The["চৌকাঠ"(৪)]
,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,সন্ধ্যা,,,,,,,,,,,,,,,,
আমার শাশুড়িমা ধরেই নিয়েছেন যে আমি এ বংশের পূত্রসন্তানের জন্ম দিতে চলেছি।
তিনি বড় বুক আশা করে বসে আছেন যে আমি ওনাকে নাতির মুখ দেখাবো। এখন আমি নাপিতের মেয়ে, ছোটলোক যাই হি না কেন তাতে ওনার আর কোন অসুবিধে নেই কারন, এখন তো আমি ওনার নাতির মা।
আর সেই লোভেই তিনি আমায় আরো বেশি করে ভালবাসতে শুরু করলেন।
কিন্তু আমার ননদের ছিল অসন্তুষ্ট তায় ভরা। ওর মনের ভাবটাও আমি বুঝতাম ও ভাবতো, ওর তো স্বামী থেকেও নেই, ছোট এই ছেলেটাকে নিয়ে বাপের বাড়িতে পড়ে থাকে।
আমার স্বামী তো আমায় খুব ভালবাসে সেদিন আমার দেবর ও দুটো কড়া কথা বলে দিল চিঠিটা নিয়ে।
এখন যদি আমার শাশুড়িমা ও আমায় ভালবাসতে শুরু করেন আর আমি যদি সত্যি পূত্র সন্তান প্রসব করি তাহলে তো সব রাজত্য আমার হাতে চলে আসবে।
আর তখন যদি আমি ওকে আর ওর ছেলেকে বাড়ি থেকে বের করে দেই তখন এই ছোট্ট ছেলেকে নিয়ে ও কোথায় যাবে???
কিন্তু আমি ওকে কি করে বোঝাবো যে আমি সেরকম মানুষ নই, আমি কখনোই এসব ভাবতেও পারি না।
আজকাল প্রায়ই ও মনমরা হয়ে থাকে। মায়ের সাথেও ওর আমাকে নিয়ে বিরোধিতা হয় তাই ১ দম চুপচাপ বসে থাকে। আমি প্রায়ই ওর কাছে ঘেসার চেষ্টা করি, গল্প গুজব করে ওকে আপন করে নেয়ার চেষ্টা করি।
কিন্তু ও কিছুতেই আমাকে ওর কাছে আসতে দেয় না সবসময় দুর দুর করে।
চিঠির মাধ্যমে খবরটা পৌছানো হলো আমার স্বামীর কাছে।
তিনি ও খুব খুশি হয়েছেন আর ২/১ দিনের মধ্যেই বাড়ি এসেছেন।
তিনি এবার আমায় নিয়ে যাবেন ভেবেছিলেন কিন্তু মায়ের এই বদলে যাওয়ার কথা শুনে তিনি খুব খুশি হয়েছেন। মায়ের হাতে আমার দ্বায়িত্ব দিতে পেরে তিনি নিশ্চিন্ত হয়েছেন।
গোটা ৯ মাস জুরে আমার খুব আদর যত্ন হলো, আমাদের সবার খুব স্বপ্ন এই শিশুটা নিয়ে।
কিন্তু এবার সবকিছু শেষ হবার সময় এসেছে।
ঘনিয়ে এলো সে কাঙ্খিত দিন।
সেদিন সকাল থেকে শরিরটা বেশ খারাপ লাগছিল। আমার শাশুড়ি বললেন বিশ্রাম নিতে।
সকাল গরিয়ে দুপুর, দুপুর গরিয়ে বিকাল। কিন্তু শেষ বিকেলে দিকে প্রচন্ড ব্যাথা শুরু হলো মনে হলো আর পারবো না চিৎকার করতে লাগলাম।
আমার শাশুড়িমা তক্ষুনি গ্রামের সবচেয়ে নাম করা দাইমাকে নিয়ে এলেন। ১ টা রুমে আমি আর দাইমা আর বাহিরে সকলেই অপেক্ষা করছে।
তিব্র যন্ত্রনা সহ্যের পর আমার কানে এলো মিষ্টি মধুর সুরেলা কন্ঠের ১ কান্না ওয়া ওয়া ওয়া.....
সমস্ত যন্ত্রনা মুহুর্তেই ভুলে গিয়ে ঠোটের কোনে ১ টা হাসি ফুটে উঠল আমি সুস্থ সুন্দর ১ টা শিশুর জন্ম দিতে পেরেছি।
দাইমা কে বললাম,
:- মাগো আমার সোনা কোথায়???
:- এই দেখ মা তোর কি সুন্দর ১ মেয়ে হয়েছে। এই নে নে তারাতারি বাচ্চাটাকে বুকের কাছে নে।
এই বলে দাইমা বাহিরে গিয়ে সবাইকে বলল যে বাড়িতে নাতনি এসেছে।
সংগে সংগে ১ বিকট চিৎকারের আওয়াজ আমি শুনতে পেলাম
না..আ...আ...আ.....
এই বলে আমার শাশুড়ি সঙ্গে সঙ্গে মূর্ছা গেলেন।
আসলে আমার মেয়ে হয়েছে এই সংবাদটা তার কাছে ১ টা শোক সংবাদের মতোই ছিল, যে শোকটা তাকে ভেতর থেকে ক্ষত বিক্ষত করে ফেলল। অনেকক্ষন পানি ঢালার পর ওনার জ্ঞান ফিরল।
কিন্তু ১ বারের জন্য ও তিনি নাতনির মুখ দেখলেন না।
বাড়ির কেউই এই ঘড়ে ১ টি বারের জন্য উকিও দিলেন না।
নতুন বাচ্চা হলে ঘড় ভর্তি মানুষ থাকে কত নিয়ম কানুন কত কি, কিন্তু আমার মেয়ের জন্য সেসব কিছুই হলো না।
সেই অন্ধকার কুটিরেই সারারাত আমি আর আমার মেয়ে কাটিয়ে দিলাম।
খুব সুন্দর ফুটফুটে ১ টা মেয়ে হয়েছে আমার ১ বার দেখলেই মন ভরে যায়।
সন্ধ্যার ঝাপসা অন্ধকার ভেদ করে আমার জিবন আলো করে, আমার ঘড় আলো করে আমার কোলে এসেছে এই মেয়ে,
কিন্তু অভিসপ্ত সন্ধ্যার আধার পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি আমার মেয়ে, সন্ধ্যে বেলায় আগমন বলে আমি তার নাম দিয়েছি সন্ধ্যা।
আমার মেয়ে হওয়ায় বাড়ির কেউ আর খুশি নয়, আর আমার অবস্থানও আবার ফিরে গেলো সেই আগের জায়গায়।
আমার মেয়েটাকে কেউ ১ টা বারের জন্য ও কোলে নেয় নি।
মেয়ে টাকে নিয়েই চলতে শুরু করলাম আবার নতুন করে।
আমার স্বামী কে আমি পত্র লিখলাম......
প্রিয় স্বামী,
প্রথমে ই আমার সালাম নিবেন। আশা করি ভাল আছেন।
জানি না সংবাদটা আপনার জন্য খুশির হবে না দুখের, তবু ও বলছি
গতকাল সন্ধ্যে ৬:০০ ঘটিকায় আমি ১ কন্যা সন্তান প্রসব করেছি।
এটা হয়তো আমার অনেক বড় অন্যায় হয়ে গেছে তাই বাড়ির সবাই আমার উপর আবার খুব রেগে গেছেন।
আমার শ্রদ্ধেয় শাশুড়িমা যিনি এতোদিন আমাকে মেয়ের মতো বুকে আগলে রেখেছিলেন আমি তাকেও আশাভঙ্গের মতো কঠিন আঘাত করেছি।
তিনি এখন অত্যন্ত কষ্ট পাওয়ায় বিছানা শয্যায় শায়িত।
আমার মেয়েটা খুব সুন্দর আর ফুটফুটে হয়েছে।
আমি তার নাম রেখেছি সন্ধ্যা।
আপনার কাছে আমার অনুরোধ দয়া করে আমার মেয়েকে না হলে ও আপনার মা কে অবশ্যই ১ বার দেখে যাবেন।
ইতি,
আপনার অভাগি স্ত্রী পারু।
বাড়িতে ২ দিন ধরে খুব অশান্তু থাকায় আমার পত্রটা আর কেউ চেক করেন নি।হয়তো খেয়াল করেন নি।
তাই বিনা বাধায় পত্রটা ওনার কাছে পৌছে গেল।
অতঃপর তিনি আমায় চিঠির উত্তর লিখলেন,,,,,,,,,
প্রিয় তমা,
প্রথমেই তোমার চিঠির শেষ লাইনটি উল্লেখ করছি -
ইতি, আপনার অভাগি স্ত্রী পারু।
তোমার এই কথাটা আমাকে খুব কষ্ট দিয়েছে, তুমি কেন নিজেকে অভাগি বল্লে? তুমি কি আমাকে পেয়ে খুশি নও???
নাকি তুমি আমাদের মেয়েকে পেয়ে খুশি নও???
আর কখনো এমন কথা বলবে না।কারন, তুমি এবং আমি আমরা দুজনই দুজনকে পেয়ে খুব খুশি। আর আমরা খুব ভাগ্যবান তাই প্রথমেই ১ টা কন্ন্যা সন্তান পেয়েছি। কন্ন্যা সন্তান হলো আল্লাহ তালার ১ বিশেষ রহমত।
ওকে কখনো অবহেলা করবে না। মা অনেক আশা করে ছিল ছেলে হবে তাই তিনি এখন ১ টু কষ্ট পাচ্ছে।
কিন্তু আমি মাকে ও চিঠি লিখেছি আর বলেছি তিনি যেন খুব শিগ্রই আমার মেয়েকে মেনে নেন।
তবুও যদি তিনি মেনে নিতে না পারে তাহলে তুমি ভেবনা আমি তোমাকে আর আমাদের সন্ধ্যা মনিকে আমার কাছে নিয়ে আসবো। তোমাকে ছাড়া এতদিন থেকেছি কিন্তু মেয়েকে ছাড়া থাকতে পারবো না।
তবে সমস্যা হচ্ছে অফিস থেকে কোন ভাবেই ছুটি নিতে পারছি না।
তাই আমার মেয়েকে ও দেখতে যেতে পারছি না।
আমার বাড়িতে আসতে আরো ১ মাস দেরি হবে।
তুমি আমাকে সবসময় চিঠি লিখবে আমাদের মেয়ের কথা লিখবে ও কেমন হয়েছে, কার মতো দেখতে হয়েছে, কিভাবে হাসে, কিভাবে খেলে সব।
আমি বাড়ি ফিরার সময় ওর জন্য অনেক খেলনা নিয়ে আসবো।
ভাল থেকো, আমার মেয়েটার যত্ন নিও।
ইতি,
তোমার প্রানের স্বামী।
এরপর থেকে তিনি প্রায়ই চিঠি লিখতেন। সবসময় মেয়ের খবর জানতে ব্যাকুল হয়ে থাকতেন।
এদিকে আমার মেয়ে সকলের আদর থেকে বঞ্চিত।
আমি সারাদিন আমার মেয়েকে নিয়েই সংসারের যাবতিয় কাজ করে যেতাম। কোলে নিয়ে নিয়ে রান্না করতাম, মাটিতে পাটি বিছিয়ে শুইয়ে মাছ কাটতাম, তরিতরকারি কাটতাম।
বাচ্চাটা শত কাদলেও কেউ ১ টু কোলে নিতো না।
আমার ননদের ছেলেটাই ১ মাত্র মানুষ এ বাড়িতে যে কিনা আমার মেয়েটাকে ১ টু ভালবাসে।
ওর সাথে খেলা করে, সময় কাটায়।
এ জন্য অবশ্য সেই ছোট্ট ছেলেটাকেও তার মায়ের কাছে অনেক মার খেতে হয়।
আমার মেয়েটার বয়স এখন ২ মাস। আজ ওর বাবার বাড়ি ফেরার কথা আমি সকার থেকে উঠেই সব কাজ সেরে নিচ্ছি মেয়েটাকেও সাজিয়ে গুছিয়ে রেখেছি। আজ বাবা মেয়ের ১ হওয়ার দিন। সকাল গরিয়ে দুপুর,দুপুর গরিয়ে বিকেল হতে চলল কিন্তু তিনি এখনও বাড়ি এসে পৌছলেন না।
খুব চিন্তা হচ্ছিল।
অবশেষে তিনি বাড়ি ফিরলেন কিন্তু নিজের পায়ে হেটে নয় অন্যদের কাধে করে। হে তিনি বাড়ি ফিরলেন কিন্তু জিবিত নয় মৃত।
আসার পথেই গাড়ি চাপা পড়েন তিনি আর ঘটনাস্থলেই মারা যান।
ওনার লাশ টা বাড়ি নিয়ে এলেন সবাই আর তার সাথে ওনার ব্যাগ ও।
মেয়ের জন্য ১ টা মশারি, দোলনা, জামা-কাপড়, আর অনেক খেলনা এনেছিলেন আর আমার জন্য ও ১ টা শাড়ি।
কিন্তু সে শাড়ি আমার আর পড়া হলো না কারন, আজ থেকে সাদা থান ই আমার চিরজিবনের সাথী।
আমার বুকটা ফাকা করে দিয়ে আমার জিবন টা অন্ধকারে রেখে তিনি চলে গেলেন।
মেয়ের সাথে ওনার দেখাও হলো না। আমার মেয়েটা পিতৃ হীন হলো।
বাবা শব্দটা চিরজিবনের মতো তার কাছে অচেনা হয়ে গেল।
অকুলে ভাসছি এবার আমি আর আমার মেয়েটা। হে খোদা এ তোমার কেমন বিচার???
এর পর থেকে শুরু হলো নতুন অধ্যায় মাত্র ১৪ বছর বয়সে বিধবা হলাম আমি। সাদা থানে মোড়ানো ১ বিধবা। এবার সকলে আমাকে আর আমার মেয়েকে অপয়া বলেতে শুরু করলো। আমার মেয়েকে বলতো অপয়া, জন্ম নিতে না নিতেই বাপ টাকে খেয়েছে।
কিন্তু আমার ঐ ছোট্ট শিশুটার কি দোষ ছিল???
ওতো নিশ্পাপ, ওতো নিজেই এতিম হয়ে গেল।
,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,চলবে,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ