āĻļāύিāĻŦাāϰ, ⧍ āϏেāĻĒ্āϟেāĻŽ্āĻŦāϰ, ⧍ā§Ļā§§ā§­

752 {6}

["চৌকাঠ"(৬)/শেষ পর্ব]

,,,,,,,,,,,,,,,,,,,, সন্ধ্যা,,,,,,,,,,,,,,,,,

মা মারা যাবার পর এ বাড়ি থেকে মায়ের সম্পূর্ণ অস্তিত্ব মুছে দেয়া হয়েছিল।
মায়ের ব্যবহারের সব কিছু জ্বালিয়ে ফেলা হয়েছিল।
ছোট ছিলাম তখন বাধা দেয়া বা প্রতিবাদ করার সাহস বা ক্ষমতা ছিল না।
অতকিছু বুঝতাম না কিন্তু এটুকু বুঝতাম যে এই ডায়রিটা মায়ের খুব কাছের ছিল।
সময় অসময়ে যখনি ১ টু সুযোগ হতো মাকে দেখতাম ডায়রিটা নিয়ে বসে পড়ত।
কিছুক্ষন লেখার পর ডায়রিটা বুকে জরিয়ে ধরে খুব কাদতঁ।

দাদি ফুফু সবাইকে চোখ ফাকি দিয়ে সেদিন এই ডায়রিটা লুকিয়ে নিয়ে এসেছিলাম নিজের কাছে।
এতবছর ধরে অনেক কষ্ঠে এটাকে আগলে রেখেছিলাম। যেন কেউ না দেখে।

কি ভাবছেন?  পারুর মৃত্যুর পর তার ছোট্ট মেযেটির কি দূর্দশা হয়েছিল???

না আমার জিবনে সে দূর্দশা হয় নি। কারন, বাড়ির সবাই আমাকে খুব ভালবাসতো।
মা চলে যাবার পর দাদি আর ফুফুর কাছেই বাড়তে থাকলাম আমি।
আমার ফুফুর কোন মেয়ে ছিল না আর হওয়ার কোন সম্ভাবনাও নাই, তাই ছোট বেলা থেকে ফুফু আমায় নিজের মেয়ের মতোই ভালবাসতো।
আমার ফুফু আমাকে গোসল করিয়ে দিত, খাইয়ে দিত,ঘুম পাড়িয়ে দিত।আমি সারাক্ষন আমার ফুপাতো ভায়ের সাথে খেলতাম,আমার দাদি আমায় অনেক গল্প বলত রাজা-রানির গল্প,রুপকথার গল্প, রাক্ষস-খোক্কসের গল্প।

আমার মা আমায় কখনো গল্প বলত না। হয়তো সে গল্প জানতো না কিংবা হয়তো জানতো কিন্তু গল্প বলার সে মন মানষিকতা আর সময় সুযোগ কখনো হয়ে উঠত না।

কিন্তু আমার মায়ের কাছে গেলে আমাকে বুকে জরিয়ে ধরে খুব আদর করতো, আর অসহায়ের মতো কাদত।
মায়ের কান্নার অর্থ বুজতাম না কিন্তু সে কান্না যে কতটা গভির কতটা করুন সে টা ঠিকই বুজতে পারতাম।

আজ আমাকে গোসল করানোর মানুষ আছে, খাইয়ে দেয়ার মানুষ আছে, ঘুম পাড়ানোর মানুষ আছে, খেলার সাথী আছে, গল্প বলার মানুষ আছে কিন্তু আমাকে সোনা মা সোনা মা বলে ডাকার মানুষটা আর নেই। আমাকে বুকে নিয়ে কাদার মানুষ টা আর নেই।

তুমি চলে গেছ মা আমি যে বড্ড একা হয়ে গেছি, তবু তুমি ভাল থেক মা, ভাল থেক।

ছোটবেলা থেকেই খুব ইচ্ছে করতো মায়ের উপর হওয়া প্রতিটা অন্যায়ের প্রতিবাদ করি, কিন্তু সে বয়স, সাহস আর ক্ষমতা ছিল না।
কিন্তু ভেবেই রেখেছিলাম এর প্রতিশোধ ১ দিন আমি নেবই।
দাদির উপর আর প্রতিশোধ নেয়া হলো না কারন, মা মারা যাবার কয়েক বছরের মধ্যেই দাদি ও চলে গেলেন।দাদি মারা যাবার সময় আমাকে ফুপুর হাতে তুলে দিলেন।

দাদি মারা যাবার পর আমার ফুপুর আর সে বাড়িতে যায়গা হয় নি, কারন সবাই তো আর আমার মায়ের মতো নয়, আমার কাকিরা তাদের সংসারে কোন ঝামেলা রাখতে চান না।
কাজেই ফুপু আমাকে আর ওনার ছেলেকে নিয়ে শহরে পাড়ি জমায়।
শুরু হয় আমাদের নতুন জিবন।
সারাজিবন ফুপু অনেক কষ্ঠ করে আমাদেে দুজনকে মানুষ করে। স্কুল কলেজে পড়াশোনা করায়।
অবশ্য প্রতি মাসে আমার কাকারা ১ টা মোটা অংকের টাকা আমার ফুপুকে দিয়ে যেতেন আমাদের খরচার জন্য।

তারপর থেকে ফুপুর কাছেই বড় হই। ফুপু ও আমায় খুব ভালবাসেন।

কিন্তু এদিক দিয়ে আমার জিবনের নতুন মোড়, আমার ফুপাতো ভাই ও আমাকে ছোট বেলা থেকেই খুব ভালবাসে আমিও যে বাসিনা এমনটা নয়।

অবশেষে ও যখন ইন্জিনিয়র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় তখন আমার
ফুপু আমাকে ভালবেসে ছেলের বউ বানিয়ে নেয়।

হে আমার সেই ফুপুই আজ আমার শাশুড়িমা। যাকে আজ সকালেই আমি বৃদ্ধাশ্রমে রেখে এসেছি।
বিয়ের পর থেকে উনি কেমন একটা বদলে যেতে লাগলেন।
১ টু কিছু হলেই হাজার টা কথা শোনাতে ছাড়েন না।
এমনকি মাঝে মাঝে আমার মাকে নিয়ে কথা বাজে কথা বলে।

কিন্তু আমি মুখ বুজে সহ্য করিনি, আমি প্রতিবাদ করেছি।
সবসময় প্রতিবাদ করেছি। নাহলে হয়তো ওনার অত্যাচারী রুপটা আবার ভেষে উঠবে।
কিন্তু আমি সে সুযোগ ওনাকে দেই নি।
উনাকে প্রতিবাদ তো করেছিই সাথে আজ বৃদ্ধাশ্রমে রেখে এসেছি।
আসলে ওনাকে এখন এটা বোঝানো প্রয়োজন যে দিন পাল্টে গেছে। এখন আর কোন অসহায় পারুর গল্প লেখা হবে না, এখন থেকে শুধু বিদ্রোহী সন্ধ্যাদের গল্প লেখা হবে।

১ মাস পর,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,, 

আজ ১ মাস হয়ে গেলো আমার শাশুড়িমা বৃদ্ধাশ্রমে আছেন সেখান থেকে আজ সকালেই ফোন এসেছে তিনি নাকি অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আর তাই আমি আর আমার হাসবেন্ড দুজনেই এখন সেখানে যাচ্ছি।

বৃদ্ধাশ্রমে পৌছানোর পর,,,,,,,,,,,,,,,

আমি:- কেমন আছো ফুপু???
মা:- ফুপু???
আমি:- হে ফুপু। এটাই তো হতে তুমি আমার মনে নেই?
মা:- সন্ধ্যা মা আমার এসব কি বলছিস তুই???
আমি:- ঠিকই তো বলছি আমার মায়ের কথা মনে পড়ে তোমার???
কতো সহজ সরল নিঃশ্পাপ ১ টা মানুষ ছিল যাকে তোমরা শেষে পাগল বানিয়ে মেরে ফেলেছ।
আচ্ছা ফুপু ১ মাসে তুমি অসুস্থ হয়ে পড়লে?মাত্র ৩০ দিনে???
তাহলে ১ বারো ভেবেছ আমার মা গোটা ৩০ টা বছর কিভাবে কাটিয়েছে?

ফুপু এবার হাউমাউ করে কেদে উঠল,হাত দিয়ে নিজের কপাল চাপড়াতে শুরু করলো। আর বলল......

মা:- তুই ঠিকই বলেছিস মা, ঠিকই বলেছিস। এসব আমার পাপের শাস্তি অনেক পাপ করেছি আমি। নিজের হিংসের বসে তোর মায়ের মতো অমন ১ টা ভাল মানুষকে শেষ করে দিয়েছি আমি। কখনো তাকে বুজতে চাইনি সবসময় তাকে প্রতিদ্বন্দ্বী ভেবেছি। মাকে ভুলভাল বুঝিয়ে সবসময় ওর বিরুদ্ধে রেখেছি সত্যি পাপ করেছি আমি। অনেক পাপ করেছি।
আর তাই এ শাস্তি আমার প্রাপ্য।

আমি:- চলো এবার বাড়ি ফিরে চলে।

মা:- নারে মা আমাকে তোরা নিয়ে যাস না। আমি আমার পাপের প্রায়শ্চিত্য করতে চাই।

আমি এখানেই পচেঁ গলে  মরতে চাই। তাতে যদি বিধাতা আমায় ক্ষমা করেন।

কথা গুলো বলার সময় উনি খুব কাদছিলেন। নিজের কৃতকর্মের জন্য সত্যিই লজ্জিত ছিলেন।
তার চোখে মুখে ১ টা বিশাল অনুতপ্ততার ছাপ ভেষে উঠেছে

আমি:- আমি  আমার ফুপুকে শাম্তি দিতে চেয়েছিলাম। তার ওপর মায়ের অত্যাচারের প্রতিশোধ নিতে চেয়ে ছিলাম।
আর সেটা হয়ে গেছে। এবার আমি আমার শাশুড়িমাকে সসম্মানে তার বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চাই।
যাবেনা মা? তুমি ছাড়া আমরা কি ভাল আছি?
মা ছাড়া বাড়িটা যে এতিমখানা মনে হয়। আর খুব যে বলছো যাবে না বলি এই বয়সে আমার ছেলের জন্য আমি সাথী খুজবো কোথায়???

(মুখে ১ টা হাসি ফুটে উঠেছে)

মা:- কই আমার ভাই কই???
আমি:- আছে আছে। এবার তারাতারি চলোতো তেমার নাগরের কাছে।

তারপর মাকে নিয়ে আমরা আবার বাড়ি ফিরে এলাম।

আসলে পুরো ঘটনাটাই ছিল প্ল্যান করা, যেটাতে আমার হাজবেন্ড আমাকে পুরোপুরি সাপোর্ট দিয়ে গেছে।
আসলে আমরা প্ল্যান করেই ১ মাসের জন্য মাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়েছিলাম।
কিন্তু এই ১  মাসে আমরা কেউ ভাল ছিলাম না মাকে ছাড়া।
মানুষটা যেমনি হোক কিন্তু সেতো আমাদের মা।
সত্যি বলতে এই মানুষটা না থাকলে হয়ত এই এডভোকেট সন্ধ্যার জন্মই হতো না। এতিম হওয়ার পরই আমি মিলিয়ে যেতাম পথের ধুলোবালির সাথে।
হারিয়ে যেতাম আমিও নাম না জানা অনেকের মতো।

কিন্তু এই কঠিন কাজটা করাও উচিত ছিল।
কারন,সে অন্যায় করেছে আমার মায়ের সাথে কিন্তু সে তার অন্যায়টা বুঝতেই পারছে না। তাকে বোঝানোর জন্য এটুকু খারাপ আমার হতেই হলো।

অন্ধকার না এলে যেমন আলোর অভাবটা বোঝা যায় না তেমনি জিবনে খারাপ সময় না এলে ভাল টা ও বোঝা যায় না।

,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,সমাপ্তি,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

পুরো গল্পটাই কাল্পনিক, কিন্তু ঘটনা গুলো বড়ই বাস্তব।
আমাদের সমাজে এখনো এমন অনেক বধু আছে যারা প্রতিনিয়ত এইভাবে নির্যাতিত হচ্ছে।
আসলে মুখ বুজে সহ্য করা বউ গুলো এমনই ১ দিন পারুর মতো হারিয়ে যাবে।

১ টা কথা সবসময় মনে রাখা উচিত আর সেটা হলো:-
মানুষ কখনো নিষ্ঠুর হয়না, অমানুষ গুলোই নিষ্ঠুর হয়।
অমানুষ গুলোও দেখতে মানুষের মতোই হয় কিন্তু মনটা নয়।
আর অত্যাচারী মানুষ গুলো খুব কঠিন হৃদয়ের হয় ঠিকই ,   কিন্তু তারা শক্তের ভক্ত নরমের যম।

গল্পটি কেমন লাগল নিশ্চই জানাবেন। যারা এ গল্পের আগের পর্ব গুলো মিস করে গেছেন তারা আমার প্রোফাইলে চলে আসতে পারেন।
আর সবসময় আমার গল্প পড়তে চাইলে আমার Follower  হতে পারেন।
এতদিন সাথে  থাকার জন্য সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

********সন্ধ্যা মালতি*********

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ