āĻļāύিāĻŦাāϰ, ⧍ āϏেāĻĒ্āϟেāĻŽ্āĻŦāϰ, ⧍ā§Ļā§§ā§­

752 {3}

["চৌকাঠ"(৩)]
            সন্ধ্যা।

আমার ননদ সেই চুরি আলতা পরেছিল আমি দেখেছিলাম।
খুব সুন্দর লাগছিল।
আমি ও স্বপ্ন দেখতাম ১ টা সুন্দর রঙ্গিন নতুন শাড়ি পড়ে, হাতে চুরি পড়ে, দুপায়ে আলতা পড়ে, উনার কাছে এসেছি। উনি অপলোক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে আর আমি লজ্জায় উনারই বুকে মুখ লুকোচ্ছি।
কিন্তু আমার সে স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেল।
ধীরে ধীরে শাশুড়ি ননদের অত্যাচার দিনকি দিন বাড়তেই লাগল,  কিন্তু সহ্য করা ছাড়া আর যে কোন উপায় আমার নেই।
বাড়ির কোনে ১ টা ঘড় ছিল আমার সেটাই ছিল আমার স্বর্গ।
দিনভর হাড়খাটুনির পর রাতে যখন  বিছানায় গা এলিয়ে দিতাম তখন দুচোখে রাজ্যের ঘুম,ক্লান্তি নেমে আসতো মাঝ রাতেই হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে যেত, বুকের ভেতর টায় আনটান করে উঠত উনার জন্য।
তখন মন ভরে কেদে নিতাম বুকটা হালকা হতো আর তারপর এই ডায়রিটা খুলে বসতাম।
এই ডায়রিটাই আমার সঙ্গী হলো এর ভেতরে যখন লিখি তখন মনে হয় আমি উনার সাথেই মনের কথা বলছি।
উনি পরপর কয়েকবার চিঠি লিখেছেন আমায় প্রত্যেক বারই তিনি চিঠির উত্তর চেয়েছেন। অবশেষে উনাকে আমি চিঠি লিখলাম,

প্রিয় স্বামী,
আশা করি আপনি ভালো আছেন। আজ কতদিন হয়ে গেলো আপনাকে দেখিনা, আপনার কন্ঠস্বর শুনিনা মনটা বড়ই বেকুল হয়ে উঠেছে।
আমি ভাল আছি আপনি আমাকে নিয়ে চিন্তা করবেন না।
অনুগ্রহ করে যদি পারেন যথাশিগ্র ছুটি নিয়ে ১ বার বাড়ির দিকে ঘুড়ে যাবেন। আপনার জন্য আমাদের সকলেরই ভিষন মন খারাপ।
ভাল থাকবেন, নিজের খেয়াল রাখবেন। আল্লাহ হাফেজ্।
                          
                           ইতি
                               পারু।

বেশি কিছু আর লিখিনি, ভাবলাম শুধু শুধু উনাকে টেনশনে ফেলে কি লাভ?
পরিবর্তী চিঠি লিখলে না হয়......
কিন্তু কিছুক্ষনের ভেতরেই বুজতে পারলাম বেশি কিছু না লিখে যে কত বড় বাচা বেচে গেছি।
আমি বাড়ি থেকে বেড় হতে পারতাম না তাই চিঠিটা আমার দেবর কে দিয়েছিলাম পোষ্ট অফিসে পৌছে দেওয়ার জন্য।
তক্ষুনি আমার ননদ আমার দেবরের হাত থেকে চিঠিটা নিয়ে আমার শাশুড়িকে ডেকে বললেন..

:- নাও মা শিক্ষিতা বউ এনেছ, চিঠি লিখছে সোয়ামির কাছে। ১ বার পড়ে দেখা উচিত চিঠিতে শাশুড়ি ননদের কি নিন্দে লিখেছে।
:- ঠিকই বলেছিস রানি। কে জানে চিঠিতে কি সব লিখেছে। ছোট খোকা চিঠিটা পড়তো বাবা।

তখন আমার দেবর চিঠিটা পড়ে সবাইকে শুনালেন। চিঠিতে যদিও কিছু ছিল না তাদের নামে তবুও আমার ননদ বললেন দেখেছ মা কত বড় সেয়ানা মেয়ে তারাতারি সোয়ামিকে বাড়ি ফিরে আসতে বলছে।
:- হুম তাই তো দেখছি। ছেলে টাকে আমাকর পাগল বানিয়ে ফেলবে এই মেয়ে। এরকম করলে চাকরিটাকি থাকবে??? বলি ও নবাবের বেটি ছেলে যদি আমার চাকরি ছেড়ে চলে আসে তবে কি তোর বাপের বাড়ি থেকে এনে খাওয়াবি নাকি???

অবেশেষে আমার দেবর বলল----
:- আহ্ মা কি হচ্ছে টাকি?
সে তার স্বামীকে চিঠি লিখছে তো সে তার স্বামীকে বাগি আসতে বলবে না??? এ কেমন কথা???
আর রানি তোকেও বলছি, সব ব্যাপার নিয়ে এত বেশি ঘাটাস না তো হিতে বিপরীত হতে পারে।
আমি আসছি চিঠিটা পোষ্ট অফিসে দিয়ে কলেজে যাব।

এর পর থেকে যত চিঠি লিখিছি সব চিঠি আমার শাশুড়ি ননদ চেক করে তারপর দিয়েছে। তাই হৃদয়ে জমে থাকা অনেক কথা বলতে চেয়েও বলতে পারিনি।
একা একা ই ধুকে ধুকে মরছি।

বেশ কিছুদিন কেটে যাবার পর প্রায় ৪ মাস পর তিনি বাড়ি ফিরলেন।
যেদিন বাড়ি ফিরলেন সেদিন সকাল থেকে উঠে বাড়ির সমস্ত কাজ সেরে নিলাম অনেক কিছু রান্না করলাম। ঠিক তখনি আমার শাশুড়িমা এসে বললেন
:- শোন বড় বউমা, আজ এতদিন পর ছেলেটা বাড়ি ফিরছে বেশিদিন থাকবে ও না আবার চলে যাবে।
কিন্তু এর মধ্যে যদি তুমি ওর কানে কোন রকম বাজে কথা তুলেছ তাহলে কিন্তু খুব খারাপ হবে।

তোমার সোয়ামিতো আর ১২ মাস বসে থেকে তোমায় পাহারা দিবেন না তাই নিজের ভবিষ্যতের কথাও ভেব।
উনার সেই কথায় জোরালো হুমকি ছিলো।
কিছুক্ষনের মধ্যেই তিনি বাড়িতে ঢুকলেন, আমার হৃদস্পন্দন ক্রমশ বাড়তে লাগলো মনে হলো কি যেন আমি ফিরে পেয়েছি।
তিনি আমার দিকে অনেকক্ষন তাকিয়ে থেকে বললেন......

:- এ কি পারু, এ কি হাল হয়েছে তোমার? ওমন শুকিয়ে গেছো কেন? আর এসব কি ছেড়া ফেরা শাড়ি পরেছ? তোমার নতুন নতুন শাড়ি গুলো কোথায়???

মুহুর্তেই আমার ননদ বলে উঠলেন.

:- দেখুন না ভাইজান আজ কতো করে বললাম যে ভাবি আজতো ভাইজান বাড়ি ফিরছে আজ অন্তত ১ টা নতুন শাড়ি পড়ে ১ টু সাজগোজ করো।  কিন্তু কে শোনে কার কথা আপনার বউয়ের সে এক কথা,  উনি নাকি নতুন শাড়ি গয়না পড়ে থাকতে পারে না, কাজে কর্মে নাকি সব নষ্ট হয়ে যাবে।
:- তুমি এসব বলেছ পারু??? বোকা মেয়ে কাজে কর্মে নষ্ট হবে বলেকি ভাল কাপড় পড়তে নেই? ১ টা নস্ট হলে আরেকটা আসবে অভাবতো আর পড়েনি।( হাতে ১ টা ব্যাগ এগিয়ে দিয়ে) এইনাও এগুলো পড়ে আসো।
আমি ব্যাগ নিয়ে চলে গেলাম, সেখানে দুটো শাড়ি, আলতা, চুরি, স্নো,আরো অনেক বিলাসিতার জিনিস ছিলো। কিন্তু পড়তে ভিষন ভয় হচ্ছিল তাই শাশুড়িমাকে গিয়ে বললাম....
:- মা আপনার ছেলে এসব এনেছে পড়তে বলছে পড়বো?
:-(মুখ ভেংচে) আমাকে জিগেস করতে এসেছ কেনো? সোয়ামি কে দিয়ে আনিয়েছ পড়বে না?
:- না মা আমি কিছু আনতে বলিনি বিশ্বাস করুন.....
:- থাক থাক আর ঢং করতে হবে না যাও তো এখান থেকে।
:- দেখেছ মা! কতো বড় সেয়ানা মেয়ে ঢং করে আবার তোমায় জিগেস করতে এসেছে মা পড়বো??? যাতে করে ভাইজান বুঝতে পারে যে তুমি ওকে নতুন শাড়ি, গয়ণা পড়তে দেও না।

অতঃপর সেখান থেকে চলে এলাম। আর শাড়ি গয়না চুড়ি সব পড়ে সুন্দর করে সাজলাম।
আজ তিনি আমার দিকে অপলোক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, তারপর তিনি বললেন.......

:- পারু! আমায় ছুয়ে বলো কোন মিথ্যে বলবে না।
:- সেকি আপনাকে ছুয়ে আমি মিথ্যে কেন বলবো? আপনাকে কি আমি মিথ্যে বলতে পারি???
:- তবে আমায় বলো তোমার এ হাল কি করে হলো? তোমায় দেখে আমার মন বলছে তুমি কিছু লুকোচ্ছো। বলো না পারু।

ওনার পবিত্র সে চোখের দিকে তাকিয়ে মিথ্যে বলার ক্ষমতা আমার ছিল না।
তাই আমি ও এবার সব খুলে বললাম।

:- পারু। এসব তুমি কি বলছো?
:- দোহাই আপনার এ ব্যাপারে ঘড়ে যেন কিছু বলতে যাবেন না আবার।
:- আমার মা বোন এত নিষ্ঠুর হতে পারে সে তো আমার বিশ্বাসই হচ্ছে না।তুমি আর একটু ধৈর্য্য ধরো আমি তোমায় এখান থেকে নিয়ে যাবো।

রাতে আমরা দুজন ছাদে গেলাম। আজ ভরা পূর্ণিমা।
চাঁদের আলোয় মিটিমিটি জলছে চারিদিক। অসম্ভব সুন্দর ১ টা প্রকৃতি। এভাবে প্রতি রাতে দুজনে খানিকটা সময় ছাদে কাটাতাম।
খুব ভাল ১ টা সময় কাটছিল।

কিন্তু সব ভালোরই শেষ আছে, দেখতে দেখতে ১৫ দিন কেটে গেল আজ ওনার বিদায়ের দিন।
বুকের ভেতরটায় সেই যন্ত্রনা আবার শুরু হয়েছে।কিছুতেই মন কে বোঝাতে পারছি না।
তিনি শুধু বললেন।

:- আমি আসছি পারু। ভালো থেক আর চিন্তা করোনা আর কয়েকটা মাস অপেক্ষা করো।
আমি সেখানে সব কিছু ঠিকঠাক করে পরের বার এসে তোমাকে এখান থেকে নিয়ে যাবো।

তিনি চলে গেলেন, কেদে কেদে দুচোখ ফুলিয়ে দিয়েছি। সবকিছু অসান্তি লাগছে।
এরই মধ্যে আমার ননদ এসে বললেন.....

:- কই গো মহারানি। আপনার কান্নাকাটির পর্ব চুকলে দয়া করে নতুন শাড়ি গুলো সব ভাল করে ধুয়ে আমার ঘড়ে দিয়ে আসবেন। বুজেছেন???
:- জি আপা।
:- হুম। আর শোন ভাল করে ধুয়ে দিস।নয়তো আবার তোর গায়ের গন্ধ যাবে না। স্বামী সোহাগি হয়ে তো এতদিন দিব্যি নতুন শাড়ি, গয়না পড়ে রাজরানি সেজে ঘুরলি। এবার নিজের আসল পরিচয়ে ফিরে আয়। শাড়ি, গয়না আর ভাইজান যা কিছু এনেছে সব আমার ঘড়ে দিয়ে আসবি। বুজেছিস???
:- জি আচ্ছা।

সব কাজ শেরে শাড়ি,গয়না,চুড়ি,আলতা, যা যা বিলাসিতা উনি আমার জন্য এনেছিলেন তা সব আমার ননদের ঘড়ে দিয়ে এলাম। আজ থেকে সেসব আর আমার নয় এ সবই আমার ননদের।

খাবার খেতে বসলাম আবার সেই আধ প্লেট ভাত।
আসলে, বিয়ের পর থেকে এই খাবারে পেট যদিও নক ভরতো তবুও অভস্ত্য হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু উনি যে কদিন ছিলেন তখন উনার খাবার ঘড়ে নিয়ে যেতেন আর আমাকে নিজের হাতে পেট ভরে খাইয়ে দিতেন। তাই আজ থেকে আধ প্লেট ভাতের অভ্যাসটা আবার নতুন করে করতে হবে।

কিছুদিন যেতে না যেতেই শরিরের কিছু পরিবর্তন লক্ষ করলাম আর বুজতেও পারলাম আমার জিবনের নতুন মোড় আসতে চলেছে। ভেতর থেকে কে যেন সারাক্ষন বলছে- মা মা আমি এসেছি মা বলে আমায় জানান দিচ্ছে।
কিন্তু কথাটা কাকে বলবো কি করবো কিছুই বুজতে পারছিলাম না। কিন্তু অল্প কিছুদিনের মধ্যে আমার বিভিন্ন শারিরিক লক্ষন খেয়াল করে আমার শাশুরি বুজতে পারলে ন ব্যাপারটা।
আর তারপর যা ঘটল তা আমি কখনো কল্পনাতেও ভাবতে পারিনি।

আমার শাশুড়িমা খুব খুশি হয়ে ছিলেন ঘটনাটায়।
তিনি হঠাৎ করেই আজকাল আমায় খুব ভালবাসতে শুরু করলেন। আমার খুব খেয়াল রাখতেন, যত্ন নিতেন।
আমাকে বিশ্রাম নিতে বলতেন,ভাল ভাল খাবার খাওয়াতেন। সব সময় পুষ্টিকর খাবার খেতে বলতেন। হঠাৎ করেই তিনি যেন আমার মা হয়ে উঠলেন। এই অভাগি জন্মের পর কখনো মায়ের আদর পায়নি কিন্তু আজ মনে হচ্ছে ইনিই আমার মা।
কিন্তু, পুরো ঘটনাটায় আমার ননদ ছিলেন ঘোড় অসন্তুষ্ট।
মা আমাকে ভালবাসতেন, আমার খেয়াল রাখতেন, যত্ন নিতেন এসব আমার ননদের মোটেও পছন্দ ছিলো না।
সে সব সময় আমাকে ঘৃনাই করে গেছে। এমন কি না না ভাবে আমার আর আমার সন্তানের ক্ষতি করতে চেয়েছেন। কিন্তু আজকাল আমার শাশুড়িমা আমার খুব যত্ন নিতেন বলেই তিনি বিশেষ কিছু করতে পারত না। মায়ের কথার উপরে তো আর কারো কথা বলার ছিল না তাই।

,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,চলবে,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ