āĻļāύিāĻŦাāϰ, ⧍ āϏেāĻĒ্āϟেāĻŽ্āĻŦāϰ, ⧍ā§Ļā§§ā§­

752 {2}

["চৌকাঠ সন্ধ্যা 2

সন্ধ্যা সুমন

বিয়ে করে চলে এলাম শশুড়বাড়ি।
কিন্তু আমার শাশুড়িমা আমায় খুব ১ টা পছন্দ করেছে বলে মনে হয় না।
করবেই বা কি করে সামান্য নাপিতের মেয়ে আমি। মা নেই আর সৎ মায়ের সংসারে কি আর বাবা ও বাবা থাকে?
বিয়েতে বা বিয়ের পর ও শশুড় বাড়ির কোন আদর আপ্পায়ন তেমন ছিলনা।
কে করবে? মা থাকলে তো? ওরা তো আমায় ঘাড় থেকে নামাতে পেরেই হাফ ছেড়ে বেচেছে।
সবারই তো ছেলের শশুড় বাড়ি ভায়ের শশুড় বাড়ি নিয়ে স্বপ্ন থাকে আমার ধারা তো আর সে স্বপ্ন কারো পুরন হলো না।

৩ দিন হয়েছে এ বাড়িতে এসেছি কিন্তু এই ৩ দিনে বাড়ির অন্য কেউ আমার সাথে প্রয়োজন ছাড়া কথা বলে নি, শুধু আমার স্বামী ছাড়া।
বাড়ির সব কাজ আমিই করছি। কাজ করতে অবশ্য আমার অসুবিধে কিছু হচ্ছে না কারন, সৎ মায়ের সংসারে বড় হয়েছি বাড়ির সব কাজ করার অভিঙ্গতা আমার আছে।
আমার স্বামীর সাথে ১/১ টা দিন, ১/১ টা রাত আমার স্বপ্নের মতো করেই কাটছে।
কিন্তু, এই স্বপ্নের অবসানের সময় অবশেষে এসেছে।
দেখতে দেখতে ১৫ দিন কেটে গেছে এবার আমার স্বামী শহরে চলে যাবেন। আজই তিনি রওয়ানা দিবেন। বুকের ভিতরটায় হঠাৎ কেমন মোচর মারতে শুরু করলো, এই ১৫ দিনে মানুষটাকে এত ভালবেসেছি যে মনে হচ্ছে আমার দেহের ভেতর থেকে কলিজাটা চলে যাচ্ছে।
খাওয়া দাওয়া শেষ হলো এবার উনি রওয়ানা দিবেন আমার সাথে তার শেস কথপোকথন হলো-
:- পারু!  কেদনা পারু, তুমি যদি আমায় চখের জলে বিদাই দেও আমার যে অযাত্রা হবে।
:- দোহাই আপনার এমন অলুক্ষুনে কথা বলবেন না। দয়া করে চুপ করুন।
:- তাহলে এবার আমাকে লক্ষি বউয়ের মতো হাসি মুখে বিদেয় দাও।
:- আমি যে পারছি না। আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। আপনাকে ছেড়ে কতোদিন থাকতে হবে? শহরে গিয়ে আমায় ভুলে যাবেন না তো?
:- চুপ বোকা মেয়ে, এ সব কি কথা। হৃদয়ের সাথে বেধে নিয়েছি তোমায় চাইলেই কি ভুলতে পারবো?
আর আমারো কি ইচ্ছে করছে তোমাকে ছেড়ে যেতে?
যেতে নাহি দিতে হয় তবু ছেড়ে যেতে হয়। এটাই যে নিয়ম আমি তোমায় নিয়ম করে চিঠি লিখবো তুমি কিন্তু তার উত্তর দিও।আর কোন সমস্যা হলে সেও চিঠিতে উল্লেখ করতে ভুলো না যেন।
তবে এবার আসি। ভাল থেকো বিদায়!
:- বিদায়!

তিনি চলে গেলেন। বিয়ে হয়ে বাপের বাড়ি ছেড়ে এলাম এত কষ্ট তখনো লাগেনি যতটা উনাকে ছেড়ে লাগছে।
উনি বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার পরই শশুড় বাড়ির সকলের ব্যবহার কেমন বদলে যেতে লাগলো। আমার শাশুড়িমা আমায় দুচোখে সহ্য করতে পারেন না। আমার ননদো আমায় একদমি ভাল পায় না। দেবরেরা তো কখনো কথাই বলে না।
উঠতে বসতে তিনি ২ কথা শুনিয়ে দেয়। কাজে কর্মে ভুল হলে গায়ে ও হাত তুলে। আমার ননদ সবসময় ওত পেতে থাকে কখন আমার কোন ভুল হবে আর সেটা আসার শাশুড়ির কানে তুলবে।
আমার সব নতু নতুন শাড়ি সমস্ত গয়না আমার শাশুড়ি আর ননদ নিয়ে গিয়েছে পরিবর্তে আমার ননদের পুড়নো কিছু ছেড়া কাপড় আমায় দিয়েছে বলেছে বাড়ির ভিতর এসবই পড়তে হয় নয়তো কাজে কর্মে নষ্ট হয়ে যাবে।
সেগুলোই জোড়া তালি দিয়ে লজ্জা নিবারন করছি আমি।
দেখতে আমাকে ঠিক কাজের মেয়ের মতোই লাগে। তা হোক আমিতো এ বাড়ির কাজের লোক হওয়ারই যোগ্য।
রোজ সকালে উঠে বাড়ির সমস্ত কাজ করতাম।
সকালের খাবার তৈরি, এত বড় বাড়ি পুরো টা পরিস্কার করা, দুপুরের রান্না করা, বাড়ির সকলের কাপড় ধোয়া, হাস মুরগির খাবার দেয়া তাদের ঘড় পরিষ্কার করা, গরু ছাগলের দেখাশোনা করা, ক্ষেতের কাজে সাহায্য করা, গোবর দিয়ে ঘুটে দেওয়া, আলাদা করে ক্ষেতের মজুরদের জন্য রান্না করা, হাড়ি পাতিল ধোয়া, উঠোন পরিষ্কার করা, কাপড় শুকিয়ে এনে ভাজ করা, আবার রাতের রান্না করা ইত্যাদি।
খুব ক্ষিদে পেত বেশি আসলে বাপের বাড়িতে সব কাজ করতাম ঠিকই কিন্তু অত কাজ ছিল না গরিব মানুষ কিনা আমরা ক্ষেত খামারের কাজ তো মোটেই ছিল না।

অত গরু ছাগলো ছিল না।
তাই ক্ষিদে আজকাল একটু বেশিই পেত। কিন্তু সবার খাবারের পর খুব সামান্যই খাবার বেচেঁ থাকতো আমার জন্য ১ প্লেট ভাত ভর্তা, তরকারির ঝোল, ডাল দিয়েই খেতাম। কখনো কখনো কোন তরকারিই থাকতো না শুধু পানি আর লবন দিয়েই খেয়ে উঠতাম।
পেট মোটেই ভরতো না কিন্তু কিছুই করার ছিল না আমার।
রান্নার সময় শাশুড়িমাকে বলতাম -

:- মা দুমুঠো চাল কি ১ টু বেশি দেবো?
:- কেন? বাড়িতে কি মেহমান আসছে নাকি?
:- না মা আসলে শেষ বেলায় ভাতের আসলে টান পড়েতো তাই বলছিলাম আর কি।
:- এ মে এ বাড়িতে ক বেলা না খেয়ে কাটিয়েছো শুনি?
:- না মা আমি তা বলছি না।
:- চুপ করো। মুখে মুখে তর্ক দেয়াটাই শুধু শিখেছো। মাগো মা ও রানির বাপ বলি এ কি রাক্ষুসি মেয়ে এনেছ আমার ঘরে? শুধু খাই খাই করে। কোন নবাবের বেটি এনেছ শুনি বাপের বাড়িতে কি রাজ ভোগ খেয়ে থাকতো নাকি?
ঘড়ের বউদের সবাইকে খাইয়ে থাকলে তবে খেতে হয় আর না থাকলে না খেয়েই হাসি মুখ করে থাকতে হয় বুজেঝ???
:- জি মা আমার ভুল হয়ে গেছে
:- থাক থাক হয়েছে এবার কাজে যাও।আল্লার নাম নিয়ে শুধু খাওয়া শুরু করলে রাজার ভান্ডারো ফুরিয়ে যাব।

এর পর আর কখনো শাশুড়ি মাকে খাবারের কথা কোন দিন বলতে সাহস পাইনি।
আধ পেটে খেয়েই কাটিয়ে দিয়েছি।
বাড়িতে যখন মাংস রান্না করতাম তখন চোখের সামনে সব কিছু নেশার মতো লাগতো মাংসর গন্ধে।

পেটের ক্ষুদাটা বরং বেরেই যেত যেন হাজার গুণ। কিন্তু খেতে বসে ১ টু ঝুলই কেবল পেতাম।
আর যদি কোন হাড় পড়ে থাকতো সেটাই আমার কাছে রাজভোগ ছিল।
সৎ মা আমায় সহ্য করতে পারতো না ঠিকই কিন্তু খাবারের অত কষ্ট কখনো করিনি। সারাদিন বনে বাদারে করে বেড়িয়েছি যখর যা পেয়েছি তাই খেয়েছি। এ বাড়ি ও বাড়ি যেতাম মা নেই বলে অনেকেই আমায় করুনার দৃষ্টিতে দেখতো। ভাল মন্দ রাধলে ১ টু আধটু খেতে দিত। বৃষ্টিতে ভিজতাম আর হুড়োহুড়ি করতাম। বাড়ি ফিরলে মায়ের পিটুনি অবশ্যই ছিল কিন্তু পরেরদিন আবার যখন বাহিরে বেরুতাম তখন সব কষ্ট ভুলে যেতাম। হাজার কষ্টের মাঝেও যেন আমি ছিলাম স্বাধীন। কিন্তু এটা এক বন্দি জিবন। ঘড় থেকে বেড়ুবার কোন উপায় নেই। সারাদিন এই বাড়ির ভিতরেই ধুকে ধুকে মরা।
সুখের দিন গুলো তারাতারি শেষ হয়ে যায় কিন্তু দুখের দিন বোধহয় জিবন থেকে ফুরায় না।
তিনি গেলেন কবে, ওনার আসার তো কোন নামই নেই।তিনি মাঝে মাঝেই বাড়িতে চিঠি লিখেন। আমায় ও লিখেছেন-

প্রিয় তমা,
তুমি কেমন আছো সে প্রশ্ন করে শুধু শুধু তোমায় কষ্ট দেবো না।
কারন তুমি ছাড়া আমি যেমন প্রাণ হীন ভাবে বেচেঁ আছি আমি জানি তুমি ও তাই।
তবু বলবো দয়া করে কষ্ট পেও না বিশ্বাস করো আমিও প্রতিমুহুর্তে তোমাকে খুব কাছে পাওয়ার আসায় থেকে থেকে দিন পার করছি।
আমি ও খুব চেষ্টা করছি অতি শিগ্রর তোমার সাথে মিলিত হওয়ার।
কিন্তু, অফিস থেকে কিছুতেই ছুটি পাচ্ছিনা। তবে যত তারাতারি সম্ভব আমি ছুটি নিয়ে তোমার কাছে চলো আসবো।
তোমার জন্য ১ মুঠো রেশমি চুরি আর আলতা পাঠিয়েছি তুমি খুব সুন্দর করে সাজবে এসব পরে এই চুরি আলতার মাঝে আমার হৃদয়ের উষ্ম ভালবাসা মিশে রয়েছে শুধু তোমার জন্য।

প্রিয়তমা, আজ আর নয় ভালো থেকো আর আমার ভালবাসা নিও।

                                     ইতি
                     তোমার প্রানের স্বামী
          
উনার পাঠানো চুরি আর আলতা আমি পেয়েছিলাম কিন্তু তা পরতে পারিনি। কারন, আমার ননদ সেই চুরি আর আলতা নিয়ে গিয়েছিল।
সেসব চাওয়ার সাহস আমার ছিলনা।

,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,চলবে,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ