["চৌকাঠ"(৫)]
,,,,,,,,,,,,,,,,,,,সন্ধ্যা,,,,,,,,,,,,,,,,,
তিনি চলে গেলেন বছর ঘুড়তে লাগল, দেখতে দেখতে আমার মেয়েটারো ১ বছর হয়ে গেছে।
মেয়েটা আমার আধো আধো স্বরে বা.......বা... ... বা,
মা.... আ.. আ....,
দায়ি.......দায়ি.......মানে দাদি,
ফু......ফু......... ফু.......,
কা........কা........কা.......
সবই ডাকতে পারে। শুধু তার বাবা ডাক শোনার কেউ নেই। খুব মনে পড়ে ওনার কথা উনি সব সময় বলতেন ওনাকে সারাক্ষন ১ টা ছোট্ট পুচকে বাবা বাবা বলে পাগল করে তুলবে।
আজ বাবা ঠিকই ডাকছে কিন্তু তিনি আর সে ডাক শুনতে পাচ্ছেন না। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস!
মাঝে মাঝে আমার ছোট্ট মেয়েটাকে দেখে আমি নিজেই অবাক হয়ে যাই আর ভাবি এই মেয়েটা কি এমন জাদু যানে???
এটা সত্যিই অদ্ভুদ ১ টা ব্যাপার যে শিশুরা কত নিশ্পাপ হয়, তারা যেকোন হৃদয়েই জায়গা করে নিতে পারে।
আমার মেয়েটি ও তার আধো আধো স্বরে মন ভুলানো কৌশলে কেড়ে নিয়েছে সবার হৃদয়।
হে আমার মেয়েটা এখন সবার খুব প্রিয়, নয়নের মনি। ওকে বুকে নিয়েই ওর বাবার অভাবটা সবাই ভুলে থাকে।
এটা আমার জন্য ও খুব ভাল লাগার ১ টা বিষয় যে আমার মেয়েটা অনাথ এতিমের মতো নেই। সে সকলের মাঝে সবার ভালবাসা পেয়েই বড় হচ্ছে।
কিন্তু অভাগির কপালে সুখ ও যেন বিষ হয়ে নামে আমার সাথেও তাই হলো।
মেয়েটা সবার আপন হওয়ার সাথে সাথে আমার পর হতে লাগল। সারাদিন হাড় ভাঙ্গা খাটুনির পর খুব ইচ্ছে হয় মেয়েটাকে বুকে নিয়ে শুই, নিজের হাতে ৪ টে ভাত মেখে খায়িয়ে দেই। কিন্তু সে ইচ্ছে আর আমার পুরন হয় না। মেয়েটাকে সারাদিন ওদের কাছেই রাখে, আমার কাছে খুব ১ টা ঘেসতে দেয় না। আমার একা জিবন আরো একা হতে লাগল।
এদিকে আমার শাশুড়ি ননদের অত্যাচার দিন দিন বাড়তেই থাকল, ওরা আমাকে ১টা বন্দি জিবন দিয়েছে।
এখন সবসময়ই ওরা বলে যে আমি নাকি আমার মায়ের মতই করবো। আমার মা ছোট বেলায় আমাকে আর বাবাকে ফেলে রেখে চলে যায় আর তাই ওরা এখন বলছে যে আমি ও নাকি সবকিছু ফেলে এ বাড়ির মান সম্মান ডুবিয়ে পর পুরুষের হাত ধরে পালাবো।
আমার নাকি চরিত্র খারাপ।
এই জন্য ওরা আমাকে বন্দি করো রাখে এই ১ টা বাড়িতেই। গ্রামের বাড়ি হলেও এই বাড়িটা অন্য বাড়িদের মতো নয়, শহুরে বাড়ির মতোই দোচালা ১ বিল্ডিং।
এই বাড়ির মধ্যে আমি আটকা পরে আছি, ছাদেও যেতে দেয় না।
,,,,,,,,,,,কয়েক বছর পর,,,,,,,,,,,,,,
আমার মেয়ের এখন ৭ বছর। এই ৭ বছর ধরে আমি বন্দি জিবন কাটাচ্ছি। কতদিন হলো আকাশ দেখি না, সূর্যের আলো দেখিনা।
শুধু সারাদিন বাড়ির ভিতরে খেটে মরি, ১ টু ভুল হলে মারধর তো আছেই। আর সবশেষে বাড়ির কোনার ঘড়টায় পড়ে থাকি।
মেয়েটা আমার এখন অনেক কিছুই বুজতে শিখেছে। মায়ের কষ্টটাও যেন ওর ঐ ছোট্ট হৃদয়টায় খুব ব্যাথা নাড়ে।
মাঝে মাঝেই ছুটে চলে আসে আমার কাছে গলা জরিয়ে ধরে শুয়ে থাকবে।
কখনো কখনো ইচ্ছে হয় এই বন্দি জিবন থেকে মুক্তি নিয়ে নেই। শেষ করে দেই এই অপয়া জিবন তাই মেয়েকে বলেছিলাম.....
:- সোনা মা ও সোনা মা আমি যদি মরে যাই তুই তাহলে থাকতে পারবি তো???
:- মাগো মা আমাকে ফেলে তুমি মরে যেও না। সবাই বলে আমার বাবা নাকি মরে গেছে তাই আর কোনদিন আসবে না।
তুমি মরে গেলে আমিও মরে যাবো।
বলেই মেয়েটা আমার বুক ফেটে কাদতো,না আমি আমার মেয়ের সাথে কখনোই এ অবিচার করতে পারবো না।
ভেতর থেকে আত্মহত্যার জন্য কোনদিন সায় পাইনি।
কিন্তু এভাবে আর কতোদিন?আরপারছি না।
আমার যে দম বন্ধ হয়ে আসছে।আমি স্বপ্ন দেখি
রাতের অঝরেপড়া বৃষ্টিতে আমি ভিজছি। খোলা আকাশের নিচে দাড়িয়ে প্রাণ ভরে শাষ নিচ্ছি।
কিন্তু সে বুঝি আর হলো না।
কিছুদিন ধরে বুজতে পারছি শরির আর আগের মতো নেই, এখন আর কোনভাবেই স্থির থাকতে পারি না। প্রচন্ড কাশি আর তার সাথে প্রচুর রক্তপাত হচ্ছে।
ভিতরে যে ১ টা বড় রোগ বাসা বেধেছে সে খুব বুজতে পারছিলাম।
শরির খুব খারাপ হয়ে গেছে এখন আর আগের মতো পরিশ্রম করতে পারি না।
কাজ না করতে পারায় কিছুদিন খুব মার খেয়েছি শাশুড়ি ননদের হাতে, কিন্তু এখন আর তারা মারে না। কারন, তারা হয়তো বুজে গেছে যে এই শরির অকেজো হয়ে গেছে,এটার ওপর মারধর করে, আর জোর খাটিয়ে কোন লাভ নেই।
মরন রোগে পেয়েছে আমায় এবার বুঝি মরতে হবে। পৃথিবীর কোন মায়া এমনকি আমার সোনা মার মায়াও আর বেধে রাখতে পারবে না।
আমার দেবর ১ বার বলেছিল যে শহরে নিয়ে চিকিৎসা করালে এ রোগ ভাল হয়। আমার শাশুড়ি ও রাজি হয়েছিল।
কিন্তু আমার ননদ বললো......
:- মা! গত বছর বাবা মারা গেলেন মনে নেই তোমার???
বাবার জন্য কি আমরা কম চেষ্ঠা করেছি?
কত দেশ বিদেশের ডাক্তার,কবিরাজ দেখিয়েছি, কত হাজার হাজার টাকা উরিয়েছি কিন্তু কৈ বাবাকে কি বাচাতে পারলাম???
মা তুমি কেন বুজতে পারছো না যে যাবার সেতো যাবেই। যার যত দিন হায়াত সেতো ততদিনই বাচবে তাহলে শুধু শুধু কেন শহরে নিয়ে এতো গুলো টাকা নষ্ট করার কি কোন মানে হয়??? ও যে বাচবেই এমন কি কোন নিশ্চয়তা আছে???
আমার শাশুড়ি কে আমার ননদ যা বোঝায় তিনি তাই করেন। আর ওনার মেয়ে যখন নিষেধ করে দিয়েছে তখন না। আমার আর কোন চিকিৎসা হবে না।
যতদিন বাচবো এভাবেই বাচবো, আর যেদিন আর পারবো না সেদিন ধরে নেব যে আমার সময় শেষ।
না হোক চিকিৎসা কি হবে এ অপয়া জিবন দিয়ে? বাচতেঁ তো চাইনা আমি। শুধু ১ টা বারের জন্য মুক্ত হতে চাই।
আমার শাশুড়ি, ননদ সবার পায়ে ধরেছি শুধু ১ টা বার আমাকে বাইরে যেতে দাও।
আমি আর পারছি না ৩৬৫ দিনে যদি ১ বছর হয় তাহলে ১০ বছরে কতো গুলো দিন হয়???
আমার দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, ছেড়ে দাও আমায় আমাকে মুক্ত হতে দাও।
কিন্তু কোন লাভ হয়নি বরং ওরা আমাকে পাগল বলে ১ টা রুমে দরজা বন্ধ করে দিলো।
জানলা দিয়ে ঐ দুর আকাশে তাকিয়ে থাকতাম আর ব্যাকুল হয়ে উঠতাম বাইরে বেড়ুনোর জন্য।
দরজা ধাক্কাতাম চেঁচামেচি করতাম,কাদতাম আর বলতাম শুধু ১ টা বার আমাকে বেড়ুতে দাও.....আমি মুক্তি চাই......আমাকে ছেড়ে দাও..... আমাকে তোমাদের আর খাবার দিতে হবে না.....কোন পয়সা খরচা হবে না তোমাদের.......শুধু আমাকে মুক্তি দাও......আমি মুক্তি চাই....... আমি সূর্যের আলো দেখতে চাই......আমি বৃষ্টিতে ভিজতে চাই......আমি প্রাণ ভরে শাষ নিতে চাই....... কেউ আছো????শুনছো??? দরজাটা খুলে দাও.......আমি বেড়োতে চাই.....আমি এ বাড়ির "চৌকাঠ"পেড়োতো চাই.......আমি এ বাড়ির "চৌকাঠ" পেড়োতে চাই.........
,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,, সমাপ্ত,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
সেদিনের পর এই ডায়েরিটাতে আর লেখা হয়নি।
সেদিনই ছিল এই ডায়রিটার সমাপ্তি।
রাজ বাড়ির সেই মুরগি টার গল্প শুনেছেন আপনারা???
কি শুনেন নি?
ঠিক আছে তাহলে এখন শুনুন,
রাজ বাড়িতে ১ টা মুরগি ছিল, সে প্রতিদিন রাজ বাড়ির খাবার টেবিলের দিকে তাকিয়ে থাকত।
সেই টেবিলে থাকত অনেক সুস্বাদু খাবার। মুরগিটা রোজ সে টেবিলের দিকে তাকিয়ে থাকত আর ভাবত:-
১ দিন আমি ও ঐ টেবিলটায় উঠবো আর ঐ সব খাবার খাবো।
ভাবতো আর ক্ষুদার্ত পেট নিয়ে বাইরে গিয়ে মাটি খুড়ে খাবার খুজতো।
১ দিন সে সত্যিই সেই খাবার টেবিলে উঠল কিন্তু খাবার খেতে নয় খাবার হয়ে।
আমার মায়ের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছিল।অবশেষে আমার মা সে বাড়ির চৌকাঠ পেরিয়ে ছিল কিন্তু জিবিত নয় মৃত।
আমার মনে পড়ে সে দিন গুলোর কথা। আমার মা পাগলের মতো হয়ে গিয়েছিল সে এর পায়ে ধরতো, ওর পায়ে ধরতো চেঁচামেচি করতো, ভাংচুর করতো শুধু ১ টা কথাই বলতো :-
আমার দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, আমাকে বাইরে বেরোতে দাও....
কিন্তু ওরা আমার মাকে বাইরে বেরোতে দেয় নি।পাগল বলে ঘড়ে বন্দি করে রেখেছিল।
কিন্তু তার আত্মাটাকে কি বন্দি করতে পেরেছিল???
না সে ঠিক মাটির পিন্জর ছিড়ে, সব বাধা অতিক্রম করে দুর আকাশের সাথে মিলিয়ে গিয়েছিল।
ওরা আমার মাকে বাচতেঁ দেয় নি, শুধু তাই নয় ওরা আমার মাকে শান্তুিতে মরতে ও দেয়নি।
কি চেয়েছিল আমার মা???
কি এমন রোগ হয়েছিল তার? যক্ষা হয়েছিল। সঠিক চিকিৎসা করালে,আর ঠিকমতো ঔষুধ খেলে তো যক্ষা ভালো হয়।
কিন্তু ওরা আমার মায়ের চিকিৎসা করায় নি তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছিল।
আমার মাতো কখনো প্রতিবাদ করেনি। কখনো বলেনি যে আমার চিকিৎসা করাও। কি চেয়েছিল সে??? সেতো হাসি মুখে মরতে রাজি ছিল, শুধু একটু শান্তিতে মরতে চেয়েছিল।
খোলা আকাশের নিচে নিজেকে সপে দিতে চেয়েছিল, দুমড়ে মুচকে যাওয়া জিবনটাকে সূর্যের আলো দিতে চেয়েছিল, নিজের শুকিয়ে যাওয়া জিবনটাকে বৃষ্টিতে ভেজাতে চেয়েছিল, দুচোখ ভরে সবুজের সমারোহ দেখতে চেয়েছিল, মুক্ত বাতাশ ১ নিশ্বাসে ফুসফুসের কাছাকাছি পৌছে দিতে চেয়েছিল। ব্যাস্ এটুকুই তো....
আমি আইন বিভাগের ছাত্রী,আমরা যখন কোন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেই তখন তার জিবনের শেষ ইচ্ছে পুরনের ও ১ টা সুযোগ দেই।
কিন্তু আমার মা কি এমন অপরাধি ছিল যে তার জিবনের এই সামান্য ইচ্ছেটুকুও পুরন করতে দেয়া হলো না????
সারাজিবন শাশুড়ি ননদের অত্যাচার মুখ বন্ধ করে সহ্য করে গিয়েছে, কখনো নিজের অধিকার চায়নি,প্রতিবাদ করে নি, সারাদিন পরিশ্রম করে ও রাতে না খেয়েই চুপ চাপ শুয়ে পড়েছে কখনো কাউকে কিছু বলেনি এটাই কি তার অপরাধ ছিল???
সংসার নামের যাতাকলে নিজেকে পিষে মেরেছে এটাই কি তার অপরাধ ছিলো???
,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,, চলবে,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ