["চৌকাঠ"(১)]
,,,,,,,,,,,সন্ধ্যা,,,,,,,,,,,,,,
সন্ধ্যা সুমন
আমি সন্ধ্যা। আমার বিয়ে হয়েছে ৩বছর হলো। আমার ১ টা ছোট্ট ছেলে আছে ২ বছর বয়স। ওর নাম সানি।
আমার বাবা মা নেই। খুব ছোটবেলায় ওনারা মারা যান।
আমার শশুড় বাড়িতে আমি, আমার হাসবেন্ড, আমার ছেলে, আর আমার শাশুড়িমা।
এই ৪ জনের সংসার আমাদের। আমার হাসবেন্ড একজন ইন্জিনিয়র। নিজেদের বাড়ি,নিজেদের গাড়ি সবই আছে। সচ্ছল ফ্যামিলি কিন্তু তবুও আজ সকালে আমি আর আমার হাসবেন্ড মিলে আমার শাশুড়িমাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে এসেছি। উনি অবশ্য যেতে চাইছিলেন না তবুও আমরা ওনাকে বৃদ্ধা্শ্রমে পাঠিয়েছি।
ওখানে ওনার কোন কিছুর অসুবিধে হবে না বেশি করে টাকা পয়সা দিয়ে লোক বলে এসেছি যেন ওনার খাওয়া পরা, সেবা যত্নের কোন ত্রুটি না হয়।
ওনাকে ওখানে রেখে চলে আসার সময়, তিনি আমাদের হাতে ধরে বলেছিলেন,
- আমাকে ফেলে যাস না বাবা!
আমি মরে যাবো। দোহাই তোদের।
খুব কাদছিলেন তিনি। আমরা অবশ্য ওনার সে কান্নায় কান দেই নি, চলে এসেছিলাম।
কি বললেন??? আমি খুব খারাপ? আমি বাজে মহিলা,ডাইনি???
সে আপনাদের যা খুশি বলতে পারেন তাতে আমার কোন অসুবিধে নেই। শুধু এতটুকু বলবো শেষ পর্যন্ত গল্পটা পড়ুন তারপর গালি দিবেন।
হে আজ আমি খুব খুশি। আমার বহুদিনের স্বপ্ন ছিল এটা আর আজ আমি তা করতে পেরেছি।
আমি আমার শাশুড়িকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠাতে সফল হয়েছি।
বাড়ি ফিরে এসে আজ খুব কাজ করলাম, ঘড় বাড়ি সব সুন্দর করে সাজালাম। ভাল ভাল রান্না করলাম - পোলাও,মুরগির রোস্ট,গরুর মাংস, সর্ষে ইলিশ, মাসকলাইয়ের ডাল, ফিরনি অনেক কিছু।
৫ জন ফকির মিসকিন খাইয়েছি আজ।
শুনেছি মৃত মানুষের নাম করে নাকি ফকির মিসকিন খাওয়াতে হয়। আবার, মৃত মানুষ যদি স্বপ্নে কিছু খেতে চায় তাহলে ও নাকি ফকির মিসকিন খাওয়াতে হয় তাহলে নাকি সেই ফকির মিসকিন দের মাঝে মৃত ব্যাক্তি ছদ্দবেশে আসে।
যদিও আমি আধুনিক যুগের শিক্ষিতা মেয়ে এসবে অবশ্য বিশ্বাস করি না, কিন্তু তবুও এসব করতে হচ্ছে কারন, আমার মা এসব বিশ্বাস করতেন।
আজো কত রাতে স্বপ্নে দেখি মা আমার সেই ১ টু ভাল মন্দ খাবার খুজে যাচ্ছে, দুটো ভাল শাড়ি পড়তে চাচ্ছে। বুকের ভিতরটা মোচর দিয়ে ওঠে সেই দৃশ্যগুলো মনে পড়লে।
আমার শাশুড়িমা আমায় এমনিতে খুব ভাল বাসতেন। ছোট বেলা থেকে এই এতিম কে তিনিই বড় করেছেন, লালন পালন করেছেন। শখ করে ছেলের বৌ বানিয়েছেন।
কিন্তু চলতে ফিরতে ১ টু আধটু ঝামেলা তো সব ঘড়েই হয় ওনার সাথেও মাঝে মাঝে একটু আধটু ঝামেলা হতো। আমি কিছু বলতাম না কিন্তু উনিই সামান্য বিষয় নিয়ে রাগারাগি করতেন।
কিন্তু এই কারনে ওনাকে আমি বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসিনি, ওনাকো ওখানে পাঠানোর পিছনে অনেক রহস্য আছে, লুকিয়ে আছে অনেক স্মৃত্মি। অবশ্যই সে স্মৃত্মি সুখের নয়।
যাইহোক সে ই কারন টা না হয় অন্য আরেক দিন বলবো।
এখন রাত্রি ১০:৩০ বাজে।
আমার ছেলে ঘুমিয়ে গেছে অনেক আগেই, আমার হাসবেন্ড ও ঘুমিয়ে পড়েছে সারাদিন অনেক ব্যাস্ততায় কাটলো তো তাই।
আমার ঘুম আসছে না,
বাহিরে প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছে, আলমারির সিন্দুক থেকে বের করে নিলাম অনেক পুরনো ১ টা ডাইরি।
এই ডায়রিটা আমার মায়ের।
মায়ের নিজের হাতে লেখা আর তার শেষ স্মৃত্মি।
ডায়রিটা নিয়ে বেলকোনিতে ১ টা চেয়ার নিয়ে বসলাম
আগেও পড়েছি এই ডায়রিটা। যতবার পড়েছি ততবার কেদেছি, আর ভিতরে ভিতরে রাগে জ্বলে পুড়ে মরেছি।
কিন্তু আজ আবার পড়বো ডায়রিটা তবে আজ হয়তো কাদবো কিন্তু রাগে আর জ্বলবো না।
আজ তৃপ্তি সহকারে পড়বো গল্পটা।
ডায়রিটাতে লিখা ছিল,
আমি পারু।
গতকাল আমি ১ টা নতুন জিবনে পা দিয়েছি। হে গতকাল আমার বিয়ে হয়েছে আমি আমার শশুড় বাড়িতে আছি এখন।
আমার বাবা ১ জন নাপিত খুব দরিদ্র মানুষ।
আমার মা নেই শুনেছি ছোট বেলায় আমাকে আর বাবাকে ফেলে উনি চলে গিয়েছেন।
সুখের খোজে ২ বেলা পেট ভরে খাওয়ার লোভে, ২ টো ভাল কাপড় পড়ার লোভে।
তাই ছোটবেলা থেকেই সৎ মায়ের ঘড়ে বড় হয়েছি আমি।
সৎ মা আমায় ২ চক্ষে দেখতে পারতো না, তিনি কখনো আমায় আদর করে কাছে টেনেছে বলে আমার ঠিক মনে পড়ে না।
আমার সৎ মায়ের ২ মেয়ে আর ১ ছেলে ছিল। আমার সেই ভাই স্কুলে পড়তে যেত কিন্তু আমরা ৩ বোন স্কুলে যেতাম না।
মা বলতো মেয়েদের পড়াশোনা করতে নেই তাদের ঘড়ের কাজ শিখতে হয়। সেই সময়ে অবশ্য মেয়েরা পড়াশোনা করতো না শুধু ধনাড্য পরিবারের মেয়েদের বাড়ি এসে শিক্ষকরা অধ্যায়ন করাতেন।
কিন্তু আমার ছোটবেলা থেকে লেখাপড়া করার খুব ইচ্ছে হতো।
লুকিয়ে লুকিয়ে ভাইয়ের বই নিয়ে পড়তাম ১ টু ১ টু লিখতাম।
যদি কখনো আমার সেই ভাই বোনেরা দেখে ফেলত তাহলে মাকে বলে দিত মা আমায় খুব মাড়ত।
চুলে টানত,ডাল ঘুটনি, রুটি বানানোর বেলুন, ঝাটার বাড়ি এসব আমার নিত্য দিনের সঙ্গী ছিল।
১২ বছর পার করেছি এই সৎ মায়ের ঘড়ে।
শুনেছি ১২ বছরে নাকি ১ যুগ হয়।
১ যুগ যন্ত্রনার পর আজ আমার নতুন জিবন শুরু।
আমার বয়স ১২। আমার যার সঙ্গে বিয়ে হয়েছে তিনি আমার থেকে ১৫ বছরের বড়। আমার স্বামী সংসারের বড় ছেলে। তেনারা ৩ ভাই ১ বোন।
শশুড় বাড়িতে শশুড়,শাশুড়ি,২ দেবর, ১ ননদ ননদের ২ বছরের ১ টা ছেলে আর আমি।
আমরাই সবসময়কার সদস্য।
আমার স্বামী শহরে থাকেন সেখানেই চাকুরি করেন।
সম্পর্কে আমার ছোট ননদ হলেও বয়সে তিনি আমার থেকে বড়।
শুনেছি ওনার স্বামী নাকি ভবগুরে মানুষ। সংসার ধর্মের প্রতি তার কোন মন নেই তিনি এ গ্রাম ও গ্রাম করে বেড়ায় সারাদিন। বাউল দের মতো স্বভাব। আমার ননদের নাম রানি। বাড়ির ১ মাত্র মেয়ে হওয়ায় বাবা মা ভাইদের বড় আদরের। আর তার ছেলে শুভকেও সবাই খুব ভালবাসে।
তাই ছেলেকে নিয়ে তিনি বাবার বাড়িতেই বসবাস শুরু করেন
আমি আমার সবটুকু দিয়ে আমার এই নতুন সংসারটাকে সুখি করার চেষ্ঠা করবো।
জানিনা বাড়ির অন্যরা আমায় কিভাবে গ্রহন করবে।
তবে আমার স্বামী আমায় খুব ভালবাসেন। ওনাকে আমি আমার পড়ালেখা শেখার ইচ্ছের কথা বলেছি তিনি আমায় ভরসা দিয়েছেন তিনি বলেছেন আমার যখন যা জানতে চাওয়ার শিখতে চাওয়ার আমি যেন ওনাকে অবশ্য বলি,উনি আমাকে সাহায্য করবেন।
আমার স্বামী আমাকে কাল এই খাতাটা আর কলমটা দিয়ে বলেছেন-
:- পারু, তুমি তো লিখতে পারো এই ডায়রিটায় তুমি লিখবে
তোমার কথা আমার কথা আমাদের নতুন জিবনের কথা সব।
তবে মা বা অন্য কেউ যেন এটা দেখতে না পায় তাহলে আবার মা রাগ করতে পারে।
আমি লিখছি এই ডায়রিটাতে আমাদের জিবনের কথা।
জানিনা আমার সামনের দিন গুলো কেমন হবে তবে আমার স্বামী আমায় খুব ভালবাসেন আর আমি খুব সুখি।
আজ আর নয়।
যদি কেউ দেখতে পায় তাহলে আবার ঝামেলা হতে পারে।
,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,চলবে,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ