে অাসলাম সেই রিক্সাওয়ালার বয়স অনেক হবে। প্রায় অামার বাবার বয়সী।
অামি লক্ষ করলাম অামাকে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে গিয়ে সূর্যের উষ্ণ তাপে ঘামের বন্যা তার শরীর দিয়ে বয়ে গেছে।
ক্লান্ত অবষন্ন শরীর থেকে নোনা ঘামের গন্ধ অাসছে, যদিও গন্ধটা অস্পষ্ট।
তাই স্নিগ্ধ বাতাসে সেই গন্ধটা বিলিন হয়ে যাচ্ছে।
অামি পকেট থেকে একশো টাকার একটি নোট বের করে বললাম বাকি আশি টাকা অাপনি রেখে দিন।
মুহূর্তেই লোকটির পরিশ্রান্ত চেহারাটা চকচক করে উঠলো। হাসিতে মুখটা ফুটে উঠলো।
পৃথিবীতে কিছু মানুষ অাছে যাদেরকে খুশি করার জন্য অাপনাকে হাজার টাকা ব্যয় করতে হবেনা, খুশি মনে ভালোবাসার সহিত দশ-বিশ টাকা কিংবা অমূল্য একটি হাসি উপহার দিন তাতেই তারা খুশি হবে। এই রিক্সাওয়ালা তাদেরই একজন।
.
বট গাছের নিচে সবাই গোল হয়ে বসে অাছে, অামার উপস্থিতিতেই সবার মাঝে উৎফুল্লতা ফুটে উঠলো। অামি অনবের পাশে গিয়ে বসে পড়লাম।
অমিত উচ্চস্বরে রফিক চাচাকে পাঁচটা জলপাইয়ের চা দিতে বললো।
ঠিক তখনই রাসেল গোম্ভির গলায় বললো সে চা খাবে না।
সাথে সাথে অামরা চারজন রাসেলের দিকে হতভম্ব দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম।
যে রাসেল কিনা রফিক চাচার জলপাইয়ের চা খাওয়ার জন্য অাজকের এই ছুটির দিনের অপেক্ষায় থাকে অাজ সেই রাসেলই বলছে সে কিনা চা খাবেনা। নিশ্চই এর মাঝে একটা রহস্য অাছে। সময় মত সেই রহস্যোর জট খুলতে হবে।
.
চা শেষ করে প্রাত্যহিক ভাবে অামরা অামাদের প্রজেক্ট নিয়ে বাক্যালাপ করা শুরু করেছি।
কিন্তু অাজ রাসেলের কি হলো কে জানে, অাজকের অাড্ডায় রাসেলের কোনো মন নেই। তার মন অাজ অন্য কোথাও।
শুধু অামি নই, বাকি সবাই বুঝতে পারলো রাসেলের মন অাজ অামাদের বাক্যালাপে নেই। অন্য কিছু নিয়ে সে গভীর ভাবনায় ডুবে অাছে।
.
-কিরে রাসেল অাজ তোর কি হয়েছে? (অনব)
.
অনবের কথা শুনে রাসেলের থতমত খাওয়ার উপক্রম। ওকে দেখে এমন বোঝা যাচ্ছে এখানে দ্বীর্ঘ সময় ধরে কেউ কোনো টু-শব্দ করেনি, হঠাৎ কেউ চিৎকার করার কারণে সে থতমত খেলো।
অথচ অামরা সবাই অাধ-ঘন্টা ধরে বক বক করে যাচ্ছি।
.
-কি... কি হয়েছে? (রাসেল)
.
পাশ থেকে অমিত বললো
.
-অাজ তোর মন কোথায় বলতো?
.
-কোথায় অাবার? বাসায় নতুন বউ রেখে এসেছে। মনতো এখন বউয়ের জন্য শুধু উঁরু উঁরু করে(অনয়)
.
সাথে সাথে অামরা চারজন হোঁ-হোঁ করে হেসে দিলাম, অামরা যে রাসেলকে নিয়ে হাসলাম এতে তার কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। সে অাগের থেকে অারো বেশি গোম্ভির হয়ে বসে অাছে।
রাসেল বিয়ে করেছে দুই সপ্তাহ হবে। অামরা একটা টুর নিয়ে যেদিন চিটাগাং যাচ্ছিলাম হঠাৎ সেদিন রাসেল ছুটি নিয়ে বিয়ে করার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়লো।
যার কারণে অামরা বাকি চারজনের কেউ ই রাসেলের বিয়েতে যেতে পারিনি।
তবে শুনেছি মেয়েটি নাকি রাসেলের বেশ পরিচিত, দুজন নাকি একসাথেই পড়েছে।
.
সময়টা কেটে যাচ্ছে খুব দ্রুত, এর মাঝে অামরা অারো একবার চা খেয়ে নিলাম। তবে প্রথম বারের মত রাসেল এবার অার চায়ের জন্য না করলো না। পুরো এক মগ চা সে খেয়ে নিলো।
কিছুক্ষণ পর অামাদের বাক্যালাপ শেষ হলো, সবাই এখন চুপচাপ।
অমিত বসে বসে ক্লাশ অফ ক্লান্স খেলছে, এটা ওর খুব প্রিয় একটা গেম। অনয় ফেসবুকিং অার অনব হেসে হেসে কার সাথে যেন ফোনে কথা বলছে।
অার অামি "দিপু নাম্বার টু" উপন্যাসটি পড়ছি।
রাসেল সেই অাগের মতই গোম্ভির ভাব নিয়ে বসে অাছে।
তবে এবার তার মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছে সে কিছু একটা বলতে চায়। অামার মনে হচ্ছে সে এখনই কথা বলা শুরু করবে তাও অাবার দ্বীর্ঘসময় নিয়ে।
.
-বুঝলি অারিফ অামার জীবনটা একদমই শেষ রে (রাসেল)
.
হঠাৎ রাসেলের মুখে এমন কথা শুনে অামরা সবাই অাশ্চর্য হয়ে রাসেলের দিকে তাকিয়ে রইলাম।
কিন্তু রাসেল সব বিস্ময়কে উপেক্ষা করে অাবার বলতে লাগলো
.
-জানিস তোরা এই বিয়েটা অামার জীবনটা তছনছ করে দিয়েছে
.
অামরা সবাই অাগের থেকে অারো বেশিই অাশ্চর্য হলাম, বিয়ে মানুষের জীবনে নিয়ে অাসে এক নতুন জীবন। শুরু হয় এক নতুন জীবনের পথচলা। কিন্তু কোনো বিয়ে কারো জীবনকে তছনছ করে দিতে পারে সেটা অাজ রাসেলের মুখেই প্রথম শুনলাম।
অামাদের সবার মাঝে গাঢ় অাগ্রহের জন্ম নিলো, কি এমন হলো বিয়েতে যে ওর জীবন অাজ তছনছ।
.
-কি হয়েছে খুলে বল, রহস্য নিয়ে কথা বললে বুঝবো কি করে (পাশ থেকে অমিত কথাটা বললো)
.
-তোরা কি জানিস কার সাথে অামার বিয়ে হয়েছে?
.
-সেটা জানিনা, তবে শুনেছি মেয়েটা তোর বেশ পরিচিত (অামি বললাম)
.
-শুধু অামার নয়, তোদেরও বেশ পরিচিত মেয়েটি
.
-মানে???
.
-অামার সাথে যে মেয়েটির বিয়ে হয়েছে তার নাম শ্রাবনী, তোরা তো খুব ভালো করেআ চিরিস ওকে। অামি এতই ব্যস্ত ছিলাম যে মেয়েটিকে না দেখেই হুট করে বিয়ে করলাম, এমনকি বিয়ে বাড়িতেও অামি মেয়েটির দিকে তাকাইনি। যখন বাসরঘরে প্রবেশ করলাম তখন তো অামি একদম হতবুদ্ধি হয়ে গেলাম।
.
মুহূর্তেই সবাই হতবাক হয়ে গেলো, কিন্তু অামি কিঞ্চিত পরিমানও অবাক হইনি।
অামি প্রতিউত্তরে অনেকটা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বললাম
.
-তো কি হয়েছে? তোর জন্য তো সেই মেয়েটি একদমই পারফেক্ট
.
অামার কথা শুনে সবাই অারো তিনগুণ অাশ্চর্য হলো, অনেকটা হতভম্ব দৃষ্টি নিয়ে বড় বড় চোখে সবাই অামার দিকে তাকিয়ে অাছে।
সবার দৃষ্টি বলছে অামার থেকে এমন একটি কথা কেউ কোনদিনই অাশা করেনি।
.
-কি বললি তুই? একটা বারবিলাসিনী অামার জন্য পারফেক্ট? (অনেকটা তীক্ষ্ণস্বরে রাসেল বললো)
.
-তুই শ্রাবনীর থেকে কম কিসে? ভুলে গেলি কলেজ লাইফের কথা!
.
মুহূর্তেই সবাই সবার দৃষ্টি অামার উপর থেকে অাড়াল করে নিলো, কারণ অামি অনেক বড় একটি সত্যি কথা বলে ফেললাম। তাই মুহূর্তেই সবার মাঝে লজ্জা অনুভব হলো।
অামরা এই পাঁচজন তখন ইন্টারে পড়তাম, অামাদের কলেজে সব চেয়ে খারাপ একটি গ্রুপ ছিলো যে গ্রুপে ছিলো মোট দশজন ছেলে। তাদের কাজই ইভটিজিং করা। মেয়েদের দেখলে বাজে কথা বলা।
তবে রাসেল অার অনয় ছিলো প্লেবয়দের মত। প্রেমের নাটক করে মেয়েদের সতীত্বনাশ করা ছিলো তাদের মূল লক্ষ্য।
.
রাসেল অার অনয় অামার বন্ধু হলেও অামি সেই গ্রুপটা থেকে যথেষ্ট দূরে থেকেছি। কলেজ ক্যাম্পাস কিংবা টং দোকান গুলোতে কখনোই অাড্ডা জমাতাম না ওদের কারণে।
অামার মনের পুরো অংশজুড়ে সব সময় একটি ভয় কাজ করতো সেটা হলো অামি যদি সেই গ্রুপে কোনো কারণে মিশে যাই তাহলে নিজের পবিত্রতা হয়তো হারাবো।
কেননা পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ তার যোগ্যতার ফল ভোগ করবে। এটাই প্রকৃতির নিয়ম।
অামি এই মুহূর্তে একটি মেয়ের সাথে অসামাজিক সম্পর্কে লিপ্ত হচ্ছি ঠিক সেই মুহূর্তে অামার হবু স্ত্রী যাকে নিয়ে অামার জীবনের অনেকটা পথ পার করতে হবে সেই মানুষটি তখন ঠিক কি করছে?
নিশ্চই অামার মত কোনো এক অসামাজিক কাজে লিপ্ত হচ্ছে।
কাজেই অাল্লাহর উপর অামার বিশ্বাসটা অনেক গাঢ়। নিজে পবিত্র অাছি, নিশ্চই অাল্লাহ্ অামার জন্য কোনো এক পবিত্র রমণী রাখবেন যে কিনা অামার মত সব অসামাজিক কার্যকলাপ কে উপেক্ষা করে চলছে।
.
এই বিষয় টা অামি অামার বাকি বন্ধুদের বোঝানের চেষ্টা করেছি কিন্তু সবাই অামার সব কথাকে পরিহার করে গেছে।
শাব্রনী ছিলো অামাদের কলেজের ১ম বর্ষের ছাত্রী। খুব মেধাবী এবং ভালো মেয়ে ছিলো।
কিন্তু অজয় নামের একটি ছেলের পাল্লায় পড়েই মেয়েটি ধ্বংস হয়ে গেলো, শুধু অজয় নয় এই গ্রুপের এক এক করে সবাই শ্রাবনীকে ভোগ করেছে।
যদিও রাসেল শ্রাবনীকে ছুঁয়েও দেখেনি, তবে শ্রাবনীর সম্পর্কে সবাই সব কিছু জানে। এক সময় অামাদের কলেজে শ্রাবনী নামটা পরিবর্তন করে কলেজে শ্রাবনীর নতুন নাম রাখা হয়েছিলো "বাংলার সানি লিয়ন"
.
যদিও অামার এই বাকি চার বন্ধুর এইসব কিছু ইন্টারেই সীমাবদ্ধ ছিলো, অনার্সে উঠার পর সবাই নিজেকে পরিবর্তন করা শুরু করে দিয়েছিলো। সবাই একদম ভালো হয়ে গিয়েছিলো।
কিন্তু কিছু পাপের ক্ষত মুছবেনা কোনদিন তওবা করুক যত।
সেই তাদের পাপের পাল্লাটা ভারিই রয়ে গেছে। যার ফল রাসেল এখন উপলব্ধি করতে পেরেছে।
.
অামার বলা "তুই শ্রাবনীর থেকে কম কিসে? ভুলে গেলি কলেজ লাইফের কথা" এই কথাটির পর সবাই দ্বীর্ঘসময় ধরে চুপচাপ ছিলো। নিরাবতা ক্রমাগত বেড়েই যাচ্ছিলো।
কিন্তু অামি সব নিরাবতা কাটিয়ে অাবার কথা বলা শুরু করলাম।
.
-রাসেল, কলেজ লাইফে অামি তোদের থেকে নিজেকে দূরে কেন রেখেছি জানিস? কারণ অামি নারীর সতীত্ব নিয়ে খেলা পছন্দ করিনা। একটা কথা মনে রাখবি রাসেল পৃথিবীর প্রতিটি মানুষই তার নিজ নিজ যোগ্যতা অনুযায়ী সফলতা কিংবা যোগ্যতার ফল ভোগ করবে। তুইও এর ব্যতিক্রমী নয়, তোর যোগ্যতার পরিণিত অাজ কি হলো সেটা তুই উপলব্ধি করতে পেরেছিস। এর জন্য তুই দায়ি।
অামি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারবো, তুই যদি কোনো এক কুৎসিত চেহারার মেয়েকে বিয়ে করতি তাহলে খোঁজ নিয়ে জানতে পারতি সেই মেয়েটি এক সময় পতিতালয়ের বাসিন্দা ছিলো।
.
অামি একরাশ নিঃশ্বাস নিয়ে অাবারও বললাম
.
-জানিস রাসেল অামি জীবনের শুরু থেকেই নিজেকে ভালো কিছুর জন্য যোগ্য করে তুলছি যার ফলাফল অাল্লাহ অামাকে ভালো কিছু দিবেন এটা অামার বিশ্বাস
.
অামার কথায় সবাই একদম চুপসে গেছে, মনে হচ্ছে সবাই বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেছে অামার কথায়।
নিশ্চই সবাই লজ্জায় কিছু বলতে পারছেনা।
চারদিক দিয়ে সন্ধ্যা নেমে অাসছে, এখন অামার বাড়ি ফিরতে হবে। অামি উঠে দাড়ালাম, অামার সাথে সাথে সবাই উঠে দাড়িয়ে "খোদা হাফেজ" বলে চলে যেতে লাগলো। কিন্তু রাসেল সেই অাগের যায়গাটিতেই বসে অাছে। মনে হচ্ছে ওর পুরো দেহ প্রস্তর হয়ে অাছে
.
অামি একটু এগিয়ে যেতেই অবাক হলাম, সেই রিক্সাওয়ালা দাঁড়িয়ে অাছে। অামাকে দেখেই সেই অাগের মত মনোমুগ্ধকর হাসি।
সামনে যেতেই রিক্সাওয়ালা চাচা বললো
.
-চাচা অাপনের লাইগাই বইসা অাছিলাম। (চাচা)
.
মুহূর্তেই অামার চোখ দুটো অশ্রুসিক্ত হয়ে অাসলো, অামার চোখ দুটো অবুজ।
একটু ভালোবাসার ছোঁয়া পেলেই চোখ দুটো ছলছল করে।
অামি চাচার শরীরের দিকে ছলছল চোখে তাকিয়ে রইলাম।
নাহ্ বিকেলের মত চাচার শরীর টা অার ক্লান্ত নেই, চাচার শরীরে বয়ে যাচ্ছে এক অন্যরকম প্রশান্তি। বুঝতে পারলাম এক নামহীন ভালোবাসার ছোঁয়া অাজ চাচাও পেলো।
.
সমাপ্তি।
.
লেখাঃ Arif Mahamud
(Silent Writer)
āĻāϞ্āĻĒ āϏংāĻ্āϰāĻš āĻāϰা āĻāĻŽাāϰ āύেāĻļা। āϰোāĻŽাāύ্āĻিāĻ, āĻৌāϤিāĻ, āϰāĻŽ্āϝ, āĻৌāϤুāĻ āϏāĻš āĻšাāĻাāϰো āĻāϞ্āĻĒ āĻāĻে āĻāĻŽাāϰ āϏংāĻ্āϰāĻšে।
āĻļāύিāĻŦাāϰ, ⧍ āϏেāĻĒ্āĻেāĻŽ্āĻŦāϰ, ⧍ā§Ļā§§ā§
759
āĻāϰ āĻĻ্āĻŦাāϰা āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰা
Rahathossain1010100@gmail.com
āĻāĻ āϏāĻŽā§ে
ā§§ā§Ļ:ā§Šā§Ē PM
āĻāϤে āϏāĻĻāϏ্āϝāϤা:
āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝāĻুāϞি āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ (Atom)
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ